প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফের সিইওর সাক্ষাৎ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য সহায়তার আহ্বান

0
7

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ বদ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জুইংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিবৃতি ও ইউএনবি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বৈঠকের শুরুতে আলোইস জুইংগি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনর্খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া পাটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পে উৎসাহের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে। গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষিতে সহায়তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি ব্যাপক মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারাজকেও আধুনিকীকরণ করছি।’
তারেক রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকার কর রেয়াত সুবিধা দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়। আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।’ তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীলতার অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কপ৩১ এবং কপ৩২ (আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়া এবং আগামী বছর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের অধিবেশন)-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য, অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা; দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য ও চাহিদাসাপেক্ষ করা, যার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়; তৃতীয়ত, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন শুধু নীতিগত বিকল্প নয়, এটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডির মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।’

জলবায়ু মোকাবিলায় তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন ডব্লিউইএফ প্রধান।
ডব্লিউইএফ প্রধান বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
বাংলাদেশ যেসব বিষয় উত্থাপন করেছে, তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে বলে ডব্লিউইএফ প্রধান আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান ডব্লিউইএফ প্রধান।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া থেকে সোমবার রাতে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দেশ সফর। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গেছেন।

চীনে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসূচি 
দালিয়ানে দুদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের লিয়াওনিং প্রদেশে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ১৭তম বার্ষিক সভা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আজ বুধবার সকালে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিকেলে তিনি ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতাগুলো বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পরদিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here