প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিটিএমএ নেতাদের বৈঠক গ্যাস-বিদ্যুতে বিশেষ ব্যবস্থা চায় বস্ত্র ও পোশাক খাত দুই খাতের সমস্যা সমাধানে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

0
9

বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের সুরক্ষা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ ব্যবস্থা চেয়েছেন এ দুই খাতের উদ্যোক্তারা। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন। বস্ত্র ও পোশাক খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে পোশাকশিল্পের স্বার্থে কাস্টমস বন্ড সুবিধা সহজ করা, বিমানবন্দরে স্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণসহ আরও বেশ কিছু দাবি জানান বিজিএমইএ নেতারা। রপ্তানিমুখী শিল্পের যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে দ্রুত একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর অনুরোধও করেন তারা।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। উপস্থিত ছিলেন প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী প্রমুখ।

বৈঠকে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানান বিজিএমইএ নেতারা। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তারা। বিজিএমইএ নেতারা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানান।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজ করা, বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

তৈরি পোশাকশিল্পের সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বস্ত্র খাতের সংকট নিরসনে পৃথক কমিটি 
গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর নেতারা। তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কাস্টমসসহ অন্যান্য সরকারি সেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস ম্যাকানিজম’ চালুর দাবি তুলে ধরেন।

সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বিটিএমএ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বর্তমান সহসভাপতি শামীম ইসলাম, পরিচালক বাদশা মিয়া, চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, সৈয়দ এনায়েত কবীর, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার ও হেলাল মিয়া প্রমুখ। বিটিএমএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের জন্য সমন্বিত শুল্ক-কর কাঠামো, আর্থিক সহায়তা এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। তারা রপ্তানিমুখী প্রাথমিক বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ, সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নে সহজ প্রক্রিয়া গ্রহণ, বন্ধ বা আংশিক বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি-সংক্রান্ত শিথিলতা প্রদান এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে মূলধনি সহায়তা ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র খাতের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। কমিটিতে বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকবেন। কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সভা করবে।

আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধি দল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উলম্ব নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, সহসভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ ও ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here