বিএনপি সরকার ভূতের মতো পেছনে হাঁটছে

গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ সংস্কার প্রশ্নে বিএনপি ভূতের মতো পেছনে হাঁটছে। গণভোটে অনুমোদন জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করছে। বিএনপি নিজের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এনসিপি সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।

গুমের তদন্ত পুলিশকে দিয়ে করানো, মানবাধিকার কমিশন গঠনের বাছাই কমিটিতে সরকারের একচ্ছত্র প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনে তদন্ত কমিশনের না করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হুসাইনের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, সাবেক বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।

আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিএনপি পাস না করে সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আরও ভালো আইন হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বরং আগের চেয়ে খারাপ আইন করা হচ্ছে, যা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।

আখতার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আমলা ও বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে নয়, সাধারণ নাগরিকদের মতামতকে ধারণ করে নতুন করে আইনগুলো প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমান খসড়া আইন সংসদে পাস হলে মানবাধিকার সুরক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যাবে। অতীতে তো বাহিনীগুলো গুম করত, মানবাধিকার লঙ্ঘন করত, তারা দায়মুক্তি পেত। তো সামনেও কি আমরা এ রকম দেখতে চাই?

শহিদুল আলম বলেন, আমরা আজকে মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি– এটা একটা বিশাল ব্যাপার, যা ভুলে গেলে চলবে না। এই পরিবেশকে ধরে রাখতে বাহিনী ও সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করে এমন আইন করার দাবি জানান তিনি। শহিদুল আলম বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্থিতিশীলতা না থাকলে কেউ আসবে না। নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে যদি দেশ চলে, তাহলে তো ওই কুকুর ওভাবেই নড়ছে এবং লেজ তার মতো করে ঠিকই নাড়াচ্ছে।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকর না করলে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা সম্ভব নয়। গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল বা দলীয়করণ করা হলে এগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ভূতের মতো পেছনের দিকে হাঁটছে। তারা কি ভূত হয়েছে না ভূতে ধরেছে? বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত নয়। আশা করি, বিএনপি এই ভুল পথ থেকে সরে এসে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক কিছু ওয়াদা করে, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করে না। এই খাসলত বদলাতে হবে।
সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য শরীফ ভূঁইয়া বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্য সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা না থাকলে কী ফল হয়, কীভাবে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়, তা ১৫ থেকে ১৬ বছর দেখা গেছে। পুরোনো মানবাধিকার ও গুম আইন বাতিলের সময় আরও ভালো আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমান খসড়া দেখে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, আইনের খসড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই পাঠানোর ব্যবস্থা এর উদাহরণ। কর্মকর্তাদের সুরক্ষার যুক্তিতে স্বাধীন তদন্ত বন্ধ করা ঠিক নয়। কর্মকর্তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু তা স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বাতিল না করে আলাদা আইনি কাঠামো করা উচিত।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর