কয়েক দিনের বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে অধিকাংশ সবজির দর কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে হাতেগোনা দু-তিনটি ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি এখন ৭০ টাকার ওপরে। ডিম ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারও বেশ চড়া।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে লাগাতার বৃষ্টির কারণে কৃষক ক্ষেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। ক্ষেতে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ঢাকায় সবজি তুলনামূলক কম এসেছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় বন্যায় সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এসব কারণে সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বৃষ্টি না থামলে সবজির বাজার চড়তে পারে। গতকাল সবজির বাজারে গিয়ে তাদের ধারণা যে ঠিক, এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগে ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। গতকাল এই তিনটি সবজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম হাঁকছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পাঁচ-ছয় দিন আগেও সবজিটি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে বেগুন ও বরবটি গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল কেজিতে খরচ করতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শসা, টমেটোতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না! শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় শসা বিক্রি হয়।
সবজির মধ্যে কিছুটা কম দাম দেখা গেছে পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপের। এসব সবজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে সবজি নিয়ে আগারগাঁওয়ের কলোনির পাশে ভ্যানে করে বিক্রি করেন সাইফুল মিয়া। তিনি বলেন, তিন-চার দিন আগের চেয়ে পাল্লায় (পাঁচ কেজি) অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম। এ জন্য তাঁকেও খুচরায় বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী রিফাত হোসেন বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চাষিরা সবজি তুলতে পারেননি। অনেকের ক্ষেতে পানি জমে সবজি পচে গেছে। কিছু এলাকায় বন্যায় জমি ডুবে গেছে। ফলে সেসব এলাকায় সবজির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে সরবরাহ কম। ফলে দর বেড়েছে।
বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার সমকালকে বলেন, বাজারে এখন কিছু সবজি পাওয়া যাচ্ছে, এটাই স্বস্তির। প্রায় সপ্তাহজুড়ে সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে। পানি জমলে সবজি গাছ বাঁচে না। এখন বাজারে যেসব সবজি আসছে, সেগুলো বেশির ভাগই পচে বা মরে যাচ্ছে এমন গাছের সবজি। এসব গাছ মরে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
তিন-চার দিনের ব্যবধানে ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম ১১৫ থেকে ১২০ এবং বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে মুরগির দর। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেজকুনীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বলেন, সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের হাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। সেজন্য খুচরা বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।
মাছের বাজারের অস্বস্তি কমেনি। আগে থেকেই ইলিশের দর চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি কমবেশি দুই হাজার আর এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। রুই-কাতলার দামও অনেকের নাগালের বাইরে। মাঝারি আকারের এসব মাছ কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কিছুটা স্বাভাবিক দাম চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের। এসব মাছ কেনা যাচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।
মুদি পণ্যের মধ্যে আগের মতোই কিছুটা বেশি দর রয়েছে সব ধরনের ডালের। ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়নি। তবে ফের দাম বাড়তে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এ ছাড়া আগে থেকেই বেড়ে থাকা চাল-আটার বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।




