জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ পূজা-সমিতি নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রথম সংগঠন। ১৯৮৯ সালে গঠিত এই সংগঠন ১৯৯০ সালেই নিউইয়র্কে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করে উডসাইডের করপাস কৃষ্টি চার্চে। তারপর দেখতে দেখতে চোখের পলকেই ৩৭ বছর। আজ নিউইয়র্কে হাজার হাজার হিন্দু বাংলাদেশী যাঁরা উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী হিন্দুদের প্রথম সংগঠন ও প্রথম দুর্গাপূজার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশ পূজা সমিতির জন্য গর্ববোধ করতে পারে। বাংলাদেশ পূজা সমিতি শুরু থেকেই হপ্তাহপ্তে শনিবার ও রবিবার পূজার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ পূজা সমিতি শুরু থেকেই উৎসব ও সম্প্রীতির নিয়েই পূজা অর্চনার আয়োজন করে। সার্বজনীন এই পূজা অনেকাংশে মিলন মেলা ও উৎসবে পরিণত হয়।

বাংলাদেশ পূজা-সমিতি এবার ৩১ শে অক্টোম্বর ও ১লা নবেম্বর দু’দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে। স্থানীয় গুজরাটী-সমাজ কমিউনিটি সেন্টারে এই দুর্গোৎসবের আয়োজন ছিলো বর্ণিল। দুর্গাপূজার রেশ কাটলেও পূজা-সমিতির পূজা সকলকে রাঙ্গিয়ে দিয়ে যায়। হাজার দর্শক শ্রোতা ও ভক্ত মন উজার করে বাংলাদেশ পূজা সমিতির সিঁদুর দান ও ধামাইল নৃত্য উপভোগ করে। শুরু থেকেই পূজা সমিতির পূজায় সিলেটের আঞ্চলিক লোকগীতি ধামাইল নৃত্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বাংলাদেশ পূজা সমিতির দুর্গোৎসবে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমী পূজা ও রবিবার মহানবমী ও বিজয়া দশমী পালন করে। শনিবার দুপুর থেকেই পূজার শুরু। পূজা অর্চনা ও অঞ্জলীর মাধ্যমে দেবী বন্দনা করা হয়। প্রতিদিনেই পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ করা হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পশরা ছিলো অতি মনমাতানো। ঢাকা ও কলকাতা শিল্পীদের দিয়ে গানের অনুষ্ঠানে ছিলো উত্তাল হাওয়া।
নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান তরুনদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিলো চোখে পড়ার মতো। পাঞ্জাবী, মোদী কোট ও রং-বেরং এর শাড়ীর বাহারে নতুন প্রজন্ম রঙ্গিন হয়ে উঠে। এটাই সম্ভবত পূজা সমিতির বড় স্বার্থকতা।
বাংলাদেশ পূজা সমিতির দুর্গোৎসবে সাংস্কৃতিক পর্ব বরাবরেই আকর্ষণীয়। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক পাগল মানুষ, হিন্দু মুসলমানের সম্প্রীতির মিলন দেখা যায় পূজা সমিতির মহাযজ্ঞে। দেখা যায় নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাস। সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পিছনে ফেলে পূজা সমিতির পূজায় মিলিত হয় সকল বর্ণ ও ধর্মের মানুষ। বাংলাদেশ পূজা সমিতির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঢাকা, কলকাতার শিল্পী ছাড়াও ছিলো স্থানীয় শিল্পী, নতুন প্রজন্মের আমেরিকান বাঙালি শিল্পীরা সংগীত পরিবেশ করে।
নতুন প্রজন্ম ও মধ্যবয়সী সবাই এক ফ্লোরে এসে সঙ্গীতে আবহে নৃত্যে শামিল হয়। বিজয়া দশমীর প্রকৃত বিজয় তারাই এনেছে দিয়েছে। পূজার প্রাঙ্গণে এনেছে উল্লাস জেগেছে প্রাণ। সবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের ইতি টেনে বাংলাদেশ পূজা সমিতির আগামী পূজার আগাম আবেদন জনিয়ে সকল সমাপ্তি ঘটায়।
পূজা সমিতির এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা, সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চৌধুরী, বিজু পুরকায়ে, বিপ্লব রায়, পার্থ প্রতীম তালুকদার, রনজিৎ পুরকায়স্থ বিজু, সাবেক সভাপতি বিভূতিভূষণ দাশগুপ্ত, অমিত কুমার ঘোষ, অমল কান্তি দেব, বিষ্ণু গোপ, শিবব্রত দে চৌধুরী, উপদেষ্টা নরেন্দু বিকাশ দত্ত, পরেশ সাহা, চন্দন সেনগুপ্ত, চম্পা রায়, বাবুল কুমার সাহা, রিনি দাশগুপ্ত, বিমল চৌধুরী, রানা দত্ত রঞ্জু, নান্নু চৌধুরী, সুভেন রায়, ডা. প্রদীপ পাল, দীপক দে, রাজীব নন্দী, অশ্রু দাশ ও শন্তুলাল চন্দ প্রমুখ।


