Home Blog Page 10

মণ্ডপে ভক্ত-পূজারি, দর্শনার্থীর ভিড়, মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ

শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন মহাসপ্তমীতে গতকাল রোববার মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর ভিড় আরও বেড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে মণ্ডপগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করেন।

উৎসবের চতুর্থ দিন আজ সোমবার মহাষ্টমী ও সন্ধি পূজা। রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনসহ বেশ কয়েকটি মণ্ডপে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।

এবার পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তমী তিথি দুদিন পড়ায় শনিবার প্রথম দিনের মহাসপ্তমী পালিত হয়। গতকাল রোববার সকাল ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো দেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত (অধিক) পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অনেক মণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন রয়েছে।

মহাষ্টমীতে আজ সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। রামকৃষ্ণ মিশন, মঠসহ কয়েকটি মণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মণ্ডপে পূজার সময়ের কিছুটা হেরফের ঘটবে।

তবে আজকের দিনের প্রধান আকর্ষণ থাকবে কুমারী পূজা। সকাল সাড়ে ১০টায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে এ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, অল্পবয়সী একটি মেয়েকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে পূজা করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথা ও নিরাপত্তার কারণে কুমারী পূজার আগ পর্যন্ত মেয়েটির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয় না।

রাজধানীতে ভক্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

কেউ দেবী প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আড্ডায়। আবার কারও ব্যস্ততা মণ্ডপের সাজসজ্জা ঘিরে ভিডিও তৈরিতে। এরই মধ্যে মাইকে ভেসে আসে মন্ত্রপাঠের ধ্বনি। শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলির প্রস্তুতি। ছবি তোলা থামিয়ে তখন সবাই দাঁড়ান প্রার্থনায়। রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে এভাবেই ভক্তি, পারিবারিক বন্ধন আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল রোববার বনানী, মৌচাক, রমনা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজে যোগ হয়েছে নানা মাত্রা।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবার মণ্ডপের মূল ভাবনা ‘জলজ’। জলকে জীবন ও সৃষ্টির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে বাঁশ, বেত, পাট ও প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। পদ্মফুলের আদলে নির্মিত কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পেছনে শঙ্খের অনুষঙ্গ। স্থপতি অমিতি কুণ্ডু এবং শিল্পী পার্থপ্রতিম সাহার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে এ মণ্ডপ।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরেও পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ভক্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। মাঝবয়সী অর্ণব দত্তকে দেখা গেল, মেয়েকে নিয়ে দেবী প্রতিমার সামনে ছবি তুলছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী দেশের বাইরে। তাই যতটা সম্ভব ছবি তুলে ও ভিডিও করে তাঁকে পাঠাই।’

রমনা কালীমন্দিরের পূজা প্রাঙ্গণে বসেছে সপ্তাহব্যাপী মেলা। আলোকসজ্জায় সাজানো মেলা ঘুরে পুকুরপাড়ে দেখা যায়, তরুণদের আড্ডা, চা খাওয়া আর ছবি তোলার ব্যস্ততা।

দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ইশরাক হোসেন।

পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’

ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!

 

গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল দিনভর তা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে আবারও ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর আগে এক অডিও বার্তায় বলেন, এ ধরনের সংবাদ কোনো উড়ো খবর হয়ে আসবে না। অবশ্যই আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স করে বলব এবং আপনারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

একের পর এক বিতর্কে বিএনপিতে অস্বস্তি

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানোর ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভারও। কারণ, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছি: ইশরাক

গতকাল দিনের বেলায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ ব্যক্তি হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। হামলার শঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিবৃতিতে স্থানীয়ভাবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আগে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবল সংকট দূর করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলেও দাবি তার।

তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ইশরাক আগে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও গত শনিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা গত শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তারা পরে বিষয়টি জেনেছেন। ফলে সাধারণভাবে মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও নির্দিষ্ট এ অভিযান বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় ছিল কি না–সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইশরাকের ঘটনা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়: জামায়াত

ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ইশরাক হোসেন গেণ্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।’

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় রংপুরে ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ১ হাজার ৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিবা-রাত্রি টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধ ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে হরিজন সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিজিবির রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল ফয়সল হাসান খান।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে বিজিবি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

এ সময় গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কর্নেল ফয়সল হাসান খান। পরে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির সদস্যদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

এ সময় জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুর বারী, উপ-অধিনায়ক মেজর ইব্রাহিমুল্লাহ আসাদসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় যুবদল কর্মী হত্যার প্রতিবাদে থানার সামনে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

০

কুমিল্লায় যুবদল কর্মী মো. আবু কাউছারকে প্রকাশ্য দিবালোকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে কোতয়ালী মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন এলাকার লোকজন। আজ রোববার দুপুরের দিকে কোতয়ালী মডেল থানার সামনে এই বিক্ষোভ করা হয়।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং নেপথ্যে থাকা সবার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের দাবিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা বেশ কিছু সময় তর্কবিতর্কে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত তাদের পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতদের আটক করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান কাউছার হত্যার ঘটনায় তৌহিদুল আলম তৌহিদ ও তার বড় ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তারের কথা জানান।
এদিকে, আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা ও মহানগর বিএনপি ও যুবদলের একটি প্রতিনিধি দল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে তাদের দেওয়া অভিযোগ অনুসারে মামলা রেকর্ড করার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে এ সময় আসামির সংখ্যা নিয়ে ওসির কক্ষে পুলিশ ও দলীয় নেতারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দলীয় নেতাদের বলতে শুনা যায়, ‘এমপি-মন্ত্রীর কথায় মামলা হবে না। তাদের (এমপি-মন্ত্রী) গিয়ে বলেন, আমরা তাদের তৈরি করেছি, কথা বলে লাভ নাই। বাদীর বড় ভাই যেভাবে চায় সেভাবেই মামলা হতে হবে। পুলিশের চাওয়ায় মামলা হবে না।’

নিহত আবু কাউছারের বড় ভাই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কবির হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছে, তার ছেলে-মেয়ের কান্নায় বাসায় যেতে পারি না। আমি আশা করেছিলাম আমাদের দল ক্ষমতায় আছে, আমরা দ্রুত বিচার আইনে মামলা করতে পারবো। কিন্তু আমি মামলার জন্য ঘুরছি।’

মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব সমকালকে জানান, মামলার অভিযোগে তো আমরা গণহারে আসামি করিনি। সরাসরি হত্যায় জড়িত ছাড়াও হত্যা পরিকল্পনায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত আছে। তাদেরকেও আসামি করে অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা রেকর্ড বিলম্ব হয়। তাই, আমরা ওসির কক্ষে গিয়েছিলাম। পরে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।’

বিকেল ৫টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আবু কাউসার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তৌহিদ ও তানজিরসহ ৫ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে রোববার থানায় মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় হত্যায় জড়িত তৌহিদ ও তার ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে, গত শুক্রবার সকালে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি জমি নিয়ে বিরোধে আবু কাউছারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

রাবাদাকে ঘিরে প্রোটিয়াদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

০

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ডারবানে ২১৪ রানে হেরেছে তারা। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য ঘুরে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রত্যয়ী স্বাগতিক কোচ শুকরি কনরাড।

তার সে আশায় অন্যতম ভরসা তারকা পেসার কাগিসো রাবাদার দলে ফেরা। সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে রাবাদার কাছ থেকে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছেন দলের ব্যাটার ডেভিড বেডিংহাম।

চোটের কারণে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে পারেননি রাবাদা। ওই টেস্টে ৪৬ ও ৪৯ রানের দুটি ইনিংস খেলা বেডিংহামের আশা, দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী ব্যাটারদের আতঙ্ক হয়ে উঠবেন রাবাদা, ‘সে (রাবাদা) আমাদের জন্য অপরিহার্য এবং অনেক বড় একজন খেলোয়াড়। তাঁকে দেখে মনে হয়েছে, অনেক জোরে বল করছে আবার। বেশ ক্ষুরধার মনে হয়েছে। এমনকি যদি পেছনে ফিরে তাকান, গত বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেট নিয়েছিল। যে কোনো দলের বিপক্ষেই খেলতে প্রস্তুত সে। আশা করি, পরের টেস্টে ৯ বা ১০ উইকেট নেবে। সেটা করলে দারুণ হবে।’

রাবাদা ছাড়া আরও পরিবর্তন আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে।

পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় দূতদের ওপর হামলা, ফ্রান্সের মেয়রকে মারধর

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ সময় ফ্রান্সের এক মেয়রকে মারধর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ওপর হামলার একদিন পর এ ঘটনা ঘটলো।

পশ্চিম তীরে বর্তমানে জলপাই পাড়ার মৌসুম চলছে। কিন্তু বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহে বাধা দিচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শনিবার সেখানে গিয়েছিলেন ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকরা। প্রতিনিধি দলে ফ্রান্সের ওলনোয়া-আইমেরিজ শহরের মেয়র বার্নার্ড বোদুও (৭৮) ছিলেন।

এএফপিকে ফরাসি মেয়র বলেন, ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা ফ্রান্সকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করছিল। এক সময় তাঁকে লাথি ও লোহার রড দিয়ে তারা আঘাত করে।

বার্নার্ড বোদু বলেন, ‘আমার মনে হয়, বসতি স্থাপনকারীদের এমন আচরণকে ইসরায়েল সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। সেখানে কী ঘটছে তা সারা বিশ্বের জানা প্রয়োজন। আমি হয়তো নিজ দেশে ফিরে যাব। কিন্তু এখানে যারা (ফিলিস্তিনি) আছে তারা আরও ভুগবে।’

ফিলিস্তিনি জলপাই চাষিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনি জলপাই চাষিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে। ছবি: রয়টার্স

হামলার পর ফরাসি মেয়রকে একটি গাড়ির পাশে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।’ তিনিসহ বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এই হামলার একদিন আগে বসতি স্থাপনকারীরা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আলোকচিত্রী হেইডি লেভিনকে মারধর করে। তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আমরা সেখানকার যেসব ছবি দেখছি, সেগুলো খুবই উদ্বেগের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম তীরে আর কোনো সংঘাত দেখতে চান না।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক।

মধ্য এশিয়ায় চীন-রাশিয়ার বলয়ে প্রভাব বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার একাধিক ফ্রন্টে জড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের তৎপরতা থেমে নেই। চীন-রাশিয়ার বিপরীতে নিজেদের প্রভাব শক্ত করতে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। লক্ষ্য একাধিক চুক্তি করা।

এই সফরে রুবিওর প্রথম গন্তব্য উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর সমরকন্দ। সঙ্গে আছে ২০০ ব্যবসায়ী নেতার প্রতিনিধি দল। সোমবার সমরকন্দে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের মন্ত্রীদের একটি বৈঠকে যোগ দেবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার রওনা দেওয়ার সময় এই সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রুবিও। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এমন কিছু দেশ আছে, যাদের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’

এই সফর উপলক্ষে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মধ্য এশিয়াজুড়ে অংশীদারত্ব গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের প্রতি ওয়াশিংটন সদিচ্ছা দেখাচ্ছে।

কেন সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
মধ্য এশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতোই সম্পদসমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। বিপরীতে জনসংখ্যা মাত্র ৮ কোটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তারা কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চল নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার এটি সেরা সুযোগ।

সমরকন্দকে ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের প্রতীকী বিরতিস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিও। গত বছরের নভেম্বরে এই দেশগুলোর নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দেশগুলো এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য ছিল। জ্বালানি পাইপলাইনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অভিবাসন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশগুলোর ওপর মস্কোর প্রভাব কমে গেছে। বর্তমানে এর সুবিধা নিচ্ছে চীন।

বেইজিং মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশেরই প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। তাদের সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলো জ্বালানি-সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে তারা তুর্কমেনিস্তানে প্রাকৃতিক গ্যাস, কাজাখস্তানে ইউরেনিয়াম ও তাজিকিস্তানের বিরল মৃত্তিকা উপাদান (রেয়ার আর্থ) কেনার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি বিরল মৃত্তিকা উপাদান সংগ্রহ ও জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার মতো বিষয়গুলোকে পররাষ্ট্রনীতির মূল অংশ বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দূতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই অঞ্চলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বারবার জোর দিয়েছেন।

বাণিজ্য চুক্তি
উজবেকিস্তান সফরের পর ভারতে যাবেন রুবিও। সেখানে তিনি মুম্বাই ও গুজরাটের জামনগরে যাত্রাবিরতি দেবেন। দুটি শহরই আন্তর্জাতিক বন্দর ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

গত মে মাসে নয়াদিল্লি ও কলকাতা সফর করেছিলেন রুবিও। চার মাসের ব্যবধানে এটি তাঁর দ্বিতীয় দফায় ভারত সফর। যা এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের জোরালো তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি আছে।

ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে উভয়পক্ষ অস্থায়ী চুক্তি করে। কিন্তু এর কয়েকদিন পর, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপ করা পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। এর ফলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

আদালতের রায়ের পর চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে দুই দেশ। কিন্তু মস্কোর কাছে থেকে দিল্লি তেল কেনা অব্যাহত রাখলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে আবার টানাপোড়েন দেখা দেয়। পরে ওই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মুম্বাই ও জামনগরে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় রুবিও নতুন ধাঁচের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’র প্রস্তাব দেবেন। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি তেল শোধনাগারে ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এখন কল টিপলেই মিষ্টি পানি পাবেন দুই গ্রামের বাসিন্দা

০

সুন্দরবন ঘেঁষে অবস্থিত সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খাগড়াঘাট গ্রাম। চারপাশে পানির কমতি নেই, অথচ সুপেয় পানির জন্য বছরের পর বছর ধরে ভুগেছেন রহিমা বেগম (৪৫)। তাঁর পরিবারের নারী ও শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে পানি আনতে হাঁটতে হয়েছে মাইলের পর মাইল। বর্ষায় তারা বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে ব্যবহার করতেন। বছরের বাকি সময় তাদের সম্বল ছিল নোনাপানি। এ জন্য সন্তানেরা পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়েছে বছরভর।

রহিমা বেগমদের সেই দুর্দশার অবসান ঘটিয়েছে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ। গতকাল শনিবার খাগড়াঘাটে একটি রিভার্স অসমোসিস (আরও) পানি শোধনাগার বসিয়েছে তারা। একই দিন আরেকটি শোধনাগার বসানো হয়েছে পাশের কৈখালী গ্রামে। এই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আমেনা খাতুন বলেন, আগে এক কলস মিষ্টি পানির জন্য তাদের দুই-তিন মাইল হাঁটতে হতো। এখন বাড়ির কাছে কল বসায় যেন তাদের পুনর্জন্ম হয়েছে।

খাগড়াঘাটের রহিমা বেগম বলছিলেন, এখন কল টিপলেই মিষ্টি পানি বের হয়। এই প্রযুক্তি তাদের জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। বাড়ির মেয়েদের আর বিদ্যালয় কামাই করে পানির জন্য ছুটতে হবে না।
দুটি পানি শোধনাগারের একটি বসানো হয়েছে খাগড়াঘাট গ্রামের নূরউদ্দীনের বাড়ির সামনে, অপরটি স্থাপন করা হয়েছে কৈখালীর আলাউদ্দিন মল্লিকের বাড়ির সামনে। এগুলো উদ্বোধন করেন আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ। তিনি বলেন, উপকূলের পানির সংকট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এ কারণে এমন একটি স্থায়ী সমাধান চেয়েছিলেন, যা সরাসরি মানুষের জীবন বাঁচাবে, শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করবে। সে জন্যই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পানি শোধনাগার স্থাপনের এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
শ্যামনগরের চিকিৎসক আমজাদ হোসেনের ভাষ্য, পানিতে আয়রন বেশি থাকলে পানি লালচে হয়। স্বাদও হয় তেতো। এতে পেটের নানা অসুখ হয়। দাঁত নষ্ট হয়। শোধনাগারের পানিতে সেই লালচে ভাব বা তেতো স্বাদ নেই।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানির জন্য সব গ্রাহককে ডিজিটাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। কলের সামনে সেই কার্ড ধরলে পানি পড়ে, সরালেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিটি প্লান্টে ১০টি করে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। সেই সৌরবিদ্যুতে পাম্প চলে, ফলে পল্লীবিদ্যুতের ওপর চাপ পড়ে না। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে শ্যামনগরের তরুণদের সংগঠন শরুব ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা। এর মাধ্যমে গ্রামের বেকারত্ব কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, পানি শোধনাগারে শোধনের পর পানিতে লবণের পরিমাণ সরকার নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে নেমেছে। পানিতে গলে থাকা লবণ ও খনিজ মাপা হয় টিডিএস দিয়ে। কৈখালীর সাধারণ নলকূপের পানিতে টিডিএসের পরিমাণ ৮ হাজার ২১৭ মিলিগ্রাম। শোধনের পর তা নেমেছে ২৮ মিলিগ্রামে। খাগড়াঘাটে ছিল চার হাজার ৮১ মিলিগ্রাম, শোধনের পর যা হয়েছে মাত্র ৯২ মিলিগ্রাম। কৈখালীর পানিতে আয়রন ছিল ১ মিলিগ্রাম, শোধনের পর মাত্র ০.০১ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া গেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

এজিএমের একদিন পরই নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করল ওয়ালটন

০

২০২৫-২৬ হিসাব বছরে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদিত ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এজিএমের একদিন পরই বিতরণ করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এর মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ বিতরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়ালটনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, এফসিএস জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের উপস্থিতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শেয়ারহোল্ডাররা সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। এজিএমের একদিন পরই বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে নগদ লভ্যাংশের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

কোম্পানি সচিব বলেন, ওয়ালটনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মদক্ষতা ও পরিচালনগত গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তিশালী তারল্য অবস্থান বজায় থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওয়ালটন।

২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য ওয়ালটন হাই-টেকের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১৮ টাকা নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি ১০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি করে বোনাস শেয়ার পাবেন তাঁরা।

শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৮ হাজার ৪৯৪ টাকা। আগের হিসাব বছরে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৩ টাকা।

আলোচ্য হিসাব বছরে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির মোট নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকা ২৪ পয়সা।

অনুমোদিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানিটির চলমান গ্রিন এনার্জি সক্ষমতা সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণমূলক (বিএমআরই) কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এ স্টক লভ্যাংশ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত আয় (রিটেইনড আর্নিংস) থেকে দেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ঝুঁকিতে পড়বেন তারেক রহমানই

০

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই ঝুঁকিতে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন ‘স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আপসের সুযোগ নেই। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়িত না হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই।’

আজ শনিবার রাজধানীর মেহেরবা প্লাজায় দলটির প্রধান কার্যালয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে ‘সংস্কারের অঙ্গীকার ও প্রতারণার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন হাসনাত কাইয়ূম।

সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সব গণতান্ত্রিক দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করলে আবু সাঈদ, মিরাজসহ হাজারো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে।’

হাসনাত কাইয়ূম দাবি করেন, বিএনপির সব নেতাকর্মী গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধী নয়। তার মতে, দেশি-বিদেশি প্রভুর প্রচারণায় বিএনপির যে অংশ গণরায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়নি। এই ষড়যন্ত্র সফল হলে তারেক রহমানই ঝুঁকিতে পড়বেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে সরকার প্রকাশ্যেই প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছে।

গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে বিএনপি সরকার সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করছে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই।’

আরও বক্তব্য দেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ সরকার, জুলাই শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রওফ মিয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন প্রমুখ।