Home Blog Page 101

প্রতিযোগী ছাড়ালো দুই লাখ আগামীর স্বপ্ন সারথি গড়ছে ‘মার্কস অলরাউন্ডার’

আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নেতৃত্ব দেবে মেধা-মনন-সৃষ্টিশীলতা ও অদম্য শক্তিতে ভরপুর আজকের প্রজন্ম। তাদের হতে হবে অলরাউন্ডার। সেই অলরাউন্ডার প্রজন্মকে শৈশব থেকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে চলেছে মার্কস ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার। দেড় যুগের বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে আয়োজন করে চলেছে মার্কস অলরাউন্ডার।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্লাটফর্ম এবার ফেলে দিয়েছে অভূতপূর্ব সাড়া!

এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ। আয়োজকরা জানিয়েছেন সব মিলিয়ে নিবন্ধন সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে আড়াই লাখ। বাংলাদেশের ইতিহাসে শিশু-কিশোরদের কোনো প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় এত বিশাল অংশগ্রহণ এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

মার্কস অল রাউন্ডার কেবল একটি সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি স্বপ্ন দেখার ও দেখানোর কারিগর। এবারের আসরটি সাজানো হয়েছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে, যেখানে তিনটি ভিন্ন বয়সভিত্তিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

একজন শিশু যে কেবল পড়াশোনাতেই ভালো হবে, তা নয়— তার ভেতর লুকিয়ে থাকতে পারে একজন জাত শিল্পী বা তুখোড় বক্তা। সেই সম্ভাবনাকে উসকে দিতেই রাখা হয়েছে নিচের বিষয়গুলো: ১. নাচ, ২. গান, ৩. আবৃত্তি, ৪. অভিনয়, ৫. চিত্রাঙ্কন, ৬. গল্প বলা ও ৭. উপস্থিত বক্তৃতা।

%E0%A7%AA 1777723759

মার্কস অলরাউন্ডার কখনোই কেবল শহরকেন্দ্রিক আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এবারের আসরে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাকে ১০০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের একদম প্রান্তিক জনপদ থেকেও যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই শত ভেন্যুর পরিকল্পনা।

এবারের আসরে তিনটি গ্রুপ থেকে নির্বাচিত সেরা ৩ জন অলরাউন্ডার প্রত্যেকে পাবে ১৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে সর্বমোট ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উপহার ও শিক্ষাবৃত্তি।

চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া সুর আর ছন্দ আর সৃজনশীলতার লড়াই এখন ঢাকার বুকে। ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। যারা এখনো এই মহোৎসবে সামিল হতে পারেননি বা তথ্য জানতে চান, তাদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও বিস্তারিত তথ্যের দ্বার উন্মুক্ত।

একটি উন্নত জাতি গঠনে সুস্থ বিনোদন এবং মেধার বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। মার্কস অল রাউন্ডার কেবল একটি প্রতিযোগিতার নাম নয়, এটি একটি আন্দোলনের নাম— যে আন্দোলন শিশুদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, তাদের সাংস্কৃতিক বোধকে জাগ্রত করে এবং তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

ইরানের নতুন প্রস্তাব পারমাণবিক আলোচনা পরে, আগে হরমুজ খুলতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তারা বলছে-পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে করা যাবে। আগে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তেহরান একটি নতুন আলোচনার কাঠামো তৈরি করতে চায়, যেখানে প্রথমে যুদ্ধবিরতি ও আস্থা পুনর্গঠন এবং পরে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই কাঠামোর অধীনে পারমাণবিক বিষয়ে জটিল আলোচনা শেষ ধাপে রাখা হয়েছে, যাতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়।’

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালাবে না- এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ তুলে নেবে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই কূটনৈতিক প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন মোড় তৈরি করতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত ও বাণিজ্যিক চাপের মধ্যে এই প্রস্তাব সামনে এলো, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মেলায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বৈশাখী মেলায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে সিয়াম (১৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পদুরবাড়ি হাই স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে সিয়ামের মৃত্যু হয়।

নিহত সিয়াম উপজেলার শিবপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় মানকোন উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বৈশাখী মেলায় ঘুরতে যায় সিয়াম। রাত সাড়ে সাতটার দিকে মেলায় অবস্থানকালে বন্ধুদের দুটি গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের কয়েকজন কিশোর দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশ নিয়ে সিয়ামের ওপর হামলা চালায়। তারা তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সিয়াম। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই শুক্রবার ভোর চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনা প্রবল: মার্কিন সিনেটর

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের সদস্য (সিনেটর) ও ডেমোক্র্যাট নেতা রিচার্ড ব্লুমেন্থাল জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে ফের সামরিক হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন ব্রিফিং ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এমন কথা জানিয়েছেন।

সিএনএন-এর সাংবাদিক এরিন বারনেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্লুমেন্থাল বলেন, ‘আমি যেসব ব্রিফিং পেয়েছি এবং অন্যান্য সূত্র থেকে আমার যে ধারণা হয়েছে, তাতে একটি সামরিক হামলার প্রবল সম্ভাবনা আছে।’ বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করেন এই মার্কিন সিনেটর বলেন, এটি আমেরিকান সেনাদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা আছে।

হামলার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি ব্লুমেন্থাল। তিনি বলেন, ‘আমি খুব বিস্তারিত বলতে পারছি না, কারণ এই ব্রিফিংগুলোর অন্তত একটি অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে দেওয়া হয়েছে। ঠিক কখন হামলা হবে তা নিশ্চিত করে বলছি না। তবে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে এটি আলোচনার টেবিলে আছে।’

ব্লুমেন্থাল আরও বলেন, এমনটা হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত সামরিক কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইরানকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে ব্রিফ করবেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা।

মার্কিন সংসদীয় শুনানিতে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এক সংসদীয় শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকসের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সারা। পাশাপাশি হেগসেথের সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত কি না তা জানতে চান।

সারা জ্যাকবস কংগ্রেসে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর প্রতিনিধি। নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে শুনানির প্রশ্নোত্তর পর্বের ৫ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির এক বাজেট প্রস্তাবের ওপর এই শুনানি হয়।

শুনানিতে পিট হেগসেথকে উদ্দেশ্য করে সারা বলেন, এই মুহূর্তে স্যান ডিয়েগোর আড়াই হাজার মেরিন সেনা ইরানের উপকূলে অবস্থান করছে। বহু সেনার পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তারা প্রেসিডেন্টের মানসিক সুস্থতা এবং কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের বক্তব্যের সময় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েকটি পোস্টের উদ্ধৃতি দিচ্ছেন সারা। এর মধ্যে ছিল অপ্রকাশযোগ্য শব্দ ব্যবহার করে ইরানকে দেওয়া হুমকি। এ ছাড়া, সভ্যতা ধ্বংসের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন সারা। এরপর পিট হেগসেথকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মিস্টার সেক্রেটারি, আপনি বেশিরভাগ সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকেন। আমার ভোটারদের জীবন এখন ঝুঁকিতে। আপনি কি মনে করেন, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রেসিডেন্ট মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল?’

এরপর হেগসেথ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক প্রজন্মের মধ্যে পাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী কমান্ডার-ইন-চিফ হলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।’

বিতর্কের এক পর্যায়ে সারা জ্যাকবস ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন তা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমান যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, এক সময় উন্মুক্ত থাকা হরমুজ প্রণালি এখন প্রায় বন্ধ। ইরানের শাসকরা এখনো ক্ষমতায় আছেন এবং তাদের কাছে পারমাণবিক সরঞ্জামও আছে।

পিট হেগসেথকে উদ্দেশ্য করে সারা বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন এটাই জয়ের নমুনা, তবে আপনার মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন তোলা উচিত।’ সারা আরও বলেন, ‘হয়তো আপনিই (হেগসেথ) এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী এবং প্রেসিডেন্টের উচিত আপনাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা।’

অর্থবছরের ৯ মাস বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধ বেড়েছে ১০%

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধ বাবদ ব্যয় বাড়ছেই। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ৯ মাসে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, গত জুলাই-মার্চ সময়ে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসল বা মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২০১ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে পুরোনো বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে চাপ বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

এদিকে বিদেশি ঋণ-অনুদান ছাড় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। চলতি অর্থবছরে ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা প্রায় ৩৮৯ কোটি ১৮ কোটি ডলারের মোট ঋণ ও অনুদান ছাড় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণ ছাড় হয়েছে ৩৫০ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৪৪৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।
ইআরডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সব মিলিয়ে ২৮০ কোটি ৪১ লাখ ডলার নতুন ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩০০ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের মতো প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণ-অনুদানের সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ওই সময়ে প্রায় ১২৭ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আইডিএ। সংস্থাটি সাড়ে ৪১ কোটি ডলারের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে রাশিয়া।

লভ্যাংশ দিতে পারেনি অর্ধেকের বেশি ব্যাংক

ব্যাংকের লভ্যাংশ বিতরণে এবারও শেষ পর্যন্ত কঠোর নীতি অবলম্বন করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কের ঘরে থাকা কোনো ব্যাংককে ২০২৫ সালের জন্য লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। মূলধন বা প্রভিশন ঘাটতি নিয়েও কোনো কোনো ব্যাংক ওই বছরের লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। দেশীয় ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুরবস্থায় পড়া ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্ত করতে গত বছরের ১৩ মার্চ শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার নীতিমালা শীর্ষক একটি বিধান করা হয়। সেখানে বলা হয়, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারবে না। বর্তমানে ২৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ২৯ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে ১৭টি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। আবার মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ নেই। আগে প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় নিয়েছে এরকম ব্যাংকও লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গভর্নর পদে পরিবর্তন আসায় শেষ পর্যন্ত এই কঠোর নীতি থাকবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই আলোচনা তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

আবার মূলধন ভিত্তি সবচেয়ে ভালো এবং রেকর্ড মুনাফা করা ব্যাংকেও সর্বোচ্চ লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একটি ব্যাংক কোনো অবস্থায় পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ কিংবা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার শেষ দিন ছিল গতকাল। শেষ দিনে একীভূত হওয়া দুর্বল পাঁচ ব্যাংকে আটকে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণে বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরও কঠোর নীতি করা হয়। যে কারণে গত বছর নির্ধারিত সময়ে আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করতে পেরেছিল না অধিকাংশ ব্যাংক। ফলে এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছিল। এবার নির্ধারিত তারিখে সব ব্যাংক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করেছে।

লভ্যাংশ দিয়েছে যেসব ব্যাংক
ব্যাংক খাতের নানা সংকটের মধ্যেও বেসরকারি খাতের ৬টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। নগদ ও স্টক মিলে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। এ তালিকায় রয়েছে–ব্র্যাক, সিটি, পূবালী, ডাচ্‌-বাংলা, প্রাইম ও উত্তরা ব্যাংক। লভ্যাংশ বিতরণে পরের অবস্থানে থাকা যমুনা ব্যাংক দিয়েছে ২৯ শতাংশ। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে ইস্টার্ন ব্যাংক ২৮ শতাংশ, এনসিসি ২৫, ব্যাংক এশিয়া ১৭, শাহ্‌জালাল ইসলামী ১৩, ট্রাস্ট ব্যাংক ১৩, এমটিবি ১২, সাউথইস্ট ব্যাংক ১০, ঢাকা ১০ এবং মিডল্যান্ড ৬ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত এসব ব্যাংকের বাইরে এবার কমিউনিটি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে।

লভ্যাংশ দিতে পারেনি যেসব ব্যাংক
বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারার তালিকায় রয়েছে– ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। এক সময় ‘এ’ ক্যাটেগরি থেকে ব্যাংকটি এবার ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে নেমে এসেছে। এ তালিকায় রয়েছে আইএফআইসি, স্ট্যান্ডার্ড, ইউসিবি, মার্কেন্টাইল, এবি, আল-আরাফাহ ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, ন্যাশনাল, এনআরবি, এনআরবিসি, ওয়ান, প্রিমিয়ার, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। একীভূত হওয়ার কারণে পুঁজিবাজারের তালিকা থেকে বাদ পড়া এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোস্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক রয়েছে এ তালিকায়। এসব ব্যাংক একীভূত করে অকার্যকর ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুবিধার্থে ব্যাংকগুলোর এখনও লাইসেন্স বাতিল করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন ব্যাংকের মধ্যে লভ্যাংশ দিতে পারেনি– বাংলাদেশ কমার্স, মেঘনা, মধুমতি, পদ্মা ও সীমান্ত ব্যাংক। আর সিটিজেনস ব্যাংক নিট মুনাফা করলেও লভ্যাংশ বিতরণ করেনি। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে রূপালী, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, বিডিবিএল, বেসিক, বিকেবি, রাকাব ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সরকারকে লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৪০ হাজার ৫৯০ বাংলাদেশি

হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১০১টি হজ ফ্লাইটে মোট ৪০ হাজার ৫৯০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

শুক্রবার হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত ১০১টি ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

হজ বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ৭ জন হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মক্কায় ৫ জন এবং মদিনায় ২ জন মারা গেছেন। সৌদি মেডিকেল টিম সরাসরি ৬ হাজার ৮৩২ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। এছাড়াও আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে আরও ৮ হাজার ৮৩০ জন চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪৬টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৯৯২ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৭টি ফ্লাইটে ১৪ হাজার ৪৫৬ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৪২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। বাকী ৩৭ হাজার ৭৫৬ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।

গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী করলেন দুঃখ প্রকাশ, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘বানোয়াট’

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনায় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশের পর দুর্ভোগ পোহানো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমন হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নানা মন্তব্যে ‘তপ্ত উনুনে যেন ঘি পড়েছে’। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদকে তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবর বানোয়াট, ভিত্তিহীন। সামাজিক মাধ্যমে আগের বছরগুলোর জলাবদ্ধতার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

আগের দিন বুধবার চট্টগ্রামে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কথা বলার সময় হঠাৎ তাঁকে থামিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি কারও নজর এড়ায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আরেক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করে বলেছেন, তিনি ‘সরকারের বিরুদ্ধের লোক’। তিনি গণমাধ্যমের ওপরও ক্ষোভ ঝাড়েন, সামাজিক মাধ্যম নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।
এদিকে গতকাল প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় সভা করেছেন। বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। নগরের সব খাল ও পানি নিষ্কাশনের নালাগুলো সারাবছর সচল রাখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় করবে এই কমিটি। সিটি করপোরেশনের মেয়রকে কমিটির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এই সময়ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। পরে গতকাল জাতীয় সংসদেও একই বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।

‘জলাবদ্ধতা নয়, জলজট হয়েছে’
গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রবর্তক মোড়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর পানিতে ভাসছে না, সুন্দর আছে। হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমা পড়লেও সঠিক সময়ে তা নিষ্কাশন হয়ে গেছে। এটাকে আমরা জলাবদ্ধতা বলব না, এটাকে আমরা জলজট বলব।’ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রথমত আমি মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে নিউজটি করেছেন বা সামাজিক মাধ্যমে বলছে, আমি চট্টগ্রামে সন্ধ্যার পর থেকে ঘুরে দেখলাম। চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে না।’ প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা খুব বেশি হয়নি– এমন ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘৬০ কিলোমিটার আয়তনের একটা সিটি করপোরেশন। প্রবর্তক মোড়ে আমরা পানির মধ্যে যতটুকু হাঁটলাম, এটা ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা; এক গোছা পানি হবে।’ প্রতিমন্ত্রীর এসব মন্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা।

চট্টগ্রামে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
গতকাল দুপুরে চাক্তাই এলাকায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০২৩-২৪ সালের ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন। উনার কাছে খবর ছিল, চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়েছে। এই খবরে উনি সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারপর সংসদেই তাঁর কার্যালয়ে ডেকে উনি আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, আপনি এক্ষুনি চট্টগ্রাম যান; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নিয়ে বসে কী সমস্যা আছে, সমাধান করে তারপর আপনি ফিরবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি বুধবার সন্ধ্যার পরে এসেছি, ঘুরেছি। যেভাবে মিডিয়াতে নিউজটা এসেছে, সামাজিক মাধ্যমেও, এ রকম জলাবদ্ধতা আমি এসে দেখিনি। অনেকে ট্রল করে বলেছেন, মাননীয় মন্ত্রীর চশমার সমস্যা আছে। চোখে কম দেখে। কিন্তু আপনারা তো কাল থেকে আমার সঙ্গে ছিলেন। আজকেও আছেন। আপনাদের কাছেও আমি প্রশ্ন রাখতে চাই– আজকে তো কোথাও আপনারা জলাবদ্ধতা দেখেননি।’

‘জলাবদ্ধতার খবর বানোয়াট, ভিত্তিহীন’
ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা হলেও গতকাল  জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জলাবদ্ধতার খবর বানোয়াট, ভিত্তিহীন। সামাজিক মাধ্যমে আগের বছরগুলোর জলাবদ্ধতার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করায় চট্টগ্রামবাসী আনন্দিত হয়েছেন, খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়ে একজন সংসদ সদস্য বা খবরের ওপর ভিত্তি করে দুঃখ প্রকাশ করে ফেলেছেন।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, নগরবাসী বলেছেন, এক-দুই বছর আগে যে রকম জলাবদ্ধতা হতো, তা এখন নেই। চট্টগ্রাম মহানগরে মোট ৫৭টি খাল রয়েছে। ৩৬টি খাল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্খনন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ব্রিগেড যা বাস্তবায়ন করছে। এ  কাজ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে ওই বাঁধগুলোর কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে প্রবর্তক মোড়সহ পাঁচটি জায়গায় জলজট তৈরি হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী সংসদকে বলেছেন, বড় ধরনের বৃষ্টি বা জলোচ্ছ্বাস না হলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আগামীতে জলবদ্ধতার শঙ্কা থাকবে না।

সিডিএ চেয়ারম্যানকে ধমকালেন
গতকাল সকালে সিটি করপোরেশনে সিডিএ চেয়ারম্যানকে দেখে ক্ষোভ ঝাড়েন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নগরীর টাইগারপাস সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এক সভায় সিডিএ চেয়ারম্যানকে ‘সরকারের বিরুদ্ধের লোক’ বলে অভিযুক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি তো প্ল্যানিং করে ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সরকারের বিরুদ্ধের লোক।’ প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘শাহাদাত ভাই (মেয়র) আমাকে চেনে স্যার।’ প্রতিমন্ত্রী প্রতি-উত্তরে বলেন, ‘শাহাদাত ভাই চিনলে কী হবে! চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩৬টি খাল সংস্কার করছে। সমস্যাটা হয়েছে আপনাদের নিয়ে। মিডিয়ায় আপনার কোনো বক্তব্য নাই। সাধারণ মানুষ রাগ-ক্ষোভ ঝাড়ছে মেয়র শাহাদাতের ওপর।’

‘গাড়িতে পানি সরানোর পাম্প নিয়ে ঘুরছি’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বুধবার আসার পর আমি মেয়র সাহেবকে মজা করে বলছিলাম, কিছু পানি নিষ্কাশনের পাম্প গাড়ির মধ্যে নেওয়ার জন্য। আমরা কোথাও যদি পানি পাই, নিজেরাই তা নিষ্কাশন করে দেব। কিন্তু কাল থেকে আমরা ঘুরছি। পাম্পও আমাদের গাড়িতে আছে। কিন্তু আমরা কোথাও পাম্প ইউজ করতে পারিনি। এটাই বাস্তবতা। এই কথা নিয়েও অনেক কথা হবে।’

বিশিষ্টজনের ভাষ্য
জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আসলে চট্টগ্রামের মানুষকে অপমান করার জন্য এসেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন, সেখানে প্রতিমন্ত্রী উল্টো কথা বললেন। তিনি তো চট্টগ্রামের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে উপহাস করলেন। মেয়র শাহাদাত যখন কথা বলতে চাইছিলেন, তখন প্রতিমন্ত্রী তাঁকে থামিয়ে দিলেন, পরে শুনলাম তিনি সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছেন।’
দেলোয়ার মজুমদার আরও বলেছেন, ‘কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা জলাবদ্ধতাকে অস্বীকার করলে তো সমস্যার সমাধান হবে না। সংকটটা কোথায় সেটা দেখতে হবে। আট বছরেও কেন সিডিএর মেগা জলাবদ্ধতা প্রকল্প শেষ হলো না, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রতিমন্ত্রী সেসব না করে জলাবদ্ধতার নতুন সংজ্ঞা দিলে তো হবে না। তিনি বলতে পারতেন, সরকার মাত্র এসেছে, কেন জলাবদ্ধতা হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখা হবে, জলাবদ্ধতা হয়নি– এই মিথ্যা কথা বলার কী দরকার ছিল?’
মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। এ বছর জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো খাল-নালায় সিডিএর দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ। এখানে মেয়রের দায় কম। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর হঠকারী মন্তব্যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভটা গিয়ে পড়েছে সরকারের ওপর।’

ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রামের সাংবাদিক মুহাম্মদ শামসুল হক ফেসবুকে মন্তব্য করে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী খুব একটা খারাপ বলেননি। আসলে পানিতে শহর ভাসছে না! বরং ডুবেছে শহরবাসী, ঘরবাড়ি, জানমাল, যানবাহন।’
রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর মেহেদী মন্তব্য করেন, ‘সরকার পতনের
জন্য বিরোধী দল লাগে না, এ রকম একজন প্রতিমন্ত্রীই যথেষ্ট।’

জরুরি সমন্বয় সভা
গতকাল বিকেল সোয়া ৩টায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে জরুরি সভা হয়। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিয়ে আমরা একে অপরকে দোষারোপ করলে হবে না, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব এখনও আছে জনপ্রিয় নয়, আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারি ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে

প্রধানমন্ত্রিত্ব বা সরকারপ্রধানের চেয়ার দূর থেকে দেখতে খুব আরামদায়ক মনে হলেও এটি  আরামের নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নিজের আসনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেখলে মনে হয় এই চেয়ারে বসতে আরাম। কিন্তু এই চেয়ারটাতে বসলে মনে হয়, প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সব সময় পপুলার (জনপ্রিয়) কথা বলতে পারি না। এই চেয়ার বলে, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিরোধী দলের অনেক সদস্যও টেবিল চাপড়ান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও দায়িত্বের চেয়ার তাঁকে সেই অনুমতি দেয় না। জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পেছনে ছুটলে সাময়িক বাহবা মিললেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে সংসদ নেতা বলেন, ডেপুটি স্পিকার পদটি আপনাদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের ক্ষুধার অন্ন ও অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার মতো বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরকারি ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
অতীতের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষতির মাশুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে। স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ ছাড়া সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

সংসদ নেতা বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। জনগণের প্রতিটি সমস্যা লাঘব করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা এই সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ। বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।

তাই আসুন, আমরা একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি। কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’

সংসদের দিকে সমগ্র দেশ তাকিয়ে আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারা এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় প্রত্যাশা ও আশা পোষণ করেন। আমরা বিভিন্ন সময়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি; কিন্তু শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই আমাদের কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না। প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে– সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই আমাদের আসল লক্ষ্য।

কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা কৃষকদের সমস্যার কথা বলেছেন। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী  কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। শুধু ধান চাষি নয়; মৎস্য ও গবাদি পশু পালনকারীসহ সব পর্যায়ের কৃষকের কাছে আমরা পর্যায়ক্রমে পৌঁছাব।’

শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশে থাকার সময় দেখেছি, সেখানকার স্কুল ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ কতটা উন্নত। আমার দেশের বাচ্চারা কেন এমন সুযোগ পাবে না? ইনশাআল্লাহ, সেই আশা আমরা পূরণ করব। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ও জুতার ব্যবস্থা করব। শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করবে– এটিই আমাদের কাম্য।’

নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলাম। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে; পাশাপাশি মেধাবীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড চালু করায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী হবে। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, এত টাকা কীভাবে আসবে? আমি বলব, এটি ইনভেস্টমেন্ট; এর রিটার্ন গ্রামীণ অর্থনীতির মাধ্যমে ফিরে আসবে।’ দেশে জলাবদ্ধতা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে সেখানে পাঠিয়েছি। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুদিন আগেই বলা হয়েছিল তালিকা তৈরি করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে। এটিই প্রমাণ করে, এই সরকার জনগণের সরকার।’

বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। উভয় পক্ষ মিলে যৌথ কমিটি গঠন করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বস্তির জন্য যে কোনো সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতাকে তাদের এলাকার সমস্যার তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য– এ দুই খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

’৭১-এর পরবর্তী বাংলাদেশ যে রকম শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশ ও বর্তমান সংসদ একইভাবে হাজারো শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমার সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি বিরোধী দলের সদস্যের সঙ্গে, দেশের মানুষের সঙ্গে যে কোনো আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা সবাই একসঙ্গে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব। দেশ ও জনগণকে সম্মান যদি আমরা না করি, তাহলে আমাদের রাজনীতি হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাবে। সে জন্যই আমাদের সবচেয়ে প্রথম হচ্ছে দেশের জনগণ এবং  প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।’

২৫ কার্যদিবসে ৯৪ বিল পাস
১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ২৫ দিন বসেছে বৈঠক। এ সময় বিল পাস হয়েছে ৯৪টি। এর অধিকাংশই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ-সংক্রান্ত। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন সমাপ্ত-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির চিঠি পড়ে শোনান। এর আগে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়। এতে সরকারি দলের সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও বিরোধী দল ‘না’ ভোট দেয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তিনি এই অধিবেশনে দেখেছেন, অতীতের কোনো সংসদে তেমন দৃশ্য দেখা যায়নি। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে।

স্পিকার বলেন, সংসদে একটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সংসদে মোট ২২০ জন  প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। এর পরও সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ স্পিকারকে মুগ্ধ করেছে।

স্পিকার জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি গৃহীত হয় এবং দুটি নিয়েই আলোচনা হয়। ৬৮ বিধিতে ৯টি নোটিশ পাওয়া যায়; এর মধ্যে একটি গৃহীত হয় এবং সেটির ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশে ৭১ বিধিতে মোট এক হাজার ১৯৮টি নোটিশের মধ্যে ৪২টি গৃহীত হয় এবং ৩৮টির ওপর আলোচনা হয়। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয় ২০৭ বার। ১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিশের মধ্যে একটি গৃহীত হয়ে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ২৬৬ বিধিতে একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে ৯৩, মন্ত্রীদের জন্য ২৫০৯ প্রশ্ন
স্পিকার বলেন, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য মোট ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৫টির উত্তর তিনি সংসদে দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তর দেওয়ার জন্য মোট দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে এক হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ–এই প্রতিপাদ্য এবং সবার আগে বাংলাদেশ– এই নীতি সামনে রেখে সবাইকে এগোতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সুসংহত করাও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।