Home Blog Page 103

ইরানের তেল বিক্রির সুবিধা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অনুমতিও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নেয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের বাহিনীর কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। এ কারণে ইরানকে ‘উচ্চ মূল্য’ দিতে বাধ্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সিরিকে একটি বাণিজ্যিক জেটিতে আঘাত হানা একটি প্রক্ষেপণের ধ্বংসাবশেষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সেখানে মাছ ধরার নৌঘাট ও কয়েকটি মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। তবে সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে ওই স্থানে হামলার কথা উল্লেখ করেনি।

এদিকে হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড়ও বাতিল করেছে। গত ২২ জুন দেওয়া ওই সাধারণ লাইসেন্সের আওতায় ইরানকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে সব লেনদেন গুটিয়ে ফেলতে হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিরতির কাঠামোগত সমঝোতা লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় কাতার ইরানকে দায়ী করেছে। দেশটির অভিযোগ, ‘আল রেকাইয়াত’ নামে একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে। তবে নাবিকেরা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলের কাছে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি সুপারট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।

তবে কাতারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। তবে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কাজ শেষ করে দেব।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে স্থায়ী চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।

জুলাইযোদ্ধা হতে করা আবেদনের ২০০ ভুয়া

জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তিন হাজারের বেশি নতুন আবেদন পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৪০০ আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মাধ্যমে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মাঠ পর্যায়ে আবেদনগুলো যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে এ দুই সংস্থা। ১ হাজার ৫৯০ আবেদনকারী জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে দুই শতাধিক আবেদনকারীর তথ্য পুরোপুরি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, নতুনভাবে আবেদনকারীদের মধ্যে আরও ছয়শ জনের তথ্যে অমিল, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদ হলেও আহত হিসেবে পুনরায় পরিবারের সদস্যদের আবেদনসহ নানা অসংগতি পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০। দুই সংস্থার তদন্ত শেষে ১ হাজার ৫৯০ জন গেজেটভুক্ত হলে জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০-এ। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এখনও অনেকের আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। যাচাই শেষে তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে তারাও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে নথিভুক্ত হবেন। এ ছাড়া কেউ অসত্য তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছেন– এমন তথ্য পাওয়া গেলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, এর আগে গেজেট প্রকাশ হলে তালিকায় থাকা কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১৩ জন শহীদ ও ২১৯ জন আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’র নাম গেজেট থেকে বাতিল করা হয়। নতুন করে এমন বিতর্ক এড়াতেই আবেদনকারীদের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুর দিকে ‘জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা’দের গেজেট প্রকাশের পর নতুন করে অনেকেই আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে আবেদন করেন। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮ জনের আবেদনের তথ্য মাঠ পর্যায়ে যাচাই করেছে এসবি ও পিবিআই। গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জুলাইযোদ্ধাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের তদন্তের অনুরোধ জানায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা সংস্থা দুটিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেয়। গত জুন মাসে এসব সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গেজেট প্রকাশের পর আরও ৩ হাজার ৩১৬ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮ জনের আবেদন তদন্তে পাঠানো হলে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএসভুক্তির কাজ চলছে এবং ২১০ জনের যাচাই শেষ হয়েছে। সত্যতা পাওয়া বাকি আবেদনগুলোও যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া আবেদনগুলোর এমআইএস সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তবে প্রায় ২০০ জনের আবেদন সরাসরি ভুয়া বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বাকি প্রায় ছয়শ আবেদনের মধ্যে দুটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অমিল, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদ হয়েও আহত হিসেবে আবেদন এবং বিভিন্ন তথ্যগত অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব আবেদন থেকে আরও একশর মতো আবেদনের সত্যতা মিলতে পারে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হামলায় নিহতদের ‘শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে কাউকে শহীদ বা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা বা তার বেশি অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, আবেদনকারীরা সত্যিই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতেই তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কোনো ‘ভুয়া জুলাইযোদ্ধা’ যেন গেজেটভুক্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়।

যেসব  কারণে অনেকের আবেদন আটকে গেল
জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হতে গত বছর ১৭ এপ্রিল আবেদন করেন মো. নাছির উদ্দিন (৩৮)। গত শুক্রবার তিনি সমকালকে বলেন, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের হাউস বিল্ডিং এলাকায় বাঁ হাতের কনুইয়ে টিয়ারশেল ও লাঠির আঘাতে আহত হন। পরে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও ভর্তি হননি এবং এ ঘটনায় কোনো মামলাও করেননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করেছেন। কেন এখনও গেজেটভুক্ত হননি, তা তিনি জানেন না।

তবে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কোনো ছবি বা ভিডিও নাছির দেখাতে পারেননি। শুধু ৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা হাতে একটি ছবি দেখিয়েছেন। তিনি উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ছবি ও ওষুধের প্রেসক্রিপশন জমা দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাছির ওই হাসপাতালের সহকারী প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় অন্যান্য কর্মচারীর মতো তিনিও সহযোগিতা করেন। কিন্তু আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন বলে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সংরক্ষিত নথিপত্রেও তাঁর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য মো. রিফাত ইসলাম নামে আরেকজন আবেদন করেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রিফাত আহত হওয়ার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তিনি বাঁ হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার যে ছবি দিয়েছেন, সেটিতে মুখাবয়ব স্পষ্ট নয়। কোনো দালিলিক প্রমাণও নেই। আহত হওয়ার পর তিনি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। আঘাত পাওয়ার ৮ থেকে ৯ দিন পর একটি ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নেন। তবে সেই ফার্মেসিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রায় এক বছর পর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কিছু অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। রিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলায় সাজা ভোগের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রিফাত ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়েছেন– এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি অন্য কোনো সময় বা অন্য কোনো কারণে আহত হয়ে থাকতে পারেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনে শহীদ হন মো. আরাফাত হুসাইন। গত বছর ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে জুলাই শহীদদের তালিকার যে গেজেট প্রকাশিত হয় সেখানে ৮২৬ নম্বরে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত। তবে আরাফাতের নামে আবারও আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করা হয়। তদন্তে এটা স্পষ্ট হওয়ায় আবেদনটি বাতিল হয়েছে।

এর আগে আবেদন যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক আবদার, সামাজিক চাপসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাই এসবি ও পিবিআই দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে যুক্ত একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, নতুন আবেদনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে। বিভাগের ৫৮২টি আবেদনের মধ্যে ঢাকা জেলা থেকে হয়েছে ৩৩৯টি। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে সবচেয়ে কম; পাঁচটি আবেদন করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানা, পেশা, এনআইডি/জন্মনিবন্ধন, আগে গেজেটভুক্ত হওয়ার তথ্য, আহত বা শহীদ দাবির ক্ষেত্রে মামলা ও তার অবস্থা, সাক্ষী, ছবি-ভিডিও, সংবাদ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাকাল, চিকিৎসাপত্র, চিকিৎসকের বক্তব্য এবং ঘটনার ভিডিও, অডিও, ছবি বা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার তথ্য যাচাই করেছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যাদের আবেদনপত্রের তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে সেগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

শহীদের পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা
‎মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত সোমবার পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং অতি গুরুতর আহত (ক শ্রেণি) ৯৯০ জন, গুরুতর আহত (খ শ্রেণি) এক হাজার ৪১৭ ও আহত (গ শ্রেণি) ১১ হাজার ৯৬৩ জন জুলাইযোদ্ধাসহ মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। স্বীকৃত আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগের।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শহীদ পরিবারকে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; বাকি ২০ লাখ দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাও পাচ্ছে পরিবারগুলো। ঢাকায় তাদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আহতদের ক্ষেত্রে ক শ্রেণিভুক্তদের এককালীন পাঁচ লাখ ও মাসিক ২০ হাজার, খ শ্রেণিভুক্তদের এককালীন তিন লাখ ও মাসিক ১৫ হাজার এবং গ শ্রেণিভুক্তদের এক লাখ টাকা এককালীন সহায়তা ও মাসিক ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধাও রয়েছে।
নানা সুযোগ-সুবিধা চালুর পর জুলাইযোদ্ধার তালিকা নিয়ে বিতর্কও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগে সড়ক দুর্ঘটনা বা পরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নামও তালিকায় এসেছে। নতুন আবেদনকারীদের চাপের কারণে সব আবেদন সরাসরি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই অন্য কারণে আহত হয়েও তালিকায় নাম তুলতে চেষ্টা করেছেন। তবে এখনও অনেক প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা তালিকার বাইরে রয়েছেন। তদন্তে ভুয়া আবেদনকারীদের পাশাপাশি প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের শনাক্তও সহজ হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সমকালকে বলেন, নতুন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে গেজেটভুক্ত করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর যেন কোনো বিতর্ক না ওঠে; প্রকৃত জুলাইযোদ্ধারাই যেন গেজেটভুক্ত হতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ আটকে পড়া যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিচ্ছে রেলওয়ে

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আর যাত্রা করতে পারেনি। পরে ট্রেনটি যাত্রা বাতিল করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যায়।

একইভাবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ভোর থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে আটকে রয়েছে। বুধবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছিল ট্রেনটি। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ জানিয়েছেন, জানআলীহাট-ষোলোশহর সেকশনে রেললাইনের ওপর থেকে পানি না নামলে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে না।

এদিকে আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চান তারা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।

এছাড়া, যারা ঢাকায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক তারা বুধবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে পারবেন। গতকালের (মঙ্গলবারের) টিকিটধারী যাত্রীরাও একই টিকিট ব্যবহার করে এ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

যেটুকু ভাগ্যে লেখা, সেটুকুই শেষ পর্যন্ত নিজের হয়ে আসে: নাবিলা

একটা সময় তাঁকে সবাই চিনতো ‘আয়নাবাজির নাবিলা’ নামে। এরপর দীর্ঘ বিরতি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর বড় পর্দায় দেখা যাবে না তাঁকে। কিন্তু তিনি ফিরলেন এমন এক সিনেমা দিয়ে, যা দেশের সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বাণিজ্যিক ছবিতে পরিণত হলো। সেটি ‘তুফান’। আর এখন তিনি পরিচিত সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’ দিয়ে। এই তিনটি সিনেমা যেন মাসুমা রহমান নাবিলার অভিনয়জীবনের তিনটি আলাদা অধ্যায়। ফলে তিনটি ভিন্ন সময়ের ভিন্ন চরিত্র এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতার গল্প জমা হয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

মজার ব্যাপার হলো, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাবিলার চলচ্চিত্রের সংখ্যা হাতে গোনা। অথচ সেই অল্প কাজই তাঁকে এনে দিয়েছে স্থায়ী পরিচিতি। সংখ্যার চেয়ে মানের ওপর বিশ্বাস রাখা এই অভিনেত্রী এখন মনে করেন, তাঁর ভাগ্যটাই হয়তো এমন ছিল।

সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নাবিলা বলেন, এখন ফিরে তাকালে তাঁর মনে হয়, কম কাজ করলেও তিনি ভীষণ ভাগ্যবান। কারণ তাঁর করা তিনটি সিনেমার কোনোটিই এমন হয়নি যে মুক্তি পেয়েই হারিয়ে গেছে; বরং প্রতিটি সিনেমাই দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, বাংলা সিনেমার উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকা যখনই তৈরি হবে, সেখানে ‘আয়নাবাজি’, ‘তুফান’ ও ‘বনলতা সেন’-এর নাম উচ্চারিত হবে। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

তবে এই পথটা সবসময় মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের নানা সময়ে তাঁর কাছেও এসেছে হতাশা। অনেক সিনেমা হয়েছে, যেগুলোতে কাজ করার সুযোগ পেলে হয়তো তালিকাটা আরও দীর্ঘ হতো। অন্যের অভিনীত কিছু সিনেমা দেখে তাঁরও মনে হয়েছে, এই গল্পের অংশ যদি তিনি হতে পারতেন! কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আক্ষেপকে জায়গা ছেড়ে দিয়েছে বাস্তবতা। এখন তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক শিল্পীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজই অপেক্ষা করে। যেটুকু ভাগ্যে লেখা, সেটুকুই শেষ পর্যন্ত নিজের হয়ে আসে।

একসময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো তিনি দর্শকের চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির কারণে মানুষ তাঁকে ভুলে যেতে বসেছে। শোবিজে একটি প্রচলিত কথা আছে– ‘আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড’। সেই আশঙ্কা তাঁকেও তাড়া করেছিল। কিন্তু ‘তুফান’ এবং এখন ‘বনলতা সেন’ যেন সেই ভয়কে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। নতুন কাজ দিয়েই আবার দর্শকের আলোচনায় ফিরে এসেছেন তিনি। তাই এখন আর অতিরিক্ত প্রত্যাশা করেন না। কারণ তাঁর ভাষায়, বেশি প্রত্যাশা থেকেই বেশি হতাশার জন্ম হয়।

গেল ঈদুল আজহায় নাবিলা প্রেক্ষাগৃহে এসেছিলেন ‘বনলতা সেন’ নিয়ে।  পুরোদস্তুর কমার্শিয়াল সিনেমা তুফানের পর এমন সিনেমা নিয়ে আসাটা ছিল চমকানো বিষয়। এতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও ছিল একেবারেই আলাদা। ছবিটিতে একসঙ্গে একাধিক চরিত্রকে ধারণ করতে হয়েছে তাঁকে। এমন চ্যালেঞ্জিং কাজের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন পুরো দল। প্রতিটি দৃশ্যের মহড়া হয়েছে কস্টিউম, প্রপস ও পূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে। দিনের পর দিন সংলাপ বলতে বলতে ধীরে ধীরে চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্বের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন তারা।

নাবিলার ভাষ্য, পরিচালক উজ্জ্বল খুবই পারফেকশনিস্ট। শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার আগে তিনি কোনো ধরনের দ্বিধা বা অপ্রস্তুতি রাখতে চান না। সেই কারণেই মহড়ার ওপর এত জোর দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তুতি এতটাই নিখুঁত ছিল যে, শুটিংয়ে এনজি শটের প্রয়োজনই পড়েনি। একজন অভিনেত্রীর জন্য এমন অভিজ্ঞতা যেমন বিরল, তেমনি স্বস্তিদায়কও।

অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনা নাবিলার আরেকটি শক্তিশালী পরিচয়। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করলেও এখানেও তিনি সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন অনুষ্ঠানই করা উচিত, যেটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিন মনে থাকে।

ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কিছু বাণিজ্যিক কাজ করতেই হয়। তবে সেসবের বাইরে অনুষ্ঠান নির্বাচন করেন খুব সচেতনভাবে। ফলে অন্য অনেক উপস্থাপকের তুলনায় তাঁর কাজের সংখ্যা কম হলেও মানের দিক থেকে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
বর্তমান সময়ের কনটেন্ট সংস্কৃতি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন নাবিলা। তাঁর পর্যবেক্ষণ, এখন ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক অনুষ্ঠানই মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিনেমা মুক্তির সময় শিল্পীদের একের পর এক সাক্ষাৎকার দিতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটে। একই উত্তর বারবার দিতে দিতে শিল্পীদের কাছেও বিষয়টি একঘেয়ে হয়ে ওঠে।

আরও একটি বিষয় তাঁকে ভাবায়। অনেক উপস্থাপক স্ক্রিপ্টের বাইরে যেতে চান না। ফলে অতিথির ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা বা নতুন কোনো দিক উঠে আসে না। অথচ একটু প্রস্তুতি নিলেই একজন মানুষকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা সম্ভব। নাবিলা মনে করেন, একজন ভালো উপস্থাপকের কাজ শুধু প্রশ্ন করা নয়; বরং অতিথির ভেতরের অজানা গল্পগুলো দর্শকের সামনে তুলে আনা।

ভাইরাল সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য আরও স্পষ্ট। এখন অনেক অনুষ্ঠানেই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন প্রশ্ন রাখা হয়, যা অতিথিকে বিব্রত করতে পারে। বিতর্ক তৈরি করাই যেন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ মানসম্মত আলোচনা, গবেষণাভিত্তিক প্রশ্ন কিংবা শিল্পীকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা খুব কম দেখা যায়। নাবিলার মতে, ইউটিউব বা পডকাস্টের সংখ্যা যত বেড়েছে, সেই অনুপাতে মানসম্পন্ন অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়েনি।

নাবিলার পুরো ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে–তিনি কখনোই নিজেকে কাজের সংখ্যার প্রতিযোগিতায় নামাননি; বরং অপেক্ষা করেছেন এমন চরিত্রের জন্য, যা তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবে। হয়তো সে কারণেই ‘আয়নাবাজি’র হৃদি, ‘তুফান’-এর চমক কিংবা ‘বনলতা সেন’-এর বহুমাত্রিক চরিত্র–প্রতিটি কাজই তাঁর অভিনয়জীবনে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এমন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যাদের ঝুলিতে অসংখ্য সিনেমা। কিন্তু খুব কম শিল্পীর পক্ষেই বলা সম্ভব, তাদের প্রায় প্রতিটি কাজই দর্শকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। নাবিলা সেই ব্যতিক্রমী দলের একজন। সময়ের ব্যবধানে তাঁর চলচ্চিত্রের সংখ্যা হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু প্রতিটি সিনেমাই তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।

সম্ভবত এ কারণেই এখন আর নতুন কাজের সংখ্যা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর সাফল্য শেষ পর্যন্ত মাপা হয় না কতগুলো সিনেমা করেছেন, তা দিয়ে; বরং কতগুলো চরিত্র দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে আছে, তা দিয়েই। আর সেই হিসাব করলে, মাসুমা রহমান নাবিলার পথচলা নিঃসন্দেহে অনেকটাই আলাদা-ধীর, সংযত, কিন্তু স্মরণীয়।

কাঁচা না সেদ্ধ, কোন ডিমে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়?

অনেকেই কাঁচা ডিম খেতে ভালোবাসেন। বিশেষ করে শারীরচর্চার আগে কাঁচা ডিম খান। আবার কেউ কেউ পেশিবহুল চেহারা পাওয়ার আশায় সরাসরি কাঁচা ডিম ভেঙে খেয়ে নেন। কিন্তু কাঁচা ডিম কি উপকারী?

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকের ধারণা কাঁচা ডিমে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। তারা মনে করেন রান্না করলে ডিমের কিছু পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি ঠিক উল্টো। বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রান্না করা ডিম খাওয়াই বেশি নিরাপদ। উপকারীও বটে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সেদ্ধ ডিম খাওয়া ভালো।

কাঁচা ডিমের চেয়ে সেদ্ধ ডিম খাওয়া কেন ভালো?

১. কাঁচা ডিম খাওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জীবাণু সংক্রমণ। ডিমের খোলস বা ভিতরে সালমোনেলা নামের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, জ্বর এবং খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি। তাই ফিটনেসপ্রেমীরা কাঁচা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিলেও তা এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু সেদ্ধ ডিমে সেই ঝুঁকি কম।

২. কাঁচা ডিমের সাদা অংশে অ্যাভিডিন নামক একটি প্রোটিন থাকে, যা শরীরে বায়োটিন নামের গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের শোষণে বাধা দিতে পারে। ডিম রান্না করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

৩. সেদ্ধ বা রান্না করা ডিম থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায়, শরীর তা ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। কারণ রান্না করার পর ডিমের প্রোটিনের গঠন বদলে যায়। কিন্তু কাঁচা ডিম থেকে শরীর সব পুষ্টি সমান ভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

ফেনীর ফুলগাজী ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারী গ্রেপ্তার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আব্দুল হালিম চৌধুরীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলেন—উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, অফিস সহায়ক ফিরোজ আহমেদ এবং নুরুল ইসলাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজের নামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি তদন্তে উঠে এলে থানায় মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না দিতে ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর অনুরোধ

তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, আঙ্কারাকে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় কৌশলগত সুবিধা হুমকির মুখে পড়বে।

সোমবার ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলেও এর নেতৃত্ব এমন একজনের হাতে, যিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তুরস্ক সাইপ্রাসের একটি অংশ দখলে রেখেছে, গ্রিসকে হুমকি দিচ্ছে এবং জেরুজালেম দখলের কথাও প্রকাশ্যে বলে থাকে।

সাক্ষাৎকারে তুরস্কে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু দাবি করেন, আঙ্কারার বর্তমান নেতৃত্ব ওই সংগঠনের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। তার অভিযোগ, এই নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মতে, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর ইঞ্জিন সরবরাহ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে। তার ভাষায়, এই ভারসাম্য ইসরায়েলের আকাশসীমায় কৌশলগত আধিপত্য এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির মাধ্যমে বজায় রয়েছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, হামাসের প্রতি তুরস্কের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়াও আঙ্কারাকে এফ-৩৫ না দেওয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে-এমন দাবি নাকচ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘প্রায় সব বিষয়েই আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। আমরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র।’

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে দুই নেতার মধ্যে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত রয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের নিজস্ব বক্তব্য দেওয়ার ধরন আছে, আমারও আছে।’

তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে বৈঠক হলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-লেবানন শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পাকিস্তানের মাঙ্গি বাঁধ প্রকল্পে বন্দুকধারীদের হামলায় ৯ পুলিশ নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একটি বাঁধ প্রকল্পের নিরাপত্তা চৌকিতে বন্দুকধারীদের হামলায় নয়জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ আছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ জেলা কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মাঙ্গি বাঁধ’ প্রকল্পের পাহারায় থাকা একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর নয়জন পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন সদস্য এখনও নিখোঁজ।

প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানান, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকটি থানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা আছেন। হামলার জন্য তিনি ইসলামপন্থী জঙ্গিদের দায়ী করেছেন। দাবি করেন, আধা-সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সদস্যরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যৌথ চিরুনি অভিযান চালিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে লড়াই করছে পাকিস্তান। আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশে জঙ্গিরা প্রায়ই সরকারি বাহিনী, বিদেশি বিনিয়োগ ও অবকাঠামো প্রকল্প লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে।

পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে জঙ্গিদের এই তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেড়ে গেছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত কয়েক মাসে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তবে তালেবান সরকার ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

মতবিনিময় সভায় বিপিজিএমইএ প্লাস্টিকের কাঁচামালের বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের অনিশ্চয়তায় বড় চাপে পড়েছে দেশের প্লাস্টিক শিল্প। কাঁচামালের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৩০০টি কারখানা।

গতকাল সোমবার প্লাস্টিক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাজেট বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান এ খাতের সংগঠন বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদ। রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও প্লাস্টিক শিল্পের প্রধান কাঁচামালের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে পিভিসি রেজিন, পলিপ্রোপাইলিন, পলিইথিলিন এবং পিইটি রেজিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের দাম তিন থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে। তবে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইনজেকশন মোল্ডিং, ব্লো মোল্ডিং ও এক্সট্রুশনভিত্তিক কারখানাগুলো। ঢাকায় এলাকাভেদে প্রতিদিন আধাঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা এবং বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এক থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তা এবং সহজ ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শামীম আহমেদ বলেন, এসএমই খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় উৎপাদন পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে। এসব কারণে অন্তত ৩০০টি প্লাস্টিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে সংকটের মধ্যেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর ও শুল্ক সুবিধা বহাল রাখাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিপিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, পিভিসি রেজিন, পিইটি রেজিন এবং ফিল্ম গ্রেড পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। এতে কাঁচামালের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তুত প্লাস্টিক পণ্যে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রাখা, কাঁচামাল আমদানিতে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়নের উদ্যোগ, কেমিক্যাল টেস্ট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, রিসাইক্লিং পণ্যের ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইক্লিংয়ের জন্য ওয়েস্ট সরবরাহে উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি।

সংসদ কার্যক্রমে অগোছালো সরকারি দল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সংসদ কার্যক্রমে গুছিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। চলমান অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় বিএনপি জোটের ২০০ জন সংসদ সদস্য ৩২ ঘণ্টা ৩ মিনিট বক্তব্য দেন। তবে খুব কম সংখ্যক এমপি সুনির্দিষ্টভাবে বাজেট নিয়ে কথা বলেছেন।

সরকারি দলের এমপিদের পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে মন্ত্রীদের অনীহাও আলোচনায় এসেছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত না থাকলে মন্ত্রী-এমপিদের অনুপস্থিতি বেড়ে যাচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ একাধিকবার বিষয়টি নজরেও এনেছেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে রেওয়াজ আইনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু রেওয়াজ লঙ্ঘন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতি এড়িয়ে স্পিকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিলও পাস হচ্ছে।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তালিকায় নাম থাকা না থাকা, দিনক্ষণ, নামের ক্রম নিয়ে একাধিক দিন একাধিক এমপি ক্ষোভ জানিয়েছেন। একাধিক এমপি স্পিকারের আহ্বানের পর বক্তৃতা দিতে অপারগতা জানিয়েছেন।

সংসদে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি অস্বীকার করে হুইপ জি কে গউছ বলেন, বেশির ভাগ নতুন মুখ। সংসদীয় রেওয়াজের বিষয়ে অনেকেই তেমন ওয়াকিবহাল নন। এরপরও সবকিছুকে সমন্বয়ের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন তারা। আগামীতে সমন্বয় আরও সুচারু হবে বলে জানান তিনি।

সংসদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এমন বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি দলের সংসদীয় কার্যক্রমকে আশাব্যঞ্জক বলা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজন সদস্য বিরোধী দলকে বিতর্কে কাবু করতে পারলেও অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে নিষ্প্রভ মনে হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, এ পর্যন্ত সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব মূল সমস্যা বলে মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। হুইপিংয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ঘাটতি চোখে পড়েছে।

নিজাম উদ্দিন বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির জন্য যেমন সবকিছু সহজ করে দিয়েছে, তেমনি আবার সামান্য অসতর্কতা তাদের জন্য বড় বিপদ ঘটতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্কটা কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তবে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিগত দিনের তুলনায় এবারের সংসদ ভিন্নতা পেয়েছে। সংসদ নেতা থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই চেষ্টা করছেন সংসদকে কার্যকর হিসেবে জাতির সামনে তুলে ধরতে।

সংসদ গঠনের পর তিন দফা এমপিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবারও এমন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আছে।

মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন 

গত ২২ জুন বাজেট অধিবেশনের বৈঠকে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাইফুল ইসলাম খান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনে বেশির ভাগ সময় অধিকাংশ মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন না। এ বিষয়ে তিনি স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিরোধীদলীয় নেতাও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদে।

তাৎক্ষণিক জবাবে স্পিকার বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। তবে শোকর করেন যে, অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন। বাজেট অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা থাকলে আমরা বাধিত হবো।’

স্পিকারের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে সংসদে তাদের উপস্থিত থাকা উচিত। বাজেট-সংক্রান্ত বিষয়ে সব খাত বিষয়ে সবশেষে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।

এ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধী দল বলল, আমাদের মন্ত্রীরা নাই, ঠিক আছে। বলার আগে যদি নিজেদের দিকে তাকিয়ে বলতেন। সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা দুজনের কেউই নাই।’

অর্থের সংসদীয় কমিটিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের স্থায়ী কমিটিতে না রাখার রেওয়াজ ছিল সংসদীয় ইতিহাসে। তবে রেওয়াজ ভেঙে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সংসদীয় কমিটি। কিন্তু চলমান সংসদে কমিটি গঠনে ধীরগতি এবং আইনসভার তদারকি কমিটিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি অতীতে ছোটখাটো ভুল করেই বড় বিপদে পড়েছে। রেওয়াজ ভাঙার এই দৃষ্টান্ত তৈরির কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদাধিকারবলেই সদস্য থাকেন। সেখানে আরেকজন মন্ত্রীকে নিয়ে সদস্য করা খুবই দৃষ্টিকটু।

বাজেট বক্তৃতায় বাজেট নেই

২২ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নেন জামালপুর-২ আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। তাঁকে প্রথমে ৬ মিনিট সময় দেন স্পিকার। কিন্তু তিনি বাজেট নিয়ে তেমন কিছু বলেননি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই।’

এরপর সুলতান আহমদকে স্পিকার আরও দুই মিনিট সময় দেন। ওই দুই মিনিটেও তিনি বাজেট নিয়ে কিছু বলেননি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসায় তাঁর সময় শেষ হয়ে যায়। এ নিয়ে হাস্যরস হয় সংসদে।

অবশ্য বাজেট আলোচনায় প্রশংসিত হয়েছেন সরকারদলীয় একজন এমপি। সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী নির্ধারিত ১০ মিনিটের পুরোটা বাজেট নিয়ে কথা বলেন। বাজেট আলোচনায় অংশ নিতে স্পিকার সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আমান উল্লাহ আমানের নাম ঘোষণার পরও তারা বক্তৃতা করেননি। দুইজনেই বলেন, তাদের নাম যে বক্তার তালিকায় রয়েছে, তা জানতেন না। হুইপরা তা জানাননি।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান সমকালকে বলেন, সংসদে সমন্বয়হীনতা বলে কিছু নেই। কিছু ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। অনেক এমপিকে তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও তারা পরে বক্তব্য দিতে চান। ফলে এক সময় বাধ্য হয়ে ওই এমপিদের নাম তালিকায় দিতে হয়।

পোশাক নিয়ে বিতর্ক

গত ১৪ জুন বিরোধী দলের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য সরকারি দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মুখে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর বক্তব্যের একাংশ এক্সপাঞ্জ করেন। কিন্তু একাধিকবার নির্বাচিত এই এমপি বিষয়টি মেনে নেননি। তিনি চিফ হুইপকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য না বুঝেই এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদের বৈঠকে যোগদান করবেন না।

১৪ জুনের বক্তব্যের পর ব্যাখ্যা দিতে ফ্লোর চাইলেও মনিরুল হককে বসিয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার। গতকাল সোমবার মনিরুল হক সমকালকে বলেছেন, বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তাঁকে অবহেলা করা হয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক

বিএনপির বিরুদ্ধে ‘জুলাই সনদ’ বা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ করছে বিরোধী দল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সরকারি দলের অনেক এমপি একই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান দেখিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি ফজলুর রহমানের বক্তব্যে দলের সামনের সারির সদস্যদের অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। গাজীপুর-২ আসনের এমপি মঞ্জুরুল করিম রনি জুলাই সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার সময় বিষয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক’ বলে আখ্যা দেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়।

নির্বাচন আদায়ে আপস করে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যেও বিএনপি বিরোধী দলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়। পরে অবশ্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা হচ্ছে। তিনি আসলে বুঝিয়েছেন, দ্রুত নির্বাচনের স্বার্থে সব বিষয়ে একমত না হওয়ার পরও সনদে সই করেছে বিএনপি।

কক্সবাজার-২ আসনের বিএনপির এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ সংসদে পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন। এ নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিরোধী সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ

সংসদে বিভিন্ন বিল পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথ আলোচনার সময় না দেওয়া এবং বিলের কপি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকারি দলের বিরুদ্ধে। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কমপক্ষে তিন দিন আগে বিলের কপি সব সদস্যকে সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও তার ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগে গত ২৮ জুন বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।

এর আগে প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ যখন বিল আকারে সংসদে তোলা হচ্ছিল, তখন কয়েকটি ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানায়। স্পিকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, বিরোধী দল সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেয়নি। তাই তাদের আপত্তি ধোপে টেকেনি। যদিও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, বিলগুলো উত্থাপনের আগে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে টেবিলে সরবরাহ করা হচ্ছে না।