Home Blog

নিউইয়র্কে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সমাপ্তি হল প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে। পাঁচদিনব্যাপী দুর্গাপূজায় নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ২৫টি পূজা মণ্ডপ-এ বিভিন্ন সংগঠন ও মন্দির যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় গুরুগম্ভীর পরিবেশে পালন করা হয়। টাইম স্কয়ার পূজা দিয়ে শুরু প্রায় সব পূজাতেই বিপুল দর্শকের সমাগম ঘটে। উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মাঝে ছিলো ঢাকা ও কলকাতা সহ স্থানীয় শিল্পীদের মনমাতানো গানের অনুষ্ঠান। আঞ্চলিক সঙ্গীত, সিলেটের জনপ্রিয় ধামাল নৃত্য এবং কাঠি নৃত্য ছিলো উপভোগের। শেষ দিন বিজয়া দশমীতে মহিলাদের সিঁদুর খেলা ও একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।

এবার নিউইয়র্কের পূজার উল্লেখযোগ্য আয়োজকরা হলেন, বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, ওম শক্তি মন্দির, দিব্যধামে সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কুইন্স প্যালেসে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, -ঢাকা ক্লাবে হিন্দু মিশন মেলা, ডাইবারসিটি প্লাজায় বেঙ্গলী ক্লাব, জ্যামাইকায় মহামায়া মন্দির, রিচমুন্ডহীলে মতুয়া হরি মন্দির, জ্যামাইকায় শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ও টাইমস্ স্কয়ারে বেঙ্গলী ক্লাব ও ফ্লোরাল পার্কে দেবালয় মন্দির,জ্যামাইকায় শিব মন্দির ও প্রতি বছরের মতো এবারো তিথিমত মন্দির ও প্রতিষ্ঠানের মন্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হয়। ১৫ই অক্টোবর থেকে ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ২০ই অক্টোবর শনিবার ছিলো শেষদিন অর্থাৎ বিজয়া দশমী।

নিউইয়র্কের প্রতিটি পূজায় ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের সমাগম ঘটে বিপুল সংখ্যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই পূজার আনন্দ উপভোগ করতে মন্ডপে মন্ডপে যায়। প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন যেমন বাংলাদেশ সোসাইটি, চট্টগ্রাম সমিতি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন সহ অনেক সামাজিক সংস্কৃতির সংগঠন হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব উপভোগ করে।
নিউইয়র্ক শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্য নিউজার্সি, পেনসেলবেনিয়া, ক্যানেটিকার থেকেও অনেকেই নিউইয়র্ক শহরে পূজা দেখতে আসে। উত্তর আমেরিকায় কানাডাসহ প্রায় শতাধিক দুর্গাপূজার খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকায় লস্ এনজেলস্, শিকাগো, বোষ্টন, ওয়াশিংটন, টেক্সাস, মিশিগান, ম্যারীলেন্ড, ভার্জিনিয়া, জর্জিয়া সহ ফ্লোরিডায় অনেক দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারের দুর্গাপূজা সহ অন্যান্য সংগঠন ও মন্দিরে পূজায় বিদেশী নাগরিকদের আনন্দ করতে দেখা গেছে। নতুন প্রজন্মের আমেরিকান-বাংলাদেশী তরুণ কিশোর-কিশোরীদের রং-বেরং-এর শাড়ী ও পাঞ্জাবী পরিহিত রঙিন বেশে উৎফুল্ল ও আনন্দমুখর দেখা গেছে। সংক্ষিপ্ত আকারে বিভিন্ন সংগঠনের পূজার বিবরণ দেয়া হল।

বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির——-
বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির। নিউইয়র্ক-এ বাংলাদেশী হিন্দুদের প্রথম ও প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিন্দু মন্দির। কুইন্সের করোনা এলাকায় হিন্দু মন্দিরে পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসবে বিপুল দর্শকের সমাগম হয়। বাংলাদেশ হিন্দু মন্দিরের সভাপতি ডা. দেবব্রত দত্ত সকল ভক্তদের ধন্যবাদ জানায়। পূজায় পৌরহিত্য করেন শংকর পারিয়াল ও স্বপন কুমার চ্যাটার্জী।

সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ——-
উড সাইডের গীতা সংঘের মন্দিরে সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ প্রতিবারের ন্যায় দুর্গাপূজার আয়োজন করে। এখানেও প্রতিদিন শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। পৌরহিত্য করেন জগদীশ ব্রহ্মচারী। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর রায় সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান। সংগঠনের সভাপতি প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় বিশ্বাস আগত ভক্তদের ধন্যবাদ জানায়।

জ্যাকসন হাইটসের ডাইবারসিটি প্লাজা————-
জ্যাকসন হাইটসের ডাইবারসিটি প্লাজায় প্রতিবারের মত এবারো সুন্দর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়। এখানে ভক্তরা দলে দলে যোগদান করে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায়ও এই পূজা উপভোগ করে। বেঙ্গলী ক্লাব-এর আয়োজনে এই পূজার সভাপতি দীনেশ মজুমদার সকলকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানায়।

শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ——
শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকায় তাদের নিজস্ব মন্দিরে। ১৬২নং স্টিটের মন্দিরে শত শত দর্শক ও ভক্তের আগমন ঘটে। পাঁচদিনের পূজায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ ও স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের কর্মকর্তারা সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানায়।

শিব মন্দির—-
জ্যামাইকার অপর বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান শিব মন্দিরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়। পাঁচদিনের পূজায় শতশত ভক্তের সমাগম হয়। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। মহামায়া মন্দিরের সভাপতি ডা. সমীর সরকার আগত ভক্তদের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আপ্যায়ন করে।

শ্রীহরি মন্দির
রিচমুন্ডহীলের শ্রীহরি মন্দিরের দুর্গোৎসব অন্যরকম মেজাজে অনুষ্ঠিত হয়। অনেকাংশে দেশের অনুভূতি পাওয়া যায় এই মন্দিরে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মতুয়া সম্প্রদায়ের সংগঠন শ্রীশ্রীহরিচাঁদ গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। এই মন্দিরটি নিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী হিন্দুদের মন্দিরের সংখ্যা প্রায় এক ডজন।
শ্রীহরি মন্দিরে ১৫ই অক্টোবর থেকে ২০ই অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিন পূজা-অর্চনা চলে। হয় মতুয়া মেলাও। বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শক প্রতিদিনই মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমায়। প্রসাদ বিতরণ এই মন্দিরের একটি বিশেষ আয়োজন। ১২ই অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলে ও মাতম নৃত্য করে এ বছরের জন্য শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে।

নিউইয়র্ক হিন্দু টেম্পল-এ শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকায় তাদের নিজস্ব মন্দিরে। মন্দিরে শত শত দর্শক ও ভক্তের আগমন ঘটে। পাঁচদিনের পূজায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ ও স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। ডা.সুভাষ শিকদার সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানায়।

নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা

০

শিতাংশু গুহ, ২০ অক্টবর ২০২৬, নিউইয়র্ক।।
আমরা যখন পূজায় যাই তখন কিছু পয়সা দিতে মন চায়, কিন্তু কতটা দেয়া যায়? আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব বলে থাকেন তারা ২/৩টি পূজায় যান, কারণ সব জায়গায় চাঁদা দেয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই। কথাটা সত্য। চাঁদা দেয়া কি বাধ্যতামূলক? না, তা নয়, কিন্তু চক্ষুলজ্জ্বা বলে তো একটা কথা আছে? চাঁদা না দিলে পরে এনিয়ে কথা ওঠে, বলা হয়, চাঁদা দেয়না, কিন্তু প্রসাদ তো ঠিকই খায়? একটি মন্দির পলিসি নিয়েছে তারা কারো কাছে চাঁদা চাইবে না, এটি ভাল উদ্যোগ। ফোনে ফোনে চাঁদা তোলা বা বাড়ী বাড়ী গিয়ে চাঁদা তোলা আজকাল কমেছে, তবে বন্ধ হয়নি। পূজা করতে গেলে টাকা লাগবে, এটি সত্য। চাঁদা তো দিতে হবে, এটিও সত্য। কিন্তু এ প্রশ্নও ওঠে যে, মানুষের কাছে টাকা নিয়ে আপনাকে পূজা করতে বলছে কে? দূর্গাপূজা কি লাভজনক ব্যবসা? কারো কারো জন্যে তো বটেই, তবে লোকসান হলে এত পূজা হবার কোন কারণ নেই? এতে কি ধর্মের প্রসার হচ্ছে? আপনি যেকোন পূজায় যান, শুনবেন, অনেক খরচ, দাদা এবার একটু বেশি দিন্। গতবার আমাকে একজন বলেন, দাদা, সেই ১৯৯০ সালে ১শ’ ডলার চাঁদা দিয়েছেন এখনো ১শ’? তাদের কিভাবে বোঝাবো যে, ১৯৯০ সালে ছিলো ১টি পূজা, এখন ২০টি! একটি পূজা কমিটি’র এক নেতা আমাকে দেখলেই বলেন, ‘দাদা, চাঁদা দেয়ার ভয়ে আমাদের পূজায় আসেনা’। কথাটা মিথ্যা নয়?
মন্দিরে দুর্গাপূজা হবে সেটি ঠিক আছে, কিন্তু বিভিন্ন পূজা কমিটি করে যে পূজা এবং প্রতিবছর পূজার সংখ্যা বাড়ছে কেন? হিন্দু বাড়ছে বলে পূজা বাড়তেই হবে? প্রতি পূজার কমিটি থাকে, এই কমিটি’র সদস্যদের চাঁদা দিয়েই পূজা হওয়া উচিত, জনসাধারণের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে নয়, ব্যবসায়ীদের বিজ্ঞাপন নেয়া যেতে পারে। পূজা মন্ডপগুলোতে রশিদ বই নিয়ে টেবিল পেতে বসাটা একেবারে উঠে যাওয়া উচিত। ঢালাও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাটা সীমিত হওয়াটা দরকার। ২০ টাকা চাঁদা দিয়ে খেয়ে আবার বাড়ীতে প্রসাদ নিয়ে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু। আমার ধারণা পূজায় খাওয়া-দাওয়া সীমিত হলে খরচ কমে যাবে, মানুষের ভীড় কমবে। একই কথা কীর্তন বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্যে প্রযোজ্য। প্রসাদ হিসাবে শুধু ফলমূল দিন্, খিচুড়ি দেয়া বন্ধ করুন, দেখুন কত মানুষ আসে? পাঠক, আমি কারো বিরুদ্ধে লিখছি না, এখন সময় এসেছে চিন্তা করার। আমরা কি করছি, কেন করছি? নুতন প্রজন্মের জন্যে এসব করছি? না, নুতন প্রজন্মকে আমরা টানতে পারছি কই? হ্যাঁ, তারা হয়তো স্বল্প সংখ্যক আসছে, মন্দিরগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি কম কেন? আমরা যারা পূজা বা মন্দির কমিটি’র নেতানেত্রী, তাদের ছেলেমেয়েরা অংশ নিচ্ছেনা কেন? নিউইয়র্কে প্রায় কুড়িটি দুর্গাপূজা হয়, এসব কমিটি’র প্রায় সকল নেতার বয়স চল্লিশোর্ধ। নুতন প্রজন্মের একটি পূজাও নেই, এ ব্যর্থতা আমাদের!
আমি প্রায়শ: পূজা কমিটি’র নেতৃবৃন্দকে বলি, আপনারা প্রতি কমিটি প্রতি বছর বাংলাদেশে শুধুমাত্র একটি পরিবারের দায়িত্ব নিন, মাত্র ১হাজার ডলার দিয়ে একটি গরিব পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলুন। কেউ সাড়া দেয়নি। এমনকি আমি দু’টি পূজা কমিটি’র সাথে জড়িত তারাও নন? এটি শুরু হলে শুধুমাত্র নিউইয়র্ক পূজা কমিটিগুলো বছরে ২০টি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে দিতে পারে। ভাবুন, পুরো আমেরিকা বা পুরো বিশ্ব এটি শুরু করলে কি হবে? পূজা কিমিটির নেতারা অনেকেই দেশে মানুষকে সাহায্য করে থাকেন। সমষ্টিগত সহায়তা ব্যক্তিগত সাহায্যের চেয়ে ঢের বেশি ভাল। নিউইয়র্কে প্রায় সকল মন্দিরেই শনিবার অনুষ্ঠান থাকে, এদের অনেক মন্দিরকেই আমি পরামর্শ দেই যে, অনুষ্ঠান শেষ আপনারা ৫মিনিট সময় দেশ ও বিশ্বের কথা ভক্তদের জানান। কেউ কথা রাখেনি। শুধু পরকালের কথা শুনিয়ে লাভ কি, যদি ইহকাল যন্ত্রণার মধ্যে কাটে?
সামাজিক মাধ্যমে ৯ই অক্টবর ২০২৬ দুপুর ১২:২০মিনিটে একটি পোস্টিং দেই যে, এবারের পূজায় শ্লোগান উঠুক, ‘চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই’। ১২ই অক্টবর ২০২৬ রাত ১০টায় দেখলাম তাতে ১২.২ হাজার লাইক পড়েছে, কমেন্ট ১.৭হাজার। অসংখ্য কমেন্টে খুশি হবার কোন কারণ নেই, কারণ বাংলাদেশী একশ্রেণীর মুসলমান ব্যাপকভাবে কমেন্ট করেছেন এবং সেগুলো প্রায় সর্বাংশে নেতিবাচক। সাধারণ এ পোষ্টে এত জঘন্য গালিগালাজ পড়তে পারে তা ভাবা যায়না। অধিকাংশ লাইক হিন্দুদের; সামান্য সংখ্যক মুসলমান লাইক ও ভাল মন্তব্য করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর সমাবেশে কিছু মুসলমান বাংলাদেশী পতাকা গায়ে দাবি করেছে তারা ‘দিদি’র শাসন চায়’ (মমতার)? দিল্লিতে কক্রোচদের বিক্ষোভে বাংলাদেশিদের উৎসাহের কোন কমতি নেই, তারা প্রতিদিন মোদিকে ফেলে দিচ্ছেন। সৌদিতে দুই বাংলাদেশীর হত্যাকান্ড দু:খজনক। একই সময়ে সৌদি আরব নবীকে অবমাননার জন্যে একজন শ্রীলংকান নাগরিকের মৃত্যুদন্ড বাতিল করেছে। এই দু’টি ঘটনা কি বলছে? সামাজিক মাধ্যমে একজন প্রশ্ন করেছেন, সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ড কার্যকর এবং বাংলাদেশে উন্মত্ত জনতা ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে হাজারো কণ্ঠে ‘আল্লাহুআকবার’ বলে পুড়িয়ে মেরেছে, এ দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনটি বেশি বর্বর?

‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ব্রুকলীনের সভায় মানুষের ঢল – চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকার রাস্তায় মিছিল-শ্লোগান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে ব্রুকলীনের সর্বশেষ নির্বাচনী ও প্যানেল পরিচিতি সভায় মানুষের ঢল নেমেছিলো। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদের এলাকা হিসেবে ব্রুকলীন-কে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন ২৫ অক্টোরের নির্বাচনে ব্রুকলীন কেন্দ্র তথা সকল কেন্দ্রে জয়ী হয়ে প্রবাসীদের ন্যায্য দাবী পূণ করবেন। সভায় কুনু বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আমি সবার সহযোগিতা চাই, ভোট চাই। আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। কমিউনিটির সেবাই আমার লক্ষ্য। তিনি বলেন, এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে সবাইকে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচী নিয়ে সোসাইটিকে তথা কমিউনিটিকে শক্তিশালী করবো। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ আবেগ আপ্লুত কন্ঠে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, গত তিন মাস অনেক বক্তব্য দিয়েছি। আজ আর বক্তব্য নয়। তিনি কান্না জড়িত কন্ঢে বলেন, আমি ব্রুকলীনের মানুষ, ব্রুকলীনবাসীরাই আমার ভাই-বোন-ভাবী, বন্ধু, চাচা-চাচী। আপনাদের সন্তান হিসেবে আমি ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে সবার দোয়া আর ভোট চাই। আর কোন কারণে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাই। তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী হলে সোসাইটিকে সবার সংগঠনে পরিণত করবো, জবাবদিহীর সোসাইটি গড়বো।
গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় ব্রুকলীনের বেভার্লী রোডের উপর বিশাল ছামিয়ানা টাঙ্গিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেও ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে সভাটি জনসভায় পরিণত হয়। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে। উল্লেখ্য, সভা শুরুর আগে ‘কুনু-ফিরোজ’-এর নেতৃত্বে দেশীয় স্টাইলে বিপুল সংখ্যক মানুষ চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকার রাস্তায় মিছিল বের করেন এবং নানা শ্লোগান দেন।
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ব্রুকলীনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং সন্ধীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি ও ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহফুজুল মওলানা নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নাসির উদ্দিন।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জামাল আহমেদ জনি, বাংলাদেশ সোসাইটি ও গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য ও গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান হাজী মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি ও কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বেলাল মাহমুদ, আহ্বায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, কো-চেয়ারম্যান এবং বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার, প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী এবং অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আজাদ, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, লুৎফুল করীম, সন্দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি ও বোর্ড অব ট্রাষ্টির সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ, সন্দ্বীপ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাষ্টির সদস্য রফিকুল ইসলাম মানিক ও গোলাম মাহমুদ, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি আশ্রাফ উদ্দিন, নারায়নগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ মহসীন, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা টি মোল্লা, এস এম ফেরদৌস, আহসানউল্লাহ বাচ্চু, ইঞ্জিনিয়া জাহাঙ্গীর আলম, কবি গৌউস খান, গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম, কুমিল্লা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী আসাদুল্লাহ, জ্যামাইকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ভিপি জহির মোল্লা, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল ওয়াদুদ, আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম, সদস্য সচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান, অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান আরিফ আর চৌধুরী প্রমুখ। সভায় প্যানেল নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এম ও জি রাসেল ভূইয়া।
সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সহ অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান সহ সাধারণ সম্পাদক কালাম ভূঁইয়া, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোর্শেদ আলম, কার্যকরী সদস্য আবুল বাশার ভূইয়া প্রমুখ। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ব্রুকলীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব ও সদস্য সচিব ওয়ালিদুল ইসলাম।
সভার মাঝে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন মাইনুল উদ্দিন মাহবুব। প্যানেলের প্রার্থী হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।
সভায় আজমল হোসেন কুনু আরো বলেন, সোসাইটিতে আগেও সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছি। কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেবো না। কমিউনিটির সেবায় যা করা দরকার তাই করবো, এজন্য সবার সহযোগিতা নেবো। বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবো। সোসাইটিকে গণমুখী করবো।
সভায় বক্তারা বর্তমান কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবী, কবর ক্রয় করা না করার তীব্র সমালোচনা করেন এবং ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে একটি যোগ্য প্যানেল হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজমল হোসেন কুনু ওজনপার্কের মানুষ, ফিরোজ আমহমেদ আমাদের ব্রুকলীনের অর্থাৎ আমাদের ঘরের মানুষ, তাঁদের সম্মান মানেই আমাদের সম্মান। ব্রুকলীনবাসীদের সম্মান রাখতেই ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে জয় করতে হবে।

জ্যামাইকায় ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের স্মরণীয় সভা পুনরায় বিজয়ী করার আহ্বান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পরিচিতি ও নির্বাচনী সভায় গণজোয়ার নেমেছিলো। সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে স্মরণকালের স্মরণীয় এই সভায় ছিলো সর্বস্তরের মানুষের ঢল। সভায় সোসাইটির সফলতা, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলকে যোগ্য প্যানেল হিসেবে পুনরায় এই প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের জ্যামাইকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গত ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার নব প্রতিষ্ঠিত সুবিশাল অঙ্গন পার্টি হলে এই সভার আয়োজন করে। সভায় বিপুল সংখ্যক নারী সহ কুইন্স ছাড়াও ব্রুকলীন ও ব্রঙ্কসসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরো থেকে শত শত প্রবাসী যোগ দিয়ে প্যানেলটির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
সেন্ট্রাল জ্যামাইকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফারুক হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মঞ্জুরুল করীম। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন পরিচলনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক দুলাল মিয়া এনাম, এম এ বাসেত, যুগ্ম সদস্য সচিব এএসএম মাইনুদ্দীন পিন্টু, চিটাগাং এসোসিয়েশন অব ইউএসএ’র সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, সাবেক কর্মকর্তা জামান তপন, মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি সোহান আহমেদ টুটুল, বাংলাদেশী আমেরিকান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আমীন মেহেদী বাবু, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকীম, ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মুন্সী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আমিনুল ইসলাম চুন্নু, এম এ করীম, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো কনভেনর নজরুল ইসলাম লিটন ও প্রধান উপদেষ্টা সামির উদ্দিন প্রমুখ।
সভা মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপবিষ্ট ছিলেন মোর্শেদ আলম, মুক্তিযোদ্ধা বাবর উদ্দিন, ছদরুন নূর, আব্দুস শহীদ, গহর চৌধুরী কিনু, তাজু মিয়া, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ভিপি জহিরুল ইসলাম মোল্লা, প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন সেন্ট্রাল জ্যামাইকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ইসমাইল হোসেন স্বপন ও জ্যামাইকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এম আর খান (সেলিম)। সহযোগিতায় ছিলেন প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম লিপন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার জন্য ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল যোগ্য, সুপরিচিত ও পরীক্ষিত প্যানেল। তাই আসন্ন নির্বাচনে এই প্যানেলের কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীকে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।
সভায় আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিগত নির্বাচনে জয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী নির্বাচনে পুনরায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে সোসাইটিকে আরো এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা ও ভোট প্রার্থনা করেন। বিশেষ করে জ্যামাইকায় বসবাসকারী হিসেবে মোহাম্মদ আলী তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে গত নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচনেও তাকে সহ ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে জয়ী করার অনুরোধ জানান।
সভায় সোসাইটির প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক এবং আগামী নির্বাচনে একই পদে প্রার্থী রিজু মোহাম্মদ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ‘সেলি-আলী’ প্যানেলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পরিষ্কার করেন। রিজু মোহাম্মদ বলেন, আগামী দিনে সোসাইটিকে পুরোপুরি আধুনিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর, ওয়ান স্টপ সলিউশন ও স্থায়ী ‘কমিউনিটি সেন্টার’ গঠন করা হবে যেখানে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নিউইয়র্কে আসা নতুন প্রবাসী এবং ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানে সহযোগিতা করা হবে।
সভায় ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরাও সংক্ষেপে তাদের পরিচয় তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করেন।
সভার মাঝে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জে মোল্লা সানি। ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি- মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি- কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক- হারুন রশিদ (চেয়ারম্যান), কোষাধ্যক্ষ- নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক- ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- অনিক রাজ, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ, সমাজকলাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুনসুর আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রুমানা আহমেদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- এএসএম মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- শাহনাজ হোসেন, এবং কার্যকরি সদস্য- জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ উজ্জল বিপুল, সারোয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ এ মান্নান, শামীম আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।
নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন: আইরিন খান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্ব, বসতি সম্প্রসারণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্ন’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান।
গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভূমি দখল, সহিংসতা ও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলের এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা ইসরায়েলকে দায়মুক্তির সুযোগ করে দিয়েছে।’ তিনি অবিলম্বে ভূমি সংযুক্তিকরণ, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদের দৃঢ় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সংস্থাটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও দখলদারত্বের নিন্দা জানিয়ে তিনি লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীসহ বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।
শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তাসীন ফেরদৌসের মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোক

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ মাত্র ৩৫ বছর বয়সে থেমে গেল নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক তাসীন ফেরদৌসের পথচলা। ১৮ অক্টোবর রোববার ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাসীন ছিলেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের (বিপা) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শৈল্পিক পরিচালক অ্যানি ফেরদৌস এবং প্রকৌশলী জাফর আহমেদ দম্পতির একমাত্র কন্যা। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, শিশুপুত্র লুকাস, বাবা-মাসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হলে শনিবার তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরিবার সূত্রে জানানো হয়, সংক্রমণ দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পেশাগত জীবনে তাসীন নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি শাস্ত্রীয়, লোক ও সমসাময়িক নৃত্যে তিনি প্রবাসের বাংলা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি ও সমাদর অর্জন করেন।
মায়ের অনুপ্রেরণায় শৈশবেই বিপায় তাঁর নাচের হাতেখড়ি। লোকনৃত্য ও সমসাময়িক নৃত্যে দক্ষতা অর্জনের পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কের শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমিতে নৃত্যগুরু তেজস্বিনী রাজের কাছে ভরতনাট্যমের তালিম নিতে শুরু করেন। দীর্ঘ আট বছরের একনিষ্ঠ সাধনার পর ২০১৩ সালে তিনি ভরতনাট্যমের আনুষ্ঠানিক একক অভিষেক অনুষ্ঠান ‘আরাঙ্গেত্রাম’ সম্পন্ন করেন।বিপা ও শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমির মাধ্যমে তাসীন নিউইয়র্কের মূলধারার বহুসাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নিয়মিত নৃত্য পরিবেশন করতেন। নৃত্যের মধ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরতেন বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক উদ্যোগেও সক্রিয় ছিলেন তাসীন। ব্রুকলিনের কেনসিংটনসহ স্থানীয় বাংলাদেশি অভিবাসীদের নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং কমিউনিটির বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে তিনি অংশ নিতেন।সম্ভাবনাময় এই শিল্পীর অকালপ্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং মা অ্যানি ফেরদৌস, বাবা জাফর আহমেদসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে-কেয়ারে এফবিআইয়ের অভিযান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও ব্রুকলিনের একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে (এডাল্ট ডে কেয়ার) তদন্ত ও অভিযান চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবারের এসব তৎপরতা চলমান একটি কেন্দ্রীয় তদন্তের অংশ বলে জানিয়েছে এফবিআই।এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র নিউজ নেশনকে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিউইয়র্কের তিন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কর্মসূচিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং মেডিকেইড ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ব্রুকলিনের এইটথ অ্যাভিনিউয়ের একটি কথিত প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে কর্মকর্তাদের যাতায়াত করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজনকে বাক্স নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। একই এলাকায় ফোর্ট হ্যামিল্টন পার্কওয়ে ও ৫১তম স্ট্রিটের কাছে আরেকটি দিবাযত্নকেন্দ্র থেকেও কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যাগভর্তি সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ জানায়, সেখানে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত চলছে।
গভর্নর হোকুলের ভাষ্য, কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এ তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, অর্থপাচার, অবৈধ কমিশন বা কিকব্যাক, ভুল তথ্য দিয়ে বিল জমা এবং অন্যান্য জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সেবাদানকারীদের লক্ষ্য করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
হোকুল আরও জানান, তার প্রশাসন তদন্ত ও বিচারের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ১০০টিরও বেশি অভিযোগ পাঠিয়েছে।
গভর্নর বলেন, করদাতাদের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নিউইয়র্কের কোনো ছাড় নেই। যারা সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নিউ ইয়র্কে অভিবাসন পুলিশের হাতে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউ ইয়র্কে অভিবাসন পুলিশের হাতে এনামুল হক এনাম হক (৬২) নামে এক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি দেশটিতে বসবাস করছেন ৩৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে।গত ১৪ অক্টোবর বুধবার তাকে নিউ ইয়র্ক স্টেটের বাফেলো সিটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তথ্য দিয়েছন।
এনামুল হকের বাড়ি কুমিল্লায়। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তার গ্রিনকার্ড হয়নি। অবৈধভাবে তিনি সেখানে বসবাস করছিলেন।
অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, “অভিবাসনের বিধি লঙ্ঘন ব্যতীত এনামুলের কোনো অপরাধ ছিল না। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে গত কয়েক দশকে বেশ কিছু তারকা শিল্পীকে ‘স্পন্সর করে’ যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন। সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান করেছেন। এর মধ্যে অনেক শিল্পীই গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সিটিজেনশিপও নিয়েছেন। কিন্তু এনামুল হক পাননি।”গত কয়েক মাসে বাফেলো থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিসহ ৪ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে অভিবাসন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন মঈন চৌধুরী।

হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল করে দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস

অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে হাড়কে দুর্বল করে ফেলতে পারে। একজন ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতে পারেন, অথচ ভেতরে ভেতরে তার হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এজন্য প্রায়ই হাড় ক্ষয়কে “নীরব” রোগ হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ হাড় না ভাঙা পর্যন্ত অনেক সময় এটি ধরাও পড়ে না।

যদিও হাড় ক্ষয় সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে তবে সারা জীবনের জীবনযাত্রার ধরন হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অপুষ্টি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অপর্যাপ্ত গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান—এসবই সময়ের সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস কীভাবে হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল করে তা জানানো হয়েছে ‘ইন্ডিয়া টিভি’র  এক প্রতিবেদনে।

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি না পাওয়া

হাড়ের শক্তি বজায় রাখার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য, আর ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। খাদ্যাভ্যাস বা অন্য কোনো উৎস থেকে নিয়মিতভাবে এই পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে না পেলে, তা সময়ের সাথে সাথে হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-যুক্ত সুষম খাদ্যাভ্যাস হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া; নিজে থেকে কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থাকা

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব হাড়ের শক্তি ও পেশির সক্ষমতা—উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে। হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত নড়াচড়া বা শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপ—হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে না থেকে মাঝে মাঝে নড়াচড়া করা বা হাঁটাচলা করাও শারীরিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার একটি কার্যকর উপায়।

শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলা

হাড় ও পেশি একে অপরের সাথে মিলে শরীরের নড়াচড়া ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পেশির ভর বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামগুলো পেশির সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

ধূমপান

ধূমপানের সাথে হাড়ের দুর্বল স্বাস্থ্য এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এর প্রভাব হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না, তবে দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান হাড়ের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয়ের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

অত্যন্ত সীমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা

খুব বেশি সীমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় না, যা হাড় ও পেশির সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। হাড়ের শক্তি বজায় রাখার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।

অস্টিওপরোসিসের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ সাধারণত চোখে পড়ে না। ব্যথা না থাকা মানেই যে হাড় মজবুত, তা কিন্তু নয়। যাদের ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি রয়েছে—যেমন বয়স বেড়ে যাওয়া, পরিবারে অস্টিওপরোসিসের ইতিহাস থাকা, অতীতে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা, দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন করা বা শরীরে বড় ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন—তাদের হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন
হাড় ভাঙার মতো ঘটনা ঘটার অনেক আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং হাড়ের ওপর চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা—এসবই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান বর্জন করা এবং অ্যালকোহল পান সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া পেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন?

বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে

ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।

দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।