Home Blog Page 11

‘এক বেলা রাস্তায় নামলে তিন বেলা ব্যথা’

০

‘আউশকান্দির এগুলারে অখন আর রাস্তা মনে হয় না। এক বেলা রাস্তাত গেলে শইল ব্যথা থাকে তিন বেলা। ডেইলি রাইতে ব্যথার বড়ি খাওন লাগে। গাড়ি কী চালাইতায়; হাডনই তো যায় না। আর ভোট আইলে আউশকান্দিত নেতারা পাগল করি দেয়। ভোট গেলেগি কেউ উক্কি মারে না।’

বিগত ২৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের ভোট আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার এবং রুদ্রগ্রাম-নবীগঞ্জ বেহাল সড়ক নিয়ে এসব কথা বলেন স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি ব্যবহার করেন উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষ। স্থানীয় বাজার থেকে আমুকোনা বেতাপুর ঈদগাহ হয়ে দেবপাড়া ইউপির ফরিদপুর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গোরাইর বাজার পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গ্রাম্যবাজারে পণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং সদর অংশের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি সংস্কারে কারও দৃষ্টি নেই। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার সড়কে নবীগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং শত শত ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করেন। পাকা অংশটুকু ভেঙে এখন মেঠোপথে পরিণত হয়েছে।

প্রতিটি স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে এই সড়কের সংস্কার ইস্যু ভোট আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। বিগত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা এই সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও নির্বাচন পার হয়ে যাওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে সড়কগুলোতে স্থানীয়দের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মো. কাজল মিয়া জানান, সড়কটি ভোট আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে প্রার্থীরা ব্যবহার করেন। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে আর মনে থাকে না। অটোরিকশা চালক আমজাদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন আর চলাচলের উপযুক্ত নয়। এটা এখন আর সড়ক মনে হয় না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত জানান, সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা চলছে এবং কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দিলাওয়ার হোসেন বলেন, নতুন টেন্ডার তালিকায় সড়কটির নাম দেওয়ার জন্য এমপি ডিও দিয়েছেন এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা সাব্বির আহমদ জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে এবং এমপি মহোদয় এটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

এদিকে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। এক অটোরিকশা চালক বলেন, এক দিন গাড়ি চালালে তিন দিন যায় গায়ে ব্যথা; প্যারাসিটাল খেতে হয় রাতে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে চরম পরিস্থিতি। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কটি দেখলে বোঝার উপায় থাকে না, এটি পাকা রাস্তা, নাকি গ্রামের কোনো মেঠোপথ। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। এই পথ দিয়েই শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। একমাত্র বাইপাস সড়ক হওয়ায় ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার এক সময় ব্যাপক চলাচল করলেও বেহাল দশার কারণে এখন যান চলাচল খুবই সীমিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা এক বছরও টেকেনি। সংস্কারের এক মাস পর থেকেই রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছিল। বর্তমানে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম ১০ কিলোমিটার সড়কের আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদ্রাসা পয়েন্ট, নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর ও শিবপাশা এলাকার কোথাও পাকা সড়কের লেশমাত্র নেই।

এসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদামাটি জমে থাকে। যার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বাঁশডর গ্রামের সিএনজি চালক মহসিন আলী জানান, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বেহাল অবস্থা। একদিন গাড়ি চালালে তিন দিন যায় গায়ে ব্যথা, রাতে প্যারাসিটামল খেতে হয় গায়ের ব্যথার জন্য। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে জনসাধারণ অনেক উপকৃত হবে।
দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তনুজ রায় জানান, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয় নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক হয়ে। বৃষ্টিতে সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় মানুষের খুবই কষ্ট হয়। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সড়ক সংস্কারের এক মাস পর থেকে ভাঙতে শুরু করে। এখন একেকটা ভাঙন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
লাল সবুজ যুব সংঘের সভাপতি হুমায়ুন কবির আজিম বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য মানববন্ধন করে ইউএনওকে জানালেও সম্পূর্ণ সড়ক সংস্কার হয়নি। ফলে তাদের এলাকার ছাত্র-জনতা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী সাব্বির আহমদ জানান, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক সংস্কারে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ঢাকায় প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতিম হত্যা ভিন্ন কারণও দেখছে পরিবার, তদন্তের দাবি

০

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নিতে তাকে পাহাড়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা বলেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কারণও দেখছেন তার মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর থাকাকালে কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে পুলিশে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর প্রতিষ্ঠানে হত্যার ১০ দিন আগে এক কিশোর চাকরি নিয়েছিল। দুই ঘটনাকে তিনি সন্দেহ করছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে গতকাল সোমবার সকালে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার। কর্মসূচিতে অপ্রতিমের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম থাকতে না পারায় তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন তিনি।

অপ্রতিমের মায়ের বরাত দিয়ে কামরুন নাহার বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এ ছাড়া সহকারী প্রক্টর থাকাকালে ড. নাহিদা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিনের গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। এই দুই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

কামরুন নাহার আরও বলেন, হত্যা মামলায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কিনা, তা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের যেন উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক র‍্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করে শিক্ষক সমিতি। র‍্যালিটি শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটক প্রদক্ষিণ করে ফের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, প্রক্টর ড. মো. আবদুল হাকিম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, অপ্রতিম হত্যায় সরাসরি জড়িত তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোর এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়াম বাদে অন্য তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার আসামিরা আইনফোনের জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করলেও মাদক, অর্থ ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তদন্তে আনা হচ্ছে। যাচাই করা হচ্ছে আসামিদের মোবাইল কল লিস্ট। আসামিদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, হত্যার পর কারও কোনো সহায়তা ছিল কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটবাড়ী সালমানপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অপ্রতিম বয়সে ছোট হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সন্তান হওয়ায় এলাকার একদল কিশোরের সঙ্গে সখ্য ছিল। এক কিশোরকে ধার দেওয়া টাকার জন্যও চাপ দিচ্ছিল অপ্রতিম। এ জন্য ঘাতকরা তার ওপর হয়তো ক্ষুব্ধ ছিল। বেশ কিছু ছবিতে ঘাতকদের সঙ্গে অপ্রতিমের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ওরা প্রায়ই মোটরসাইকেল নিয়ে কুবি এলাকায় ঘুরত। অনেকেই ধারণা করছেন এমন অসম বন্ধুত্ব তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেন, হত্যার পরও আসামিরা সামাজিক মাধ্যমে সরব ছিল। তারা বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়। তুহিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরও তার মোবাইলে এক কিশোরের বারবার কল আসছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও এক কিশোর লাইভে ছিল।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। শুক্রবার কুবি-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। পরদিন কুবির অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তিন আসামিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যার কথা বললেও এর নেপথ্যে অর্থ কিংবা কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের বাবা-মায়ের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি 
২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি উঠলেও ২০ বছরেও সেখানে ফাঁড়ি স্থাপন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ ২০ বছরে এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে লালমাই-ময়নামতি পাহাড় এলাকায় খুন, ধর্ষণ, চুরি ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধজনক কর্মকাণ্ড ঘটছে। গত ৩০ আগস্ট লালমাই পাহাড়ের সাধেরমুড়া এলাকায় এক কিশোরীকে পাঁচ বন্ধু দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত শুক্রবার স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার পর সেখানকার নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, ‘কুমিল্লায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে অবিলম্বে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনতে হবে।’

গ্রেপ্তার দুই কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজন‌ের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। গতকাল বি‌কেল ৪টায় গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশু উন্নয়ন কে‌ন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান।

এমরান খান সমকালকে জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। যে শিশু হত্যার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার জন্য তাদের মধ্যে অনুশোচনার কোনো প্রকাশ দেখা যায়নি। প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর তারা বেশ স্বাভাবিক ছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে খাবার দেওয়া হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই খাবার খায়।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি 
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক। কোয়ালিশন মনে করে, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য দ্রুত অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ইউক্রেনে হামলা জোরদার করার হুমকি রাশিয়ার

০

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে সম্প্রতি ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। জবাবে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় কিয়েভ হামলা চালিয়েছে। জবাবে রুশ সেনাবাহিনী কিয়েভে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে উচ্চ নির্ভুলতার হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

দেশটির অভিযোগ, নির্বাচনের ভোট গ্রহণের শেষ দিন মস্কোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার লক্ষ্য ছিল নির্বাচন ব্যাহত করা। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, হামলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ৪৫০টি সরাসরি মস্কোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

হামলার পরের বিভিন্ন ছবিতে মস্কোর উপকণ্ঠের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বড় ধরনের গর্ত দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে একটি তেল শোধনাগার বলে ধারণা করা স্থাপনা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘গত রাতে মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার হামলার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মস্কোতে হামলার জন্য ইউক্রেনে তৈরি ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।’’

এদিকে ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, রাশিয়া ন্যাটোকে পরীক্ষা করে দেখার জন্য শিগগিরই কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। সাংবাদিক শন ওয়াকার লিখেছেন, এক ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মাসের মধ্যে হতে পারে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও পার্লামেন্টে বলেছেন, গোয়েন্দা মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত কোনো ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া প্রমাণ করতে চাইতে পারে, ন্যাটোর বহুল আলোচিত ‘অনুচ্ছেদ ৫’ বাস্তবে যতটা কার্যকর বলে ধারণা করা হয়, তা আসলে ততটা নয়।

কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে চারজন নিহত
রাশিয়ার রাতভর হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে কিয়েভের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। সারাদিন কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ও তাঁর তিন বছর বয়সী দুই সন্তান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

গাজায় তীব্র হচ্ছে মানুষের হতাশা, ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ৪

০

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, নিহতদের একজন আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুলেটিন অনুসারে, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত কিশোরটি ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মধ্য গাজায় মৃত্যুর সড়ক নামে পরিচিত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে। গাজার উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌযান থেকে। এতে তিনজন জেলে আহত হন।

যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে রোববার রাতেও। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে অন্তত চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এই এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয় এবং এতে মানুষ আহত হন।

গাজায় বিপন্ন মানবিকতা    
প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই।
গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিন গাজায় কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর পরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। সেসময় ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন নিহত হন।

দুই মাসে এডিপির ব্যয় ২ শতাংশেরও কম

০

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই-আগস্ট) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়েও বাস্তবায়নের হার কম ছিল। তবে সে সময়ও চলতি অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি ব্যয় হয়েছিল। বরাদ্দের ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল ওই সময়ে। গতকাল সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নবিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত অর্থবছরের এ রকম সময়ের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের নেওয়া প্রকল্প পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়ায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ স্থগিত ছিল। কিছু প্রকল্প বাদও দেওয়া হয়।
আবার কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এসব কারণে ওই সময় এডিপি বাস্তবায়নের গতি কম ছিল। তবে বর্তমানের বাস্তবতা সে রকম নয়। তারপরও এডিপি বাস্তবায়ন আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়েও কমলো।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৭১০ কোটি টাকার মতো। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল পাঁচ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। শতাংশে ১ শতাংশের মতো কম হলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ব্যয়িত অর্থের ব্যবধান পাঁচ কোটি টাকার মতো। এর কারণ হচ্ছে এই অর্থবছরের এডিপির বড় আকার। গত অর্থবছরের চেয়ে যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার তিন লাখ আট হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর ছিল দুই লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
শুধু আগস্ট মাসের এডিপি বাস্তবায়নের হার খুবই কম। মাসটিতে বাস্তবায়ন হার মাত্র ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থমূল্যে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৫৮৯ কোটি টাকারও কিছু কম। গত অর্থবছরের একই মাসের বাস্তবায়নের হার ছিল ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ওই মাসে ব্যয় হয়েছিল চার হাজার ৭০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দুই মাসে বিদেশি ঋণের প্রকল্পের গতি অনেক কম ছিল। এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ। তুলনামূলক কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ২ দশমিক ১৩ শতাংশ।
দুই মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি পাঁচ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগ। এ ছাড়া আরও ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে।
আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। চলতি অর্থবছর এই মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। অথচ গত দুই মাসে ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এডিপি ব্যয় মাত্র শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ। অর্থমূল্যে ব্যয়ের এই পরিমাণ ৩২ কোটি টাকারও কম।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জরুরি

০

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের শিল্প খাতকে মেধাস্বত্ব, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এরকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর আইনি কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জরুরি। মেধাস্বত্ব সুরক্ষা করা হলে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল সোমবার ‘এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শিল্প খাতের রূপান্তর: মেধাস্বত্ব অধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নির্ধারণ’বিষয়ক এক কর্মশালার ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

ইআরডি সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ওয়াইপো একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম। বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

আলোচনায় ইআরডি সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে যেসব পরিবর্তন আসতে পারে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পণ্যের মেধাস্বত্বের বিষয়টির গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী মেধাস্বত্ব অধিকারের ইকোসিস্টেম একান্ত অপরিহার্য। দেশের ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সামনের দিনগুলোতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর ওপর নজর না দিয়ে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি বিনিময় এবং মূল্য সংযোজনের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তবে দেশে মেধাস্বত্ব আইনের বিদ্যমান কাঠামোগত দীর্ঘসূত্রতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা, প্রয়োজনীয় নীতিমালার অভাব, সীমিত সক্ষমতা এবং সর্বোপরি বেসরকারি খাতে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

একটি আধুনিক ও কার্যকর মেধাস্বত্ব অধিকারবিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইপি ট্রাইব্যুনাল চালু করা, ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক ও ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ.এইচ.এম জাহাঙ্গীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বেসরকারি খাত। এক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগ, শিল্প খাতের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন একান্ত অপরিহার্য।

Arif Hazra 1790042808

ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে শিল্পের প্রতিটি খাতের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এ লক্ষ্যে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যথাযথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।

এসএসজিপির প্রকল্প উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবদুল বাকী বলেন, এলডিসি উত্তরণের বর্ধিত সময়সীমা ভালোভাবে কাজে লাগাতে সরকারি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।
কৃষি রসায়ন খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে কার্যকর ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করার আহ্বান জানান এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ বলেন, ওষুধ খাতে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে দেশীয় বাজারে আন্তর্জাতিকভাবে মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ করলে ওষুধের দাম বেশ বাড়বে। তাই বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজস্ব পণ্যের ব্র্যান্ড তৈরি, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান।
নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের জিআই নিবন্ধনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকীকরণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুরেজা এম. মুজারেবা।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে এনসিপির বিক্ষোভ, সরকারকে হুঁশিয়ারি

০

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে এনসিপি। এ কর্মসূচি থেকে দলটির নেতারা বিএনপি সরকারকে বিদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকার জনগণের গলায় ছুরি বসিয়েছে। যারা জনগণের গলায় ছুরি বসায়, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই।

রাজধানীর বাংলামোটরে সমাবেশের পর এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি শেরাটন মোড়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলামোটর মোড়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা যে বিএনপি সরকারের নেই, সেটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

বিএনপি সরকার ইতিমধ্যে দেশের মানুষের সামনে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এই ব্যর্থ সরকারকে আমরা লংমার্চ থেকে বলেছি, তাদের সামনে একটাই পথ আছে—এক দফা দাবি। যদি সরকার মনে করে যে বিরোধী দল বা ১১–দলীয় জোট আমাদের কী করবে, আমরা বলব ১১–দলীয় জোট কিছু করবে না, জনগণ রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে। কারণ, জনগণের পেটে আপনারা লাথি দিয়েছেন।

মিছিলে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদসহ এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।

সন্ধ্যার পিক সময়ে ঘাটতি ১ হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট রাতে বেড়েছে লোডশেডিং

০

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গতকাল সোমবার দিনভর প্রচণ্ড গরমের পর সন্ধ্যায় বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিংও। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ঘাটতি দেড় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। রাত ৮টা ও ৯টায়ও ঘাটতি ছিল যথাক্রমে এক হাজার ৫৯২ এবং এক হাজার ৫৭২ মেগাওয়াট। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সাবস্টেশন প্রান্তে সরবরাহ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৫৭২ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যার আগে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট। এক ঘণ্টা পর তা বেড়ে হয় এক হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় কিছুটা কমে এক হাজার ৩৫৭ মেগাওয়াট হলেও সন্ধ্যা ৬টায় আবার এক হাজার ৮৭ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা ১৭ হাজার ১৪০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৫ হাজার ৬২০ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল এক হাজার ৫২০ মেগাওয়াট।

রোববারের তুলনায় অবনতি
এক দিনের ব্যবধানেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লোডশেডিং ছিল ৪১৯ মেগাওয়াট। রাত ৭টায় ২৯৯, রাত ৮টায় ২৪৯ এবং রাত ৯টায় মাত্র ২২০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। রাত ১০টা ও ১১টায়ও ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ২১৫ ও ২২২ মেগাওয়াট।
এর বিপরীতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ একই সময়ে এক দিনের ব্যবধানে লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। রাত ৮টায় আগের দিনের তুলনায় ঘাটতি বেড়েছে ছয় গুণের বেশি। রাত ৯টায় বেড়েছে সাত গুণেরও বেশি।
তবে সোমবার দিনের প্রথম ভাগে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৪ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল মাত্র ১০৬ মেগাওয়াট। দুপুর ১টায় তা বেড়ে ২৯১ এবং দুপুর ২টায় ৭১৯ মেগাওয়াট হয়। এরপর বিকেল থেকে ঘাটতি দ্রুত বাড়তে থাকে।

গ্যাস সরবরাহ
সোমবার দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় সরবরাহ হয়েছে গ্যাস এক হাজার ৫৮৮ এবং এলএনজি থেকে এক হাজার ৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

পণ্য, গণপরিবহনে ব্যয় বাড়ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভা

০

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাসের ভাড়া বাড়ছে। গত রোববার মধ্যরাতে ডিজেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের পর বেড়ে গেছে পরিবহন ব্যয়। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া কিলোমিটারে দূরপাল্লায় ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। যদিও আসনবিন্যাসের কারণে ভাড়া বাড়বে আরও বেশি। তবে সরকারের অনুমোদন পাওয়ার আগেই গতকাল সোমবার বিভিন্ন রুটের বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। লঞ্চের ভাড়ার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই খেয়া ও নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে।

রাজধানী ঢাকার কিছু বাসে গতকালই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হয়। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার। কিলোমিটারে দুই টাকা ৫৩ পয়সা  হিসাবে এ পথের ভাড়া ৩৭ টাকা। তবে এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে গতকাল নেওয়া হয় ৫০ টাকা। দূরপাল্লার বাসেও ভাড়া বৃদ্ধির খবর মিলেছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার রুটের বাসে গতকাল যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হয়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাকে পণ্য পরিবহনেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজিসহ পণ্য ট্রাকে ঢাকায় আনতে খরচ বেড়েছে। এতে চাপ পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে।

ডিজেল-পেট্রোলের দামে রেকর্ড
ইরান যুদ্ধের পর সৌদি আরব ও ইয়েমেনের তেহরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে রোববার রাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত ২১ এপ্রিল ডিজেলে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর আগে ২০২২ সালের ৬ আগস্ট ডিজেলের দাম ৮০ থেকে বৃদ্ধি করে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে কয়েক ধাপে দাম কমে।

গত এপ্রিলে পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুনে তা হয় ১৪০ টাকা। এবার হয়েছে ১৬০ টাকা। অকটেনের দাম এপ্রিলে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা হয়েছিল। জুনে হয় ১৪৫ টাকা। এবার হয়েছে ১৬৫ টাকা।

২০২২ সালের আগস্টে পেট্রোলের দাম ৮৭ টাকা লিটার থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা করা হয়। ৮৯ টাকার অকেটন হয়েছিল ১৩৫ টাকা। পরে কয়েক দফায় কমে পেট্রোল ও অকটেনের দাম প্রায় দুই বছর ১১৬ ও ১২০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের মতো যানবাহন চলে অকটেন ও পেট্রোলে। বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লঞ্চ, ট্রেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকার মতো বাণিজ্যিক যানবাহন চলে ডিজেলে। রেল ছাড়াও যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে। বাকি যানবাহন চলে চুক্তিতে। পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানির ৯০ শতাংশ ডিজেল।

ভাড়া বৃদ্ধিতে দেনদরবার
বাসের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য গতকাল দুপুরে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব করে বাস মালিকদের সংগঠন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। মালিকপক্ষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলা বাসে ভাড়া কিলোমিটারে দুই টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৭৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। দূরপাল্লার ৫১ আসনের বাস ভাড়া দুই টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। উভয় ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে ডলারের দাম যত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভাড়াও তত শতাংশ বৃদ্ধির দাবি করে। এতে ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যেত।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম সমকালকে বলেন, ২০২২ সালের পর ভাড়া পুনর্নির্ধারণে জ্বালানি তেল ছাড়া কোনো কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এই সময়ে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা হয়েছে। এ কারণে বাসের প্রতিটি যন্ত্রাংশ এবং আমদানি ব্যয় বেড়েছে। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধিতে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানো হয়। যদিও বিআরটিএর ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির প্রস্তাব ছিল ২২ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, দেশের আর্থিক পরিস্থিতির কারণে শুধু তেলের দাম সমন্বয় করার। তেলের দাম কমলে অন্যান্য ব্যয় সমন্বয় করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে। মালিকরা তা মেনে নিয়েছিলেন। এখনও আর্থিক অবস্থা ঠিক হয়নি। তাই ডিজেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব মালিকরা মেনে নিয়েছেন।

ভাড়া কত বাড়তে পারে, তা নিয়ে বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ কমিটি গতকাল সংস্থাটির বনানী সদর কার্যালয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যৌক্তিক হারে ভাড়া বৃদ্ধির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করলে আজ মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে। মালিকরা অবশ্য সোমবার রাতেই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেন।

ভাড়া বাড়বে বেশি
কিলোমিটারে ২০ এবং ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ভাড়া বাড়বে আরও বেশি। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ৫৩ পয়সা। মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া দুই টাকা ২৩ পয়সা। ভাড়া নির্ধারণ কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, তারা নগর পরিবহনের ভাড়া ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় তা থেকে কিছু কমাতে পারে।

দূরপাল্লায় ৫২ আসন ধরে বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ বাস ৪০ আসনের। আরামদায়ক যাত্রার জন্য অনেক বাসে আসন সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৬। আসন কমলে ভাড়া বাড়ে। ফলে দূরপাল্লার নন-এসি ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারে সরকার নির্ধারিত ভাড়া দুই টাকা ২৩ পয়সা হলেও ৪০ আসনে তা দুই টাকা ৯০ পয়সা। ৫২ আসনের বাসে দুই টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হলে ৪০ আসনের ক্ষেত্রে তা হবে তিন টাকা ১৬ পয়সা। এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না।

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ‘ফুয়েল সারচার্জ’
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, ডিজেলের দাম বাড়ানোয় বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে এই চার্জ কার্যকর করা হবে বলে গতকাল বিকডার মহাসচিব স্বাক্ষরিত সার্কুলারে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোয় সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে, যা গতকাল থেকেই কার্যকর করার ঘোষণা দেন তারা।

একই পথে হাঁটছে বার্থ অপারেটরস শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারাও দর বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংগঠনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে নতুন দর নির্ধারণের জন্য চিঠি দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা হঠাৎ দর বাড়ানোর এমন প্রচেষ্টাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, তেলের দাম বাড়ানোয় বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয় করেছেন তারা। বিষয়টি আইসিডি ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিকডা জানায়, তাদের ফুয়েল সারচার্জের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর এবং আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন চার্জ, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এবং আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন চার্জ, খালি কনটেইনার লিফট-অন বা লিফট-অফ চার্জ, রপ্তানি পণ্য স্টাফিং/হ্যান্ডলিং প্যাকেজ চার্জ, রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনারের ভিজিএম চার্জ, আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জ।
রপ্তানি পণ্য স্টাফিং বা হ্যান্ডলিং প্যাকেজ চার্জের মধ্যে রয়েছে– স্টাফিংয়ের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন, লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার লিফট-অফ, এম্পটি ইয়ার্ডে খালি কনটেইনার লিফট-অন, এম্পটি ইয়ার্ড থেকে সিএফএস শেড পর্যন্ত খালি কনটেইনার পরিবহন, খালি কনটেইনারে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং, ভেসেল বা জাহাজ নির্ধারণের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার লিফট-অন এবং চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটিতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন।

আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জের মধ্যে রয়েছে আইসিডিতে কনটেইনার নামানো (লিফট-অফ), আমদানি ডেলিভারি ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখা এবং কনটেইনার থেকে ট্রাকে আমদানি পণ্য খালাস ও ডেলিভারি (শ্রমিকসহ) এবং চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটি থেকে আইসিডিতে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন।

শুধু বন্দর নয়, চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন চালক ও হেলপাররা। কোনো কোনো রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
নগরের ১০ নম্বর রুটের একটি বাসে ২ নম্বর গেট থেকে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষিকা হাসনা হেনা। তিনি বলেন, ‘আগে এই দূরত্বের ভাড়া ১৫ টাকা দিয়েছি। আজ (গতকাল) ২০ টাকা চাওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা

০

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার তিনি বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে সোজা ম্যানহাটানের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে চলে যাবেন তারেক রহমান। পরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ
অধিবেশনে ভাষণ দেওয়াসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি রেস্টুরেন্টে মিট দ্য প্রেসে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ও সরাসরি একাধিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রবাসীর ঢল নামবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

এ বিষয়কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাফেলো বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন; আবার এই অধিবেশনে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করছে।

যুবদল নেতা তোফায়েল লিটন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন। তিনি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ এবং বাংলাদেশের সভাপতিত্ব করার বিষয়টি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।

নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি 

সরেজমিন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন ও কুইন্সের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাতে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ প্রবাসী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন। সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক উৎসবমুখর আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি শেষ। এবার তাঁকে স্বাগত জানানো ও বরণ করে নেওয়ার পালা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন বলেন, দলীয় মতাদর্শের বাইরেও অনেক সাধারণ প্রবাসী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, বাফেলো, মিশিগান, টেক্সাস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন প্রদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অনেক নেতাকর্মী নিউইয়র্কে পৌঁছে গেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তাঁকে স্বাগত।

ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর নানা কারণে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান নন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে উদ্দীপনা একটু বেশিই। তবে তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে যা করার সবই হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৩৫ জন 

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আরও থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।