Home Blog

নাইটক্লাবে সাদ-সোহেলের ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই নারী

০

ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশের ৯-২ গোলে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রের একটি ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন ইন্দোনেশিয়ার নারী আলানা। শুক্রবার এক্সে দেওয়া নতুন পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ভিডিও ও ছবিগুলো ইন্দোনেশিয়ায় নয়, দুই মাস আগে নেপালে ধারণ করা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সাদ ও সোহেলের সঙ্গে তিন নারীকে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে গানের সঙ্গে সাদকে নাচতেও দেখা যায়। বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের পর ভিডিওগুলো প্রকাশ পাওয়ায় অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, সেটি ম্যাচের পরের ঘটনা।

নতুন পোস্টে আলানা লেখেন, ‘শুধু স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছবি ও ভিডিওগুলো দুই মাস আগে নেপালে তোলা। সেখানে আমি সত্যিই ভালো মনের ও পেশাদার কিছু বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছিলাম।’

ভ্রমণের ছবি-ভিডিও দেরিতে প্রকাশ করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। আলানা বলেন, ‘পোস্টগুলোর কারণে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। আমি সব সময়ই দেরিতে পোস্ট করি। ভ্রমণের সময় খুব কমই কিছু শেয়ার করি। কারণ আমি নিজের অবস্থান গোপন রাখতে এবং মুহূর্তটা উপভোগ করতে পছন্দ করি। এটুকুই।’

SAAD SOHEL%20(2) 1790935359

এর আগে সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাও জানিয়েছিলেন, ভিডিওটি ইন্দোনেশিয়ার নয়। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে মোহামেডানে যোগ দেওয়ার পর অবসর সময়ে তারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখানেই আলানার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তাদের ভাষ্য ছিল, ‘মোহামেডানে সাইন করার পর আমরা ফ্রি ছিলাম। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তখন একটি (লোডা) ক্লাবে তার সঙ্গে দেখা ও পরিচয় হয়েছিল। এটি জাকার্তা বা ইন্দোনেশিয়ায় নয়।’

তবে আলানার আগের একটি পোস্টের সঙ্গে নতুন বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। আগে তিনি লিখেছিলেন, বাংলাদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ায় দেখা হয়েছিল এবং তারা তাকে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ দেখতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরে সেই পোস্টটি মুছে দেন তিনি।

এদিকে এই ঘটনার পর নিজের এক্স আইডিও ডিজেবল করে রেখেছেন ইন্দোনেশিয়ার এই নারী।

রাবির তারুণ্যের উচ্ছ্বাস-বন্ধুত্ব-প্রেম, সত্য ঘটনায় নির্মিত ‘চিরকুট’ সিনেমার পোস্টার এলো

০

নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  (রাবি)। ক্যাম্পাসজুড়ে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া, প্রেম আর জীবনের নানা গল্প। সেই সময়ের একটি সত্য ঘটনা এবার উঠে আসছে বড় পর্দায়। সেকালের সেই গল্পকে একালের সিনেমার ভাষায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে চলচ্চিত্রটির।

ফিল্ম ম্যানিয়া প্রযোজিত এ চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা মুনতাসির আকিব।

চলচ্চিত্রটির পোস্টার উন্মোচন উপলক্ষে আজ ফিল্ম ম্যানিয়ার নিকেতন কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের। পোস্টার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ‘চিরকুট’-এর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার নতুন অধ্যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক খোরশেদ আলম খসরু এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও লেখক লুৎফর হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মুনতাসির আকিব। অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, সুমন পাটোয়ারী, সিয়াম নাসির, মাহিরা হাসান, সাদি খান, শামীম আহসান ও ইমু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি, সংগীত পরিচালক অভিষেক ভট্টাচার্যসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেকে।

99 1790924690

‘চিরকুট’-এর গল্পের পটভূমি নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সময়ের ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, আবেগ এবং একটি সত্য ঘটনার স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ এর বিশাল অভিনয়শিল্পী দল। এতে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান, ইব্রাহিম সুজনসহ আরও অনেকে।

শুধু পেশাদার অভিনয়শিল্পীরাই নন, ‘চিরকুট’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। চলচ্চিত্রটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী অভিনয় করেছেন। ফলে সিনেমাটিতে শুধু গল্পের সময়কালই নয়, তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আবহও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্দায় তুলে ধরা নির্মাতার জন্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময়ের পার্থক্য, পোশাক, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং সে সময়ের জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গকে গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

নির্মাতা মুনতাসির আকিব বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকেই ‘চিরকুট’-এর গল্পের সূত্রপাত। সেই সময়ের পরিবেশ, মানুষের আবেগ এবং ঘটনাটিকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দর্শক যেন শুধু একটি গল্প দেখেন না, বরং একটি সময়কে অনুভব করতে পারেন—সেটাই আমাদের চেষ্টা।’

দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নির্মাণপর্ব শেষে এখন মুক্তির অপেক্ষায় ‘চিরকুট’। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প, সেই সময়ের আবহ এবং বিশাল অভিনয়শিল্পী দলের উপস্থিতি নিয়ে চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের। সেকালের গল্প, একালের সিনেমা—এই ভাবনা নিয়েই আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় ‘চিরকুট’।

‘চিরকুট’-এর অন্যতম আকর্ষণ এর সংগীত। চলচ্চিত্রটিতে রয়েছে চারটি গান। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রেহান রাসুল, মাশা, স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি, মেহেদী সরকার, রাকিব ও ঐশী।

বারবার ভুলে যাচ্ছেন? কোন ভিটামিনের অভাবে এ সমস্যা হয়

অনেকেরই ভুলে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। শুধু বয়স বাড়লেই এমন হয় তা নয়। কোনও নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাবেও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলঝেইমার এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো শরীরে কোনো নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাব। তা হলো ভিটামিন বি১২।

ভিটামিন বি১২ হলো একটি পুষ্টি উপাদান যা শরীরের স্নায়ুতন্ত্র এবং রক্তকণিকার স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য। এর অভাবে দুর্বলতা, হাত ও পায়ে ঝিনঝিন করা, বিভ্রান্তি এবং স্মৃতিশক্তির সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই ধরনের সমস্যা হলে ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। যেমন-

দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার
ভিটামিন বি১২-এর প্রাকৃতিক উৎস। একটি সুষম দৈনিক খাদ্যতালিকায় দুধ, দই বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

মাছ ও মাংস থেকে পাওয়া যায়
প্রাকৃতিকভাবে মাছ, মাংস এবং মুরগির মাংসের মতো প্রাণীজ খাবার থেকে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। পরিমিত পরিমাণে এই খাবারগুলো গ্রহণ করলে বি১২-এর চাহিদা পূরণ হবে।

ডিম
ভিটামিন বি ১২ এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য উৎস হচ্ছে ডিম। সকালের নাশতায় বা দিনের অন্যান্য খাবারে পরিমিত পরিমাণে ডিম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

সয়া পণ্য
সয়া দুধ এবং টোফুর মতো সয়া পণ্যগুলিতেও ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়।

বাজারে শীতের আগাম সবজিতে উত্তাপ, কাঁচা মরিচে স্বস্তি মুরগি-ডিম আগের মতোই

রাজধানীর বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতকালীন সবজি। পেপে বাদে বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ ছুঁই ছুঁই। এদিকে শীত আসার আগে শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তবে ভোক্তার জন্য স্বস্তির খবর হলো, বাজারে কাচামরিচের দাম কমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। অন্য সবজির মধ্যে টমেটো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধরনের উপর নির্ভর করে প্রতিটি লাউ ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে বাজারে মাংস ও ডিমের দাম প্রায় আগের মতোই। ব্রয়লার মুরগির ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমান বাজারে মাছের দরদাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মাছ তাজা নাকি মৃত, মাছের আকার এবং আলাদা বাজারের কারণে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকার মতো পার্থক্য দেখা যায়।

বাজারের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, তুলনামূলক সহজলভ্য মাছ যেমন পাঙাশ ও তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। রুই ও কাতলা মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। চাষের কই, শিং, মৃগেল, পাবদা, ভেটকি ও পোয়া মাছের কেজি মিলছে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়। তবে দেশি কই, বাইম, ট্যাংরা এবং সাধারণ শোল মাছের দাম একটু বেশি; এগুলো ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চিংড়ি, রূপচাঁদা, নদীর বেলে এবং বড় শোল মাছের মতো দামি মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি হাজার টাকার ওপরে খরচ করতে হচ্ছে।

মাছের দামের এই ওঠানামার বিষয়ে বিক্রেতা রহিম মিয়া জানান, মাছের কোনো নির্দিষ্ট দাম থাকে না। এটি মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বাজারে মাছের আমদানি বেশি থাকলে দাম কমে যায়, আবার ক্রেতার চাপ বাড়লে দাম বেড়ে যায়। এমনকি সকাল-বিকেলেও দামের পরিবর্তন হয়।

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, সৌদি জোটের দাবি অস্বীকার হুতিদের

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে জোটটি। তবে হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সৌদি জোট গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত।

তবে হুতি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র সৌদি জোটের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হুতিদের পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে ওই সূত্র বলেছে, অভিযোগটি মিথ্যা। এর আগে সৌদি জোট হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছিল, কিন্তু তা প্রমাণ করতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই মদিনায় হামলার নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে তারা একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়। তখন সৌদি জোট দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার চেষ্টা করার কথা অস্বীকার করে আসছে।

মদিনার ঘটনা সম্পর্কে সৌদি জোট বলেছে, হুতিরা মসজিদে নববি ও মক্কার মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মঙ্গলবারের হামলাটিও এরই ধারাবাহিকতা। মুসলিমদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। একই সঙ্গে মুসলিমদের পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে তারা।

এদিকে হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।

ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এ ছাড়া সৌদি জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো হয়নি।

স্থানীয় কর্মকর্তারা শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয় : সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহী মদিনা ড্রোন হামলা
আরও পড়ুন
দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৫০০
দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৫০০
আপডেট ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:২৫
ইরানি প্রতিনিধি দলকে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও
ইরানি প্রতিনিধি দলকে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও
আপডেট ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:১৬
নারীদের নিরাপত্তায় দিল্লিতে ‘পিংক ফোর্স’
নারীদের নিরাপত্তায় দিল্লিতে ‘পিংক ফোর্স’
আপডেট ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারে নতুন বাস্তবতার মুখে কুর্দি বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারে নতুন বাস্তবতার মুখে কুর্দি বাহিনী
আপডেট ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:০১
সর্বশেষ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৫০০
দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৫০০
বাসচাপায় অটোরিকশার নিহত সাতজনের চারজন একই পরিবারের
বাসচাপায় অটোরিকশার নিহত সাতজনের চারজন একই পরিবারের
নাইটক্লাবে সাদ-সোহেলের ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই নারী
নাইটক্লাবে সাদ-সোহেলের ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই নারী
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী
মহাখালীতে যুবদল নেতাকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম
মহাখালীতে যুবদল নেতাকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম
চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনের রড-সিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনের রড-সিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের ফাইল ছাড়ার আহ্বান
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের ফাইল ছাড়ার আহ্বান
আরও পড়ুন

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৫০০

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখানে জড়ো হওয়ার সময় প্রায় ৫০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাসে করে তাদেরকে বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়েছে।

যন্তর মন্তরের কাছে থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশি, আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি শাখার প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা।

বিক্ষোভের জন্য জড়ো হওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে কংগ্রেস কর্মীরাও ছিলেন। আটককৃতদের বদরপুর ও আউটার নর্থ দিল্লি থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুপুরের পর বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয় জনপথ এলাকা। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও যন্তর মন্তর এলাকার দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগেই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ বৃহস্পতিবারই জানিয়ে দেয় যে, কোনো কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না।

গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তালিকা থেকে কয়েক লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবারের বিক্ষোভ ঘিরে যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। তারা গান্ধীর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নীতি মেনে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন।

বিক্ষোভে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের জাতীয় পতাকা বহন ও সিইসির পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নিধি শর্মা বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমাকে ভোট দিতেই হবে।’

৩৮ বছর বয়সী মিনা গিরি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে দিল্লিতে বসবাস করছেন। আগের নির্বাচনগুলোতে ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু এবার তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মিনা গিরি বলেন, ‘আমার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো কেন?’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইমরান (১৮) জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এ কারণে সরকারি কাগজপত্র তৈরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগ নিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এখনো মন্তব্য করেননি। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব অভিযোগে সামগ্রিক চিত্রের কেবল একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। শুক্রবার সকালে মাগুরার নোমানী ময়দানে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারের সময় বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার পরিবার ও আওয়ামী লীগ একটি পলাতক শক্তি। তারা নানা জায়গায় বলে বেড়াচ্ছে, কারও আশীর্বাদ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেশে আনার জন্য বর্তমান তারেক রহমানের সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে।’

শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে আনা হবে। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় তার ফাঁসির রায় হয়েছে, আরও অনেক মামলা পেন্ডিং (বিচারাধীন ) রয়েছে। আমরা চাই শেখ হাসিনা দেশে আসুক। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

এ সময় বিএনপিকে ভয় দেখানোর কিছু নেই উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কামারবাড়ির বিড়াল যেমন হাতুড়ির ঠকাঠকিতে ভয় পায় না, তেমনি আওয়ামী লীগের ঠকাঠকিতেও আমরা ভয় পাই না। বিএনপিকে ভয় দেখানোর কোনো কারণ নেই। বিএনপি কোনো পলাতক শক্তি নয়।

কাবাডি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, জেলা প্রশাসক মুতাকাব্বির আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে আসা ক্রীড়াপ্রেমীরা।

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ ময়মনসিংহে নিহত সাতজনের চারজনই একই পরিবারের

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে আকুয়া বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা জামালপুর সদর উপজেলার দড়ি হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একই পরিবারের সদস্য।

শনাক্ত হওয়া চারজন হলেন— মাকসুদ আলীর স্ত্রী রাশিদা (৭০), তাঁর ছেলে মোস্তফা খন্দকার হোসেন (৫০), পুত্রবধূ মর্জিনা (২৫) ও নাতি মিয়ান (৫)। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ‘রাজীব পরিবহন’-এর একটি বাস দুপুরে আকুয়া বাইপাস সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মুক্তাগাছাগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালকসহ সাতজন নিহত হন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার শিকার বাস ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পরিশ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটি। বাংলাদেশী আমেরিকানরা এই দেশের অগ্রগতির অংশীদার, তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পাশে থাকতে হবে। টাইম টেলিভিশনের এক যুগ ও বাংলা পত্রিকা’র ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক দলীয় নেতা হাকিম জেফ্রিস বাংলাদেশী কমিউনিটির অবদান তুলে ধরে এ অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারাও কমিউনিটির অগ্রযাত্রার টাইম টেলিভিশন ও প্রশংসা করে নাগরিক অংশগ্রহণ, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং স্বাধীন গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের বলরুমে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেলে মূল পর্ব শুরু হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এর আগে অপরাহ্নে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর ও ফ্লোরিডার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনির হোসেন। এতে মূলধারার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবি, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিরুপ প্রকৃতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী সপরিবারে অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে ছিল বিজনেস এক্সপো, একাধিক সেমিনার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলা পত্রিকা’র তিন দশক এবং টাইম টেলিভিশনের এক যুগের পথচলা উদ্যাপনের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে প্রবাসীদের অর্জন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের করণীয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য জেসিকা গনজালেজ রোহাস ও প্যাট্রিক মার্টিনেজ, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর ও ফ্লোরিডার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনির হোসেন, সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শ্রী শ্রীনিবাসন, নিউজার্সীর মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম এম. মাতবর, এটর্নি মীর মিজানুর রহমান, বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহাসান, কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, অধ্যাপক ডক্টর শওকত আলী, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী আলহাজ সোলায়মান ভূইয়া, ডাক্তার বর্নালী হাসান, আরমান চৌধুরী সিপিএ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, মামুন টিউটেরিয়াল-এর কর্ণধার শেখ আল মামুন, পার্কচেস্টারের রিয়েল এস্টেট এর কর্ণধার সালেহউদ্দিন সাল, রিয়েল এস্টেট ইন্সট্রাক্টর আজিজুল হক মুন্না, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আমীন মেহেদী এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি তরুণ বক্তা নাবিল এইচ মুহিত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, মাহমুদ খান তাসের ও সাঈদ তারেক, বাংলা পত্রিকা’র সাবেক বার্তা সম্পাদক হাবিব রহমান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার, সাপ্তাহিক নবযুগ সম্পাদক শাহাবুদ্দীন সাগর, সাপ্তাহিক হককথা ও ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক যুগান্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাসাল-এর প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিজবাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী হেলাল আহমেদ, ফার্মাসিস্ট সাহাব আহমেদ ও মোস্তাক আহমেদ, জাকির চৌধুরী সিপিএ, ডাক্তার জুন্নুন চৌধুরী, ডাক্তার ইনামুল হক এম সবুর, মিয়া মোহাম্মদ আবজাল, বেস্ট কেয়ার হোম সার্ভিস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিওও ব্রায়েন শীল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, বাগ-এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম, কবি ও লেখক এবিএম সালেহ উদ্দিন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আব্দুস শহীদ, দুলাল মিয়া এনাম, কাজী ফৌজিয়া, মাজেদা উদ্দিন, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদু, বিশিষ্ট রাজনীতিক জিল্লুর রহমান জিল্লু, মূলধারার রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার, ব্যবসায়ী ও শেফ খলিলুর রহমান, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ উদ্দিন, সহ সভাপতি কয়েস আহমেদ, ডেভিড সরকার, মীর মোহাম্মদ হোসেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের অবদানের স্বীকৃতির সঙ্গে উঠে আসে অভিবাসীদের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং কমিউনিটির রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ।

বাংলা পত্রিকার তিন দশক ও টাইম টেলিভিশনের এক যুগের পথচলাকে ঘিরে বক্তাদের অভিনন্দনের সঙ্গে উঠে আসে ভবিষ্যতের প্রত্যাশাও। নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন, মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরির কাজে দুই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশী আমেরিকানদের অবদানের প্রশংসা করে হাকিম জেফ্রিস বলেন, এই কমিউনিটি পরিশ্রমী, উদ্যোগী, পরিবারকেন্দ্রিক, পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল এবং দেশপ্রেমিক। ব্যবসা, পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা নিউইয়র্ক সিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী করছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশি আমেরিকানদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় পাশে থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

হাকিম জেফ্রিস তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশী আমেরিকান কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগ নিউইয়র্কের সেরা মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী অভিবাসী কমিউনিটির অবদানের প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশ ও পটভূমি থেকে আসা মানুষের ঐক্যই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিবাসন প্রসঙ্গে জেফ্রিস বলেন, আইসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সামগ্রিক অভিবাসন সংস্কারের জন্য তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অবদান কুইন্স, ব্রুকলীন, নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

হাকিম জেফ্রিস বক্তব্যের শুরুতে এই আয়োজনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্টেট অ্যাসেম্বলীর সদস্য হিসেবে তিনি এই অনুষ্ঠানে এসেছেন, কংগ্রেস সদস্য হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। এবার উপস্থিত হয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হিসেবে। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশ নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

জেফ্রিসের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় স্বাধীন কমিউনিটি সাংবাদিকতা। তিনি বলেন, নিজের কমিউনিটি, সিটি ও দেশের চলমান ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত রাখতে টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা কাজ করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। জনগণের সরকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বকে সম্মান করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী রক্ষার অঙ্গীকার করে জেফ্রিস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে যা-ই বলুন, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে যাবেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য তুলে ধরার জন্য টাইম টেলিভিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জেফ্রিস অভিযোগ করেন, অর্থনীতি, সরকারি শিক্ষা, খাদ্যসহায়তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইন মেনে চলা অভিবাসী কমিউনিটি রিপাবলিকানদের নীতির চাপের মুখে রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখনও ব্যয়বহুল বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সাশ্রয়ী করা এবং অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এই কংগ্রেস নেতা।

টাইম টেলিভিশনের এ দীর্ঘযাত্রায় সিইও আবু তাহের ও পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরুসহ সকলের অবদান স্মরণ করে বিশেষ ধন্যবাদ জানান হাকিম জেফ্রিস।
কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, এই কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। বহু বাংলাদেশী আমেরিকানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার অগ্রযাত্রায় আবু তাহের এবং সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন দাবির পক্ষে নিজের কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে গ্রেস মেং ঈদের দিন ফেডারেল ছুটির স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগের কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লক্ষ্য ও আদর্শ সমর্থন এবং হালাল খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা এবং হুমকি ও আক্রমণ থেকে কমিউনিটিকে সুরক্ষিত রাখার কাজে পাশে থাকার অঙ্গীকার জানান তিনি।

গ্রেস মেং অভিযোগ করেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল করেছে। স্ন্যাপ, মেডিকেইডসহ প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে কাটছাঁটের সমালোচনা করেন তিনি। এসব নীতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশী আমেরিকানদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য জেসিকা গনজালেজ রোহাস বলেন, কুইন্সের বাংলাদেশী কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার মতো গণমাধ্যম মানুষের মতামত, দাবি ও নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসে। কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক আলোচনার কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান দুটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু এই আয়োজনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের উদযাপন নয়, কমিউনিটির জন্যও এটি আনন্দের উপলক্ষ। আবু তাহের ও তাঁর সহকর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন তিনি।

প্যাট্রিক মার্টিনেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকা কমিউনিটির জন্য স্থানীয় সংবাদ ও তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতা মানুষকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা অবস্থায় কমিউনিটির নিজস্ব গণমাধ্যমকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিকতা শিক্ষক শ্রী শ্রীনিবাসন আবু তাহেরের সঙ্গে ১৯৯২ সাল থেকে পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করেন। বাংলা পত্রিকা থেকে টাইম টেলিভিশন প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তাঁর অগ্রযাত্রা কাছ থেকে দেখার কথা জানান। বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্রের সমাজেও এই উদ্যোগের সেবামূলক ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রীনিবাসনের বক্তব্যে গুরুত্ব পায় ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যমূলক অপতথ্য প্রতিরোধ। তিনি বলেন, এই সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বাংলা পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং টাইম টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির পেশাদারত্ব ও কাজের মানের প্রশংসা করেন তিনি। পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।

বাংলাদেশী আমেরিকানদের নাগরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. গোলাম এম. মাতবর। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কমিউনিটির ক্ষমতায়ন কি শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা জনসংখ্যার আকার দিয়ে পরিমাপ করা যায়? এসব গুরুত্বপূর্ণ হলেও নাগরিক জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।

প্রথম প্রজন্মের অবদান স্মরণ করে ড. মাতবর বলেন, তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা গড়েছেন, পরিবার প্রতিষ্ঠা করেছেন, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং কমিউনিটির প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করিয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্ম সেই ভিত্তি আরও বিস্তৃত করেছে। এখন প্রয়োজন নেতৃত্ব ও জনসেবার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করা। যোগ্য নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন, প্রার্থী ও নির্বাচনী বিষয় সম্পর্কে জানা এবং সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তবে নাগরিক সম্পৃক্ততাকে শুধু ভোটদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন। স্থানীয় সরকারের কাজ বোঝা, জনসভায় অংশ নেওয়া, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং স্কুল বোর্ড, পরিকল্পনা বোর্ড, বিভিন্ন কমিশন ও কমিউনিটি সংগঠনে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজনৈতিক মতভিন্নতা প্রসঙ্গে ড. মাতবর বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র এবং কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন মানুষও রয়েছেন। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে হবে। মানুষকে কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা বলে দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সুযোগ নিশ্চিত করাই দায়িত্ব।

নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশী আমেরিকান নাগরিক নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা একই ধরনের কর্মসূচি গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ড. মাতবর। তরুণ পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, আইনজীবী, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবীদের একত্র করে বক্তৃতা, সরকার পরিচালনা, জননীতি, নৈতিকতা, যোগাযোগ এবং জনসেবার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন ড. মাতবর। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ নেতাদের উচিত নতুনদের সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, প্রয়োজনীয় মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ভুল এড়িয়ে চলতে সাহায্য করা। সবাইকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে এমন নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক কাজে দায়িত্ব পালন করেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। শিক্ষার্থী থেকে স্বেচ্ছাসেবী, স্বেচ্ছাসেবী থেকে কমিউনিটি সংগঠক এবং সেখান থেকে বৃহত্তর দায়িত্বে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক সুযোগ তৈরি করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালেহউদ্দিন সাল নিজেকে টাইম টেলিভিশনের নিয়মিত দর্শক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবাদের পাশাপাশি সিটি হল থেকে হোয়াইট হাউস, জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে অভিবাসন পরিস্থিতি, স্থানীয় ব্যবসা ও কমিউনিটির ঘটনা তুলে ধরছে চ্যানেলটি। প্রবাসীদের তথ্যসমৃদ্ধ ও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এই সংবাদসেবা ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফ্লোরিডা থেকে আগত নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী তরুণ বক্তা নাবিল এইচ মুহিত বলেন, সমাজে পরিবর্তন আনতে বড় পদ বা বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা জরুরি নয়। ছোট উদ্যোগও অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। নেতৃত্বের অর্থ শুধু নিজের সাফল্য নয়, অন্যদের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করাও। বয়স যেন অংশগ্রহণের বাধা না হয়, সেই আহ্বান জানিয়ে ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

টাইম টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক আবু তাহের অতিথি, দর্শক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফ্রিসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ সম্পর্ক, স্টুডিওতে তাঁর বিভিন্ন সময়ের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নেওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেন। ব্যস্ততার মধ্যেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় হাকিম জেফ্রিস ও গ্রেস মেংসহ অতিথিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়াও তিনি টাইম টেলিভিশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন।

অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠান দুটির পথচলার ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশনা, অতিথিদের শুভেচ্ছা এবং মঞ্চে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মিডিয়া দু’টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রবাসী কমিউনিটির মিলনস্থল। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনা করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী করিম হাওলাদার, রন্টি দাস, কৃষ্ণা তিথি, রেশমী মির্জা, টিনা রাসেল, আফজাল, শেখ সবুজ, নাহিদ সুলতানা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব উপস্থাপনায় ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম, নিউজ প্রেজেন্টার দিমা নেফারতিতি ও সাদিয়া খন্দকার এবং ডাক্তার সৈয়দ আল আমীন রাসেল। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মেরী জোবাইদা, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু ও আবুল হাসান।

অনুষ্ঠানে অতিথি ও আমন্ত্রিতদের আপ্যায়ন ব্যবস্থাপনায় ও বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তাবৃন্দ।

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন

আমেরিকা–বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন
‘রাজনৈতিক তোষামোদী মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারায়’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপনে উপলক্ষে নিউইয়র্কে সেমিনার এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) উডসাইডস্থ গুলশান ট্যারেস মিলনায়তনে। সেমিনারে আলোচনার বিষয় ছিল-“বিশ্বব্যাপী মিডিয়া অস্তিত্ব সংকটে”। আলেচানা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের মিডিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাংবাদিকদের কর্মজীবন এবং বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার গতি-প্রকৃতি ও কৌশল বদলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের মিডিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক তোষামোদী মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। মূলধারার মিডিয়াকে তথ্য প্রকাশে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন তারা। প্রযুক্তি ও স্যোসাল মিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আপোষহীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর মিডিয়াকে জোরালো ভূমিকা রাখার কথা বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশি প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচি এবং সেমিনার সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি দর্পণ কবীর। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেসমিনিষ্টার গোলাম মোর্তূজা, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ। এছাড়া আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্যানেল আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন প্রবীণ সাংবাদিক সাঈদ তারেক, মঈনুদ্দীন নাসের, বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডাঃ ওয়াজেদ এ খান, জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা পত্রিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী ও প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মল্লিকা খান মুনা, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মনজুরুল হক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। দেড়যুগ পূর্তি উপলক্ষে স্মরণিকা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করার সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্মরণিকাটির সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন এবং সবশেষে সভাপতির ভাষণ দেন শওকত ওসমান রচি।

অনুষ্ঠানে সেমিনার পর্ব শেষ হলে কেক কেটে প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এ ছাড়া দেড় যুগ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এরপর এই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কণ্ঠশিল্পী এম. এ. সোয়েব ও অভিনেত্রী মৌসুমীকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এম. এ. সোয়েবকে এবং প্রেসমিনিষ্টার গোলাম মোর্তূজা এবং কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চিত্রনায়িকা মৌসুমীর হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে আগতদের ক্লাবের পক্ষ থেকে গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এম. এ. সোয়েব এবং টিনা রাসেল।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটির সুধীজন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ক্লাবের সদস্যরা সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর ‘কেমন আছে বাংলাদেশি মিডিয়া’ লেখা পাঠ করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দর্পণ কবীর। এই লেখার ওপর আলোচনা করেন বক্তারা। প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ বলেন, মিডিয়ায় অপপ্রচার বা মিথ্যা সংবাদ বা সত্য আড়াল করার চেষ্টা হলে মানুষের কাছে স্যোসাল মিডিয়া বা অন্য কিছু ঢুকবেই। মিডিয়া নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ লেখা জানতে হবে, পড়তে হবে। দিনদিন মনে হচ্ছে সংবাদ লেখার সাংবাদিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ক্যামেরা বা মাইকের সামনে দু’এক কথা বলার সাংবাদিকতাই দেখা যাচ্ছে বেশি।

বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেসমিনিষ্টার গোলাম মোর্তূজা বলেছেন, বাংলাদেশের মিডিয়ার বিপর্যয়ের জন্য মিডিয়ার সম্পাদক এবং মালিকরাই দায়ী। রাজনৈতিক তোষামোদীর কারণে মিডিয়া জনমানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। আমরা বিগত দিনে ফ্যসিবাদ সরকারের তোষামোদ দেখেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ একটা সময় ঐ মিডিয়াগুলোকে প্রত্যাখান করেছে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার মিডিয়া সংবাদ প্রকাশে মিথ্যাচার করছে না। ইরান বা ইরাক যুদ্ধের সংবাদ তারা প্রকাশ করেছে এবং পাঠকের আস্থা ধরে রেখেছে। এ কারণে তারা পাঠক বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি। বাংলাদেশে এমনটা দেখা যায়নি। তিনি বলেন, নিউইয়র্কে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা ভূমিকা রাখতে পারেন। এই সুযোগ এখানে রয়েছে। তারাই বাংলাদেশে যে কোন ঘটনা বা সত্য তথ্য প্রকাশ করে মূলধারার সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে মনে করি।

কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, সঠিক তথ্য বা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই সকল মানুষ জানতে চায়, শুনতে চায় বা দেখতে চায়। দলীয় পত্রিকার সংবাদ দলীয় সমর্থকরা যদি পছন্দ করত তাহলে বিভিন্ন সময়ে দলীয় পত্রিকাগুলোর প্রচার সংখ্যা বেশি-এমনটা দেখা যেত। তা দেখা যায়নি। তিনি আরো বলেন, নতুন যে কোন মাধ্যমকে স্বীকার করতে হবে, প্রতিযোগিতা করতে হবে। এখন স্যোসাল মিডিয়ার যুগ। সকলে দৃষ্টি রাখি ওখানে। মিডিয়াগুলোকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে তাদের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। তিনি মিডিয়ায় ভুল সংবাদ পরিবেশন হলে এরজন্য ভুল স্বীকার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে এমনটা দেখা যায় না। ভুল স্বীকার করাও মিডিয়ার দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রবীণ সাংবাদিক সাঈদ তারেক বলেন, বাংলাদেশের ৬০ বা ৭০ দশকের সাংবাদিকতা এখন নেই। সাংবাদিকতার চরিত্র ও সজ্ঞা বদলে গেছে। স্যোসাল মিডিয়ার যুগে মিডিয়াগুলোকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোতে সংকট চলছে। অনেক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঠিক মত বেতনই পাচ্ছেন না। এই সংকটও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাকে ব্যাহত করছে।

বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডাক্তার ওয়াজেদ এ খান বলেন, বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার সংকট চলছে। পাঠকের মনস্তাস্তিক পরিবর্তনও হয়েছে। স্যোসাল মিডিয়া বা এআই এর উত্থান প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। স্যোসাল মিডিয়ায় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ নেই এবং যে কেউ যা ইচ্ছা লিখে দিতে পারছে। অসত্য তথ্যগুলোর অসত্য বলা বা প্রমাণ করার কাজ মূলধারার মিডিয়ার। এখানে একটা লড়াই চলছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দেখেছি মিডিয়ায়। সঠিক সংবাদ বা অনুসন্ধানী সংবাদ দেখছি না। এর চেষ্টা বা প্রতিযোগিতাও দেখছি না।

সাংবাদিক নেতা মঈনুদ্দীন নাসের বলেছেন, সাংবাদিকদের আগে সৎ হতে হবে। সাংবাদিকতায় সততা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আগে এই সততাকে মূল্যায়ন করতে দেখেছি। এখন কী দেখছি? উল্টো। জুলাই বিপ্লবের পর দেশে একজন সাংবাদিক সাংবাদিক গ্রেপ্তার হবার পর জানতে পারলাম তার ব্যাংক একাউন্টে ৪৪ কোটি টাকা আছে। একজন সাংবাদিক এতো টাকার মালিক কীভাবে হলেন? আমরা কোথায় আছি?

প্রভাষক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, সাংবাদিকরা চাটুকার হয়ে গেলে সৎ সাংবাদিকতা আশা করা যায় না। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির উন্নতি না হলে এর প্রভাব মিডিয়াতেও পড়ে। সমাজের পরিবর্তন হয় না। তিনি বলেন, ৬৬ সালে সিংগাপুর স্বাধীন হয়ে অর্থনীতিতে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বাংলাদেশের অর্থনীতি তলানীতে।

প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, প্রবাসে আমরা বাংলা মিডিয়ার মাধ্যমে কমিউনিটি

বিনির্মাণের কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশ করে সেতুবন্ধনেরও কাজ করছি। এই প্রবাসেও মিডিয়া সংকটে ভুগছে। পাঠক কমে যাচ্ছে। পত্রিকার প্রকাশনাও কমে যাচ্ছে।

প্রথম আলো উত্তরামেরিকা’র সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন,মিডিয়ার সংকট আছে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। এ সংকট সবসময়েই ছিল নানা অভিধায়।

এখন সংকটের জন্য এআইকে বা প্রযুক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে আসল সমস্যাটা আড়ালেই থেকে যায়।

প্রযুক্তি বদলেছে। পাঠক বদলেছে। মানুষের খবর পড়ার, দেখার, শোনার অভ্যাস বদলেছে। মিডিয়ার ব্যবসায়িক মডেল বদলেছে। —মিডিয়ার সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে।

জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার বলেন, মিডিয়ায় সমস্যা আগেও ছিল, আছে এবং থাকবে। আমাদের সতর্ক থাকা উচিত যেন মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য পরিবেশিত না হয়।

প্রেসবিজ্ঞপ্তি।