Home Blog Page 110

যে চার কথা সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক দূরত্ব বাড়ায়

সম্পর্ক টেকে বোঝাপড়ায়, যত্নে। নিত্যদিনের চলাফেরায়, যোগাযোগে সঙ্গীর সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক নয়, যা তাকে ছোট করে। এমনটা চলতে থাকলে এক সময় মানসিক দূরত্ব এতটাই বাড়ে, যা ভাঙন ধরায়। অর্থাৎ সম্পর্কের চারাগাছটা আগের মতো তাজা থাকে না।

সঙ্গীর কাছ থেকে কী পাননি, তার চেয়েও বেশি অনুভব করুন কী কী পেয়েছেন। তাকে স্পেশাল অনুভব করান। আর এমন চার বাক্য ভুলেও বলবেন না, যা সঙ্গীর মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‘তোমাকে জীবনসঙ্গী ভেবে ভুল করেছি’ বলা
এই ধরনের কথা সঙ্গীর মনে আঘাত দেয়। সম্পর্ক নিয়ে অনুশোচন হচ্ছে-এই ধরনের কথা ঝগড়ার সময়েও বলা উচিত নয়। ঝগড়া, মান-অভিমান মিটে গেলেও এই ধরনের কথার রেশ থেকে যায়। এতে সম্পর্কের ভিত দুর্বল হয়ে যায় এবং আপনার প্রতি সঙ্গীর বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।

সঙ্গীর আর্থিক অবস্থা নিয়ে খোঁটা দেওয়া
সঙ্গী হয়তো আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়। কিন্তু আপনি যে অর্থ রোজগার করেন, সঙ্গী তা করেন না। কিন্তু সঙ্গীর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কখনোই কথা শোনাবেন না। টাকা-পয়সা নিয়ে অপমান বা ঠাট্টা করলে তা আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। তাছাড়া সঙ্গীর মনে হতে পারে এই সম্পর্কে আপনি খুশি নন। আর দিনের পর দিন এমনটা চলতে থাকলে সম্পর্ক ভাঙতে বাধ্য।

তার পরিবার বা বন্ধুদের অপমান করা
সঙ্গীর পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনদের খারাপ কথা বলা উচিত নয়। সঙ্গীর কাছের মানুষদের অপমান করলে আপনিই সঙ্গীর কাছে ছোট হয়ে যাবেন। এতে আপনাদের দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়বে এবং মনের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হবে।

সঙ্গীর দুর্বলতা নিয়ে মজা করা
প্রত্যেকেরই কিছু কিছু দুর্বলতা রয়েছে। অনেকেই ছোট ছোট বিষয় নিয়েও হীনমন্যতায় ভোগে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে কখনোই হাসিঠাট্টা করা উচিত নয়। এতে সঙ্গী অপমানিত বোধ করেন এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। বরং, সঙ্গীর দুর্বলতা বা হীনমন্যতায় ভোগার কারণ জানলে, সেই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করুন।

তীব্র গরমে এসি ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

তীব্র গরম বেশ ভোগাচ্ছে। সারাদিন পর অর্থাৎ কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও প্রশান্তি মিলে না। মিলবে কি করে? দিনভর কড়া রোদের তাপ ঘরকে উত্তপ্ত করে। যাদের বাসায় এসি আছে তারা খানিকটা স্বস্তি পেলেও, এসি ছাড়া ঘরগুলোতে থাকাটা বেশ কষ্টসাধ্য। বাসায় এসি না থাকলেও, প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখার কিছু কৌশল জেনে রাখুন।

প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

পর্দা ও জানালার সঠিক ব্যবহার: আপনার বাসা যদি দক্ষিণ দিকে হয়, তাহলে দিনভর জানালা খুলে রাখতে পারেন। ফ্যানের বাতাসের চেয়ে প্রাকৃতিক  বাতাস আপনাকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে। যদি জানালায় সরাসরি রোদ পড়ে তাহলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত না খোলাই ভালো। জানালায় ঘন কাজের হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করে রোদ আটকান। চাইলে বাঁশের চিকও ব্যবহার করতে পারেন। রাতে বা ভোরে বাইরের বাতাস ঠান্ডা থাকলে জানালা খুলে দিন।

ফ্যানের ব্যবহার: সিলিং ফ্যানের সামনে বরফের বাটি বা ভেজা কাপড় রাখলে বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়। এই হ্যাক অনেকটা কাজে আসতে পারে। এছাড়া জানালার সামনে ভেজা চাদর ঝুলিয়ে দিলে বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘরে ঢোকে।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও গাছ: ঘরের ভেতর ইনডোর প্ল্যান্ট (যেমন- স্নেক প্ল্যান্ট, মানি প্ল্যান্ট) রাখুন। এগুলো তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
তাপ উৎপাদন কমান: দিনের বেলায় রান্না, ইস্ত্রি বা বেশি ইলেকট্রিক বাল্ব চালানো এড়িয়ে চলুন। এগুলো তাপ বাড়ায়।

হালকা আসবাব ও সুতির ব্যবহার: ভারী কার্পেট বা পর্দা সরিয়ে বিছানায় হালকা রঙের  সুতি চাদর ব্যবহার করুন।

শরীর ঠান্ডা রাখুন: শরীর ঠান্ডা রাখতে দিনে দুইবার গোসল করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।

রাতে ঘর ঠান্ডা করে রাখুন: রাতে ঘরের জানালা খুলে দিন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঢুকবে। সকালে রোদ ওঠার আগে জানালা বন্ধ করে দিলে সেই ঠান্ডা কিছুটা ধরে রাখা যায়।

হরমুজ ‘অবরুদ্ধ’ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, খুলতে চাইছে ইরান: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায় যেন দিনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করা সম্ভব হয়।

প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ইরান প্রতিদিন এই বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও দাবি তার।

মঙ্গলবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন। আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।

নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছি বলেই তারা লোকদেখানোভাবে এটি বন্ধ করার কথা বলছে। তারা আসলে স্রেফ নিজেদের মুখ রক্ষা করতে চাইছে।

ট্রাম্পের দাবি, মাত্র চার দিন আগে কয়েকজন্য ব্যক্তি তার কাছে এসে জানান, ইরান এখনই এই প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে।

ইরান প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তবে আমরা যদি সেটা করি, তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সব পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে, যদি না আমরা তাদের নেতাদেরসহ পুরো দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিই।

এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সমালোচনামূলক নিবন্ধের কড়া জবাব দিতে গিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে  একগুচ্ছ নতুন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তাকে ‘বোকা’ বানানোর ইরানি কৌশলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প জানান, গত ৪৭ বছরে যা হয়নি, তিনি তা করে দেখিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তেহরান প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুযোগ নিয়ে এসেছে, কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই।

তিনি বলেন, আমি তাদের কী দিয়েছি? একটি বিধ্বস্ত দেশ!

এরপর ট্রাম্প তার সাফল্যের এক দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে দাবি করেন, ইরানের পুরো নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে, তাদের বিমান বাহিনী শেষ হয়ে গেছে, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও রাডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক গবেষণাগার ও গুদামগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন; ইরানি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে। তবে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শক্তিশালী হলে শিবির সন্ত্রাসের বীজ বপন করে: নাছির

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেছেন, ছাত্রশিবির যেখানে তূলনামূলক শক্তিশালী, সেখানে তারা কেমন সন্ত্রাসের বীজ বপন করে, তা আমরা আজ দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা এমন কাজের সাহস করত না। এ পর্যন্ত তারা যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, তার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ চট্টগ্রামে। কারণ সেখানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান তূলনামূলক ভালো।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি দেয়ালে গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। পরে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার দুপক্ষের মধ্যে দুইদফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

নাছির বলেন, দেয়ালে যদি ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে কোনো বাক্য লিখেও থাকে, তারা পাল্টা আরেকটি দেয়ালে লিখতে পারত। কিন্তু তারা ছাত্রদলের অসংখ্য কর্মীদের উপর হামলা করেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রশিবির যেখানে তূলনামূলক শক্তিশালী, সেখানে তারা কেমন সন্ত্রাসের বীজ বপন করে, তা আমরা আজ দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা এমন কাজের সাহস করত না। এ পর্যন্ত তারা যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, তার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ চট্টগ্রামে। কারণ সেখানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান তূলনামূলক ভালো। যদি ছাত্রদলের আরেকটি নেতাকর্মীর উপরও হামলা করা হয়, ছাত্রশিবিরের নেতাদের ক্যাম্পাসের স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হবে না।

নাছির বলেন, বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতিতে  একটি জিনিস আপনারা লক্ষ্য করেছেন। কোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে চায়। ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ডাকসুর ভিপি, জিএস, মোসাদ্দেক এবং এবি জুবায়ের-আপনাদের ব্যবহৃত ফোন কোন দেশ থেকে আসা-যেখানে গুপ্ত রাজনীতি ও মুনাফেকের রাজনীতি দেখা যায় না। আমাদের নেতাকর্মীরা তো ফোন খুললেই এসব দেখতে পান।

বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা সহিষ্ণুতা পরিচয় দিয়েছি। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল ছাত্র, পরে জানা গেছে তারা গুপ্ত রাজনীতির সাথে যুক্ত, তারা একের পর এক মব কালচারকে উসকে দিয়ে বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলে গেস্টরুম-গণরুমের মতো নিকৃষ্ট কালচারে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি তার নামে মামলা করব।

মিছিলে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাছুম বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম ভূঁইয়া ইমনসহ একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ঢাকা কলেজের নেতৃবৃন্দ, কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বায়াররা, যাচ্ছে ভারতে: বিসিআই সভাপতি

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি শূন্য হবে বাংলাদেশ- এমন আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে অনেক বিদেশি ক্রেতা। বাংলাদেশ ছেড়ে এসব ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ সংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে জুলাই-আগস্টের সম্ভাব্য অনেক ক্রয়াদেশ থমকে গেছে। একইসঙ্গে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান কর কাঠামো বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন ইন্ডিয়া বা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। আগামী জুলাই এবং আগস্ট মাসের জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসার কথা ছিল, তা অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা ইতিমধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের টপ ম্যানেজমেন্ট বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছে।

ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যেও বর্তমান কর ব্যবস্থাকে অবাস্তব বলে অভিহিত করেন বিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, লাভ হোক বা লস, এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য এটা অনেক বড় অংক। তিনি প্রস্তাব করেন, ছোট উদ্যোক্তাদের যদি করের স্ল্যাবে নিয়ে আসা যায়, তবে তারা রক্ষা পাবে। কারণ অনেক সময় মুনাফা না থাকলেও তাদের কর দিতে হয়, যা তাদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলছে।

এ সময় তিনি রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর অনুরোধ জানান। তবে উৎস কর কমানোর আবদার নাকচ করে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী, কর কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবারিত ক্ষমতার বিষয়েও কথা বলেন আনোয়ার-উল আলম। তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে।

সভায় অংশ নিয়ে কোম্পানি ব্যাংক আমানতের মুনাফার ক্ষেত্রে উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ, সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানায় ঢাকা চেম্বার। করের বোঝা না চাপিয়ে ব্যবসা সহায়ক কর কাঠামোর তৈরির দাবিও জানায় ডিসিসিআই।

এক রাত পর শিশু সন্তানসহ কারামুক্ত হলেন সেই মহিলা লীগ নেত্রী

তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় মাসের সন্তানসহ গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওই নেত্রীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিতে তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা সকাল হতেই কারাগার ফটকে অপেক্ষা করেন৷

এর আগে গতকাল দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করে দেড় মাসের সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ শিল্পীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

তার আবেদনে বলা হয়, আসামির মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।

তবে শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার  অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

ওই দিন দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। তারা বলছিলেন, গত মাসের ৪ মার্চ আদ-দ্বীন হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশু; মাতৃদুগ্ধ পান করে। বাথরুমে পড়ে বাম হাত ভেঙে গেছে শিল্পীর। বাচ্চাকে ঠিকমত কোলেও নিতে পারে না, একা সামলাতে পারেন না। জামিন নাকচের আদেশ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। শিল্পী অসুস্থ থাকায় আদালতপাড়ায় স্বজনরাই বাচ্চাকে কোলে করে রাখেন।

শিল্পী বলেন, ‘সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নেব না।

শিল্পী কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন, রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা, রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন, ‘তিন ছেলের পর আমার এ মেয়েটার জন্ম। তাকেসহ আমার স্ত্রীকে কারাগারে যেতে হচ্ছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন। পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতপরিচয় ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।

ট্রাম্প কেন যুদ্ধবিরতির অনির্দিষ্ট মেয়াদ বাড়ালেন

ইরানের বিষয়ে পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়- তা ঠিক করতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অংশ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স  ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। নিজেদের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তারা অধীর আগ্রহে কেবল একটি সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

বৈঠকটি চলার সময় জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের রানওয়েতে উড্ডয়নের অপেক্ষায় ছিল এয়ার ফোর্স টু (ভাইস প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ)। কিন্তু ইরানিদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর নিয়ে প্রশাসন এক গোলকধাঁধায় পড়ে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরকে ফোন করে অনুরোধ করা হয়, যাতে ভ্যান্স উড়োজাহাজে ওঠার আগেই ইরান আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাড়া দেয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সাড়া মেলেনি।

হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলের বৈঠকের বিষয়ে অবগত তিনজন কর্মকর্তা এসব বর্ণনা দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইয়ের পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ।

কেন অনির্দিষ্ট মেয়াদ
কয়েকটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন না। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার যখন কয়েক ঘণ্টা বাকি, তখন তিনি মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন। তবে এবার মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি। লিখেছেন, আলোচনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলো।

আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন। তাদের ধারণা হলো- কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে ইরানের ওপর চাপ কমে যাবে। তখন তারা আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেতে পারে।

একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের বসার একটি সম্ভাবনা এখনো আছে। তবে সেটা কবে তা নিশ্চিত নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি এখনো এই যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চাইছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের আলোচনায় ফেরার সংকেত পাওয়া গেলে ফের পাকিস্তান সফরের ব্যবস্থা করা সম্ভব। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তারা আশা করছেন, দুই দেশ দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাবে।

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের কণ্ঠে এখনো পরিবর্তনের কোনো সুর শোনা যায়নি। তাদের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদী মোহাম্মদী বলেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার কোনো মূল্য নেই।  পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।  অবরোধ জারি রাখা আর বোমা বর্ষণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দেওয়া হবে।

সাড়া না পাওয়ায় বিভেদের ধারণা
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীদের ধারণা, ইরানিদের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যকার বিভেদ। তিন কর্মকর্তার মতে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে থেকে পাওয়া বার্তার ওপর ভিত্তি করে হোয়াইট হাউসের এই ধারণা জন্মেছে।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানিরা তাদের অবস্থান নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।  বিশেষ করে মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আলোচনায় দর-কষাকষির জন্য তারা মধ্যস্থতাকারীদের কতটা ক্ষমতা দেবে- তা নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অন্তরায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা অনুযায়ী, এই জটিলতার অনেকটা কেন্দ্রে আছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তাঁর অন্তরালে থাকার প্রচেষ্টা ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত পোস্টে ট্রাম্পও ইরানের ভেতর বিভেদের কথা উল্লেখ করেছেন। লিখেছেন, ইরানের সরকার ‘মারাত্মকভাবে বিভক্ত’।

বিশ্লেষণ ইরান যুদ্ধ এখন ‘ধৈর্য ও সময়ের লড়াই’

ইরান যুদ্ধ ধীরে ধীরে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ থেকে সরে এসে এখন পরিণত হয়েছে এক ধরনের ‘ধৈর্যের লড়াইয়ে’-যেখানে সময়ই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক পোস্টে বলেছেন, ‘এই যুদ্ধে সময় তার প্রতিপক্ষ নয়। তিনি ছয় সপ্তাহের সামরিক অভিযানকে অতীতের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।’

সময় কি সত্যিই বড় বিষয় নয়?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবতা ভিন্ন। ইতিহাসে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময়কাল শুধু সামরিক সাফল্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না। উদাহরণ হিসেবে ইরাক যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ইরাকের আকাশে মার্কিন আধিপত্য এবং জোটের অনেক উন্নত অস্ত্রশস্ত্র মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকি সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করতে সক্ষম করেছিল। ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল বাগদাদের পতন হয় এবং তার সাথে ইরাকি সরকারেরও পতন ঘটে। কিন্তু পরে দীর্ঘ ও জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, দ্রুত শুরু হলেও যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে।

ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
এই যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও—সেখানে জ্বালানির দাম বেড়েছে, সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত সমাধানের চাপ তৈরি হচ্ছে।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, জ্বালানির দাম শিগগিরই কমবে। তবে তারই জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেছেন, দাম কমতে কয়েক মাস লাগতে পারে। এই মতবিরোধ নিঃসন্দেহে প্রশাসনের ভেতরের অনিশ্চয়তাও তুলে ধরছে।

ইরানের কৌশল: সময়কে হাতিয়ার করা
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলার মুখেও ইরান তাদের সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হিসাব হলো-তারা দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করতে পারবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে পারবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হিসাব করছে- যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, জনগণের অসন্তোষ বাড়বে, এতে আলোচনায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ, ইরান সময়কে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তিন ধরনের কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করছে- সামরিক চাপ (হামলার হুমকি), অর্থনৈতিক চাপ (অবরোধ) এবং কূটনৈতিক চাপ (আলোচনা)। ওয়াশিংটনের ধারণা, এই চাপের ফলে ইরান এমন একটি চুক্তিতে রাজি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল।

কে আগে নত হবে?
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- যুক্তরাষ্ট্র কি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে? নাকি ইরানই আগে ছাড় দেবে?

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্রের নয়- সময়, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ধৈর্যের লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি জাহাজ জব্দ করায় ক্ষুব্ধ ইরান, সংলাপে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় ইসলামাবাদের পথে মার্কিন দল

ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ মার্কিন মেরিন সেনাদের হাতে জব্দ হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপে তারা ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সেই সঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান। এ অবস্থায় মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা করলেও ইরানের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।

আগামীকাল বুধবার শেষ হচ্ছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। নতুন করে মার্কিন হামলার শঙ্কা বাড়ছে। ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচক’ভাবে বিবেচনা করছে তেহরান। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, তারা সংলাপে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন যে ‘আন্তরিক নয়’, তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তেহরান কোনো আলটিমেটাম বা চরমপত্রে বিশ্বাস করে না।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্র সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ইরনা তাঁকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘যুদ্ধ কারও স্বার্থরক্ষা করে না। হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি উত্তেজনা কমাতে প্রতিটি যুক্তিসংগত ও কূটনৈতিক পথ ব্যবহার করা উচিত।’

তেহরানের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ তেহরানের ‘প্রতিরক্ষা সক্ষমতা’ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, পাকিস্তানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, এ অবরোধ আলোচনার পথে একটি বাধা। জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ পরামর্শ বিবেচনা করবেন।

গতকাল দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রথম দফার আলোচনায় তিনি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন। প্রতিনিধি দলে এবারও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকবেন। তারা ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি, আমাদের মধ্যে আলোচনা হতে যাচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে কেউ কোনো খেলা খেলবে না, এটাই প্রত্যাশা।’

স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৯টার পর (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তাঁর প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা করতে যাচ্ছে। রাতেই তারা সেখানে পৌঁছবেন। একটি বড় অগ্রগতির প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান একটি আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুই পক্ষ আঞ্চলিক অগ্রগতি ও সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে সমন্বয় ও মতবিনিময় করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা সংলাপকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একজন সরকারি ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ইসলামাবাদজুড়ে ২০ হাজার পুলিশ, আধাসামরিক ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ গত শনিবার বলেন, উভয় পক্ষ অগ্রগতি করেছে। কিন্তু পারমাণবিক বিষয় ও হরমজু প্রণালি নিয়ে তারা এখনও অনেক দূরে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগাযোগ সরঞ্জাম নিয়ে গতকাল অন্তত ছয়টি মার্কিন সরকারি বিমান পাকিস্তানের নূর খান বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।

আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম
নতুন যুদ্ধের শঙ্কা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে; টালমাটাল হয়ে পড়েছে শেয়ার বাজার। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী গতকাল সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৬৪ ডলার মূলে বিক্রি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টার অচলাবস্থার পর গত রোববার তারা ইরানের পোর্ট আব্বাস বন্দরের দিকে আসা একটি ইরানের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটির ইঞ্জিন অচল করে দেয়। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় মেরিন সেনারা হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে জাহাজটিতে নামছেন।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’র অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন, এ ‘প্রকাশ্য আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে তারা মার্কিন বাহিনীর মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু জাহাজে থাকা নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কারণে তারা তা করতে পারেননি। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীলভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে কার্যত কোনো জাহাজ চলাচল করছে না
জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গতকাল মাত্র তিনটি জাহাজ পারাপার হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ডেটা অ্যানালিটিক্স বিশেষজ্ঞ সিনম্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ ও কেপলার প্ল্যাটফর্মের ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘নেরো’ উপসাগর ছেড়ে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করছে। অন্য দুটি জাহাজের একটি রাসায়নিক ট্যাঙ্কার ও অন্যটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ট্যাঙ্কার আলাদাভাবে এ জলপথে উপসাগরে প্রবেশ করেছে।