Home Blog Page 116

উচ্চাভিলাষী সংস্কার শুরুর এখনই সময় বাংলাদেশের

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা একটি নতুন সরকারের জন্য উচ্চাভিলাষী সংস্কার শুরু করার এখনই সঠিক সময়। বাংলাদেশে রাজস্ব ও আর্থিক খাত সংস্কার এবং আর্থিক খাত পুনর্গঠন ও বিনিময় হার সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেক কাজ করা প্রয়োজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন মত দেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। আইএমএফের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ‘এশীয় ও প্যাসিফিক আউটলুক’-এর সারমর্ম উপস্থাপনায় কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ অঞ্চলে নতুন জ্বালানি ধাক্কার নেতিবাচক প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলছে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে আইএমএফের পরিচালক বলেন, দুটি দেশেই আইএমএফ-সমর্থিত প্রোগ্রাম রয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে গত তিন বছরে তারা জিডিপির অংশ হিসেবে কর রাজস্ব বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তারা ধীরে ধীরে ‘আর্থিক বাফার’ তৈরি করেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তারা এখন ভালো অবস্থানে আছে। শ্রীলঙ্কার জন্য মূল নীতি হলো, এই সহায়তাকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সাময়িক করা, যাতে হাতের সম্পদগুলো দক্ষভাবে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের রাজস্বের ভিত্তি এবং রাজস্ব আদায় উভয়ই বেশ কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে তারা অনেক বেশি হিমশিম খাচ্ছে।

তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, তাই যে সম্পদই থাকুক না কেন, তা যতটা সম্ভব সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহার করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাদের রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে, যা বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেনি। এটি বেশ কম এবং গত তিন বছরে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় আরও কমেছে। এ ছাড়া আর্থিক খাতের অন্যান্য বাধাও তাদের বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে নিকটবর্তী ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা যায়।
বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানিতে আইএমএফ ঋণ দেবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রীনিবাসন বলেন, এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তারা প্রচুর জ্বালানি আমদানি করে। নীতি সহায়তা ও প্রোগ্রামগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কাজ করছেন। আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
জ্বালানির মজুত কম থাকলে ঝুঁকি বেশি

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি অত্যন্ত জ্বালানিনির্ভর। তেল ও গ্যাসের ব্যবহার অঞ্চলটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশ, যা ইউরোপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কিছু দেশে, যেমন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে, এই হার ১০ শতাংশেরও বেশি। এর ফলে জ্বালানির দামের সামান্য পরিবর্তনও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
এতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সীমিত হওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয়। সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস আমদানি জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ। আইএমএফ মনে করে, এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ঝুঁকি মূলত নিম্নমুখী। যদি জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকে, তাহলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা উচ্চ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া যেসব দেশে জ্বালানির মজুত কম, আর্থিক সক্ষমতা সীমিত কিংবা রেমিট্যান্স, পর্যটন বা সার আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেসব দেশে ঝুঁকি আরও বেশি।

বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে ২০২৭ সালের মধ্যে বড় এশীয় অর্থনীতিগুলোর উৎপাদন প্রায় ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আরও গুরুতর পরিস্থিতিতে এই ক্ষতি প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সুতরাং নীতিনির্ধারকদের জন্য স্বল্প মেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এই জ্বালানি ধাক্কা সামাল দেওয়া, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাজারের সঠিক মূল্য সংকেত নিশ্চিত করা।
শ্রীনিবাসন বলেন, জ্বালানি ধাক্কার নেতিবাচক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবণতা এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। ফলে জানুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এশিয়া এখনও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছিল, তা ২০২৬ সালে কমে ৪.৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এনসিপির নিশানায় বিএনপির বিদ্রোহীরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির যেসব নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদের দলে টানার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে এই নেতাদের সমর্থন করায় যেসব নেতাকর্মী বিএনপি-ছাড়া হয়েছেন, এনসিপিতে এলে তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিএনপির দিক থেকে এনসিপিকে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর জোট ছাড়লে সহযোগিতা করা হবে। একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করে বলেছেন, বিএনপির প্রস্তাব এনসিপি গ্রহণ করেনি।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ঢাকার একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া এক নেতার সঙ্গে এনসিপির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে মামলা ও কারাবাসের জন্য আলোচিত এই নেতা বিএনপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছেন। এনসিপি তাঁকে দলে ভিড়িয়ে রাজধানীতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চাচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আসনে বিএনপির ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের সবাই বহিষ্কৃত হন দল থেকে। এর মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করে নির্বাচিত হয়েছেন। বহিষ্কৃত নেতাদের কয়েকজন বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে এরই মধ্যে এনসিপি যোগাযোগ করেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিতে ওই এমপি সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জামায়াত তাঁকে সুযোগ দেয়নি। তবে এনসিপি তাঁকে নিজেদের কোটা থেকে সময় দিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সবার জন্য এনসিপির দরজা খোলা। যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, তাদের এনসিপিতে নেওয়া হবে না। যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতি করতে বিএনপি ছাড়তে চান, তাদের এনসিপিতে স্বাগত জানানো হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া হবে কিনা, তা জোট, দলে যোগ দেওয়া এবং তখনকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দখল, চাঁদাবাজি, সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা অভিযোগে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহিষ্কার হন এক হাজারের বেশি নেতা। এনসিপি দল বড় করতে গণহারে সবাইকে নেবে কিনা– এ প্রশ্নে আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, আদর্শিক অবস্থানের কারণে যারা পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি করতে চান না, সংস্কার চান, গণভোটকে সম্মান করেন, তাদের জন্য এনসিপির দুয়ার খোলা।

‘জিয়া, খালেদার অনুসারীদের’ স্বাগত
গত শুক্রবার এক বৈঠকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেন। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে। এর অংশ হিসেবেই পহেলা বৈশাখ বিকেলে চট্টগ্রামে বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

এ সাক্ষাতের খবর জানাজানি হওয়ার পর কয়েক যুবক মনজুর আলমের বাসার ফটকে অবস্থান নেন। তারা মনজুর আলমকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে হাসনাতকে প্রশ্ন করেন, একজন জুলাইযোদ্ধা হয়ে কেন তিনি আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় এসেছেন? মনজুর ও হাসনাত– উভয়ের ভাষ্য, সাক্ষাৎটি ছিল  সৌজন্যমূলক।

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর ছিলেন। আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলেও ২০১০ সালে মেয়র পদে প্রার্থী হন তাঁর এক সময়ের রাজনৈতিক গুরু ও দলের নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেই সময় মনজুর আলমকে মেয়র পদে সমর্থন দেন। নির্বাচনে জয়ী মনজুর আলম পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ পান। ২০১৫ সালের নির্বাচনেও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন মনজুর আলম। ভোটের দিন কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান মনজুর আলম। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালান। বিএনপির মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের জনসভার দিন তিনি সক্রিয় ছিলেন।

এর পরও বিএনপিতে ফিরতে না পারায় মনজুরকে দলে টানার চেষ্টা করছে এনসিপি। যদিও তিনি নিশ্চিত করেননি– চট্টগ্রামে মেয়র পদে এনসিপি সমর্থিত প্রার্থী হবেন কিনা। হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, এনসিপির সাংগঠনিক বিস্তারের জন্য অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার একজন সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আলমের সঙ্গে কথা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শের রাজনীতি যারা করেন, তাদের সঙ্গে এনসিপি কথা বলছে, বলবে। তারা কেউ এনসিপিতে এলে স্বাগত জানানো হবে।

বিদ্রোহীদের সমর্থকদের বিষয়েও আগ্রহ
গত সংসদ নির্বাচনের আগে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন তিন শতাধিক নেতা। এর মধ্যে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন। তারা নির্বাচনের পর পদ হারিয়ে বিজয়ী এমপির সমর্থকদের চাপে রয়েছেন। কয়েক জায়গায় এমন বহিষ্কৃত নেতারা নির্বাচনকালীন সহিংসতার মামলায় আসামি হয়েছেন।

ময়মনসিংহের একটি উপজেলার বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক সমকালকে বলেন, পদ গেছে, তাঁর সমর্থিত প্রার্থীও হেরেছেন। এ কারণে নির্বাচনের পর এলাকায় থাকতে পারছেন না। নতুন এমপি ও সমর্থকদের মামলায় জড়িয়ে সব কূল হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলের সাড়ে ১৫ বছরেও এমন কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন না। এনসিপির নেতারা যোগাযোগ করে এলাকায় ফেরার জন্য সাহস দিয়েছেন। উপজেলা বা পৌর নির্বাচনে অংশ নিলে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিএনপি ছাড়তে চান না– জানিয়ে এ নেতা সমকালকে বলেন, পরিস্থিতি বিষয়ে উঠেছে নিজ দলের এমপির কারণেই। যাঁর পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন, তিনি আর সেভাবে খবর রাখছেন না। সর্বমুখী চাপের কারণেই এনসিপির প্রস্তাব বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে।

এনসিপির কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনও তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে করতে চান। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সংসদ নির্বাচনে পুরোপুরি জামায়াত-নির্ভর হতে হয়েছিল। এখন তারা সেই নির্ভরতা দূর করে নিজস্ব অবস্থান তৈরির জন্য তৃণমূলের অভিজ্ঞ, সাহসী নেতাকর্মী খুঁজছেন। শুধু তরুণদের দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জীবিকার অনিশ্চয়তার কারণে তরুণরা সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে থাকতে চান না। তাই অন্য দলের পুরোনো নেতাকর্মীদের দিকে হাত বাড়াতে হচ্ছে।

এই নেতারা আরও বলেন, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হতে চান এমন অসংখ্য নেতা আছেন। নির্বাচন নির্দলীয় হলেও যারা দল এবং স্থানীয় এমপির সমর্থন পাবেন, তারাই এগিয়ে থাকবেন। বিএনপির বহু ত্যাগী নেতাকর্মী বঞ্চিত হতে পারেন। তাদের নির্বাচনে জোটের সমর্থন পাইয়ে দিয়ে এনসিপিতে টানা সম্ভব। আবার যোগদানের পদ্ধতির কারণে তারা জামায়াতেও যেতে পারবেন না।

এনসিপিও ‘প্রস্তাব’ পেয়েছিল
এনসিপির এক এমপি সমকালকে জানান, সরকারের দিক থেকে তাদের কাছেও প্রস্তাব এসেছিল। গত সপ্তাহে বিএনপির এক এমপি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রস্তাব করেন, জামায়াত জোট ছাড়লে সহযোগিতা পাবে এনসিপি। সরকারের সঙ্গে থেকে দল বিস্তারের সুযোগ পাবে।

এনসিপির একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, এনসিপি নিজেদের গড়ে তুলতে বিরোধী দলের রাজনীতিই করতে চায়। সরকারের সঙ্গে থেকে অতীতে কোনো দলের রাজনীতি দাঁড়ায়নি। এনসিপি জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য এবং সংস্কারের দাবি পূরণে আগামী পাঁচ বছর সরকারের বিরোধিতায় উচ্চকিত থাকবে। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সম্পর্ক রাখা হবে; তা আদর্শিক পর্যায়ে নেওয়া হবে না। এ কারণে জামায়াত বিরোধিতা করলেও এনসিপি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাকে সমর্থন করেছে।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুবই কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ ‘প্রায় সব কিছুতেই রাজি হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এমন অনেক কিছুই ইরান এখন করতে রাজি, যেগুলো তারা এতদিন করতে রাজি ছিল না।

যদি ইরানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং ইসলামাবাদে তা স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তানে যেতে পারেন বলেও জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে; কারণ ওই তারিখের আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকটি এই সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যদি ইরানের সাথে কোনো চুক্তি না হয়, তবে যুদ্ধ আবারও শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ ‘বেশ কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে’।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন।

এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান।

জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা।

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।

শুভ নববর্ষ

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩, পহেলা বৈশাখ। বাংলাদেশে নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ই এপ্রিল। এরশাদ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে এ ঘাপলা লাগিয়ে দিয়েছেন। আর একদল ভন্ড যারা চিৎকার করে বলেন, আকবর নাকি বাংলাবর্ষের প্রবক্তা। এটি বাংলা ১৪৩৩, আকবর ভারত শাসন করেছেন হাজার খানেক বছর আগে (১৫৪২-১৬০৫), অর্থাৎ আকবরের প্রায় ৫শ’ বছর আগেই বাংলা সন চালু ছিলো। আর অবাঙ্গালী আকবরের বাংলা সনের প্রতি কি প্রেম ছিলো কেজানে? রাজা শশাঙ্ক প্রণীত বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ ১৫ই এপ্রিল।

তারেক রহমান বেইলি রোডে স্ত্রীকন্যাকে নিয়ে নাটক দেখেছেন। এরআগে তিনি ম্যুভি দেখতে গিয়েছিলেন, এনিয়ে অযথা ট্রল হয়েছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক সুফী পীরকে তৌহিদী জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননা নামক যন্ত্রনা কবে শেষ হবে কেজানে? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার যত নাটক হয় পৃথিবীর অন্যদেশে তা দেখা যায়না। অনেক মুসলিম দেশে ধর্ম রক্ষায় ‘ব্লাসফেমী’ আইন রয়েছে, বাংলাদেশ তা নেই কিন্তু সিএসএ (সাইবার সিকিউরিটি এক্ট) এজন্যে ব্যবহার করা হয়।

বাগেরহাটে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতে কুমিরের টোপ হিসাবে একটি কুকুরকে বেঁধে রাখা হয়েছিলো, কুমির কুকুরটি খেয়ে ফেলেছে। আমাদের দেশে পশুকে ‘ইতর’ প্রাণী বলা হয়, এঘটনায় কুকুরটি ইতর না কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইতর তা বলা ততটা কঠিন নয়? দেশে হামে শিশুরা ভুগছে ও মরছে, প্রথম আলোর একটি হেডিং, ‘মেয়ের শেষ আবদার, বাবা আমাকে বুকে নাও, পানি দাও’ হৃদয় বিদারক। ইউনুস শাসনামলের এটি আর একটি অপকর্ম, এজন্যে কি মামলা বা কারো শাস্তি হবে? কুকুরকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা এবং শিশুদের হামের টিকা বন্ধের মধ্যে নিষ্ঠূরতা স্পষ্ট।

ছাত্রদল নেতা আবিদ বলেছেন, বেগম রোকেয়ার চেয়ে জাইমা রহমান নারীদের অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এই হলো দেশের ছাত্রনেতা, এই চামচারাই নাকি দেশের ভবিষ্যৎ? ইউনুস আমলে দেশবাসী বেগম রোকেয়ার ছবির ওপর ‘মাগী’ লেখা পোষ্টার দেখেছে। হয়তো একই কারণে কবি নজরুল ইসলামের পাশে সন্ত্রাসী হাদী ঘুমিয়ে আছে! এটি ভন্ড রাজনীতি। কোথাকার এক কবি ও ভাষাশিল্পী কাজী জহিরুল ইসলাম বলেছেন, হাদির আদর্শেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মিত হবে। মনে হয়, এই ভাষাশিল্পীর ভাষাও হাদির মতই? দেশটা চামচা ও জঙ্গীতে ভরে গেছে।

ট্রাম্প নিশ্চিত ছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেঙ্গে যাবে, তাই হয়তো তিনি ঐসময়ে মায়ামীতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে ফাইটিং দেখছিলেন। নিকট ভবিষ্যৎ বলবে, ইরানী নেতাদের গর্ত থেকে বের করে নিয়ে আসা কি এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিলো কিনা? ইউএসনেভি হরমুজে মাইন্ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে হরমুজে টোল নিতে দেয়া হবেনা। মিডিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে। অনেক দিন আগে জহুর হোসেন চৌধুরী লিখেছিলেন যে, ‘কার্টারের বিচি ফাঁটা বাঁশে আটকে গেছে, ট্রাম্পের অবস্থা কি তাই? ট্রাম্প আজ বলেছেন, ইরান নুতন আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানও চায় আলোচনা নুতন করে শুরু হোক। তবে এটি স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়? ইসরাইল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র মধ্যস্থতায় আজ মঙ্গলবার ওয়াশিন্টনে ইসরাইল-লেবানন আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক
১৪ই এপ্রিল ২০২৫

ভূত বাংলো’ বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে কুসংস্কার-ভয়াবহ কিছু বিশ্বাস

প্রায় দেড় দশক পর বলিউডের বরেণ্য নির্মাতা প্রিয়দর্শন আর অভিনেতা অক্ষয় কুমার জুটির পুনর্মিলন। একসময় যাদের হাতে ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মসালা’, ‘ভুলভুলাইয়া’র মতো হাস্যরসের ক্লাসিক সিনেমা তৈরি হয়েছিল, সেই জুটি আবার ফিরছে ‘ভূত বাংলো’ নিয়ে। টিজার আর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে– এটা কি শুধুই পুরোনো ফর্মুলার আধুনিক সংস্করণ, নাকি এই ঘরানাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার এক আন্তরিক চেষ্টা?

‘ভূত বাংলো’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মঙ্গলপুর নামে এক গ্রাম। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি সাধারণ কোনো গ্রাম নয়। এখানে বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে লোককথা, কুসংস্কার এবং ভয়াবহ কিছু বিশ্বাস। গ্রামের সবচেয়ে ভয়ংকর গল্পগুলোর একটি হলো– বিয়ের সানাই বাজলেই নাকি জেগে ওঠে এক অশুভ শক্তি, ‘বধাসুর’। সেই শক্তির উপস্থিতি শুধু আতঙ্কই নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই যেন স্থবির করে দেয়। যার কারণে গ্রামের মানুষরা যেন এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি, যেখানে বিবাহ উৎসব মানেই মৃত্যুর অশনিসংকেত।

এ ধরনের গল্পের বড় শক্তি হলো এর ‘কালচারাল হরর’ টোন। অর্থাৎ এখানে ভূতের ভয় শুধু অতিপ্রাকৃত নয়; বরং সামাজিক বিশ্বাস ও যৌথ মানসিক আতঙ্কের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। প্রিয়দর্শন এই জায়গাটিতেই তাঁর পুরনো দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেখানে ভয়কে অত্যন্ত সিরিয়াসলি না নিয়েও তার ভেতর থেকে স্বাভাবিকভাবে কমেডি বের করে আনা হয়। ‘ভুলভুলাইয়া’য় তিনি সেটা করেছিলেন; ‘ভূত বাংলো’য় তা আরেকবার দেখার অপেক্ষা।

সিনেমার টিজার ইঙ্গিত দিচ্ছে, একদল শহুরে মানুষ কোনো না কোনো কারণে এই ‘অভিশপ্ত’ গ্রামে এসে পড়ে এবং সেখান থেকেই গল্পের শুরু হয়। তাদের কাছে ‘বধাসুর’ একটি অবিশ্বাস্য কাহিনি মাত্র, গ্রামের মানুষের কুসংস্কারের আরেকটি নাম। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা বুঝতে শুরু করে যে, এখানকার প্রচলিত ভয়গুলো কেবল কল্পনা নয়; বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার সত্য। এই ‘আউটসাইডার ইন অ্যা কনফিউজিং সিস্টেম’ ফর্মুলা প্রিয়দর্শনের জন্য একেবারেই পরিচিত। এখানে কমেডি তৈরি হয় অজ্ঞতা, ভুল বোঝাবুঝি এবং পরিস্থিতির চাপ থেকে। শহুরে চরিত্ররা যখন গ্রামীণ রীতিনীতি ও কুসংস্কার বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হয় হাসির পরিস্থিতি। ফলে দর্শক একদিকে ভয় অনুভব করে, আবার অন্যদিকে চরিত্রগুলোর অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে হাসে। এই দ্বৈত অনুভূতিই সফল হরর-কমেডির প্রাণ।

এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে অভিনেতা অক্ষয় কুমার। তাঁর কমেডি টাইমিং একসময় বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ফর্মুলা ছিল। বিশেষ করে প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় তিনি যে ধরনের ‘অ্যাবসার্ড সিচুয়েশনাল কমেডি’ তৈরি করেছেন। দ্রুত সংলাপ, শারীরিক কমেডি, ভুল বোঝাবুঝির ওপর ভিত্তি করে গড়া পরিস্থিতি। তা আজও দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত। ‘ভূত বাংলো’য় তাঁর চরিত্র ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা সম্ভবত একাধিক স্তরে কাজ করবে।

তবে বড় প্রশ্ন হলো– আজকের দর্শকের রুচি কি সেই পুরোনো স্টাইলকে আগের মতো উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করবে? ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্টে অভ্যস্ত দর্শক এখন আর শুধু ‘অতিরঞ্জিত অভিনয়’ আর ‘চিৎকারে’ হাসেন না। তারা চান স্মার্ট কমেডি, প্রাসঙ্গিক সংলাপ এবং আপডেটেড হাস্যরস। প্রিয়দর্শন-অক্ষয়কে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এই ছবির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর অভিনয়শিল্পীদের তালিকা। পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব এবং আসরানি। এই তিনজনই ভারতীয় সিনেমায় কমেডির ভিন্ন ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। পরেশ রাওয়াল সাধারণত ‘রিয়েলিস্টিক কমিক রিঅ্যাকশন’ দিয়ে দৃশ্যকে ভর ও বাস্তবতা দেন। তাঁর সংযত অভিনয় অক্ষয়ের উন্মাদনার সঙ্গে চমৎকার কনট্রাস্ট তৈরি করে। রাজপাল যাদব বিশৃঙ্খলা ও অতিরঞ্জনের মাধ্যমে হাস্যরস তৈরি করেন। তাঁর অপ্রেডিক্টেবল টাইমিং এবং অদ্ভুত শারীরিক ভঙ্গি প্রায়শই সিনেমার সবচেয়ে হাসির মুহূর্ত তৈরি করে।

আসরানি পুরোনো বলিউড কমেডির সেই আইকনিক রিদম বহন করেন, যেখানে অভিনয়ের চেয়ে উপস্থিতি ও ডায়লগ ডেলিভারি বেশি কাজ করে। এই তিনজন একসঙ্গে থাকলে কমেডির সম্ভাবনা প্রায় ‘এক্সপ্লোসিভ’। তবে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্দাভাগ না থাকলে সেটি আবার অতিরিক্ত কোলাহল ও অপ্রয়োজনীয় ‘ওভারঅ্যাক্টিংয়ে’ পরিণত হতে পারে। প্রিয়দর্শনের চ্যালেঞ্জ হলো এই তিনটি ভিন্ন কমিক স্টাইলকে একটি সুসংহত সুরে বাঁধা।

রোম্যান্স ও রহস্যের জন্য এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ওয়ামিকা গাব্বি। অক্ষয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গল্পে একটি হালকা আবেগের স্তর যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিয়দর্শনের সিনেমায় রোম্যান্স সাধারণত খুব বেশি থাকে না; বরং এটি কমেডির মধ্যে মানবিকতা ও আবেগের ভারসাম্য তৈরি করতে আসে। খুব বেশি প্রেমের সাব প্লট কমেডির গতিকে ধীর করে দিতে পারে।

এই সিনেমায় টাবুর উপস্থিতি আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ ‘ভুলভুলাইয়া’য় তিনি যেমন রহস্যময়ী মনজুলিকার চরিত্রে দর্শকের প্রত্যাশা ভেঙেছিলেন, এখানেও তাঁর চরিত্র ঘিরে রয়েছে রহস্য ও আবেগের এক চমৎকার মিশ্রণ। তিনি কি এই গ্রামের কোনো আত্মা? নাকি বধাসুরের গল্পের চাবিকাঠি?

অন্যদিকে পশ্চিমবাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এখানে পারিবারিক বা সামাজিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছেন। বাংলার স্থানীয় অভিনেতার উপস্থিতি গল্পের লোকাল রিয়েলিজমকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

প্রিয়দর্শন বরাবরই একটি নির্দিষ্ট সিনেম্যাটিক ভাষার জন্য পরিচিত। তাঁর সিনেমায় ক্যামেরা সাধারণত চরিত্রের গতি অনুসরণ করে, খুব বেশি ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিমেন্ট নয়। দ্রুত কাট, ক্লোজআপে চরিত্রের রিঅ্যাকশন এবং লং টেক যেখানে কমেডিক টাইমিং কাজ করে, এটাই তাঁর স্বাক্ষর। তিনি চাকচিক্যের চেয়ে কাহিনি ও অভিনয়ের ছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই সিনেমায় তিনি তাই করেছেন বলে ধারণা করছেন সিনেমাবোদ্ধারা।

‘ভূত বাংলো’য় প্রশ্ন হলো– তিনি কি সেই পুরোনো ভাষাতেই থাকছেন, নাকি নতুন প্রজন্মের দর্শকের জন্য কিছু আধুনিক ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং যোগ করেছেন? প্রিয়দর্শন যদি অতিরিক্ত পুরোনো ঢঙে ‘কমেডি’ করেন, তবে তা হয়তো যুব দর্শকের কাছে ‘ব্যাকডেটেড’ মনে হতে পারে। অন্যদিকে, তিনি যদি নিজের মৌলিক শক্তিকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন, তবে তা হয়তো পুরোনো ভক্তদের মন ভাঙাবে। উত্তর জানা যাবে আগামীকাল। কারণ সেদিনই ভারতজুড়ে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

মেয়েকে মানবিক মানুষ বানাতে চান ঝিনাইদহের মীম

পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে চারপাশে যখন আনন্দধ্বনি বইছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের মীম খাতুনের ঘর আলো করে এলো ফুটফুটে কন্যা সন্তান। মুহূর্তেই নববর্ষের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল। বছরের প্রথম দিনে জন্ম নেওয়া কন্যাকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান মা।
মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম নেয় শিশুটি। সন্তানের মুখ দেখে খুশিতে আত্মহারা পেশায় গ্যারেজ শ্রমিক বাবা ইয়াসিন আহমেদ।
মীমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ২৫ এপ্রিল সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা থাকলেও, আগেই প্রসব বেদনা ওঠে তার। সন্তানের মুখ দেখে সব ব্যথা-দুঃখ যেন মুহূর্তেই উবে গেল তার। শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেন স্বজনরা। নানি কিনে দেন লাল রঙের জামা।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদরের পাগলাকানাই ইউনিয়নের ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে বেড়ে ওঠেন মীম। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয় যশোর জেলার পশ্চিম বারান্দি গ্রামের ইয়াসিন আহমেদের সঙ্গে।
মীম জানান, সন্তান সম্ভবা অবস্থায় কয়েকমাস আগে স্বামীর বাড়ি থেকে আবাসন প্রকল্পে মা’র কাছে আসেন মীম। রবিবার রাত ১২ টার দিকে প্রসব বেদনা উঠলে পরদিন সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে সন্তান হবে এমন ধারণাই ছিল না। বাংলা বছরের প্রথম দিন একমাত্র কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে ভেবে ভালো লাগছে।’
তিনি আরো জানান, চিকিৎসকেরা নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে সবসময় খোঁজ-খবর রেখেছেন।
‘ব্যাথা ওঠার পর প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শারীরিক দুর্বলতা বেশি ছিল, খাবার রুচিও ছিল কম। অনেক শঙ্কা ছিল, তবে স্বামীর যত্ন দেখে সেসব শঙ্কাকে পাত্তা দিইনি।’- বলেন মীম
শিশুর নানি আফরোজা বেগম বলেন, ‘নাতনি হওয়ায় মনে হচ্ছে স্বর্গ পেয়েছি। সব সময়ই ওকে কোলে নিয়ে আদর করি।’
শিশুর বড় বাবা-মা আব্দুল মান্নান ও সাজেদা বেগম জানান, এই শিশু তাদের কলিজার টুকরা। তারা চান লেখাপড়া শিখে শিশুটি যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মার্ফিয়া খাতুন জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে মীমের শরীরে ওয়াটার লিকেজ ছাড়া তেমন কোন জটিলতা ছিল না। সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মনে হয়েছে তিনি নরমাল ডেলিভারির উপযুক্ত। চিকিৎসক-নার্সদের চেষ্টায় তার সুস্থ কন্যা সন্তান হয়েছে।
জানা যায়, সন্তান জন্মের পর মীম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে মামা মাসুদ শেখের বাড়িতে আছেন। এখনো শিশুটির নাম রাখা হয়নি।

ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে একটি ‘ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের চেয়ে নিরাপদ করেছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি মোটেও নিশ্চিত নন।

বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাচেল রিভস বলেন, ‘বর্তমান সংকট নিরসনে একটি কূটনৈতিক পথ খোলা ছিল, আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই আলোচনার পথ বন্ধ করে যুদ্ধে জড়ানো একটি বড় ভুল।’

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটি ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার নয়, প্রশ্ন হলো- আপনি যে পরিবর্তন চাইছেন, সেটি অর্জনের উপায় কী?’ তবে ইরান সরকারকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করেন বলে এ সময় উল্লেখ করেন রিভস।

ব্রিটিশ চ্যান্সেলর জানান, বিশ্ব আগে যে অবস্থায় ছিল, যুদ্ধের পর পরিস্থিতি তার চেয়ে নিরাপদ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, তার সামরিক অভিযানে ইরান প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পর দেশটির চ্যান্সেলর রাচেল রিভসের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি ও দ্বিমত কাজ করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনে মাটিতে ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বদহজমের সমস্যা দূর করতে ঘরেই বানান পানীয়

গরমে পেটের সংক্রমণ বাড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন দাওয়াত, অনুষ্ঠান তো লেগেই থাকে। সব মিলিয়ে এ সময় ভারী খাবার খেলে বদহজমের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই বদহজম এড়াতে দোকানের কেনা কোমল পানীয় খান। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যারা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন তারা আরাম পেতে বাড়িতেই বানানাতে পারেন বিশেষ পানীয়।  এতে পেট ঠান্ডা হবে, খাবার হজম হবে। এর পাশাপাশি শরীরও ভাল থাকবে৷

যা যা প্রয়োজন
১০০ গ্রাম মৌরি , ১০ গ্রাম গোটা গোলমরিচ , ৩০-৪০ গ্রাম মিছরি ,একটা লেবু , পানি ,সামান্য বিট লবণ

যেভাবে বানাবেন : মৌরি, গোলমরিচ আর মিছরি ভাল করে ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নিতে হবে৷ এবার এক গ্লাস পানি নিতে হবে৷ পানির মধ্যে এই গুঁড়ো মিশ্রণটি ২ চা চামচ মিশিয়ে নিন৷ একটা পাতিলেবুর রস আর স্বাদমতো লবণ দিন৷ এবার ভাল করে সবটা মিশিয়ে নিন৷ ঠান্ডা খেতে চাইলে অল্প বরফ দিতে পারেন৷ এই পানীয় খেলে গ্যাস, পেটফাঁপা, বদহজমের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

আজ স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

বৈশাখের গরমে অস্বস্তি নিউজিল্যান্ডের

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কাছে মনে হতে পারে মেরু থেকে মরুতে এসেছেন। এই তো কয়েক দিন আগেও ঠান্ডা ফুরফুরে হাওয়ায় অনুশীলন করেছেন দেশে। ৭ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে ওঠানামা করেছে তাপমাত্রা।  সে রকম একটি সহনশীল আবহাওয়া থেকে ঢাকার ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস টম ল্যাথামদের জন্য মরুর উত্তাপের মতোই। দেশটির কোচ পল ওয়াইজম্যান গতকাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে ধারণাই দিলেন। তাঁর মতে, ঢাকায় বৈশাখের গরমও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিপক্ষ। প্রখর রোদে ক্লান্ত হয়ে পড়ার একটা ভয় কাজ করছে কিউইদের মধ্যে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় দলটি। পেশাদার ক্রিকেট দল হিসেবে সেভাবে মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।

ল্যাথামরা সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান। এক দিন বিশ্রাম নিয়ে গতকাল বুধবার প্রথম অনুশীলন করেন তারা। মূল মাঠে ফিল্ডিং সেশন ছিল লম্বা সময়। এরপর আউটার নেটে ব্যাটিং সেশন হয়েছে পালা করে। পেস এবং স্পিন বোলারদের নেট ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এই সেশনগুলো করার সময় একেকজন ব্যাটার ও বোলার যে কত বোতল পানি আর শক্তিবর্ধক পানি পান করেছেন, তার ইয়াত্তা নেই। এই এক দিনের অনুশীলনেই কিউই কোচ বুঝে গেছেন বৈশাখের গরম ভোগাবে। তাঁর মতে, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে দুয়েক দিনে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। আমাদের শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, গরম মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গরম একটি চ্যালেঞ্জ। অন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষ। আমাদের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে– গরম তার মধ্যে অন্যতম। গরম পিচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। উইকেট কিছুটা ধীরগতির হতে পারে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে। সেদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন একটি সিরিজ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, কিউইরা সেরা দল নিয়ে খেলছে না। কোচ পল জানান, এ মুহূর্তে বিশ্বে তাদের ৫৪ জন ক্রিকেটার খেলছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের সিরিজ মিলে এই বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটার তাও উপমহাদেশে খেলছে। শ্রীলঙ্কায় খেলছে দেশটির এ দল। যেখান থেকে তিন ক্রিকেটার বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছেন। আইপিএল ও পিএসএল টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সবচেয়ে বেশি এবং দেশটির তারকা ক্রিকেটারা। এ কারণেই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশে খেলতে এসেছে টম ল্যাথামের নেতৃত্বে। এই দল নিয়েই লড়াই গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন পল ওয়াইজম্যান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। খেলাটা কেমন হবে, তা আমরা আগে থেকে ঠিক করে ফেলি না। কারণ, ক্রিকেট সব সময় বদলায় এবং খেলার মাঝেই তা বদলে যায়।’ ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বোলিং লাইনআপকে কাজে লাগাতে চান কোচ, ‘খেলার মাঝের পর্যায়ে প্রভাব ফেলার জন্য যদি আমাদের স্পিনারদের ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, আমরা তা করব। আমাদের কিছু ভালো ফাস্ট বোলারও আছে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিয়ে খেলার চেষ্টা করব। আর সেটাই খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।’