Home Blog Page 12

দুধ ছাড়াও ক্যালসিয়াম পাবেন যেসব খাবার থেকে

মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস দুধ। এছাড়াও রাগি, তিল থেকে শুরু করে টোফু, শাকসবজি, নির্দিষ্ট কিছু মাছ পর্যন্ত, অন্যান্য খাবার প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-

রাগী :  রাগী হলো একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ক্ষুদ্র শস্যদানা যা  ফিঙ্গার মিলেট নামেও পরিচিত। এটি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। রুটি, দোসা,পরিজ বা খিচুড়ি হিসেবে এটি দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম বাড়ানোর এটি দারুন বিকল্প।

সাদা এবং কালো তিল: স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর সাদা এবং কালো তিল ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে। এগুলো চাটনি, সালাদ, লাড্ডু বা সবজির উপরে টপিং হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু তিলে ক্যালোরি বেশি থাকে, তাই এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টোফু এবং কিছু সয়া-ভিত্তিক পণ্য : যারা দুধ বা দুগন্ধজাত খাবার একদমই খেতে পারেন না তারা খাদ্যতালিকায় টোফু এবং কিছু সয়া-ভিত্তিক পণ্য রাখতে পারেন। তবে, বিভিন্ন পণ্যে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ভিন্ন হয়, তাই প্যাকেটজাত সয়া খাবার কেনার সময় পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শাকসবজি: পাতাকপি, বক চয়, ব্রোকলি এবং বিভিন্ন পাতাযুক্ত শাক খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম যোগ করতে পারে। সরিষা পাতার মতো শাকও পুষ্টিগুণ বাড়াতে পারে। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করলে তা আরও পুষ্টিগুণে ভরপুর হয়ে ওঠে।

পালং শাক : ক্যালসিয়াম থাকলেও, এই শাকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ মাত্রার অক্সালেটও থাকে। এই যৌগগুলো শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই, দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটানোর জন্য পালং শাককে একমাত্র সবজি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

ছোট মাছ : কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। খাবারে এই ধরনের মাছ অন্তর্ভুক্ত করলে ক্যালসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করে।

বাদাম : অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে বাদাম ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে। কেউ কেউ কেবল উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করেন, এমন ক্ষেত্রে অবশ্যই উদ্ভিজ্জ উৎসের পরিমাণের দিকটা খেয়াল করতে হবে

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং ব্যবহারে ভিটামিন ডি-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দৈনিক প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়, যদিও বয়স এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে।

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটি রায়ের জন্য রাখা হবে।

এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত কথিত গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় ১১ আসামি কারাগারে রয়েছেন। আরও ৩০ জন পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁদের নিজ নিজ ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

শাপলা চত্বরের মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সব মামলাকেই গুরুত্ব দিয়ে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে শাপলা চত্বরের গণহত্যার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘রং মেখে অভিনয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। অথচ ওই ঘটনায় ৬১ জন আলেম-ওলামাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিচারকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের হত্যা মামলার বিচার হোক। এ বিষয়ে মানুষের গণদাবিও রয়েছে। আমরা জনগণের এমন দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিচারটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করব।’

ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেছেন, সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। একইসঙ্গে শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চপর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নারী নেতৃত্ব জোরদারে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; কিশোরী ও তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে বিনিয়োগ করা; এবং সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা, কমিউনিটির সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে টেকসই ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইরিন খান বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। এমনকি তাঁদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নারীরা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকেন। শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারী নেতৃত্ব জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার।

এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়সহ দেশের নাগরিক সমাজে মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর এবং শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’ তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনহয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু

সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪ জন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৮৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৯ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৯৮৬ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৬৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮০ জনের। মোট ১ হাজার ৪৪ জন হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫২৭ জনের।

ডিভিসি ও কংসাবতী বাঁধের পানি ছাড়ায় পশ্চিমবঙ্গে বন্যার শঙ্কা

অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যে ডিভিসি ও কংসাবতী বাঁধ থেকে পানি ছাড়ায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত দুদিনের টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে ডিভিসির পানি ছাড়ায় দামোদর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলোতে প্লাবনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিভিসি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মাইথন বাঁধ থেকে আরও প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানের দামোদর-তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুণ্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ডিভিসির কর্মকর্তারা জানান, বাঁধের ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় জলাধার দুটির ওপর চাপ বাড়ছে। এ কারণে মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দামোদর ভ্যালি রিজার্ভয়ার রেগুলেটিং কমিটি (ডিভিআরআরসি) বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, জেলা প্রশাসন ও আসানসোলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করেছে ডিভিসি। নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিম্ন দামোদর অববাহিকায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এক কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ পরবর্তী সময়ে বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।

এদিকে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর বাঁধ থেকেও পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে কংসাবতী কর্তৃপক্ষ। বুধবার যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কিউসেক করা হয়েছে।

কংসাবতীর উচ্চ অববাহিকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মুকুটমণিপুর বাঁধে পানির চাপ বেড়েছে। বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ৪৩৪ ফুট। বুধবার পানির উচ্চতা ৪৩১ দশমিক ৩০ ফুটে পৌঁছায়। উচ্চ অববাহিকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাঁধের নিরাপত্তা ও পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পানি ছাড়ার ফলে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর, দাসপুর, ডেবরা ও পাঁশকুড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আশপাশের এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে কংসাবতী কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ও বাঁধসংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক কোনো দেশেরই ইরানকে সাহায্য করা উচিত নয়: মার্কো রুবিও

কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সাক্ষাতের পরপরই ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির জল্পনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাজস্ব উপার্জনে ইরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

নরেন্দ্র মোদি ও মাসুদ পেজেশকিয়ান

নরেন্দ্র মোদি ও মাসুদ পেজেশকিয়ান

‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘বেশ, আমার মনে হয় না যে ভারত এবং ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে।’

তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন দেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। রুবিও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন নিজেও ইরান সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করেছে।

তিনি বলেন, ‘স্পষ্টতই, এমনটা আছে (স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি)। সব দেশই তাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলে এবং বিশ্বের অনেক দেশই ইরানি শাসনামলের সাথে কথা বলে। আমার মানে হলো, যেসব আলোচনা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আমরাও ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের সাথে দেখা করেছি এবং তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগও হয়েছে।’

ট্রাম্পের হুমকির পুনরাবৃত্তি করলেন রুবিও
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে রুবিও সতর্ক করেছেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বা রাজস্ব উপার্জনের কোনো চ্যানেল তৈরি করতে কোনো দেশেরই তেহরানকে সহায়তা করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কোনো দেশেরই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা উচিত নয়। কোনো দেশেরই তাদের এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তারা রাজস্ব আয় করতে পারে এবং সেই অর্থ তারা সন্ত্রাসবাদে মদদ দিতে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টায় ব্যবহার করবে। আর কোনো দেশ যদি তা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমাদের তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।’

ইরানের জন্য কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখা থেকে বিরত রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হবে না, অন্তত যতদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আছেন ততদিন তো নিশ্চিতভাবেই নয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তেহরানকে চাপে ফেলার জন্য ওয়াশিংটনের প্রাথমিক হাতিয়ার হলো অর্থনীতি, তবে তারা যখন প্রয়োজন মনে করবে তখন সামরিক শক্তি প্রয়োগের অধিকার তাদের সংরক্ষিত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন তারা এটি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে বা এটি চাওয়ার দাবি করবে, ততদিন তাদের এর জন্য মূল্য চোকাতে হবে এবং সেই মূল্য মূলত অর্থনৈতিক হবে। তবে আমরা যেমনটা বলেছি, প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমরা সংরক্ষণ করি। কেবল নিজেদের রক্ষা করার জন্যই নয়, বরং অন্যদের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা থেকে তাদের বিরত রাখতেও।’

রুবিও তেহরানের বিরুদ্ধে ইরানিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বদলে তাদের আর্থিক সম্পদ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করতে ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা দুটি জিনিসের জন্য অর্থ চায়— সন্ত্রাসবাদে মদদ দিতে এবং শেষ পর্যন্ত একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে। আর আমরা তা হতে দিতে পারি না।’

কুমিল্লায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাসে সাত মাসের ভর্তুকি দিতে হয়েছে এক মাসে

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের একটু সমস্যা আছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ চলছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদের খেলায় ব্যস্ত। যে গ্যাসের জন্য আমরা প্রতিবছর ভর্তুকি দিই, গত সাত মাসের ভর্তুকি এক মাসে দিতে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন
মোস্তাক মিয়া, আমিরুজ্জামান আমির, উদবাতুল বারী আবু প্রমুখ।

হাসপাতালে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং

বরিশালে ১০০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নগরের মধ্যভাগে অবস্থিত। বিদ্যুৎ বিভাগ ওই এলাকার ফিডারের নাম রেখেছে ‘সদর হাসপাতাল ফিডার’। প্রতিদিন শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি থাকে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও কয়েকশ রোগী। গত শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ছয়বার লোডশেডিং হয়। মোট এই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। অথচ কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক কারণে তারা সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দেন।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আওতাধীন পলাশপুর গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে ‘সদর হাসপাতাল ফিডার’ নিয়ন্ত্রিত হয়। সাব-স্টেশনের লোডশেডিংয়ের তথ্য লেখার খাতা ঘেঁটে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত– এই ৩৯ ঘণ্টায় মোট ৯ বার সদর হাসপাতাল ফিডারে লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। ৯ বারে মোট সাত ঘণ্টা ৪০ মিনিট হাসপাতালটি বিদ্যুৎহীন ছিল। তার মধ্যে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়েছে ছয়বার এবং অপর তিনবার ছিল ৪৫ মিনিট, ৩৮ মিনিট ও ১৭ মিনিট করে। এই ৩৯ ঘণ্টার হিসাবের মধ্যে শনিবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৪০ মিনিট এবং রোববার রাত ২টা ৪৯ মিনিট থেকে ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না।

সদর হাসপাতালের ফিডারে ৩৯ ঘণ্টায় ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লোডশেডিং দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে পলাশপুর সাব-স্টেশন বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) আবু জাফর মো. সালেহ সমকালকে বলেন, ‘শুধু হাসপাতালটির জন্য মানবিক কারণে আমরা সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দিই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন।’

সোমবার দুপুর আড়াইটায় সদর হাসপাতালে ঢুকে দেখা যায়, তখন সেখানে লোডশেডিং চলছে। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে রোগীরা হাঁসফাঁস করছেন। স্বজনরা হাতপাখায় বাতাস করছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ড নামে পরিচিত টিনশেড ভবনে ঢুকে দেখা যায়, কয়েকটি শয্যায় সাদা মশারির ভেতর ডেঙ্গু রোগী রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটর বহু বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। এ কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ হলে বিকল্প ব্যবস্থা হলো মোমবাতি ও হাতপাখা।

এ প্রসঙ্গে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল সমকালকে বলেন, বিকল জেনারেটরটি করোনা মহামারির সময়ে সচলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এটি আর সচল করা হবে না। লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএস দিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখা হয়।

ওজোপাডিকোর বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় নগরী ও আশপাশ এলাকাকে মোট ৩৮টি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। ফিডারগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সাতটি সাব-স্টেশন। পলাশপুর সাব-স্টেশনের আওতাধীন সাতটি ফিডার হচ্ছে– সদর রোড, চকবাজার, সদর হাসপাতাল, আমানতগঞ্জ, পোর্টরোড, তালতলী ও এমইপি।

নগরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোড ও গির্জামহল্লা এলাকা নিয়ে হলো সদর রোড ফিডার। চকবাজার নগরের বড় বিপণিকেন্দ্র। সদর হাসপাতাল ফিডারে সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। পোর্ট রোডে পাইকারি মৎস্য মোকাম। হাটখোলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বিদ্যুৎসামগ্রী উৎপাদনকারী কারখানার এমইপির জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট একটি ফিডার।

এসবিএ মো. মাসুম জানান, পলাশপুর স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা পিক সময়ে ১৭ মেগাওয়াট এবং অফপিকে ১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু কখনও ৯ থেকে সাড়ে ৯ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ পান না। এ জন্য স্টেশনের সাতটি ফিডারের মধ্যে সার্বক্ষণিক কমপক্ষে তিনটিতে লোডশেডিং চলে। মাঝেমধ্যে চারটিতেও দিতে হয়।

সদর রোড ফিডারের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৪৪ ঘণ্টায় ১১ বার লোডশেডিং হয়েছে। রোববার রাত ১২টা থেকে হিসাব অনুযায়ী রাত ১২টা থেকে ২টা ১০ মিনিট, সোমবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট, দুপুর ১টা ৩৫ থেকে ২টা ৩৫ মিনিট, ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা, বিকেল ৫টা ৪৫ থেকে ৬টা ৪৫ এবং সন্ধ্যা ৭টা ২০ থেকে রাত ৮টা ২০ পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ফিডার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যাংক ও অন্যান্য বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জনরোষের আতঙ্কে সাব-স্টেশনে দায়িত্বরতরা
পলাশপুর সাব-স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন তিনজন এসবিএ আবু সালেহ মো. জাফর, মো. মাসুম ও মোশারফ হোসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোডশেডিং নিয়ে তারা জনরোষের শিকার হওয়ার আতঙ্কে থাকেন। প্রায় ১৫ দিন আগে রাত আড়াইটার দিকে লোডশেডিং দেওয়া হলে পলাশপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা গিয়ে স্টেশনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সদর রোডে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভিআইপিদের নানা কর্মসূচি থাকায় এ ফিডারে লোডশেডিং দিতে তাদের নানা হিসাব-নিকাশ করতে হয়।

আবার মানবিক অনেক আবেদনও রাখতে হয় জানিয়ে মো. মাসুম জানান, কয়েক দিন আগে গভীর রাতে হাসপাতাল ফিডারে লোডশেডিং দেওয়ার পরই একজন স্বজন ফোন দিয়ে জানান, রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎটা খুব প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক ওই ফিডারে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়।

লোডশেডিং করার পর প্রভাবশালীর ফোন ও রূঢ় ব্যবহারের মুখে বিদ্যুৎ দিতে হয়েছে– এমন ঘটনা অসংখ্যবার ঘটেছে বলে জানান তিনজন এসবিএ। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাহকের অনুরোধ রাখতে গিয়ে পুরো সাব-স্টেশনকে আবার শাস্তি পেতে হয়। শাস্তি হিসেবে প্রধান গ্রিড থেকে সাব-স্টেশনে কমপক্ষে আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন স্টেশনের আওতাধীন সব ফিডার বিদ্যুৎহীন থাকে। প্রতি সপ্তাহে একাধিকবার এমন শাস্তি ভোগ করতে হয়।

ওজোপাডিকোর বরিশাল গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ সমকালকে জানান, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা হলো পিক সময়ে ২২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পান ১৬০ মেগাওয়াট। এ ঘাটতির কারণে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ হারে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

শজিমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ, আহত ১২ রোগীর মৃত্যু

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন ও মিড লেভেল চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন চিকিৎসক আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতি হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বলেন, একজন অ্যাজমা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।