Home Blog

হবু বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে বাসচাপায় যুবক নিহত

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হবু বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে বাসচাপায় শুভঙ্কর মণ্ডল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সোনারমোড় এলাকায় শ্যামনগর-বংশীপুর সংযোগ সড়কের লস্কর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শুভঙ্কর খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশপুর গ্রামের দুর্গাপদ মণ্ডলের ছেলে। তিনি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্বজন হরিপদ মণ্ডল জানান, শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নিপা মণ্ডলের সঙ্গে সম্প্রতি শুভঙ্করের বিয়ে ঠিক হয়। তবে পরিবারের এক সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে বিয়ে পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে নিপার সঙ্গে দেখা করতে শ্যামনগরে এসেছিলেন শুভঙ্কর। পথে বাসচাপায় তার মৃত্যু হয়। শুভঙ্করের মৃত্যুর খবর শুনে নিপা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শুভঙ্করের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার পর বাস নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ইয়েমেনে লড়াইয়ের মুখে ঘরছাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

সংঘাতের কারণে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়লেও অনেক পরিবার এখনো যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়ে আছে। বিশেষ করে মোচা বন্দরনগরীর আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

বাস্তুচ্যুত নারী আয়েশা মুহাম্মদ জানান, গত সপ্তাহে তার গ্রামের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ার পর তিনি পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখেই পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।

আয়েশা বলেন, সন্তানদের গ্রামে আটকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। তাই কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। কেবল ভাত রান্না করে খেতে হচ্ছে। রুটি বা অন্য কোনো খাবার নেই।

হোদেইদাহ থেকে পালিয়ে আসা হুসেইন হায়দারা বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাকে হঠাৎ করেই ঘর ছাড়তে হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিসপত্র নেওয়ারও সুযোগ ছিল না। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারের গুলির ভয়ে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দ্রুত পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় বেসামরিক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ওমানের নৌবাহিনী ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পর দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়ছে। সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-গাজীপুর রুটে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন

বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ করছে দেশ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে জয়দেবপুর রুটে চলবে এই ট্রেন। এতে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী দুই জেলা নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মধ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো সহজ, সাশ্রয়ী হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনার খরচ এবং ভ্রমণের সময় উভয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এই ট্রেন চলাচল শুরু করবে ২০৩০ সালের মধ্যে।

এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পটি অনুমোদনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই উদ্যোগটি অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপি অনুসারে, ঢাকা ও দুই শিল্পঘন অঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যানজট ও পরিবহনের চাপ কমাতে এ প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। পুরোনো ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কারণে বর্তমানে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপও দেওয়া সম্ভব হয় না।

এ বাধাগুলো দূর করতে রেলওয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক ট্রেনে ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে। বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে এখনকার তুলনায় পরিচালনা ব্যয় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ট্রেন চলবে তিন জেলাকে কেন্দ্র করে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন অর্থনীতি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। ডিজেল ইঞ্জিনের চেয়ে বৈদ্যুতিক ট্রেন অনেক দ্রুতগতিতে চলতে ও থামতে পারে। ফলে স্টেশনে থামার পর দ্রুত সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকের বেশি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। বাকি প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন।

প্রকল্পের আওতায় ট্রেনের পরিচালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজেল থেকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হবে। রেললাইনের ওপর দিয়ে ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বিদ্যুতের তার স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার হয়। নিরাপদ ও মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন এবং কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ একজন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার সমকালকে বলেন, রেলের পরিচালন ব্যয় দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছিল। ফলে এ ধরনের ট্রেন অনেক দিন ধরে অত্যন্ত প্রয়োজন। গত ছয় বছর ধরে বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও এ পদক্ষেপটি স্থগিত হয়ে ছিল।
ডিপিপি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যেখানে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণের জন্যও দায়ী। এছাড়া ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একাধিকবার ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন পরিচালনা করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈদ্যুতিক ট্রেনে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। এ ব্যবস্থা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব।
অন্য পরিবহন মাধ্যমের তুলনায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন অনেক বেশি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দ্রুত ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদার উপযোগী। এটি ট্রেনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনবে।

দাবি পরিশোধে প্রয়োজনে সম্পদ বিক্রি করুন

বীমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের বৈধ দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করতে হবে। দাবি পরিশোধ না করে কোনো কোম্পানিকে জমি বা অন্য সম্পদ কেনা, বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কিংবা সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।

গতকাল সোমবার রাজধানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। একইদিন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানান, দেশের বীমা খাতে গ্রাহকদের সাত হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এ হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বীমা করেন। অথচ অনেক কোম্পানি গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করছে না। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ বীমা দাবি অনিষ্পন্ন। অর্থাৎ ১০০টি দাবির মধ্যে ৫৭টিই নিষ্পত্তি হয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষ নিরাপত্তার জন্য ইন্স্যুরেন্স করে, নিজের কষ্টের অর্জিত টাকা থেকে দেয়, তাঁকে আপনি কীভাবে সেই টাকা থেকে বঞ্চিত করবেন?’ ইতোমধ্যে কিছু দাবি পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যান নিজেও একটি দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা মূলত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। তবে দাবি পরিশোধ করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নয়; সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকেই গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

সাত-আটটি কোম্পানির অবস্থা উদ্বেগজনক
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বীমা খাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়ন্ত্রণ দেখা গেছে। ব্যাংকিং খাতের মতো এ খাতেও অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। বীমা খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি জানান, সাত-আটটি বীমা কোম্পানির অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব কোম্পানি কীভাবে এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেটিই চিন্তার বিষয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইডিআরএর নির্দেশনা মেনে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। যারা তা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো কোম্পানিকে একীভূত করার বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চান না মন্ত্রী। তিনি বলেন, বীমা কোম্পানির জন্য যা প্রয়োজন, সেটিই করা হবে। প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও কাঠামো প্রস্তুত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
বীমা খাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আইডিআরএর পক্ষ থেকে আগে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রত্যেক বীমা কোম্পানিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় এনে অনলাইনে লেনদেন করতে হবে।
আইডিআরএর জনবল ঘাটতি
আইডিআরএর জনবল সংকটের পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাদার জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জনবলের সংখ্যা ও মান-দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দুটির ঘাটতি রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে সরকারের ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা কমিয়ে আইডিআরএর নিজস্ব জনবল গড়ে তোলা হবে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করতে পারেন। বীমা একটি বিশেষায়িত পেশা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা আছে এমন দক্ষ লোকজনকে আইডিআরএর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫৭ মেধাবী শিক্ষার্থী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিতসহ ৪ হাজার ৯২১ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছরে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। প্রত্যেককে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ খাতে মোট ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের ৪ হাজার ৯২১ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৮৩০টি কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং ২০২৪ সালের জন্য নির্বাচিত ৭২৫টি কলেজের ২ হাজার ২৪ শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের দায়িত্বপালনে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদারের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার একটি বিশাল অংশের দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি কলেজগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার মান যাচাই এবং আয়-ব্যয়ের অডিট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কলেজগুলোতে কী ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কী পড়ানো হচ্ছে এবং কারিকুলাম কতটা যুগোপযোগী—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্কিলবেইজড কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা মেধাবী হলেও যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক সময় তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ল্যাব সংস্কারের জন্য যথাযথ প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। কার্যকর ও বাস্তবসম্মত যেকোনো প্রস্তাব সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে দক্ষতা ও মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হলেও এর শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, অনলাইন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনসহ পেশাগত পরীক্ষাগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং অসদুপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে পেছন থেকে নয়, সামনে থেকে এক নম্বরে যেতে হবে। এ জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষাবৃত্তি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে। মানবসম্পদ উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কার্যকর ব্যবহার জরুরি। তবে বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব ক্লাসরুম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, তেমনি আর্থিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন। এ লক্ষ্যে কারিকুলাম উন্নয়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক ও বাজারমুখী কোর্স চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কারিকুলাম সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান ভাইস-চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিনা খরচে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমান। আরও বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।

আগের দিন সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এ বছরের জানুয়ারিতে শীর্ষস্থানীয় এই সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন এবং ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনান।

অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী  হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান শুনানি করেন। শুনানিতে তারা দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তারা আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ গঠন না করার আবেদন জানান।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‌‘আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিলি বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি আজ ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

এর আগে দুপুরে এ মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার সাত আসামির মধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ছাড়া অন্যদের অর্ধেক সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাদের সম্পদ জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন

নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। কেন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলেনি, তা অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি এ সিদ্ধান্তের জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্চে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত সচিব কে এম অলিউল্ল্যাকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ফয়সাল দস্তগীর।

দীর্ঘ কয়েক মাসের তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তারা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না যাওয়ার জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সে সময়ের সরকারকে দায়ী করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত ছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে ক্রিকেটার, বিসিবি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল এবং বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।

যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।

তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাক্ষাৎকার নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

কোন আকৃতির ইলিশ বেশি স্বাদের হয়

অনন্য স্বাদ ও গন্ধের কারণে ইলিশের আলাদা ক্যাতি রয়েছে । ভাজি, ঝোল, সিদ্ধ- সব রকমভাবেই এ মাছটি খেতে ভালো লাগে। তবে সাগরের লোনাপানির চেয়ে মিঠাপানির ইলিশ বেশি সুস্বাদু। অনেক সময় বেশি টাকা দিয়ে বাজার থেকে বড় ইলিশ আনার পর মাছের স্বাদ বা গন্ধ পাওয়া যায় না। তখন হতাশ হতে হয়। শুধুমাত্র‘পদ্মার ইলিশ’ কিংবা বেশি দাম কিনলেই ইলিশের স্বাদ ভালো হবে- এমন কোনো কথা নেই। বরং ইলিশ কেনার গোপন কৌশল লুকিয়ে রয়েছে মাছটির ওজন এবং শারীরিক গড়নে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ছোট কিংবা অতিমাত্রায় বিশাল আকৃতির ইলিশ কখনওই স্বাদের বিচারে সেরা হয় না। বরং ভালো স্বাদে-গন্ধের ইলিশ চাইলে ১ কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেনাই সবচেয়ে আদর্শ। গবেষকদের মতে, এই আকৃতির মাছের শরীরে প্রাকৃতিক চর্বি ও তেলের ভারসাম্য একদম নিখুঁত থাকে। রান্নার সময় এই চর্বি গলেই মাছটা অত্যন্ত তুলতুলে, নরম ও সুস্বাদু করে তোলে। অন্যদিকে আড়াই-তিন কেজি বা তারও বেশি ওজনের বড় ইলিশে অনেক সময় আঁশটে বা অতিরিক্ত শক্ত হয়ে পড়ে, এর ফলে ইলিশের আসল স্বাদ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

হরমুজে ইরান, বাব আল-মান্দেবে হুতি যুদ্ধের জের দুই প্রণালিতে, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বে

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ও হামলা, অন্যদিকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল-মান্দেব হুতি গোষ্ঠীর দখলে থাকাকে ঘিরে বিশ্বে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কী হবে– তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও আরেকটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হুতিদের উত্থান। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনুমিত সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বিষয়টি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর বলছে, ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের কারণে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী গত শনিবার এই তথ্য জানান।

হুতি যোদ্ধারা বর্তমানে উত্তর ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের এই নিয়ন্ত্রণাধীন অংশের মধ্যে রয়েছে রাজধানী সানা ও পশ্চিমের হোদেইদা। উপকূলীয় এলাকাও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দখলে নিয়েছে তারা। গত বৃহস্পতিবার বন্দর শহর মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোষ্ঠীটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হুতিরা যদি বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দেয়, তাহলে আরেকটি অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে এবং বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের আরও ৭ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরও ১২ শতাংশ চাপের মুখে পড়বে।

এএফপির খবরে আরও বলা হচ্ছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া গত শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরালো হয়েছে হুতিদের। বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান অ্যাডেন উপসাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের মুখে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নারী ও শিশুরা ওবুক উপকূলে গিয়ে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, অন্তত ৭৬ হাজার ব্যক্তি গত জুলাইয়ের পর ইয়েমেনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সর্বশেষ হামলার পর এই সংখ্যা চার গুণ হয়েছে।

গত সপ্তাহে হুতি যোদ্ধারা সৌদি আরবসমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করে। তারা সেই সময় বাব আল-মান্দেব প্রণালি-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখার পরিপ্রেক্ষিতে বাব আল-মান্দেব নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য ওই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।

বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং অনেক কমে এসেছে। মূলত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ও ইরান যুদ্ধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার রাস্তাও খুঁজছে।

এ রকম একটি সময়ে হুতি গোষ্ঠীর বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া ও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তবে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াইয়েও যোগ দিতে পারছে না। কারণ, মার্কিন সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত। ওই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের দমনে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চেয়েছে। তিন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে বিষয়টি।

ইরান পরিস্থিতি
এদিকে, ওমানে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আজ সোমবার বসার কথা রয়েছে ইরানের। সেখানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ও আঞ্চলিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

কেশম দ্বীপের কাছে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রুদের দায়ী করছেন।