Home Blog Page 123

৯ ম্যাচে ৭ হার: মুম্বাইয়ের ট্র্যাজেডির শেষ কোথায়?

আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটির নাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অথচ চলমান আইপিএল টেবিলের দিকে তাকালে তাদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কোনো ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ৯ ম্যাচে ৭ হার আর মাত্র ২ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে তারা।

মুম্বাইয়ের প্লে-অফের স্বপ্ন এখন অনেকটাই শেষ। যে দলটির ড্রেসিংরুমে রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদব আর জাসপ্রিত বুমরাহদের মতো তারকারা থাকেন, তাদের এমন দৈন্যদশা কেন? গত আসরেও সবার শেষে থেকে লিগ শেষ করেছিল তারা। এবারের আসরেও গল্পের কোনো পরিবর্তন নেই, বরং ট্র্যাজেডি আরও বেশি প্রক্যাশ্যে এসেছে।

মুম্বাইয়ের এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে তাদের প্রধান দুই অস্ত্রের ধার কমে যাওয়া। ‘ইয়র্কার কিং’ জাসপ্রিত বুমরাহ এবারের আসরে রীতিমতো অচেনা। প্রথম পাঁচ ম্যাচে কোনো উইকেটের দেখাই পাননি তিনি। নবীন ব্যাটারদের কাছেও বেধড়ক মার খাচ্ছেন এই পেসার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৫৪ রান দেওয়া বুমরাহকে দেখে বিশ্বাস করাই কঠিন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার।

অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। ৯ ম্যাচে মাত্র ২০.৩৩ গড়ে ১৮৩ রান করা ‘মিস্টার ৩৬০’ যেন উইকেটে থিতু হতেই পারছেন না। কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে খেলোয়াড়দের আগলে রাখলেও মাঠের পারফরম্যান্স বলছে অন্য কথা।

মুম্বাইয়ের ব্যাটিং অর্ডারের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গত পাঁচ ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরে। রোহিতহীন টপ অর্ডার যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ডি কক থেকে শুরু করে মালে‌ওয়ার, কেউই ওপেনিংয়ে কাঙ্ক্ষিত সাপোর্ট দিতে পারছেন না।

তবে মুম্বাইয়ের মাঠের কৌশলের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে। সাবেক ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি সাফ জানিয়েছেন, হার্দিককে ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা সেভাবে সমর্থন দিচ্ছেন না। অধিনায়ক হিসেবে হার্দিক যেন একাই লড়াই করছেন। যেখানে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছায়া হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তিনি অনেকটাই একাকী।

শুধু তাই নয়, যখনই টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে, মুম্বাইয়ের মিডল অর্ডার সেই ক্ষত আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিলক ভার্মা, নামান ধীর কিংবা রাদারফোর্ড কারোর ব্যাটিংয়েই তেমন পেশাদারিত্ব দেখা যায়নি যা দিয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব। বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২৪০ রান তাড়া করতে গিয়ে ২২২ রান তুলেও কেবল মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় হারতে হয়েছে দলটিকে।

বাকি ৫ ম্যাচে মুম্বাই যদি অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে সব কটি ম্যাচও জেতে, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ১৪। বর্তমানে টেবিলের প্রথম চারটি দলের পয়েন্ট এবং হাতে থাকা ম্যাচের সংখ্যা বিচার করলে মুম্বাইয়ের জন্য দরজা প্রায় বন্ধ। মুরালি কার্তিকের ভাষায়, মুম্বাইয়ের এবারের মিশন আক্ষরিক অর্থেই শেষ।

৮০ তেও চলছে জ্যাকবের সংগীত সাধনা, শেখাচ্ছেন গিটার

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎদের একজন, কিংবদন্তি সংগীতগুরু জ্যাকব ডায়েস আবারও গিটার প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছেন। সীমিত পরিসরে চালাচ্ছেন কার্যক্রম। এ তথ্য জানিয়ে তাঁর ঘনিষ্টজন গিটার প্রশিক্ষক এম ডি কামরুজ্জামান। বয়স আশির কোঠায় পৌঁছালেও জ্যাকবের সুরের প্রতি ভালোবাসা আজও অমলিন ও অটুট।

দেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ-এর মতো বহু তারকার সংগীতজীবনের পেছনে রয়েছে এই গুণী মানুষের অনন্য অবদান। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে তাঁর ভূমিকা সত্যিই অসাধারণ।

জ্যাকব ডায়েস শুধু একজন প্রশিক্ষক নন, তিনি যেন এক চলমান প্রতিষ্ঠান। গিটার, ড্রামস, কিবোর্ড, পিয়ানো থেকে শুরু করে কণ্ঠসংগীত-প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা সমানভাবে উজ্জ্বল। তাঁর হাত ধরেই দেশের প্রথম নারী ব্যান্ডদল ব্লু বার্ড-এর যাত্রা শুরু হয়, যা সংগীতাঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

চট্টগ্রামের লালখান বাজারের বাসিন্দা জ্যাকব ডায়েস প্রতিদিন সন্ধ্যায়  পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন -এর লবিতে বসে তাঁর পিয়ানোর সুরে মুগ্ধ হন দেশি-বিদেশি অতিথিরা। বয়স যেন তাঁর কাছে শুধুই একটি সংখ্যা-সুরই তাঁর জীবনের প্রকৃত পরিচয়।

জ্যাকব ডায়েস মনে করেন, সংগীতের কোনো শেষ নেই। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সুরের মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চান সবার মাঝে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংগীত শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে তিনি বেঁচে থাকতে চান মানুষের হৃদয়ে, সুরের মাঝেই।

বরগুনায় পৃথক অভিযানে ৬ মাদক ব্যবসায়ী আটক

বরগুনায় পৃথক অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বিভিন্ন উপজেলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানান, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইমান আলী সড়কের নিজ বাসা থেকে আরাফাত রহমান অভিকে ৫১০ পিচ ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা সহ আটক করা হয়।

অন্যদিকে রাত পৌনে ৮টার দিকে জেলার বামনা উপজেলার বামনা-ডৌয়াতলা সড়কে অভিযান চালিয়ে মো: ইয়াছিন মৃধা (২৮) ও মো: আবু সালেহ্ মুন্সিকে (২৮) আটক করে বামনা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিক্সা জব্দ করা হয়। আটক দু’জনেরই বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিমাখাল ইউনিয়নের উত্তর হালতা গ্রামে।

একই দিন রাত পৌনে নয়টার দিকে একই উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের নিজ বাড়ির সামনে থেকে ড্যানিয়েল খান ওরফে রাসেল খান (৪৮) নামে আরেক জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৮ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বামনা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে রবিবার ভোররাতে জেলার আমতলী উপজেলার ২নং কুকুয়া ইউনিয়নের আজিমপুর বাজারস্থ কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তা থেকে দেড় কেজি গাঁজাসহ মো: আজিজুল হক আল ইমরান (২৫) নামে একজনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ইমরান আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কৃষ্ণনগর গ্রামের মো: ফোরকান গাজীর ছেলে। এ ঘটনায় ইমরানের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

অন্যদিকে শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার ১নং বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী আবাসন এলাকা থেকে মো: সরোয়ার হোসেন (৩৫) নামে একজনকে ৪০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধেও বরগুনা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার পুলিশ সুপার মো: কুদরত-ই-খুদা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এটি তাদের নিয়মিত অভিযান এবং যা সব সময় চলমান থাকবে।

পরিত্যক্ত ভিটার গাছতলায় পড়ে ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মরদেহ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পুঠিয়া গ্রামের পরিত্যক্ত ভিটার গাছতলা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি কাপড়ে জড়িয়ে কে বা কারা রাতে ফেলে দিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে পুঠিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় গাছের নিচে সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশু কাপড় জড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি উল্লাপাড়া থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, শিশুটি বয়স একদিন হতে পারে। পুলিশ মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে মৃত অবস্থায় নাকি জীবিত ফেলে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’ বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের

‘ফেতরা-জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’ বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এই বক্তব্যের মাধ্যমে চাঁদাবাজির মতো ফৌজদারি অপরাধকে জাকাত-ফেতরার সঙ্গে তুলনায় ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত বলেও আখ্যা দিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের টকশোতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল মান্নানের সঙ্গে বাহাসের এক পর্যায়ে নিলোফার মনি অভিযোগ করেন, জামায়াত জাকাত-ফেতরার টাকায় চলে। বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিতে যুক্ত এ অভিযোগে তিনি বলেন, ‘ফেতরা-জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাকাত ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ও ইবাদত। এর সঙ্গে চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধের তুলনা শুধু দুঃখজনকই নয়,  মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হানার শামিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম, যা সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মহান বিধান। পক্ষান্তরে, চাঁদাবাজি হলো জুলুম, অন্যায় ও অপরাধের প্রতীক। এ দুটিকে এক কাতারে আনা বা চাঁদাবাজিকে কোনোভাবে উত্তম হিসেবে উপস্থাপন করা চরম দায়িত্বহীনতা ও ধৃষ্টতার পরিচায়ক। নিলোফার মনির উচিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।

এহছানুল হক বলেছেন, জনগণ জুলুম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান চেয়ে আসছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল- ন্যায়ভিত্তিক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এখনো বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদাবাজিকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এনসিপির জাতীয় কনভেনশন রোববার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতেই কি সংকট তৈরি: আখতার হোসেন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট, সংবিধান সংস্কার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণে জাতীয় কনভেনশন আহ্বান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামীকাল রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন কনভেনশনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম–সদস্যসচিব সারোয়ার তুষার এবং নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, জ্বালানির বিষয়ে যে সংকটটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী শহর পর্যন্ত, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন নিয়ে মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে এবং হঠাৎ করেই দেখা গেল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরই সেই দীর্ঘ লাইন উধাও হয়ে গেল। এতে একটা প্রশ্নের জায়গাও তৈরি হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ানোর জন্য আগেই কি একটা সংকট তৈরি করা হলো ?

তিনি আরও বলেন, যদিও জ্বালানি তেলের এ বিষয় নিয়ে সংসদে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার একটা সময়সীমা আছে।

আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা বাধ্যতামূলক ছিল। সেই পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যেমন– আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কাঠামো এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া–বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সরকার এসব উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কার্যত স্থগিত করে রেখেছে।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদের ভেতরে বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করলেও সরকার দল তা আমলে নেয়নি। বরং তারা জুলাই সনদের মূল বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-কে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্যসচিব। ব্যাংক খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার পর ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট’-এ সংশোধন এনে মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ পরিশোধ করলেই আগের মালিকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চলমান সংকট নিরসনে একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এনসিপির উদ্যোগে সারা দিনব্যাপী একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ—অসম্ভব অভিযান অথবা বাজে চুক্তি: আইআরজিসি

শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন সেটি পর্যালোচনার কথা বলছেন, তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, ইরানে ‘অসম্ভব’ অভিযান পরিচালনা করা। দ্বিতীয়ত, একটি ‘বাজে’ চুক্তি করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের কোণঠাসা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে আইআরজিসির সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রতি চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের মনোভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধের বিপরীতে ইরানি সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরজিসির এই বিবৃতি এলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের শনিবার করা এক মন্তব্যের পর। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রস্তাবটি তিনি খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু মেনে নেবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আগামী দিনগুলোতে ইরানে হামলা হলেও হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

মে মাসের এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ বিইআরসির

মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আজ রোববার এ দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মে মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

এদিকে, রোববার মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ২ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দামও। গত ২ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এর গত ১৯ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’, সিএনএন ‘নির্বোধ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএন-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সিএনএন-কে ‘নির্বোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটির অন্য আরেকটি প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে বলেছেন ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসের একটি অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেছেন।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানকে ‘সামরিকভাবে পঙ্গু’ করে দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রচেষ্টারও সমালোচনা করেন।

ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিদিন তার দেশের সামরিক বাহিনী কতটা ভালো করছে তা পড়েন। তিনি বলেন, ‘তারপরেও আমি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং ‘নির্বোধ’ সিএনএন দেখি— কারণ আপনাকে শত্রুদের একটু হলেও দেখতে হবে।’

যুদ্ধ নিয়ে তাদের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, এই দুটি সংবাদমাধ্যমের কভারেজ দেখে মনে হয় যে ইরান ‘যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে’ ।

তিনি বলেন, আপনি যদি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পড়েন— আমার মতে এটি আসলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’। আপনি এদের কিছু কলামিস্টের লেখা পড়তে পারেন, তবে এর সবকিছু ওপর থেকেই শুরু হয়। এটি একটি ভয়ানক ব্যাপার।

এসবের কোনোকিছুই তোয়াক্কা করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পর্ষদ মন্তব্য করেছিল, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘তার ধার হারাচ্ছে’। তারা যুক্তি দিয়েছিল, কৌশলগত অর্জনগুলো সামগ্রিক বিজয়ে রূপান্তরিত হয়নি। এর ফলে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।

মহান মে দিবসে ছায়ানটে সাংস্কৃতিক আয়োজন কবিতা ও নৃত্যে উঠে এলো শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা

মহান মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘তূর্যশিকড়’-এর উদ্যোগে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট মূল মিলনায়নে ‘মানুষের শ্রম, মানুষের জয়’ শীর্ষক এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী মফিদুল হক। তিনি বলেন, তূর্যশিকড়ের এই আয়োজন বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়কে আরও দৃঢ় করবে। সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের সমন্বয়ে এক মনোরম প্রযোজনা উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে কবিতা ও গানে শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং তাদের জীবন বাস্তবতা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়। তুর্যশিকড়ের নিজস্ব নৃত্য, কবিতা ও গানের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সাংস্কৃতিক দল জলতরঙ্গ, স্বনন ঢাকা, নৃত্য নিকেতন, গানের তরী বাংলাদেশ, ঢাকা ড্যান্স অ্যান্ড আর্ট সেন্টার ও মুক্তধারা নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনাও ছিল নান্দনিক।

এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক সারওয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান এবং শিক্ষক, গবেষক, ও সংগঠক মিরুনা বানু। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা লেখক ও সংগঠক মাহফুজুর রহমান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তুর্যশিকড়ের সভাপতি সুমনা শিল্পী প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও উপহার দেন। তিনি ভবিষ্যতেও এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।