Home Blog

চলে গেলেন অর্পিতা, বাঁচল না গর্ভের সন্তানও

বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মিঠুন চৌধুরী ও অর্পিতা দাশের সংসারে আসার কথা ছিল নতুন অতিথি। সন্তানকে ঘিরে তাদের ছিল নানা আয়োজন। স্ত্রীকে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন মিঠুন। দুই পরিবারে ছিল আনন্দের বন্যা। কিন্তু ডেঙ্গু কেড়ে নিল তাদের স্বপ্ন। আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান অর্পিতা। মৃত্যুর পর তাঁর পেট থেকে মৃত ছেলেসন্তান প্রসব করা হয়।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল অর্পিতার ২৬তম জন্মদিন। সন্তান জন্মের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১২ অক্টোবর। তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মিঠুন।

চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটার আশরাফ আলী রোডের আর সি সার্চ এলাকায় অর্পিতাদের বাড়ি। স্বজন ও প্রতিবেশী কেউ মেনে নিতে পারছেন না এমন মৃত্যু। সানরাইজ গ্রামার স্কুলের পাথরঘাটা শাখার ইউনিট-৪-এর সহকারী শিক্ষক ছিলেন অর্পিতা। গত বছরের ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমসে কর্মরত মিঠুন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।  ৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ জ্বর আসে অর্পিতার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ৬ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরদিন তাঁকে নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয় এইচডিইউতে। দ্রুত কমতে থাকে প্লাটিলেট। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে প্লাটিলেট দেওয়া হয়। আরও রক্তের প্রয়োজন হতে পারে চিকিৎসকদের এমন পরামর্শে মিঠুন পরিচিত কয়েকজনকে রক্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রেখেছিলেন।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, অর্পিতার মৃত্যু হয়েছে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে’। ডেঙ্গুর এটি অত্যন্ত জটিল, বিরল ও জীবনঘাতী পর্যায়।
অর্পিতার মা দিপালী দাশ বড় মেয়েকে হারিয়ে প্রায় অচেতন। দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে ভারতে হৃদরোগের জটিল অস্ত্রোপচারের সময় মারা যান অর্পিতার বাবা।

সংক্রমণ ছাড়াল ৫০ হাজার
চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন। গত বছর অক্টোবর মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। এবার এক মাস আগেই এই সংখ্যা অতিক্রম করল। এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা ১৪৩। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ড থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও জুনের পর থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। আগস্টে দেশে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে। ওই মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ৪৩ জন। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৪৩০ জন এবং মারা গেছেন ৪৬ জন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি  বেশ নাজুক হতে পারে। চলতি মাসের শুরু থেকেই হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই দিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া যায়।

পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনই পুরুষ। তাদের একজনের বয়স ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এবং অন্যজনের বয়স ৫৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত ১৪৩ জনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ৪৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে ১৮ জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫০ হাজার ২৭৬ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৬ হাজার ৬৯৯ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। মাসভিত্তিক হিসাবে, জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬। চলতি সেপ্টেম্বরের ১২ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৪৩০ জন। এতে চলতি মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকার বাইরে বাড়ছে ঝুঁকি

২০০০ সালে দেশে নতুন করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সময় রোগটি মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এডিস মশাবাহিত এ রোগ। গত বছর থেকে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর বিস্তার ব্যাপকভাবে ঘটেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) গত চার বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় রয়েছে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালী। এসব এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। গতকাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এবং রূপগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এ ক্যাম্প হয়।

ডিএসসিসির স্বাস্থ্যকর্মী বরখাস্ত
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনে গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ধানমন্ডির রাপা প্লাজা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। রাপা প্লাজার পার্কিং জোনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ডিএসসিসির স্বাস্থ্যকর্মী সুশীল চন্দ্র রবিদাসকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও জেলার প্রতিনিধিরা)

ডিজেলের ব্যবহার বেড়েছে ২২%, বাড়ছে জ্বালানি খরচ

গ্যাস সংকট সামাল দিতে গিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। আগস্টে ডিজেল বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। আসছে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌপথে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে ডিজেল নিয়েও সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ প্রায় বন্ধ। এর মধ্যে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব ঘিরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একমাত্র লাইফলাইন এই বাব আল-মান্দেব। এটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। গত বৃহস্পতিবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২৩২ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস থেকে ১৬২ কোটি এবং এলএনজি থেকে ৭০ কোটি ঘনফুট এসেছে। অথচ মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমছে। এলএনজি সরবরাহে এই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের বাজারে।

চুক্তির বেশির ভাগ এলএনজি আসেনি
বাংলাদেশের সঙ্গে চার দেশের এলএনজি আমদানির আটটি চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় চলতি বছর ১০৩টি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে বছরের প্রথম ৯ মাসে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২১টি। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ৮৬টি কার্গোর বিপরীতে আগস্ট পর্যন্ত এসেছে ১৩টি। আর স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ১৭টি কার্গোর মধ্যে দেশে পৌঁছেছে মাত্র চারটি।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ৪৭টি কার্গোর সরবরাহ বাতিল হয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহকারীরা এসব চালান পাঠাতে পারছে না। ফলে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি থেকে এলএনজি কেনার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে। একই কার্গো সংগ্রহে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে আমদানির খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিতে কাতারের ওপর নির্ভরতা বেশ বেশি। গত বছর দেশে আসা মোট এলএনজির প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল কাতার থেকে। আটটি চুক্তির ছয়টির সরবরাহের প্রধান উৎসও দেশটি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়েছে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।

বিশ্বের এলএনজি বাজারও সীমিত সংখ্যক উৎপাদনকারী দেশের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বড় কোনো উৎপাদনকারী দেশে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘ সময় পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির সরবরাহ কমে দাম বাড়তে পারে। এদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহে সক্রিয় হওয়ায় একই কার্গো কেনার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে।

বাড়ছে ডিজেলের ব্যবহার
এলএনজি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের ওপর। গ্যাস না পেয়ে শিল্পকারখানাগুলো জেনারেটর ও বয়লারে ডিজেল ব্যবহার করছে। শিল্পের বয়লার ও তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহারও বাড়ছে।

সরকারি তিন তেল বিপণন কোম্পানির আগস্টের বিক্রির হিসাবে এর চিত্র স্পষ্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পদ্মা অয়েলের ডিজেল বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ২১ শতাংশ এবং যমুনা অয়েলের শিল্প গ্রাহকদের কাছে ৩৩ শতাংশ।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন। দৈনিক গড় বিক্রি প্রায় ১২ হাজার টন, যা গত বছরের আগস্টের দৈনিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সূত্র বলছে, ৫০ শতাংশ কারখানা গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বাড়তি ডিজেল নিয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ওষুধশিল্পেও। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় গ্যাস সংকটের আগে বয়লারে দৈনিক প্রায় ৫০০ লিটার এবং জেনারেটরে ১০ থেকে ১২ হাজার লিটার ডিজেল ব্যবহার করা হতো। সংকটের পর বয়লারে দৈনিক ডিজেলের ব্যবহার বেড়ে প্রায় ১০ হাজার লিটার এবং জেনারেটরে প্রায় ৫০ হাজার লিটারে উঠেছে। অর্থাৎ, কারখানাটিতে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। তবে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে প্রতি দফায় ৩৬ হাজার থেকে ৪৮ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বোরো মৌসুমে বাড়বে ডিজেলের চাপ
গ্যাস সংকটে শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলের বাড়তি ব্যবহার যখন জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে, তখন সামনে যুক্ত হচ্ছে বোরো মৌসুমের সেচ চাহিদা। অগ্রহায়ণ থেকে জমি প্রস্তুত ও সেচ শুরু হওয়ায় নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ডিজেলের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে।

দেশে সচল সেচ পাম্পের বড় অংশ ডিজেলচালিত। এতে বোরো মৌসুমে কৃষি খাত জ্বালানি তেলের অন্যতম বড় ভোক্তা হয়ে ওঠে। বছরের অন্যান্য সময়ে মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেল ব্যবহৃত হলেও বোরো মৌসুমের সর্বোচ্চ সময়ে তা চার থেকে সাড়ে চার লাখ টনে উঠতে পারে। কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেলের বড় অংশ বোরো মৌসুমের কয়েক মাসে খরচ হয়।

ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে শিল্পে বাড়তি ডিজেল ব্যবহারের সঙ্গে বোরো সেচের চাহিদা যোগ হলে সামনের মাসগুলোতে ডিজেলের মোট চাহিদায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে বাড়তি চাহিদা মেটাতে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে।

আন্তর্জাতিক রুটে ঝুঁকি, আমদানি-রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব
দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বশেষ প্রায় ১০৪ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৯৯ ডলারে ছিল।

স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও এলএনজি পরিবহন হয়। একইভাবে সুয়েজ খাল ও বাব আল-মান্দেবও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট। এসব নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, বীমা খরচ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বাড়তে পারে।

এর মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হরমুজ এড়িয়ে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল ব্যবহার করে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের বিকল্প পথও ঝুঁকিতে পড়লে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে জাহাজ চলাচলের সময় ও ব্যয় আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের জন্য এর প্রভাব শুধু জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপমুখী তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য পরিবহনে লোহিত সাগর ও সুয়েজ রুট গুরুত্বপূর্ণ। জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথে চলতে হলে পরিবহন সময় ও ফ্রেইট খরচ বাড়বে। বাড়বে যুদ্ধঝুঁকির বীমা ব্যয়ও। এতে রপ্তানিকারকদের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরবরাহ নিয়ে স্বস্তিতে সরকার, উদ্বেগ দামে
আপাতত সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখছে না জ্বালানি বিভাগ। যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, অক্টোবর পর্যন্ত সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। ফলে গ্যাসের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে ডিজেলের চাহিদা বাড়লেও দেশে ডিজেলের সরবরাহে সমস্যা হবে না। বাংলাদেশ আগাম পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রায় ছয় মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তি করে থাকে। ফলে চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজসহ আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও ডিজেল আমদানিতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ডিজেল আমদানি করে মূলত মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের মতো এশীয় উৎস থেকে। ফলে হরমুজকেন্দ্রিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি ডিজেলের সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করবে না।

তিনি বলেন, সরবরাহের চেয়ে এখন বড় উদ্বেগ দাম নিয়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এশীয় উৎস থেকে ডিজেল আমদানি করলেও বাংলাদেশকে বেশি অর্থ গুনতে হবে। আর গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে ডিজেলের চাহিদা আরও বাড়লে সেই ব্যয়ের চাপও বাড়বে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধ বা যে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরবরাহকারীরাও প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

তিনি জানান, এখন আগামী বছরের জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমান মজুতও সন্তোষজনক। সরবরাহকারীরা প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে তেল সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে।

বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ
এলএনজি সংকটের কারণে পেট্রোবাংলার ওপরও বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে প্রতি ইউনিটে ২৮ ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, পেট্রোবাংলা প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান করছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসে প্রায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে তেল কিনে দেশে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় বিপিসিও বড় লোকসানে রয়েছে। মার্চ থেকে জুন– এই চার মাসে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এই অর্থ ভর্তুকি হিসেবে সরকারের কাছে চেয়েছে বিপিসি।

বিকল্প খুঁজছে সরকার
জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার এলএনজির উৎস বহুমুখী করা এবং আমদানি অবকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১১৭ কার্গোর চুক্তি করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গেও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির উদ্যোগ রয়েছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি আরও দুটি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে।

ইউএস ওপেনের ফাইনালে জেরেভ

ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে রাশিয়ার কারেন খাচানভকে সরাসরি সেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন জার্মানির আলেকজান্ডার জেরেভ। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়। দারুণ এই জয়ের মাধ্যমে জেরেভ তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং এই বছরের টানা তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পা রাখলেন জেরেভ।

বাংলাদেশ সময় সোমবার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে দুই মার্কিনি বেন শেলটন অথবা ফ্রান্সেস টিয়াফোর মধ্যকার যেকোনো একজনের মুখোমুখি হবেন তিনি। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৫টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বেন শেলটন এবং টিয়াফো।

এ দিন ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানো জেরেভ ৬-৩, ৭-৬ (৯-৭), ৭-৬ (৮-৬) গেমে খাচানভকে পরাজিত করেন। পুরো ম্যাচে জেরেভ যেখানে ১৫টি অ্যাস করেছেন, সেখানে খাচানভের অ্যাস ছিল ৬টি। প্রথম সার্ভের ক্ষেত্রে খাচানভ ৭৪ শতাংশ সাফল্য দেখালেও জেরেভের ছিল ৬৮ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় সার্ভে পয়েন্ট জয়ের ক্ষেত্রে ৭২ শতাংশ সাফল্য দেখিয়ে এগিয়ে ছিলেন জেরেভ, বিপরীতে খাচানভের এই হার ছিল ৫৭ শতাংশ।

ব্রেক পয়েন্টের ক্ষেত্রে জেরেভ ৩টি সুযোগ পেয়ে ২টিতে সফল হয়েছেন, আর খাচানভ ২টির মধ্যে মাত্র ১টি কাজে লাগাতে পেরেছেন। এছাড়া ডাবল ফল্টের ক্ষেত্রে জেরেভ ৬টি এবং খাচানভ ৩টি ভুল করেছেন।

এর আগে, ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে স্থান করে নিয়েছিলেন জেরেভ। তবে ফাইনালে অস্ট্রিয়ার ডমিনিক থিমের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হন তিনি।

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ

ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে শুক্রবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি বন্ধের ঘোষণা দেয় রিয়াদ।

ইরাক স্বীকার করেছে, প্রতিবেশী সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে চালানো ড্রোন হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশ থেকে শুরু হয়েছিল। এ ঘটনায় ইরাকের একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দিয়ে আসছিল। জাহাজ ট্র্যাকিংকারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবাহিত হতো।

ঘটনার আগে ওই পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকায় পুড়ে যাওয়া মাটি ও ধোঁয়ার উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ পায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হামলা প্রতিরোধে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকেও সৌদি আরব সমর্থন করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান-সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশের অপারেশনস কমান্ডারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকেই ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, ‘এই হামলা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করেছে; পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন।’

এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অগ্রগতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সপ্তম মাসে গড়ানোর সময় এ হামলা বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের রুটগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এই সপ্তাহে ইয়েমেনে দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির উপকূলরেখার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ‘বাব আল-মানদাব প্রণালী’ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, ‘সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য’ সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদ।

আরব উপদ্বীপের উভয় প্রান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির চাপে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

দুই কিলোমিটারে তিন বাজার, দামের ফারাক ৩০ টাকা

রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা; উচ্ছে ও ঝিঙা ৯০ আর পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠালবাগান কাঁচাবাজারেও প্রায় একই দামে বিক্রি হয় সবজিগুলো।

এই দুই বাজার থেকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কারওয়ান বাজার। সেখানে এসব সবজি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার তিনটি ঘুরে দামের এমন ফারাক দেখা গেল।

ব্যবসায়ীরা জানান, কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে কিনে তার সঙ্গে পরিবহন, দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে অন্য বাজারে দাম নির্ধারণ করেন বিক্রেতা। হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানের বিক্রেতারা জানান, তারা কারওয়ান বাজার থেকে বাছাই করা সবজি কিনে নিয়ে আসেন। সে জন্যও দাম বেশি দিতে হয়।

হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানে সবজির দর
গত বুধবার হাতিরপুল বাজারে প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০, বরবটি ১০০ থেকে ১২০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ৩০ এবং কাঁচামরিচ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও দর মোটামুটি একই ছিল।

গত দুদিন কাঁঠালবাগানেও সবজির দাম প্রায় অভিন্ন ছিল। যদিও দু-একটির দামে পাঁচ-দশ টাকা তারতম্য ছিল। যেমন– কাঁঠালবাগানে ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ১০ টাকা বেশি হাতিরপুলে।

একই সবজি কারওয়ান বাজারে কত
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁকরোল ৫৫ থেকে ৬০, উচ্ছে ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ এবং পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ৮০ থেকে ৯০, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২৫ এবং কাঁচামরিচ মানভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ কারওয়ান বাজারের চেয়ে হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানে প্রতি কেজি সবজির দর সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি।

দামের ফারাক এত বেশি কেন 
কারওয়ান বাজার থেকে কাঁঠালবাগান বাজারের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার আর হাতিরপুল দুই কিলোমিটার। এই স্বল্প দূরত্বে দামে ফারাক এত বেশি কেন– এ প্রশ্নের জবাবে হাতিরপুল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে হাতিরপুলে সবজি আনতে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলে তাঁর অতিরিক্ত খরচ এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এক কেজির কচুরলতির আঁটি দেখিয়ে তিনি বলেন, এই লতি কিনতে হয়েছে কেজি ৮০ টাকা দরে। রং নষ্ট ও কিছুটা পচে যাওয়ার কারণে এখন কেউ ৪০ টাকায়ও নিতে চায় না। এভাবে প্রতিদিনই অবিক্রীত সবজি পচে যায়। সেগুলোর ফেলে দিতে হয়। তাঁর দাবি, ওই এলাকার প্রায় সব ক্রেতা তরতাজা ও ভালো মানের সবজি কিনতে চান।

দোকান ভাড়াও সবজির দামে প্রভাব রাখে উল্লেখ করে হেলাল উদ্দিন বলেন, তাঁর তিন বাই পাঁচ ফুটের দোকানের ভাড়া প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা। ছেলেকে নিয়ে দোকান চালান। তাদের খরচ হিসাব করলে খুব বেশি লাভ থাকে না।

কাঁঠালবাগানের সবজি ব্যবসায়ী মো. সজীব জানান, কারওয়ান বাজার থেকে সবজি নিতে হলে ভ্যান ভাড়া, সবজি কেনার পর যেখানে রাখায় হয় সেই ফুটপাতের ভাড়া, কুলি খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁর এক হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। এই টাকা সবজি বিক্রি করে তুলতে হয়।

একই বাজারের মো. রকির দাবি, কারওয়ান বাজার থেকে বেশি দরে কিনে কমে বিক্রির সুযোগ নেই। তাঁর মতে, কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে পাইকারি দরে কিনে একই বাজারে খুচরায় বিক্রি করেন। তাদের পরিবহন খরচ নেই। তাই তারা কিছুটা কম দামে বেচতে পারেন।
তবে চাঁদাবাজির প্রতি ইঙ্গিত করে কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, তারা কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনলেও তাদের অঘোষিত কিছু খরচ আছে। তার পরও তারা কম দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন।

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে ট্রাকে সবজি এনে ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করেন ব্যাপারী নুর হোসেন। তিনি সমকালকে বলেন, সাধারণত দূরের বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা রাতের প্রথম ভাগে সবজি কেনেন। তখন সবজিগুলো তাজা থাকে। দামও কিছুটা বেশি থাকে। কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সকালের দিকে সবজি কেনেন। এ কারণে কিছুটা কম দামে কিনতে পারেন। তবে কারওয়ান বাজারের সঙ্গে হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানের সবজির দামে ২০-৩০ টাকা ব্যবধান অনেক বেশি বলে মনে করেন তিনি।

ডিম ও মুরগির দাম বাড়তি
এক-দেড় মাস সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উল্লিখিত তিন বাজারেই প্রোটিনজাতীয় খাদ্যপণ্য দুটির দাম প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। পাশাপাশি মাছের বাজারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। রুই-কাতলা, পাঙাশ ও চাষের কই কেজিতে এক মাসের ব্যবধানে ২০ টাকার মতো দর বেড়েছে।

রুটি-বিস্কুটের দাম বাড়ছে ২০ শতাংশ
মাসখানেক ধরে আটা-ময়দা ও তেল-চিনির দাম বাড়তি। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসে ময়দার ১১ ও চিনির ৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দর বেড়েছে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ। এসব পণ্যের দাম বাড়ার কারণে বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

বেকারি মালিকরা জানান, আগামীকাল শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়বে। কিছু ক্ষেত্রে দাম না বাড়িয়ে পণ্যের ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ ১০ টাকার রুটি বা বিস্কুটের দাম ১০ টাকাই থাকবে। কিন্তু যেটা আগে ৩০০ গ্রাম ছিল, সেটা হয়তো ২৫০ গ্রাম বা ২২০ গ্রাম হতে পারে।

সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, গত ছয় মাসে আড়াই হাজার টাকার ময়দার বস্তা তিন হাজার ২০০ টাকা, ২৫-২৬ হাজার টাকার তেলের ড্রাম ৩৫-৩৬ হাজার হয়ে গেছে। চিনির বস্তা পাঁচ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এই তিন কাঁচামাল দিয়েই বেকারির বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি হয়। বেকারি মালিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দাম সমন্বয় না করে উপায় নেই।
তিনি বলেন, কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ১০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। এভাবে চলতে থাকলে ছয় মাসের মধ্যে বেকারি খাত ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: জামায়াত আমির

জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।

শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে ডা. শফিকুর রহমান মানিকপোটল গ্রামের আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধ অর্ধলাখ মানুষ দৌলতপুরে দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এর ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলাখ মানুষ। এর মধ্যে নদীভাঙনের খবর আসছে। ফলে একদিকে পানি বাড়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে বসতভিটা হারানোর ভয়– দুদিক থেকেই চাপে তীরবর্তী বাসিন্দারা।

দৌলতপুর উপজেলার কোথাও হাঁটু, কোথাও তারও বেশি পানি। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হলে ভরসা নৌকা। ঘরের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিয়ে কেউ উঠেছেন উঁচু জায়গায়, কেউবা ঘরের বারান্দা কিংবা মাচায় আশ্রয় দিয়েছেন। বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষ। দুই ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। রোগী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পড়তে হচ্ছে বেশি বিপাকে। ঘর থেকে বের হওয়া, বাজার করা কিংবা প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সংগ্রহ– সবকিছুতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠও। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও দ্রুত বাড়ছে পানি। পানি বাড়লে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ইউএনও অনিন্দ্য গুহ জানান, ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শিবগঞ্জে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের দুই হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীতীরবর্তী সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ধানের জমি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির ধান, পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, পানি ঢুকে পড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ।
মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। তবে পাউবো বলছে, জেলার তিন নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম বলেন, শনিবার (আজ) পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এর পর পানি নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭৯ মিটার নিচ দিয়ে বইছে পদ্মার পানি। মিডিলচর, চরক্ষিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি উঠছে।

ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরের ১১ দিনে আগস্টের চেয়ে বেশি মৃত্যু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। আগস্টে এডিস মশাবাহিত এই রোগে মারা গিয়েছিল ৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গুতে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৭৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দুই সিটি করপোরেশনসহ এ বিভাগে মারা গেছেন ৭২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ২৪৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনায় ৬০, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ ও বরিশালে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ২২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৮৮ জন। এ নিয়ে এ বছর মোট ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ফরিদপুরে প্রকোপ বাড়ছে
সমকালের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাবে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ বছর ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় জেলার প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

সামনে আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথমদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ থেকে অভিযান
বাসস জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমির বললেন জাতির কাঁধে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে

জাতির কাঁধে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি জাতির নিজস্ব সক্রিয় সংস্কৃতি থাকে। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির লালন এবং ধারণ থেকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। সাংস্কৃতিক অধঃপতনে সমাজে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, যার কাছ থেকে শিখব, তাঁকে সম্মান করব। কিন্তু এখন আমাদের সংস্কৃতি কী শিক্ষা দিচ্ছে? কলেজের অধ্যক্ষ যিনি, তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলা! এই দৃশ্য অপসংস্কৃতির প্রভাব। সন্তানদের মানুষ বানাতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন– জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

শিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’
১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ-২০২৬’ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংগঠনটির আয়োজনে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। ছিলেন আল্লামা কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদিন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম প্রমুখ।