Home Blog Page 126

গণ‌ভো‌টের ফল বাস্তবায়‌নে জামায়াত জো‌টের চার‌দি‌নের কর্মসূ‌চি

গণ‌ভো‌টে অনু‌মো‌দিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ক‌রে সনদ অনুযায়ী সংস্কা‌রের দা‌বি‌তে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের জামায়াত কার্যাল‌য়ে ১১ দ‌লের নেতা‌দের বৈঠকের পর আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূ‌চি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বৈঠকের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী কর্মসূচি এবং দাবিগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঘো‌ষিত কর্মসূ‌চি অনুযায়ী জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য লিফলেট বিতরণ কর‌বে। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া ৯ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে ১১ এপ্রিল দেশের সকল মহানগরে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

১২ এপ্রিল দেশের সকল জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ হলে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি জনাব রাশেদ প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট ২০২৬-২৭ ব্যয়সাশ্রয়ী বাজেটের চিন্তা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকিতেই খরচ হবে প্রায় লাখ কোটি টাকা। এর বাইরে কৃষি ও সারের ভর্তুকিও বাড়বে। নতুন সরকারের নির্বাচিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি না ফেরায় সরকারের আয় বাড়ানোর পথও সীমিত। এ কারণে জরুরি ব্যয়ের বাইরে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট সংকোচনমূলক রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় আগামীকাল বুধবার অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার পথ বের করা ও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কেমন হবে, তা পর্যালোচনা করতে সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল এবং বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি প্রথম বৈঠকে বসছে। আগামীকাল বুধবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি বাড়বে– এমন প্রত্যাশা নিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য আট লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় আয়ের পথ সংকুচিত হলেও ব্যয়ের চাপ পড়ছে। এ অবস্থায় সংকোচনমূলক বাজেট প্রণয়নের চিন্তা থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার আট লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা থেকে আট লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ব্যবস্থা থেকে পাঁচ লাখ ৩০ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হতে পারে।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজস্ব আয়ের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আয়-ব্যয় পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে। এর ফলে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় যদি বাজেটের আকার আরও বড় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরবর্তী বৈঠকের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর ইতোমধ্যে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মেটাতে সরকারের গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করাসহ বেশকিছু খাতে ব্যয় সংকোচন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর বাইরে রাজস্ব বাজেটে থাকা থোক বরাদ্দ এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ থাকা অর্থ কাটছাঁট করে মার্চ-এপ্রিলসহ কয়েক মাসের বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া গেলেও মাসের পর মাস সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থার মধ্যে আগামী অর্থবছরে বড় বাজেট প্রণয়ন করলেও রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে না। তাই সংকোচনমূলক বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছেন তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অন্যান্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ, বন্ড ইস্যু করে বেসরকারি খাত থেকে ঋণ নিয়ে এবং অর্থ বিভাগের আওতাধীন ‘অপ্রত্যাশিত খাত’-এ বরাদ্দের অর্থ ব্যবহার করে আপাতত ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আর সম্ভব হবে না। তাই জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে তেলের দাম বাড়ালে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকোচন অপরিহার্য। চলতি সংশোধিত বাজেটে ইতোমধ্যে গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরেও এ ধরনের সাশ্রয়ী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে ব্যয় আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। যদিও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলো থেকেও আগামী অর্থবছরের জন্য উল্লেখযোগ্য বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

দুই সার কারখানা বন্ধ, আরেকটি বন্ধের পথে

গ্যাস সংকটে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এখন অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। আগামী সপ্তাহ নাগাদ সিইউএফএল-কাফকো চালু হয়ে অ্যামোনিয়া সরবরাহ করতে না পারলে ডিএপিএফসিএল বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক।

জানা গেছে, দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ক্রমবর্ধমান যৌগিক সারের (নাইট্রোজেন ও ফসফরাস-সংবলিত) চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন ডিএপিএফসিএল প্রতিষ্ঠিত হয়। আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় দৈনিক ৮০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পৃথক ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে এ কারখানা ২০০৬ সাল থেকে সফলভাবে ডিএপি সারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে।

ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পার্শ্ববর্তী দুই বৃহৎ সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের মাধ্যমে ডিএপিএফসিএল ইউরিয়া উৎপাদন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমা থাকা অ্যামোনিয়া শেষ হলে আগামী সপ্তাহ নাগাদ ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, আমাদের কারখানায় অন্যান্য সার কারখানার মতো বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয় না। আবাসিক এলাকার গ্যাসের মতো স্বল্প গ্যাসের মাধ্যমে কারখানা চালু থাকে। তবে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য সিইউএফএল-কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া না পাওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, কারখানাটির প্রায় সব যন্ত্রপাতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জনবলেরও সংকট রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বর্তমান সময়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় উৎপাদন শুরু আজ
গ্যাস সংকটে নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার সার উৎপাদন ২৭ দিন বন্ধ ছিল। গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস পাওয়ার পর উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাঁচ দিন পর গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হয়েছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম জানান, গ্যাস পাওয়ার পর পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগে সার উৎপাদনে আসতে। কারখানাটি ২ হাজার ৮০০ টন দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ বিকেল থেকে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কারখানায় সংযোগ বন্ধ করা হয়।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণ ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা হলে কী ঘটতে পারে বিপর্যয় নামবে হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থায়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এই হামলা যদি কার্যকর করা হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে নামতে পারে ব্যাপক অস্থিরতা। একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসবে বিপর্যয়, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি ও জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা বেড়ে যাবে। গতকাল সোমবার ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়।

গত রোববার ট্রাম্প জোর সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তেহরান এই হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল লিখেছে, ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রধানত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যেগুলোর বেশির ভাগই প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে চলে।

তুলনামূলকভাবে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা অল্প এবং এগুলো কেবল তেহরান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসহ প্রধান শহুরে ও শিল্পকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হলো তেহরানের পূর্বে অবস্থিত দামাভান্দ কম্বাইন্ড-সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর মেট্রোপলিটন এলাকায় এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে কাস্পিয়ান উপকূলের নেকা ও ইস্পাহানের নিকটবর্তী

শহীদ মোন্তাজেরিসহ অন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্বাভাবিক হামলা হলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ের শঙ্কা
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে পর্যায়ক্রমে পুরোদেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে। হাসপাতালগুলো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। পানি উত্তোলন এবং পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সরবরাহ বজায় রাখার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, কারখানা এবং পরিবহন ব্যবস্থা সবই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎশক্তির ওপর নির্ভরশীল।

যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং খরার মতো পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে চাপের মধ্যে দেশটির সরকার। বড় আকারের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা কারখানা থেকে শুরু করে বাড়ির পানি সরবরাহ পর্যন্ত সবকিছুকে প্রভাবিত করবে।

যেহেতু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত অনেক যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়, তাই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামত করতেও সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধের অধীনে তা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা বিপর্যয় বাড়াবে
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তারা আনুপাতিকভাবে জবাব দেবে। প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানাবে তেহরান। পারস্য উপসাগরের তেল স্থাপনা, প্রধান শহরগুলোতে পানীয় জল সরবরাহকারী লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র এবং ইসরায়েলি অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

তেহরান তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমেও প্রতিশোধ নিতে পারে। এর আগে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি উভয়েই অবকাঠামো ও নৌপথকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইরানের প্রক্সি শক্তির হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের হামলা শুরু হলে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা করা বেআইনি এবং এই ধ্বংসযজ্ঞ নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করেছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর হামলার ফলে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

মানবাধিকার কমিশনের আগের আইন ফেরাতে বিল

অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহালে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় এমপিরা আপত্তি জানান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিলটি এখনই পাস হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে আলোচনা করা হবে।

গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলে গতকাল বিল উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী। এতে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় এমপিরা। তখন তিনি বলেন, এ বিলটিতে বিশেষ কমিটির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। পাসের আগে আলোচনা করা হবে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপনে আইনমন্ত্রীকে অনুমতি নিতে বলেন ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপন করেন। ভুল ধরা পড়লে স্পিকার তা অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী আবারও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপনে অনুমতি প্রার্থনা করেন।

যদিও সম্পূরক কার্যসূচিতে লেখা ছিল ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিতকরণে একটি বিল’; পরে একই ভুল করেন আইনমন্ত্রী। ফলে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়নি আইনমন্ত্রীর বক্তৃতায়। আসাদুজ্জামান ভুল পড়লেও স্পিকার বলেন, ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিতকরণে একটি বিল’ উত্থাপিত হলো।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে তৎকালীন মানবাধিকার কমিশন পদক্ষেপ না নিয়ে সমালোচিত হয়েছিল। অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী-সংস্থার বিরুদ্ধে থাকলেও ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে কমিশন শুধু সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। এর পর প্রয়োজন মনে করলে কমিশন শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু অতীতে দেখা যেত, সরকার কমিশনের চিঠি আমলে নিত না। প্রতিবেদন চাইলে দিত না। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করত না।

অন্তর্বর্তী সরকার এই আইনটি বাতিল করে। মানবাধিকার কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয় অধ্যাদেশে। অধ্যাদেশের ১৬ ধারায় বিধান করা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে কমিশন। যে কোনো সরকারি কর্মচারী, বাহিনী ও সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা বাহিনীর সদস্য হলে তাকে আদালতের অনুমতিতে গ্রেপ্তার করতে পারবে কমিশন। তবে সরকারের অনুমতি লাগবে না। কমিশনের আদেশ যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানতে বাধ্য থাকবে। না মানলে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অদক্ষতা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন। অধ্যাদেশে বিধান ছিল, আপিল বিভাগের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের জন্য নাম মনোনীত করবে।
পুরোনো আইনে স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একজন করে এমপির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের নাম প্রস্তাব করত। গতকাল উত্থাপিত বিলটি পাস হলে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

৭টি বিল পাস, একটি বাছাইয়ে 
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিলসহ ৭টি বিল গতকাল পাস করেছে সংসদ। জাতীয় সংসদ অধ্যাদেশ রহিত করার বিলও পাস হয়। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ করা যাবে না– এ বিধান বাদ দিয়ে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী। এটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার।
অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৯ জানুয়ারি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ করেছিল। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এ অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছিল।
অধ্যাদেশের এ ধারায় বলা হয়েছে, তিন বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমিতে তামাক চাষ করা যাবে না। এক ও দুই ফসলি কৃষিজমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

যে সাতটি বিল পাস হয়েছে, সেগুলোতে সংশোধনী না থাকায় সরাসরি ভোটে দেন স্পিকার। কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। সংসদে আালোচনাও হয়নি। ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল পাসের জন্য তোলার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান বলেন, তিন দিন আগে বিলের কপি সংসদ সদস্যদের দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। তারা একটু আগে ৪৯ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেয়েছেন। তাহলে তারা কীভাবে কথা বলবেন?

জবাবে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে দেওয়ার কথা ঠিক আছে। আবার স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতাও আছে।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করতে হবে। কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে সকাল-বিকেল দুবেলা অধিবেশন বসবে। প্রয়োজনে শুক্রবারও বৈঠক বসবে। সময়স্বল্পতার কারণে সব বিলের আগে কপি দেওয়া যায়নি।

দুঃখ প্রকাশ করে চিফ হুইপ বলেন, যেসব বিলে বিশেষ কমিটিতে সবাই একমত হয়েছিলেন, সেগুলো এখন পাস হয়ে যাক। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট আছে বা সংশোধনী আছে সেগুলো আলাদাভাবে আগামীকালের মধ্যে সব উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এক উপাচার্যের ৫৪৭ দিনে ৪২৫ নিয়োগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ৫৪৭ দিন উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এই সময়ে ৪২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া আখতার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এই ভিসির আমলে পাঁচটি সিন্ডিকেট বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয় এসব নিয়োগ।

প্রতিটি সিন্ডিকেট গড়ে ৮৫ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরে দায়িত্ব পালন করা অন্য ২০ উপাচার্যের কেউই অল্প সময়ে এত বেশি সংখ্যক নিয়োগ দেননি। জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উপাচার্য ভেঙেছেন প্রথাও। সিন্ডিকেটের বৈঠক ডেকেছেন শুক্রবার। সর্বশেষ বৈঠক করেছেন তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় বন্ধের দিনেও।

সদ্য বিদায়ী উপাচার্য ইয়াহ্‌ইয়া আখতারের অনেক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পছন্দের লোক দিয়ে নিয়োগ বোর্ড সাজিয়ে এক উপ-উপাচার্যের মেয়ে, আরেক উপ-উপাচার্যের গবেষণা সহযোগী, রেজিস্ট্রারের ভাই, এক প্রভোস্টের স্ত্রী এবং আরেক প্রভোস্টের ছেলেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলা বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি ‘শিক্ষক লাগবে না’ বলে সুপারিশ করার পরও তিনি একসঙ্গে সাতজন শিক্ষক নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। আবার প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে ক্রিমিনোলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে। পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে কলা অনুষদে ফলাফলের গ্রেড কমিয়ে পরিবর্তন আনা হয় নীতিমালায়।

একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে একাধিকবার চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, ‘আমরা কমিশন বরাবর রিপোর্ট জমা দিয়েছি।’

নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে উপাচার্য প্রথমবারের মতো চবিতে চালু করেছিলেন নতুন এক ধারা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি উপস্থাপনার দক্ষতাকেও যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনায় এনেছিলেন। তদবির কমাতে লিখিত, মৌখিক ও উপস্থাপনার সব ধাপ একই দিন সম্পন্ন করতেন। তাঁর শুরুটা এমন চমকপ্রদ হলেও শেষটা ছিল বিতর্কিত।

বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১৬ মার্চ চবির নতুন উপাচার্য হন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। নিয়োগে অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি সমকালকে বলেন, বিগত উপাচার্যের আমলে অনেক নিয়োগ হয়েছে। সে সব নিয়োগে বাস্তব প্রয়োজন কতটুকু ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া আখতার বলেন, ‘সব নিয়োগ দিয়েছি যোগ্যতার ভিত্তিতে। আমরা কোনো দলীয়করণ বা স্বজনপ্রীতি করিনি। নতুন দুটি হল চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়োগ বেশি দিতে হয়েছে।’

নিয়োগের রেকর্ড 
অধ্যাপক ইয়াহ্‌ইয়া আখতার ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। চবির  রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন এ শিক্ষক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান গত ১৬ মার্চ। এই অল্প সময়ে তিনি রেকর্ড ৪২৫ জন নিয়োগ দেন।

তাঁর মতো নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে দায়িত্ব পালন করা অন্য ছয় উপাচার্যের বিরুদ্ধেও। কিন্তু তাদের আমলেও এত বেশি সংখ্যক নিয়োগ হয়নি।
২০০৯-১০ সালে আবু ইউসুফের আমলে ২১ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ পান ৮৮ জন। ২০১১-১৫ সালে আনোয়ারুল আজিমের আমল ছিল চার বছর। তখন নিয়োগ পান ৫৯৯ জন। ২০১৫-১৯ সালে উপাচার্য ছিলেন ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তিনিও চার বছরে নিয়োগ দেন ৫৩২ জনকে। ২০১৯-২৪ সালে শিরীণ আখতারের আমলে সোয়া চার বছরে নিয়োগ পান ৩১৬ জন।

রেকর্ড নিয়োগে কারা কতজন
৪২৫ জনের মধ্যে শিক্ষক ১২২ জন, যা মোট নিয়োগের ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে নতুন শিক্ষক ৮১ জন, চবির স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০ জন। বাকি ৩১ জনকে অস্থায়ী থেকে স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মকর্তা নিয়োগ ২২ জন, ৫ শতাংশ। এদের সবাইকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ ২৮১ জন, মোট নিয়োগের ৬৬ শতাংশ।
চবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ১৮ মাসে ৪২৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। জামায়াত-শিবিরের লোক দিয়ে দল ভারী করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

স্বজন নিয়োগ
সম্প্রতি চবি ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ হয়েছেন মো. আবদুল কাইয়ুম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ভাই। একইভাবে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে, আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের জামাতা নাইমুর হককে একই বিভাগে, শহীদ আব্দুর রব হলের প্রভোস্ট ও পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকীর স্ত্রী আফরোজ তাজিন একই বিভাগে এবং শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট ও ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক বেগম ইসমত আরা হকের ছেলে হাসান মো. রাফি ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বুদ্ধিজীবী দিবসের একটি বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হলে তাঁর পক্ষে জামায়াতপন্থি সাদা দল সংশ্লিষ্ট ১০১ জন শিক্ষক যে বিবৃতি দেন সেখানে বেগম ইসমত আরা হক, মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও আরিফুল হক সিদ্দিকীর নামও উল্লেখ রয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক হাসান মো. রাফি বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, প্রেজেন্টেশন দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছি। আমার নিয়োগ বোর্ডে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা কেউই জানতেন না আমার মা শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট।’

পছন্দের ব্যক্তি দিয়ে নিয়োগ বোর্ড
উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা শামীম ফাইন্যান্স বিভাগে অস্থায়ীভাবে প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ একাধিক বঞ্চিত প্রার্থী বলছেন, উপ-উপাচার্যের মেয়ে মেধা তালিকায় অনেক পেছনে ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ৮০। কিন্তু তাঁর চেয়ে বেশি সিজিপিএধারী প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯৫, ৩ দশমিক ৯০, ৩ দশমিক ৮৯, ৩ দশমিক ৮৪, ৩ দশমিক ৮২ প্রাপ্ত আবেদনকারীও ছিলেন। এর পরও পছন্দের লোক দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করায় শিক্ষক হয়েছেন মাহিরা।

এই নিয়োগে যে বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, তার অধিকাংশ সদস্য ছিল সাদা দলের জামায়াতপন্থি শিক্ষক। এই বোর্ডের প্রধান ছিলেন উপাচার্য ইয়াহ্‌ইয়া নিজেই। বাকি সদস্যরা সবাই ছিলেন উপ-উপাচার্যের ফাইন্যান্স বিভাগের। আবার উপাচার্য ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের জন্য গঠন করেছেন অন্যরকম বোর্ড। সেখানে ফার্সি বিভাগের কোনো শিক্ষককে না রেখে চবির অন্য বিভাগ ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়োগ বোর্ডে রাখেন।

ফার্সি বিভাগের নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী মো. আকিব তখন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দের ব্যক্তিকে শিক্ষক করতেই এমন অপকৌশল নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৯ জনের মধ্যে চবির যে ১৩ জন প্রার্থী ছিলেন; তাদের সবাইকেই লিখিত পরীক্ষায় পাস করানো হয়নি।

উপ-উপাচার্যের মেয়ে মাহিরা শামীম বলেন, ‘আমার নিয়োগ বোর্ডে যারা ছিলেন, তারা কোন দলের তা আমার জানা নেই। আমি তাদের শিক্ষক হিসেবেই চিনি। তবে নিয়োগ বোর্ডে আমার বাবার প্রভাব ছিল না এবং সুপারিশও ছিল না।’
মাহিরা শামীমের বাবা ড. শামীম উদ্দিন বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে কি আওয়ামীপন্থি শিক্ষক থাকবে? জুলাই আন্দোলনের পরে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই সাদা দলের শিক্ষকরা নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন। আমি সেই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলাম না। আর আমি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলে আমার মেয়ে কি নিয়োগ পেতে পারে না?’

পরিবর্তন আনা হয় নীতিমালায়
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহমদ ইমরানুল আজিজ তালুকদার। ২০০৬-০৭ সেশনে তিনি শিবিরের সোহরাওয়ার্দী হলে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক বলেন, আগে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ৩ দশমিক ৫০ গ্রেড পয়েন্ট দরকার হতো। এবার সেটি কমিয়ে করা হয়েছে ৩ দশমিক ৪০। নিয়োগ পাওয়া আহমদ ইমরানুলের রেজাল্ট ছিল ৩ দশমিক ৪২।
তবে আহমদ ইমরানুল বলেন, ‘আমার নিয়োগ নীতিমালা মেনেই হয়েছে। এটা ঠিক যে, নিয়োগের যোগ্যতা শিথিল করার পর আবেদন করেছি।’

নিয়োগের ১০ শতাংশ নোয়াখালীর
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৪২ জনের বাড়ি নোয়াখালী। এটা মোট নিয়োগের প্রায় ১০ শতাংশ। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. কামাল উদ্দিনের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। আরেক উপ-উপাচার্য  ড. শামীম উদ্দিনের বাড়িও সেনবাগে। এর প্রভাব পড়েছে চবির নিয়োগ কার্যক্রমেও। বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. নূর নবী, ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সাইদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বাড়ি সুবর্ণচরে।

শিক্ষক হলেন উপ-উপাচার্যের সহগবেষক
প্রশ্ন উঠেছে ক্রিমিনোলজি বিভাগে আরিফ উল্লাহর নিয়োগ নিয়েও। তাঁর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীনই নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ও উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করেন আরিফ। গত বছর ১৮ মার্চ তাদের যৌথ গবেষণা জমা হয়। ২৮ অক্টোবর তাদের গবেষণাপত্রটি ‘টেলর ও ফ্রান্সিস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।
কিন্তু এর ২২ দিন আগেই ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজের সহগবেষককে শিক্ষক হিসেবে বেছে নেন কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। সে আমার ছাত্র; তার সঙ্গে গবেষণা করা তো দোষের কিছু না।’

আরিফ উল্লাহ বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে উপ-উপাচার্য স্যার উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর কাছ থেকে আমি কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা পাইনি।’

নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ক্রিমিনোলজির শিক্ষক
ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছিল, তাদের নৃবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষক প্রয়োজন নেই। এর পরও দল ভারী করতে সাইদুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয় ক্রিমিনোলজি বিভাগে। ওই বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বিভাগে চার বছরে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে কোর্স মাত্র ৫০ মার্কের। এই ৫০ মার্কের কোর্সের জন্য একজন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। তবুও এক উপ-উপাচার্যের পছন্দের ব্যক্তি থাকায় তাঁকে নিয়োগ দিয়ে গেছেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য।’
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক সাঈদুর রহমান বলেন, ‘আমার আর উপ-উপাচার্য কামাল স্যারের বাড়ি একই এলাকায়। আমার নিয়োগ বোর্ডে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে কোনো প্রকার বিশেষ সুবিধা প্রদান করেননি।’

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হলেন অধ্যক্ষ
সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের সময়ে চবির ল্যাবরেটরি স্কুলে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নাম আব্দুল কাইয়ুম। দুর্নীতি মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অভিভাবক কমিটির তৎকালীন নির্বাহী সদস্য মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল জানান, ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কর্মরত অবস্থায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবুও রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই হওয়ার সুবাদে নিয়োগ পেয়েছেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘সে সময় আমি সৌদির ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলাম। এ জন্য পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। নির্দোষ থাকায় আমাকে তারা গ্রেপ্তার করেনি। আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তা অপপ্রচার।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই যেদিন আবেদন করেছিল, আমি সেদিনই বোর্ডের সভাপতির কাছে পদত্যাগ চাই। নিয়োগের দিন আমি উপস্থিত ছিলাম না।’

তনু হত্যা মামলার নতুন মোড়, তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলাটি নতুন মোড় নিচ্ছে। মামলা দায়েরের ১০ বছর পর আজ সোমবার তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সকালে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হলে তাঁকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পরই আজ সোমবার ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। এতে বিচারক সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ করার নির্দেশ দেন।

আদালত ভবনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম

আদালত ভবনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছেন, সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করতে। ওই তিনজন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেছেন আদালত।

এর আগে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস থেকে একটু দূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

আদালত ভবনে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন

আদালত ভবনে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিচার চাইব: তনুর বাবা
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও আজ আদালতে আসেন। তিনি সমকালকে বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতার গেলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইব। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশে সকল হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পাইলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন আর রেখে কি লাভ।’

উজবেকিস্তানকে রুখে দিয়েও অনিশ্চিত বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে সেমিফাইনাল, একই সঙ্গে মিলবে এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। এমন সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে আমিরুল ইসলামের গোলে সমতায় ফিরলেও জয়টা আর পাওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত উজবেকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে বাংলাদেশ। আর তাতেই সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান গেমসের টিকিট পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

‘বি’ গ্রুপের বাছাইপর্বে তিন ম্যাচ শেষে একটি করে জয়, হার ও ড্রয়ে উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় দলেরই পয়েন্ট সমান ৪। কিন্তু পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে উজবেকিস্তান।

সোমবার ব্যাংককের রয়্যাল থাই এয়ার ফোর্স হকি মাঠে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ষষ্ঠ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল হজম করে বসে তারা। মিরনশোখ ওর্তিকবোয়েভ বল জালে জড়িয়ে উজবেকিস্তানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষ কোয়ার্টার পর্যন্ত। ৪৬ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দারুণ এক গোলে সমতা ফেরান আমিরুল ইসলাম। এরপর জয়ের জন্য আক্রমণ শানালেও আর জালের দেখা পায়নি কোনো দলই। ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুদলকে।

সেমি থেকে ছিটকে গেলেও এশিয়ান গেমসে খেলার সম্ভাবনা একেবারেই শেষ হয়ে যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ৯ দলের বাছাইপর্ব থেকে শীর্ষ ৬টি দল চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে। সেই হিসেবে টুর্নামেন্টে পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারলেও এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

নববর্ষের শোভাযাত্রায় মোটিফ হিসেবে যা যা থাকছে

বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে চারুকলায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ, যেখানে লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয় ঘটেছে।

ঢাবি চারুকলা অনুষদের ডিন শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল সমকালকে এবারের মোটিফগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এবারের আয়োজনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে একটি বৃহৎ মোরগের প্রতিকৃতি। ভোরবেলায় মোরগের ডাক যেমন নতুন দিনের সূচনা ঘোষণা করে, তেমনি এটি প্রতীকীভাবে নতুন বছর, নতুন সূর্য এবং জাগরণের বার্তা বহন করে। কৃষিভিত্তিক সমাজে মোরগের ডাক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক স্বাভাবিক সময়চিহ্ন। সেই ঐতিহ্যকেই তুলে ধরা হয়েছে এই মোটিফে।

তিনি বলেন, লোকজ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁ’র ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতিকেও বিশেষভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে। চার চাকা বিশিষ্ট এই কাঠের হাতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। শোভাযাত্রায় এটিকে বৃহৎ আকারে নির্মাণ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে সংগীতের প্রতীক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে দোতরা। এটি শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং বাংলার মরমিয়া সংগীত ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব। অন্যদিকে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সর্বজনীন সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে রাখা হয়েছে পায়রার মোটিফ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই পায়রা শান্তির আহ্বান জানাবে।

এর পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা বা পোড়ামাটির ঘোড়াও এবারের শোভাযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আরোহীসহ এই ঘোড়ার প্রতিকৃতি লোকজ শিল্পের আরেকটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপিত হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান এই পাঁচটি মোটিফের বাইরে শোভাযাত্রায় আরও থাকবে প্যাঁচা, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, বাঘের মুখোশ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র মোটিফ। সব মিলিয়ে এবারের আয়োজনটি হয়ে উঠছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বার্তার এক সৃজনশীল সমন্বয় বলেও জানান চারুকলার ডিন।

জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন জাহ্নবী

তারকাখ্যাতির সঙ্গে নানারকম বিড়ম্বনাও ওতপ্রোতভাবে জাড়িয়ে যায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনে। কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা এমন হয়, তা চাইলেও ভুলে থাকা কঠিন। তেমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন জাহ্নবী কাপুর। ডিপফেক ছবির কারণে কীভাবে তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন, এবার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন অনুরাগীদের কাছে। যদিও ঘটনা অনেকদিন আগের তবু সেটি ভুলে থাকা এই বলিউড তারকার জন্য আজও কঠিন।

আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, এই সময়সহ আরও কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, অভিনয় জগতে যখনই জাহ্নবী কাপুরের পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তাঁর একটি বিকৃত ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল একটি ওয়েবসাইটে; যেখানে নোংরা ছবি ভিডিও হরহামেশা প্রকাশ করা হয়।

বিষয়টি নজরে আসতেই শিউরে উঠেছিলেন জাহ্নবী। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর। স্কুলে পড়াকালীন আচমকা সেই সাইটে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই ঘটনা তাঁর কিশোরী মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে কৈশোরের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলছেন সুপারস্টার শ্রীদেবী এই সুযোগ্য কন্যা।

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সেই মুহূর্তটার কথা বলতে গিয়ে জাহ্নবী বলেছেন, ‘আমি আজও জানি না ওই ডিপফেক ছবি কীভাবে ওই সাইটে জায়গা পেয়েছিল। তবে এটুকু নিশ্চিত, ওইরকমই কিছু একটা ছিল। একটা সাইটে যখন নিজের ছবি দেখেছিলাম তখন আমি একজন স্কুলছাত্রী। তাই প্রথমে দেখে যেন পুরো শরীর কেঁপে উঠেছিল।’

স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের তখন একটা আইটির ক্লাস হতো। ছেলেরা কিছু সাইটের নোংরা ছবি দেখে মজা নিত। আর সেখানে আমার ছবি, কী মারাত্মক! স্কুলে পড়াকালীন এ রকম একটা ঘটনা আমার জীবনকে যেন সেই মুহূর্তে একেবারে ওলটপালট করে দিয়েছিল। একটা সময় মনে হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়া থাকাটাই যেন অপরাধ। আমি সেই অপরাধের মাশুল গুনছি। এতগুলো বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা যেন আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমি তো সাহস করে তখন অভিযোগও করতে পারিনি।’

জাহ্নবীর কথায়, ‘যদি কখনও পরিচালককে কোনো পোশাক নিয়ে আপত্তি জানাই বা বলি যে, এই পোশাকে আমি স্বচ্ছন্দ নই তখন তো তিনি এই ছবিগুলো উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখবেন।’ অনলাইন ‘কেলেঙ্কারি’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রীর সংযোজন, আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক ছবি তাঁর নজরে আসে, যেগুলোর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

‘ডিপফেক’ ‘এআই’ নিয়ে ভয় পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করে জাহ্নবী বলেছেন, ‘আমি কিন্তু একদম নিশ্চিন্তে থাকতে পারি না। কারণ আমার এমন কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনকি অফিসিয়াল পেজে দেখতে পাই, যেগুলো পুরোপুরি এআই দ্বারা নির্মিত। আমি হয়তো যে ধরনের পোশাকই পরিনি সেই পোশাকে আমার ছবি আবার যে ভঙ্গিমায় পোজ দিয়েছি, সেটা বিকৃত করে খারাপ কিছু প্রতিস্থাপন করা হয়।’

উন্নত প্রযুক্তির গেরোয় জাহ্নবীর কর্মজীবনও বিশেষভাবে প্রভাবিত। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘এই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেন আমিই সেগুলো স্বেচ্ছায় শেয়ার করেছি। এর ফলে আমার সম্পর্কে একটা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। আগামীতে আমি যদি পরিচালককে কোনো পোশাক নিয়ে আপত্তি জানাই বা বলি যে এই পোশাকে আমি স্বচ্ছন্দ নই, তখন তো তিনি আমাকে আর বিশ্বাস করবেন না। এই ছবিগুলো উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখবেন। উল্টোদিকের মানুষটার তো সত্যিই জানা সম্ভব নয় যে, ওটা এআই-এর কেরামতি।’