Home Blog Page 127

ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যয় অর্ধেকে নেমেছে

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজি, যৌথ দরকষাকষিতে প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিল ও চাকরি অবসান ইত্যাদি। এসব ধারা যদি সংশোধিত শ্রম আইনে সংযুক্ত থাকে, তাহলে শিল্পকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিরোধ আরও বাড়বে। এতে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিকেএমইএ। রাজধানীর বাংলামটরে  সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আপত্তিকর এসব ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় নির্বাহী সভাপতি  ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার, মোহাম্মদ রাশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদে (টিসিসি) বিস্তারিত আলোচনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রকাশিত গেজেট  দেখা যায়, টিসিসির সিদ্ধান্তের বাইরে বেশ কিছু ধারা অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়ে থাকে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী তাদের দেওয়া হয়নি।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ নভেম্বর সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ জারি করে। এটি এখন জাতীয় সংসদে  আইন আকারে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞায় আপত্তি তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংজ্ঞার কারণে সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরির শ্রমিকের পাশাপাশি ৫৪ লাখ টাকার কর্মকর্তাকেও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন এই কর্মকর্তাও সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারেন। অথচ কর্মকর্তারা শ্রম আইনের ভিন্ন ধারায় করপোরেট চাকরি বিধি অনুযায়ী অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজির কারণে বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতারা অডিটে নানা আপত্তি দেবেন। এতে রপ্তানি আদেশ না দেওয়া বা কম দেওয়া কিংবা দর কম দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।

চাকরির অবসান বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্থায়ী শ্রমিকরা তিন বছর পর্যন্ত প্রতিবছরের জন্য সাত দিনের মজুরি, তিন থেকে ১০ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরি এবং ১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। অথচ টিসিসিতে তিন থেকে পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য সাত দিনের মজুরি এবং পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের জন্য ১৫ দিনের মজুরির কথা বলা ছিল। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সংশোধিত সময়সীমা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হবে।

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ আইন হলে বিরোধ বাড়বে

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজি, যৌথ দরকষাকষিতে প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিল ও চাকরি অবসান ইত্যাদি। এসব ধারা যদি সংশোধিত শ্রম আইনে সংযুক্ত থাকে, তাহলে শিল্পকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিরোধ আরও বাড়বে। এতে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিকেএমইএ। রাজধানীর বাংলামটরে  সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আপত্তিকর এসব ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় নির্বাহী সভাপতি  ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার, মোহাম্মদ রাশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদে (টিসিসি) বিস্তারিত আলোচনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রকাশিত গেজেট  দেখা যায়, টিসিসির সিদ্ধান্তের বাইরে বেশ কিছু ধারা অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়ে থাকে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী তাদের দেওয়া হয়নি।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ নভেম্বর সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ জারি করে। এটি এখন জাতীয় সংসদে  আইন আকারে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞায় আপত্তি তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংজ্ঞার কারণে সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরির শ্রমিকের পাশাপাশি ৫৪ লাখ টাকার কর্মকর্তাকেও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন এই কর্মকর্তাও সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারেন। অথচ কর্মকর্তারা শ্রম আইনের ভিন্ন ধারায় করপোরেট চাকরি বিধি অনুযায়ী অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজির কারণে বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতারা অডিটে নানা আপত্তি দেবেন। এতে রপ্তানি আদেশ না দেওয়া বা কম দেওয়া কিংবা দর কম দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।

চাকরির অবসান বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্থায়ী শ্রমিকরা তিন বছর পর্যন্ত প্রতিবছরের জন্য সাত দিনের মজুরি, তিন থেকে ১০ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরি এবং ১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। অথচ টিসিসিতে তিন থেকে পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য সাত দিনের মজুরি এবং পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের জন্য ১৫ দিনের মজুরির কথা বলা ছিল। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সংশোধিত সময়সীমা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য চিরতরে বদলে গেছে হরমুজ প্রণালি, এটি তাদের জন্য আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা যাকে ‘নতুন ব্যবস্থা’ বলে জানিয়েছেন, তা কার্যকর করার লক্ষ্যে তারা এখন সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটিতে একটি খসড়া আইন অনুমোদনের কয়েক দিন পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবনায় যা যা রয়েছে— যাতায়াত শুল্ক ইরানের জাতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ।

তাছাড়া ওই পরিকল্পনায় প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রোববার তিনি এ হুমকি দেন।

গতকাল রোববার এবিসি নিউজকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের প্রতি সুনির্দিষ্ট এক নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। পোস্টে তিনি লেখেন ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরানের সময় বুধবার মধ্যরাত)।

একই দিন এর আগে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, আমার দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যে ইরান ‘কিছু না করলে’ তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না। ট্রাম্পের এ আলটিমেটাম নিয়ে রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কেরানীগঞ্জের কারখানায় আগুন লাশের হাতে চাবি, তালা খুলে মাকে চিনল সাব্বির

আগুনে পোড়া গ্যাসলাইটার কারখানার সামনে সারাদিন মায়ের খোঁজ না পেয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন রাতে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) মর্গে যান। পোড়া অজ্ঞাত লাশগুলোর মধ্যে তিনি মায়ের মরদেহ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু লাশগুলো এতটাই পুড়ে গেছে, চেনা যাচ্ছিল না।

হঠাৎ একটি লাশের হাতের দিকে তাঁর নজর যায়। পুড়ে কঙ্কাল হয়ে যাওয়া সেই লাশটির হাতের মুঠোয় ছিল একটি চাবির গুচ্ছ। ঘরের আলমারি ও ড্রয়ারের চাবি সব সময় তাঁর মায়ের কাছেই থাকত। চাবির রিংয়ে মায়ের ওড়নার পোড়া অংশ আটকে থাকতে দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশের সহায়তায় তিনি গভীর রাতে ওই চাবিগুচ্ছ নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলীর শহীদনগরের বাসায় ছুটে যান। সেখানে একে একে চারটি চাবি দিয়ে চারটি তালা খুলে ফেলেন। এভাবেই ২৬ বছর বয়সী সাব্বির নিশ্চিত হন, এটাই তাঁর মা মঞ্জু বেগমের (৪৯) মরদেহ।

মঞ্জু বেগম ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার আমবাগিচার এস আর গ্যাসলাইটার কারখানায় শনিবার প্রথম কাজে যান। অগ্নিকাণ্ডে তিনিসহ ছয় শ্রমিক নিহত হন। আহত ও দগ্ধ হন আরও কয়েকজন।

কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল রোববার স্বজনের কাছে এসব লাশ হস্তান্তর করা হয়। তিনজনই ওই কারখানারশ্রমিক ছিলেন। বাকি তিনজনের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে রাখা হয়। এর আগে মিটফোর্ড মর্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ওই তিন মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

অগ্নিকাণ্ড ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। এ মামলায় কারখানাটির মালিক পক্ষের সহযোগী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কেরানীগঞ্জ শিট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি। কারখানার মালিক আকরাম উল্লাহ আকরামসহ অপর আসামিরা পলাতক।

আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ খান সমকালকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, ইমান উল্লাহ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য।’

মঞ্জু বেগম ছাড়া শনাক্ত হওয়া অপর দুজন হলেন– শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মিম আক্তার (১৬)। মঞ্জু বেগমের ছেলে কদমতলীর ফুটপাতে আখের রস বিক্রেতা সাব্বির হোসেন সমকালকে বলেন, ‘পুড়ে যাওয়ায় মায়ের চেহারা বোঝার উপায় নেই। মায়ের ওড়নার পোড়া অংশ দেখে এবং চাবি দিয়ে তালাগুলো খুলে যাওয়ার পর বুঝতে পারি এটাই আমার মায়ের লাশ।’ মঞ্জু বেগমের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কবিরকাটি এলাকায়। গতকাল বিকেলে স্বজন তাঁর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

শনিবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড মর্গে গিয়ে মিম আক্তারের লাশ শনাক্ত করেন তার বাবা নিরাপত্তাকর্মী দেলোয়ার হোসেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। আমবাগিচায় ভাড়া থাকতেন। শাহীনুরের লাশ গতকাল সকালে শনাক্ত করা হয়। শাহীনুর বেগমের বাড়ি মাদারীপুরে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলামবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবা আজিজ কাজী জানান, মেয়ের চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন।

শনিবার দুপুর ১টার পর কেরানীগঞ্জের আমবাগিচায় গ্যাসলাইটার তৈরির টিনশেডের কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিকেল পৌনে ৫টায় আগুন নেভান। তল্লাশি করে ছয় শ্রমিকের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, গতকাল তিনজনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনএ ম্যাচিং করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি তিনজনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ওসি বলেন, অগ্নিকাণ্ড, হত্যা ও শ্রম আইনে কারখানার মালিক আকরাম, তার ছেলে আহনাফ আকিব এবং সহযোগী ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানসহ অজ্ঞাত ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অগ্নিকাণ্ড ও নিহতের ঘটনায় ঢাকা জেলা প্রশাসন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

আগুনে ছয় শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) (মার্কসবাদী)। এটিকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে অবিলম্বে শ্রমিক হত্যার যথাযথ তদন্ত করে দায়ী কারখানা মালিকসহ রাষ্ট্রীয় তদারকি সংস্থার অবহেলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানায় দলটি।

গতকাল দলের সমন্বয়ক মাসুদ রানা এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ পাসে আগ্রহ না দেখানো উদ্বেগজনক: টিআইবি

দেশে কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন ও গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত পাসে আগ্রহ না দেখানো উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আইন পাসে ‘ছেলে খেলা’ করা হচ্ছে।

তার ভাষ্য, ‘সবচেয়ে বড় বিস্ময় হচ্ছে, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। তার ভুক্তভোগী ক্ষমতাসীন দলটি এর প্রয়োজনীয়তা কেন এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। যেসব বিষয়কে সামনে রেখে আলোচিত অধ্যাদেশসমূহকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হলো তা আরও বেশি শঙ্কা এবং উদ্বেগের।’

আজ সোমবার সকালে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত/ বাতিল সংশোধন সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান জানায় টিআইবি।

ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও টিআইবির পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন। এসময় টিআইবি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো এখনই পাশ করতে আগ্রহী নয়; বরং পরে করতে আগ্রহী। প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা ও বিচারিক ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় রুপান্তর এসব বিষয়কে সামনে রেখে অধ্যাদেশ সমূহকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল মোট ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার জন্য সুপারিশ করেছে, যা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন ২০২৫, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ)’ অধ্যাদেশও রয়েছে। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশের সবই দুর্বলতাহীন নয়, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যেমন- সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ৪টি সংশোধনী অধ্যাদেশও এরমধ্যে রয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় দুষ্ট। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার; যেমন-সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় সরকার। যেখানে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকারও নিজের ইচ্ছেমতো সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে। গতকাল রোববার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি আংশিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু এই শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টাটিই যুদ্ধের নাটকীয় বিস্তার রোধ করার একমাত্র সুযোগ, যার মধ্যে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইরানের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা আজ সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার ট্রাম্প তার সময়সীমা ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন এবং ট্রুথ সোশ্যালে মঙ্গলবার রাত ৮টা (পশ্চিমা সময়) পর্যন্ত একটি নতুন সময়সীমা ঘোষণা করেন।

এনএসসিতে জমা পড়েছে বিসিবি নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত নির্বাচনের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে। বেঁধে দেওয়া ১৫ কার্যদিবসের আগেই আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান।

গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি পরিচালক পর্ষদের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় ও নানা অভিযোগ উঠলে, গত ১১ মার্চ এক সাবেক বিচারপতিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এনএসসিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, নিরপেক্ষ অবস্থান থেকেই তদন্ত সম্পন্ন করেছেন তারা। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। আমরা যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চেষ্টা করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যা পেয়েছি, সেভাবে সুন্দরভাবে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সংক্ষিপ্তভাবে কাউকে অভিযুক্ত না করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের সময় যা পেয়েছি, সে সম্বন্ধে প্রতিবেদন দিয়েছি।’

প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ডসংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এ সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তদন্তের স্বার্থে বিসিবির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্তাকে কমিটির সামনে হাজির হতে হয়েছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এবং বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। কমিটি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়াকেও তলব করেছিল। তবে তিনি উপস্থিত হননি।

প্রতিবেদন জমা পড়ার কিছুক্ষণ পরই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অনুপস্থিতির কারণ জানান। তিনি লেখেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের মতো ‘এখতিয়ার-বহির্ভূত’ কাজে অংশ না নিতেই তিনি সাক্ষাৎকারের নোটিশে সাড়া দেননি। উল্টো কমিটির প্রজ্ঞাপনে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নির্ধারিত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে অক্টোবরের ওই বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে বিসিবিতে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বোর্ডের ৭ জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের পর ওড়িশা পুলিশের দ্বারস্থ প্রিয়াঙ্কাসহ আর্টিস্ট ফোরাম

টালিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। অভিনেতার মৃত্যুর ৭ দিন পর কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানার পর এবার ওড়িশার তালসারি মেরিন থানাতেও এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা।

শুটিং চলাকালীন গাফিলতির অভিযোগ তুলে দায়ীদের শাস্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগে। ইতোমধ্যে এফআইআরটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এই মামলায় প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তদন্ত আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে কলকাতায় রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শনিবার আর্টিস্ট ফোরাম রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। আর্টিস্ট ফোরামের দাবি, রাহুলের অকালমৃত্যুর দায় প্রযোজনা সংস্থারই। কলকাতায় তিনটি ধারায় এফআইআর করা হয়েছে। সেগুলো হল ৬১ (২), ১০৬(১) ২৪০ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃত খুন ও অপরাধ সংগঠিত হয়েছে জেনেও সে সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া।

অভিযোগ জানাতে প্রিয়াঙ্কা সরকারের পাশে ছিলেন টালিউডের শীর্ষ তারকারা- চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ভরত কল, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, লাবণী সরকার, বিদীপ্তা চক্রবর্তীসহ অনেকে।

একই দাবিতে শহরে প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেন অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, জুন মালিয়া, অরিন্দম শীল, পিয়া সেনগুপ্ত ও ঋষি কৌশিকসহ আরও অনেকে। তারা রাহুলের সাদা-কালো ছবি হাতে নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামেন।

পরে রাতে ওড়িশার তালসারি কোস্টাল থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে বৈঠক করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস ও ইন্দ্রাশিস রায়। দীর্ঘ বৈঠকের পর তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।

ওড়িশা পুলিশের বালেশ্বর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবজ্যোতি দান জানিয়েছেন, এফআইআরটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়–এর। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু। তবে অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শুটিং চলছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি।

ঘটনার এক সপ্তাহ পরও বহু প্রশ্নের উত্তর না মেলায়, প্রিয়াঙ্কা ও আর্টিস্ট ফোরামের এই আইনি পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের দাবি—দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে ন্যায়বিচার।

চুল পড়ে কপাল বড় হয়ে যাচ্ছে? সমাধানে কী করবেন

অনেকেই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। ব্যস্ত জীবনযাপন, দূষণ, মানসিক চাপ- সব মিলিয়ে আজকাল অল্প বয়সেই চুল পাতলা হওয়ার সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরোয়া কিছু সমাধান অনুসরণ করলে এ সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল পুষ্টির এবং মাথার ত্বকে যত্নের অভাব। মাথার ত্বক বা চুলের গোড়া সুস্থ না থাকলে চুল দ্রুত পড়তে শুরু করে।

নারকেল তেল চুল পড়া প্রতিরোধে কার্যকর উপাদান হিসেবে ধরা হয়। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন হালকা গরম নারকেল তেল মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। একই সঙ্গে তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়।

চুলের যত্নে কী করবেন
পেঁয়াজের রস চুল পড়া কমানোর জনপ্রিয় ঘরোয়া উপাদান। এতে থাকা সালফার চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে উপকার। যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের আগে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা এনজাইম মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। ফলে চুলের বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়। সপ্তাহে এক-দু’বার অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন।

চুল পড়া প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি এবং বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, ডাল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম; এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়া প্রতিরোধে মানসিক চাপ কমানোও জরুরি। অতিরিক্ত মানসিক চাপ হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে, যা সরাসরি চুল পড়ার উপর প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম এই ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিত ড. ইউনূসকে রাজপথে নামতে বললেন নাহিদ

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নীরব থাকা উচিত নয়। তাঁরও রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া উচিত। তা না হলে তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

গতকাল শনিবার ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, উপদেষ্টারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে। কোনো সংস্কার হবে না, অথচ তারা কোনো কথা বলবেন না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন–এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) হাতে ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছেন। কিন্তু যতটুক অর্জন হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও তিনি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানান।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে, এটা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম নতুন সংবিধান। বিএনপি বলেছিল, তারা নির্বাচন চায়। তারা পুরোনো সবকিছুকে রেখেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। আমরা বলেছিলাম, দেশের আমূল সংস্কার প্রয়োজন। এখন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তিনি বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সচিবালয় অধ্যাদেশ তারা বাতিল করছে। অথচ তাদের অনেক নেতাই গুমের শিকার হয়েছেন। এই গুমের অধ্যাদেশও তারা বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে বিএনপি কলঙ্কমুক্ত হবে না।