Home Blog Page 127

ঢাকাকে ক্লিন-গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে-

এরমধ্যে হচ্ছে: নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল/সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী ৫ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ হতে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর হতে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নীচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে- এরমধ্যে হচ্ছে- ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়াও ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অধিকন্তু ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য Internet Protocol (IP) ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫ শত ৬৫টি ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করি এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ঢাকায় বাংলা বৌদ্ধ শিল্পের চতুর্থ জাতীয় প্রদর্শনী শুরু

রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে বাংলা বৌদ্ধ শিল্পের চতুর্থ জাতীয় প্রদর্শনী ‘বাংলার বুদ্ধ: আমাদের পবিত্র সংঘ’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানান, এটি শুধু একটি শিল্প প্রদর্শনী নয়; বরং দর্শকদের জন্য এক ধরনের অন্তর্জাগতিক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র। এখানে শিল্পকর্মের মাধ্যমে করুণা, ধ্যান এবং মানবতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ শিল্পচর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

এবারের প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য বৌদ্ধধর্মের তৃতীয় রত্ন ‘সংঘ’। এই ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ৯১টি শিল্পকর্মে। বিভিন্ন মাধ্যমে নির্মিত এসব শিল্পকর্মে ধ্যান, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।

প্রদর্শনীতে দেশের ৮০ জন শিল্পী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের কাজের মাধ্যম হিসেবে রয়েছে জলরং, গোয়াশ, টেম্পেরা, ভাস্কর্য, মিনিয়েচার, বাটিক, অ্যাপ্লিক, উডকাট, নকশিকাঁথা, সিরামিক, প্রিন্টমেকিং ও ধাতুশিল্প। শিল্পীরা তাঁদের কাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও অস্তিত্বের আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরেছেন। শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন সম্প্রীতি, করুণা, মানবিক সহমর্মিতা এবং অস্তিত্বের পারস্পরিক সংযোগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রদর্শনীর কিউরেটর ড. মলয় বালা বলেন, বুদ্ধের করুণা, মৈত্রী ও প্রজ্ঞার শিক্ষা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দৃশ্যমান রূপ পেয়েছে।

সহ-কিউরেটর মিখাইল ইদ্রিস বলেন, সত্তার সংঘ মানবতার আধ্যাত্মিক সংকটের বিরুদ্ধে এক গভীর প্রতিষেধক। এই উপলব্ধিই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।

art

দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নবীন শিল্পীরা এখানে তাঁদের সৃজনশীলতা মেলে ধরেছেন। এছাড়াও যুক্ত হয়েছেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং চীনের ইউনান আর্ট ইউনিভার্সিটির শিল্পীরাও।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে শ্রী বুদ্ধের জীবন ও দর্শন নতুনভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি দর্শকদের তা অনুভব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা জানান, শিল্প এখানে ধর্মীয় সীমা ছাড়িয়ে সার্বজনীন মানবিক ভাষায় রূপ নিয়েছে।

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে প্রতিদিন আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সংগীত পরিবেশনা, জলরং কর্মশালা, শিল্পীদের সঙ্গে গ্যালারি ভ্রমণ এবং বৌদ্ধ দর্শনভিত্তিক আলোচনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁশিতে এস. এম. রাকিবুল হাসান এবং ভারতনাট্যম নৃত্যে শেওলা রভর্তী আড়োজার পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সমাপনী দিনে প্রথমবারের মতো ‘বেস্ট আর্টিস্টস অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করা হবে। এতে প্রথম পুরস্কার ৮০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ৫৮ হাজার, তৃতীয় ৩৫ হাজার এবং সেরা শিক্ষার্থী শিল্পকর্মের জন্য ৩৫ হাজার টাকা সম্মাননা দেওয়া হবে।

ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ ও লার্নিং ডিজাইন স্টুডিওর উদ্যোগে, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।

দাম বাড়ল সয়াবিন তেলের

দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। একই সঙ্গে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ৫ লিটারের বোতল এখন বিক্রি হবে ৯৭৫ টাকায়। এছাড়া পামওয়েলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যেসব পণ্যে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর, সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে উৎস পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে।

000001 1777459565তিনি আরও বলেন, রমজান মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। ওই সময় থেকে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, মূল্য সমন্বয় না হলে তারা ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়বেন এবং পুঁজি সংকটে পড়বেন।

সরকার বিষয়টি একাধিকবার যাচাই-বাছাই করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত খরচ বিবেচনায় নিয়ে দেখা গেছে, মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত পুরো মূল্য বৃদ্ধি গ্রহণ করা হয়নি। ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সীমিত পরিসরে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোক্তারা এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নেবেন। একই সঙ্গে এই সমন্বয়ের ফলে আমদানিকারক ও রিফাইনারদের লোকসানের চাপ কিছুটা কমবে এবং বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ভোজ্যতেল শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিফাইনার ও আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ বছর পর সম্প্রচারে ফিরল চ্যানেল ওয়ান

দীর্ঘ ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর আবার সম্প্রচারে ফিরেছে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে পুনরায় বাণিজ্যিক সম্প্রচার শুরু করে চ্যানেলটি। এই উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। এতে যোগ দেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের গণমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ অন্য অতিথিরা কেক কেটে চ্যানেল ওয়ানের নবযাত্রায় শুভকামনা জানান। টেলিভিশনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্য গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।

চ্যানেল ওয়ানের প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যে চ্যানেলটি আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলেছিলাম, দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং দেশের টেলিভিশন অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার চালু করতে পারা আমাদের জন্য বড় অর্জন।
চ্যানেলটির বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন নাজমুল আশরাফ। তাঁর ভাষায়, এটি রাজনৈতিক কোনো লড়াই ছিল না, তবে প্রচলিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় সম্প্রচারে ফেরা সম্ভব হয়েছে।

নতুন যাত্রায় চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন নাজমুল আশরাফ। তিনি জানান, আগের তুলনায় এবার চ্যানেলটির কাঠামো ও লক্ষ্য ভিন্ন। আগে এটি ছিল মিশ্রধর্মী চ্যানেল, এখন ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক সম্প্রচারে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, কনটেন্ট এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচারে আর বাধা নেই বলে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রায় দেন আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এতে সম্প্রচারে ফেরার আইনি জটিলতা কাটে।

২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চ্যানেলটির ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ স্থগিত করলে এর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়। ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চ্যানেল ওয়ানের যাত্রা শুরু হয়। ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠা করেন।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ২ হাজার ৫২১

লেবাননের ভূখণ্ডে এ বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫২১ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মস্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যের বরাতে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) এ খবর জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য, ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৭ হাজার ৮০৪ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে তা ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। যুদ্ধবিরতির মাঝে গত দুই দিনে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এনএনএ।

যাদের মসুর ডাল খাওয়া ঠিক নয়

মসুর ডালে উৎকৃষ্ট পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রোটিনের একটি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য উৎস হলো এ ডাল। এতে রয়েছে অ্যান্টি-এজিং উপাদান, যা বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে বার্ধক্য রোধ করা যায়। এছাড়াও এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে মসুর ডাল। পুষ্টিবিদরা মনে করেন মসুর ডাল অনেক উপকারী হলেও, সবার এটি খাওয়া উচিত নয়।

যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, যারা বাতের ব্যথায় ভোগে, তাদের মসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এ ডালে ‘পিউরিন’ নামে এক ধরনের উপাদান  থাকে। শরীর যখন এই পিউরিন ভাঙে, তখন ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অস্থিসন্ধিতে জমে ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের কিডনিতে পাথর বা অন্যান্য সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যও মসুর ডাল ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, এ ডালে অক্সালেট থাকে যা কিডনিতে স্টোন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, কিডনি ঠিক মতো কাজ না করলে ডালে থাকা পটাশিয়াম এবং প্রোটিন রক্তে জমা হতে থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা যাদের রয়েছে, তাদেরও মসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে থাকা ফাইবার, শর্করা সহজে হজম হতে চায় না। আবার অন্ত্রে দীর্ঘক্ষণ জমে থাকলে গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদেরও মসুর ডাল এড়িয়ে চলা ভালো। যারা ওজন কমাতে ইচ্ছুক, তারা প্রতিদিন মসুর ডাল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে প্রোটিন ও ফাইবার বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে ওজন ও চর্বি বাড়তে পারে।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন মনিরার প্রার্থিতা বাতিল জীবা ও মাধবীর বহাল ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে মনিরার প্রার্থিতা বাতিলই থাকল। তবে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মনিরা শারমিন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের আপিল শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইসি। শুনানিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী জীবা আমিনা খান ও মাধবী মারমার মনোনয়নের বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়। ফলে এ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকছে।
এদিকে আপিল শুনানি শেষে গতকাল ৪৯ জনকে বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়ন দাখিল করা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণের জন্য ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আপিল শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তাঁর মনোনয়ন বাতিল থাকল। আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মনিরার প্রার্থিতা রাখার কোনো সুযোগ দেখছে না ইসি।
এর আগে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বাছাইকালে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার ইসিতে আপিল করেন তিনি।

মনিরা ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। এর আগে একই বছরের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন তিনি। তবে চাকরি ছাড়ার মাত্র সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হন মনিরা।
শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরি হিসেবে আমি যে পর্যায়ে কাজ করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজেই আমি মনে করি না, এটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মতো।

জীবা ও মারমার মনোনয়ন বৈধ 
শুনানিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী জীবা আমিনা খানের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেয় ইসি। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ তুলে আপিল করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জীবার বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন যথাযথ হয়নি। আপিলকারী প্রার্থী না হওয়ায় ওই আবেদন খারিজ করা হয়। ফলে তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকবে।

আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার হারুনর রশীদ বলেন, জীবা ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই সময় পর্যন্ত তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বহাল ছিল। বিষয়টি জানানো হলেও কমিশন আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
বিএনপি জোটের আরেক প্রার্থী মাধবী মারমার মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা। শুনানিতে আপিলটি খারিজ হয়। ফলে মাধবী মারমার মনোনয়নও বৈধ থাকল।

চন্দ্রা চাকমা বলেন, শুনানিতে বলা হয়েছে, আপিল আবেদনকারীকে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী হতে হবে, ব্যক্তি নন। এটা আইনে আছে বলে আমাকে বলা হয়েছে। এই কারণে আমার করা আপিলটি গ্রহণ হয়নি। এখন আমরা হাইকোর্টে যাব।

বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ইসির
গতকাল ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে ইসি। তালিকায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ এবং স্বতন্ত্র জোটের এক প্রার্থী আছেন।
বিএনপির বৈধ প্রার্থীরা হলেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াত জোটের বৈধ প্রার্থীরা হলেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের বৈধ প্রার্থী হচ্ছেন সুলতানা জেসমিন জুঁই।

আলজাজিরার বিশ্লেষণ বৈশ্বিক সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নড়বড়ে আজ নিউইয়র্কে এনপিটির পর্যালোচনা সম্মেলন শুরু

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এটি তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি। দাবিটি না মানায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে তারা। এতে একটি বড় অন্যায্য যুদ্ধের সূচনা হয়। অথচ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শক্ত কোনো প্রমাণ মেলেনি। এরপরও যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কিছু দেশ উল্টো পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে এসব কথা উঠে এসেছে।

পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে, তখন আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে এনপিটির ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলন। এতে অংশ নেবে ইরানসহ ১৯১টি দেশ। ইরানে অন্যায্য হামলার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এবারের সম্মেলনে চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মহৎ অঙ্গীকারটি পরীক্ষার সম্মুখীন বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৭০ সালে এনপিটি চুক্তি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে অধিকাংশ দেশ বর্তমান বৈশ্বিক পারমাণবিক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। চুক্তির অধীনে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলো (ইরানসহ) কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করতে সম্মত হয়। অন্যদিকে স্বীকৃত পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া অস্ত্রের বিস্তার রোধ করতে এবং মজুত নিরস্ত্রীকরণে সচেষ্ট থাকতে সম্মত হয়েছে।

এনপিটির সব সদস্য দেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএএইএ) তত্ত্বাবধানে থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের অধিকার রাখে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেশগুলো চুক্তি মানা হচ্ছে কিনা, তা পর্যালোচনা করার জন্য মিলিত হয়। সম্মেলন চলবে আগামী ২২ মে পর্যন্ত।

ইরানের বিষয়টি এবারের সম্মেলনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তা হলো পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্রগুলোকে কোনো সুরক্ষা দেয় এনপিটি? আইএইএ ইরানের কোনো সুসংগঠিত পারমাণবিক কর্মসূচির প্রমাণ খুঁজে পায়নি, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিতও করেছে। তবে আইএইএ ইরানের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ক্ষিপ্ত হয়ে ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করে। এই জবরদস্তিমূলক পন্থা এনপিটির জন্য ক্ষতিকর।

নিউইয়র্কের পর্যালোচনা সম্মেলনে এখন এই অন্ধকারময় বিষয়টিই ঝুলে আছে। সম্মেলনে জমা দেওয়া ইরানের কার্যপত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে। তেহরান চুক্তির চতুর্থ অনুচ্ছেদ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারের কথা উল্লেখ করেছে। দেশটি যুক্তি দেখিয়েছে, সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা এই চুক্তির মূল যুক্তিকেই লঙ্ঘন করে। ইরান এনপিটি গ্রহণ না করা ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে এনপিটি সম্মেলনের স্থান যুক্তরাষ্ট্রে হওয়াটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদি যুদ্ধ না হতো, তবে মতপার্থক্য নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পূরক আলোচনার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক একটি সুবিধাজনক স্থান হতে পারত। এরপরও বিশেষজ্ঞরা ইরানকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করার পক্ষে।

আগামী চার সপ্তাহ এনপিটির সদস্য দেশগুলোর অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য, এই দাবি নিশ্চিত করতে আওয়াজ তুলতে পারে। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিতর্কটিকে চুক্তির প্রকৃত শর্তাবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দিতে পারে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা এনপিটির কোনো আবশ্যিক শর্ত নয়। দেশগুলো ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্বচ্ছতা ও এনপিটির সদস্যপদ না থাকার কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও উত্থাপন করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর উচিত, যুদ্ধের মাধ্যমে এনপিটির মৌলিক অঙ্গীকারকে নতুন করে লেখা হতে না দেওয়ার বিষয়টি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করা।

গত ২১ এপ্রিল ৩ হাজার ৭০৬ কােটি টাকায় নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ কমাচ্ছে সরকার

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া ঋণ সমন্বয় করছে সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে এক লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকায় উঠেছিল। সেখান থেকে ১২ দিন পর ২১ এপ্রিল ১৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা কমে এখন ৯৭ হাজার ২৮২ কোটি টাকায় নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ কমে হয়েছে ৩ হাজার ৭০৬ কােটি টাকা।

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে স্কেল বাস্তবায়নের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাজার থেকে ঋণ নিয়ে সরকারি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছিল। এ জন্য নিয়মিত নিলামের বাইরে গত ১ ও ৮ এপ্রিল বিশেষ নিলাম ডেকে বাজার থেকে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ‘টাকা ছাপিয়ে’ নেওয়া হয়েছে কিনা–তা নিয়ে সম্প্রতি আলোচিত হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, স্বাভাবিকভাবে যা নেওয়া যায়, তার মধ্যেই ঋণ নিচ্ছে সরকার। টাকা ছাপিয়ে নিচ্ছে না।

পুরো অর্থবছরের জন্য সরকারের ব্যাংক থেকে এক লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আড়াই মাসের বেশি বাকি থাকতেই ৮ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা বেশি নেয় সরকার। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচন নীতি ঘোষণা করেছে। এতে করে পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিক থেকে চাপ আপাতত কমেছে। ফলে এখন আবার ঋণ সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক খাতের এক লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ছিল ২৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।  ৩০ মার্চ এক লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয় ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগের দিন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ছিল ৭ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। ওই সময় ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ ছিল ৬৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ট্রেজারি বিল-বন্ড ইস্যু এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় সরকার। বিল-বন্ড ইস্যু ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে উপায় উপকরণ আগাম এবং ওভারড্রাফটের মাধ্যমে সরকার ২৪ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ঋণ নিতে পারে। গত মার্চ শেষে উপায় উপকরণ আগামের সীমার পুরো ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। ওভারড্রাফট খাতে সরকারের ঋণ ৩১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গত ২১ এপ্রিল কমে ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকায় নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার যেভাবেই ঋণ নিক তা ছাপানো টাকা হিসেবে বিবেচিত হয়। মূল্যস্ফীতিতে যার প্রভাব পড়ে।

বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুসমান পানি, দুর্ভোগে পৌরবাসী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কাঁঠালতলী মোড় থেকে পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাঁটুসমান পানি। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে এ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ও পথচারীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, তিন বছর আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ওই সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনটির পশ্চিম প্রান্তের মুখ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় পানি নিষ্কাশন করতে না দেওয়ায় সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও এ ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
মহিলা ডিগ্রি কলেজ মহল্লার বাসিন্দা ফরহাদ মিয়া বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশনসংলগ্ন সড়কে সবসময় পানি জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় সবসময় ওই স্থানে পানি থেকেই যায়। বিষয়টি বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ কেজি স্কুলের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের স্কুলের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা। প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে যাওয়া-আসা করছে। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের পোশাক এবং জুতা ভিজে যায়। সে জন্য বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়।

ব্যাটারিচালিত অটোচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে পৌরসভার কাঁঠালতলী মোড় পর্যন্ত সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে পানি ছিটকে পথচারীর জামাকাপড় নষ্ট হয়। এ নিয়ে পথচারীদের সঙ্গে প্রায়ই যানবাহন চালকদের বাগ্‌বিতণ্ডা লেগে যায়। দ্রুত জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
সুন্দরগঞ্জ  মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো.  নাজির হোসেন বলেন, বৃষ্টি বাদলের সময় কলেজের শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে কলেজে আসতে হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বেলকা মসজিদ পাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, তাঁকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয়।  বৃষ্টি বাদলের দিনে ওই স্থানে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই সঙ্গে সড়কের আশপাশ পথচারীদের গায়ে পানি ছিটকে পড়ে। এতে করে অনেকের জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে সেখানকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, সেখানে ড্রেন নির্মাণের সময় পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তখন বিষয়টির সমাধান করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। পরে ওই অবস্থায় ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পৌরসভায় ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। সে কারণে অনেক ড্রেনের মুখ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার বিষয়টি জানার পর পৌর সহকারী প্রকৌশলীকে পানি নিষ্কাশনের জন্য আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।