Home Blog Page 13

গ্যাস পরিস্থিতি নদীর তলদেশে পাইপ কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন লাইন কেটে একটি চুনের কারখানায় গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা চালানোয় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এই অবৈধ তৎপরতার কারণে দেড় মাস ধরে গ্যাস উদগিরণ হচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে তিতাসের লোকজন মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পানি বেশি থাকায় তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না।

ঘটনাটি ঘটেছে কটিয়াদী উপজেলার কাজীরচর বাজারের কাছে। গতকাল শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, তিতাসের ময়মনসিংহের ভালুকা জোনের ডিজিএম (উপমহাব্যবস্থাপক) সুমেধ মনি চাকমার তত্ত্বাবধানে গ্যাস কোম্পানির কর্মীরা যন্ত্র বসিয়ে মেরামতের চেষ্টা করছেন।

ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ দিয়ে প্রায় চার দশক আগে নরসিংদীর মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে গেছে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপ। কাজীরচর এলাকায় সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহল এলাকার দেলোয়ার হোসেন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি ১৭ শতাংশ জায়গা তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছেন চুনের কারখানা করার কথা বলে। এলাকার এখলাছ উদ্দিন বাবু জানান, চুনের কারখানার জন্য চোরাই গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এখন পাইপ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে।

এলাকার অনেকে জানান, রাতের আঁধারে প্রায়ই একের পর এক গাড়ি আসত। তারা ধারণা করছেন, চুনের কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন কারিগর এনে প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইন কেটে চোরাই গ্যাসলাইন নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এলাকাবাসী বিষয়টি টের পাননি। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে জায়গাটি ডুবে যায়। এ কারণে কাজ করতে না পেরে ওরা চলে যায়। কিন্তু পাইপের কাটা অংশ দিয়ে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকে। গ্যাসের চাপে নদীর পানি ছিটকে ছিটকে ওপরে উঠে যাচ্ছিল। পুরো এলাকায় গ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, চুনের কারখানার আড়ালে চোরাই পথে গ্যাস পাচারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাইপলাইনের গ্যাস সুরক্ষিত ব্যারেলে ভরে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল। এর পেছনে এলাকার প্রভাবশালী চক্রও জড়িত।

তিতাসের ডিজিএম সুমেধ মনি চাকমা জানিয়েছেন, বর্ষার পানি ছাড়াও নদীর তলদেশে বালু থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। একদিকে সেচ করা হচ্ছে, অন্যদিকে বালু চুয়ে পানি ঢুকে যাচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন, শিগগির মেরামত করা যাবে। মেরামত হওয়ার পর অফিসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা করা হবে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাহিদ হাসান খানও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরামতের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিতাস কোম্পানির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হলে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। তবে কথিত অভিযুক্তরা কেউ এলাকায় নেই। তিতাসের পক্ষ থেকেও নিয়মিত মামলা করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউএনও বলেন, এতদিন ধরে পাইপলাইন কাটার মতো বড় একটা অপরাধ হচ্ছে। কিন্তু এলাকাবাসী কেউ টের পেল না, প্রশাসনকেও জানাল না; এটি বিস্ময়কর।

চুন কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন এলাকায় নেই। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে জনগণের আস্থা অর্জন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার সকালে অনুষ্ঠিত এ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ১৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনা কাটিয়ে নতুন বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করা এসব কর্মকর্তাকে চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা উষ্টায়। তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পুরস্কার অর্জন করেন। ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। আর ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন।

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রশিক্ষণ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।

যন্তর-মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান, শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করতে চান মোদি

দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি সমাজের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, শাস্তির বদলে ‘পথভ্রষ্ট’ তরুণদের সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করতে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে, তা দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখেছে। কিছু পথভ্রষ্ট তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। তারা আমাকে গালি দিয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও অপমান করেছে।’

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় মোদিকে উদ্দেশ করে অশালীন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক ২৫ বছর বয়সী নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।

তবে এ ঘটনার পরও প্রতিশোধ বা কঠোর শাস্তির পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন মোদি। তার ভাষায়, ‘গালি দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাতে হবে। আসুন, আমরা একসঙ্গে ভারতের জন্য কাজ করি।’

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় মানুষ ভুল করে, আবার সেই সময়ই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকে। তরুণদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। সমাজে ক্ষোভ রয়েছে, আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এসেছে এসব সন্তানকে আপন করে নিয়ে তাদের সঠিক পথ দেখানোর। আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজের কাছেও আমার আহ্বান, আপনারাও তাদের ক্ষমা করুন।’

এদিকে এ ঘটনায় প্রথমে উত্তর প্রদেশের নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়। পরে তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার শান্তিভঙ্গে উসকানি, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং মানহানিসংক্রান্ত ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। তার মতে, কেবল আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।

হবিগঞ্জে হামলার অভিযোগ নাসীর-সারজিসসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

হবিগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন এনসিপি হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক, নুর আলম চৌধুরী, ফকরুদ্দিন জাকি, মো. আব্দুল হাই কামাল, রুহাম গাজী ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা বাদীসহ ছাত্রদল নেতাদের চারটি আইফোন ও অর্থকড়ি ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর এনসিপির নেতারা হামলা করেছেন এবং কয়েকটি আইফোনসহ অর্থকড়ি ছিনিয়ে নেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, গভীর রাতে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে।

জ্বালানি খাতে সমন্বয় নেই, সিস্টেম লসের নামে চুরি চলছে: মীর নাসির হোসেন

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, জ্বালানি খাতে সমন্বয় নেই। সিস্টেম লসের নামে চুরি চলছে। খুব সহজেই এই চুরি ঠেকানো যায়। বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

মীর নাসির জানান, তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে অথচ স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধা না পেয়ে বিপদে আছেন।

এফবিসিসিআই- এর সাবেক সভাপতি বলেন, সার কারখানায় গ্যাস না দিয়ে তা যদি টেক্সটাইল বা অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে দেওয়া যায়, তবে অর্থনীতির জন্য তা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

১৫ বছর খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে: আইসিসিবি সভাপতি

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশীয় খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিতর্ক চলছে–গ্যাস কোথায় অগ্রাধিকার পাবে। গ্যাস কি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাবে, শিল্পে যাবে, নাকি সার কারখানায়। তিন সেক্টরেই যেতে হবে। কারণ সবগুলোতেই এটি দরকার এবং একটির সঙ্গে অন্যটি যুক্ত।

বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি চলছে। বাকিগুলো বন্ধ, সেগুলো গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। দেশে সার যদি উৎপাদন না হয় তাহলে আমদানি করতে হবে। বিদেশ থেকে ফার্টিলাইজার পাওয়াও যাচ্ছে না। এ কারণে ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস দিতে হবে। শিল্প খাতে গ্যাস দিতে হবে। সার উৎপাদন না করলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। আবার শিল্পে গ্যাস না দিলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন কোনো শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না।

আইসিসিবি সভাপতি বলেন, শিল্প খাতে যদি প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেওয়া না হয় তাহলে শিল্প মালিকরা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারবেন না। ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমবে। এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে গ্যাস কেনা সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার বলছে যে, দেশে বিনিয়োগ আসুক, এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ) আসুক। যেখানে অফিসিয়ালি বলা হচ্ছে, নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না সেখানে কীভাবে বিনিয়োগ আসবে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, এটার পেছনে সংকটটা যেটা হয়েছে, আমরা দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে জলে-স্থলে কোথাও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করিনি। এখন যেটা হচ্ছে, সেটাও পুরোমাত্রায় হচ্ছে না। সিলেকটেড কিছু জায়গায় হচ্ছে। যেমন ভোলায় সেখানে গ্যাস শনাক্ত হয়েছে ২০১৮ সালে, আজকে ২০২৬ সাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সেখানকার গ্যাস পাইপে করে নিয়ে আসতে পারবে কিনা, এলএনজি করবে কিনা, নাকি সেখানে কোনো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির মতো ইন্ডাস্ট্রি সেটআপ করবে। এভাবেও আসতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলো- এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো এবং এর বাস্তবায়ন খুবই ধীরগতিতে চলছে। এসব কারণে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধানও হচ্ছে না।

এই অবস্থায় সরকারের কী বিকল্প সেটিও তুলে ধরেন আইসিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখন বিকল্প হলো- গ্যাস আমদানি করা। এলএনজি আমদানি করতে হলে এলএনজির কিউতে অনেক পেছনে থাকার কারণে সরকারকে অনেক সময় স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে কিনতে হয়। এতে দামও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নতুন করে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের আগ পর্যন্ত দুটি চয়েজের বিকল্প নেই। একটি হলো নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সোলার এনার্জি যার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, অন্যটি এলএনজি। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা সহজেই বিদ্যুতের উৎপাদনের বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারি।’

সরকারের বিনিয়োগ আহ্বানের বিষয়ে আইসিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আগে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটা সাকসেসফুল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই এমনিতে চলে আসবে। আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটে ও বলের কানেকশনটা ঠিকভাবে হচ্ছে না। আর নতুন করে গ্যাস কানেকশন দেওয়া হবে না এমন ঘোষণাও সঠিক নয়।’

তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুতে আমাদের ২৮ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি। শিল্প খাতে ১২-১৪ হাজার মেগাওয়াটও সাপ্লাই দিতে পারছে না সরকার। অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ ধরা হচ্ছে। এটা কোন ধরনের কথা।

সংকট নিরসনে কী করণীয় সে ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত না করে এবং স্টেকহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে কেবল আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসা এবং তাদের সমস্যা শোনা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের  আমন্ত্রণ জানানো এবং জিজ্ঞেস করা যে, শিল্প রক্ষায় কোথায় তাদের সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী না চাইলে সরকারের সবাই দুর্নীতিতে জড়ায় কীভাবে: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি না চান, তাহলে সরকারের সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে- এই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির বলেন, যখন সরকার নিজেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে, তখন নৈতিক দিক থেকে তারা দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি। যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে, আটকে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া পাঁচ মাসে আর কোনো বদল হয়নি।

এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা দেখি প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন। ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটাই প্রশ্ন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁর (মির্জা ফখরুল) ভাষ্যমতে, একজন ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, আর সেই একজন হলেন তারেক রহমান। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। তারেক রহমান তো প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি দুর্নীতি না চান, তাহলে সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়ায়। আমরা তো দেখি, তার ইশারাতেই সবকিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় কি দুর্নীতি বন্ধ হয় না।

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে যে অবৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটাকেই যেন চাকরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক। সেই শ্রমিকরা আজ চাঁদাবাজির শিকার। একজন হুইপ বলেছেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ চালালেও চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না। এই বক্তব্যই সত্য হয়, তবে তা চাঁদাবাজির একটি বৈধ কাঠামো দাঁড় করানোর শামিল।

সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ৫১ সদস্যের বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবিকে সমর্থন জানান জামায়াত আমির।

ইসির সিদ্ধান্ত এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন মাঠ পর্যায়েই

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা আবারও মাঠ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো এখন এই কাজ করতে পারবে।

এনআইডিতে এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমিয়ে সহজ করা হয়েছে। প্রবাসীদের আবেদন ও বায়োমেট্রিক পাওয়ার পর বাংলাদেশে দ্বৈত তদন্তের (ভেরিফিকেশন) বদলে এক ধাপে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের প্রক্রিয়ায় জন্মতারিখ তথা বয়স সংশোধন করাতে নাগরিকদের দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় ছুটতে হতো। ভোটার স্থানান্তর সেবা নিতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে আসা-যাওয়া করতে হতো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের। এমন হয়রানি কমাতে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির সাম্প্রতিক ১২তম কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা  বছর তিনেক আগেও মাঠ পর্যায়ে ছিল। ডেটাবেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বয়স জালিয়াতি বা জালিয়াতিমূলক অপরাধের অপচেষ্টা ঠেকানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর এনআইডি সংশোধনের নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দেশিকা জারি করে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী জন্মতারিখ বা বয়স পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর আবেদনগুলোকে ‌‘ঘ’ ক্যাটেগরিভুক্ত করে নিষ্পত্তির ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক বা কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া হয়। এতে ঢাকায় দৌড়াদৌড়ির পাশাপাশি মাসের পর মাস ফাইল আটকে থাকায় সাধারণ নাগরিকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। হয়রানির এমন চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর এনআইডি সেবা সহজ করার উদ্যোগ নেয় ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে নাগরিকরা এসএসসি, জেএসসি বা পিইসি সনদের ওপর ভিত্তি করে জন্মতারিখ সংশোধন প্রক্রিয়া আগের মতো মাঠ পর্যায় তথা উপজেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। বিভাগীয় তথা সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় এই কাজ করবেন সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া নাগরিকরা ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা এনআইডি স্থানান্তরের জন্য অনলাইন আবেদনের মাধ্যমেই নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এ জন্য তাদের সরাসরি অফিসে যেতে হবে না। এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রথমবার আবেদনের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা।

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। আগে প্রবাসীদের অনলাইন আবেদন ও বায়োমেট্রিক পাওয়ার পর দেশে দুই দফা তদন্ত করা হতো। তদন্ত প্রতিবেদন ইতিবাচক এলে তা সিস্টেমে আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা আবেদন ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অনলাইনে আপলোড হয়ে যাবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তথ্যের সঠিকতা মিললেই এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত একটি ধাপ কমে গেল।

এ ছাড়া ভোটার তালিকায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়সের সময়সীমা আরও কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে ইসি। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের এনআইডি ও ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় সক্রিয় হয়। এই তথ্য সংগ্রহে বয়সসীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায় কিনা– সেটার পর্যালোচনা চলছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা হবে।

জুলাইয়ে ১১৮ শিশুর মৃত্যু হামের টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ে গবেষণা টিকার ওপর নির্ভরতা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ঘাটতি

হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা নেওয়ার পর শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে দেশব্যাপী গবেষণা শুরু করেছে সরকার। আগস্টের মাঝামাঝি গবেষণার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর শুধু জুলাই মাসে হাম ও এই ভাইরাসের উপসর্গে ১১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ হাজার ২০৯ জন। এখনও প্রতিদিন নতুন করে প্রায় এক হাজার শিশু শনাক্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথমে ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল ঢাকার দুটি এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ– চার সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হয়।

এদিকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের দাবি, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ১০৩ শতাংশ অর্জন করা হয়েছে। কিন্তু একই বয়সী শিশুদের জন্য পরিচালিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ। অর্থাৎ, দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪৬ লাখ শিশুর ব্যবধান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ব্যবধানই প্রমাণ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, হাম এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বর্তমানে আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত অথবা অপুষ্টিতে ভুগছে। তিনি বলেন, টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ভুল ছিল এবং প্রায় ৪৬ লাখ শিশু কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে। তিনি জানান, হাম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নতুন বৈঠক করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার মূলত টিকাদান কর্মসূচির ওপর নির্ভর করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু রোগী শনাক্তকরণ, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতাল প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিবিড় নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো জনস্বাস্থ্যভিত্তিক পদক্ষেপে ঘাটতি ছিল।

হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ে জাতীয় কমিটির (এনভিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, শুধু টিকাদান নয়, কভিড-১৯ মহামারির সময়ের মতো সামাজিক সংক্রমণ প্রতিরোধে শুরু থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। জ্বর দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস, মাস্ক ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

টিকা নিয়েও হামে আক্রান্ত 
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আরাফাত সাজিদের বয়স তিন বছর দুই মাস। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দুই ডোজ এমআর টিকা নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতেও সে টিকা পেয়েছিল। এর পরও গত ১৯ জুলাই হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সাজিদের মা সুমি আক্তার বলেন, ছেলে জন্মের পর থেকে সুস্থ ছিল। সময়মতো সব টিকা নিয়েছে। দুই বছর বুকের দুধ খেয়েছে এবং প্রাদুর্ভাবের সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে নেওয়া হয়নি। তার পরও সে আক্রান্ত হলো।

একইভাবে ১০ মাস বয়সী হাফসাও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছিল। কিন্তু জ্বর, কাশি ও পরবর্তী জটিলতায় তাকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বারী বলেন, টিকা নেওয়ার পর শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডির মাত্রা যাচাই করা উচিত। তাঁর মতে, অন্তত ১২০ আইইউ/এমএল অ্যান্টিবডি থাকলে শিশুকে নিরাপদ ধরা যায়। এর কম হলে পুনরায় টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করা হলে বোঝা যাবে টিকার কার্যকারিতা কতটা হয়েছে এবং পুনরায় টিকাদানের প্রয়োজন রয়েছে কিনা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যে কোনো টিকাদান কর্মসূচির পর টিকার কার্যকারিতা মূল্যায়নে গবেষণা ও নজরদারি (পোস্ট মার্কেটিং সার্ভিলেন্স) পরিচালনা একটি বিশ্বব্যাপী স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআর,বি– যে কোনো প্রতিষ্ঠানই এ ধরনের মূল্যায়ন করতে পারে। এতে দেখা হয়, টিকা নেওয়ার পর কত শতাংশ মানুষের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়েছে। শুধু টিকাদান নয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য কৌশল এখন সময়ের দাবি।

এনভিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সমকালকে বলেন, টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর অপুষ্টি, মায়ের অপুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’র ঘাটতি, অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত থাকা এবং মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়া। তিনি বলেন, তিন-চার বছর ধরেই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি– এমন শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর প্রবণতা বাড়ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানান, দেশের ১৮টি উপজেলা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি গবেষণার ফল প্রকাশ করা হবে। তখন বোঝা যাবে, টিকা নেওয়ার পর কত শতাংশ শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ১৪ দেশের এই জোটের মূল লক্ষ্য জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখা

লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা থেকে জাহাজ রক্ষার জন্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামের এই জোটে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ দেশীয় জোটের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। রয়টার্স ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে এই জোট কাজ করবে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোটে বাকি দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্ত্বেও সংঘাতপূর্ণ এলাকার দুই প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান নতুন এই জোটে যোগ দেয়নি। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, নিজস্ব আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য যে কোনো দেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত একটি উদীয়মান সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই আলোচনার পালে হাওয়া দেয়। তবে পরবর্তীতে যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার খবরটি জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।

সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অবস্থান
জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার তথ্য জানা যায়নি। এর আগে লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে গত ২২ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহতের ঝুঁকি তৈরি করে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রুটে নিরবচ্ছিন্ন নৌ-চলাচলের প্রতি সমর্থনও ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, ‘লোহিত সাগর বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এখানে যে কোনো ধরনের ব্যাঘাত সারাবিশ্বের মানুষের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতি ডেকে আনবে। তাই বাংলাদেশ সব নাবিক ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।’

আবার সৌদি আরব যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, সেখানে একক কোনো দেশের ভূমিকার কথা আলাদা করে উল্লেখ নেই। বলা হয়েছে, যৌথ বিবৃতির বক্তব্যের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সদস্যরা জোটের সনদ অনুযায়ী সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অপারেশনাল পরিকল্পনা, যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং যৌথ সামুদ্রিক অভিযানে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করবে। জোটটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনো দেশ, জোট বা আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে নয়।

তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল রক্ষা এবং অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জোটের যৌথ কমান্ড, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, যৌথ সামুদ্রিক অপারেশন সেন্টার এবং প্রধান নির্বাহী সংস্থা হিসেবে সৌদি আরবে সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাসপাইডস নামের নিজস্ব নৌ-সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে। এই জোটের সঙ্গে ইইউ মিশন কীভাবে সমন্বয় করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জোট গঠনের কারণ 
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়ার পর বিশ্ব বাণিজ্যে লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১০-১২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মোট পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি বজায় রাখতে দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাচ্ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছু তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলেও খবর এসেছে। সবচেয়ে সরু পয়েন্টে মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

হুতিদের প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার জোটের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা আগে হুতির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছিল। ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবকে উদ্দেশ করে ‘সর্বাত্মক প্রতিক্রিয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আবদুল মালিক আল-হুতি বলেন, ‘কিছু ইঙ্গিত বলছে, সৌদি আরব পূর্ণাঙ্গ উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। আমরা পূর্ণাঙ্গ উত্তেজনার মাধ্যমেই এর পাল্টা জবাব দেব।’
তিনি দাবি করেন, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর হুতিদের নৌ-অবরোধ ইতোমধ্যে সফল হয়েছে।