Home Blog Page 130

জাপানের জনপ্রিয় খেলা এখন ‘অফিস চেয়ার রেসিং’

চাকাযুক্ত অফিস চেয়ারে বসে নড়াচড়া করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু সে অভ্যাসকেই যদি ফর্মুলা ওয়ানের মতো রেসিংয়ে কাজে লাগানো হয়, তাহলে কেমন হবে? সম্প্রতি জাপানে ঠিক এমনই একটি রেসিংয়ের আয়োজন হয়েছে।

দেশটির কি উপদ্বীপের কুমানোতো এলাকায় আয়োজিত ‘অফিস চেয়ার রেসিং’-এ অংশ নিয়েছিলেন কয়েক ডজন অফিসকর্মী। চেয়ারে বসে পায়ের পেশির সবটুকু শক্তি দিয়ে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে তারা উল্টো দিকে ছুটে চলেন।

২০১০ সালে চালু হওয়া এই খেলাটি জাপানে দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তিনজনের একেকটি দল দুই ঘণ্টা ধরে একটি নির্দিষ্ট পথে যত বেশি সম্ভব চক্কর দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময়ে প্রতিযোগীরা প্রায় ২০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ অতিক্রম করেন।

কিয়োতো অঞ্চলের কিওতানাবে শহরে খেলাটি চালু করেছিলেন সুয়োশি তাহার নামের একজন। ছোটবেলায় অফিস চেয়ার নিয়ে খেলার অপরাধে এক শিক্ষক তাঁকে বকাঝকা করেছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি মজার খেলাটি চালুর অনুপ্রেরণা পান।

এরপর থেকে খেলাটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর টোকিও, কিয়োতো এবং শিজুওকাসহ ১০টি শহরে ‘অফিস চেয়ার রেসিং’ অনুষ্ঠিত হয়। টয়োটার মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এখানে তাদের দল পাঠায়।

বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পান ৯০ কেজি চাল। পুরস্কার হিসেবে চাল বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে সুয়োশি তাহার জানান, জাপানের সব অঞ্চলে চালের জনপ্রিয়তা আছে। তবে কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও রাখা হয়। যেমন- টোকিওতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ৫ কেজি টুনা মাছ।

সম্প্রতি রেসিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইয়াসুনোরি মিউরা। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন। কিন্তু অবসর সময়ে অফিস চেয়ার নিয়ে কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়েন। জিমের চেয়ার ব্যবহার করে ২০০ মিটারের ৪০ বা ৫০টি রান দেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত ওয়ার্কআউট।

পায়ের ওপর বেশি চাপ তৈরি করতে মিউরা সপ্তাহে চারদিন ভারী অফিস চেয়ার নিয়ে অনুশীলন করেন। সপ্তাহে দুইদিন জিমে গিয়ে শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করেন।  মিউরা বলেন, যেহেতু আমরা একই পথে বারবার চক্কর দিই, তাই অন্য দল এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা হয়। তখন প্রতিযোগিতাও জমে ওঠে।

চাঁদ অভিমুখী যান থেকে পৃথিবী দেখার অভিজ্ঞতা জানালেন নভোচারীরা

বড় ধরনের ‘ইঞ্জিন ফায়ারিং’য়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে আর্টেমিসের চার মহাকাশচারী পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করেছেন। তারা এখন দ্রুতবেগে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ছয় মিনিটের এই প্রক্রিয়া শেষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহাকাশচারীরা। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তাঁরা একটি ভাসমান মাইক্রোফোন একে অপরের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন। এ সময় সবার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। তারা জানান, মহাকাশযানের ভেতরটা কিছুটা শীতল তবে এই পরিবেশকে থাকার উপযোগী করে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মহাকাশযান থেকে পৃথিবী দেখার মুহূর্তটি বর্ণনা করেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আপনি এক পলকে এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত পুরো গোলকটি দেখতে পাবেন। আফ্রিকা, ইউরোপ এবং একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে উত্তর মেরুর আলোকছটাও দেখা যায়।’

রিড ওয়াইসম্যান বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের দেখা সবচেয়ে চমৎকার মুহূর্ত। এটি আমাদের চারজনকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল।’ আর্টেমিস-২ নামের এই অভিযানে ওয়াইসম্যান ছাড়া আরও আছেন- ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক ও জেরেমি হ্যানসেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশচারীরা এখন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি বা পথে আছেন। যা চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে বাড়তি জ্বালানি ছাড়াই পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। নাসার কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানিয়েছেন, কক্ষপথীয় বলবিদ্যার নিয়মগুলোই নভোচারীদের চাঁদের দিকে নিয়ে যাবে। চাঁদের দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করাবে এবং আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

মহাকাশচারীরা যে স্যুটগুলো পরে আছেন তা মূলত ‘সারভাইভাল সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করে। কোনো কারণে কেবিনের চাপ কমে গেলে বা লিক হলে এই স্যুটগুলো ছয়দিন পর্যন্ত অক্সিজেন, তাপমাত্রা এবং যথাযথ বায়ুচাপ বজায় রাখতে সক্ষম।

মহাকাশে নভোচারীরা তাঁদের প্রথম কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছেন যানের সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করে। মানুষ নিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রা করা এই যানে টয়লেটের সমস্যা ও যোগাযোগের ত্রুটির মতো কিছু ছোটখাটো ঝামেলার সমাধানও করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে হাসিমুখে ক্রিস্টিনা কোক বলেন, নিজেকে ‘স্পেস প্লাম্বার’ হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে আমি গর্বিত। এটি (টয়লেট) ঠিকঠাক কাজ করছে জানতে পেরে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি।

দেশের জার্সিতে ১ বছর কাটিয়ে হামজা বললেন, ‘জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত’

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটির তারকা হামজা চোধুরী। দেখতে দেখতে বাংলাদেশের জার্সিতে এক বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। এক বছর পর লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বললেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।’

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের জার্সিতে নিজের এক বছরের মূল্যায়ন করেছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে দারুণ কিছু আমি আর চাইতে পারতাম না। হ্যাঁ, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখব, বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’

বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার অভিষেক হয় গত বছরের মার্চে। সেদিন ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর গত ১২ মাসে বাংলাদেশের খেলা ১০টি ম্যাচের ৯টিতেই মাঠে নেমেছেন তিনি। চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ছিলেন না। তার খেলা সব ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং নামের পাশে যোগ করেছেন ৪টি গোলও।

এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও গত এক বছরে বাংলাদেশের অর্জন নেহায়েত কম নয়। ২০০০ সালের পর এই প্রথম বাছাইপর্বে কোনো গ্রুপের তলানিতে থেকে শেষ করেনি বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ যেখানে ১৮১তম, সেখানে ভারত (১৩৬), সিঙ্গাপুর (১৪৭) ও হংকং (১৫৫) বেশ এগিয়ে। তারপরও বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ এক গোলের বেশি ব্যবধানে হারেনি।

হামজা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ। আমি মনে করি, গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো কোয়ালিফাই করা দলের মাঠে গিয়ে আমরা যে ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত এবং আশা করি এটি সামনের ক্যাম্পেইনে আমাদের দারুণ কাজে দেবে।’

গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারই ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি। মাঠে হামজার প্রতিটি ছোঁয়াই তাদের উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছিল। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ম্যাচটি মূলত সিঙ্গাপুরের উদ্‌যাপনের মঞ্চ ছিল; তারপরও নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন! তাদের এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।’

প্রথম বছরের পাঠ চুকিয়ে হামজার চোখ এখন ভবিষ্যতের দিকে। বিশেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। তারকা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘গ্রীষ্মে হয়তো আমরা কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলব। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, যেখানে আমরা শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিজেদের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর আমাদের চোখ ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারব।’

তৃতীয় সপ্তাহে ‘দমকে’ পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল ‘রাক্ষস’

ঈদুর ফিতরে মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দারুণ চমক দেখাচ্ছে রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের সিনেমা ‘রাক্ষস’। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বড় পর্দায় সিয়ামের নতুন রূপে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন ভক্তরা। ঈদের দিন মাত্র ১৪টি শো নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। তবে  দর্শক চাহিদায় তা বেড়ে ২০–এর অধিক হয়েছিল দুইদিন পরই।

প্রথম দিকে কেবল মাল্টিপ্লেক্সেই মুক্তি পায় সিনেমাটি।  এই মাল্টিপ্লেক্সে সর্বাধিক শো পেয়ে এগিয়ে ছিল আফরান নিশো অভিনীত দম। তার পরই ছিল তারকাবহুল সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস। কিন্তু দ্বিতী দমকে পেছনে ফেলে দর্শক চাহিদা ও শোয়ের দিক থেকে এগিয়ে যায় বনলতা এক্সপ্রেস। তৃতীয় সপ্তাহে এসে শীর্ষস্থান ধরে রেখে তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি।

কিন্তু রেদওয়ান রনির দম তৃতীয় সপ্তাহে এসে শোয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানটিও হাড়াল। সেখানে চোখ রাঙানি দিয়ে শীর্ষ উঠে এলো মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমা ‘রাক্ষস’।  স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় মিলিয়ে রাক্ষসের আজকের শো চলছে ১১টি। এবাং আগামীকালও ( ৪ এপ্রিল) চলবে ১১টি করে শো। অন্যদিকে লায়ন সিনেমাসে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাক্ষসের প্রতিদিন ৪টি করে শো চলবে, আর যমুনা ব্লকবাস্টারে চলছে  ৩টি করে শো। রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলছে ৩টি করে শো এবং গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলবে তিনটি করে শো।  সব মিলিয়ে দেশের মাল্টিপ্লেক্সে রাক্ষসের শো হচ্ছে ২৫টি শো।

অন্যদিকে স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় দমের আজকের শো চলছে ১৪টি। এবাং আগামীকালও (৪ এপ্রিল) চলবে ১৪টি করে শো। অন্যদিকে লায়ন সিনেমাসে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দমের প্রতিদিন ৩টি করে শো চলবে, আর যমুনা ব্লকবাস্টারে চলছে  ৩টি করে শো।  মাল্টিপ্লেক্সে সর্বমোট দমের শো চলছে ২০ টি শো।

এদিকে শুক্রবার থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিনে যাত্রা শুরু করেছে ‘রাক্ষস’।   বিভাগীয় ও জেলা শহরের একাধিক বড় হলে আজ থেকে প্রদর্শন শুরু হয়েছে সিনেমাটির।  প্রথম ধাপে প্রায় ২০–৩০টি হলে সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা।

প্রযোজনা সংস্থা ও প্রদর্শক সমিতির বরাতে  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনন্দ সিনেমা (কুলিয়ারচর), মনিহার সিনেমা ও মনিহার সিনেপ্লেক্স (যশোর), মম ইন ও মধুবন (বগুড়া), রাজ তিলক (রাজশাহী), সুগন্ধা (চট্টগ্রাম), মধুমিতা, আনন্দ ও শ্যামলী (ঢাকা), সৈনিক ক্লাব (ঢাকা), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ), স্বপ্নীল (কুষ্টিয়া)সহ আরও বেশ কিছু হলে চলছে ‘রাক্ষস’। আগামী সপ্তাহে হল সংখ্যা আরও দ্বিগুন হবে বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি।

‘রাক্ষস’ মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর অংশ হিসেবে নির্মিত।  সিনেমাটিতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক।

তৃতীয় সপ্তাহেও সিনেমাটির দর্শক রেসপন্স নিয়ে পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, ‘ভালো সিনেমা দর্শকদের কাছে ধীরে ধীরে হরেও স্থান পাবে। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে আমাদের শো কম হওয়ায় দর্শকরা সিনেমাটি দেখতে এসেও দেখার সুযোগ পাননি অনেকেই। ফলে এখনও দর্শকদের চাপ রয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে এসেও সিনেমাটি অলমোস্ট হাউজফুল যাচ্ছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনেও সিনেমাটি বড় সাড়া পাবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শকরা যে ধরনের সিনেমা দেখে আনন্দ পান তার সবই এতে রয়েছে।’

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইতে হয়েছে সিনেমাটির শুটিং। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি।

একীভূতই থাকছে পাঁচ ব্যাংক

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার কাজ করে আগামী রোববারের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব সরকারকে দিতে বলা হয়েছে। অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাঁচ ব্যাংক একীভূত অবস্থাতেই থাকছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও কয়েকটি ব্যাংক একীভূত বা অবসায়ন করা, যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, আদৌ তা হবে কিনা– আইন সংশোধনের পর সেটি বোঝা যাবে বলে জানা গেছে।

গত বছরের মে মাসে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আর আমানতকারীদের মাঝে ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। যে কারণে এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশের জন্য ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি করা হয়। ওই কমিটি ব্যাংক রেজল্যুশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। যদিও দেশের স্বার্থে এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম বন্ধে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য।

জানা গেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে সংশোধনীর বিষয়ে গতকালই বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবার কাজ করে রোববারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সে আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে নির্ধারিত সময় সংশোধিত আইনটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংশোধন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত যত কাজ হবে, তা বৈধ। আবার পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ কেবল এই অধ্যাদেশের আলোকে হয়েছে, তেমন নয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে ন্যাশনাল, এবি ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সম্পদের গুণগত মান যাচাই (একিউআর) সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি আর এগোবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ ক্ষেত্রে স্বোচ্চার আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মূলধন ঘাটতি নিয়ে যেসব ব্যাংক চলছে, তাদের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে এ বিষয়টি দেখা হবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আলোকে সাময়িক সময়ের জন্য একটি দুর্বল ব্যাংক সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানায় নেওয়া যায়। বিভিন্ন আর্থিক সূচকের ভিত্তিতে দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করে রেজল্যুশন বা নিষ্পত্তি তথা অবসায়ন, একীভূতকরণ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি কিংবা নতুন শেয়ার ইস্যুসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা একটি বিভাগ খোলা হয়।

মূলত কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীর জমানো অর্থ ফেরত দিতে না পারায় ব্যাপক আস্থাহীনতা তৈরি হয়। যে কারণে রেজল্যুশনের মাধ্যমে ব্যাংকের উন্নয়ন করে আবার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা বজায়, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের লেনদেন চলমান রাখা ছিল মূল উদ্দেশ্য। রেজল্যুশনের আওতায় নিয়ে অধ্যাদেশে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি সূচক দেখতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশিত মূলধন বা তারল্য সংরক্ষণের শর্ত পালনে ব্যর্থতা, কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়েছে বা হওয়ার পথে কিংবা আমানতকারী বা অন্য পাওনাদারের দায়বদ্ধতা পূরণে  অক্ষম এবং প্রতারণামূলকভাবে ঋণের নামে অর্থ বের করার ঘটনা থাকলে এ সম্পর্কিত অধ্যাদেশের আওতায় সেই ব্যাংক তা নিষ্পত্তি করতে পারবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশে শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ আদেশে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে, হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আদেশটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ, গণভোট মানছে না বিএনপি

গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ আদেশ বিএনপি মানছে না। আদেশ অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হলে জুলাই সনদ বিষয়ে ও সরকারের এখতিয়ার নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন উঠবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, জামায়াতের কর্মপরিষদ পরিষদ সদস্য শিশির মনির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা।

শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ। সঞ্চালনা করেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ। সেমিনারে নারী বক্তা না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শহিদুল আলম।

জামায়াতের রাজনীতির ঘোর বিরোধী হয়েও গণভোটের মত জাতীয় স্বার্থে শিবিরের সেমিনারে যোগ দিয়েছেন জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, আদর্শিক বা ধর্মীয় চিন্তায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নারী বক্তা না থাকা হতাশাজনক। তবুও এসেছি, কারণ জুলাই সনদ রক্ষা সবার দায়িত্ব।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শহিদুল আলম তিনি বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘রাষ্ট্রের মেরামত চাই’ প্ল্যাকার্ডটি আমাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছিল।

শিশির বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের এক পর্যায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কী হবে, অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তখন বিএনপির পক্ষ থেকেই গণভোটের প্রস্তাব আসে। এরপর বাকিরা তাতে সায় দেয়। এখন সেই প্রস্তাবকারী দল বলছে, গণভোটের আদেশ মানতে তারা বাধ্য নয়।

সরকারের গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করার কী কারণ থাকতে পারে? ডিজিএফআইয়ের আপত্তি ছাড়া, এসবি, এনএসআইয়ের আপত্তি ছাড়া। এই আয়নাঘর তৈরি করার মূল কারিগর ডিজিএফআই।’

বিএনপি সরকার সংস্কারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করে শিশির মনির বলেছেন, তারা হয়ত এমন কোথাও নাকে খত দিয়েছে, যা ৭০ ভাগ মানুষের মতামতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে।

নাজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানের পক্ষের শক্তি এবং বিপক্ষের শক্তি হিসেবে দেশকে আবার বিভাজনের পাঁয়তারা চলছে।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর কোথাও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সংবিধান রচিত হয়নি।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গণভোট কেবল নীতিগত অনুমোদন নয়, জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট।

সিবগাতুল্লাহ বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি সরকার ২০০৯ সালে গঠিত সরকারের মতো একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। সেমিনার থেকে গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকার অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক সাড়া

রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনতে বাংলাদেশের বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এ আশ্বাস দেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি রাশিয়া থেকে সরাসরি পরিশোধিত ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় পাওয়ার অনুরোধ জানান। এর আগেও বাংলাদেশ একই অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছিল।

বৈঠকে খলিলুর রহমান বলেন, কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য এ ছাড় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এর আগে রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী যে ছাড় দিয়েছিল, তার সুফল বাংলাদেশ নিতে পারেনি।’

এ ছাড়া, জরুরি চাহিদা মেটাতে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বিনিময়ে পরিশোধিত তেল কেনার বিষয়েও দুজন আলোচনা করেন। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান  জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে এ কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আশ্বাস দেন, তাঁর দপ্তর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রথম ভারত সফর করতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি মরিশাসে যাওয়ার পথে ভারতে যাত্রাবিরতি নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স (আইওসি) হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষে এতে যোগ দেবেন খলিলুর রহমান। আইওসিতে যোগ দেওয়ার আগে ভারতে যাত্রাবিরতি নেবেন তিনি। ৭ এপ্রিল ভারতের উদ্দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে ৯ এপ্রিল মরিশাসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

জ্বালানি তেলের লাইন এখনও দীর্ঘ
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের জন্য প্রতীক্ষার দীর্ঘ লাইন এখনও কমেনি। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের সারি চোখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সংকটের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে পাম্পগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের চাপ আরও বাড়ছে। অনেক চালক ভোর ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর পর্যন্ত তেল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি বেশি, কারণ স্বল্প পরিমাণ তেল নিয়েই তাদের বারবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পরিবহন চালকরাও বলছেন, তেলের অভাবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যানবাহন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিভিন্ন স্থানে হামলা-হামলা, মারামারি
দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালোবাজারিদের ড্রামে তেল না দেওয়ায় একটি ফিলিং স্টেশনে হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন স্টেশন মালিকসহ তিনজন। ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট মালিকের দুটি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা-খুলনা ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবং সেচনির্ভর কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গাইবান্ধায় রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার ১৬ দিন পরও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল না পাওয়া এবং দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার দৃশ্য এখনও নিয়মিত। একই চিত্র নেত্রকোনায়ও দেখা যাচ্ছে। সেখানে অধিকাংশ পাম্প দিনে বন্ধ থাকে, আর যেগুলো খোলা থাকে সেগুলোও সীমিত সময় তেল বিক্রি করে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।

প্রশাসনের অভিযান জোরদার
অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানও জোরদার হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৃথক অভিযানে তিন হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়। সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে জরিমানা ও দণ্ডাদেশের ঘটনা ঘটেছে।

সংকট মোকাবিলায় কিছু এলাকায় নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ীর পাংশায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে তেল নিতে হলে চালকের নাম, গাড়ির লাইসেন্স, নম্বরপ্লেটসহ বিস্তারিত তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একাধিকবার বা অপ্রয়োজনে তেল নেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রথম দিনেই একাধিক চালককে চিহ্নিত করে জরিমানা করা হয়েছে।

মান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি 
জ্বালানি তেলের মান যাচাই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন বলছে, বর্তমানে পাম্প পর্যায়ে তেলের মান পরীক্ষা করা হলেও ডিপো পর্যায়ে একইভাবে কঠোর যাচাই করা হয় না। ফলে তেলের মান খারাপ হলে দায় কার ডিপো না পাম্পের তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় তারা প্রথমে ডিপো থেকে তেল সরবরাহের সময় মান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন।

সংগঠনটির দাবি, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা পাম্পে এসে তেলের মান নিয়ে অভিযোগ করেন, যা নিয়ে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এতে পাম্প মালিকরা অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তারা মনে করেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, একই তেলের নমুনা ডিপো ও পাম্প দুই পর্যায়েই পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত সমস্যা কোথায় তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মধু খেলে কী ওজন কমে

মধু খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কেউ কেউ চিনির বিকল্প হিসেবে বদলে মধু খান। নিয়মিত মধু খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা সমস্যার সমাধান হয়। কারও কারও ধারনা মধু খেলে ওজন কমে। আসলেই কি তাই?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করলে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। মধু খেলে অতিরিক্ত খিদে লাগার প্রবণতা কমে। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।  প্রতিদিন ১-২ চামচ মধু, বিশেষ করে হালকা গরম পানি বা লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেটের মেদ কমে। সেই সঙ্গে হজমশক্তি উন্নত হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের ওজন, অ্যাডিপোসিটি( শরীরের চর্বি জমা) এবং বডি মাস ইনডেক্স কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এক চামচ মধুতে ক্যালরির পরিমাণ 
এক টেবিল চামচ মধুতে প্রায় ৬৪ ক্যালরি থাকে। এ কারণে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। সকালে কালি পেটে বা রাতে খাবারের পর মধু খাওয়া বেশি উপকারী।

মধু খাওয়ার সঠিক নিয়ম
অনেকেই ফুটন্ত গরম পানিতে মধু পান। এটা ঠিক নয়। মধু খেতে হবে হালকা গরম পানিতে, লেবুর রস বা আদার রসের সঙ্গে মিশিয়ে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা 
ডায়াবেটিস রোগীদের মধু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ, মধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের বিভিন্ন সংক্রমণ এবং জ্বর জাতীয় অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

গলা ব্যথা কমায় 
গলা ব্যথা কমাতে হালকা গরম পানিতে লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।  এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাশি থেকেও আরাম মেলে।

শরীরে শক্তি বাড়ায় 
মধু খেলে শরীর দ্রুত শক্তি ও সতেজতা পায়। এছাড়া, এটি ত্বককে আর্দ্র রাখতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও দারুণভোবে সহায়তা করে।

বাগদান ও বিয়ে নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন লুবাবা

বিনোদন জগত ছাড়ার পর হঠাৎ করেই নতুন জীবনের খবর দিয়ে আলোচনায় আসেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী সিমরিন লুবাবা। সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এরপর থেকেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে বিয়ের গুঞ্জন।

তবে এবার নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন লুবাবা। বুধবার ফেসবুকে নতুন একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, বিয়ে নয়, বাগদান সেরেছেন তিনি।

বুধবার  প্রকাশ করা ছবিতে বাগদত্তার সঙ্গে  দেখা যাচ্ছে লুবাবাকে। তবে বর বা কনের চেহারাই স্পষ্ট নয়। ফলে প্রকাশ্যে আসেনি পাত্রের ছবি ও পরিচয়।

বাগদান ও বিয়ের বিষয়টি স্পস্ট জানিয়ে লুবাবা লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে, ইনশাআল্লাহ।”

সিমরিন লুবাবা। ছবি: ফেসবুক

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে শোবিজ অঙ্গনকে বিদায় জানান সিমরিন লুবাবা। তবে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন তিনি এবং পর্দা প্রথা মেনে নিজের জীবনযাপন তুলে ধরছেন।

সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্ম নেওয়া লুবাবার দাদা ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা আব্দুল কাদের। তার অনুপ্রেরণাতেই ছোটবেলায় অভিনয়জগতে পথচলা শুরু করেন লুবাবা এবং শিশুশিল্পী হিসেবেই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।