Home Blog Page 131

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিএনএনের বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় শান্তি আলোচনা পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা থেকে আদৌ কোনো সুফল আসবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি আসন্ন বলে দাবি করে আসছেন। তবে পরিস্থিতি সমাধানের দিকে যাচ্ছে না। ট্রাম্পের প্রধান দাবি ছিল, ‘ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে। তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ ট্রাম্পের এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ, এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প শুরুতে যা চেয়েছিলেন, তা পাচ্ছেন না। শুক্রবার সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি আসন্ন। তবে সর্বশেষ হামলা পাল্টা-হামলায় প্রতীয়মান হয়, আলোচনার টেবিলে থাকা সম্ভাব্য চুক্তিটি মূলত অগ্রগতি পায়নি। এই অবস্থার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। জরিপে তাঁর জনসমর্থন ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শান্তি আলোচনাটি একটি সংক্ষিপ্ত স্মারকলিপি বা সম্মতিপত্র তৈরিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে চাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অন্তত ১০ বছরের জন্য তা স্থগিত চান বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর চায় ওয়াশিংটন। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছিলেন, শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। তাঁর আরেকটি লক্ষ্য ছিল, যা অর্জন করা অসম্ভব ছিল। হয়েছেও তাই। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মিলে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর রাতে ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে, আপনারা ক্ষমতা দখল করে নিন। পরে যে সরকার হবে, তা আপনাদেরই হবে। এটাই পদক্ষেপ নেওয়ার মুহূর্ত, হাতছাড়া হতে দেবেন না।’ কিন্তু ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

ইরানের প্রক্সি শক্তি নির্মূলেও ব্যর্থতা 
মার্কিন প্রশাসনের আরেকটি লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা। গত ২ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যেন প্রক্সি শক্তিগুলোকে অস্ত্র, অর্থায়ন এবং নির্দেশনা দেওয়া চালিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তিতে রাজি হয়েছে। তখন তিনি সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, ইরান সব প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্পের এই দাবি অসত্য ছিল। সিএনএনসহ গণমাধ্যমে এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনার যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে প্রক্সি গোষ্ঠীর কোনো উল্লেখ নেই। সর্বশেষ গত বুধবার যখন ট্রাম্প পিবিএস নিউজকে একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে প্রক্সি গোষ্ঠীর কথা শোনা যায়নি।

কোনো যুদ্ধ প্রচেষ্টার পক্ষে তাঁর সব লক্ষ্য অর্জন করা বিরল। কিন্তু এটা লক্ষণীয় যে, ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্যগুলোর ব্যাপারে যতটা একরোখা ছিলেন, তাঁর প্রশাসন তত দ্রুতই সেগুলোর কয়েকটি পরিত্যাগ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রশংসার পাশাপাশি ইরানি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং তেহরানকে আত্মসমর্পণ করাতে ব্যর্থতা নিয়ে সেক্রেটারি পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করেন। জবাবে হেগসেথ বলেন, প্রেসিডেন্ট পিছু হটেননি। ইরানের জনগণ চাইলে তাদের সরকারকে এখনও উৎখাত করতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথম সরকার গঠন করল বিজেপি। সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরএন রবি।

আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শপথ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। মোদি পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার পাঁচ জনের নাম এখন পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন- দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু।

%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%20%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80 1778311435

কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিজেপি শাসিত ও বিজেপির জোট সরকারের ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মঞ্চে ছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, অভিনেতা ও রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমচাঁদ সিং, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর।

অনুষ্ঠান শুরুর তিন ঘন্টা আগে থেকে ব্রিগেড ময়দান ছিল বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা। এখানে ২১টি ঝালমুড়ির স্টল ও একাধিক মিষ্টির স্টল করা হয়। সকাল থেকে ওইসব স্টলে ছিল ভিড়। ভোটপ্রচারে গিয়ে ঝাড়গ্রামে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পর থেকে ঝালমুড়ি তাদের সফলতার উপকরণ মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।

%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20 %20%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE 1778313296

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৮০টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ বাতিল হয়েছে একটি আসনের ভোট। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে।

শুভেন্দু অধিকারী এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে জোরালো করে।

হাওরে বিপর্যয়, চাপে পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তা

দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে শুধু বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওর জেলা দেয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে চলছে কৃষকদের বোবাকান্না। কারণ, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিস্তীর্ণ জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, ৮০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান তলিয়ে গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন অঞ্চলে। এতে জাতীয় সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাবছরের জন্যই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা রয়েছে। চালের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই দাম স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আড়াই লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত
গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সাতটি হাওর জেলায় প্রায় এক হাজার ১১০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ কৃষক। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, হাওর অঞ্চলের মোট কৃষিজমির ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন বোরো ধানের উৎপাদন হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, হাওর অঞ্চলের প্রায় ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো হাওর অঞ্চলের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ এলাকা প্রতিবছরই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, আগাম সতর্কতা ও দ্রুত ধান কাটার কারণে এবার তুলনামূলক বেশি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।

সামান্য ক্ষতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে
বোরো ধানের চারা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে রোপণ করা হয়। এপ্রিল থেকে জুনে কাটা হয় পাকা ধান। মোট চাল উৎপাদনের ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে এই এক মৌসুম থেকেই। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলার হাওরে উৎপাদন হয় প্রায় ২০ শতাংশ। উৎপাদনের এই ঘনত্বের কারণে হাওরাঞ্চলে সামান্য ক্ষতি হলেও জাতীয় সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলে।

ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বোরো উৎপাদনও বেড়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বোরো উৎপাদন ছিল দুই কোটি এক লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই কোটি ১৩ লাখ টনে। আর চলতি মৌসুমে সরকার দুই কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সাত জেলার হাওরাঞ্চলের কৃষিজমির বিশাল অংশ এখন পানির নিচে। কোথাও ধান কাটার সুযোগই পাননি কৃষকরা। কোথাও কাটা হচ্ছে আধাপাকা ধান। কোথাও পানির নিচে থেকে ধান পচে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের গড় হিসাব বলছে, প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ দশমিক ৪৭ টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই লাখ টনের মতো উৎপাদন কমে যেতে পারে। আর যদি ৮০ হাজার হেক্টরের হিসাব ধরা হয়, তাহলে ঘাটতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠসেবা বিভাগের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হলেও হাওরাঞ্চলে উৎপাদনের ঘনত্ব বেশি। এ কারণে ক্ষতির প্রভাবও তুলনামূলক বেশি। গত মৌসুমে দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলা থেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরও দুই সপ্তাহ পর পরিষ্কার বোঝা যাবে ঠিক কী পরিমাণ ধান বাঁচানো গেল, আর কতটুকু নষ্ট হলো। সেই হিসাব অনুযায়ী সরবরাহ কমে গেলে ধান-চালের দাম বাড়তে শুরু করবে।
গত অর্থবছরে দেশে প্রায় দুই কোটি ১৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। আর চলতি মৌসুমে সরকার দুই কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু হাওরের এই ধাক্কা সেই হিসাবকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর আগে, ২০১৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের অকাল বন্যায় নষ্ট হয় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান। ওই বছর চালের দর রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পাঁচ বছর পর আঘাত হানে আগাম ঢল। যাতে ক্ষতির মুখে পড়ে সাত হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান। এতে চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮০ থেকে তিন কোটি ৮৫ লাখ টন। বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে প্রায় তিন কোটি ৭৭ লাখ টন। পরের বছরে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে তিন কোটি ৯১ লাখ টনে, ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান আরও বাড়বে। এক দশকের বেশি সময় ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি থাকলেও চলতি অর্থবছরেই দেশকে ১২ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছে।

দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা স্বল্প মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা, ধান শুকানোর ব্যবস্থা, সরাসরি সংগ্রহ কার্যক্রমসহ ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

Arif Hazra 1778294923

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, হাওরের চাল দ্রুত বাজারে আসে এবং মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এই অংশে ঘাটতি মানে বাজারে প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি হওয়া, যা পরে বড় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই বোরো থেকে আসে। উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে। বাজারে চালের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চাল মজুত করতে শুরু করতে পারে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলবে।
তিনি আসন্ন আমন মৌসুমের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আগাম পরিকল্পনা না নিলে খাদ্য নিরাপত্তা আরও চাপে পড়তে পারে। আমন মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা, ফসল বহুমুখীকরণ এবং বিকল্প মৌসুমে প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

কৃষকের ত্রিমুখী সংকট
হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন। সেগুলো হলো– ধানের ক্ষয়ক্ষতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আর বাজারদর কমে যাওয়া। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানিতে নেমে কাঁচা ধান কাটছেন। কিন্তু এতে লাভ কম, ক্ষতি বেশি। কারণ, এই ধান থেকে ভালো চাল পাওয়া কঠিন। শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। যেখানে আগে একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল ৫০০-৬০০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২শ থেকে দুই হাজার টাকা। আগে দিনে তিন কাঠা জমির ধান কাটা যেত, এখন এক কাঠাও ঠিকমতো কাটা যাচ্ছে না। যান্ত্রিক হারভেস্টার ব্যবহারও সীমিত। যেগুলো চলছে সেগুলোর ভাড়া তিন থেকে চার গুণ হয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে ভেজা ধানের দাম কমে গেছে। মণপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা থেকে নেমে ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে বইছে। আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নতুন করে ৭৭ হাজার হেক্টরের বেশি ধানিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল বায়েস মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে বড় অস্থিরতা হয়তো হবে না, কিন্তু স্থানীয়ভাবে চাপ বাড়বে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে, যেখানে বোরোই প্রধান ফসল। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিজেদের চাহিদার জন্যও বাজারের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা স্থানীয় বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। এই সংকট সামাল দিতে শুধু ত্রাণ বা সহায়তা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত কৌশল। নির্ধারিত ক্রয়মূল্যের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যেন দুর্নীতি ‍ও হয়রানি ছাড়া তাদের ফসল বিক্রি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্রয়) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না। ফলে বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। খাদ্য অধিদপ্তর শুকনো ধান সরাসরি সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি মিল মালিকদের দ্রুত ধান কেনার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেন সরকার সর্বোচ্চ সংগ্রহ নিশ্চিত করতে পারে এবং মিলগুলো সচল থাকে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। দলের নেতাকর্মী‌দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের নতুন সংগ্রামে নামতে হবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো-আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরো বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দেবো। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। নারী পুরুষ শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে, আমাদের উপরে যেরকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করবো, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবো।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও এতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।

শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন।

আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ (সিসিএস) আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ রাউন্ড টেবিল অন গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সেই সেতুর মূল উপকরণ কী হবে, সেটাই হচ্ছে বড় কথা। এই সেতুবন্ধনের মূল উপকরণ কংক্রিট, সিমেন্ট বা রড নয়। বরং এই সেতুবন্ধনের মূল উপাদান হবে শিক্ষা।’

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশ ও চীনের সুসম্পর্কের কথাও উল্লেখ করে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ সম্পর্ক বিনির্মাণে জোর দিয়েছিলেন। এ সম্পর্ক আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নে চীন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে দেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সক্ষম হব।

এজন্য আমাদেরকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাখাতের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং সিসিএস একাডেমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান চেন ডংশিয়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক আ স ম রিদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

আইসিসির মাসসেরার লড়াইয়ে নাহিদ রানা

সাম্প্রতিক সময়ে ২২ গজে গতির আগুন ঝরাচ্ছেন পেসার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজে ৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ধরে রাখেন। সেরা পারফরম্যান্স করেন কিউইদের বিপক্ষে মিরপুরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। সেদিন ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ধস নামিয়েছিলেন নাহিদ। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ পেয়েছিল ৫৫ রানের দাপুটে জয়। পরে চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও দুটি উইকেট শিকার করেন তিনি।

সিরিজে তার কার্যকর বোলিং বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে আইসিসির এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের মনোনয়ন পেয়েছেন নাহিদ। আজ এক বিবৃতিতে আইসিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইসিসির মাসসেরা হওয়ার লড়াইয়ে নাহিদ রানার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ওমানের জাতিন্দার সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমার। আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ-২ এ ওমানের অধিনায়ক জাতিন্দার সিং ৫ ওয়ানডেতে ২৬৬ রান করেছেন। বিশেষ করে নেপালের বিপক্ষে তার ৯৬ বলে ১৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন। অন্যদিকে, আরব আমিরাতের পেসার অজয় কুমার ২ ওয়ানডেতে ৯ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ওমানের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওমানকে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে নারী বিভাগে এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার ইমেশা দুলানি, দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্ট এবং ব্রাজিলের লরা কার্ডোসা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন দুলানি। ওয়ানডেতে ১১৬ রান এবং টি-টোয়েন্টিতে আরও ৮২ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। অন্যদিকে ব্রাজিলের লরা কার্ডোসা সম্প্রতি এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়ে আলোচনায় এসেছেন।

রবীন্দ্র জয়ন্তীতে মাকসুরা অন্তরার ‘দিলে আমারে জাগায়ে’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ প্রকাশিত হচ্ছে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মাকসুরা অন্তরার প্রথম একক অ্যালবাম ‘দিলে আমারে জাগায়ে’।আজ সকাল ৯টায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন-এর ইউটিউব চ্যানেলে অ্যালবামটি উন্মুক্ত করা হয়।

আটটি ভিন্ন ধারার রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে সাজানো এই অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন মাকসুরা অন্তরা। গানগুলোর বাণী ও সুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর। সংগীতায়োজন করেছেন অম্লান হালদার। এছাড়া তবলা, সেতার, সরোদ, বাঁশি ও বেহালায় অংশ নিয়েছেন কলকাতা ও ঢাকার একদল গুণী সংগীতশিল্পী।

অ্যালবামটির রেকর্ডিং হয়েছে কলকাতার রেনেসাঁ স্টুডিও এবং ঢাকার পটমঞ্জরী স্টুডিওতে। মিক্সিং ও মাস্টারিংয়ের দায়িত্বেও ছিলেন চন্দন ঘোষ।

শিল্পী মাকসুরা অন্তরার সংগীতজীবনের শুরু মাত্র সাত বছর বয়সে। মানিকগঞ্জের ‘সূচনা সংগীত বিদ্যানিকেতন’-এ দীর্ঘদিন শাস্ত্রীয় সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতে তালিম নেন তিনি। পরে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন-এ রবীন্দ্রসংগীতে শিক্ষা সম্পন্ন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে।

বর্তমানে তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগেও শিক্ষকতা করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবেও নিয়মিত সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।বাংলাদেশ সংবাদ আপডেট

রবীন্দ্রজয়ন্তীতে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই অ্যালবামকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সংশ্লিষ্টদের আশা, রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমীদের কাছে ‘দিলে আমারে জাগায়ে’ হয়ে উঠবে এক বিশেষ উপহার।

রক্তচাপ কমাতে কোন বয়সে কতটা হাঁটা প্রয়োজন?

সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা প্রতিদিন হাঁটার পরামর্শ দেন। এটি খুব সহজ শরীরচর্চা। হাঁটলে শরীর ভালো থাকে, রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং হার্ট ভালো থাকে। কিন্তু কোন বয়সে কতটা হাঁটা উচিত তা ভেবেছেন কি?

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেঁটেই উচ্চ রক্তচাপ কমানো যায়। তবে হাঁটতে হবে নিয়ম মেনে ও সময় ধরে। বয়স অনুপাতে হাঁটার সময়ও আলাদা। ১৮ বছরের তরুণ বা তরুণী যতটা হাঁটবেন, ষাট বছর বয়সীদের হাঁটার হিসাব ভিন্ন। কোন বয়সে কতটা হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার নির্দিষ্ট হিসাব আছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়স যাদের, তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন। শুরুটা হতে পারে ৩০ মিনিট দিয়ে, ধীরে ধীরে ৪৫ মিনিট ও তারপর ১ ঘণ্টায় পৌঁছোবেন। দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে এমন কড়া নিয়ম নেই।

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নেই, তাদেরও (১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা) ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটা উচিত। বয়স কম হলে ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুতগতিতে হাঁটা ভালো। তবে ইন্টারভাল ওয়াকিংও ভালো। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে ইন্টারভাল ওয়াকিং বেশি উপকারী। শুরুটা দ্রুত গতিতে করে তারপর খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটতে হবে।

৪০+ থেকে ৬০ বছর বয়সে দিনে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা ভালো। মাঝারি থেকে দ্রুত গতিতে হাঁটতে পারেন। চাইলে কেউ ৪৫ মিনিটও হাঁটতে পারেন। নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতার উপর। কারণ, এই বয়সে অনেকেরই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, গোড়ালি, হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। তাই শরীর বুঝে হাঁটার সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ষাটের উপরে বয়স হলে দিনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটলেও হবে। সে ক্ষেত্রে হাঁটার গতি ধীরে হতে হবে। খুব দ্রুত গতিতে হাঁটা যাবে না।

খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের সময় আরেক দফা বাড়ল

নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে। এর আগে বিশেষ পুনঃতপশিলের মাধ্যমে গত বছরের শেষ তিন মাসে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কম দেখানো হয়। এভাবে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর পুরোনো সংস্কৃতিতে ফেরা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই আরেক দফা বাড়ানো হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ সার্কুলারের মাধ্যমে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি এককালীন এক্সিট সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রেখেছে। আগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, এককালীন এক্সিট সুবিধা পাওয়া ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। গতকালের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বিদ্যমান ঋণ সুবিধা ছাড়া কোনো নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। ফলে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে।
গতকালের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অশ্রেণীকৃত এবং মার্চ পর্যন্ত বিরূপ মানে খেলাপি হওয়া ঋণে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া যাবে। আবেদন নেওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। ডাউনপেমেন্টের অর্থ নগদায়নের আগ পর্যন্ত নীতি-সহায়তার আবেদন কার্যকর করা যাবে না। আর নীতি-সহায়তার জন্য গঠিত বাছাই কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিশেষ সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে না।

বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই কমিটির কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০ আবেদন জমা পড়ে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না করে কমিটির মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। ওই কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরের প্রতিনিধিও ছিলেন। যাদের একজন আবার ঋণখেলাপি হিসেবে বিশেষ সুবিধা নেন। এ ছাড়া পুনঃতপশিল সুবিধা পাইয়ে দিতে কমিটির একজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে। প্রথম দফায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণে বিশেষ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে। এর পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল, পুনর্গঠন ও এককালীন এক্সিটের জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন আবার সময় বাড়ানো হলো।

অর্থনীতির প্রধান তিন খাতে সম্প্রসারণ, নির্মাণে অবনতি এপ্রিলের পিএমআই

অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি কিছুটা বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সার্বিক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) স্কোর মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৫৪ দশমিক ৬। এই উন্নতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল কৃষি খাতের ভালো অগ্রগতি। একই সময়ে শিল্প খাত আবারও সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। তবে সেবা খাতে সম্প্রসারণের গতি ধীর হয়েছে।  নির্মাণ খাতে সংকোচন আরও বেড়েছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত পিএমআই সম্পর্কিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, পিএমআই ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। স্কোর ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝায়। আর স্কোর ৫০ থাকার অর্থ ওই মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এমসিসিআই ও পিইবির প্রতিবেদন বলছে,  কৃষি খাত টানা আট মাস ধরে সম্প্রসারণে রয়েছে। এমনকি এ খাতের সম্প্রসারণের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। শিল্প খাত আগের মাসের সংকোচন কাটিয়ে আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। নির্মাণ খাত টানা তৃতীয় মাস সংকোচনে রয়েছে এবং এই সংকোচনের গতি আরও বেড়েছে। সেবা খাত টানা ১৯ মাস ধরে সম্প্রসারণ আছে। তবে গত মাসে সম্প্রসারণের গতি কমেছে। ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবাসহ সব প্রধান খাতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা ব্যবসায়িক আস্থার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।