Home Blog Page 135

পরিত্যক্ত ভিটার গাছতলায় পড়ে ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মরদেহ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পুঠিয়া গ্রামের পরিত্যক্ত ভিটার গাছতলা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি কাপড়ে জড়িয়ে কে বা কারা রাতে ফেলে দিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে পুঠিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় গাছের নিচে সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশু কাপড় জড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি উল্লাপাড়া থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, শিশুটি বয়স একদিন হতে পারে। পুলিশ মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে মৃত অবস্থায় নাকি জীবিত ফেলে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’ বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের

‘ফেতরা-জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’ বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এই বক্তব্যের মাধ্যমে চাঁদাবাজির মতো ফৌজদারি অপরাধকে জাকাত-ফেতরার সঙ্গে তুলনায় ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত বলেও আখ্যা দিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের টকশোতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল মান্নানের সঙ্গে বাহাসের এক পর্যায়ে নিলোফার মনি অভিযোগ করেন, জামায়াত জাকাত-ফেতরার টাকায় চলে। বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিতে যুক্ত এ অভিযোগে তিনি বলেন, ‘ফেতরা-জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাকাত ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ও ইবাদত। এর সঙ্গে চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধের তুলনা শুধু দুঃখজনকই নয়,  মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হানার শামিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম, যা সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মহান বিধান। পক্ষান্তরে, চাঁদাবাজি হলো জুলুম, অন্যায় ও অপরাধের প্রতীক। এ দুটিকে এক কাতারে আনা বা চাঁদাবাজিকে কোনোভাবে উত্তম হিসেবে উপস্থাপন করা চরম দায়িত্বহীনতা ও ধৃষ্টতার পরিচায়ক। নিলোফার মনির উচিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।

এহছানুল হক বলেছেন, জনগণ জুলুম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান চেয়ে আসছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল- ন্যায়ভিত্তিক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এখনো বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদাবাজিকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এনসিপির জাতীয় কনভেনশন রোববার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতেই কি সংকট তৈরি: আখতার হোসেন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট, সংবিধান সংস্কার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণে জাতীয় কনভেনশন আহ্বান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামীকাল রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন কনভেনশনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম–সদস্যসচিব সারোয়ার তুষার এবং নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, জ্বালানির বিষয়ে যে সংকটটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী শহর পর্যন্ত, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন নিয়ে মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে এবং হঠাৎ করেই দেখা গেল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরই সেই দীর্ঘ লাইন উধাও হয়ে গেল। এতে একটা প্রশ্নের জায়গাও তৈরি হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ানোর জন্য আগেই কি একটা সংকট তৈরি করা হলো ?

তিনি আরও বলেন, যদিও জ্বালানি তেলের এ বিষয় নিয়ে সংসদে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার একটা সময়সীমা আছে।

আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা বাধ্যতামূলক ছিল। সেই পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যেমন– আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কাঠামো এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া–বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সরকার এসব উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কার্যত স্থগিত করে রেখেছে।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদের ভেতরে বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করলেও সরকার দল তা আমলে নেয়নি। বরং তারা জুলাই সনদের মূল বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-কে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্যসচিব। ব্যাংক খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার পর ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট’-এ সংশোধন এনে মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ পরিশোধ করলেই আগের মালিকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চলমান সংকট নিরসনে একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এনসিপির উদ্যোগে সারা দিনব্যাপী একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ—অসম্ভব অভিযান অথবা বাজে চুক্তি: আইআরজিসি

শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন সেটি পর্যালোচনার কথা বলছেন, তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, ইরানে ‘অসম্ভব’ অভিযান পরিচালনা করা। দ্বিতীয়ত, একটি ‘বাজে’ চুক্তি করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের কোণঠাসা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে আইআরজিসির সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রতি চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের মনোভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধের বিপরীতে ইরানি সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরজিসির এই বিবৃতি এলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের শনিবার করা এক মন্তব্যের পর। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রস্তাবটি তিনি খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু মেনে নেবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আগামী দিনগুলোতে ইরানে হামলা হলেও হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

মে মাসের এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ বিইআরসির

মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আজ রোববার এ দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মে মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

এদিকে, রোববার মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ২ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দামও। গত ২ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এর গত ১৯ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’, সিএনএন ‘নির্বোধ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএন-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সিএনএন-কে ‘নির্বোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটির অন্য আরেকটি প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে বলেছেন ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসের একটি অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেছেন।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানকে ‘সামরিকভাবে পঙ্গু’ করে দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রচেষ্টারও সমালোচনা করেন।

ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিদিন তার দেশের সামরিক বাহিনী কতটা ভালো করছে তা পড়েন। তিনি বলেন, ‘তারপরেও আমি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং ‘নির্বোধ’ সিএনএন দেখি— কারণ আপনাকে শত্রুদের একটু হলেও দেখতে হবে।’

যুদ্ধ নিয়ে তাদের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, এই দুটি সংবাদমাধ্যমের কভারেজ দেখে মনে হয় যে ইরান ‘যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে’ ।

তিনি বলেন, আপনি যদি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পড়েন— আমার মতে এটি আসলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক’। আপনি এদের কিছু কলামিস্টের লেখা পড়তে পারেন, তবে এর সবকিছু ওপর থেকেই শুরু হয়। এটি একটি ভয়ানক ব্যাপার।

এসবের কোনোকিছুই তোয়াক্কা করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পর্ষদ মন্তব্য করেছিল, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘তার ধার হারাচ্ছে’। তারা যুক্তি দিয়েছিল, কৌশলগত অর্জনগুলো সামগ্রিক বিজয়ে রূপান্তরিত হয়নি। এর ফলে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।

মহান মে দিবসে ছায়ানটে সাংস্কৃতিক আয়োজন কবিতা ও নৃত্যে উঠে এলো শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা

মহান মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘তূর্যশিকড়’-এর উদ্যোগে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট মূল মিলনায়নে ‘মানুষের শ্রম, মানুষের জয়’ শীর্ষক এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী মফিদুল হক। তিনি বলেন, তূর্যশিকড়ের এই আয়োজন বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়কে আরও দৃঢ় করবে। সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের সমন্বয়ে এক মনোরম প্রযোজনা উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে কবিতা ও গানে শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং তাদের জীবন বাস্তবতা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়। তুর্যশিকড়ের নিজস্ব নৃত্য, কবিতা ও গানের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সাংস্কৃতিক দল জলতরঙ্গ, স্বনন ঢাকা, নৃত্য নিকেতন, গানের তরী বাংলাদেশ, ঢাকা ড্যান্স অ্যান্ড আর্ট সেন্টার ও মুক্তধারা নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনাও ছিল নান্দনিক।

এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক সারওয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান এবং শিক্ষক, গবেষক, ও সংগঠক মিরুনা বানু। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা লেখক ও সংগঠক মাহফুজুর রহমান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তুর্যশিকড়ের সভাপতি সুমনা শিল্পী প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও উপহার দেন। তিনি ভবিষ্যতেও এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আগামী অর্থবছরে ব্যয়সাশ্রয়ী বাজেটের পরামর্শ ফাহমিদা খাতুনের

রাজস্ব আয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকায় আগামী অর্থবছরে ব্যয়সাশ্রয়ী বাজেটের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, যেহেতু ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযমী না হলে সরকারকে প্রচুর ঋণ করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হলে তা হবে অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী। বাজেটে ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক উৎসগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তার।

শনিবার এফডিসিতে জীবনযাত্রায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মত দেন ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের ওপর কর তুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল থাকলে এর ফলাফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। রোজার মাসে আমদানি করা পণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল।

তার মতে, বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। তবে এর সুফল পেতে উপকারভোগী নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নিম্নবিত্তের জীবনকে সহায়তা করতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। তবে ভর্তুকি লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে। কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনের মতো খাতগুলোতে ভর্তুকি প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রেম, কষ্ট ও স্বপ্ন–সবকিছুই বাস্তবে ফুটে উঠেছে: পূজা চেরি

গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া নায়িকা পূজা চেরির সিনেমা ‘দম’ এখনো দেশের প্রেক্ষাগৃহে চলমান।  এ সিনেমায় ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি। ‘দম’ সিনেমার রেশ কাটতে না কাটতেই এলো পূজার আরও এক সিনেমা মুক্তির ঘোষণা। নাম ‘নাকফুলের কাব্য’।

আজ দুপুরে সিনেমাটির পোস্টার উম্মোচন করে প্রযোজনা সংস্থা জানায়, আসছে ঈদুল আযহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে পূজা চেরি অভিনীত চলচ্চিত্র ‘নাকফুলের কাব্য’। এতে তার বিপরীতে দেখা যাবে আদর আজাদকে।

আলোক হাসান পরিচালিত ও ফেরারী ফরহাদের গল্প-সংলাপে নির্মিত ‘নাকফুলের কাব্য’-সিনেমায় সমাজপতিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটি অমর প্রেম ও বিরহের গল্প উঠে এসেছে।

সিনেমাটি নিয়ে পূজা চেরি বলেন, ‘এই গল্পটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। এখানে প্রেম, কষ্ট আর স্বপ্ন-সবকিছুই খুব বাস্তবভাবে ফুটে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি দর্শকরা চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারবেন এবং সিনেমাটি তাদের মনে দাগ কাটবে।’

প্রযোজনা সংস্থা বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, ‘‘বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড সবসময়ই নান্দনিক ও পারিবারিক সিনেমা নির্মাণের প্রতি যত্নশীল ও দায়বদ্ধ। আমরা সবসময় এমন গল্প তুলে ধরতে চাই যা আমাদের সংস্কৃতি ও আবেগকে ধারণ করে। ‘নাকফুলের কাব্য’ সেই চেষ্টারই একটি অংশ। এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং আমাদের মানুষের গল্প, যা পরিবার নিয়ে বসে উপভোগ করার মতো একটি নির্মাণ।”

রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার ‘নাকফুলের কাব্য’ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, কাজী কানিজ, লুৎফর রহমান জর্জ, শিখা মৌ, আলীরাজসহ অনেকে।

এদিকে ঈদুল আযহায় পূজা চেরি অভিনীত ‘মাসুদ রানা’ সিনেমাও মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এতে পুরোদস্তুর অ্যাকশন গার্লের ভূমিকায় দেখা যাবে পূজাকে।

সিনেমায় নিজের অভিনয় নিয়ে পূজা চেরি বলেছিলেন, ‘আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এ জন্য ফাইট প্র্যাকটিস করছি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সোহানার মতো অভিনয় করছি। আমার আগের সিনেমাগুলোয় দর্শক যেভাবে আমাকে দেখছেন, এ সিনেমাতে ভিন্ন এক পূজাকে দেখবেন। পুরো একজন অ্যাকশন লেডি হিসেবে দর্শক দেখতে পাবেন আমাকে।’

মাসুদ রানা সিনেমার বেশিরভাগ শুটিং শেষ হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। বাকি ছিল একটি গান ও কয়েকটি দৃশ্যধারণের কাজ। অবশেষে সব জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি শুরু হয়েছে বাকি থাকা শুটিং।

কলা নাকি খেজুর, কোনটি বেশি উপকারী?

কলা ও খেজুর দুই-ই স্বাস্থ্যকর। এ দুটি ফল শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি। অন্যদিকে খেজুরে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, আঁশ (ফাইবার), আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এছাড়া খেজুরে ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি, তাই এটি শক্তির উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে।

শক্তি বাড়াতে
যদি দ্রুত শক্তি বাড়াতে চান, তাহলে খেজুর খান। এতে থাকা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়। অন্যদিকে কলা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।

হজমের জন্য
খেজুরে উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকায় এটি হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। কলা, বিশেষ করে সামান্য কাঁচা অবস্থার কলা, অন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে
কলা তুলনামূলক কম ক্যালোরিযুক্ত এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি ভালো বিকল্প। খেজুর পুষ্টিকর হলেও এর মিষ্টি স্বাদ ও বেশি ক্যালোরির কারণে সহজেই বেশি খেয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায়
কলা ও খেজুর উভয়েই হার্টের জন্য উপকারী। কলা উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। খেজুর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্‌যন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
খেজুরের গ্লাইসেমিক লোড বেশি, তাই অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। কলার গ্লাইসেমিক সূচক মাঝারি, তাই যারা রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প।