Home Blog Page 138

বাইরের খাবার খেয়ে পেট ব্যথা-বমি হলে যা করবেন

ঈদের ঘোরাঘুরি, খাবার খাওয়ার রেশ এখনো রয়ে গেছে। বেড়াতে গিয়ে পথের খাবার খাচ্ছেন অনেকে। বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবার, রাস্তায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল অথবা রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অনেকেই ‘ফুড পয়জনিং’য়ে আক্রান্ত হন। বমি, পেট ব্যথা আর পেটের গোলমাল শুরু হলে অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ খান। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া কিছু উপাদানেই এই বিষক্রিয়া কাটানো সম্ভব। শরীর থেকে টক্সিন বের করে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে ঘরোয়া কিছু উপকরণই কাজে আসতে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অপরিষ্কার পানি, বিশেষ কোনো খাবার সহ্য না হওয়া কিংবা কোনো খাবারে ব্যাকটেরিয়া-ছত্রাক জন্মালে, তা থেকে
খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। কাঁচা মাছ, মাংস বা শাকসবজি ঠিক মতো না ধুয়ে রান্না করলেও তা থেকে পেটে বিষক্রিয়া হতে পারে। সালমোনেল্লা ব্যাকটেরিয়া, ই কোলাই নামক ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক রকম ছত্রাক খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী।

বিষক্রিয়া কটিয়ে ওঠার উপায় কী?

এক কাপ পানিতে আদা কুচি ফুটিয়ে নিন। তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে গরম গরম খান। বমি ভাব নিমেষে উধাও হবে। আদা ও মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ আছে। এই দুই উপাদান প্রদাহনাশকও।

এক গ্লাস পানি নিয়ে তাতে কয়েকটি রসুনের কোয়া দিন। পানি ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। সেই পানি অল্প অল্প করে খান। রসুনের অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ বিষক্রিয়ার প্রভাব কাটিয়ে দেবে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া কমাতে কলা খেতে পারেন। কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ অনেক থাকায়, এটি বিষক্রিয়া কমাতে সহায়ক।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে শরীরে যে প্রদাহ তৈরি হয়, তার রেশ কাটাতে পারে জিরা পানি। এক গ্লাস পানিতে জিরা ভিজিয়ে রাখুন। সেই পানি ছেঁকে গরম করে খেতে পারেন।

এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে দু’চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খান। এটি দ্রুত বিষক্রিয়া কাটাতে সাহায্য করবে।

ভিয়েতনামেও হামজাকে ঘিরে উন্মাদনা

ভিয়েতনামে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন হামজা চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ ফুটবলারের গত রোববার ভিয়েতনাম আসার কথা থাকলেও তাঁর ক্লাব লেস্টার সিটির খেলা থাকায় আসতে পারেননি। ইংল্যান্ড থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সে গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় ভিয়েতনাম পৌঁছান তিনি।

সেখান থেকে হোটেলে বাক্সপেটরা রেখেই দলের সঙ্গে দেখা করতে অনুশীলন মাঠে চলে যান। গতকাল হ্যানয়ে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ছিল বিকাল ৫টায়। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে হামজা অনুশীলন করেননি।

বাফুফে থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় হামজা জানান, ‘দলের সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় তিনি বেশ আনন্দিত। ইংল্যান্ড থেকে আসতে ১৫ ঘণ্টা লেগেছে। ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি ছিল। তবে লম্বা ভ্রমণেও খুব বেশি কষ্ট হয়নি।’ কিছু দিন আগে সেরে ওঠা চোট নিয়ে তিনি জানান, ‘হাঁটুতে কোনো সমস্যা নেই, এখন খুবই ভালো বোধ করছেন। দলের সবার সঙ্গে অনুশীলন করতে মুখিয়ে আছেন।’ অনুশীলনের সময়ই হামজাকে নিয়ে ভিয়েতনামের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দেখা যায়। হোটেলে ফেরার পর এক দল সাপোর্টার হামজাকে জার্সি উপহার দেন। আগামীকাল ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ খেলে পরের দিন সিঙ্গাপুর রওনা হবে তারা। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে জামালরা ঢাকার বিমানে চড়লেও হামজা উড়াল দেবেন ইংল্যান্ডের পথে।

 

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন রোগী

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠায় বুধবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের অধীনে রোগী ভর্তি ছিলেন। কিডনি অপসারণে নেতৃত্ব দেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। আর প্রতিস্থাপন সার্জারিতে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

চিকিৎসকরা জানান, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এতে রোগী ও তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে রোগীর মায়ের উদ্যোগ ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।

গত ২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ড কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ২ মার্চ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এতে সন্তানের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেন তার মা।

অস্ত্রোপচারের পর মা ও সন্তান উভয়ই সুস্থ থাকায় বুধবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বড় ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে ছোট ভাই নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বড় ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পেছনে রেলগেটে এ ঘটনা ঘটে।

জমি-জমার বিরোধের জেরে বড় ভাই ডা. গোলাম কবির তার বন্দুক দিয়ে ছোট ভাই মিন্টুকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুরুতর অবস্থায় মিন্টুকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক করে। পরে তাকে হেফাজতে নেয় বোয়ালমারী থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সকালে ডা. গোলাম কবির ছোট ভাই মিন্টুকে চতুল ফায়ার সার্ভিসের পিছনে রেলগেট এলাকায় গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গুলি ছোড়েন তিনি।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, ডা. গোলাম কবির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালি) সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।

সংসার ভাঙল মৌসুমী হামিদের

বছর দুয়েক আগে লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। দুই বছর পর জানা গেলো পরকীয়ার জেরে সংসার ভেঙে গেছে তাদের। খবরটি নিশ্চিত করেছেন মৌসুমী নিজেই।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনারা যা শুনেছেন, ঠিকই শুনেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি।’

জানা গেছে, পরকীয়ার জেরে ঘর ভেঙেছে মৌসুমীর। গত বছর নভেম্বর থেকে আলাদা থাকছেন তারা। গেল কয়েক মাস ধরেই রানার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোবিজে। এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতার খবর শোনা গেছে।

মূলত পরকীয়ার নিয়েই মৌসুমী-রানার সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। এক পর্যায়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন রানা। ডিভোর্স লেটার পাঠান মৌসুমীকে।

এদিকে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় মৌসুমী হামিদের।

২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি বিয়ে করেন রানা-মৌসুমী। পারিবারিক সিদ্ধান্তে হয়েছিল বিয়ে। সে সময় মৌসুমী বলেছিলেন, ‘রানার সঙ্গে আমার দুই বছরের পরিচয়। এরপর আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। সবার সম্মতি নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নিচ্ছি।’

শোবিজে মৌসুমীর যাত্রা শুরু লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছোটপর্দায়। নাকট ছাড়াও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া ওটিটি মাধ্যমে কাজ করেও হয়েছেন প্রশংসিত।

টানা সাত দিন বন্ধের পর খুলল ব্যাংক

টানা সাত দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলেছে। ব্যাংক খোলার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও শুরু হয়েছে। এদিকে রমজানের পর পুনরায় স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লেনদেন চালু হয়েছে। আর অফিস কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
ঢাকায় সোনালী ব্যাংক লোকাল শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ছুটির পর ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন গ্রাহক উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। কেননা ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। পরের দুদিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আগামী সপ্তাহের রোববার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।

ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা রেভিনিউ’র অংশ দিল নগদ

রেভিনিউ ভাগাভাগির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ টাকা দিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নগদের রেভিনিউ থেকে ডাক বিভাগকে এ অর্থ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম কাছে এ চেক হস্তান্তর করেন নগদের চিফ ফাইন্যানশিয়াল অফিসার আফজাল আহমেদ।

এ সময় নগদের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম এবং নগদ লিমিটেড ও ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার জন্যে প্রযুক্তিসহ প্রয়োজনীয় সব বিনিয়োগই করবে নগদ লিমিটেড। সেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের কোনো আর্থিক বিনিয়োগও থাকবে না। সেবা থেকে রেভিনিউ’র ৫১ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। নগদ লিমিটেড পাবে বাকি ৪৯ শতাংশ রেভিনিউ।

এর আগে সেবা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে মোট ১৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬০ টাকা রেভিনিউ’র অংশ দিয়েছে নগদ লিমিটেড। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। তারও আগে ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ টাকা এবং ২০২০ সালে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা ডাক বিভাগকে প্রদান করে নগদ লিমিটেড।

মঙ্গলবার চেক হস্তান্তরের পর নগদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নগদ এই খাতের বাজারে যথেষ্ট প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহককে আরও উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে এই খাতে বাংলাদেশের প্রভূত উন্নতি ঘটছে।

তিনি বলেন, নগদ ডাক বিভাগেরই সেবা। ডাক বিভাগ এবং নগদের সবাই মিলে আমরা নগদকে আরও এগিয়ে নেবো। ডাক বিভাগ থেকে আমরা যেমন নগদকে ওউন করি, একইভাবে সরকারও নগদকে ওউন করে।

এখন হয়ত নগদ থেকে বছরে ১৩-১৪ কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি সেই সময় বেশি দূরে নয় যখন এখান থেকে বছরে সরকার একশ কোটি টাকার রাজস্ব পাবে।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নগদের অবদান অসামান্য। নতুন নতুন উদ্ভাবনের পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নগদের অবদান সবচেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়েও নগদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০১৯ সালের মার্চে যাত্রার পর থেকেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে নগদ। পিছিয়ে পড়া মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

উদ্ভাবনী সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জসহ অত্যাধুনিক সব সেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আর্থিকখাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটিয়েছে নগদ। সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপবৃত্তি বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অনুদান বিতরণ, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাখাতের বিভিন্ন সহায়তা ও ভাতার টাকা স্বচ্ছতার সঙ্গে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নগদ। ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের ভাতা বিতরণ এবং সরকারের অন্যান্য যেসব ভাতা ও অনুদান বিতরণ হবে সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নগদ।

ভাগে জমি কম পাওয়ায় বাবার কবর ভাঙচুর

গাইবান্ধায় অন্য ভাইদের চেয়ে জমি নিজ ভাগে কম পাওয়ায় ক্ষোভে বাবার কবর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্যান্ট ও গেঞ্জি পরা এক যুবক কবরের চারপাশে আঘাত করছেন এবং গালি দিচ্ছেন। কবরের চারপাশ ঘেরা খুঁটি ও জালে লাথিও মারছেন তিনি। এ সময় বহু মানুষ দাঁড়িয়ে তা দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতাড়ি গ্রামের ঘটনা। কবরটি মৃত আব্দুল মান্না মিয়ার। কবর ভাঙচুর করা ব্যক্তির নাম শাহ আলম। তিনি আব্দুল মান্নান মিয়ার ছোট ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাবার কবর ভাঙচুর করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোলাহাটি ইউপি সদস্য আব্দুল হাই মিয়া। তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, আনালেরতাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নানের পাঁচ ছেলে। ৩-৪ বছর আগে মান্নান মিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার জমি পাঁচ ছেলের মাঝে ভাগ করে দেন। তবে আব্দুল মান্নান মিয়া গোপনে তার দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল মিয়াকে অতিরিক্ত কিছু জমি লিখে দেন। লিখে দেওয়া সেই জমি কয়েক বছর পর গোপনে ছোট ছেলে শাহ আলমকেও লিখে দেন। সম্প্রতি জমি ভাগ করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। একই জমি দুই ছেলেকে লিখে দেওয়ায় ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলে শাহ আলম বাবার কবর ভাঙচুর করেন।

ইউপি সদস্য আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বড় ছেলে ইকবাল মিয়ার দখলের জমিতে তার বাবার কবর। কবরের জায়গাটা ছোট ছেলে শাহ আলম নিজের বলে দাবি করেন এবং বাবার কবর ভাঙচুর করে। জমির জন্য নিজের বাবার কবরে অসম্মানজনক আচরণ করা খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহ আলম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের দাবি আলোচনা চলছে, ইরান বলছে হচ্ছে না- সত্য কোনটা

প্রায় এক মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, এ আলোচনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও যুক্ত ছিলেন। তবে ট্রাম্পের এমন বয়ানের প্রধান সমস্যা হলো- ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এটি বারবার অস্বীকার করছেন।

যুদ্ধের ডামাডোল এবং সব পক্ষের প্রোপাগান্ডার মাঝে কাকে বিশ্বাস করা যাবে তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি থেকে উভয় পক্ষ কী পেতে পারে- সেটি বিশ্লেষণ করা গেলে কিছু বিষয় স্পষ্ট হতে পারে।

শুরুতেই ট্রাম্পের মন্তব্যের ওপর নজর দেওয়া যাক। ইরানের একজন শীর্ষ নেতার (নাম উল্লেখ করেননি) সঙ্গে তিনি ‘খুব ভালো’ আলোচনার দাবি করেছেন। ওই আলোচনায় ঐকমত্যের মূল বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- যে সময়ে মার্কিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়; ট্রাম্প ঠিক সে মুহূর্তে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ কথা বলেছেন। ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য তিনি যে পাঁচদিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন সেটিও কাকতালীয়ভাবে শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনের সঙ্গে মিলে যায়।

অনেকে এই ‘টাইমিং’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। কারণ, যুদ্ধের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের সঙ্গে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

শেয়ারবাজার ও তেলের দামের ওপর যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের জন্যই নয়, ইরানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধ মার্কিন এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণ করাটাও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের চাওয়া- যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, যাতে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে হামলা করার আগে দশবার ভাবে।

সুতরাং, বাজার শান্ত করার জন্য আলোচনার কথা বাড়িয়ে বলা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ তেমনি বাজারকে অস্থির রাখতে এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে স্বস্তি না দিতে আলোচনার কথা অস্বীকার করাটাও ইরানের কৌশলের অংশ।

ইরানের শীর্ষ যেসব নেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। কিন্তু তিনিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যে চোরাবালিতে আটকে গেছে তা থেকে বাঁচতে এখন ‘ফেক নিউজ’ ব্যবহার করছে।

এদিকে ট্রাম্পের আলোচনার বার্তা দেওয়ার পেছনে ‘যথেষ্ট সময় অর্জন’ করাটাও অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। কারণ, ওয়াশিংটন ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের স্থল অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলে, সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন সেনা পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের লাভ
যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে উভয়পক্ষের নিজস্ব বয়ান আছে। এ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্যও করছে। কিন্তু সেগুলো থেকে আলোচনা আদৌ হচ্ছে কি না সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। তবে কোনো বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি না একটি দিক অবশ্যই পাওয়া যায়।

যেমন- গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকে তাদের (ইরান) লক্ষ্যবস্তু বানানোটা কেউ আশা করেনি। বড় বড় বিশেষজ্ঞরাও এটি বিশ্বাস করেননি।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, তিনি আসলে ইরানের সক্ষমতার অবমূল্যায়ন করেছিলেন। যা এখন উপলব্ধি করতে পারছেন। তাই এখন তাঁর পক্ষে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত চুক্তি করতে চাওয়া অবাস্তব কিছু নয়।

তেলের বাজার শান্ত রাখতে ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম কোনো ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। ইরান এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছে, তাদের যুদ্ধ বিস্তৃত করার কৌশল কাজে দিয়েছে।

যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এমনিতেও অজনপ্রিয় ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর তা আরও প্রকট হয়েছে। কারণ, মার্কিন ভোক্তারা ইতোমধ্যে পেট্রলের দাম ও অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রভাব টের পাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোক্তা পর্যায়ে তৈরি হওয়া এই অসন্তোষ ট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক দলের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ।

তাই ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা- যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দেওয়া অথবা দ্রুত অবসান ঘটানো।

ইরানের সম্ভাব্য দৃষ্টিভঙ্গি
ট্রাম্প যা-ই করতে চান না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এককভাবে তাঁর হাতে নেই। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ইরান দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তেহরান এখন ভবিষ্যতে এ ধরনের আরেকটি হামলা ঠেকানোর মতো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাবে না।

তাত্ত্বিকভাবে দেখলে, বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় ইরানের জন্য সংঘাত দীর্ঘ করাটা সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসকরা হয়তো ধারণা করছেন, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধ করলে প্রতিপক্ষ ফের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মজুতের সুযোগ পাবে।

তবে ইরানকেও একটা না একটা সময় যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রায় এক মাসের যুদ্ধে তারাও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। অন্তত দেড় হাজার মানুষ নিহত ও বহু অবকাঠামো ধসে গেছে। আগামীতে বিদ্যুতের গ্রিড লক্ষ্য করে হামলার হুমকি আছে। উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। যুদ্ধ শেষে এই সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনাটাও ক্ষীণ।

ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকাটা স্বাভাবিক। তাই ইরানের তুলনামূলক মধ্যপন্থী নেতারা যুক্তি দিতে পারেন- প্রতিরোধ সক্ষমতার যথেষ্ট প্রদর্শন হয়েছে, আলোচনার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। এ ছাড়া, ভবিষ্যতে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি বা হরমুজ প্রণালিতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ইরান ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তিতে গেলেও যেতে পারে।

যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায়, নিখোঁজ ৪৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছে। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত অবস্থায় সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে ৪৫ জন।

এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজীব নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। বাকিরা নিখোঁজ।

দৌলতদিয়া ঘাট সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়েছে সেখানে গভীরতা বেশ। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাস বা কোনো যাত্রীকে উদ্ধার করা যায়নি।

জানা গেছে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে ৫৬ জন যাত্রী ছিল। যাদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকায় বিআইডব্লিউটিসি, গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।