Home Blog Page 140

ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হচ্ছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য থমথমে

ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা আজ সোমবার রাতে শেষ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটে এই আলটিমেটাম পার হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিমুক্তভাবে সম্পূর্ণরূপে খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

গত শনিবার নিজের সামাজিকমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে  দেওয়া হবে। আর ওই হামলা শুরু হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে।’ খবর বিবিসির

এর জবাবে ইরান যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ রোববার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা করে, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘চিরতরে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।

গালিবাফ তার পোস্টে বলেন, ‘ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো আঘাত এলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও তেল স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই পাল্টা আঘাত এমনভাবে করা হবে, যা কোনোভাবেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

ট্রাম্পের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগে থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এরইমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, এই সংকটের প্রভাব সত্তরের দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। এই জলপথ দিয়ে চলাচলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর খাগড়াছড়ি

ঈদের ছুটিতে সবুজ পাহাড়, নির্মল বাতাস আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঈদের টানা ছুটিতে খাগড়াছড়িতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই পাহাড়ি জনপদে।

জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলা গুহা, তেরাং তৈকালাই ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক, চেঙ্গী নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্পট এখন মুখরিত পর্যটকদের পদচারণায়। প্রতিটি স্থান যেন নিজস্ব সৌন্দর্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা আলুটিলা গুহা ঈদ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ফেনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আল আমিন বলেন, ঈদের ছুটিতে সপরিবারে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য এখানে এসেছি। আমার ছেলেমেয়েরা খুব আনন্দ পাচ্ছে। গুহার ভেতরে গিয়ে একেবারে অন্যরকম অনুভূতি হয়েছে—অন্ধকার, ঠাণ্ডা আর নীরবতা মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

অন্যদিকে তেরাং তৈকালাই ঝর্ণার স্বচ্ছ ঠাণ্ডা পানি, ঝুলন্ত সেতুর দোল আর পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। ঝর্ণার কলকল শব্দ আর শীতল স্পর্শ যেন ক্লান্ত মনকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে।

নোয়াখালী থেকে আসা পর্যটক সুমন সাহা জানান, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এখানকার পরিবেশ—সবকিছু এক কথায় অসাধারণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এমন শান্ত পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি দেয়।

পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও। খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের উপ-সহকারী হর্টিকালচার কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক আসছে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছি। পার্কের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নিশাত রায় বলেন, এবার ঈদে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে। প্রতিটি পর্যটন স্পটে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

শুধু পর্যটন স্পটই নয়, জমজমাট হয়ে উঠেছে পাহাড়ি হস্তশিল্পের দোকানগুলোও। বাঁশ, বেত, কাঠ ও কাপড়ে তৈরি নান্দনিক পণ্যগুলো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্থানীয় এক বিক্রেতা বলেন, ঈদের এই সময়টাতে আমাদের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। পর্যটকরা এখানকার ঐতিহ্যবাহী জিনিস খুব পছন্দ করে, তাই ভালো ব্যবসা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ঈদের এই ছুটিতে খাগড়াছড়ি যেন রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবের নগরীতে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিকতায় ভরপুর এই পাহাড়ি জেলা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নপুরী।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই সময়গুলোই হয়ে উঠছে অমূল্য স্মৃতি—যা বারবার ডেকে নিয়ে যাবে মানুষকে পাহাড়ের এই অপার সৌন্দর্যের কাছে।

নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলে পিএসএলে খেলবেন না মুস্তাফিজরা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলে আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) অংশ নেবেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

উপমহাদেশে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এবারের পিএসএল শুধু লাহোর ও করাচিতে দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্থিতি সরকারকে জানালে এবং জাতীয় সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সন্তোষজনক প্রতিবেদন পেলেই কেবল ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতে বিসিবি নিশ্চয়তা দিলে সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না, ‘যদি বিসিবি আমাদের নিশ্চিত করে যে সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা(বিসিবি) খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকেও গুরুত্ব দেবে, কারণ আমরা খেলাধুলাকে নিরুৎসাহিত করতে চাই না এবং আমরা চাই সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে খেলা চালিয়ে যাক।’

বিসিবির দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে বিসিবি আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করবে এবং যদি সবকিছু ঠিক আছে বলে তারা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আমরা এগোতে(পাকিস্তানে যাওয়ার ক্ষেত্রে) পারি।’

আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পিএসএলের জন্য ইতোমধ্যে বিসিবির অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছেন ৬ বাংলাদেশি ক্রিকেটার। আজ পিএসএলে অংশ নিতে প্রথম ধাপে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমানসহ চারজন। আজ সকালে ঢাকা ত্যাগ করা চার ক্রিকেটার হলেন- মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা এবং পারভেজ হোসেন ইমন। দল পাওয়া অপর দুই ক্রিকেটার লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম পরবর্তীতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

এদিকে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। একই সময়ে দেশে আইপিএল সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘খেলাধুলাকে রাজনৈতিক করা উচিত নয়। ঈদের ছুটির পর ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রকৃত কারণ জেনে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতায় পাম্প বন্ধের শঙ্কা পাম্প মালিকদের

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার সংগঠনটির এক ফেসবুক পোস্টে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।

পোস্টে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। তেল কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে বর্তমান ক্রেতা চাহিদা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশে কোটি কোটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এতে তারা ক্লান্ত, বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এই ক্ষোভ পাম্পে কর্মরত নজেলম্যানদের ওপর গিয়ে পড়ছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদিন বিরামহীনভাবে কাজ করতে গিয়ে কর্মীরা চরম চাপে রয়েছেন। বিরক্ত ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও ছোটখাটো ঝামেলার ঘটনা ঘটছে। এক কর্মী বলেন, “মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে এসে রাগান্বিত থাকেন। আমরা চেষ্টা করি সামাল দিতে, কিন্তু সবসময় সম্ভব হয় না।”

সংগঠনটির ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে পাম্প পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নেই, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে অনেক পাম্পে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পোস্টে সতর্ক করে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পগুলো নিরাপত্তাজনিত কারণ ও সরবরাহ সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘কোবরা’ বৈঠক ডাকলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার দেশের অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় আজ সোমবার ‘কোবরা’ নামে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ।

এ বৈঠকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার (অর্থমন্ত্রী) র‍্যাচেল রিভস এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন বলে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়,  ইরান যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ উদ্বেগের সঙ্গে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাজ্য। আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা, টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কোষাগারে টানাটানির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশটির সরকারি বন্ডের দর অনেক দ্রুত কমছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোবরা’ নামের এই জরুরি বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও অংশ নেবেন। র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর এ যুদ্ধের প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও তিনি আপাতত তা নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেওয়ার অজুহাতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার হুমকি কার্যকর করেন, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে। এই উত্তেজনা শুরুর পর আর্থিক বাজারগুলো আরও একটি অস্থির সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে।

কুমিল্লা-ফেনীতে নিহতের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং ফেনীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে-দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।’

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং ফেনীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারগুলোর শোক কখনোই পূরণ হবার নয়।’

তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ওই পোস্টে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
শেষে আল্লাহর নিকট নিহতদের জন্য শহীদের মর্যাদা এবং তাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেন শফিকুর রহমান।

লালবাগে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকার বাসা থেকে ফারহান রহমান জিহাদ নামের এক স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেমঘটিত কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়।

গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৭ বছর বয়সী ফারহান রহমান জিহাদ ইসলামবাগ আইডিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে জিহাদ সবার ছোট। তার বাবার নাম ফজলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচড় উপজেলায়। পরিবারটি লালবাগ এলাকায় ওই ভাড়া বাসায় থাকে।

জিহাদের বড় ভাই ফাহিম রহমান রুদ্র বলেন, ‘জিহাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, একই স্কুলে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুপুরে তারা এক সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল। বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় মোবাইলে কথা বলছিল জিহাদ। এর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা খুলেনি। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়- জিহাদ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জিহাদকে নামিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনরা আত্মহত্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি যাচাই করার পাশাপাশি আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন তারকারা, প্রচারে নেই ‘প্রিন্স’-এর কেউ

সারা বছর দর্শকখরা গেলেও ঈদে সিনেমা হলে থাকে উপচে পড়া ভিড়। এবার ঈদের দিন থেকে প্রেক্ষাগৃহে পাঁচটি সিনেমার প্রদর্শনী হচ্ছে। সিনেমাগুলো হলো- ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। ঈদের দিন থেকেই নিজেদের সিনেমার প্রচারে হল থেকে হল ঘুরছেন তারকারা। তবে নির্মাতা-প্রযোজক ছাড়া প্রচারে পাওয়া যায়নি ‘প্রিন্স’ সিনেমার কোনো তারকাশিল্পীকে।

রোববার স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধারা শাখায় দেখা যায় অভিনেতা আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ পূজা চরি, আজমেরী হক বাঁধন, অভিনেত্রী নাজিফা টুষি, নির্মাতা রেদওয়ান রনি, আবু হায়াত মাহমুদ, মেহেদি হাসান হৃদয়সহ অনেক তারকাকে।

এদিন মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখেতে এসেছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’এর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কিন্তু সিনেমার টিকিট না পেয়ে সেটা আর হয়নি।

আজমেরী হক বাঁধন, “আজ মেয়েকে নিয়ে নিজের সিনেমা দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু টিকিট পাইনি। তাই এখান থেকে নিজের সিনেমাসহ ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর দর্শক প্রতিক্রিয়া জানছি। খুশির খবর হল- আমাদের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়ে আমি আপ্লুত। সেই সঙ্গে অন্য সিনেমাগুলোর প্রতিক্রিয়াও দারুণ।”

এবার ঈদে তিনটি সিনেমা দেখা যাচ্ছে চঞ্চল চৌধুরীকে। ‘দম’ ‘প্রেসার কুকার ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এই তিন সিনেমার প্রচারণায় ঈদের দিন থেকেই তিনিও ছুটছেন বিভিন্ন হলে।

চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘এবার ঈদে আমার তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।  এজন্য চাপটা একটু বেশি। প্রতিদিন দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য হলে হলে যাচ্ছি। ভালো লাগার বিষয় হল অডিয়েন্সে (দর্শক) ভর্তি ছিল। হাউসফুল হলে যে কারও ভালো লাগে। দর্শকের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখলাম, সেটাই আমাদের ভালো লাগা।’

ঈদের আরেক সিনেমা ‘দম’–এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। সিনেমাটি নিয়ে নিশোও হলে হলে ছুটছেন। রোববার স্টার সিনেপ্লেক্সে হাজির হন নিশো, সঙ্গে সিনেমার পূজা চেরী, প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। নির্মাতা রেদওয়ান রনিকেও দেখা গেছে।

নিশো বলেন, ‘দর্শকের এক্সপ্রেশন ও রিঅ্যাকশন খুবই ভালো। আমরা খুবই আনন্দিত। গোয়িং গ্রেট সো ফার। এটা তো আজকে শুরু। আমি যত দিন বেঁচে আছি, হলে অডিয়েন্সের রিঅ্যাকশন ফিজিক্যালি এক্সপেরিয়েন্স করতে চাই। এর থেকে সুন্দর আর কিছু হয় না।’

মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, সুস্মিতা চ্যাটার্জি। হল থেকে হলে ঘুরেছেন সিয়াম। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ‘রাক্ষস’ যেটা ভেবে বানিয়েছিলাম, অডিয়েন্সরা সেটার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছেন। বারবার বলছিলাম, দিস ইজ নট জাস্ট অ্যানাদার কমার্শিয়াল ফিল্ম। আজকে থেকে ‘রাক্ষস’ আপনাদের হয়ে গেছে।”

স্টার সিনেপ্লেক্সে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার প্রচারে গিয়েছিলেন নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত, রায়হান রাফীসহ আরও কয়েকজন।

রায়হান রাফী বলেন, ‘‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার দারুণ সারা পাচ্ছি। দর্শক সিনেমাটি নিয়ে তৃপ্তি নিয়ে হলে থেকে বের হচ্ছে। একজন নির্মাতা হিসেবে এটাই বড় পাওয়া।”

আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান। বরাবরের মতো এবারও তাঁকে সিনেমার প্রচারে দেখা যায়নি। কোনো হলে যাওয়ার খবরও মেলেনি।

মব তৈরি করতে দেব না, কঠোর হস্তে দমন করা হবে: মির্জা ফখরুল

সামনে কঠিন সময় আসছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই যুদ্ধটা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। তেলের দাম বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে এগুলোকে সয়ে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো মব তৈরি হতে দেব না, মবকে কঠোর হস্তে দমন করব।’

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় ‘নেহা নদী’ খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে তেলের সাপ্লাই কম। এর মধ্যেই হঠাৎ দেখা গেল ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পেট্রোল পাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা দায়িত্বশীলদের জানাতে হবে। সবাই সাবধান থাকবেন, গায়ের জোরে আইনের বাইরে কেউ কোনো কাজ করার চেষ্টা করবেন না।’ তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল পাম্পে হামলাকারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করায় ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

কৃষি, কৃষকের উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মাছ চাষ ও হাঁস পালনের উদ্দেশ্যে সরকারের এই খাল খননকাজে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই খাল খননের কাজ যেন সুন্দরভাবে হয় এবং মানুষ যেন খুশি হয়। কেউ যেন কোনো অভিযোগ করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। মানুষ যেন বলতে না পারে যে শুধু কাজের উদ্বোধনই হয়েছে, পরে আর কোনো কাজ হয়নি। এমনটা যেন না হয়।’

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা কাজের মাধ্যমে, ইবাদতের মাধ্যমে, হালাল উপার্জনের মাধ্যমে এবং সৎ থেকে বেহেশতে যাব। আমরা অন্যদের মতো ধর্মকে ব্যবহার করে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করি না।’

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননের পাশাপাশি কৃষি কার্ডও দেওয়া হবে। কারণ কৃষকের উন্নয়ন হলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে।’

জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল হোসেন। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের তৃতীয় দিনেও ফাঁকা ঢাকা, ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা

ঈদের তৃতীয় দিন সোমবারও রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে। চিরাচরিত যানজট নেই। মহানগরীর রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলোতে ভিড় নেই। অধিকাংশ দোকানপাটও এখনও খোলেনি। সর্বত্র এখনও ছুটির আমেজ বইছে। এরই মধ্যে ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি যাওয়া অনেকেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের বেশিরভাগ অবশ্য কর্মজীবী।

মঙ্গলবার থেকে যার যার কর্মস্থলে যোগ দিতে ফিরছেন তারা। অবশ্য বেশিরভাগের পরিবার-পরিজনের ঢাকায় ফিরবেন আরও কয়েক দিন পর।
এবার ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি ছিল এক সপ্তাহ। ১৭ মার্চ শুরু হয়ে আজ সোমবার ছুটি শেষ হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদ কাটাতে ঢাকা ছাড়েন। ঘরমুখী মানুষ ঢাকা ছাড়ায় ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানী। ঈদের তৃতীয় দিন সোমবারও সেটা বহাল রয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানজনটবিহীন ফাঁকা রাজধানীতে কিছু মানুষ ঈদের ঘোরাঘুরিতে সময় পার করছেন। সব বয়সের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরণীরা দল বেঁধে ঘুরতে বেরিয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বেশ ভিড়। তবে রাস্তাঘাট এখনও প্রায় জনশূন্য। নগর পরিবহন ও মেট্রোরেলেও ভিড় নেই তেমন একটা।

মিরপুর থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের চালক ইব্রাহিম শেখ জানালেন, গত তিনদিন ধরেই তাদের বাসগুলোতে যাত্রীর ভিড় নেই তেমন একটা। তারপরও সকাল থেকে রাত অবধি বাসগুলোর চলাচল অব্যাহত রেখেছেন। অবশ্য ট্রিপ সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কিছুটা। এই রুটে চলাচলকারী অন্য পরিবহনের বাসগুলোসহ যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, রামপুরা, মৌচাক, মালিবাগ, ফার্মগেট, ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুরসহ সব জায়গার বাস, সিএনজি ও লেগুনাসহ অন্য পরিবহনগুলোতেও একই চিত্র দেথা গেছে। অবশ্য তেল সংকটে ঢাকার অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে দেখা গেছ।

অবশ্য ফাঁকা রাস্তায় ব্যাটারিচালিত ও সাধারণ রিকশা স্বাভাবিক সময়ের বেশি দেখা গেছে। সাধারণ ও দরিদ্র রিকশা চালকরা জীবিকার টানে ঈদের ছুটিতেই রাস্তায় বেরিয়েছেন। ঈদের উৎসব উপভোগে বের হওয়া মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া ও বখশিস পাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকরা।

এদিকে, রাজধানীর মিরপুর, পল্টন, গুলিস্তান, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, মতিঝিল ও যাত্রাবাড়ীসহ সব এলাকার বড়-ছোট শপিং মল ও দোকানপাটের বেশিরভাগ বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এসব এলাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বড় শপিংমল থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অনেক দোকানেই তালা ঝুলতে দেখা গেছে। গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলোর বেশিরভাগ বন্ধ রয়েছে।

অবশ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বিক্রেতা স্বপ্ন ও আগোরাসহ বড় কয়েকটি ব্রান্ডের বেশ কিছু শোরুম খোলা দেখা গেছে। ঈদের পরের প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় এসে অনেকেই বিকল্প হিসেবে এসব শোরুমের ওপর নির্ভর করছেন।

একই দৃশ্য মহল্লার দোকানপাটগুলোতে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা উপস্থিতি তেমন একটা নেই। কাচাবাজারগুলোর বেশিরভাগ খোলেনি। রাস্তাঘাটে ভ্রাম্যমাণ সবজির দোকানগুলো অবশ্য খোলা দেখা গেছে। সব দোকানপাট স্বাভাবিক পর্যায়ে খুলতে আরও দুই-একদিন সময় লাগবে বলে জানান বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগের টানা কয়েকদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রি-বাট্টা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে। এই কারণে দোকানকর্মীদের ঈদের দিন থেকে ছয়-সাতদিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ায় কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া ঈদের আগের ব্যস্ততা পার করে অধিকাংশ ব্যবসায়ীও এখনও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ছেড়েছেন। এই কারণে বেশিরভাগ শপিং মল ও দোকানপাট আরও কয়েক দিন বন্ধ থাকতে পারে।

শেওড়াপাড়া মধ্য পীরেরবাগ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে বিক্রি ভালো হলেও এখন দোকান প্রায় ফাঁকাই থাকে। তার তিনজন কর্মী ছুটিতে রয়েছেন। তিনি ও তার ছোট ভাই মিলে সীমিত সময় দোকান চালাচ্ছেন।

ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা
ঈদ উৎসব শেষে আবারও ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। ঈদের তৃতীয় দিন থেকে লঞ্চ, বাস ও ট্রেনে করে রাজধানীতে ফিরছেন এসব কর্মজীবী মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। তবে এখনও সিংহভাগ মানুষ ছুটি কাটাচ্ছেন যার যার বাড়িতে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় ফিরে সরাসরি অফিস করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এছাড়া ঈদের পর বাড়তি ছুটি নিয়ে ঢাকা ছাড়া মানুষ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি কাটিয়ে আগামী সপ্তায় কর্মস্থলে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন।

এবারের ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবারের ফেরা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। লম্বা সময় স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পেরে খুশি সবাই। জীবিকার তাগিদে আবারও নগরীতে ফিরতে হলেও কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা।

অন্যদিকে, ঈদের তৃতীয় দিনেও থেমে নেই ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেও এখন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাচ্ছেন কিছু মানুষ। ঈদের সময় যানজট ও নৌযান ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে তারা ঈদের পর গ্রামের পথে রওনা দিয়েছেন বলে জানান।

সোমবার সকাল থেকে গাবতলী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ ঢাকার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ভিড়তে শুরু করে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের চাপ ছিল তুলানামূলক বেশি।

মহাখালী বাস টার্মিনালে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী সোলায়মান আহমেদ জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ফিরতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে আসতেই হয়। মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে হবে। পথে যানজট কম থাকায় ফিরতি যাত্রা বেশ আরামদায়ক ছিল।

কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে ধীরে ধীরে রাজধানীতে মানুষের ফেরা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন যাত্রীচাপ আরও বাড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে ঢাকায় ফেরা কর্মজীবী মানুষের কিছুটা ভিড় দেখা গেল। তবে এখনও তেমন একটা উপস্থিতি নেই। কর্মজীবীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে লঞ্চ থেকে নামছেন টার্মিনালের বিভিন্ন পয়েন্টে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, মূলত লঞ্চগুলোর ফিরতি যাত্রা শুরু হবে স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে ২৮ মার্চ থেকে। সেদিন থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের ফিরতি যাত্রাও শুরু হবে। তবে এখনও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌপথের কিছু যাত্রী ফিরছেন। ঈদযাত্রার মতো ফিরতি যাত্রাও স্বাচ্ছন্দ্যের করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভোলা থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল হক জানান, মঙ্গলবার থেকে তাদের অফিস খুলছে। এজন্য ভিড় এড়াতে একদিন আগেই ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। তার অফিসের বাকিরা সোমবার রাতে রওয়ানা হয়ে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ঢাকায় আসতে পারেন।