Home Blog Page 141

ইরানে সরকারবিরোধী ৩ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত তিন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী ওই আন্দোলন হয়।

ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা মিজানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওই তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ছিল।

গত জানুয়ারিতে ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ক্রমেই তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সময়ে প্রায় ৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’।

কাতারে আরেকবার হামলা হলে ইরানের গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

ইরান যদি কাতারে আবার কোনো হামলা চালায়, তবে দেশটির প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বড় মাপের চালানোর হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ বৃহস্পতিবার এক পোস্টে এই হুমকি দেন তিনি। খবর বিবিসির

কাতারের রাস লাফ্ফান এনার্জি কমপ্লেক্সে ইরান হামলা চালানোর পর ট্রাম্প এই হুশিয়ারি দিলেন।

বুধবার রাতে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় ইসরায়েল। এটি বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র বলে বিবেচিত।

ওই হামলার জবাবে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাউথ পার্সে ইসরায়েলি হামলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কিছু জানতো না।

  • বি

শিরোপা কেড়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ সেনেগাল

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে টাইটেল স্ট্রিপিং বা শিরোপা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। টানা সাত বার ট্যুর ডি ফ্রান্স সাইক্লিংজয়ী তারকা ল্যান্স আর্মস্টংয়ের সব ট্রফি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যে তিনি শক্তিবর্ধক ওষুধ খেয়ে সেগুলো জিতেছিলেন। অলিম্পিকেও রাশিয়ান অ্যাথলেটদের ডোপ টেস্টের পর পদক কেড়ে নেওয়ার ঘটনা আছে। তবে ফুটবলে এমনটা ঘটেনি কখনও। এবার তেমন কিছুই ঘটল সেনেগালের সঙ্গে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা কেড়ে নিয়ে তা মরক্কোকে দেওয়ার ঘোষণা দিল কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (কাফ)।

ট্রফি জয়ের প্রায় দুই মাস পর মঙ্গলবার রাতে সংস্থাটি জানিয়েছে মরক্কোর আবেদন পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সেই ফাইনালটি ‘পরিত্যাগ’ করেছে সেনেগাল। রেফারির অনুমতি ছাড়াই সেদিন মরোক্কোর বিপক্ষে ফাইনালে মাঠ ছেড়ে যায় সেনেগাল। ম্যাচে সেনেগালকে পরাজিত ধরে নেওয়া হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ফাইনালের ফল ধরা হবে ৩-০। কাফের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সেনেগাল। ‘এটা অন্যায়, অভূতপূর্ব এবং অগ্রহণযোগ্য। কাফ-এর এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলকে কলঙ্কিত করেছে।’

সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন তাদের এক্স হ্যান্ডলে এক বিবৃতিতে এভাবেই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়েছে শিরোপা কেড়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাবে।

আসলে কি হয়েছিল ১৮ জানুয়ারির সেই ফাইনাল ম্যাচে? প্রায় দুই মাস পর ফের সেই ফাইনালের ঘটনাটি জানার কৌতূহল এখন বিশ্বফুটবলে। সেদিন ম্যাচের দ্বিতিয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্বাগতিক মরক্কো একটি পেনাল্টি পায়। কিন্তু রেফারির সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনেগালের কোচ তাঁর দলের সবাইকে নিয়ে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান। প্রায় পনেরো মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। এরপর সেনেগালের অধিনায়ক সাদিও মানে দলের সব খেলোয়াড়কে বুঝিয়ে মাঠে ফিরিয়ে আনেন। সেই পেনাল্টি শুটটি নেন মরক্কোর তারকা ফুটবলার ব্রাহিম দিয়াজ। সেই পেনাল্টি তিনি মিস করেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেইয়ের গোলে ১-০ তে ফাইনাল জিতে নেয় সেনেগাল।

এরপর অনেক কিছু হয়ে গেছে আফ্রিকান ফুটবলে। চাকরি হারিয়েছেন মরক্কোর কোচ, দেশের মানুষের কাছে ভিলেন হয়েছেন দিয়াজ। আজ এতদিন পরে এসে আফ্রিকান ফুটবল সংস্থা বলছে ম্যাচটি পরিত্যাগ করেছিল সেনেগাল! যা কিনা মেনে নিতে পারছেন না তাদের ফুটবলাররা। ‘ওরা পাগল হয়ে গেছে’ কাফ-এর উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে ধিক্কার জানিয়েছেন ফরাসি ক্লাব লিঁওর ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাত।

ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার আশপাশের যেসব জায়গায়

ঈদুল ফিতর বাঙালির জীবনে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এক পুনর্মিলনের উপলক্ষ। যা পরিবার, প্রকৃতি ও নিজস্ব সত্তার সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের সময়। রোজার একমাস সংযমের পর এই উৎসব যেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসার এক উজ্জ্বল ঘোষণা। আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে ঢাকার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, ঐতিহাসিক স্থান ও নান্দনিক পার্কগুলো হয়ে ওঠে মানুষের স্বস্তির আশ্রয়।

ঢাকার উত্তরে গাজীপুর অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতির সঙ্গে অবকাশ যাপনের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। শহরের কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এখানে পাওয়া যায় গাছপালায় ঘেরা এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। এই অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত স্থানগুলোর একটি ‘নুহাশ পল্লী’। যা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সৃজনশীল ভাবনার প্রতিফলন। এখানে কৃত্রিমতা নেই, বরং রয়েছে গ্রামীণ বাংলার সরলতা ও নান্দনিকতা। একইভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক’ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সাফারি পার্ক হিসেবে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এখানে উন্মুক্ত পরিবেশে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ, যা শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষণীয়।

গাজীপুরেই আরও কিছু নান্দনিক রিসোর্ট রয়েছে, যেগুলো ঈদের ছুটিতে স্বল্প সময়ের বিলাসবহুল অবকাশের সুযোগ দেয়। ‘সারাহ রিসোর্ট’ তার সবুজ বাগান, সুইমিং পুল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ‘ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট’ প্রকৃতি ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে, যেখানে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। এছাড়া ‘জল ও জঙ্গলের কাব্য’ একটি ভিন্নধর্মী অবকাশ কেন্দ্র। যেখানে জলাশয়, কাঠের স্থাপনা ও নীরবতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক কাব্যিক পরিবেশ।

ঢাকার পূর্বদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত ‘জিন্দা পার্ক’ একটি অনন্য উদাহরণ, যেখানে স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একটি সুপরিকল্পিত সবুজ পার্ক। প্রায় শতাধিক প্রজাতির গাছ, পরিচ্ছন্ন লেক এবং সুশৃঙ্খল পথঘাট,সব মিলিয়ে এটি একটি পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র। ঈদের সময় এখানে মানুষের ভিড় থাকলেও, এর প্রাকৃতিক ভারসাম্য দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্ত করে।

ঐতিহ্য প্রেমীদের জন্য সোনারগাঁও অঞ্চলটি এক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। ‘পানাম সিটি’ মধ্যযুগীয় বাংলার বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যেখানে সারি সারি প্রাচীন ভবন অতীতের গল্প বলে। এর পাশেই অবস্থিত ‘ বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর’। যেখানে বাংলার লোকজ শিল্প, কারুশিল্প ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ঈদের ছুটিতে এখানে ভ্রমণ শিক্ষামূলক ও আনন্দদায়ক দুটোই।

ঢাকার পশ্চিমে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পর্যটকদের জন্য অন্যতম নিদর্শন। এখানে ইতিহাসে ঘেরা স্মৃতিময় বিশাল দালান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও কিছু মনোরম রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, যা নদী ও গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যদিও এই অঞ্চলের অনেক রিসোর্ট ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট বুকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবুও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা এখানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

অন্যদিকে, যারা দূরে যেতে চান না, তাদের জন্য ঢাকার ভেতরেও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র। ‘রমনা পার্ক’ দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর প্রাতঃভ্রমণ ও অবকাশের স্থান হিসেবে পরিচিত। ঈদের সকালে এখানে এক ধরনের শান্ত আবহ বিরাজ করে। একইভাবে ‘হাতিরঝিল’ আধুনিক নগর উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে জলাধার, সেতু ও আলোকসজ্জা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি আকর্ষণীয় পরিবেশ। সন্ধ্যায় এখানে মানুষের সমাগম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এর বাইরে বর্তমানে ‘বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক’ তরুণদের নানা আয়োজন ও সমাগমের অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে।

রসনাবিলাসের ক্ষেত্রেও ঢাকার বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্য। ঈদ তাতে যেন নতুন মাত্রা যোগ করে। পুরান ঢাকার ‘হাজীর বিরিয়ানি’ বহু দশক ধরে তার স্বাদ ও ঐতিহ্যের জন্য জনপ্রিয়।

অন্যদিকে, আধুনিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানের খাবার ও নান্দনিক পরিবেশের জন্য ঈদের সময় তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশানের বিভিন্ন রেস্তোরা। এর মধ্যে বনানীর ‘যাত্রা বিরতি’, ‘টাগোর টেরেস’, ‘ টেরাকোটা টেইলস’, অন্যতম।

যানজটে স্ত্রী-সন্তানের পৌঁছাতে বিলম্ব, রামেক হিমঘরে শামস সুমনের মরদেহ

অভিনেতা শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহী পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা যানজটের কারণে রাজশাহী পৌঁছাতে পারেননি। তারা রাজশাহী আসার পর মরদেহ নগরের হেতেমখাঁ গোরস্তানে সমাহিত করা হবে। এর আগে বুধবার রাত ১১টায় লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান সুমনের স্ত্রী ফারজানা শামস লিজা, ছেলে জুবায়ের শামস শাহিল, জুবায়েদ শামস সাফিন ও মেয়ে সায়ান শামস। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘর থেকে সুমনের মরদেহ নিয়ে রাজশাহীর পথে রওনা দেয় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। সকালে সুমনের লাশ রাজশাহী নগরের ঝাউতলা মিঠুর মোড় এলাকায় বাড়ি এসে পৌঁছে। এ সময় অনেক মানুষ তাঁর মরদেহ দেখতে ভিড় করেন।

পরে জোহরের নামাজের পর ঝাউতলা জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা হয়। এতে শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অলীউল আলম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়।

শামস সুমনের ছোট ভাই সাংবাদিক রাশেদ ইবনে ওবায়েদ রিপন জানান, সুমনের স্ত্রী-সন্তানেরা ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার পথে যমুনা সেতু এলাকায় যানজটে পড়েছেন। তাই তাদের আসতে বিলম্ব হচ্ছে । এ জন্য দাফনের সময়ের একটু পরিবর্তন করা হয়েছে। এশার নামাজের পর নগরের হেতেমখাঁ গোরস্তানে সুমনের মরদেহ দাফনের সময় ঠিক করেছেন তারা।

রাজশাহীতেই জন্ম তুখোড় অভিনেতা সুমনের। বেড়ে ওঠাও রাজশাহীতে। ভীষণ মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। ওই বছর তিনি মেধাতালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন।

এরপর ১৯৮৪ সালে বাণিজ্য বিভাগ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাজশাহী কলেজ থেকে। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

ছেলেবেলায় তিনি রাজশাহীতে বাংলাদেশ বেতারের অভিনয়শিল্পী ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়ান। তিনি রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্যও। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকায় পাড়ি দেন। প্রথম দিকে মঞ্চনাটক করতেন। পরবর্তীতে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।

পরে বেশকিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে স্বপ্নপূরণ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ৬১ বছর বয়সে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বুধবার চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বলিউডে অভিষেকেই ট্রেন্ডিংয়ে ঢাকার নায়ক আরিফিন শুভ

বলিউডে বাংলাদেশের কোনো অভিনেতার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাওয়ার নজির নেই—সেই শূন্যস্থানে আজ নিজের নাম লেখালেন আরিফিন শুভ।

সনি লিভের ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে লিড চরিত্রে বলিউডে অভিষেক হলো ঢাকার এই চিত্রনায়কের। আজ (১৯ মার্চ) সিরিজটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই যাত্রা।

সর্বমোট ১০ পর্বের, প্রায় ১১ ঘণ্টার এই সিরিজের পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে জিমি রয়কে কেন্দ্র করে, আর সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এই সিরিজে শুভ ৪টি ভাষায় অভিনয় করেছেন—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। আজ (১৯ মার্চ) মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সনি লিভে ট্রেডিংয়ে ২ নম্বরে অবস্থান করেছে আরিফিন শুভর এই সিরিজ। হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি এবারই প্রথম বাংলা ভাষায় মুক্তি পেয়েছে প্ল্যাটফর্মটির কোনো সিরিজ।

‘জ্যাজ সিটি’ পরিচালনা ছাড়াও গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সৌমিক সেন, যিনি এর আগে আলোচিত ‘জুবিলি’ সিরিজের সহ-স্রষ্টা হিসেবে বলিউডে খ্যাতি পেয়েছেন। সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে দেখা যাবে সৌরসেনী মিত্রকে। এছাড়াও শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহাসহ বলিউড ও টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখা যাবে এই সিরিজে।

‘জ্যাজ সিটি’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সত্তরের দশকের পটভূমিতে। সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের টানাপোড়েন এবং পরিবর্তনের গল্পই উঠে এসেছে সিরিজটিতে।

ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

রাজধানীর উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, একটি প্রাইভেটকারে থাকা ছিনতাইকারী হঠাৎ টান দিলে রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান মুক্তা আক্তার, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার বিষয়ে তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, হাসপাতালে আনার সময়ই মুক্তা আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ডিএমপি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এখানে একত্রে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ০৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তন্মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতটি বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে মোট ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯ টি মসজিদে মোট ১৭৭১ টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগের দিন রাজধানীতে তিনটি ঈদ জামাত ও শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

নিরাপত্তার ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও ঢাকার অন্যান্য সকল স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সমন্বিত, সুদূঢ়, সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। প্রবেশ গেইটসমূহে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে। কন্ট্রোলরুম থেকে যা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি রাস্তার প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড থাকবে যেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। ঈদ জামাতের চারদিকে পিকেট ব্যবস্থা ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেটে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে সকল মুসল্লিগণকে প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেইট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ঈদগাহ কেন্দ্রিক ঈদ জামাত উপলক্ষে নগরীর কিছু কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন থাকবে; সে গুলো হলো-জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেসক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিছনের গলি, ইউবিএল ক্রসিং, কন্ট্রোলরুম গ্যাপ ও মৎস্যভবন ক্রসিং।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে আগত সাধারণ মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে; সে গুলো হলো- গণপূর্ত ভবনের আঙ্গিনায় বা অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের, আইইবি’র ভিতরে, জিরোপয়েন্ট ক্রসিং ও ইউবিএল ক্রসিং (মুক্তাঙ্গন) এর উভয় পার্শ্বে, দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর পার্শ্বে, ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে, মৎস্যভবন ক্রসিং এর পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে, মৎস্যভবন ক্রসিং হতে শাহবাগ ক্রসিং রাস্তার উভয় পার্শ্বে এক লাইনে থাকবে।

জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিকাজে সহায়তা করুন। ঈদগাহ ময়দানে কোন প্রকার ব্যাগ, ধারাল বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসবেন না। ঈদ জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হবেন। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাবেন। প্রয়োজনে ৯৯৯ বা ম্যাসেজ টু কমিশনার (০১৩২০-০১০১০১০, ০১৩২০-০২০২০২০) এ ফোন করবেন। যে কোন প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করবেন।

ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে পুরো গ্রামে, অনিশ্চিত জীবনের মুখে পরিবার

মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে। উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে দাফন করা হয়।

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন।

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির।

প্রসঙ্গত, মিরাজ, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

টাঙ্গাইলে ২০ কিলোমিটার যানজট-ধীরগতি

যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এলাকায় উভয় দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে যানজট ও যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নেয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঢাকামুখী যানবাহন আটকে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী দুটি লেন ব্যবহার করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

এদিকে পূর্ব প্রান্তের যানজটের প্রভাব সেতুর পশ্চিম প্রান্তেও পড়েছে। ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় পশ্চিম পাড়ের গোলচত্বর থেকে সয়দাবাদ মুলিবাড়ি হয়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। এতে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কড্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে (বিবিএ) অনুরোধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা প্রান্তে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ও ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরমুখী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এটি যানজট নিরসনে সাময়িক ব্যবস্থা।”

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুর রহিম জানান, টাঙ্গাইল অংশে চাপ কমাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনটি প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। পরে দুপুর দেড়টার পর সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকা দিয়ে বিকল্প পথে দূরপাল্লার বাস ঢাকার দিকে বিকল্পভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয় বলে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে জানান, “মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে জরুরি ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ মোড়ে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হলো আটকে আছি। টাঙ্গাইলের যানবাহনের চাপ কমাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। উভয় লেন দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।