Home Blog Page 141

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা থামবে না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

শুক্রবার এনবিসি নিউজকে ফোনে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধারে চলমান তৎপরতা নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। বিষয়টিকে তিনি ‘সংবেদনশীল সামরিক ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রুদের খোঁজে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনে অসন্তোষও প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এই ঘটনায় প্রভাবিত হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধে আছি।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদক গ্যারেট হ্যাককে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সিএনএনকে জানান, ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। পরে বিমানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, একই সময়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর আরেকটি যুদ্ধবিমান— এ-১০ বিধ্বস্ত হয়।

অন্যদিকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে ফোনে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটের কোনো ক্ষতি হলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, এমন কিছু ঘটবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান: ফার্স নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ।

নাম প্রকাশ না করা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ইরানকে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যার জবাবে তেহরান তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটন ইরানের নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। তাদেরকে তিনি আরও বিচক্ষণ বলে অভিহিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নেতার দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ করেছে যে, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মীমাংসা প্রস্তাব পেয়েছিল, যা ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি আল-জাজিরাকে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের ১৫-দফা প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আরাঘটি চলমান যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবর্তে বার্তা বিনিময় হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তেহরান ‘যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না’ এবং ‘এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান’ চায়।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিস্থিতি মার্চে সামাল দেওয়া গেলেও কঠিন হবে এপ্রিল

জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিপুল ঘাটতি নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন মাস। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাব মার্চের পুরোটা সময় থাকলেও এলএনজির চারটি জাহাজ আগেই অতিক্রম করতে পেরেছিল হরমুজ প্রণালি। এর সঙ্গে আগের মজুত যুক্ত করে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে সরকার। আগামীতেও জ্বালানি সংকট তীব্র হবে না বলে আশ্বস্ত করছে মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পার হয়ে একটি জাহাজও আসেনি দেশে। এলএনজি, এলপিজি, গ্যাস অয়েল, বেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে বিকল্প দেশ থেকে মার্চের ৩১ দিনে ৩৮টি  জাহাজ এসেছে। তবে বুকিং থাকার পরও মার্চে এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে ২৬ জাহাজের মধ্যে এসেছে মাত্র ১৫টি। এপ্রিলে যে বুকিং আছে, সেটিরও দুই-তৃতীয়াংশ নিশ্চিত হয়নি এখনও।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, অগ্রাধিকার ঠিক করে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শৃঙ্খলা ফেরানো দরকার বিতরণ ব্যবস্থায়ও। দেশ থেকে তেল পাচার হয়ে যাওয়া, অবৈধভাবে মজুত করা, আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা, প্রশাসনের তদারকির দুর্বলতা ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে না পারায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গত মঙ্গলবার স্পট ও জিটুজি পদ্ধতিতে দুই লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি কেনার অনুমতি দিয়েছে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

মার্চে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে ১৭টি জাহাজ আসার কথা ছিল বিপিসির। তবে পুরো মাসে এসেছে ১০টি জাহাজ; যেগুলোতে তেল ছিল মাত্র আড়াই লাখ টন। বুকিং থাকলেও আসেনি দেড় লাখ টন জ্বালানি তেলের বাকি ছয়টি জাহাজ। অভিন্ন চিত্র আছে এলএনজি নিয়েও। মার্চে ৯টি এলপিজি বোঝাই জাহাজ আসার কথা থাকলেও এসেছে পাঁচটি। বুকিং থাকলেও আসেনি প্রায় তিন লাখ টনের চারটি এলপিজির জাহাজ। একইভাবে সূচি নির্ধারিত থাকার পরও ক্রুড অয়েলের দুটি জাহাজের একটিও আসেনি। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এই সংকট দূর করতে বিকল্প দেশের দ্বারস্থ হয়েছে সরকার। ১২ দেশ থেকে সর্বশেষ মাসে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস এনেছে ৩৮টি জাহাজ। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিকল্প দেশেরও দরজা আস্তে আস্তে বন্ধ হবে। তখন বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি কেনা কঠিন হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব জ্বালানি তেল ও গ্যাসে পড়লেও বিকল্প ভাবনা আছে আমাদের। আশা করছি, এপ্রিল, মে মাসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব আমরা। তবে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা, অবৈধ মজুতের প্রবণতা ও সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে তেল পাচারের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। এ জন্য সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ‘ভেসেল অ্যারাইভাল লগ’ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসের ৩১ দিনে ৩৮টি জাহাজের পণ্য খালাস করেছে তারা। এর মধ্যে এলএনজির আটটি, এলপিজি বোঝাই ৯টি, গ্যাস অয়েলের আটটি, এইচএসএফও বোঝাই চারটি, বেস অয়েলের দুটি, এমইজি বোঝাই একটি, ইথিলিনের একটি ও কনডেনসেটের জাহাজ ছিল একটি। এর মধ্যে কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজ ছিল ৯টি। মার্চে বেশির ভাগ জাহাজ এসেছে বিকল্প দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর থেকে ৯টি, মালয়েশিয়া থেকে আটটি ও ভারত থেকে এসেছে পাঁচটি জাহাজ। এখন অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে জ্বালানি আনছে কিছু জাহাজ। চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে তিনটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার ২৭ হাজার টন গ‍্যাস অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ নোঙর করেছে বন্দরে। চলতি মাসে এলএনজি ও ইথিনিল নিয়ে এসেছে আরও দুটি জাহাজ।

এলএনজি আমদানির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম মো. নুরুল আলম বলেন, প্রতি মাসে গড়ে ৯ থেকে ১০টি জাহাজ এলএনজি আমদানি করা হয় আমাদের মাধ্যমে। মার্চে এসেছে মাত্র পাঁচটি। আর এপ্রিলে জন্য এখন পর্যন্ত একটি এলএনজির জাহাজ এসেছে। এই জাহাজটির পণ্যও কেনা হয়েছে স্পট মার্কেট থেকে।’

বুকিং থাকার পরও আসেনি জাহাজ
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন (বাণিজ্য ও অপারেশন) বলেন, চীনের ইউনিপেক ও মালয়েশিয়ার পেটকো ট্রেডিং বিপিসির বড় দুই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলেও যুদ্ধের কারণে তাদের থেকে তেল যথাসময়ে পাইনি আমরা। গত ৩ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনার কথা থাকলেও জাহাজটি আটকে আছে হরমুজ প্রণালিতে। আবার আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকে তেল আনার জন্য ভাড়া করা ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে জাহাজটির চুক্তিও বাতিল হয়েছে। এ জন্য মার্চে অপরিশোধিত তেলের নতুন কোনো চালান দেশে আসেনি। হরমুজ প্রণালিতে বাধা পাওয়ায় বুকিং থাকার পরও মধ্যপ্রাচ্য থেকে গত মাসে আসেনি চার জাহাজ এলএনজি। ‘লিব্রেথা’ নামে একটি জাহাজ এলএনজি লোড করার পরও আসতে পারছে না চট্টগ্রামে। ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামে আরেকটি জাহাজ এলএনজি লোড করার জন্য  হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যেতে পারছে না টার্মিনালে।

জ্বালানি তেলের চাহিদা কত
বিপিসির হিসাবে, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। আর প্রতি মাসে দেশে এলপিজি আনা হয় ছয় লাখ টনের বেশি। মার্চে এসেছে তিন লাখ টনের কম। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, যুদ্ধের কারণে চাহিদামতো জ্বালানি আসছে না। যেটা আসছে, সেটাও ঠিকভাবে পাচ্ছেন না গ্রাহক। শৃঙ্খলা ফেরাতে এখন মাঠে নেমেছে বিজিবিও। কৃত্রিম সংকট ও পাচার রোধে ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে অস্থায়ী বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার থেকে নতুন সূচিতে চলবে ব্যাংক

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন সূচিতে চলবে ব্যাংক।

শনিবার এ সংক্রান্ত‌ একটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অফিস শেষ ও লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা হবে। আর লেনদেন চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এতদিন সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত লেনদেন এবং ৬টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকতো। তবে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অফিসের সময় কমানো হয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যথারীতি চলমান থাকবে।

প্রথম ধাপে হামের টিকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায়

দেশে কিছু এলাকায় হাম-রুবেলার (এমআর) প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জরুরিভিত্তিতে আগামী রোববার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার।

আগামীকাল রোববার সকাল নয়টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পৃথক পৃথক স্থানে এর উদ্বোধন করবেন।

শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিট্যাগ) এ জরুরি কর্মসূচির সুপারিশ করে। এটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের আওতায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। কোনো শিশুকে সুরক্ষার বাইরে না রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (হটস্পট) টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ২১ মে’র মধ্যে পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সরকার আশ্বস্ত করেছে, ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

হটস্পট যেসব উপজেলা
দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা/পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে।

উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে পাবনা (পৌরসভা ও সদর), চাঁদপুর (সদর), কক্সবাজার (মহেশখালী), গাজীপুর সদর, নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর ও ত্রিশাল), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশালসহ (মেহেন্দিগঞ্জ) নানা এলাকায় সংক্রমণের হার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে।

নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।

নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, এক ঘণ্টা পর মিলল মরদেহ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে তুলশীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার রাজকান্দা-ঠেংগাপুর গ্রামের তুলশীগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের ফারুক আহম্মেদের ছেলে এবং রাজকান্দা-ঠেংগাপুর ক্বওমী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হয়। বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় আব্দুল্লাহ বাড়িতে চলে যায়। পরে সকাল দশটার দিকে ৪-৫ জন সহপাঠীকে নিয়ে মাদ্রাসার সামনে তুলসীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সে নদীর এপার-ওপার সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি চালায়। দীর্ঘ সময় খুঁজেও তাকে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর নদীর গভীর থেকে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী খোকন হোসেন বলেন, সকালে কয়েকজন ছাত্র নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা অনেক খোঁজ করেও পাইনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে।

মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ গোলাম রাব্বী জানান, বাড়ি থেকে তারা নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সাঁতার ভালোভাবে না জানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লাহ আঠারো পারা কোরআনের হাফেজ ছিল।

আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর গভীর অংশ থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

টিকা সংকটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি

টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ দাবি জানান।

নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা ক্রয়-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যদি টিকার ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে থাকে এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তবে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, জনসচেতনতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের প্রচেষ্টার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দাবি-দাওয়া আদায়ের কর্মসূচিতে যেন জনদুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন কোনো ভাইরাস মিউটেশনের কারণে কিনা, তা নিয়েও গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে উপস্থিত অতিথিরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে এসব সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমিন ও অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হানিফ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের সময় উপযোগী আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

মার্চে রপ্তানিতে বড় পতন

আরও কিছুটা গতিহীন হয়ে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। গত মার্চ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশের বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গত ৯ মাসে আর কোনো মাসে এত বড় ব্যবধানে রপ্তানি কমেনি। এ নিয়ে গত আট মাস টানা রপ্তানি কমলো। দেশের রপ্তানির ইতিহাসে কখনও টানা আট মাস রপ্তানি কমার নজির নেই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ৩৪৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ৭৭ কোটি ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৯ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। সাধারণত মাসে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।

রপ্তানির এই টানা পতনের কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন পাল্টা শুল্ক এবং শুল্ক কেন্দ্র করে প্রতিযোগী দেশগুলো জোটগত প্রধান বাজার ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাসী রপ্তানি বাণিজ্য করছে। কম দামে পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে ওই দেশগুলোতে। এ কারণে গত ৮ মাস ধরেই বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। এসব কারণের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে
গড়ে ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ ছিল। এ কারণে মার্চের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় ধরে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মূলত এ কারণেই এত বেশি হারে রপ্তানি কমেছে মার্চ মাসে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের গত ৯ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ সময় মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৫৩৯ কোটি ডলারের মতো। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল তিন হাজার ৭৭২ কোটি ডলারেরও কিছু বেশি।

জুলাই মাসে অস্বাভাবিক বেশি রপ্তানির কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত কারখানায় রাত-দিন কাজ করে পণ্য জাহাজীকরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা। ব্র্যান্ড-ক্রেতারাও বাড়তি শুল্ক এড়াতে আগাম আমদানিতে আগ্রহী। এ কারণে ওই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। গত বছরের ৩১ জুলাই ওয়াশিংটনের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশের পণ্যের পাল্টা ২০ শতাংশ শুল্ক ৭ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি বেশি হয় ২৫ শতাংশের মতো।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে আগস্ট থেকেই পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হোঁচট আসে। এরপর আগস্টে আয় কমে যায় ৩ শতাংশের মতো। তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরও সেই ধারাই চলে। মাসটিতে রপ্তানি আরও কমে যায় ৫ শতাংশের মতো। অক্টোবর মাসে রপ্তানি কম ৭ শতাংশ। নভেম্বর মাসে রপ্তানি কম হয় ৬ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কম হয়েছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে রপ্তানি হ্রাসের গতি কমে কিছু কমে আসে। রপ্তানি কম হয় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা আধা শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি কমে ১২ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যউপাত্ত বলছে, গত মার্চে গড়ে যে হারে মোট রপ্তানি আয় কমেছে তার চেয়ে বেশি হারে কমেছে প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি। মাসটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় কমে গেছে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৭৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। গত বছরের মার্চ মাসে এই পরিমাণ ছিল ৩৪৫ কোটি ডলারের মতো। অর্থাৎ একক পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬৭ কোটি ডলার। অর্থবছরের গত ৯ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে দুই হাজার ৮৫৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল তিন হাজার ২৫ কোটি ডলার।
মার্চ মাসে বড় অঙ্কে রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিন সমকালকে বলেন, রোজার ঈদের কারণে ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ ছিল। এই ১০ দিনের রপ্তানি কম হয়েছে মার্চ মাসে। পোশাক খাতের সাধারণত বছরের দুই ঈদে লম্বা ছুটি থাকে। এটা তো একটা কারণ মার্চের রপ্তানির ক্ষেত্রে। তবে যেসব কারণে গত আট মাস ধরে রপ্তানি কমছে সে সব কারণের প্রভাব মার্চ মাসের রপ্তানিতেও ছিল। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী মার্কিন পাল্টা শুল্কের প্রত্যক্ষ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমছে। সেখানে চাহিদা কমছে। আর পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম, ভারতের মতো দেশগুলো ইইউতে আগ্রাসী রপ্তানি কার্যক্রম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে কবে নাগাদ তার সুরাহা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এসব কারণে রপ্তানি খাতের জন্য শিগগিরই কোনো সুখবর দেখা যাচ্ছে না।

ইপিবির তথ্যউপাত্ত বলছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে অন্যান্য বড় পণ্যের রপ্তানিতেও একই গতি। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি কমছে ২১ শতাংশ। ওষুধের রপ্তানি কমেছে ২০ শতাংশ। সবজি রপ্তানি কম হয়েছে ৪৫ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে ১৩ শতাংশ। তবে কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। যেমন হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি বেড়েছে ৫ শতাংশের মতো। কাঁকড়ার রপ্তানি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৬ শতাংশ।

জাপানের জনপ্রিয় খেলা এখন ‘অফিস চেয়ার রেসিং’

চাকাযুক্ত অফিস চেয়ারে বসে নড়াচড়া করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু সে অভ্যাসকেই যদি ফর্মুলা ওয়ানের মতো রেসিংয়ে কাজে লাগানো হয়, তাহলে কেমন হবে? সম্প্রতি জাপানে ঠিক এমনই একটি রেসিংয়ের আয়োজন হয়েছে।

দেশটির কি উপদ্বীপের কুমানোতো এলাকায় আয়োজিত ‘অফিস চেয়ার রেসিং’-এ অংশ নিয়েছিলেন কয়েক ডজন অফিসকর্মী। চেয়ারে বসে পায়ের পেশির সবটুকু শক্তি দিয়ে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে তারা উল্টো দিকে ছুটে চলেন।

২০১০ সালে চালু হওয়া এই খেলাটি জাপানে দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তিনজনের একেকটি দল দুই ঘণ্টা ধরে একটি নির্দিষ্ট পথে যত বেশি সম্ভব চক্কর দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময়ে প্রতিযোগীরা প্রায় ২০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ অতিক্রম করেন।

কিয়োতো অঞ্চলের কিওতানাবে শহরে খেলাটি চালু করেছিলেন সুয়োশি তাহার নামের একজন। ছোটবেলায় অফিস চেয়ার নিয়ে খেলার অপরাধে এক শিক্ষক তাঁকে বকাঝকা করেছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি মজার খেলাটি চালুর অনুপ্রেরণা পান।

এরপর থেকে খেলাটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর টোকিও, কিয়োতো এবং শিজুওকাসহ ১০টি শহরে ‘অফিস চেয়ার রেসিং’ অনুষ্ঠিত হয়। টয়োটার মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এখানে তাদের দল পাঠায়।

বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পান ৯০ কেজি চাল। পুরস্কার হিসেবে চাল বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে সুয়োশি তাহার জানান, জাপানের সব অঞ্চলে চালের জনপ্রিয়তা আছে। তবে কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও রাখা হয়। যেমন- টোকিওতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ৫ কেজি টুনা মাছ।

সম্প্রতি রেসিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইয়াসুনোরি মিউরা। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন। কিন্তু অবসর সময়ে অফিস চেয়ার নিয়ে কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়েন। জিমের চেয়ার ব্যবহার করে ২০০ মিটারের ৪০ বা ৫০টি রান দেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত ওয়ার্কআউট।

পায়ের ওপর বেশি চাপ তৈরি করতে মিউরা সপ্তাহে চারদিন ভারী অফিস চেয়ার নিয়ে অনুশীলন করেন। সপ্তাহে দুইদিন জিমে গিয়ে শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করেন।  মিউরা বলেন, যেহেতু আমরা একই পথে বারবার চক্কর দিই, তাই অন্য দল এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা হয়। তখন প্রতিযোগিতাও জমে ওঠে।

চাঁদ অভিমুখী যান থেকে পৃথিবী দেখার অভিজ্ঞতা জানালেন নভোচারীরা

বড় ধরনের ‘ইঞ্জিন ফায়ারিং’য়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে আর্টেমিসের চার মহাকাশচারী পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করেছেন। তারা এখন দ্রুতবেগে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ছয় মিনিটের এই প্রক্রিয়া শেষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহাকাশচারীরা। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তাঁরা একটি ভাসমান মাইক্রোফোন একে অপরের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন। এ সময় সবার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। তারা জানান, মহাকাশযানের ভেতরটা কিছুটা শীতল তবে এই পরিবেশকে থাকার উপযোগী করে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মহাকাশযান থেকে পৃথিবী দেখার মুহূর্তটি বর্ণনা করেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আপনি এক পলকে এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত পুরো গোলকটি দেখতে পাবেন। আফ্রিকা, ইউরোপ এবং একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে উত্তর মেরুর আলোকছটাও দেখা যায়।’

রিড ওয়াইসম্যান বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের দেখা সবচেয়ে চমৎকার মুহূর্ত। এটি আমাদের চারজনকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল।’ আর্টেমিস-২ নামের এই অভিযানে ওয়াইসম্যান ছাড়া আরও আছেন- ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক ও জেরেমি হ্যানসেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশচারীরা এখন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি বা পথে আছেন। যা চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে বাড়তি জ্বালানি ছাড়াই পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। নাসার কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানিয়েছেন, কক্ষপথীয় বলবিদ্যার নিয়মগুলোই নভোচারীদের চাঁদের দিকে নিয়ে যাবে। চাঁদের দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করাবে এবং আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

মহাকাশচারীরা যে স্যুটগুলো পরে আছেন তা মূলত ‘সারভাইভাল সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করে। কোনো কারণে কেবিনের চাপ কমে গেলে বা লিক হলে এই স্যুটগুলো ছয়দিন পর্যন্ত অক্সিজেন, তাপমাত্রা এবং যথাযথ বায়ুচাপ বজায় রাখতে সক্ষম।

মহাকাশে নভোচারীরা তাঁদের প্রথম কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছেন যানের সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করে। মানুষ নিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রা করা এই যানে টয়লেটের সমস্যা ও যোগাযোগের ত্রুটির মতো কিছু ছোটখাটো ঝামেলার সমাধানও করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে হাসিমুখে ক্রিস্টিনা কোক বলেন, নিজেকে ‘স্পেস প্লাম্বার’ হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে আমি গর্বিত। এটি (টয়লেট) ঠিকঠাক কাজ করছে জানতে পেরে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি।