Home Blog Page 141

ইবোলার নতুন স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন পেতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেইন বা প্রজাতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো ও প্রতিবেশী উগান্ডায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ড. ভাসি মূর্তি জানান, বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেনি।

তিনি জানান, একটি ভ্যাকসিন বিদ্যমান ইবোলা প্রতিরোধী টিকার মতো কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমোদিত যে ইবোলা ভ্যাকসিন রয়েছে, তা শুধুমাত্র ‘জায়ার’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। তাই নতুন ভ্যাকসিন তৈরিকে দ্রুত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।’

আরেকটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো কোনো প্রাণীর ওপর পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ড. ভাসি মূর্তি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ ভ্যাকসিনের কিছু ডোজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধও এখনো নেই। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ইতুরি প্রদেশকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসাকর্মীদের।

এ দিন জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনকে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ১৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাস শনাক্তে বিলম্ব হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৫১টি এবং উগান্ডায় দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শনাক্ত হওয়া দুজনই ডিআর কঙ্গো থেকে সেদেশে গিয়েছিলেন, যাদের একজন মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করলেও এটিকে এখনো বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়ে নেয়নি। সংস্থাটি বলছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’, তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি এখনো ‘নিম্ন’।

ইবোলা ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গোতে প্রথম শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এটি অত্যন্ত বিরল। এর আগে মাত্র দুইবার এই প্রজাতির প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, যার একটি ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। তখন আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব কঙ্গোয় দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগের সঙ্গে ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মিল থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ একে একে ভেঙে পড়ল সেতুর সাত গার্ডার যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণের নামে লুটপাটের অভিযোগ

সেতু নির্মাণ নয়, যেন লুটপাটের মহোৎসব চলছে। সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন থমকে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর-মহেষখলা-মধ্যনগর সংযোগ সড়কের (সীমান্ত সড়ক) কাজে সেতুর জন্য অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই সড়কপথের যাদুকাটা নদীর ওপর প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর (শাহ আরেফিন (রা.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু) গার্ডার দুই বছরের মধ্যে দুইবার ভেঙে পড়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি গার্ডার ভাঙায় উৎকণ্ঠিত এলাকাবাসী।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, সীমান্তের বড় বালুমহাল হিসেবে পরিচিত যাদুকাটার এই সেতুর অন্য গার্ডারগুলোও ভেঙে পড়তে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে এখান দিয়ে যাওয়া শত শত নৌকার শ্রমিকরা বিপদে পড়তে পারেন।
এলজিইডির এক কর্মকর্তা বললেন, এর চেয়ে গভীর ও খরস্রোতা নদীতে সুনামগঞ্জে অনেক সেতু হয়েছে। এভাবে বারবার গার্ডার ভেঙে পড়ার নজির নেই। এই সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়েছেন। এরও বহু আগে থেকে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল, কিন্তু এলজিইডি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি ঠিকাদার বাতিল করে পুনরায় অসমাপ্ত কাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে সোমবার বিকেলে পাঁচ গার্ডার ভাঙার পর এই প্রক্রিয়া থমকে গেছে। আবার নতুন করে ওই পাঁচ গার্ডারসহ ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করতে হবে।
এলজিইডির একজন প্রকৌশলী জানান, পল্লি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর তমা কনস্ট্রাকশন একাধিক দফায় সময় বাড়িয়েও আট বছরে কাজ শেষ করতে পারেনি। সেতুর ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে এখনও ১৮ ডি গার্ডার ও পাঁচটি স্লাবের কাজ বাকি রয়েছে। এরমধ্যেই দুই দফায় সাতটি গার্ডার ভেঙে পড়েছে।

তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান মানিক নোয়াখালীর বাসিন্দা। বিগত সরকারের সময়ে মন্ত্রী মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলজিইডি সদরদপ্তরে পরিচিত ছিলেন। এই সেতু এবং একই পথের মধ্যনগরের সোমেশ্বরী সেতু ও তাহিরপুরের ডাম্পের বাজার সেতুর কাজও পেয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। আট বছরেও শেষ হয়নি এসব সেতুর কাজ। ওই সেতুগুলোর কাজেও অনিয়মের অভিযোগ আছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

অনেকে বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন। এলজিইডি কেবল ঠিকাদার বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তাহিরপুরের ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম বললেন, ‘সেতুর গার্ডার এক এক করে দুবারে সাতটি পড়ে গেছে। এই সেতু ভেঙে ফেলা উচিত। গার্ডার ভাঙার পর এলজিইডির কর্মকর্তারা যে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন, তাতেও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমির শাহ্ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সময়কালে এই সেতুর কাজ হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে নির্মাণকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।’

মঙ্গলবার সেতু এলাকায় গেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের। অথচ আট বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখে কেবল টাকা লুটপাট হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেতুর পাশের গ্রাম রাজারগাঁওয়ের মাওলানা শামীম আহমদ বললেন, দুই বছরের মধ্যে দুইবার গার্ডার ভেঙে পড়ল। কাজে অবহেলা এবং অনিয়ম না থাকলে এটি হতো না। লামাশ্রমের আব্দুল মজিদ বললেন, সেতু হয়নি, বরং সেতুর কিছু মালপত্র রেখে আট বছর ধরে পথচলায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্মাণ ত্রুটির কারণে এমনটি হচ্ছে। এখন সেতু নির্মাণকাজ আরও পেছাবে।’

তমা কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার আনিসুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, সেতুর বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন দিতে পরামর্শ দিয়ে লাইন কেটে দেন আনিসুর। এরপর আর কল রিসিভ করেননি।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, যাদুকাটা সেতুর আগের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে ছিল। ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই দরপত্র প্রস্তুত করা হয়। এখন দুই কোটি বাড়িয়ে আবার দরপত্র প্রস্তুত করা হবে। প্রস্তুত করতে এক মাস সময় লাগবে। যে গার্ডারগুলো ভেঙেছে, সেগুলো নির্মাণ করতে ৮-৯ মাস সময় বেশি লাগবে। কাজে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে এই প্রকৌশলী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গার্ডারগুলো করার সময় ক্লোজ গার্ডার করলে, এমন হতো না। এ কারণে তাদের পাওনা টাকা থেকে মোট দুই কোটি ১০ লাখ টাকা কর্তন করা হবে।

সোমেশ্বরী ও ডাম্পের বাজার সেতুর কাজও শেষ হয়নি
এই সীমান্ত পথেই সোমেশ্বরী নদীর ওপর ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের আরেকটি সেতুর কাজও তমা কনস্ট্রাকশনের লোকজন শেষ না করে এলাকা ছেড়েছে। এটিরও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে করা ডাম্পের বাজার সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কও এই প্রতিষ্ঠান করেনি। এই সেতুর কাজে তমা কনস্ট্রাকশনকে বাতিলের প্রস্তাব সম্প্রতি পাঠিয়েছে এলজিইডি।

পাকিস্তানি টিকটক তারকা সানা ইউসুফকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের একটি আদালত জনপ্রিয় টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম তারকা সানা ইউসুফ হত্যার দায়ে ২৩ বছর বয়সী উমর হায়াতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। গত বছরের ২ জুন ইসলামাবাদে নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ১৭ বছর বয়সী সানা ইউসুফ। এ ঘটনায় আবারও পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

রায়ের পর আদালতের বাইরে সানার বাবা হাসান ইউসুফ বলেন, এই রায় শুধু আমার জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য। এটি অপরাধীদের জন্য একটি শিক্ষা।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরের ফয়সালাবাদ শহর থেকে ওমর হায়াতকে গ্রেফতার করা হয়।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেওয়া এক জবানবন্দিতে হায়াত হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, অনলাইনে যোগাযোগের পর সানার প্রতি একতরফা আসক্তি তৈরি হয়েছিল তার জবানবন্দিতে বলা হয়, সানার জন্মদিন উপলক্ষে মে মাসের শেষ দিকে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন হায়াত। কিন্তু তাদের দেখা হয়নি। পরে সানা দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি সন্দেহ করেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এরপর ২ জুন দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন একটি গাড়ি ভাড়া করে এবং একটি পিস্তল নিয়ে সানার বাসায় যান তিনি। সানা বাইরে না এলেও কোনোভাবে বাসায় ঢুকে পড়েন। সেখানে তর্কের একপর্যায়ে গুলি করে হত্যা করা হয় সানাকে। ঘটনাটি সানার মা ও খালা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

তবে পরবর্তী এক বক্তব্যে হায়াত দাবি করেন, তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়নি এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, সানা ইউসুফ হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি এমন একটি সামাজিক বাস্তবতার অংশ, যেখানে নারীদের স্বাধীনতা ও সামাজিক উপস্থিতিকে অনেক সময় সহ্য করা হয় না।

মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কাজে।

ছাঁটাই শুরুর আগে কোম্পানি বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের হোম অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেয়, যা বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের সময় মেটার নিয়মিত পদ্ধতি। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় অঞ্চলে কর্মীদের কাছে ছাঁটাই সংক্রান্ত ইমেইল পাঠানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে এই নোটিশ পান বলে জানা গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন টাইম জোন অনুযায়ী ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়।

রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও ‘ফ্ল্যাট’ বা সরল কাঠামোয় যেতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের বার্তায় বলেন, নতুন কাঠামোয় ছোট ছোট দল বা ‘পড’ গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ করা যায় এবং কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের কারণে বড় পরিবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাঁটাই মূলত কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বড় সংগঠন কাঠামো ভেঙে ছোট, দ্রুতগতির এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে। অনেক পুরোনো পদ বাতিল করে নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কোম্পানির ভেতরে উদ্বেগ ও অস্থিরতা

ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিসের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন ল্যাপটপ চার্জার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা কর্মপরিবেশকে আরও চাপপূর্ণ করে তুলছে।

প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের বড় ঢেউ

এই ছাঁটাই শুধু মেটা প্ল্যাটফর্মসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। সিসকো সিস্টেমস, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ওরাকলসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি খাতে একটি বড় পরিবর্তন চলছে, যেখানে কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বড় কর্মী নির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে ছোট কিন্তু বেশি দক্ষ দল গঠনের দিকে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাঠামোগত পরিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন মেশিন এবং সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

ফলে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কোম্পানিগুলো এখন এমন কর্মীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যারা জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় দক্ষ।

জুলাই থেকে কোনো অফলাইন টেন্ডার থাকছে না

সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে আর কোনো ম্যানুয়াল বা অফলাইন টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে না।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ গতকাল মঙ্গলবার বিপিপিএ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় কর্মশালায় এ কথা বলেন।
ক্রয় প্রক্রিয়া উত্তর পুনর্নিরীক্ষণ-বিষয়ক কর্মশালায় এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আগামী ১ জুলাইয়ের আগে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া ম্যানুয়ালি শুরু হয়ে থাকলে, সেই টেন্ডারের অবশিষ্ট ধাপগুলোও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই সম্পন্ন করা যাবে। তবে ১ জুলাই থেকে বিপিপিএ আর কোনো অফলাইন টেন্ডারের অনুমোদন দেবে না। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করে এ সম্পর্কিত গেজেট গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। এতদিন বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে ক্রয়কারী অফিসগুলোর (পিই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিপিপিএ ম্যানুয়াল টেন্ডারের অনুমতি দিয়ে আসছিল।

পুরোপুরি বাজারভিত্তিক হতে পারে ডলারের দর

টাকা-ডলার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার বিষয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে কোনো ব্যাংক যেন ডলার বাজারে কারসাজি না করে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।

পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে কোথায় কী বাধা রয়েছে সে বিষয়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তাকে না রেখে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের খোলামেলা কথা বলতে বলা হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা বাজার এবং সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সভা ডাকে। সভার শুরুতে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন ও বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর সভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব কর্মকর্তাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলেন।

জানা গেছে, আইএমএফের চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডলারের দর পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে। কেননা জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএমএফের কাছ থেকে আরও ২০০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। নতুন করে এসব ঋণ পাওয়া না গেলেও কোনো কারণে যেন চলমান কর্মসূচি বাতিল না হয়, তা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সরকার আইএমএফের শর্ত পরিপালনে এরই মধ্যে জ্বালানির দর বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। আবার রাজস্ব আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ কমানো ও সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুনভাবে যুক্ত ১৮(ক) ধারা সংশোধন কিংবা বাদ দেওয়া হতে পারে। এসবই করা হচ্ছে ঋণ কর্মসূচি চলমান রাখার লক্ষ্যে।
গতকালের বৈঠকে গভর্নর জানতে চান, ডলারের দর নির্ধারণে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয় কিনা। বিদেশি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক হস্তক্ষেপের কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক নৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ডলারের দর ঠিক করে দেয় বলে জানান। কয়েকজন ট্রেজারিপ্রধান জানান, ডলারের দর নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কোনো কারণে সেই দরের চেয়ে কম-বেশি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হয়। অনেক সময় পরিদর্শক দল পাঠানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, ডলারের দর বাজারভিত্তিক বলা হলেও কখনোই পুরোপুরি হয়নি। এমনকি ব্যাংকগুলো থেকে নিলামে ডলার কেনার সময়ও কেমন দরে কেনা হবে সে বিষয়ে আগাম ধারণা দেওয়া হয়। সে আলোকে ব্যাংকগুলো নিলামে অংশ নেয়।

জানা গেছে, বৈঠকে গভর্নর বলেন, এখন বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ ভালো আছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। এখন ডলার বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করতে চায় না। পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পক্ষে। গভর্নর অবশ্য এও বলেন, বাজারে তদারকির প্রয়োজন আছে। কেউ যদি কারসাজি করে, তাহলে শাস্তি পেতে হবে। অহেতুক আগাম ডলার কেনার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ জন্য ‘ফরওয়ার্ড বুকিং’ তথা ভবিষ্যতের প্রয়োজনে আগাম বুকিংয়ের বিষয়ে আপত্তির কথা জানান। গভর্নরের যুক্তি, চাহিদামতো ডলার না পাওয়ার মতো অবস্থা নেই। আগাম ডলার কিনলে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবার ট্রেজারিপ্রধানদের সঙ্গে সভা করেন। তখন ট্রেজারিপ্রধানেরা জানান, ডলারে বাজারে কোন বিষয়কে কারসাজি হিসেবে ধরা হবে, তার তালিকা দিলে সবার জন্য ভালো হয়। এতে সবাই নিয়ম মেনে চলতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানের কাছে জানতে চাইলে সভার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে চায়। তবে ব্যাংকগুলোর থেকেও দায়িত্বশীল আচারণ প্রত্যাশা করা হয়।

হাম প্রতিরোধে সরকারের কাছে চার দাবি জামায়াতের

হাম প্রতিরোধে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এগুলো হলো, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শতভাগ টিকাদান, প্রকোপ বেশি এমন এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও পুষ্টি সহায়তা, সব সরকারি হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ।

মঙ্গলবার বিবৃতিতে এসব দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, সঠিক সময়ে যথাযথ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ, টিকাদান কর্মসূচির স্থবিরতা এবং গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতায় হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চরম সংকটের মুহুর্তে প্রশাসনের যেসব সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। রোগআক্রান্তদের আইসোলেশন ও চিকিৎসায় উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।

জামায়াতের সব স্তরের নেতাকর্মীকে হামে আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্রদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার ২০ প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন মাহফুজ আলম ফেসবুক পোস্ট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কীভাবে ফিরেছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেতা। পোস্টে আওয়ামী লীগের ফেরার ২০টির মতো কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’  কিছু সময় পরে তিনি এ নিয়ে আরেকটা পোস্ট দেন। সেই পোস্টে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথা বলেন।

প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’

মাজারে হামলা, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব না হওয়াও আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম করেছে মন্তব্য করে মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মজলুমগণ চুপ ছিল।’

মাহফুজ আলমের প্রথম ফেসবুক পোস্ট

মাহফুজ আলমের প্রথম ফেসবুক পোস্ট

ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল।’

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে বিএনপি ও অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর বিএনপি ও ঠেকাতে জামায়াতকে কোলে নিল অন্তরীণ।’

মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা প্রযোজিত হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরিণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।’

আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে এ রকম আরও কিছু বিষয় তুলে ধরে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইসিল কিচেন ক্যাবিনেট। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেয়া হইসিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল মজলুমগণ।’

মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এদেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতন রিগ্রেসিভ কালচার–ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো এন্ড বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইবু৵নাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’ এই তালিকা আরও বাড়বে বলে পোস্টের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন মাহফুজ আলম।

পোস্টের শেষে মাহফুজ লেখেন, ‘লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের। প্রচারে- নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থী বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস এন্ড দোস বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ।’

মাহফুজ আলমের পরের ফেসবুক পোস্ট

মাহফুজ আলমের পরের ফেসবুক পোস্ট

তার এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পোস্টে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাঁদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা। হঠকারী, উগ্রবাদী এবং অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতিকে পরাস্ত করা। সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের উপর হামলার বিচার করার দাবি অব্যাহত রাখা। জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে প্রধান করে তোলা এবং বিচারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা।’

তিনি লেখেন, ‘বাংলার বহু ভাষা-সংস্কৃতিকে যাপন-উদযাপন করা এবং রিগ্রেসিভ-ডিফিটিস্ট কালচারাল লড়াইকে জায়গা না দেয়া। কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা বিভিন্ন বর্গ থেকে জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ঔন করা। লীগের ফ্যাসিস্টদের লক্ষ্যবস্তু এরাই।’

জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বললেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারে আইএলও

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে পৃথক দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নির্মাণ খাত এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পকথা বিশ্বের বৃহত্তম সাকুলেন্ট ফুল

বাসায় টবের একটা গাছে একটা ফুল ফুটেছে। ফুল এত বড় হয়? হ্যাঁ হয়। এটি বিশ্বের কোনো স্থূলপর্ণী বা সাকুলেন্ট জাতীয় গাছের সবচেয়ে বড় ফুল! জানতেই ফুলটার প্রতি যেন কদর বেড়ে গেল, এমন একটা ফুলকে প্রত্যক্ষ করা কজনের ভাগ্যে জোটে!

ফুলটা মাপার জন্য ফিতা নিয়ে এলাম। তারার মতো ফোটা ফুলের পাপড়ির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মেপে পাওয়া গেল ৩০ সেন্টিমিটার! একটি ফুল প্রস্ফুটিত অবস্থায় পাপড়ির বিস্তার এক ফুট!
দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাছটা আমাদের ঘর-ছাদ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনও টবের সেই গাছটাকে ঘরে রাখি, কখনোবা কয়েক দিনের জন্য রেখে আসি ছাদে। টবের ভেতরে ধাঁই ধাঁই করে গাছ বাড়ে, কাণ্ডগুলো আকাশের দিকে খাড়া হয়ে থাকে, একসময় সেসব কাণ্ড থেকে কিছু শাখা-প্রশাখা বের হয়। তখন কাণ্ডগুলো ভারী হয়ে মাটির দিকে নত হতে থাকে। বাতাসে দুলতে দুলতে সেগুলো ছাদের ঘষায় কখনও আহত হয়।

ঝুলন্ত শাখা কেটে তাকে অন্য একটা টবের মাটিতে পুঁতে দিই। কয়েক দিনের মধ্যেই একটু যত্ন-আত্তি পেয়ে সে অপত্য গাছ নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ গাছ হয়ে ওঠে। খুব বাড়লেও গাছটা কখনও আট-দশ ইঞ্চির বেশি লম্বা হতে দেখিনি। কিন্তু ওই ছোট্ট গাছেই যে এত্ত বড় ফুল ফুটতে পারে, তা ছিল কল্পনাতীত।
গাছ লাগানোর পর প্রায় দুই বছরের মাথায় এই প্রথম চারটি অদ্ভুত কুঁড়ি দেখলাম। চোখা মাথা চতুষ্কোণাকার বেলুনের মতো কুঁড়িগুলো বেরিয়েছে ডালের পাশ থেকে। লম্বা বোঁটা, হালকা লালাভ ঘিয়া রং। এ রকম অদ্ভুত কুঁড়ি কখনও চোখে পড়েনি।

কুঁড়ি ধীরে ধীরে আরও বড় হয়, ফোলে। একদিন একটা কুঁড়ির বোঁটার থেকে শীর্ষ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ১৮ সেন্টিমিটার। রাতে ঘুমুতে যাই। ঝুমবৃষ্টি নামল। কী হবে ছাদে রাখা গাছটার! ফুলের কুঁড়িটা ফোটার আগেই কি ঝরে যাবে?
পরদিন সকাল হতেই ছাদে গেলাম। না, চারটি কুঁড়ির মধ্যে একটি ফুল হয়ে ফুটেছে। ওইটুকু ছোট গাছে যে এত বড় ফুল ফুটতে পারে– বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ফুলটার গড়ন দেখতে অবিকল তারা মাছের মতো বলে এর ইংরেজি নাম ‘স্টারফিশ ফ্লাওয়ার’, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Stapelia gigantea ও গোত্র অ্যাপোসাইনেসি। কুঁড়ি দেখতে পেটফোলা কোলা ব্যাঙের মতো, সেজন্য এর আর একটা ইংরেজি নাম ‘টোড প্লান্ট’।

গাছটা যে কেউ দেখলে বলবে, ওটা তো ক্যাকটাস গাছ। ক্যাকটাসের মতো শির তোলা। কাণ্ড, কাণ্ডের চারটি শিরে সারি ধরা তীক্ষ্ণ কাঁটা। তফাতটা হলো, এর কাণ্ড রসালো, নরম, বিড়ালের নখের মতো বাঁকানো ছোট কাঁটাগুলোও নরম। খরাতেও মরে না।
ফুলের ঘ্রাণটা সুখকর না, সামান্য পচা মাংসের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। এই বদ গন্ধ মাছিদের আকৃষ্ট করে। এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ডায়ামিন, সালফার ও বিভিন্ন ফেনোলিক যৌগ এ বদ গন্ধের জন্য দায়ী। সারা বছর ফুল ফোটার কথা থাকলেও এ বছর গ্রীষ্মকালে এ ফুলের দেখা পেলাম। ফুল ফোটার পর প্রথম ফুলটা রইল দুদিন, পরেরগুলো গাছে রইল তিন থেকে চার দিন। এর পর ঢলে শুকিয়ে গেল। আবার কবে দেখব সেই অপ্সরাকে, কে জানে!