Home Blog Page 142

হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছে।

হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে মারা গেছে ৫ শিশু। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে তিন শিশু, সিলেট বিভাগে দুই শিশু এবং রাজশাহী বিভাগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর ১৭ হাজার ৮১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও বলছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২০৯ জন।

আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই: আইশা খান

০

বর্তমান সময়ের অভিনয় অঙ্গনে যে কজন তরুণ অভিনেত্রী স্বল্প সময়ে নিজস্ব পরিচয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আইশা খান। তাঁর অভিনয়ে যেমন রয়েছে স্বতন্ত্রতা, তেমনি ব্যক্তিত্বে আছে এক ধরনের সংযত সৌন্দর্য; যা তাঁকে অন্যদের ভিড় থেকে আলাদা করে তোলে। জনপ্রিয়তার দ্রুত স্রোতে গা না ভাসিয়ে বরং ধীর, সচেতন এবং বাছাইকৃত কাজের মধ্য দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন তিনি।

নাটক, ওয়েব সিরিজ কিংবা সিনেমা– সব মাধ্যমে কাজ করলেও আইশা খান কখনোই সংখ্যার দৌড়ে নাম লেখাননি। বরং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।

480856106 584715421229990 4562484865213853467 n 1777016208নিজের কাজের মূল্যায়নে বেশ সৎ ও আত্মসমালোচনামূলক আইশা। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই। হয়তো আমি এখনও বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নই। আমি যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো হয়তো সবার কাছে প্রত্যাশামতো ভালো লাগেনি। সেখানে আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’

থিয়েটারের সঙ্গে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকাকে নিজের শেখার পথে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি, তাই শেখার অনেক জায়গা আছে। যদি আমি আগে থেকেই অনেক কিছু জানতাম, তাহলে হয়তো এই দ্বিধা তৈরি হতো না। কিন্তু এখন এ শেখার প্রক্রিয়াটাই আমাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

সম্প্রতি তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘শেকড়’ দেশের বাইরেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে তাঁর সংবেদনশীল ও পরিমিত অভিনয় দর্শক-সমালোচক দুপক্ষের কাছেই সমাদৃত হয়েছে। তবে এ সাফল্য তাঁকে তাড়াহুড়ো করে নতুন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেনি। বরং তিনি সময় নিয়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে চান।

487240665 609841852050680 7293320242916008948 n 1777016345আইশা বলেন, ‘শেকড়ের পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও প্রতিদিন শিখছি, ভুল করছি এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে গড়ে তুলছি। আমি চাই যখন পর্দায় ফিরব, তখন আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরতে।’

বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক জোয়ার নিয়েও আশাবাদী এ অভিনেত্রী। বিশেষ করে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমার সাফল্যকে তিনি ইন্ডাস্ট্রির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এ দুই সিনেমা প্রমাণ করেছে– ভালো গল্প ও নির্মাণ থাকলে দর্শক অবশ্যই হলে ফিরবে।

এই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আলোচনায় থাকা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্যও তাঁকে আনন্দিত করছে। আইশা বলেন, ‘এটা আমার প্রিয় এক নির্মাতার কাজ। তাঁর সঙ্গে আমার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। ছবিতে আমার পছন্দের অনেক শিল্পী আছেন। তাদের সাফল্য দেখে ভালো লাগছে।’

501037450 655366957498169 1069026212207829768 n 1777016361

আগামী দিনের প্রত্যাশা নিয়েও আশাবাদী তিনি। বিশেষ করে আসন্ন ‘রইদ’ সিনেমাকে ঘিরে তাঁর আগ্রহ স্পষ্ট। এ নির্মাতার সঙ্গেই আমার বিজ্ঞাপনে প্রথম কাজ করা হয়েছিল। তাই তাঁর নতুন সিনেমা নিয়ে আমি আশাবাদী। ‘হাওয়া’ যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রাণ এনেছিল, ‘রইদ’ও তেমন কিছু এনে দিতে পারে– বলছিলেন আইশা।

ফর্টিসের আত্মঘাতী ভুলে কপাল খুলল আবাহনীর

০

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই এখন তুঙ্গে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে সরাসরি টক্কর দিচ্ছে ঢাকা আবাহনী। শুক্রবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফর্টিস এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে কিংসকে ছুঁয়ে ফেলেছে আবাহনী। লিগে এটি আবাহনীর টানা ষষ্ঠ জয়।

ম্যাচের বাঁশি বাজার মাত্র ৩৪ সেকেন্ডের মাথায় গোলের দেখা পায় আবাহনী। তবে গোলটি ছিল আত্মঘাতী। আবাহনীর মিরাজুলের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ফর্টিসের ডিফেন্ডার মিঠু চৌধুরী। গোলরক্ষক সুজান পেরেইরার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির মাশুল দিতে হয় ফর্টিসকে। ম্যাচের বাকি সময়ে গোল শোধের চেষ্টা করেও আবাহনীর জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।

এই জয়ে ১৪ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে কিংসের পাশে বসল আবাহনী। তবে কিংস এক ম্যাচ কম খেলেছে। আগামীকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে কিংস যদি ড্র বা জয় পায়, তবে আবারও এককভাবে শীর্ষে ফিরবে তারা।

দিনের অন্য ম্যাচে মানিকগঞ্জে রহমতগঞ্জকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আরামবাগ। এতে মূল্যবান ৩ পয়েন্ট পায় আরামবাগ। এই জয়ে ১৪ ম্যাচে আরামবাগের পয়েন্ট ১৩, সমান ম্যাচে রহমতগঞ্জের সংগ্রহ ১৯।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে তিনজন ও হামের উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২১৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৪৯ জন। নিশ্চিত হামরোগী ১৭২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত হামরোগী চার হাজার ২৩১ জন।

১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৭০৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন।

ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও নিরাপদ নির্মাণে জোর

বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা জোরদার করা এবং নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকা জরুরি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

প্রগতিশীল প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি সমাজ আয়োজিত “ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক এই সেমিনারে আলোচনার শুরুতে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, রাজউকের মাধ্যমে ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনুমোদনপ্রাপ্ত পেশাজীবীদের দিয়েই নিরীক্ষা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করতে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভীতি ও শঙ্কা রয়েছে তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেবল আমলানির্ভর উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভূমিকম্প ও ভবন নকশা বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি। এছাড়াও বক্তব্য দেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন

মন্ত্রিসভার বৈঠক এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ঢাকা উত্তর সিটির আওতাভুক্ত

এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার  রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) (সংশোধন) আদেশ ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিসভার অনুমোদন হওয়ায় এখন তা সংসদে বিল আকারে উঠবে। সংসদে অনুমোদন পেলে সংশোধিত আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা রহিত হয়ে যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’- বা সংসদ সদস্যদের পারিতোষিক ও ভাতাদি আদেশ-১৯৭৩ এর অনুচ্ছেদ ৩সি অনুযায়ী এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পেতেন। নতুন সংশোধনী আইনের মাধ্যমে এই সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এ ধরনের ব্যয়সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের ব্যয় কমানো এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে আছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা ওয়াসার আওতায় আনার প্রস্তাব। পাশাপাশি প্রশাসনিক সুবিধার জন্য প্রকল্পের কিছু অংশ ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় চা দিবসের তারিখ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২১ মে নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। আগে দেশে ৪ জুন দিবসটি পালিত হতো। বৈঠকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। এর একটি হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর শর্ত বাতিল। অন্যটি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে
সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।  গতকাল বৃহস্পতিবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) এক সেমিনারে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তারা রাজস্ব ও আর্থিক খাতে যথাযথ সংস্কারের প্রয়োজনীতা তুলে ধরেন।

পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, গত মার্চ মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটি ‘হাইপাওয়ারড মানি’ অর্থাৎ, ছাপানো টাকা। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। রাজস্ব খাতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় সরকার উচ্চ সুদের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নও নিতে হচ্ছে।

রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বিষয় ছিল– বাণিজ্য ও প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।

মূল প্রবন্ধে ড. আশিকুর রহমান বলেন, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে এই পুনরুদ্ধার কিছু মৌলিক দুর্বলতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৩ শতাংশে, যা কভিড সময়ের পর সর্বনিম্ন। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশে পৌঁছানোয় আর্থিক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমেছে।

04 1777008370তিনি বলেন, ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন তিনটি সমসাময়িক বাইরের চাপের মুখে– মধ্যপ্রাচ্য সংকট, আসন্ন এলডিসি উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা। এসব চাপ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রবাহের দুর্বলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাতের মাধ্যমে অর্থনীতির সর্বস্তরে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে রপ্তানি কমে যাওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, সীমিত নীতিগত সক্ষমতা সামগ্রিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, এর আগে কখনও এত দীর্ঘ সময় দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল না। টাকা ছাপানো বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কারণে বেশি খরচ করতে গেলেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আইসিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাবেন কিনা, সেই চিন্তা করছেন। স্থানীয়রা বিনিয়োগ না করলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

জাইদি সাত্তার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক প্রভাব ফেলছে। এটি বিশ্ব বাণিজ্য ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ এর প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে না। সব জিনিসের দামের ওপরে জ্বালানির প্রভাব এ সময়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য নির্বাচিত সরকারকে বড় সংস্কারের দিকে যেতে হবে। ১৯৯১ সালের মতো ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন হবে।

আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পবকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে কঠিন নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

প্যানেল আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বেশির ভাগ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ‘আত্মসৃষ্ট’। এগুলোর জন্য সাহসী, দেশীয় উদ্যোগে পরিচালিত সংস্কার জরুরি। অর্থিক খাতে যেসব আভাস পাওয়া যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক হওয়া দরকার। মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা রপ্তানি বৈচিত্র্যে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা ও এর জন্য উন্নত অর্থায়ন ও নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ইরান আমেরিকার যুদ্ধ বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইরান আমেরিকার যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।

আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তেলের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। এই সমস্যাটা তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে। যে ব্যবসাটা আমাদের দেশের জন্য জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করছে, এটা করতে দেওয়া যাবে না। তাই, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপি সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।

রাতে পাকিস্তানে যাচ্ছে ইরানের প্রতিনিধি দল, সফর করবে রাশিয়াতেও

ইরানের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানে যাচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ডন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আইআরএনএ জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার থেকে আঞ্চলিক সফরে বের হচ্ছেন। তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়া সফর করবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ নিয়ে আলোচনা করা।

ডন জানিয়েছে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দলও ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছেছে।

তবে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে আরাগচি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বা অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফিরবেন কি না সে বিষয়েও তথ্য জানা যায়নি। তবে শুক্রবার ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ জোরদার করা হয়েছে। শহরজুড়ে বসানো চেকপোস্টের পাশাপাশি সম্ভাব্য আলোচনার স্থানে যাতায়াতের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ডন জানিয়েছে, প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফরের এই খবর সামনে আসার আগে আরাগচির সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ওই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে দুজন মতবিনিময় করেন। এএফপি জানিয়েছে, ইসহাক দারের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের সঙ্গেও আরাগচির আলাপ হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আঞ্চলিক পরিস্থিতির অগ্রগতি, যুদ্ধবিরতি এবং মার্কিন-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন দার ও আরাগচি। ইসহাক দার তাঁর পক্ষ থেকে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে টেকসই আলোচনা ও সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এ বিষয়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-৩ | পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র নেই, আছে ‘লুঙ্গিতন্ত্র’ ও ‘তোষণতন্ত্র’

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
ভারতকে বলা হয় পৃথিবীর ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’। এজন্যে ভারত বহির্বিশ্বে সম্মানিত। পশ্চিমবঙ্গে কি আসলেই গণতন্ত্র আছে? মানূষ তো সেখানে দেখছে ‘লুঙ্গিতন্ত্র’ ও ‘তোষণতন্ত্র’, মমতা থাকা অবধি এথেকে মুক্তি নেই? প্রায়শ: আমি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ‘টকশো’ বা ‘বিতর্ক’ দেখি। পাকিস্তানে ৩জনের টকশো হলে ৩জনই বোধগম্য কারণে কমবেশি ‘এন্টি-ভারত’। ভারতে (কলকাতায়) ৪জনের টকশো-তে দেখা যায়, ২জন ‘এন্টি-ভারত’ এবং প্রায়শ ‘এন্টি-হিন্দু’, যদিও এসব আঁতেলরা সবাই হিন্দু। এর কোন বোধগম্য কারণ নেই! এসব আঁতেলদের কারণে লাহোর বা করাচিতে ৮-দশক আগে ধুমধাম করে যে ‘রাম-নবমী’ হতো এখন তা হয়না। এঁরা থাকে হিন্দু মহল্লায়, বৎসরে ১দিন দীপাবলীতে শব্দের প্রতিবাদ জানায়, কিন্তু দিনে ৫-বার মাইকে আযান দেয়ার প্রতিবাদ করেনা। এসব থেকে মুক্তি মিলতে টিএমসি-কে বাই-বাই জানাতে হবে।

আমরা যারা বাইরে থাকি, তারা বাইরে থেকে দেখলে পশ্চিমবঙ্গকে ‘ভারত’ মনে হয়না, ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বলে ভ্রম হয়? বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, মমতার প্রশয়ে পশ্চিমবঙ্গে ইসলামী সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের পূর্বসূরীরা ‘ডাইরেক্ট একশান’ দেখেছেন। ভাবছেন, সেটি ছিলো বৃটিশ যুগ, এটি ভারত। কাশ্মীরের কথা ভুলে গেলে চলবে কেন? সদ্য মুর্শিদাবাদের কথা মনে আছে তো? পুরো বাংলাই মুর্শিদাবাদ হয়ে যাবে, কাশ্মীর হবে, যদিনা এখনো ‘৫টাকায়’ ডিমভাত-র লোভ সামলাতে না পারেন। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী হিন্দু সত্যিই যদি বাঙ্গালী ও বাংলাভাষাকে ভালবাসেন তাহলে হিন্দুকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কারণ বাংলাভাষী মুসলমানের আরবী ও উর্দুপ্রেম বাড়বাড়ন্ত। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলার ভাষার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে টিকে থাকতে হলে মমতা ব্যানার্জীকে বিদায় করতে হবে, দুধেল গাইদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

লগ্নজিতা চক্রবর্তী সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ভাবুন। মেদিনীপুরের ভগবানপুরে এক বেসরকারি স্কুলে তিনি গান গাইছিলেন। পাঁচ-ছ’টি গান গেয়েছেন। এরপর তিনি একটি শ্যামা সঙ্গীত ‘জাগো মা’ গাইতে শুরু করলে স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিক বাঁধা দেন্। মা মা বন্ধ করতে বলেন, গায়িকাকে হেনস্তা করেন, অভিযোগ আছে গায়িকা জীবন নিয়ে পালিয়ে আসেন। পুলিশ মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। আচ্ছা ভাবুন, ঐ স্কুলের মালিক যদি জ্যোতি মল্লিক হতেন, গায়িকা যদি মুর্শিদী গান গাইতেন, তাহলে কি কিছু হতো? না, হতো না। মেহবুব মল্লিকের রাগটা শ্যামার প্রতি, গানের প্রতি, হিন্দু’র প্রতি, ভারতের প্রতি। পশ্চিমবঙ্গে এখনো হিন্দু ৭০%, তবু মেহবুব মল্লিকদের শ্যামা সঙ্গীত ভালো লাগেনা, গাইতে দেবেন না? জনসংখ্যা ৫০-৫০ হলে, কোন গানই গাইতে দেবেন না, কারণ ইসলামে গান হারাম।

ভারত ততক্ষণই গণতান্ত্রিক বা ধর্ম-নিরপেক্ষ থাকবে যতক্ষণ হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। এরপর কি হবে, তা এখনকার বাম ও তথাকথিত সেক্যুলারদের ভাবার মত মেধা নেই? মুর্শিদাবাদ ছিলো হিন্দু সম্রাট শশাঙ্কের মাটি, আজ তা এক আরব্য উন্মাদের হাতে রক্তে রঞ্জিত। হিন্দুরা ভুলে গেলে চলবে কেন যে, বাঙ্গালী মুসলমান আকরাম খাঁ ১৯৩৭ সালে বঙ্কিম চন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ বইটি পুড়িয়েছিল কলকাতার রাস্তায়। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী কিছু মুসলমান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত, অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে, এঁরা কলকাতায়ও সক্রিয় না থাকার কোন কারণ নেই? বাংলাদেশে সদ্য এক ছাত্রনেতা খায়রুল দেওয়ান বেশ জোরের সাথেই বলেছেন, ‘সমস্ত হিন্দুদের মুসলমান বানাইয়া ফালামু’। একথার অর্থ শুধু যে বাংলাদেশের হিন্দু তা নয়, এরমধ্যে আপনিও আছেন।

গত ডিসেম্বর (২০২৫) মাসেও কুলপিতে বজ্রংবলী মুর্ক্তির মাথা কাটা হয়েছে, মন্দিরের মাইক ভাংচুর হয়েছে। বাংলাদেশে একটি প্রচলিত কথা আছে, তা হচ্ছে, ‘কচুগাছ কাটতে কাটতে ডাকাত হয়’? মুর্ক্তির মাথা কাটতে কাটতে ওঁরা ১৯৪৬-র মত হিন্দুর মাথা কাটবে না তো? বাঁচতে হলে ২০২৬-এ পুরো পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজকে গোপাল পাঠা হয়ে উঠতে হবে। একটি গল্প বলি: ভগবান রামের শরাঘাতে রাবন যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত রামচন্দ্র তখন ভ্রাতা লক্ষ্ণণকে তার কাছে পাঠান রাবনের শেষ ইচ্ছে জানার জন্যে। লক্ষ্ণণ মুমূর্ষু রাবনের কাছে পৌঁছলে লঙ্কাধিপতি রাবন বলেছিলেন, আমার পরাজয়ের কারণটা কি জানো? আমার সব ছিলো, দশ মাথা, অর্থ-বিত্ত, সৈন্য-সামন্ত সবই ছিলো, শুধু আমার ভাই আমার সাথে ছিলোনা। রামচন্দ্রের বিজয়ী হবার কারণ হলো, তোমার মত ভাই তাঁর সাথে ছিলো। পাঠক, ঘরের শত্রু বিভীষণদের থেকে সাবধান হউন। আর একজন হিন্দুকে ভাই বা বোন ভাবতে শিখুন।
শেষকথা বলবো: পশ্চিমবাংলার হিন্দুরা, আপনাদের শিড়দাঁড়াটা একটু সোঁজা করে রুখে দাঁড়ান।
ধন্যবাদ।