শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
ভারতকে বলা হয় পৃথিবীর ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’। এজন্যে ভারত বহির্বিশ্বে সম্মানিত। পশ্চিমবঙ্গে কি আসলেই গণতন্ত্র আছে? মানূষ তো সেখানে দেখছে ‘লুঙ্গিতন্ত্র’ ও ‘তোষণতন্ত্র’, মমতা থাকা অবধি এথেকে মুক্তি নেই? প্রায়শ: আমি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ‘টকশো’ বা ‘বিতর্ক’ দেখি। পাকিস্তানে ৩জনের টকশো হলে ৩জনই বোধগম্য কারণে কমবেশি ‘এন্টি-ভারত’। ভারতে (কলকাতায়) ৪জনের টকশো-তে দেখা যায়, ২জন ‘এন্টি-ভারত’ এবং প্রায়শ ‘এন্টি-হিন্দু’, যদিও এসব আঁতেলরা সবাই হিন্দু। এর কোন বোধগম্য কারণ নেই! এসব আঁতেলদের কারণে লাহোর বা করাচিতে ৮-দশক আগে ধুমধাম করে যে ‘রাম-নবমী’ হতো এখন তা হয়না। এঁরা থাকে হিন্দু মহল্লায়, বৎসরে ১দিন দীপাবলীতে শব্দের প্রতিবাদ জানায়, কিন্তু দিনে ৫-বার মাইকে আযান দেয়ার প্রতিবাদ করেনা। এসব থেকে মুক্তি মিলতে টিএমসি-কে বাই-বাই জানাতে হবে।
আমরা যারা বাইরে থাকি, তারা বাইরে থেকে দেখলে পশ্চিমবঙ্গকে ‘ভারত’ মনে হয়না, ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বলে ভ্রম হয়? বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, মমতার প্রশয়ে পশ্চিমবঙ্গে ইসলামী সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের পূর্বসূরীরা ‘ডাইরেক্ট একশান’ দেখেছেন। ভাবছেন, সেটি ছিলো বৃটিশ যুগ, এটি ভারত। কাশ্মীরের কথা ভুলে গেলে চলবে কেন? সদ্য মুর্শিদাবাদের কথা মনে আছে তো? পুরো বাংলাই মুর্শিদাবাদ হয়ে যাবে, কাশ্মীর হবে, যদিনা এখনো ‘৫টাকায়’ ডিমভাত-র লোভ সামলাতে না পারেন। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী হিন্দু সত্যিই যদি বাঙ্গালী ও বাংলাভাষাকে ভালবাসেন তাহলে হিন্দুকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কারণ বাংলাভাষী মুসলমানের আরবী ও উর্দুপ্রেম বাড়বাড়ন্ত। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলার ভাষার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে টিকে থাকতে হলে মমতা ব্যানার্জীকে বিদায় করতে হবে, দুধেল গাইদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে।
লগ্নজিতা চক্রবর্তী সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ভাবুন। মেদিনীপুরের ভগবানপুরে এক বেসরকারি স্কুলে তিনি গান গাইছিলেন। পাঁচ-ছ’টি গান গেয়েছেন। এরপর তিনি একটি শ্যামা সঙ্গীত ‘জাগো মা’ গাইতে শুরু করলে স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিক বাঁধা দেন্। মা মা বন্ধ করতে বলেন, গায়িকাকে হেনস্তা করেন, অভিযোগ আছে গায়িকা জীবন নিয়ে পালিয়ে আসেন। পুলিশ মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। আচ্ছা ভাবুন, ঐ স্কুলের মালিক যদি জ্যোতি মল্লিক হতেন, গায়িকা যদি মুর্শিদী গান গাইতেন, তাহলে কি কিছু হতো? না, হতো না। মেহবুব মল্লিকের রাগটা শ্যামার প্রতি, গানের প্রতি, হিন্দু’র প্রতি, ভারতের প্রতি। পশ্চিমবঙ্গে এখনো হিন্দু ৭০%, তবু মেহবুব মল্লিকদের শ্যামা সঙ্গীত ভালো লাগেনা, গাইতে দেবেন না? জনসংখ্যা ৫০-৫০ হলে, কোন গানই গাইতে দেবেন না, কারণ ইসলামে গান হারাম।
ভারত ততক্ষণই গণতান্ত্রিক বা ধর্ম-নিরপেক্ষ থাকবে যতক্ষণ হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। এরপর কি হবে, তা এখনকার বাম ও তথাকথিত সেক্যুলারদের ভাবার মত মেধা নেই? মুর্শিদাবাদ ছিলো হিন্দু সম্রাট শশাঙ্কের মাটি, আজ তা এক আরব্য উন্মাদের হাতে রক্তে রঞ্জিত। হিন্দুরা ভুলে গেলে চলবে কেন যে, বাঙ্গালী মুসলমান আকরাম খাঁ ১৯৩৭ সালে বঙ্কিম চন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ বইটি পুড়িয়েছিল কলকাতার রাস্তায়। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী কিছু মুসলমান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত, অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে, এঁরা কলকাতায়ও সক্রিয় না থাকার কোন কারণ নেই? বাংলাদেশে সদ্য এক ছাত্রনেতা খায়রুল দেওয়ান বেশ জোরের সাথেই বলেছেন, ‘সমস্ত হিন্দুদের মুসলমান বানাইয়া ফালামু’। একথার অর্থ শুধু যে বাংলাদেশের হিন্দু তা নয়, এরমধ্যে আপনিও আছেন।
গত ডিসেম্বর (২০২৫) মাসেও কুলপিতে বজ্রংবলী মুর্ক্তির মাথা কাটা হয়েছে, মন্দিরের মাইক ভাংচুর হয়েছে। বাংলাদেশে একটি প্রচলিত কথা আছে, তা হচ্ছে, ‘কচুগাছ কাটতে কাটতে ডাকাত হয়’? মুর্ক্তির মাথা কাটতে কাটতে ওঁরা ১৯৪৬-র মত হিন্দুর মাথা কাটবে না তো? বাঁচতে হলে ২০২৬-এ পুরো পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজকে গোপাল পাঠা হয়ে উঠতে হবে। একটি গল্প বলি: ভগবান রামের শরাঘাতে রাবন যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত রামচন্দ্র তখন ভ্রাতা লক্ষ্ণণকে তার কাছে পাঠান রাবনের শেষ ইচ্ছে জানার জন্যে। লক্ষ্ণণ মুমূর্ষু রাবনের কাছে পৌঁছলে লঙ্কাধিপতি রাবন বলেছিলেন, আমার পরাজয়ের কারণটা কি জানো? আমার সব ছিলো, দশ মাথা, অর্থ-বিত্ত, সৈন্য-সামন্ত সবই ছিলো, শুধু আমার ভাই আমার সাথে ছিলোনা। রামচন্দ্রের বিজয়ী হবার কারণ হলো, তোমার মত ভাই তাঁর সাথে ছিলো। পাঠক, ঘরের শত্রু বিভীষণদের থেকে সাবধান হউন। আর একজন হিন্দুকে ভাই বা বোন ভাবতে শিখুন।
শেষকথা বলবো: পশ্চিমবাংলার হিন্দুরা, আপনাদের শিড়দাঁড়াটা একটু সোঁজা করে রুখে দাঁড়ান।
ধন্যবাদ।




