Home Blog Page 142

চুক্তির অনেক কাছাকাছি ইরান: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘অনেক কাছাকাছি’ আসছে ইরান। তেহরানও অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে, উভয়পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুপক্ষের মতভেদের অন্যতম ইস্যু ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।

তেহরান বলছে, পারমাণবিক অস্ত্রের মূল বিষয়টি কোনো প্রাথমিক প্রস্তাবের অংশ হবে না। এর আগে পরমাণু নিয়ে কড়া বার্তা শুনিয়েছিলেন ট্রাম্প।

গতকাল শনিবার সিবিএস নিউজকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি খসড়া চুক্তি দেখেছেন। এটি যথেষ্ট ভালো কিনা– জানতে

চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, আমি আপনাকে তা বলতে পারব না।’ তবে জোর দিয়ে টাম্প বলেন, চুক্তি হলে তা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ‘অবশ্যই’ বিরত রাখবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কেবল এমন একটি চুক্তিতে সই করব, যেখানে আমরা যা চাই তার সবকিছু পাব। আমাদের একটি চুক্তি করতে হবে, অথবা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে কোনো দেশই আর কখনও এতটা কঠিন আঘাতের শিকার হবে না, যতটা তারা হতে চলেছে।’

এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিভিন্ন বিষয়ে একমত হচ্ছিল। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ এই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গেুলোতে কোনো চুক্তি হবে। তিনি মার্কিনিদের বিরুদ্ধে ‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার আলজাজিরা জানায়, গতকাল দফায় দফায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তেহরান ছেড়েছেন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আসিম মুনির। সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরান ‘লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ শেষ করার ওপর আলোচনাকে কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে আমরা পারমাণবিক বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা করব না। আমরা ৩০ বা ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে প্রবেশ করব কিনা, তা পরের বিষয়।’

‘আলোচনায় তেহরান আপস করবে না’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের অন্যতম শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল তেহরানে আলোচনার সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সৎ পক্ষ নয়; ইরান তার জাতীয় অধিকারের বিষয়ে কোনো আপস করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উপস্থিতিতে মুনির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও দেখা করেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর দুটি বৈঠক হয়।

জানা গেছে, এ আলোচনা ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যেটিকে ইরান আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময়ও হয়। গালিবাফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে ও কূটনীতির মাধ্যমে তার ‘বৈধ অধিকার’ অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিন্দুমাত্র সততা নেই– এমন কোনো পক্ষকে বিশ্বাস করা যায় না।’ ইরানের স্পিকার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্বোধের মতো যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে, তবে এর পরিণতি আগের চেয়ে আরও জোরালো ও তিক্ত হবে।

ইসরায়েলের মন্ত্রী বেন গাভিরকে নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
গাজায় ফ্লোটিলার কর্মীদের প্রতি তাঁর ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ জেরে ফ্রান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরকে নিষিদ্ধ করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, ‘আমরা ফরাসি নাগরিকদের এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নৃশংসতার শিকার হওয়া সহ্য করতে পারি না, বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা।’

ব্যাংকগুলোর প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে নগদ লভ্যাংশ নয়

ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার নিয়ম আরও কঠোর করল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে ওই ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। সব নিয়ম মেনে লভ্যাংশ ঘোষণায় যোগ্য ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ দিতে পারবে। গতকাল শনিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়। এই নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় একমাত্র যোগ্য ব্র্যাক ব্যাংক।

গত বছরের নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার মূলধন কিংবা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক যত মুনাফাই করুক লভ্যাংশ দিতে দেওয়া হয়নি। এই নিয়মে এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সার্বিক মূলধন ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার নতুন নির্দেশনা দেওয়া হলো। পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার কম থাকলে ওই ব্যাংক কোনো প্রকার নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের পর সক্ষম ব্যাংক ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ দিতে পারবে। এ নির্দেশনা ২০২৬ সাল এবং পরবর্তী বছরের জন্য কার্যকর হবে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল দুটি ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩ হাজার ২২০ কোটি এবং ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, উচ্চ খেলাপিসহ প্রচণ্ড খারাপ অবস্থার কারণে লভ্যাংশ দেওয়া তো দূরে থাক, সাধারণ আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

পরিশোধিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইএফআইসির এক হাজার ৯২২ কোটি, সিটি ব্যাংক এক হাজার ৭৪৯ কোটি, ইস্টার্ন এক হাজার ৬৪৪ কোটি, ইসলামী এক হাজার ৬১০ কোটি এবং ইউসিবির ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে সিটি ও ইস্টার্ন ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলো বর্তমানে লভ্যাংশ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

একীভূত বা অধিগ্রহণে বিএসইসির পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অন্য কোনো তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণে শেয়ারহোল্ডার ও হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। এ বিষয়ে কোনো আইনি বিধান না থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পর্যবেক্ষণ বা অনুমোদন নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বিএসইসি বলছে, এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রথমবারের মতো বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (করপোরেট রিস্ট্রাকচারিং) রুলস, ২০২৬ নামে এ বিধিমালার খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য সংস্থাটি প্রকাশ করেছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে অংশীজনদের এ বিষয়ে মতামত পাঠাতে অনুরোধ করছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত এই বিধিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য বিষয়ে কমিশন বলেছে, করপোরেট পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারী বিশেষ করে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা পায়।

একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এ প্রক্রিয়ায় বিএসইসির পক্ষভুক্ত হয়ে মত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অতীতে সিংহভাগ ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে মত দিয়েছে বা মতামত প্রদান থেকে বিরত থেকেছে বিএসইসি। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে।
মার্জার বা একীভূতকরণ হলো–দুই বা ততধিক কোম্পানি একটি কোম্পানিতে রূপান্তর করা। এক্যুইজিশন বা অধিগ্রহণ হলো একটি কোম্পানি যখন অন্য কোম্পানিকে কিনে নিজের করপোরেট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে পরিচালনা করে। উভয়ক্ষেত্রে একাধিক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত একটি কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে আগের যেকোনো একটি কোম্পানির নামে পুনর্গঠিত কোম্পানি কার্যক্রম চালাতে পারে। অথবা নতুন কোনো নামও ধারণ করতে পারে।

বিএসইসির খসড়া বিধিমালা অনুমোদন হলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ ছাড়া কোনো মার্জার বা একুইজিশন স্কিম বাস্তবায়নে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে না। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ার বিনিময়ের হার বা কনভারশন রেট নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে কোম্পানিগুলোকে বিএসইসি নির্ধারিত প্যানেলভুক্ত অডিট ফার্ম বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও আইনি কাঠামো
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করলে প্রথমে তার পরিচালনা পর্ষদে সেটি অনুমোদন করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে পর্যবেক্ষণ নিতে জমা দিতে হবে। বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর বিশেষ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সভায় (ইজিএম) বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণকারীদের বাদে উপস্থিত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৭৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কোম্পানিকে মহামান্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতি ও তদারকি
খসড়া বিধিমালা অনুসারে, সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে কমিশন নির্ধারিত প্যানেল অডিটর বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্নধর্মী পদ্ধতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বকীয় মূল্যায়ন পদ্ধতিগুলো (অ্যাবসলিউট ভ্যালুয়েশন) এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতি (রিলেটিভ ভ্যালুয়েশন) থেকে অন্তত দুটি করে পদ্ধতি অনুসরণ করে থেকে সম্পদ মূল্যায়ন এবং শেয়ার বণ্টন অনুপাত নির্ধারণ করতে হবে। স্বকীয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব আয় ও নগদপ্রবাহের মতো মৌলিক ভিত্তিগুলো দেখা হয় এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমজাতীয় অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও উন্নত দেশগুলোতে করপোরেট পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী আইনি কাঠামো অনুসরণ করছে। ভারতে কোম্পানি আইনের অধীনে এনসিএলটি নামক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করে, যা উচ্চ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।
এদিকে একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর কী প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে একটি পৃথক প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়। যারা এমন স্কিমের বিপক্ষে মত দেবেন বা ভিন্নমতালম্বী হবেন, তাদের একটি তালিকাও কমিশনকে দিতে হবে।

খসড়া এ বিধিমালাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পুরো স্কিম সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সবার পছন্দ নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ যদি নতুন ব্যবস্থায় শেয়ারহোল্ডার থাকতে না চান, তার শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পদ্ধতি আছে। এ বিধানে এ বিষয়ে নিয়ম রাখা যেত।
জানতে চাইলে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এতদিন যত একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ হয়েছে, তার সিংহভাগ ক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতি হয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঠকেছেন। কমিশন এই জালিয়াতি কীভাবে ঠেকাবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে–এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।

ব্যাংক আরও সংকটে সরকার ও গভর্নরে: জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমানতকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে হাহাকার করছে। সরকার সংকট নিরসন না করে ব্যাংকে নিজের লোক বসিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।

শনিবার বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি হলো ব্যাংকিং সেক্টর। ফ্যাসিস্ট আমলে লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দিকে নজর না দিয়ে সরকার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। চরম তারল্য সংকটে ভুগছে। খেলাপি ঋণ দিনদিন বাড়ছে। যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মহাদুর্যোগ সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স আহরণে, আমদানি-রপ্তানিতে ও শিল্প-বাণিজ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক নিয়েও চলছে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোর করে পদচ্যুত করা হচ্ছে। অযোগ্যদের পর্ষদে বসিয়ে সফল ব্যাংকটিকে স্থবির করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিন কোটি আমানতকারী এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮০ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীকে চরম হুমকিতে ফেলা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকিং ধ্বংস হলে পুরো ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই মব তৈরি করে দলের অনুগত এবং অনুকম্পা নিয়ে ঋণ পুনঃতপশিলকারী মধ্যমসারির ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ করেছে। অভিলম্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে গভর্নর নিয়োগ দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

রাজনৈতিক ট্যাগ জনজীবন বিষাক্ত করে তুলছে

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে ‘ট্যাগ’ বা লেবেল ব্যবহার করার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে জনজীবনকে বিষাক্ত করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা শুধু রাজনৈতিক বিভাজনই বাড়াচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রীয় শাসন ও নীতিনির্ধারণের বাস্তব ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

গতকাল শনিবার ‘নতুন সরকারের ৩ মাস: একটি প্রাথমিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনার আয়োজন করে পিপিআরসি। এতে নীতি বিশ্লেষক, আইন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অংশ নেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক আলোচনাকে আবেগনির্ভর রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে বের করে প্রমাণভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণের দিকে নিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিন্দাসূচক লেবেল দেওয়া এখন একটি শিকড়গাড়া সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা জনআলোচনাকে দূষিত করছে এবং নীতি বিশ্লেষণের স্বচ্ছতা নষ্ট করছে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক ও ব্যবসায়িক অংশীজনদেরও গঠনমূলক জনআলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার তিন ধরনের ‘বোঝা’ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এগুলো হলো উত্তরাধিকারের সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে দলীয় প্রতিশ্রুতি। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক ক্ষত গভীর হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কার্যসম্পাদনে ঘাটতির কারণে নতুন সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হোসেন জিল্লুর বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে, যার প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের কথা বললেও তা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, নতুন সরকারের প্রথম তিন মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যেখানে সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বক্তাদের মতে, এই সময়টি অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কাঠামোগত সংস্কারের জটিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনীতিকরণ থেকে কতটা বের হওয়া গেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগে পুরোনো ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশি মনোবল এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনতার সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বর্তমান সরকারকে একদিকে আগের প্রশাসনের দুর্বলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপও সামাল দিতে হচ্ছে। এতে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং ঋণপ্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রপ্তানি খাতে ধীরগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি এবং পানিসহ আঞ্চলিক সম্পদের নিরাপত্তাবিষয়ক চাপ দেশের কৌশলগত অবস্থানকে জটিল করে তুলছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া আন্তর্জাতিক আলোচনায় শক্ত অবস্থান নেওয়া কঠিন। তিনি আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং অতীতের সব উদ্যোগকে রাজনৈতিক কারণে বাতিল না করার আহ্বান জানান।

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর-১০ গোলচত্বর অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোলচত্বরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এতে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধেরও আহ্বান জানান তারা।

গত ১৯শে মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিশু রামিসাকে যেভাবে হত্যা করে সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির লছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার জবানবন্দিতে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং তার নিথর দেহ থেকে মাথা ধারালো চাকু দিয়ে আলাদা করাসহ ছোট্ট শিশুটির শরীরের ওপর স্বামী-স্ত্রীর নৃশংসতার লোমহর্ষক কাহিনি উঠে এসেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ গত বুধবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে।

রানা জানায়, দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তার বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় মেয়েটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রানার স্ত্রী।

আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তারা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলার পাশাপাশি। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে।

সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার মেয়েকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষের মেঝেতে তার মেয়ের মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ছিল।

ঈদের পর রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ঈদের পরপরই এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করি।’

তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।

মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যার বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে কাজ করা হচ্ছে। যাতে বিচার শেষে জনমনে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্ন না থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।

এলপিএলে সাকিব ও তাসকিন, খেলবেন কোন দলে

আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংস দলের হয়ে খেলবেন তিনি। একই দলে খেলবেন আরেক অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তাদের সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে জাফনা কিংস।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

এলপিএলের পক্ষ থেকে সাকিবের কার্ড–সংবলিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘টি-টুয়েন্টির অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যোগ দিলেন জাফনা কিংসে। এলপিএল সামনে রেখে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। চাপের মুহূর্তে তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতাই হয়ে ওঠে দলের বড় ভরসা।’

পৃথক পোস্টে তাসকিনকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখা করে এলপিএল জানিয়েছে, ‘জাফনা পেস আক্রমণ যুক্ত করল আগুন ঝরানো শক্তি।’ কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে ২০২৪ সালে খেলেছিলেন তাসকিন।

এর আগেও এলপিএলে খেলেছেন সাকিব। ২০২৩ সালের এলপিএলে গল টাইটানসের হয়ে ১০ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৩৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এলপিএলে পাঁচ আসরের চারবারই শিরোপা জেতে জাফনা। এবার বাংলাদেশি এই দুজন ছাড়াও সরাসরি চুক্তিতে দলটি নিয়েছে ভানুকা রাজাপাকসা ও দুনিথ ওয়েলালাগেকে।

গত দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার আবারও শুরু হতে যাচ্ছে এলপিএল। এবারের টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৭ জুলাই, চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। কলম্বোয় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সাকিবের জাফনা কিংস মুখোমুখি হবে গল মার্ভেলসের।

সাবিক আল হাসান সর্বশেষ স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি খেলেছেন গত জানুয়ারিতে। তখন আইএলটি-টুয়েন্টিতে মুম্বাই এমিরেটসের হয়ে খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার।

ভারতের পর এবার পাকিস্তানে প্রকাশ্যে এলো ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’

ভারতে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’, ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা তেলাপোকা মুভমেন্ট’-এর মতো একাধিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে।

ভারতের তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ এখন পাকিস্তানের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে তৈরি হওয়া এসব অ্যাকাউন্টের বায়ো ও রাজনৈতিক স্লোগান ভারতের মূল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ধাঁচেই তৈরি। ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা হয়েছে, তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য। আরেকটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর।

এসব পেজের লোগোও ভারতের ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সংস্করণগুলোতে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’?

ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।

গত ১৬ মে এই ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দলটির নিজস্ব ওয়েবসাইট, ম্যানিফেস্টো ও সংগঠিত অনলাইন প্রচারণাও রয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে বিতর্ক

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র জন্ম হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণ ও কিছু কর্মীকে ‘তেলাপোকা ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো। তাদের কোনো চাকরি নেই, পেশাতেও কোনো জায়গা নেই।

এই মন্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের বোঝাতে চেয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই ‘তেলাপোকা’ প্রতীক ব্যবহার করে তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট ও রাজনৈতিক হতাশাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরতে শুরু করে সিজেপি।

যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবুও ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে দুই কোটিরও বেশি অনুসারী সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিম, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, অ্যানিমেশন ও তরুণদের ভাষায় তৈরি কনটেন্টের কারণে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেকারত্ব, পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তাদের পোস্ট তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পাকিস্তানেও তরুণদের হতাশার প্রতিফলন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে ‘তেলাপোকা’ ব্র্যান্ডের দ্রুত বিস্তার শুধু একটি অনলাইন ট্রেন্ড নয় বরং এটি দেশটির তরুণদের রাজনৈতিক হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলনও হতে পারে।

ভারতে যেমন ব্যঙ্গ ও মিমভিত্তিক ডিজিটাল আন্দোলন তরুণদের আকৃষ্ট করেছে, পাকিস্তানেও একই ধরনের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।