Home Blog Page 143

কলাপাড়ায় দোকানপাট বাড়িঘরসহ অর্ধশত স্থাপনা বিধ্বস্ত

কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখীর ঝড়ের তান্ডবে ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ অন্তত অর্ধশত স্থাপনা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে শত শত গাছপালা। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে প্রায় আধাঘন্টার প্রবল ঝড়োহাওয়ায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি ৫০-৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া তান্ডব চালিয়েছে। এসময় প্রচন্ড বজ্র-বৃষ্টি হয়েছে। বহু নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন হারিয়ে ফেলেছে। তবে এই মুহুর্তে হতাহতের কোন খবর মেলেনি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিমে লেম্বুরচরের ক্ষুদে দোকিানিরা। তাঁদের মৌসুমি দোকানপাটসহ জেলেদের অধিকাংশ স্থাপনা ঝড়ের তান্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সেখানকার অন্তত ১৬টি দোকান ও জেলেদেও অবস্থান করার স্থাপনা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এসব দোকিানিরা জানান, তাঁরা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝড়ের তান্ডবে সব শেষ হয়ে গেছে। শুটকি, আচার, মাছ ফ্রাইসহ সকল দোকানি ক্ষতির কবলে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাসির জোমাদ্দার জানান, রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। কিছু বোঝার আগেই দোকানের টিন উড়ে যায়। সকালে দেখেন সব শেষ। মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে, দোকান ভেঙে গেছে। প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার ।
দোকানি জহিরুল ইসলাম জানান, তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই দোকান। হঠাৎ ঝড়ে সব তছনছ  হয়ে গেছে। এখন নিঃস্ব হয়ে গেছেন। সরকারের সহায়তা ছাড়া ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন না।
কলাপাড়া ইউএনও কাউছার হামিদ বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।
তবে ঝড়োহাওয়া ও বজ্রবৃষ্টিতে সেচ সংকটে থাকা বোরাচাষিদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি নেমে এসেছে। তাঁদের বোরোক্ষেতে সেচের সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে।

ইফতারে শরীর চাঙা রাখবে তরমুজের শরবত

এই গরমে শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে তরমুজ খুবই উপকারী। সব ধরনের ভিটামিন, মিনারেল; যা দেহকে স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। আস্ত তরমুজ বা তরমুজের জুস দুইভাবেই এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

সারা দিন রোজা শেষে সন্ধ্যায় ইফতারের সময় খুব সহজ উপায়ে অল্প উপকরণে তরমুজের শরবত তৈরি করা যায়। তাই ইফতারের শেষ মুহূর্তে সহজে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু এ শরবত।

উপকরণ

৩-৪ কাপ তরমুজ (বিচি ছাড়া)। ১০-১২টি পুদিনাপাতা। ১ টেবিল চামচ লেবুর রস। স্বাদমতো চিনি বা বিট লবণ। এবং বরফ কুচি পরিমাণমতো। পানি এক কাপ। ইফতারে রিফ্রেশিং মিন্ট ওয়াটারমেলন শরবত তৈরি করতে ব্লেন্ডারে তরমুজের টুকরো, পুদিনাপাতা, সামান্য লেবুর রস, চিনি/বিট লবণ ও বরফ কুচি মিশিয়ে নিন। এটি ক্লান্তি দূর করে এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখে। স্বাদের ভিন্নতার জন্য সোডা বা স্প্রাইট যোগ করা যেতে পারে, যা ইফতারের জন্য একটি চমৎকার পানীয়।

প্রণালি

তরমুজের টুকরোগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে পুদিনাপাতা, লেবুর রস এবং চিনি বা বিট লবণ মিশিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। এবার মিশ্রণটি ছেঁকে গ্লাসে ঢালুন (অপশনাল)। এরপর বরফ কুচি ও পুদিনাপাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

 

এই ঈদে তারিক আনাম খান

বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেতা, নির্মাতা তারিক আনাম খান। বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যদল নাট্যকেন্দ্রর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ‘দেশা দ্য লিডার’ ও ‘আবার বসন্তে’ সিনেমায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী এই অভিনেতাকে ১৯ মার্চ থেকে হৈ চৈ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারে আসা ওয়েব ফিল্ম ‘একসাথে আলাদা’য় একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসারের ভূমিকায় অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে। এটি নির্মাণ করেছেন রেজাউর রহমান। এছাড়াও এই ঈদে তিনটি নাটকেও তারিক আনাম খানকে দেখা যেতে পারে। নাটকগুলো হচ্ছে শহীদ উন নবীর ‘ভূত শ্বশুর’, আশিকুর রহমানের ‘লিলিথ’ ও তাইফুর জাহান আশিকের ‘গুলনাহার’। তারিক আনাম খান বলেন,‘ এবারের ঈদ উপলক্ষে মূলত তিনটি নাটকে অভিনয় করেছি। তারমধ্যে ভূত শ্বশুর ও গুলনাহার কমেডি ঘরানার গল্পের নাটক।

ইরানের ‘ড্যান্সিং মিসাইলে’ ইসরাইলে কাঁপন

ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সেজিল-২। তেহরান সোমবার এটি প্রথমবারের মতো যুদ্ধের ময়দানে নামায়। এটি ইসরাইল ও দুবাইয়ে নিখুঁতভাবে টার্গেটে হামলা চালায়। শুধু তাই নয় তেহরান সোমবার সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনেও হামলা করে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও বিস্মিত।
ইরানের তৈরি সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এটি অন্য নামেও পরিচিত। যেমন সাজিল, আশৌরা ও আশুরা ক্ষেপণাস্ত্র।
ইরানের সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। এটি প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের বোমা বহন করতে পারে। অনেক উঁচু দিয়ে ওড়ার সময়ও এ ক্ষেপণাস্ত্র পথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। আর এ জন্য এটিকে ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বা ‘নাচুনে ক্ষেপণাস্ত্র’ বলে ডাকা হয়ে থাকে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৮ মিটার লম্বা। এর ওজন প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কেজি। কঠিন জ্বালানির ব্যবহার ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। তরল জ্বালানিব্যবস্থায় পরিচালিত শাহাব সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটিকে দ্রুত প্রস্তুত ও উৎক্ষেপণ করা যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তরাঞ্চলে ইরানের ড্রোন হামলায় একটি ভবনে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ড্রোনের আঘাতে ওই ভবনে অগ্নিকা- ঘটেছে বলে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সোমবার আমিরাতের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগে, ইরানের হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া দেশটির একটি তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক এক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে।
আমিরাতের উম্ম আল-কুওয়াইন সরকারের গণমাধ্যম অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমিরাতের উম্ম আল-কুওয়াইনে একটি ভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে। ড্রোনের আঘাতে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম ওই বিবৃতি প্রকাশ করলেও ভবনটির নাম জানায়নি। ইরানের সামরিক বাহিনীর একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সেখানে উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারির পর আমিরাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি ড্রোন এবং ২৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তারা।  চলমান এই অস্থিরতায় অন্তত এক বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির সংঘাতের জেরে আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন সরাসরি যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে চলে এসেছে। ইরান সমর্থিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আরব আমিরাত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সোমবার ইরানের তেহরান, শিরাজ ও তাবরিজ শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এই হামলা চালানো হলো।
এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ইরানের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লন্ডন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে যাতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। তিনি বলেন, ব্রিটেন নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেও বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না।
অন্যদিকে জার্মানি জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা দিয়ে শুরু হওয়া এই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ এবং এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের মুখপাত্র বলেন, ‘ন্যাটো মূলত ভূখ- রক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষা জোট’ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটো মোতায়েনের কোনো ম্যান্ডেট নেই।
যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলেও একটি অ-ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে নজরদারি সংস্থা মেরিন ট্রাফিক সোমবার জানিয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আবু ধাবির দাস অপরিশোধিত তেল বহনকারী ‘আফ্রাম্যাক্স’ শ্রেণির ট্যাংকার করাচি এআইএস সিগন্যাল চালু রেখে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট চালানের জন্য আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান প্রয়োজনে যুদ্ধ যতদূর গড়ায় ততদূর পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন তারা ভালো শিক্ষা পেয়েছে এবং বুঝতে পেরেছে তারা কেমন একটি জাতির মুখোমুখি হয়েছে, যে জাতি নিজেকে রক্ষায় দ্বিধা করে না এবং প্রয়োজন হলে যুদ্ধ যতদূর গড়ায় ততদূর নিয়ে যেতে প্রস্তুত।’
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহের বিরুদ্ধে ‘সীমিত স্থল অভিযান’ শুরু করেছে।
ইসরাইলি বাহিনী জানায়, ‘গত কয়েক দিনে আইডিএফের ৯১তম ডিভিশনের সেনারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক স্থল অভিযান শুরু করেছে।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পারস্পরিক সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
তারা সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বন্ধ করা এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ‘ড্রোন-সম্পর্কিত ঘটনার’ কারণে কাছাকাছি একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিঘœ দেখা দিয়েছে।
পরে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ঢেউ প্রতিহত করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার বৈঠকে লোহিত সাগরে চলমান নৌ মিশন সম্প্রসারণ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তা করার বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন জোটের প্রধান কূটনীতিক কাজা কালাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথ পুনরায় চালু করতে বিশ্ব শক্তিগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছেন।
সোমবার লেনদেনে ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম তিন শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার কাজ শুরু হয়। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে প্রথম এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শুরু হয়। ওই সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল। দ্বিতীয় উৎক্ষেপণটি করা হয় ২০০৯ সালের মে মাসে।
২০০৯ সালের পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির আরও চারটি ফ্লাইট পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। ষষ্ঠ পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে আগ্রাসন চালানোর পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরও ব্যাপক আকারে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এর বেশির ভাগই ইরানি।
পেন্টাগন বলেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের ১৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লড়াই চলাকালে পেন্টাগন ওই অঞ্চলে ইউএসএস ত্রিপোলি নামের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন মেরিন সেনাও মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান কর্তৃক কার্যত বন্ধ করে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সহায়তা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে।
রবিবার দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সহায়তা করেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে ইউরোপকেও সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামের তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না আসে বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে, তাহলে আমি মনে করি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য এটি খুবই খারাপ হবে।’
এর আগে বিভিন্ন সময় তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সহায়তার ওপর নির্ভর করে ন্যাটো মিত্ররা সুবিধা ভোগ করছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, চীনের সহায়তা পাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার কারণে তার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেজিংয়ে নির্ধারিত আসন্ন শীর্ষ বৈঠক বিলম্বিত হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘শীর্ষ বৈঠকের আগেই আমরা জানতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, চীনসহ অনেক ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, ‘যারা হরমুজ প্রণালীর সুবিধাভোগী, তাদের সেখানে কোনো খারাপ ঘটনা না ঘটতে দেওয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করা স্বাভাবিক।’
ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে তার সঙ্গে সফররত সাংবাদিকদের আলাদাভাবে জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ‘সাতটি’ দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।
নির্দিষ্টভাবে কী ধরনের সহায়তা তিনি চান এমন প্রশ্নে ট্রাম্প ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তিনি মাইন অপসারণকারী জাহাজ (মাইনসুইপার) চান, পাশাপাশি ‘ইরানি উপকূলের কাছে থাকা কিছু খারাপ শক্তিকে মোকাবিলা করতে পারবে’, এমন লোকজনও প্রয়োজন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সরবরাহ ঝুঁকির কারণে গত দুই সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।
রবিবার লেনদেন শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের মানদ- ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদ- ব্রেন্ট তেলের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ১১ ডলারে ওঠে।

শুরুর অপেক্ষায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামীর খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই ইভেন্টের সার্বিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং জেলা ক্রীড়া অফিসারদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৭টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে সিলেট থেকে এই যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাগুলো প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি। এছাড়া বিকেএসপি  (BKSP)-র মাধ্যমে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা এবং সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও কর্মঠ জাতি গঠনে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে। চলতি বছরের এই আসর আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত ক্রীড়াকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। দল-মত নির্বিশেষে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এই কর্মযজ্ঞ সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি রেফারিদের সরকারি সুুযোগ-সুবিধা ও সম্মানীর লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ, এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে একে ‘এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ বলে বর্ণনা করেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপের কথা তিনি তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন বলেন, আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

স্ট্যাটাসে মাহদী আমিন সরকারের ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।

মাহদী আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ সমূহ হলো-

সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা

১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা। মাত্র ২১ দিনে বাস্তবায়ন, সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের উদাহরণ।

২. ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী: ৪ হাজার ৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।

৩. ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ: নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ। সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা: দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম মাশায়েখদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি

৫. কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ: প্রায় ২৭ হাজার কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা।

৬. দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি: ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু। সেচ উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন

৭. সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময়: প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন। কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

৮. ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস: প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত।

৯. বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত: উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

১০. এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল: শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।

অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা

১১. বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা: রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়।

১২. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ: ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।

১৩. শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ: সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধ। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

১৪. রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু:ু পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

১৫. স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

১৬. পুনভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল: প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারীর পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।

১৭. বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা: রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।

১৮. ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার।

১৯. ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত, নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগ, উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু।

স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ

২০. ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসা কেন্দ্র: স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।

২১. ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান: সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

২২. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

২৩. নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস: সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ।

রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ

২৪. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি, অপচয় রোধে ইফতার সীমিত।

২৫. অবৈধ দোকান উচ্ছেদ: কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।

২৬. শহীদ সেনা দিবস: ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ।

২৭. ঢাকা হয়রত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ।

২৮. বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট: ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার নেতৃত্ব এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করছে। অভূতপূর্ব এ পথযাত্রায় নতুন প্রজন্মও দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে,ইনশাআল্লাহ। তাই তো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ফের উদ্বেগ

বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পদক্ষেপ। বিদেশি পণ্যের ওপর সম্ভাব্য নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার আওতায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের রফতানি খাত-বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সময়োপযোগী কৌশল ও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী বিদেশি দেশগুলোর উৎপাদন কাঠামো, সরকারি নীতি এবং বাণিজ্যিক আচরণ পর্যালোচনার জন্য এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই তদন্তে বাংলাদেশসহ মোট ১৭টি দেশ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাত ও কর্মসংস্থান সুরক্ষাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, বিদেশি বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, সরকারি ভর্তুকি, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন কিংবা বাজার বিকৃতকারী নীতির কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় অসুবিধার মুখে পড়ছে কি না— তা খতিয়ে দেখা হবে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ॥ বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের বড় একটি অংশ এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ফলে, সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপ হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত- বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পÑ চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অযথা উদ্বিগ্নও হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন ও কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানো সম্ভব।

শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ওই রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসা কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও এটিকে বড়ো ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তার মতে, মূলত অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত প্রণোদনা বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ যাচাই করতেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে মেধাস্বত্ব সংক্রামিত কার্যক্রম খুব সীমিত এবং মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্যের বাজারও তুলনামূলকভাবে ছোট। শ্রম অধিকার পরিস্থিতিও গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।’
আদালতের রায়ের পর নতুন কৌশল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন তদন্ত উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের রায়।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেখিয়ে বিদেশি পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়।
রায়ে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে আমদানি শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। শুল্ক নির্ধারণের মূল ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত। এই রায়ের পর বিকল্প আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নতুন শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে শুরু করে মার্কিন প্রশাসন।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ। রপ্তানি বাজার সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ও কৌশলগত বাণিজ্য আলোচনার পরামর্শ তাদের।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন জনকন্ঠকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড়ো বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় কৌশলগত কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উচিত তথ্যভিত্তিক যুক্তি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো যে, বাংলাদেশের উৎপাদন কাঠামো মার্কিন শিল্পের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের গবেষক ড. তৌহিদুল ইসলাম জনকন্ঠকে বলেন, ‘এই পরিস্থিতিকে কেবল ঝুঁকি হিসেবে না দেখে বরং একটি নতুন বাণিজ্য সংলাপের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।’
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের বড়ো একটি অংশ মনে করছেন, এই তদন্তের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের জন্য বড়ো কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।
কারণ বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক নয়। ফলে কূটনৈতিক সংলাপ, তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

র‌্যাবের ডিজি হলেন হাবীব এসবি প্রধান নুরুল আমিন

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ও পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশকে র‌্যাব মহাপরিচালক, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে এসবি প্রধান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে সিআইডির প্রধান এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে এপিবিএন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানা যায়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
মো. আহসান হাবীব পলাশ চট্রগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি পিবিআইতে কাজ করেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন তিনি। আহসান হাবীব পলাশ ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা।
বাগেরহাটের বাসিন্দা অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমিন ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে (এইচআরএম ও ডেভেলপমেন্ট) কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থীর মাঠপর্যায়ে অপারেশন পরিচালনায় দক্ষতা রয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ পুলিশ সদর দপ্তরে লজিস্টিকস্ অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন শাখায় দায়িত্ব পালন
করছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি ও পদায়ন পান। তিনি ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি সে সময় ডিএমপিতে ডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য পুলিশ অফিসার হিসেবে বাহিনীতে তার সুনাম রয়েছে। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় জন্ম মোসলেহ উদ্দিনের।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে এপিবিএন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরেক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. আশরাফুর রহমানকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসবির অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমানকে রাজশাহীর সারদার বিপিএর প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

র‌্যাব ডিজি ও এসবিপ্রধানের বিদায় সংবর্ধনা
বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব মহাপরিচালক (গ্রেড-১) এ কে এম শহিদুর রহমান এবং এসবিপ্রধান (গ্রেড-১) মো. গোলাম রসুল দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেন। তাদের অবসর উপলক্ষে সোমবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন।
সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী কর্মকর্তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তারা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন।
বিদায়ী দুই অতিরিক্ত আইজিপি তাদের বক্তব্যে জনগণের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য সকল সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী কর্মকর্তা অত্যন্ত সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। তারা বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখেছেন। আইজিপি বিদায়ী কর্মকর্তাদের সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ অবসর জীবন এবং সার্বিক সুস্থতা কামনা করেন।
এ কে এম শহিদুর রহমান ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। অপর বিদায়ী অতিথি মো. গোলাম রসুল ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

অগ্নিঝরা মার্চ

১৭ মার্চ, ১৯৭১। ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম/চলবেই দিনরাত অবিরাম’- এ রকম অনেক উদ্দীপনামূলক গান টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে। সে ছিল আশ্চর্য এক জাগরণের কাল। সকল বাঙালির চেতনা স্থির ছিল একটি মাত্র লক্ষ্যবিন্দুতে- যার নাম স্বাধীনতা।
একাত্তরের উত্তাল এই দিনে পাকিস্তানের উর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। খোদ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান করে নিশ্চিত হন এ অংশে কার্যত পাকিস্তানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বঙ্গবন্ধুর অঙুলি হেলনেই চলছে সবকিছু। স্বাধীনতার প্রশ্নে বীর বাঙালির অকুতোভয় সংগ্রাম আর রণপ্রস্তুতিতে পাক প্রেসিডেন্টের বুঝতে বাকি থাকে না পাকিস্তানের অখ-তা আর রক্ষা করা সম্ভব নয়।
তাই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের পথ নেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার। প্রতিটি বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোসহীন। ফলে পাকি সামরিক জান্তারা ভেতরে ভেতরে বাঙালি নিধনযজ্ঞ চালিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ভ-ুল করার জঘন্য পরিকল্পনা আঁটতে থাকে। প্রতিদিনই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুত করা হয় বাংলাদেশে।
একাত্তরের ১৭ মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫২তম জন্মদিন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মিছিল করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে গিয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। সেদিন দুপুরে ধানমন্ডির বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসা স্বাধীনতাকামী বাঙালির উদ্দেশে জন্মদিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কামনা জনগণের সার্বিক মুক্তি।’
একাত্তরের এই দিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মিলিত হন পাকি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে। বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কড়া সামরিক প্রহরায় প্রেসিডেন্ট ভবনে এই বৈঠক হয়। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃতীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠক শেষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু বলেন, আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। তবে আলোচনার পরবর্তী সময়ও ঠিক হয়নি। আলোচনা চলছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এর বেশি আর কিছু আমার বলার নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বঙ্গবন্ধু সরাসরি তাঁর বাসভবনে ফিরে যান। সাংবাদিকরাও বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করে তার বাসভবন গিয়ে পৌঁছেন। বাসভবনে পৌঁছানোর পর দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের অনুরোধে বঙ্গবন্ধু তাদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলোচনায় মিলিত হন।
এ সময় জনৈক বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশের নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে জানতে চান, আজ ৫২তম জন্মদিনে আপনার সবচেয়ে বড় কামনা কী? জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, জনগণের সার্বিক মুক্তি। অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি জন্মদিন পালন করি না। আমার জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালাই না, কেকও কাটি না। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, আমি জনগণেরই একজন। আমার জন্মদিনই কী, আর মৃত্যুদিনই কী! আমার জনগণের জন্যই আমার জীবন ও মৃত্যু। আপনারা জনগণের অবস্থা জানেন। অন্যের খেয়ালে যেকোনো মুহূর্তে তাদের মৃত্যু হতে পারে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বলেন, আলোচনা চলবে।
বৈঠকে তার চারদফা পূর্বশর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাওয়া হলে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছি। আমি যখন আলোচনা করি অবশ্যই আমার দাবির কথাও বলি। আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে কি-না প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে, না নিরর্থক হচ্ছে জানি না। তবে জন্মদিনের শুভেচ্ছার জবাবে বঙ্গবন্ধু যে বাঙালির মুক্তির কথা বলেছিলেন, ঠিকই তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিপাগল বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার লালসূর্য।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীর সম্পদের পরিমাণ কত?

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীর তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিলিয়নিয়ার তালিকা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সুইফটের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার আলোচিত কনসার্ট সিরিজ দ্য ইরাস ট্যুর এবং গানের রয়্যালটি থেকে পাওয়া বিপুল আয়।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সুইফটের গানের স্বত্বের মূল্য বর্তমানে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি তার মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি তার নতুন অ্যালবাম দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল প্রকাশ করেন। অ্যালবামটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৪ মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়ে সংগীত জগতে বড় রেকর্ড গড়ে।

এই সাফল্যের জন্য ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুইফট বলেন, অ্যালবামটির পেছনে সমর্থন দেওয়ার জন্য তার ভক্তদের প্রতি তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।

এদিকে ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন এই পপ তারকা। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি সংরাইটার্স হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন। এতে তিনি এই সম্মান পাওয়া ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নারীতে পরিণত হবেন।

আগামী ১১ জুন নিউইয়র্ক সিটি-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা দেওয়া হবে।