Home Blog Page 144

বাসের ভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১১ পয়সা, আজ থেকে কার্যকর

ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, আজ থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সড়ক মন্ত্রী বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা এবং আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত  কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত রয়েছে বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন বাস ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সভায় পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, পরিবহন খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ ও সামগ্রিক যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

এ অবস্থায় পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল পরিবহন নেতারা।

সংরক্ষিত নারী আসন মনোনয়ন বাছাই শেষ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র জোটের ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ

য়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপি জোটের ৩৬ এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করায় অন্য দুইজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইসি। এর মধ্য দিয়ে দুদিনব্যাপী মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শেষ হলো।

মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মইন উদ্দীন খান। এ সময় সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেষ দিনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই করা হয়। এ সময় এই দুই জোটের ৩৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম ও স্বাক্ষর না থাকায় মোসাম্মৎ মেহেরুন নেছা এবং শাহিনা আক্তার নামে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

বিএনপি বৈধ প্রার্থীরা হলেন- সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

স্বতন্ত্র জোটের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের সাবেক (শ্রাবণ-জুয়েল কমিটির) সহ-সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাছাইয়ে তার মনোনয়নও বৈধ হয়।

এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মোট ৫৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যদিও বিএনপির পরিচয়ে মনোনয়ন দাখিলকারী মাহবুবা রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

বুধবার থেকে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শুরু করে ইসি। প্রথম দিনে বুধবার জামায়াত জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এ সময় এই জোটের ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়। তবে এই জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত রাখে ইসি। তাকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই শেষে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।

কোচ হতে তিন শতাধিক আবেদন

০

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইউরোপ-লাতিন থেকে শুরু করে হাইপ্রোফাইল কোচদের বায়োডাটা অনলাইনে প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে বাফুফেতে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় ফুটবল দল, বয়সভিত্তিক দল এবং গোলরক্ষক কোচের আবেদন জমা পড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের কোচ হতে তিনশর বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে গতকাল সমকালকে নিশ্চিত করেছেন বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন। জাতীয় দলের মতো বয়সভিত্তিক দলের কোচ হতে ১০০ জনের মতো জীবনবৃত্তান্ত এখন বাফুফেতে। গোলরক্ষক কোচ হওয়ার জন্য প্রায় ৫০ জন আবেদন করেছেন।

ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা কিংবা এশিয়া থেকে ঠিক কতজন করে কোচ জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা কোনো ফুটবলার আছেন কিনা এই তালিকায়, সেটাও যাচাই-বাছাই করার আগ পর্যন্ত বলা সম্ভব নয় বলে জানান হিলটন, ‘তিনশর ওপরে প্রোফাইল এসেছে। এখনও কারওটা আমরা দেখিনি। আমরা শুনছি বিভিন্ন ব্যক্তির নাম। যখন আমাদের কাছে এগুলো সাবমিট করা হবে, তখনই দেখতে পারব। দু-এক দিনের মধ্যে আমরা একটি শর্টলিস্ট করে ফেলব।’ দীর্ঘ তালিকা থেকে ছোট করার জন্য আলাদা একটা কমিটি গঠন করেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবেন তিনি। এর আগে অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন মিলে তালিকা ছোট করবেন।

কোচদের আবেদনের তালিকা দীর্ঘ। তবে এর মধ্যে আছে বেশ কয়েকজন নামকরা কোচ। যার মধ্যে অন্যতম জার্মানির বেনার্ড স্টর্ক। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবন ছিল প্রসিদ্ধ। জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে ১৪৬ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০০৬-০৭ মৌসুমে ক্লাবটির সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কোচিং ক্যারিয়ারে সেরা সময়টা তিনি পার করেছেন হাঙ্গেরিতে। ২০১৬ সালে তাঁর অধীনে ৪৪ বছর পর ইউরোতে কোয়ালিফাই করে হাঙ্গেরি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে তাঁর কোচিংয়েই প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোতে খেলেছিল হাঙ্গেরি যুব দল। ফ্রান্সের দিদিয়ের ওলে নিকোল আছেন কোচ হওয়ার আবেদনের তালিকায়। ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে শিরোপা জেতানো ক্রোয়েশিয়ান পিটার সেগার্টও হামজা-শমিতদের কোচ হতে আবেদন করেছেন। আবেদন করেছেন দক্ষিণ সুদান ও কোমোরোস জাতীয় দলের সাবেক হেড কোচ স্টেফানো কুসিন।

৫৮ বছর বয়সী মন্টেনেগ্রোর মিওড্রাগ রাধুলোভিচের সিভি এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। খেলোয়াড়ি জীবনে অতটা সুনাম অর্জন করতে না পারলেও তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার বেশ প্রসিদ্ধ। রাশিয়ান ক্লাব দিনামো মস্কোর সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা রাধুলোভিচ দুই মেয়াদে লেবানন জাতীয় দলের হেড কোচ ছিলেন। ২০২০ সালে মন্টেনেগ্রো জাতীয় দলের কোচের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বার্মিংহাম সিটিতে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জার্মানির অ্যান্তোনে হায়ও আগ্রহ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ হতে। গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, কেনিয়া, মিয়ানমারের মতো জাতীয় দলকে কোচিং করানো অ্যান্তোনের মতো আরেক হাইপ্রোফাইল কোচ ক্রোয়েশিয়ার ইগর স্টিমাচ সিভি পাঠিয়েছেন বাফুফেতে। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৩ ম্যাচ খেলা স্টিমাচের হাত ধরে ভারত জিতেছিল সাফের শিরোপা। আছে ক্রোয়েশিয়ার মতো দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা। উঁচু মানের কোচদের সঙ্গে পুনরায় বাংলাদেশের প্রধান কোচের চেয়ারে বসার আগ্রহ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার। তবে এ স্প্যানিয়ার্ডের বাংলাদেশের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

যেভাবে হাইপ্রোফাইল কোচদের তালিকা জমা পড়েছে বাফুফেতে, উঁচু মানের কোচ নিয়োগের জন্য বাজেটও বাড়বে। আপাতত বাজেটের চিন্তা করছেন না বাফুফের কর্তারা। সংক্ষিপ্ত তালিকা করার পর কাকে নিয়োগ দিলে কেমন খরচ হবে, তখনই বাজেট নিয়ে চিন্তা করা হবে বলে জানান হিলটন। একই সঙ্গে হামজা-শমিতদের আগমনেই কোচ নিয়োগের আবেদনে এত সাড়া পড়েছে বলে মনে করেন বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান, ‘আমার কাছে যেটা মনে হয় হামজা চৌধুরী-শমিত সোম আসার কারণে বাংলাদেশের ফুটবলের একটা হাইপ আসছে। কোচদের আবেদনে সেই হাইপই বড় কারণ। পাশাপাশি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় একটি দল হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আবেদন করেছেন কোচরা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হয়তো আরও ভালো করবে, সেই কারণে তাদের এই আগ্রহটা বেশি।’

দেশে তারকা, বিদেশে আর্থিক কষ্ট- জেসমিনের জীবনের অজানা অধ্যায়

০

পঞ্জাবি ভাষায় পপ গানে জনপ্রিয়তা পেলেও সালমান খানের সিনেমা ‘কিক’ এর ‘ইয়ার না মিলে’ গানের মাধ্যমে পরিচিতি পান সংগীতশিল্পী জেসমিন স্যান্ডলাস। এর মাঝে জীনের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার একাধিক গানে কণ্ঠ দেওয়ার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। এমন অবহে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের গল্প শোনালেন জেসমিন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেসমিন জানান, মাত্র ২৩ বছর বয়সে জীবনের চাপ ও একাকীত্ব থেকে মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন। তার কথায়, ‘যতটা পান করা উচিত ছিল, তার চেয়েও বেশি করেছি।’

ক্যারিয়ারের সাফল্যের মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, বাবার মৃত্যু ও পারিবারিক ভাঙন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। সেই সময় মদ্যপানই যেন তার আশ্রয় হয়ে উঠেছিল—যদিও পরে বুঝতে পারেন, এটি তাকে আরও একা করে দিচ্ছিল।

জেসমিনের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তার পরিবারের সংগ্রাম। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমান তিনি। প্রথমদিকে নিউইয়র্কে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। ছয়জনের পরিবার এক বেডরুমের ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকতেন, রেশন দোকানের খাবারেই চলত সংসার। ইংরেজি ভাষা না জানায় মানিয়ে নেওয়াও ছিল কঠিন।

ভারতে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী হলেও আমেরিকায় গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয় তার বাবাকে। গ্যাস স্টেশনে কাজ করা থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।

জেসমিনের ভাষায়, ‘বাবা নিজের সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য। অন্যদিকে মাও শ্রমজীবী কাজ করে সংসার সামলেছেন। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়াতে যাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি আসে। সেখানে আদালতে দোভাষীর কাজ পান বাবা, আর ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।’

জেসমিন বলেন, ‘জীবনের সেই অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে আসতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন মা। পরিবারের সমর্থনই নতুন করে বাঁচার শক্তি দিয়েছে। আমার সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল নিজের সঙ্গে।’

বর্তমানে তিনি নিজেকে বদলে নতুন জীবন শুরু করেছেন বলে জানান। তার মতে, পরিবার পাশে থাকলে যেকোনো কঠিন সময় পার হওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, ‘‘ধুরন্ধর: দ্য রিজেঞ্জ’’ ছবির‘জাইয়ে সাজানা’, ‘আরি আরি’ ও ‘মে অর তু’ গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়ে আবারও শ্রোতাদের মন জয় করেছেন জেসমিন স্যান্ডলাস। সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার

যে চার কথা সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক দূরত্ব বাড়ায়

সম্পর্ক টেকে বোঝাপড়ায়, যত্নে। নিত্যদিনের চলাফেরায়, যোগাযোগে সঙ্গীর সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক নয়, যা তাকে ছোট করে। এমনটা চলতে থাকলে এক সময় মানসিক দূরত্ব এতটাই বাড়ে, যা ভাঙন ধরায়। অর্থাৎ সম্পর্কের চারাগাছটা আগের মতো তাজা থাকে না।

সঙ্গীর কাছ থেকে কী পাননি, তার চেয়েও বেশি অনুভব করুন কী কী পেয়েছেন। তাকে স্পেশাল অনুভব করান। আর এমন চার বাক্য ভুলেও বলবেন না, যা সঙ্গীর মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‘তোমাকে জীবনসঙ্গী ভেবে ভুল করেছি’ বলা
এই ধরনের কথা সঙ্গীর মনে আঘাত দেয়। সম্পর্ক নিয়ে অনুশোচন হচ্ছে-এই ধরনের কথা ঝগড়ার সময়েও বলা উচিত নয়। ঝগড়া, মান-অভিমান মিটে গেলেও এই ধরনের কথার রেশ থেকে যায়। এতে সম্পর্কের ভিত দুর্বল হয়ে যায় এবং আপনার প্রতি সঙ্গীর বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।

সঙ্গীর আর্থিক অবস্থা নিয়ে খোঁটা দেওয়া
সঙ্গী হয়তো আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়। কিন্তু আপনি যে অর্থ রোজগার করেন, সঙ্গী তা করেন না। কিন্তু সঙ্গীর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কখনোই কথা শোনাবেন না। টাকা-পয়সা নিয়ে অপমান বা ঠাট্টা করলে তা আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। তাছাড়া সঙ্গীর মনে হতে পারে এই সম্পর্কে আপনি খুশি নন। আর দিনের পর দিন এমনটা চলতে থাকলে সম্পর্ক ভাঙতে বাধ্য।

তার পরিবার বা বন্ধুদের অপমান করা
সঙ্গীর পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনদের খারাপ কথা বলা উচিত নয়। সঙ্গীর কাছের মানুষদের অপমান করলে আপনিই সঙ্গীর কাছে ছোট হয়ে যাবেন। এতে আপনাদের দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়বে এবং মনের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হবে।

সঙ্গীর দুর্বলতা নিয়ে মজা করা
প্রত্যেকেরই কিছু কিছু দুর্বলতা রয়েছে। অনেকেই ছোট ছোট বিষয় নিয়েও হীনমন্যতায় ভোগে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে কখনোই হাসিঠাট্টা করা উচিত নয়। এতে সঙ্গী অপমানিত বোধ করেন এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। বরং, সঙ্গীর দুর্বলতা বা হীনমন্যতায় ভোগার কারণ জানলে, সেই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করুন।

তীব্র গরমে এসি ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

তীব্র গরম বেশ ভোগাচ্ছে। সারাদিন পর অর্থাৎ কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও প্রশান্তি মিলে না। মিলবে কি করে? দিনভর কড়া রোদের তাপ ঘরকে উত্তপ্ত করে। যাদের বাসায় এসি আছে তারা খানিকটা স্বস্তি পেলেও, এসি ছাড়া ঘরগুলোতে থাকাটা বেশ কষ্টসাধ্য। বাসায় এসি না থাকলেও, প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখার কিছু কৌশল জেনে রাখুন।

প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

পর্দা ও জানালার সঠিক ব্যবহার: আপনার বাসা যদি দক্ষিণ দিকে হয়, তাহলে দিনভর জানালা খুলে রাখতে পারেন। ফ্যানের বাতাসের চেয়ে প্রাকৃতিক  বাতাস আপনাকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে। যদি জানালায় সরাসরি রোদ পড়ে তাহলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত না খোলাই ভালো। জানালায় ঘন কাজের হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করে রোদ আটকান। চাইলে বাঁশের চিকও ব্যবহার করতে পারেন। রাতে বা ভোরে বাইরের বাতাস ঠান্ডা থাকলে জানালা খুলে দিন।

ফ্যানের ব্যবহার: সিলিং ফ্যানের সামনে বরফের বাটি বা ভেজা কাপড় রাখলে বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়। এই হ্যাক অনেকটা কাজে আসতে পারে। এছাড়া জানালার সামনে ভেজা চাদর ঝুলিয়ে দিলে বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘরে ঢোকে।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও গাছ: ঘরের ভেতর ইনডোর প্ল্যান্ট (যেমন- স্নেক প্ল্যান্ট, মানি প্ল্যান্ট) রাখুন। এগুলো তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
তাপ উৎপাদন কমান: দিনের বেলায় রান্না, ইস্ত্রি বা বেশি ইলেকট্রিক বাল্ব চালানো এড়িয়ে চলুন। এগুলো তাপ বাড়ায়।

হালকা আসবাব ও সুতির ব্যবহার: ভারী কার্পেট বা পর্দা সরিয়ে বিছানায় হালকা রঙের  সুতি চাদর ব্যবহার করুন।

শরীর ঠান্ডা রাখুন: শরীর ঠান্ডা রাখতে দিনে দুইবার গোসল করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।

রাতে ঘর ঠান্ডা করে রাখুন: রাতে ঘরের জানালা খুলে দিন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঢুকবে। সকালে রোদ ওঠার আগে জানালা বন্ধ করে দিলে সেই ঠান্ডা কিছুটা ধরে রাখা যায়।

হরমুজ ‘অবরুদ্ধ’ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, খুলতে চাইছে ইরান: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায় যেন দিনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করা সম্ভব হয়।

প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ইরান প্রতিদিন এই বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও দাবি তার।

মঙ্গলবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন। আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।

নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছি বলেই তারা লোকদেখানোভাবে এটি বন্ধ করার কথা বলছে। তারা আসলে স্রেফ নিজেদের মুখ রক্ষা করতে চাইছে।

ট্রাম্পের দাবি, মাত্র চার দিন আগে কয়েকজন্য ব্যক্তি তার কাছে এসে জানান, ইরান এখনই এই প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে।

ইরান প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তবে আমরা যদি সেটা করি, তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সব পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে, যদি না আমরা তাদের নেতাদেরসহ পুরো দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিই।

এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সমালোচনামূলক নিবন্ধের কড়া জবাব দিতে গিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে  একগুচ্ছ নতুন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তাকে ‘বোকা’ বানানোর ইরানি কৌশলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প জানান, গত ৪৭ বছরে যা হয়নি, তিনি তা করে দেখিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তেহরান প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুযোগ নিয়ে এসেছে, কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই।

তিনি বলেন, আমি তাদের কী দিয়েছি? একটি বিধ্বস্ত দেশ!

এরপর ট্রাম্প তার সাফল্যের এক দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে দাবি করেন, ইরানের পুরো নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে, তাদের বিমান বাহিনী শেষ হয়ে গেছে, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও রাডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক গবেষণাগার ও গুদামগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন; ইরানি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে। তবে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শক্তিশালী হলে শিবির সন্ত্রাসের বীজ বপন করে: নাছির

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেছেন, ছাত্রশিবির যেখানে তূলনামূলক শক্তিশালী, সেখানে তারা কেমন সন্ত্রাসের বীজ বপন করে, তা আমরা আজ দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা এমন কাজের সাহস করত না। এ পর্যন্ত তারা যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, তার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ চট্টগ্রামে। কারণ সেখানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান তূলনামূলক ভালো।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি দেয়ালে গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। পরে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার দুপক্ষের মধ্যে দুইদফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

নাছির বলেন, দেয়ালে যদি ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে কোনো বাক্য লিখেও থাকে, তারা পাল্টা আরেকটি দেয়ালে লিখতে পারত। কিন্তু তারা ছাত্রদলের অসংখ্য কর্মীদের উপর হামলা করেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রশিবির যেখানে তূলনামূলক শক্তিশালী, সেখানে তারা কেমন সন্ত্রাসের বীজ বপন করে, তা আমরা আজ দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা এমন কাজের সাহস করত না। এ পর্যন্ত তারা যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, তার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ চট্টগ্রামে। কারণ সেখানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান তূলনামূলক ভালো। যদি ছাত্রদলের আরেকটি নেতাকর্মীর উপরও হামলা করা হয়, ছাত্রশিবিরের নেতাদের ক্যাম্পাসের স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হবে না।

নাছির বলেন, বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতিতে  একটি জিনিস আপনারা লক্ষ্য করেছেন। কোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে চায়। ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ডাকসুর ভিপি, জিএস, মোসাদ্দেক এবং এবি জুবায়ের-আপনাদের ব্যবহৃত ফোন কোন দেশ থেকে আসা-যেখানে গুপ্ত রাজনীতি ও মুনাফেকের রাজনীতি দেখা যায় না। আমাদের নেতাকর্মীরা তো ফোন খুললেই এসব দেখতে পান।

বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা সহিষ্ণুতা পরিচয় দিয়েছি। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল ছাত্র, পরে জানা গেছে তারা গুপ্ত রাজনীতির সাথে যুক্ত, তারা একের পর এক মব কালচারকে উসকে দিয়ে বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলে গেস্টরুম-গণরুমের মতো নিকৃষ্ট কালচারে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি তার নামে মামলা করব।

মিছিলে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাছুম বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম ভূঁইয়া ইমনসহ একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ঢাকা কলেজের নেতৃবৃন্দ, কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বায়াররা, যাচ্ছে ভারতে: বিসিআই সভাপতি

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি শূন্য হবে বাংলাদেশ- এমন আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে অনেক বিদেশি ক্রেতা। বাংলাদেশ ছেড়ে এসব ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ সংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে জুলাই-আগস্টের সম্ভাব্য অনেক ক্রয়াদেশ থমকে গেছে। একইসঙ্গে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান কর কাঠামো বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন ইন্ডিয়া বা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। আগামী জুলাই এবং আগস্ট মাসের জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসার কথা ছিল, তা অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা ইতিমধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের টপ ম্যানেজমেন্ট বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছে।

ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যেও বর্তমান কর ব্যবস্থাকে অবাস্তব বলে অভিহিত করেন বিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, লাভ হোক বা লস, এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য এটা অনেক বড় অংক। তিনি প্রস্তাব করেন, ছোট উদ্যোক্তাদের যদি করের স্ল্যাবে নিয়ে আসা যায়, তবে তারা রক্ষা পাবে। কারণ অনেক সময় মুনাফা না থাকলেও তাদের কর দিতে হয়, যা তাদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলছে।

এ সময় তিনি রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর অনুরোধ জানান। তবে উৎস কর কমানোর আবদার নাকচ করে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী, কর কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবারিত ক্ষমতার বিষয়েও কথা বলেন আনোয়ার-উল আলম। তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে।

সভায় অংশ নিয়ে কোম্পানি ব্যাংক আমানতের মুনাফার ক্ষেত্রে উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ, সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানায় ঢাকা চেম্বার। করের বোঝা না চাপিয়ে ব্যবসা সহায়ক কর কাঠামোর তৈরির দাবিও জানায় ডিসিসিআই।