Home Blog Page 146

সংসদ অধিবেশন বিল পাস, নিষিদ্ধ থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে হুবহু বিল আকারে পাস হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটি সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তিযোগ্য বিধান যুক্ত করতে সুপারিশ করেছিল। তবে সংসদে উত্থাপিত বিলে তা করা হয়নি।

পাস হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’টি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর আইনে পরিণত হবে। ফলে সরকার নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

বিলটি পাস হওয়ার পর নতুন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগ এই বিল পাসের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘বিলের কপি মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এটি পুরো পড়তে পারিনি। স্পর্শকাতর বিলটি পাসের আগে একটু সময় দেওয়া হোক।’

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিল উত্থাপনের পর্যায়ে আপত্তির সুযোগ নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল, মূলত তার সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনে বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনও স্থগিত হয়ে আছে। এ আইনে পরবর্তী সময়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সেই অধ্যাদেশের বিলও পাস হয়েছে।

গতকাল দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আওয়ামী লীগ বলেছে, অধ্যাদেশটি পাসের মাধ্যমে মহান সংসদ কলঙ্কিত হয়েছে। কারণ সংসদ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিল পাস করেছে। একে ন্যক্কারজনক ঘটনা অভিহিত করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

শাস্তির বিধান ছাড়াই পাস
বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরিবর্তন ছাড়াই পাসের সুপারিশ করে। আর ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পাসের সুপারিশ করেছিল। সংশোধনের তালিকার ৪ নম্বরে ছিল ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। তবে সরকারি দল এ অধ্যাদেশ সংশোধন ছাড়া পাসের জন্য গতকাল সংসদে উত্থাপন করে।

এ অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে। তবে সংশোধন ছাড়াই পাস করায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৯টি অধ্যাদেশকে হুবহু পাস করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো দল ও সংগঠনকে সন্ত্রাসী সত্তা হিসেবে গণ্য করে নিষিদ্ধের ক্ষমতা দেওয়া হয় সরকারকে। এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।

১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না; দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে; ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে; পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না; সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না; গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না। তবে এসব কার্যক্রম করলে কী শাস্তি হবে– বলা হয়নি এ অধ্যাদেশে।

জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা বাতিল
গতকাল সংসদে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাতিল অধ্যাদেশও পরিবর্তন ছাড়া কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ এ বিলে সমর্থন জানায়।

এ ছাড়া আরও ১০টি বিল পাস হয়েছে গতকাল। এগুলো হলো– সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, স্থানিক পরিকল্পনা বিল, পরিত্যক্ত বাড়ি সম্পূরক বিধানাবলি (সংশোধন) বিল, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) বিল, কোড অব সিভিল প্রসিডিওর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল এবং শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) বিল সংসদে পাস হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে (১৩ মার্চ) সংসদে উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকারিতা হারাবে।

সংসদে সড়কমন্ত্রী এসি বাসের ভাড়া তালিকা তৈরি করা হবে শিগগিরই

এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা শিগগিরই তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা তৈরি করা হবে। সেটি গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকার দলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাব সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলরত গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে সড়কে যত্রতত্র থামিয়ে ওঠানামা করা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া কোনো গণপরিবহন সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রেকর্ড সংরক্ষণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্রয় কার্যক্রমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ৮১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে ক্রয় কার্যক্রমে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন ও বিধির আলোকে কোনো ব্যক্তি বা ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারী পেশাগত অসদাচরণে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা চলমান প্রক্রিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়ে অসন্তুষ্ট পরিবারের সদস্যরা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
এছাড়া আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হান ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

তিনি জানান, এই রায়ে কাউকে মৃত্যুদণ্ড আবার কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেককে লঘুদণ্ড দেওয়ায় তারা রায় বিবেচনা করার মতামত দিয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি রংপুরে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম না। যার কারণে শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠী, ঘটনার সাক্ষী কিংবা যারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছে তাদের সন্তুষ্টি মানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি। আবার শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সন্তুষ্টি মানেও এই বিশ্ববিদ্যালয় তথা আমার সন্তুষ্টি।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় এই মামলায় গ্রেপ্তার ৬ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী সীমান্তের বিপরীতে ভারতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল গফুরের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও বিজিবি জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৪-এর ৫ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের গরু পারাপারকারীদের সহায়তায় বাংলাদেশি ৭ থেকে ৮ জনের গরু পারাপারকারীরা ভারতের প্রায় দুই শ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতীয় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় দেশের চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে আলী হোসেন নিহত হন। নিহতের লাশ বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

গুলির ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)- এর ধবলগুড়ি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে যায় ও পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানায়। বুধবার সকাল ১১টায় ওই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৫-এর ১ নম্বর উপপিলারের নিকট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে ২০ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্য নিয়ে অংশ নেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম।

বিজিবি জানায়, স্পট সভায় বিএসএফকে সীমান্তে গুলি করে এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ জানায়, চোরাচালানীর সাথে জড়িতরা ভারতের ভেতরে ঢুকে বিএসএফকে আঘাত করে। বিএসএফ আত্মরক্ষার্থে গুলি করে। এতে এ অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট। বর্তমানে নিহতের লাশ মাথাভাঙা থানা পুলিশের নিকট দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ভাই বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। রাতে সীমান্তে গিয়েছিল এটা মানুষের কাছে শুনেছি। সেখানে ঠিক কী হয়েছে, জানি না।’

৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাঁরা (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ ফেরত আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ‘রাতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটে। শুনেছি আলী হোসেন নামে আমার ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি গুলিতে মারা গেছেন।’

গরমে ক্লান্তি দূর করতে খেতে পারেন যেসব মিল্ক শেক

গরমে শরীর ঠান্ডা করতে অনেকেই কোমল পানীয় খান। এটা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। এর চেয়ে খাবারের তালিকায় রাখুন পুষ্টিকর মিল্কশেক। তবে যদি বেশি করে চিনি, মিল্কমেড দিয়ে মিল্কশেক বানানো হয় তাহলে তা উপকারী হবে না। এমন মিল্কশেক খেলে ক্যালোরি আরও বাড়ার ঝুঁকি থাকে। শরীরে সুস্থ রাখতে মিল্কশেক বানাতে হবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে।

গরমের দুপুরে বা বিকেলে চায়ের বদলে এক গ্লাস ঠান্ডা মিল্কশেক শরীরের ক্লান্তি দূর করে দেবে। পুষ্টিকর মিল্ক শেক বানানোর কয়েকটি রেসিপি জেনে নিন।

ওট্‌স-আপেল এনার্জি শেক

১টি আপেল (খোসা ছাড়ানো), ২ চামচ ওট্‌স, ১ কাপ দুধ, ৩-৪টি খেজুর নিন। প্রথম শুকনো খোলায় ওট্‌স হালকা ভেজে নিয়ে মিনিট পনেরো দুধে ভিজিয়ে রাখুন। এর পর আপেলের টুকরো ও খেজুরের সঙ্গে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে কাঠবাদাম মেশাতে পারেন। উপর থেকে সামান্য কাঠবাদাম ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।  এই শেকে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরিয়ে রাকে। সেই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

ঠান্ডা ডাব-মালাই শেক

১টি ডাবের কচি শাঁস (মালাই), আধ কাপ ডাবের পানি, ১ কাপ ঘন দুধ, সামান্য এলাচ গুঁড়ো নিয়ে নিন। ডাবের শাঁস, পানি ও দুধ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে তাতে সামান্য এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। পরিবেশনের আগে আরও খানিকটা শাঁস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে উপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট শরীরে পানি ও খনিজ লবণের ঘাটতি মেটায়। সেই সঙ্গে পানিশূন্যতা রোধ করে।

চকোলেট পিনাট বাটার মিল্ক শেক

এক কাপ ডার্ক চকোলেট, এক কাপ ঘন দুধ, তিন চামচ পিনাট বাটার নিয়ে নিন। সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। চাইলে এতে সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স মেশাতে পারেন। এর পর ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে উপরে খানিকটা ডার্ক চকোলেটের টুকরো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। এই পানীয় শরীরে প্রোটিন শেকের মতো কাজ করবে। একই সঙ্গে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ও ফাইবারের চাহিদা পূরণ করবে।

খেজুর-বাদামের শেক

শরীরে শক্তির জোগান দেয় আয়রন ও ক্যালশিয়ামে ভরপুর খেজুর-বাদামের শেক। এটি খেলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। এই মিল্ক শেক বানাতে প্রয়োজন  ৫-৬টি খেজুর (বীজ ছাড়া), ১০টি কাঠবাদাম (সারা রাত ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো), ১ কাপ দুধ এবং সামান্য জাফরান। খেজুর ও বাদাম অল্প দুধে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এর পর সব উপকরণ ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে ঢেলে উপরে সামান্য জাফরান ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

পেঁপে ও মধুর স্মুদি

পেশির জোর, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেঁপে ও মধুর স্মুদি খুবই ইপকারী। এই স্মুদি বানাতে প্রয়োজন ১টি পাকা পেঁপে, ১ কাপ ঠান্ডা দুধ, ১ চামচ মধু ও এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়ো। পেঁপে ও দুধ ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢালুন। উপরে মধু ও গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এই স্মুদি খেলে পেটের সমস্যাও কমবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক সম্পুরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হওয়ায় এখানে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারিকরণের বিষয়টি বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

‘ধুরন্ধর’ নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন দীপিকা, দিলেন কড়া জবাব

বক্স অফিসে ঝড় তোলা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’–এর সাফল্যের মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও রণবীর সিংয়ের স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। স্বামীর এই হিট সিনেমা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় তাকে ঘিরে তৈরি হয় ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’-এর বিতর্ক। সেই সমালোচনারই জবাব দিয়েছেন দীপিকা।

একটি পোস্টে দাবি করা হয়, সিনেমার সাফল্যের সময়েও তিনি নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকেছেন। এর জবাবে দীপিকা লেখেন, ‘আমি তো অনেক আগেই ছবিটা দেখে ফেলেছি—তোমাদের সবার আগেই। এখন বলো, আসলে কে হাসির পাত্র?’

তার এমন মন্তব্যের পর সিনেমা বোদ্ধারা বলছেন, দীপিকার এই সংক্ষিপ্ত-তীক্ষ্ণ মন্তব্যেই কার্যত সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।

এর আগে, ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম পর্ব মুক্তির সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন দীপিকা। তবে এবার তিনি প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ব্যক্তিগতভাবে স্বামীকে সমর্থন করছেন বলেই ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। সিনেমা মুক্তির পর একাধিকবার দু’জনকে একসঙ্গে সময় কাটাতেও দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, রণবীর সিং অভিনীত এই স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার ইতোমধ্যেই হাজার কোটির ক্লাবে ঢুকে রেকর্ড ভাঙার পথে। আর সেই সাফল্যের মাঝেই ব্যক্তিগত জীবন ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখতে হয়—তারই এক ঝলক দেখালেন দীপিকা।

আজকের খেলা ইয়ামাল না গ্রিজম্যান

ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে লড়াইয়ের স্মৃতি এখনও তরতাজা। ৫ এপ্রিল লা লিগার ঘটনাবহুল ম্যাচে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ১-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। তিন দিন পর আজ আবার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের দুই জায়ান্ট।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এবার লড়াই বার্সার আঙিনা ন্যু ক্যাম্পে। দুর্দান্ত ফর্মে আছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে আজ তারাই পরিষ্কার ফেভারিট।

অ্যাতলেটিকোর মাঠে জয়ের পর উদযাপন করেননি বার্সার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল। গতকাল এ প্রসঙ্গ উঠলে ইয়ামালের পাশে দাঁড়ান ফ্লিক, ‘সে অবিশ্বাস্য প্রতিভা। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে তাঁর বয়স মাত্র ১৮। সে পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে প্রায় গোল করে ফেলেছিল। এতে সে হতাশ হয়েছিল। সে আবেগপ্রবণ এবং এটা ভালো ব্যাপার। আমি সবসময় তাঁর পাশে থাকব।’

অ্যাতলেটিকোর জন্য এ ম্যাচটি প্রতিশোধের মিশনের পাশাপাশি ন্যু ক্যাম্প থেকে এন্টিনিও গ্রিজম্যানের বিদায়ী ম্যাচও।  চলতি মৌসুম শেষে স্পেন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবে পাড়ি জমাচ্ছেন তিনি।

ইরান যুদ্ধ স্থগিতের খবরে শেয়ারবাজারে উত্থান

ইরান যুদ্ধ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও।

আজ বুধবার লেনদেন শুরুর পরপরই ঢাকার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই ফিরে এসেছে শক্তিশালী গতি। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বেলা ১১টায় লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টা পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনযোগ্য ৩৫৫টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ৩৪৫টির দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

প্রায় সব শেয়ারের দরবৃদ্ধির প্রভাবে এ সময় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৫২৯১ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর আগেই যুদ্ধ স্থগিতের খবরের প্রভাব ছিল একেবারে লেনদেন শুরুর প্রথম মুহূর্তেই। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৯ ছাড়িয়েছিল। এর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সূচক আরও ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্ট অতিক্রম করে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি উত্থান ঘটে।

লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় যেখানে ১৬১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, আজ একই সময়ে লেনদেন বেড়ে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ অবসান চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আপাতত স্থগিত হওয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কমেছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরানের সম্মতি আসায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরেছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল নেমেছে ৯৫ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৭ ডলার কম।

এশিয়ার অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি সূচক ৫ শতাংশ হংকংয়ের সূচক পৌনে ৩ শতাংশ, ভারতের শেয়ারবাজার সূচক এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে।

সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক জামায়াত জোটের

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনে নামছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এদিন শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ। আগামী শনিবার দেশের সব মহানগরে এবং পরের দিন সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নাগরিক সমাজকে নিয়ে হবে জাতীয় সেমিনার।

গতকাল মঙ্গলবার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, বিএনপি গণভোটের ফল প্রত্যাখান করে জুলাই সনদের সঙ্গে ছলচাতুরী করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী প্রমুখ।

মামুনুল হক বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন।  নির্বাচিত সরকার গণভোটের রায় কার্যকরে ছলচাতুরী আশ্রয় নিচ্ছে। মানুষের ম্যান্ডেটকে শুধু উপেক্ষা নয়, উপহাস করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে অপমানজনক বক্তব্য দিচ্ছে। অথচ প্রত্যাশ্যা ছিল, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে অন্তত সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য থাকবে।

গুম প্রতিরোধ, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতাসহ মানবাধিকার কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে পৃথক সুপ্রিম কোট সচিবালয়, দুদক অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর না করায় হতাশা প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, আবার ভিন্নরূপে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চাই সরকার। ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন আমরা আবার যে কোনো মূল্যে রুখে দেব।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি করে মামুনুল হক বলেছেন, সরকার গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের স্বাক্ষরকারী বিএনপি জাতিকে বিস্মিত করে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ার পর  সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করছে না। তারা এখন নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছে। কিন্তু গণভোটে চার কোটি ৮২ লাখ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে তাদের নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। সংবিধান মানলে জনগণের এই অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার বলেছেন,  একজন ব্যক্তিই শুধু সংবিধান সম্পর্কে তাঁর ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। দেশে আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে খণ্ডন করেছেন। গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, যে সংকট সংসদে সমাধান করা সম্ভব, সরকার তা রাজপথে ঠেলে দিতে চাইলে বিরোধী দলের আর পথ থাকবে না। রাজপথের আন্দোলন দমনের হুমকি, আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী ভাষা।