Home Blog

জয়পুরহাট ও ফুলবাড়ী হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে চাষি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের মকবুল হোসেন গত মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সে সময় বিক্রি না করে সব আলু রেখেছিলেন হিমাগারে। কিন্তু এখন লাভ তো হচ্ছেই না, উল্টো লোকসানের কারণে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

গত সোমবার সকালে এম ইসরাত হিমাগার গেটে কথা হয় মকবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘বেশি দামে বিক্রির আশায় সব আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিক্রি করলেই বস্তাপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণ শোধ করা দূরের কথা, দিন দিন দেনার বোঝা বেড়েই চলেছে। কী করব, কূলকিনারা পাচ্ছি না।’

বেশি দামের আশায় পুনট হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন সড়াইল গ্রামের কৃষক মোকলেছুর রহমান। আলু বিক্রি করতে এসে হিমাগারের ভাড়ার কথা ভেবে তিনি বিক্রি না করে ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, তখন আলু বিক্রি করলে আজ হিমাগারের ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না।

শুধু মকবুল হোসেন কিংবা মোকলেছুর রহমানই নন; তাদের মতো জেলার অনেক চাষি হিমাগারে আলু রেখে বিপাকে পড়েছেন। তাদের সঙ্গে বিপদে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরাও। দাম কম হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন না করায় খরচ বেড়েছে হিমাগার মালিকদের। লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি হিমাগারে এবার ২ লাখ ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। দাম কম হওয়ায় এখনও সিংহভাগ আলু হিমাগারেই রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত আলু বাজারে বের করতে হলে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এতে আলুর দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন মৌসুমে আগাম আলু রোপণ শুরু হয়েছে। এই আলু বাজারে এলে পুরোনো আলুর দাম আরও কমে যাওয়ার ভয়ে আছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আলু ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আলুর যে দাম, তাতে বস্তাপ্রতি গড়ে ৪০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণের বোঝাও বেড়ে গেছে। সিসি ঋণ এবার নবায়নই করতে পারিনি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে। সরকার দ্রুত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিলে বাজারদর কিছুটা বাড়তে পারে। তাতে লাভ না হলেও অন্তত মূলধন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার বলেন, গত মৌসুমে জেলায় ব্যাপক আলু উৎপাদন হয়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে বিপাকে আছেন। চাহিদা কম থাকায় বাজারে আলুর দাম কম। ফলে হিমাগারে মজুত রাখা আলু উত্তোলন করছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন, পরিবহন, হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজি ওজনের বস্তায় গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলার বারাইপাড়া গ্রামের মকছেগ আলী, আমড়া গ্রামের রশিদ মণ্ডল ও খড়মপুর গ্রামের আবদুল মালেকসহ কয়েকজন চাষি জানান, আলুর বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করলে বস্তাপ্রতি গড়ে ৪৫০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ টন।

এদিকে, আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে এসব খরচ মেটান চাষিরা। কিন্তু এ বছর দাম কম থাকায় আলু বিক্রি করতে না পারায় একদিকে হিমাগারে মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের অর্থ জোগাড়েও সংকট দেখা দিয়েছে।

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। ফুলবাড়ী পৌরবাজারের ব্যবসায়ী বিধান দত্ত ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ট্রাকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কেনাবেচা করছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষক যাতে যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

পরিবার ঘরজুড়ে এখন পাঁচ শিশুর কোলাহল

দশ বছর ধরে অপেক্ষা। কত প্রার্থনা, কত আকাঙ্ক্ষা! সন্তানের মুখ দেখার স্বপ্ন নিয়ে দিনের পর দিন কেটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকার এনি আক্তার ও ওয়াহিদুল ইসলামের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের মুখ দেখেন।

দুটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। নাম ফাহাদ, হাদী, জান্নাত, সুমি ও আরিশফা। এখন এই দম্পতির ঘরজুড়ে পাঁচ শিশুর কোলাহল। ওরা মাতিয়ে রাখছে পুরো পরিবার। সবচেয়ে খুশির খবর, জন্মের ৯ মাস পর ওরা পাঁচ ভাইবোন সুস্থ আছে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশও ঘটছে ঠিকমতো।

১০ বছরের অপেক্ষা
বিয়ের পর সন্তান চেয়েছিলেন এনি ও ওয়াহিদুল। কিন্তু এক বছর, দুই বছর করে কেটে যায় সময়। একসময় সেই অপেক্ষা গড়ায় এক দশকে। সন্তানের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও পূরণ হচ্ছিল না তাদের স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফরিদা ইয়াসমিন সুমির পরামর্শে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি আইইউআই বা ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই কৃত্রিম পদ্ধতিতে স্বামীর ভালো মানের শুক্রাণু সরাসরি এনির জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়।

এনি-ওয়াহিদুলের ক্ষেত্রে প্রথম চেষ্টাতেই আসে সাফল্য। এনি অন্তঃসত্ত্বা হন। তবে কিছুদিন পরই জানতে পারেন, তাঁর গর্ভে একটি নয়, পাঁচটি সন্তান বেড়ে উঠছে। এমন খবর আনন্দের হলেও এর সঙ্গে ছিল শঙ্কা। কারণ, একসঙ্গে এতগুলো শিশু গর্ভে থাকলে গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পাঁচটি ছোট্ট প্রাণ
নির্ধারিত সময়ের আগেই গত বছরের ৮ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। দুজনের ওজন ছিল মাত্র এক কেজি। অন্য তিনজনের ওজনও দেড় কেজির কাছাকাছি। পাঁচ নবজাতককে নেওয়া হয় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ)।

চিকিৎসক ফরিদা ইয়াসমিন সুমি বলেন, একই সঙ্গে পাঁচ নবজাতকের অস্ত্রোপচার করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাদের প্রত্যেকের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘মায়ের গর্ভে একসঙ্গে পাঁচ শিশু থাকায় অস্ত্রোপচার করতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া এটি ছিল ওই দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পর প্রথম প্রসব। সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি তখন খুবই জটিল ছিল।’

চিকিৎসক সুমি বলেন, জন্মের পরপরই শিশুদের এনআইসিইউতে নিতে হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর পাঁচ শিশুকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যান তাদের মা।

ঝুঁকি ছিল অনেক
চিকিৎসক ফরিদা ইয়াসমিন সুমি আরও বলেন, একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে অপরিণত জন্ম ও কম ওজন বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব শিশুর ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি পরিণত না-ও হতে পারে। তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও তুলনামূলক দুর্বল থাকে। সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, এত কম ওজন নিয়ে জন্মের পর পাঁচ শিশুই পুরোপুরি সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। এটি সত্যিই আনন্দের ব্যাপার।

ঘরজুড়ে শুধু আনন্দ
এনি ও ওয়াহিদুল এখন সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত। ঘুমের সময় কমেছে। তবে আনন্দ বেড়েছে।

এনি বলেন, ‘আমি চাইতাম আমার একটা সন্তান হবে। ও আমাকে মা বলে ডাকবে। আল্লাহর কাছে সন্তান চেয়ে কত কান্নাকাটি করেছি! বিয়ের ১০ বছর পর আমার কোলজুড়ে এলো পাঁচ সন্তান। ওরা এখন মা মা মা, বাবা বাবা বলে ডাকে। এই ডাক শুনে কী যে ভালো লাগে!’

ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রার্থনা করি, যেন আমাদের এই পাঁচ সন্তান সুস্থ থাকে। একসঙ্গে হেসে-খেলে বেড়ে ওঠে।’

রুনা লায়লাকে নিয়ে গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুনা লায়লা’—এমন খবর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন।

বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রুনা লায়লার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে ভুয়া খবর ও এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান।

তানি লেখেন, সামান্য কিছু অর্থ উপার্জনের লোভে এ ধরনের পোস্ট, এআই দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়টি দেখে তিনি ‘সত্যিই বিরক্ত ও অতিষ্ঠ’ হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কনটেন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা শুরু করব—একটা একটা করে, যতক্ষণ না এই সব মাথামোটা লোক তাদের এই বাজে কাজ বন্ধ করে।’

মায়ের দীর্ঘ সংগীতজীবনের কথাও স্মরণ করেন তানি। তিনি বলেন, ‘আমার মা তাঁর জীবনের ছয়টি দশক সঙ্গীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। অথচ মানুষ এখনো তাঁকে এভাবেই অসম্মান করে চলেছে—কী চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় আমাদের জন্য!’

রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন জানিয়ে তানি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন; কেউ মারা যাননি বা মৃত্যুর মুখেও নেই—এসবই এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ভিডিও ও ছবি।’

এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তানি আরও বলেন, ‘আর সহ্য করা যাচ্ছে না… যারা রুনা লায়লাকে অনুসরণ করেন, দয়া করে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।’

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর এমন ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে এআইনির্ভর ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এতে অনেক সময় তারকা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও সংগীতের অনুষ্ঠানে সক্রিয় ছিলেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত দুটি কনসার্টে গান পরিবেশন করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও সংগীত পরিবেশন করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

সন্তানদের তারকাখ্যাতির সঙ্গে কেন পরিচয় করাতে চান না প্রীতি

আট বছর পর বলিউডে ফিরেছেন অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। তবে দীর্ঘ এই বিরতিতে সিনেমাকে মোটেও মিস করেননি বরং এই সময়টাকে পরিবার, সন্তান এবং মাতৃত্ব উপভোগ করার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, ১৮ বছর বয়স থেকে টানা কাজ করার পর জীবনে প্রথমবার বড় একটি বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। আর সেই বিরতিই তাকে জীবনের অন্য একটি অধ্যায় আবিষ্কারের সুযোগ দিয়েছে।

‘ভাইব’ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রীতি বলেন, ‘সিনেমাকে মিস করেছেন—এমনটা বললে মিথ্যা বলা হবে। ১৮ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করার পর দীর্ঘদিন টানা কাজ করেছেন তিনি। তাই এবার পরিবার ও সন্তানকে সময় দেওয়াই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় জীবন অনেকটা ধীর গতির মনে হয়েছে প্রীতির। তবে এই জীবনে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মা হিসেবে। প্রীতি ও তার স্বামী জিন গুডএনাফের যমজ সন্তান জিয়া ও জয়ের বয়স এখন চার বছর। সন্তানদেরও এখন তারকাখ্যাতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চান না অভিনেত্রী।

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

প্রীতি বলেন, ‘সন্তানদের যতটা সম্ভব সাধারণ পরিবেশে বড় করতে চাই। তাদের শৈশব যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না আসে, সেটি ইচ্ছা। মা হওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি। এর জন্য অনেক ধৈর্য ও সময় প্রয়োজন, যা এখনও শিখছি।’

দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। উপযুক্ত চরিত্র ও গল্প সামনে আসার পরই কাজে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরপর দুটি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে তাকে। ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর পর এবার কুনাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’-এ অভিনয় করেছেন প্রীতি। সিনেমাটিতে প্রথমবারের মতো তাকে অ্যাকশন ও কমেডির ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে।

‘ভাইব’-এ অভিনয়ের প্রসঙ্গে প্রীতি জানান, অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছা তার অনেক দিনের। কুনাল এমন একটি চরিত্রের কথা ভেবেছেন এবং তাকে সুযোগ দিয়েছেন—এ জন্য পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। তবে চরিত্রটি তার জন্য একেবারেই নতুন হওয়ায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখতে হয়েছে।

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

এদিকে গত কয়েক বছরে হিন্দি সিনেমার দর্শক ও ব্যবসার ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন প্রীতি। ওটিটির বিস্তার, দর্শকের বদলে যাওয়া অভ্যাস এবং প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অনীহা—সব মিলিয়ে এখন চলচ্চিত্র ব্যবসা আগের চেয়ে কঠিন।

তবে এত পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিষয় আগের মতোই আছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী—ভালো গল্পের সিনেমা দর্শক গ্রহণ করবেনই। তার ভাষায়, পঞ্চাশের দশক থেকে এখন পর্যন্ত ভালো চিত্রনাট্যের গুরুত্ব কখনো কমেনি। পরিবর্তন এসেছে সিনেমা দেখার মাধ্যম ও দর্শকের অভ্যাসে।

প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার প্রবণতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রীতি বলেন, ‘মানুষ সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে না গেলে নতুন সিনেমা তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে সিনেমা নির্মাণে খরচ, দীর্ঘ শুটিং সময় ও চাপ—সবই বেড়েছে। তাই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার প্রতি আগ্রহী হওয়া জরুরি।’

কুনাল খেমু পরিচালিত ও অভিনীত ‘ভাইব’ সিনেমায় প্রীতির সঙ্গে রয়েছেন স্পর্শ শ্রীবাস্তব ও নবাগত বংশিকা ধীর। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে সিনেমাটির।

ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন, নিহত ৫

ফিলিপাইনের পালাওয়ান উপকূলের কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ৮৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমগুলো কোস্টগার্ডের বরাতে জানিয়েছে, আগুন লাগা ফেরিটির নাম ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’। দুর্ঘটনার সময় এতে ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য।

ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলার একটি বন্দর থেকে পালাওয়ানের করোন দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এতে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সময় ফেরিটি বারাঙ্গাই মারসিলার প্রায় ১ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল বা ২ দশমিক ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ছিল।

নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পালাওয়ানের করোন ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। স্বচ্ছ সমুদ্রের পানি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশ পরিচিত। স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্যও করোনের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের উপকূলে বেশ কয়েকটি জাপানি জাহাজ ডুবে যায়। সেসব জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে প্রতিবছর বহু ডুবুরি সেখানে যান।

বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নৌপথ। দেশটির দ্বীপগুলোর মধ্যে যোগাযোগে নিয়মিত ফেরি চলাচল করে। তবে বিভিন্ন সময়ে এসব ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

২০২৩ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপাইনে ‘এমভি লেডি মেরি জয় ৩’ নামে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন লেগে ৩১ জন নিহত হন। জাম্বোয়াঙ্গা সিটি থেকে বাসিলান দ্বীপের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ফেরিটিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

রিপাবলিকানরা জিতলে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে নাজুক অবস্থানে আছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনে জিততে ভোটারদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান ৫ হাজার ডলার করে পাবে।

ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তীকালীন সম্মেলনে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে ভোটাররাও জিতবেন এবং তারা ৫ হাজার ডলার পাবেন। এই অর্থকে তিনি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্য ও শুল্ক থেকে আসা রাজস্বের কথা তুলে ধরে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। এ জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন বা সম্মতিও প্রয়োজন হবে।

প্রস্তাবটি ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর ব্যাখ্যায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অর্থ বিত্তবানদের জন্য নাও হতে পারে। শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে অর্থের জোগান দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। তবে প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি।

হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

প্রস্তাবটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির বার্ষিক বাজেট ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন করে বিপুল অর্থের সরাসরি অর্থপ্রদান মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্প এর আগেও নাগরিকদের অর্থ দেওয়ার ধারণার কথা বলেছেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ২ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তখনও বলেছিলেন, এ জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

গত বছর সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ১ হাজার ৭৭৬ ডলারের একটি অর্থপ্রদান করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি সেটিকে ‘ওয়ারিয়র ডিভিডেন্ড’ নামে অভিহিত করেন।

ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনোও ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর দ্রুত ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ পাস করানোর জন্য তিনি একটি বিল প্রস্তুত করবেন।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা দলের নির্বাচনী অবস্থান ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আধুনিক সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের আসন হারানোকে প্রায় নিয়মিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই প্রবণতা বদলাতে চান।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রিপাবলিকানরা চাপের মুখে রয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়টিও মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। এমনকি রিপাবলিকানদের তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকা সিনেটের ফল নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের এই প্রতিশ্রুতি গত বছর উইসকনসিনের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনে ইলন মাস্কের অর্থ বিতরণের ঘটনাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় মাস্ক নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে নিতে ভোটারদের বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলেন। তবে তাঁর সমর্থিত প্রার্থী শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন।

৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কোভিড-১৯ সহায়তার আওতায় দেওয়া সরকারি অর্থপ্রদানের চেয়েও বড়। ফলে নির্বাচনের আগে নতুন এই প্রতিশ্রুতি অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রভাব—দুই দিক থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এক কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল ও ৯ হাজার টন ছোলা কিনছে সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৯ হাজার মেট্রিক টন ছোলা ও এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ছোলা আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং রাইস ব্রান তেল স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত এ দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ হাজার মেট্রিক টন ছোলা কিনতে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ২১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও করসহ প্রতি কেজি ছোলার দাম পড়বে ৮৪ টাকা ৬৭ পয়সা।

ছোলা সরবরাহের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের হরশাম এলাকার প্রতিষ্ঠান অস্ট-গ্রেইন এক্সপোর্টসকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ছোলা কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

অন্যদিকে, ২ লিটার ধারণক্ষমতার পিইটি বোতলে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ভ্যাট ও করসহ প্রতি লিটার তেলের দাম পড়বে ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা।

দরপত্রের মাধ্যমে রাইস ব্রান তেল সরবরাহের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড ২০ লাখ লিটার করে, মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড ৩০ লাখ লিটার এবং মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ৩০ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করবে।

এর মধ্যে মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের সরবরাহ করা ৩০ লাখ লিটার তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাকি তিন প্রতিষ্ঠানও দরপত্রে সুপারিশ করা পরিমাণ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করবে।

ত্রৈমাসিক রিটার্নে ভ্যাট কমেছে, ফিরতে পারে পুরোনো পদ্ধতি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারের রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎসে এমন পরিস্থতির জন্য ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতিকে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতি থেকে সরে আগের মতো মাসিক রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধের নিয়ম ফিরিয়ে আনতে পারে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সরকার ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা ও ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নতুন ত্রৈমাসিক নিয়মে মাঠপর্যায়ে কর নিরীক্ষণ বা মনিটরিং করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ভ্যাট আদায় কমছে এবং রাজস্ব ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

আদায় কমেছে ২১ শতাংশ
এনবিআরের  মোট রাজস্বের প্রায় ৩৮ শতাংশই আসে ভ্যাট থেকে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভ্যাট আদায় কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। গত জুলাই মাসে ৯ হাজার ৩০২ কোটি টাকার ভ্যাট আদায় হয়েছিল, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে আদায় আরও কমে দাঁড়ায় আট হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট ১৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকার ভ্যাট সংগৃহীত হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের আদায় হওয়া ২২ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার তুলনায় চার হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা কম।

সূত্র জানায়, আগের নিয়মে চালান কাটার আগেই চালানভিত্তিক ভ্যাট সরকারি ট্রেজারিতে জমা দিতে হতো। পরে নতুন নিয়মে ব্যবসায়ীদের ওই টাকা ৩০ দিন পর্যন্ত নিজের কাছে রেখে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হতো। এখন তিন মাস সময় পাওয়ার কারণে বড় ব্যবসায়ীরা ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা ভ্যাটের টাকা নিজের কাছে রেখে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে সুদ পাচ্ছেন কিংবা অন্য কাজে খাটাচ্ছেন। বিশেষ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা পাচ্ছে। ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় হয় এনবিআরের অনুবিভাগ বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মাধ্যমে। যার অধীনে রয়েছে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান। তবে বড়রা সুযোগ পেলেও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করে এনবিআর। কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একসঙ্গে তিন মাসের টাকা ট্রেজারিতে জমা দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রৈমাসিক নিয়মের কারণে তদারকি ও রাজস্ব ঝুঁকি দুটিই বেড়েছে। আগে সার্কেল, বিভাগ ও ইউনিট ধরে প্রতি মাসে রাজস্ব তদারকি করা যেত, যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সেজন্যই আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার জোর আলোচনা চলছে। আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত এলে যে কোনো সময় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অবশ্য এনবিআরের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রথম দুই মাসের চিত্র দেখেই এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব না। কারণ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের ত্রৈমাসিক রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় রয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা
ব্যবসা-বাণিজ্যে তথা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন ব্যবসার জন্য কখনই শুভ নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক ও ব্যবসায়ী নেতা মো. ফজলুল হক সমকালকে বলেন, পুরোনো নিয়মে ফিরলে কিছু ব্যবসায়ীর লাভ হবে, কিছু ব্যবসায়ীর লোকসান হবে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নীতির পরিবর্তন। সরকারের একটা নীতি তিন মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা ব্যবসার জন্য খুব ভালো ইঙ্গিত নয়। তবে সার্বিক প্রয়োজনে সরকার নীতি পরিবর্তন করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই অর্থের প্রয়োজন হলে সে ক্ষেত্রে তিন মাসের পরিবর্তে মাসিক পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।

ভ্যাট নিতে এলে এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘শুভেচ্ছা বিনিময়’ করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। সমকালকে তিনি বলেন, এই শুভেচ্ছা মানে কী তা সবাই জানে। ব্যবসায়ীদের এখন ভ্যাট পরিশোধের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন মাস পর শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হয়। আবার মাসিক ভিত্তিক চালু হলে প্রতি মাসেই শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে। অর্থাৎ খরচ বাড়বে। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনা গেলে বারবার নিয়ম পরিবর্তনের দরকার হয় না। এমনিতেই রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু কর্মকর্তাদের সেই সদিচ্ছা থাকা জরুরি।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারের দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোকে তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে এলে পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নতুন এলএনজি টার্মিনালসহ ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
সরকারি দলের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেজ্ড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ নেতা বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে চাইলে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত ৭ বছর লাগবে। তাই ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে গ্যাসনির্ভর কিছু শিল্প স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এর ফলে ভোলা অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বাড়বে।

ভোলার গ্যাস যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানি-নির্ভরতা মোকাবিলা এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্তে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।

মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে সংস্কার
সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাঠ প্রশাসনকে অধিকতর জনবান্ধব, স্বচ্ছ, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সরকার বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, পরিদর্শন ও তদারকি, গণশুনানি কার্যক্রম, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের ৫ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচ কাজে ডিজেলচালিত পানির পাম্পের পরিবর্তে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের স্টোরেজের জন্য এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। একটি হচ্ছে, লেড ব্যাটারি; এটি নরমাল ট্র্যাডিশনের। আরেকটা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি, যেটি পরিবেশবান্ধব। বর্তমান সরকার লিথিয়াম অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তৈরির ক্ষেত্রে যেসব কলকারখানা স্থাপিত হবে সেটিকে সরকার সব রকম সহযোগিতা দেবে। লিড ব্যাটারিতে এসিডের ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সে জন্য এটাকে নিরুৎসাহিত করতে চাইছি। ভবিষ্যতে আমাদের চিন্তাভাবনা থাকবে, রুফটপের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে।’

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা, মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম চলমান। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া নগরীর ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পের বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে।

তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, ২টি কালভার্ট ও ৬টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২টি খেলার মাঠ উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৬টি খেলার মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পরিবেশ রক্ষা করতে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ করতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে তোমাদেরও অংশগ্রহণ করা উচিত। পরিবেশ ঠিক রাখতে তোমাদের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি তোমাদের আত্মীয়স্বজনদের বাসার আশপাশেও গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল সানিডেলের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগের অংশ হিসেবে সংসদে যান সানিডেলের শিক্ষার্থীরা।

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।