Home Blog Page 146

স্বাস্থ্য খাতের ৮৭৯ গাড়ি দুই বছর ধরে গ্যারেজবন্দি গাড়িগুলো স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের

স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায় কেনা হয়েছিল ৮৭৯টি গাড়ি। সেই প্রকল্প শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর হলো। সেই থেকে গাড়িগুলো বসে আছে। কোনোটা এখন গ্যারেজবন্দি, কোনোটা খোলা জায়গায় পড়ে আছে। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে থাকা সরকারি এসব গাড়ি সচল করার কার্যকর উদ্যোগ নেই।

এই গাড়িগুলো স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। এগুলো ফেলে রাখায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের তদারকিতে ধাক্কা লেগেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সাল থেকে অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ৩৮টি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসব তদারকির জন্য ওপির অর্থেই ধাপে ধাপে ৮৭৯টি গাড়ি কেনা হয়। তবে ২০২৪ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকার এসব কর্মসূচি গুটিয়ে নেয়।

পরে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পরবর্তী দুই বছরের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওপি প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিলেও গত বছর ৫ মার্চ তা বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বাতিল হওয়া কর্মসূচির গুরুত্ব বুঝে বিএনপি সরকার তা ফের চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচটি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরুও হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক তদারকি না থাকায় মাঠ পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাড়ির টায়ার, ব্যাটারি ও ইঞ্জিন বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

গত বছর ১৫ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে ওপির টাকায় কেনা সব গাড়ি সরকারি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ এখন পর্যন্ত একটি গাড়িও জমা দেয়নি। সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, গাড়িগুলো একবার পরিবহন পুলে চলে গেলে অন্য দপ্তরে বরাদ্দ হয়ে যাবে। এতে স্বাস্থ্য বিভাগ তার সম্পদ স্থায়ীভাবে হারাবে।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এসব গাড়ি সচল ও চালক নিয়োগের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে গাড়ি সচলের ব্যাপারে কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, গাড়ির প্রয়োজন আছে। আমাদের একটু সময় দেন। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুততম সময়ে সমাধান হয়ে যাবে।

কত রকমের গাড়ি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো জানান, ২০১৬ সালে নারী ইউএইচএফপিওদের জন্য প্রায় ৫০টি টয়োটা র‍্যাব ফোর, ২০১৮ সালে ৫০টি মিতসুবিশি এক্সপান্ডার এবং ২০২০ সালে করোনার শুরুতে ৩৪০টি মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার গাড়ি কেনা হয়েছিল। করোনার সময় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তত্ত্বাবধান ও মূল্যায়নে এসব গাড়ি বেশ কাজে দিয়েছিল। গাড়ির কারণে যাতায়াত সহজ হয়ে যাওয়ায় করোনার টিকা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন, পুষ্টির কার্যক্রমে গতিশীলতা বেড়েছিল। এখন এসব গাড়ি অচল পড়ে আছে। ফলে সেবা তদারকি ব্যবস্থা গতি হারিয়েছে।

অচল থাকা যানবাহনের মধ্যে আরও রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, জিপ এবং ওষুধ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে সেবার জন্য কেনা এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় এখন কার্যত অচল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে এই কর্মসূচিতে ৫৭৩টি যানবাহন কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি জীপ, ১০টি মাইক্রোবাস, ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স, ২০টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জন্য ৪৯০টি যানবাহন। এসব যানবাহনের বড় অংশই এখন নিয়মিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরেও একই চিত্র। সেখানে রয়েছে ৪৯টি অডিও-ভিজ্যুয়াল ভ্যান, তিনটি জীপ ও তিনটি মাইক্রোবাস। সিসিএসডিপি ইউনিটের জন্য ৭১টি জিপের মধ্যে ৬৪টি জেলা পর্যায়ে রিজিওনাল ও ডিস্ট্রিক্ট কনসালট্যান্টদের তদারকির কাজে ব্যবহৃত হলেও বাকি সাতটি পড়ে আছে অধিদপ্তরে। এ ছাড়া এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিটে সাতটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস ও ৬৭টি অ্যাম্বুলেন্স, পরিকল্পনা ইউনিটে দুটি জিপ ও একটি মাইক্রোবাস, এফপি-এফএসডি ইউনিটে চারটি জিপ এবং পিএসএসএম-এফপি ইউনিটে ছয়টি জিপ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ৪৩টি পিকআসহ (কাভার্ডভ্যান) এই অধিদপ্তরে ৩০৩টি গাড়ি পড়ে আছে।

টিকা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণসামগ্রী সরবরাহে ৪৩টি কাভার্ডভ্যান ব্যবহারের কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় পণ্যাগারসহ ২৩টি আঞ্চলিক পণ্যাগার থেকে ৪৯৬টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ওষুধ পৌঁছানোর কাজে এসব যানবাহনের ব্যবহার হচ্ছে না। এদিকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ১৬টি গাড়িও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে।

মাঠপর্যায়ের তদারকির এখনকার হাল 
মাঠপর্যায়ের তদারকি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এর প্রমাণ মিলেছে গত ১২ এপ্রিল। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) শংকর প্রসাদ অধিকারী মোটরসাইকেলে করে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অথচ ২২ মাস আগেও তিনি হাসপাতালের গাড়িতে করে পরিদর্শনে যেতেন। গাড়ি সচল না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁকে মোটরসাইকেলে চেপে পরিদর্শনে যেতে হয়েছিল। এখন তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বরিশালের ইউএইচএফপিও ডা. মনির শাওন বলেন, আমাদের কাজই হলো মাঠপর্যায়ে চলমান সেবা কার্যক্রম সচল রাখা। সপ্তাহে ছয় দিন আমরা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করে থাকি। আমার অধীনে ২৪টি চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে, এসব কেন্দ্রে মানুষ ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে কিনা, তা তদারকি করা জরুরি। এ ছাড়া মাসে আট দিন উপজেলা পরিষদে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। এতেও গাড়ির প্রয়োজন হয়। ২২ মাস গাড়ির সুবিধা না থাকায় এখন নিজ খরচে এসব কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সিলেটের ইউএইচএফপিও ডা. ইয়াসিন আরাফাত বলেন, গাড়িগুলো সচল থাকা জরুরি হলেও ২২ মাস ধরে অচল। এখন ব্যক্তিগত খরচে বা অন্যের মোটরসাইকেলে গিয়ে তদারকি করতে হচ্ছে। গাড়ি থাকলে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যেত।

বোয়ালখালী উদাহরণ
ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু কর্মকর্তা প্রকল্পের গাড়ি সচল রেখেছেন। তেমনই এক কর্মকর্তা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ইউএইচএফপিও ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যক্তিগত খরচে সরকারি গাড়ির ব্যবস্থাপনা আমি নিজেই করছি। আমি আর্থিক ক্ষতিতে পড়লেও বোয়ালখালীবাসীর স্বাস্থ্যসেবার পথ সুগম রাখতে আমার এই উদ্যোগ।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকের মত
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, একটি গাড়ি শুধু লোহার কাঠামো নয়, এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সচল মাধ্যম। ২২ মাস এই গাড়ির বহর অকেজো রাখা মানে হলো আমাদের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাদান কর্মসূচির ওপর সরাসরি আঘাত। যখন তদারকি বন্ধ হয়ে যায়, তখন মাঠকর্মীদের মধ্যে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়, যার প্রমাণ আমরা এখন হামের প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি। অচিরেই এই সংকটের সমাধান না হলে শুধু সরকারি সম্পদই অপচয় হবে না, বরং গত তিন দশকে শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে আমাদের যে অর্জন, তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।

কারা কী বলছেন
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সচিব বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ওপি বন্ধ হওয়ায় পুরো স্বাস্থ্য খাতেই এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছিল। তবে সেটি থেকে ক্রমেই বেরিয়ে আসছে সরকার। ইতোমধ্যে কয়েকটির অনুমোদন হয়েছে। বাকিগুলোও দ্রুত হয়ে গেলে গাড়ির বিষয়ে আর কোনো সংকট থাকবে না।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গাড়ির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

 

নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ওই গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের ওই টাকা লুট করার জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে ঢুকেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে।

টয়োটা বাংলাদেশ ও পেপার রাইম অ্যাডভার্টাইজিংয়ের চুক্তি স্বাক্ষর

টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেড ও পেপার পেপার রাইম অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডয়ের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের লক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের জনসংযোগ (পিআর), কমিউনিকেশন্স এবং মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি সহযোগী হিসেবে পুনরায় পেপার রাইম অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডকে নিযুক্ত করেছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমে এই অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের (টিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেমমিত সিং, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউসুকে ওগিনো এবং ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ সাইদুর রাহমান ফারাজি। পেপার রাইম অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার এজেডএম সাইফুদ্দিন, ডিরেক্টর জাফরিন গনি এবং স্ট্র্যাটেজি ম্যানেজার ওয়াজায়ের সাদমান।

পল্লবীতে শিক্ষিকা ফিরোজা হত্যারহস্যের জট খোলেনি

রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোসনা হত্যার রহস্য বের করতে পারেনি পুলিশ। কে বা কারা কেন তাঁকে হত্যা করে–সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। তবে হত্যার কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে নানামুখী তৎপরতা চলছে। শিগগিরই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-আমিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি ও রক্তমাখা ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথার বাঁ পাশে ও মাঝে থেঁতলানো জখম ছিল। এ ছাড়া থুতনির ওপরেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা জানতে কাজ করছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

এদিকে নিহতের স্বজনরা বলছেন, পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন ফিরোজা। ফলে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত কেউ বলতে পারছেন না। তবে এই হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, হলি ক্রিসেন্ট আইডিয়াল স্কুল নামে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন ফিরোজা। তিনি মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর ভবনের দোতলার একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হলেও কিছুদিন পরই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি একাই থাকতেন। শুক্রবার সেই ঘরেই তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মুন্সিপাড়ার কৃষ্ণপুর এলাকায়।

নিহতের ভাই ফিরোজ আলম বলেন, ‘ফিরোজার সঙ্গে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের তেমন যোগাযোগ ছিল না। তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বাসায় টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালাতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল কিনা তা আমাদের জানা নেই। কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে সে বিষয়েও কোনো ধারণা করতে পারছি না। আমরা আশা করছি পুলিশ দ্রুত সত্যিটা খুঁজে বের করবে।’

শেষ হচ্ছে ধারাবাহিক ‘এটা আমাদের গল্প’

০

টেলিভিশন নাটকে পারিবারিক গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহ নতুন করে বাড়ছে। সেই ধারায় আলোচিত একটি কাজ ছিল নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের ধারাবাহিক ‘এটা আমাদের গল্প’, যা সম্প্রচারের শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি আর একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা– সব মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত পারিবারিক চিত্র ফুটে উঠেছিল নাটকটিতে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রচার শুরু হওয়া এই সিরিজ অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। চ্যানেল আইতে নিয়মিত প্রচারের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এটি সাড়া ফেলেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত পর্ব প্রচারিত হয়েছে, আর সম্প্রতি শেষ হয়েছে এর শুটিং কার্যক্রম। তবে মোট কত পর্বে নাটকটি শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্মাতা এখনও কিছু জানাননি।

শেষ দিনের শুটিং সেট ছিল আবেগঘন। উপস্থিত ছিলেন নাটকের প্রায় সব প্রধান শিল্পী। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার ফলে একটি পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। শুটিং শেষ হলেও সেই বন্ধন সহজে ভাঙবে না।

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক মাসের এই যাত্রা তাঁকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে খায়রুল বাসার মনে করেন, দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ তৈরি করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।’

মেহরীন চরিত্রে অভিনয় করে কেয়া পায়েল নতুন পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানান। তাঁর মতে, কোনো চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠা একজন শিল্পীর জন্য বড় অর্জন। প্রথম ধারাবাহিকে অভিনয় করেই সুনেরাহ বিনতে কামালও পেয়েছেন ব্যাপক সাড়া; দর্শক তাঁকে চরিত্রের নামেই ডাকছেন।

নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, শুরুতে প্রত্যাশা থাকলেও এত বড় সাড়া পাবেন ভাবেননি। তাঁর মতে, এই কাজটি তাঁর আগের সব কাজের সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেছে।

হাইকোর্টের রুল জারি গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কেন নয়

দেশে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের  সংশ্লিষ্টদের প্রতি  রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।

একইসঙ্গে বিদ্যমান ‘দ্য ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ অনুযায়ী এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে  বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ রুল জারি করেন।  আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদী দেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে

‘জনস্বার্থে’ এই রিট মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা।

তিনি বলেন, “আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেননি। বিবাদীদের রুলের জবাব পাওয়ার পর আদালতের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য আবেদন করা হবে।”
আইন  সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রিট মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, দেশে গৃহকর্মীদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিক আইনি সুরক্ষা, চুক্তি, বা পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করছে। ২০১৫ সালে সরকার ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ গ্রহণ করলেও এর কোনো কার্যকর নিবন্ধন, তদারকি বা প্রয়োগ ব্যবস্থা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এছাড়া ১৯৬১ সালের ‘ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স’-এ গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু এবং নিবন্ধন ছাড়া কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কিন্তু এ আইন নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে এটি কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একজন গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মা ও মেয়েকে (লায়লা আফরোজ এবং নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ) হত্যার অভিযোগ ওঠার ঘটনা তুলে ধরা হয় রিট আবেদনে।
একইসঙ্গে গৃহকর্মীদের অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলাভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্ব লিভার দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত

লিভারের প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ রবিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ব লিভার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটি। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লিভারের সুরক্ষা, রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মাসহুদ আহমদ, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ সামি আল-হাসান, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাবরিনা বিনতে রহমান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও নিউট্রিশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোসা. নাজনীন সরকার, এনজিএলআইএইচ-এর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদা আক্তার খানম, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএনএফএস-এর পরিচালক ডা. সাইদুল আরেফিন, এনজিএলআইএইচ-এর সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দৌলা এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড রেডিয়েশন অনকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মেহবুব আহসান রনি।

বক্তারা লিভারের প্রদাহ সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ এবং ‘ফ্যাটি লিভার’ প্রতিরোধে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে হেপাটাইটিস বি ও সি স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এসআইসিআইপি-বিজিএমইএ’র ‘ওয়ার্কশপ উইথ হেড অব এইচআর’ অনুষ্ঠিত

দেশের শিল্পখাতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওয়ার্কশপ উইথ হেড অব এইচআর ২০২৬’।

দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ প্রধানদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিজিএমইএ ও এসআইসিআইপি’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফুর রহমান এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রুমানা রশীদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুনীর চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন মো. আশফাকুর রহমান।

বক্তারা বলেন, দক্ষ জনশক্তি দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। এসআইসিআইপি-বিজিএমইএ প্রোগ্রাম প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী মানবসম্পদ প্রধানরা শিল্পখাতের বর্তমান দক্ষতা-চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রবণতা নিয়ে মতামত দেন।

আইসিইউর সিরিয়াল যখন এলো, গৌরী তখন শ্মশানে

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আসা ছয় মাস বয়সী শিশু গৌরীকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। তবে তৎক্ষণাৎ আইসিইউতে শয্যা মেলেনি। ২৬ শিশুর পেছনে অপেক্ষমাণ ছিল সে। ঠিকই সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে, তবে গৌরীর প্রাণ নেভার পর। গত শনিবার দুপুরে মৃত্যুর পরদিন গতকাল রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে যখন আইসিইউ শয্যা খালি হওয়ার খবর জানাতে ফোন করা হয়, ততক্ষণে গৌরীর নিথর দেহ শ্মশানে।

গৌরী নাটোরের বাগাতিপাড়ার চাঁইপাড়া গ্রামের সোহাগ কুমার ও বন্দনা রানী দম্পতির প্রথম সন্তান। এ নিয়ে রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫২ শিশুর মৃত্যু হলো।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতেই গৌরীর চিকিৎসা চলছিল। গত বুধবার অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় রামেক হাসপাতালে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গৌরীর বাবা সোহাগ কুমার বলেন, আইসিইউতে গিয়ে দেখি, সিরিয়াল পড়েছে ২৭ নম্বরে, অর্থাৎ গৌরীর আগে আরও ২৬ শিশু আইসিইউর জন্য মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে অপেক্ষায় আছে। আইসিইউ না পেয়ে ওয়ার্ডেই তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল।

সোহাগ আরও জানান, শনিবার দুপুরে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি আবারও আইসিইউ বিভাগে ছুটে যান। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, সিরিয়ালের বাইরে তাদের করার কিছু নেই। এর কিছুক্ষণ পরই মারা যায় শিশুটি।

গতকাল দুপুরে যখন সোহাগের ফোনে আইসিইউ বিভাগ থেকে কল আসে, তখন পরিবারে চলছে মাতম। যিনি ফোন করেছেন, তাঁকে সোহাগ এটুকুই বলতে পেরেছেন, ‘আমাদের আর আইসিইউ লাগবে না। গৌরী আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহাগ বলেন, আমার মেয়েটা তো চলে গেল, আর কারও সন্তান যেন এভাবে না যায়। আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হোক। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুদের জন্য আইসিইউ শয্যা বাড়িয়ে ১৮টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হামের রোগীর জন্য ও ছয়টি সাধারণ রোগীর জন্য। তবে রোগীর চেয়ে তা অপ্রতুল। আরও আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন। নতুন একটি আইসিইউ ওয়ার্ড তৈরির জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। শয্যা ফাঁকা না থাকায় শিশুদের দীর্ঘ সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুর অবস্থাই সংকটাপন্ন থাকছে। ফলে আইসিইউর চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

হামের জরুরি টিকা
দেশে হামের প্রকোপ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আজ সোমবার থেকে সারাদেশে একযোগে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি ১৩ দিন এগিয়ে আজ থেকে শুরু করছে সরকার।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের এই কর্মসূচির আওতায় ১১ কর্মদিবসে ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আজ প্রথম দিনেই ১১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সারাদেশে ২ লাখ ৮২ হাজার ৫১০টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলবে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারই অস্থায়ী কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক ভিডিও বার্তায় এই কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এক দিনে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর উপসর্গসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮১-তে। এর মধ্যে শুধু নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৩৬ জন। গতকাল সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ জনের। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫ হাজার ৩২৬ জন। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৩।
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামে গত দুদিনে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নাসিরনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল বহির্বিভাগে ৫৭০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ২০০-ই শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, পাঁচ থেকে সাত মাস বয়সী শিশুর আক্রান্তের হার বেশি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

আরব আমিরাতে জিলকদ মাসের প্রথম দিন ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হিজরি ১৪৪৭ সালের জিলকদ মাসের সূচনা হয়েছে। এ চাঁদ দেখার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আসন্ন জিলহজ মাস এবং পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাউন্সিল ফর ফতোয়া জানায়, চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে এবং দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জিলকদ মাসের পরই শুরু হবে জিলহজ, যে মাসে মুসলমানরা পবিত্র হজ পালন করেন এবং উদযাপন করেন ঈদুল আজহা। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে আরাফাতের দিন পালিত হবে এবং এর পরদিন ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

কাউন্সিলের এ ঘোষণা থেকে বোঝা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহ্যবাহী চাঁদ দেখার প্রথার পাশাপাশি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও ব্যবহার করে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ—উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো নির্ধারণ করা হয়।