Home Blog Page 146

সিংড়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও ছেলে গ্রেফতার

নাটোরের সিংড়ায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী শিউলি বেগম ও ছেলে সাইফুদ্দিন সিদ্দিক ওরফে রয়েল (১৯) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর নিজ শয়ন কক্ষ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যবসায়ী একই গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।

দুই বছরে দেশে গরু-ছাগল কমেছে সাড়ে ৬ লাখ

দুই বছরের ব্যবধানে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা কমেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৭টি। ২০২৪ সালে যেখানে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি, সেখানে চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টিতে। দুই বছরে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা এত কমে যাওয়ার ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। খামারিরা বলছেন, কেন পশুর সংখ্যা কমছে, এর কারণ বের করা দরকার।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহের বিষয় তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এবার কোরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।

গত বছর কোরবানির হাটের জন্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৫১২টি অন্য প্রজাতির। গত বছর ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি কোরবানির পশু অবিক্রীত ছিল।

২০২৪ সালে কোরবানির পশু প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। ২০২৩ সালে প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়। ২০২১ সালে করোনাকালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।

তবে দেশে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার আগে যে পরিমাণ পশু কোরবানি হতো, তা এখন হয় না। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০১৬ সালে ৯৮ লাখ ১৩ হাজার পশু কোরবানি হয়। এরপর থেকে ক্রমাগত বেড়ে ২০১৭ সালে ১ কোটি ৪ লাখ, ২০১৮ সালে ১ কোটি ৬ লাখ, ২০১৯ সালে দেশে ১ কোটি ৬ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। করোনা দেখা দিলে ২০২০ সালে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার পশু কোরবানি হয়। ২০২১ সালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোরবানি হয় ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু। প্রায় ২৮ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়নি। গত বছর কোরবানি হয় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু।

চুয়াডাঙ্গা সদরের খামারি আব্দুর রহমান বলেন, করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গবাদিপশুর দানাদার খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এখনও খামারিরা বাড়তি দামেই দানাদার খাদ্য কিনে পশুকে খাওয়াচ্ছেন। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম, শ্রমিক খরচসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে কোরবানিযোগ্য পশুপালন অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর পার্বতীর কৃষক মাহফুজুল হক জানান, বেশি দামে খাদ্য কিনে গরু পালন করে লাভ হচ্ছে না। ফলে গরু পালন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। সেসব কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এই হিসাব তৈরি করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মূলত পশু কোরবানির হিসাব করে থাকে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, স্তরায়িত দৈব নমুনায়নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে এবারের হিসাব করা হয়েছে। প্রতি উপজেলার অন্তত ১ শতাংশ নমুনা সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে হিসাবটি। যেমন– এক উপজেলায় ১০০টি গ্রাম থাকলে এর মধ্যে অন্তত একটি গ্রামে কোরবানি দেওয়া পশুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির পশু পালনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের অনেকেরই লোকসান হয়েছে। এর কারণ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ কারণে মাংস ও পশুর দাম বাড়ছে। এতে উৎপাদিত গরু-ছাগলের একটা অংশ ঈদে অবিক্রীত থাকছে। এ জায়গায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পশুখাদ্য ও পশুর ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তবে পশুর সংখ্যা কমলেও কোরবানি ঘিরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঈদুল আজহা ঘিরে দেশে যে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়, তা কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনে রূপ নেয়। যার প্রভাব পড়ে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে শহরের বাজার পর্যন্ত। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতিবছর ৭০-৮০ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০২৫ সালে দেশটিতে কোরবানির পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৪ লাখ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ লাখ ৫৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বিপুল হলেও কোরবানির বাজারের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে ছোট। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে কোরবানির সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ পশু জবাই হলেও দেশটি মূলত আমদানিনির্ভর। সুদান, সোমালিয়া ও ব্রাজিল থেকে বড় অংশের পশু সরবরাহ করা হয়। তুরস্কে গত ঈদে প্রায় ৩৮ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে, আর মিসরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির বড় শক্তি হলো এর বিস্তৃত গ্রামীণ সংযোগ। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম পশু পালনের সঙ্গে যুক্ত, ফলে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া মৌসুমি হলেও এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়। যেমন– হাট পরিচালনা, পরিবহন, পশু পরিবহন শ্রমিক, চামড়া সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ, পশুখাদ্য সরবরাহ ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থনীতি মূলত একটি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ তৈরি করে, যেখানে শহরের অর্থ গ্রামে প্রবাহিত হয় এবং গ্রামীণ আয় নগর বাজারে ফেরত আসে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিসহায়তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে কোরবানিকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি আরও বড় পরিসরে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ছোট খামারি ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, বাজার সংযোগ এবং পশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।

ছোট ঋণে খেলাপির ৬৮ শতাংশ ১০ ব্যাংকে

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৯ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা এ খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। অথচ ব্যাংক খাতের মোট সিএমএসএমই ঋণের ৩৮ শতাংশের কম রয়েছে এসব ব্যাংকে। এই ব্যাংকগুলোর উচ্চ খেলাপির প্রভাবে পুরো ব্যাংক খাতে ছোট ঋণের খেলাপির হার অনেক বেড়েছে। মোট ঋণে এসএমইর অংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু তা না বেড়ে আরও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় এসএমই নীতির আলোকে ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল নাগাদ ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ এ খাতে দেওয়ার কথা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ বাড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থান বাড়ানো। উন্নয়নশীল দেশগুলো সব সময়ই এ ধরনের খাতে বেশি জোর দিয়ে থাকে। বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করেছে। এ জন্য বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোট ঋণে সিএমএসএমইর অংশ কমছে
মোট ঋণে সিএমএসএমই খাতের অংশ না বেড়ে ধারাবাহিকভাবে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে দেওয়া হয়েছে তিন লাখ এক হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ঋণের ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল এ খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএমই ঋণ বাড়াতে নানা নির্দেশনা দিয়ে আসছে। তবে ব্যাংকগুলো কম কষ্টে বেশি মুনাফা করার আশায় সব সময়ই করপোরেট ঋণে বেশি আগ্রহ দেখায়।  কিন্তু বড় ঋণ দিয়ে অনেক ব্যাংক ঝামেলায় পড়েছে। তা আদায় না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তারা জানান, সিএমএসএমই খাতে উৎসাহিত করতে গত ডিসেম্বরে কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখার শর্ত শিথিল করা হয়। এ জাতীয় সাধারণ ঋণ ও দুই মাস পর্যন্ত বকেয়া ঋণে (এসএমএ) বিপরীতে দশমিক ৫০ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। এর আগে এটি সাধারণ ঋণে ১ ও এসএমএতে ৫ শতাংশ ছিল। এ ছাড়া বিনা জামানতে নারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং অন্য ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই এমন ব্যবসায়ীরা যে কোনো ব্যবসা-সংক্রান্ত সনদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এরপরও ব্যাংকগুলো সিএমএসএমই ঋণের চেয়ে করপোরেট খাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ দেখায়।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মানে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি। মূলত বড় করপোরেট গ্রুপের প্রভাবে ব্যাংক খাতের খেলাপি এ পর্যায়ে উঠেছে। ১০টি ব্যাংকের উচ্চ খেলাপির পরও ব্যাংক খাতের মোট খেলাপির তুলনায় সিএমএসএমই খাতে খেলাপির হার অনেক কম। অনেক ভালো ব্যাংকের এসএমইতে খেলাপি ঋণ খুব সামান্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশের শীর্ষ এসএমই ব্যাংক ব্র্যাকের এ খাতে মোট ঋণ রয়েছে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণ মাত্র ৬৬৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের মাত্র ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

খেলাপি ঋণে শীর্ষ ১০ ব্যাংক
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ৭২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ রয়েছে শীর্ষ ১০ ব্যাংকে। সিএমএসএমই ঋণের পরিমাণে বিবেচনায় খেলাপি সবচেয়ে বেশি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে। এ খাতে ব্যাংকটির ২৯ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের ১১ হাজার ৪২ কোটি টাকা এসএমই ঋণের বিপরীতে ৫ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। এ খাতে সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ঋণের ৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা খেলাপি।
পরিমাণ বিবেচনায় সিএমএসএমই খাতে খেলাপি ঋণে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ৫ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৪ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

এর পরের অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সিএমএসএমই ঋণের তিন হাজার ৮৯১ কোটি টাকা খেলাপি। এ ছাড়া এসআইবিএলের ৪ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা ঋণের ৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

পদ্মা ব্যাংকের তিন হাজার ৩৭১ কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার ২১৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আর এ খাতে এক্সিম ব্যাংকের ৫ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা ঋণের ৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষকরা আশ্বাস পান, তবে বৈষম্য কাটে না

সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলোর অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকরা তিন দশকের বেশি সময় ধরে এমপিও সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এই বঞ্চনার অবসানে গত বছর সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। দাবি আদায়ে শিগগিরই নতুন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হলেও এসব কোর্সে নিয়োজিত অধিকাংশ শিক্ষক মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) ব্যবস্থার বাইরে আছেন। বর্তমানে দেশের ৪১৪টি কলেজে কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আসেননি।

সূর্যাস্তের পরে জিতবেন, ওয়েট অ্যান্ড সি: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি ১৯০ আসনে এগিয়ে। এ অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মী ও কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, নিজেদের এগিয়ে থাকার ফলাফল আগে প্রকাশ করাটা বিজেপির একটি চাল।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তবে বর্তমান মূখ্যমন্ত্রী মমতা বলছেন, ‘পুরোটাই মিথ্যা নিউজ প্রচার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইচ্ছে মতো খেলছে। সুতরাং কাউন্টিং এজেন্ট ও কর্মীদের বলব, মন খারাপ করবেন না। আমি আগেও বলেছিলাম সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন থেকে চার রাউন্ড কাউন্ট হলেও এটা ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড পর্যন্ত কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি।’

পুড়ল ৮ দোকান, কোটি টাকার ক্ষতি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাতের আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে আটটি দোকান। এতে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি।

পুড়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয়টি জুতার দোকান, একটি ওষুধের ও অপর উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত ভাই ভাই সুজের মালিক বাদশা মিয়ার ভাষ্য, তাঁর দোকানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালপত্র ছিল। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ফোনে আগুন লাগার খবর পান। বাজারের কাছে বাড়ি হওয়ায় আত্মীয়স্বজন নিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে এসে দেখেন আগুন ছড়িয়ে গেছে কয়েকটি দোকানে। সবার সহায়তায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

একই সময়ে আগুন লাগার সংবাদ পান পায়ে পায়ে সুজের মালিক মুক্তার হোসেন। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে দোকানের কাছে আসতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে যায়। তিনি এসে দেখেন, সবাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তবে তার দোকানের প্রায় ২০ লাখ টাকার মালপত্র পুড়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করা যায়নি।

আত্মীয়দের কাছ থেকে সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পান সাধনা মেডিকেলে মালিক বিপুল চন্দ্র দাস। তাঁর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বাজারের পাশে হওয়ায় তারা দ্রুত চলে আসেন। বাড়ি থেকে নদী পাড়ি দিয়ে আসতে এই ব্যবসায়ী সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। তাঁর দোকানে ওষুধ ছিলো প্রায় ৮ লাখ টাকার। প্রায় ৬ লাখ টাকার ওষুধ পুড়ে যায়। দুই লাখ টাকার পণ্য রক্ষা পেয়েছে।

বাজিতপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পান। তাদের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও পুলিশের সহায়তায় রাত ২টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তবে তিন কোটি টাকার মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা) সারাদেশে আরও ১০ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে আরও ১ হাজার  ১৬৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হাম শনাক্ত হয়ে ঢাকায় একটি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ২, চট্টগ্রামে ১, ঢাকায় ৪, খুলনায় ১ ও সিলেটে ১ শিশু মারা গেছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৪৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫০ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৪ হাজার ৯০ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পিএসএল ফাইনাল আজ পেশোয়ার জালমির তুরুপের তাস নাহিদ রানা

মাত্র চার ম্যাচ খেলেই ৭ উইকেট শিকার, ওভারপ্রতি খরচ ৫.৪২ রান। নাহিদ রানার এই ইকোনমিতেই সবচেয়ে বড় আস্থা পেশোয়ার জালমির। সে কারণেই আজকের ফাইনালে বাংলাদেশি এই পেসারকে বিসিবির কাছে বিশেষ অনুরোধ করে লাহোর নিয়ে গেছে পেশোয়ার জালমি। আসরে নতুন দল হায়দরাবাদ কিংসম্যানের বিপক্ষে রাতে ফাইনালে মুখোমুখি হবে নাহিদ রানাদের পেশোয়ার জালমি।

এর আগেও ২০১৭ সালে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জালমি। এবারে তারা মাঠে নামবে দ্বিতীয় শিরোপার জন্য। বাংলাদেশিদের মধ্যে রিশাদ হোসেন গতবার লাহোর কালার্ন্দাসের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন, এবার সুযোগ নাহিদ রানার সামনে।

এর আগে গ্রুপ পর্বে এই হায়দরাবাদকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল জালমি। তবে সেই ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি নাহিদ, রান দিয়েছিলেন ৩০। সেটি ছিল আসরে তাঁর প্রথম ম্যাচ। পরের তিনটি ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন নাহিদ। তাঁর দল এবারের আসরে দারুণ ফর্মে রয়েছে, বিশেষ করে অধিনায়ক বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস। ১০ ম্যাচে ৫৮৮ রান করে বাবর আর ৫৪১ রান করে কুশল ব্যাটারদের শীর্ষ দুইয়ে অবস্থান করছেন।

বিদেশিদের মধ্যে মিচেল ব্রাসওয়েল আছেন জালমিতে। এ ছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে মোহাম্মদ হারিস, ইফতেখার আহমেদ, সুফিয়ান মুকিম ফর্মে আছেন। প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদ দলেও চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো পারফর্মার রয়েছেন। মাজ সাদাকাত আর লাবুশ্যানেকে দিয়ে তাদের ওপেনিং জুটি। সিয়াম আইয়ুব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কুশল পেরেরার মতো ব্যাটাররাও দারুণ করছেন। সব মিলিয়ে আজ রাতে গ্যালারি ভরা দর্শক নিয়েই দারুণ একটি ফাইনালের অপেক্ষায় লাহোর। সেখানে অবশ্যই নাহিদ রানার ওপর নজর থাকবে বাংলাদেশিদেরও।

বৃষ্টির দিনে কাপড় শুকানোর কৌশল জেনে নিন

কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে চলছে মুষলধারে বৃষ্টি। এ দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় ঝামেলাগুলোর একটি হল কাপড় শুকানো। টানা বৃষ্টি, আর্দ্র আবহাওয়া আর সূর্যের আলোর অভাবে কাপড়ে ভেজা ভেজা একটা ভাব থাকে, অনেক সময় দুর্গন্ধও তৈরি হয়।

এ সময়ে কাপড় শুকাতে কিছু কৌশল জেনে রাখা ভালো। যেমন-

১. আকাশে মেঘ দেখলে কিংবা আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে বৃষ্টির দিনে কাপড় ধোবেন। টানা বৃষ্টি থাকলে একসঙ্গে বেশি কাপড় না ধোওয়াই ভালো। তাহলে দ্রুত শুকানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কাপড় শুকানোর জন্য এমন সময় বেছে নিন যখন বৃষ্টি কিছুটা কম থাকে। সেই সঙ্গে বাতাস চলাচলও ভালো থাকে। তাহলে কাপড় শুকানোর সময়ও কম লাগে।

২. কাপড় ধোয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল- পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে নেওয়া। কাপড় যত কম ভেজা থাকবে, ততই দ্রুত শুকাবে। হাতে কেচে ধুলে কাপড় ভালোভাবে চেপে পানি বের করুন। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার করলে ভালো করে পানি নিংড়ে নিন।

৩. বৃষ্টির দিনে কাপড় শুকানোর জন্য ঘরের ভেতরে এমন জায়গা বেছে নিন যেখানে বাতাস চলাচল ভালো হয়। এক্ষেত্রে জানালার পাশে, বারান্দা বা দরজার কাছাকাছি জায়গা সবচেয়ে ভালো।

৪. বাতাস চলাচল ভালো হয় এমন জায়গায় কাপড় ঝুলিয়ে দিন। খুব বেশি গাদাগাদি করে দিলে কাপড় শুকাবে না। একটু দুরত্ব রেখে কাপড় নাড়লে কাপড় দ্রুত শুকায় এবং দুর্গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৫. বাইরে রোদ না থাকলে ঘরে ভেতরেই কাপড় শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য কাপড় নেড়ে ফ্যান চালিয়ে দিন। তাহলে দ্রুত কাপড় শুকিয়ে যাবে।

৬. ফ্যান চালানোর সঙ্গে সঙ্গে রুমের জানালা খোলা রাখুন। তাহলে প্রাকৃতিক বাতাসও কাপড় শুকাতে সাহায্য করবে।

৭. যে ঘরে ঘুমাবেন, সেখানে কাপড় না শুকানোই ভাল। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাছাড়া ভেজা কাপড়ের আর্দ্রতা থেকে সর্দি-কাশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে ঘরে কাপড় শুকাবেন, সেখানে যদি বাটিতে কিছুটা লবণ রেখে দেওয়া হয় তাহলে সেই লবণ আর্দ্রতা শুষে নেবে। তখন সহজেই কাপড় শুকিয়ে যাবে।

৮. ভেজা কাপড়ের উপর শুকনো তোয়ালে রেখে তার উপর গরম ইস্ত্রি করুন। এতে তাপ এবং তোয়ালে উভয়ই আর্দ্রতা শুষে নেয়। তখন কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।

ঋণের আওতা বাড়াতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

ঋণের আওতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরও ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চেয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। একই সঙ্গে পরিপূর্ণ তপশিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং রেমিট্যান্স আহরণ সুবিধা চালু করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য কোর ব্যাংকিং সলিউশন (সিবিএস) স্থাপন, সিআরআর, এসএলআর সংরক্ষণের মতো সক্ষমতা অর্জনসহ নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা চেয়েছে ব্যাংকটি।

জানা গেছে, বিএনপি সরকারের প্রথম দেড় বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ব্যাংকটিকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি বৈঠক হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি ওয়াহিদা বেগম বিভিন্ন বিষয়ের ওপর একটি লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ব্যাংকটির প্রস্তাবনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালককে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লিখিত প্রস্তাবনায় তিন ধাপে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বলা হয়–স্বল্প মেয়াদে সমাধানের জন্য দ্রুততম সময়ে ব্যাংকের তহবিল সংকট সমাধান করতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গতানুগতিক ব্যাংকের বাইরে কোনো ধরনের জামানত ছাড়া ঋণ দেয়। ফলে ব্যাংকটির ঋণ শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম থেকে ছাড় দিতে হবে। আন্তঃব্যাংক লেনদেন চালুর অনুমোদন এবং দ্রুত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে ১২২টি শাখার মধ্যে ৬২টি শাখা মাত্র দুজন করে জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন রেমিট্যান্স সেবা চালু করার কথা বলা হয়েছে। মধ্য মেয়াদে শাখাসহ ব্যাংকের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পূর্ণাঙ্গ তপশিলি ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরুর অনুমোদন ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদি প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে– তপশিলি ব্যাংকে রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দীর্ঘ মেয়াদে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

সরাসরি টাকা দেবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক
জানা গেছে, সরকারের গ্যারান্টির বিপরীতে বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স তহবিল রয়েছে। ব্যাংক রেট তথা ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল দেওয়া হয়। এখান থেকে এক হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। বিদেশে যাওয়ার আগে ২ থেকে ৫ বছর মেয়াদি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। বর্তমানে ১১ শতাংশ সুদে এ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাপানে লোক পাঠানোর জন্য ভাষা শিক্ষাসহ অন্যান্য দক্ষতার জন্য দ্রুততম সময়ে ঋণ কার্যক্রম জোরদার করতে চায় ব্যাংকটি। এজন্য নতুন করে ২ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করা এবং দক্ষতা কর্মসূচির জন্য এক হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি প্রাক-অর্থায়ন করলে তা টাকা ছাপানোর মতো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় যা সামঞ্জস্যপূর্ণ না। আবার আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে এ ধরনের অর্থায়ন অসামঞ্জ্যপূর্ণ। যে কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো তহবিল সহায়তা দেবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবশ্য আগের মতো অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গ্যারান্টি ইস্যু হলে সে ক্ষেত্রে তহবিল ছাড় করা হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাস্তবতায় এক্ষেত্রে বৈঠকে সবাই একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ পথে সহজে বাংলাদেশে আনা এবং বিদেশে যেতে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে নিজেদের ঋণের কিস্তি এখনও সরাসরি আদায় করতে পারে না ব্যাংকটি। মূলত কোর ব্যাংকিং সলিউশন না থাকায় অন্য ব্যাংকের সহায়তায় কার্যক্রম চালাতে হয়। এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্ল্যাটফর্মেও যুক্ত হতে পারেনি ব্যাংকটি। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিএসিপিএস, বিইএফটিএন, আরটিজিএস ও এনবিএসবিতে যুক্ত হওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মোট ঋণ রয়েছে তিন হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৪১৮ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। ব্যাংকটির ২১০ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটি কোনো আমানত নেয় না। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল নিয়ে পরিচালিত হয়। আবার বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণের কোনো বাধ্যবাধকতা মানতে হয় না। সাধারণভাবে প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংকের যেখানে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সিএরআর ৪ টাকা এবং এসএলআর হিসেবে ১৩ টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন-২০১০ এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের ঋণ সহায়তা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার পর কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ঋণ, দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পন্থায় সহজে রেমিট্যান্স পাঠানোয় সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকটি যাত্রা করে। ২০১৮ সালের জুলাইতে ব্যাংকটি তপশিলি ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত হলেও আজ পর্যন্ত তপশিলি কার্যক্রম চালু করেনি।