Home Blog

রক্তে শর্করা বাড়া সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নয়

খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম কিংবা মানসিক চাপ— প্রতিদিনের জীবনযাপনের নানা বিষয় শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রাও সময়ভেদে কিছুটা ওঠানামা করে। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে রক্তে শর্করার পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের ধারণা ও উদ্বেগ রয়েছে। খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। মনে হতে পারে, এটি হয়তো ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। তবে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার ইঙ্গিত নয়। কখন এই বৃদ্ধি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আর কখন তা সতর্ক হওয়ার কারণ— তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন রক্তে শর্করা বাড়ে

খাবারের কার্বোহাইড্রেট ও চিনি হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। এ সময় শরীর ইনসুলিন তৈরি করে, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে কিছু সময় পর রক্তে শর্করার মাত্রা আবার কমতে শুরু করে। শুধু খাবার নয়, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ কিংবা শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বেড়ে গেলেও সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করার কিছুটা ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক।

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বৃদ্ধি স্বাভাবিক

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা কমতে থাকে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসে। এ ধরনের সাময়িক বৃদ্ধি বা ‘স্পাইক’ সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরের কোষগুলোতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ এটি।

কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

তবে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকা বা নিয়মিতভাবে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা পরবর্তী সময়ে প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চোখ, স্নায়ু ও হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই একবারের সাময়িক স্পাইকের চেয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে কেমন থাকছে এবং নিয়মিত কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ মানুষের কি গ্লুকোজ মনিটর দরকার

ডায়াবেটিস নেই এমন সুস্থ মানুষের জন্য নিয়মিতভাবে গ্লুকোজ মনিটর বা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর (সিজিএম) ব্যবহার সাধারণত প্রয়োজন হয় না। শুধু খাবারের পর রক্তে শর্করার সাময়িক ওঠানামা দেখেই নিজের শরীরে সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। অতিরিক্তভাবে রক্তে শর্করার প্রতিটি পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলে বরং অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়

রক্তে শর্করা বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কার্বোহাইড্রেট শরীরের গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। বরং পরিমিত কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন, আঁশযুক্ত শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় করে খাবার খাওয়া ভালো। খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানোর পাশাপাশি আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবার শরীরে প্রতিক্রিয়া এক নয়

একই খাবার খাওয়ার পরও সবার রক্তে শর্করার মাত্রা একইভাবে বাড়ে না। খাবারের ধরন ও পরিমাণের পাশাপাশি ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির নিজস্ব বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যও এতে প্রভাব ফেলে। ফলে অন্য কারও রক্তে শর্করার ওঠানামার সঙ্গে নিজের মাত্রা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

রক্তে শর্করার সাময়িক বৃদ্ধি দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। খাবারের পর কিছুটা বাড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ হতে পারে। তবে মাত্রা যদি দীর্ঘ সময় বেশি থাকে, বারবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে কিংবা ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঝুঁকি বা উপসর্গ থাকে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। রক্তে শর্করার একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের মাত্রার চেয়ে নিয়মিত ওঠানামার ধরন, জীবনযাপন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা এবং অব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’।
সমাবেশে বক্তারা হাসপাতালের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের সুচিকিৎসার ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। অথচ অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে, যা দ্রুত লিফটে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনে অবস্থানরত রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে মাত্র একটি চালু থাকায় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অনেকেই মারা যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার সূচনা থেকেই প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে হতাহতের স্পষ্ট তথ্য সামনে আনলেও প্রশাসন প্রথমে তা অস্বীকার করে। পরবর্তী সময়ে দুজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও পদদলিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি আহতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশেও প্রশাসন রহস্যজনক নীরবতা বজায় রাখছে।

তদন্ত কমিটির ঢিলেঢালা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বক্তারা জানান, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লেও প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এটি হাসপাতালের নিজস্ব বা গোপনীয় কোনো বিষয় নয়। এটি গোটা ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সুরক্ষার প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলন ডেকে দ্রুত এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।’ তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখা হলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের দুর্নীতি ও অবহেলা মারাত্মক রূপ নেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
আরও বক্তব্য দেন, সংগঠনের সংগঠক আবু বকর ছিদ্দিক রুমেল, আব্দুল হান্নান আল আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ প্রমুখ। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানের ভাষ্য, তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি গোপনীয়। এটি হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে পরিচালক বলতে পারবেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সঙ্গে পরে কথা হবে। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।’

আ.লীগ সমঝোতা চাইলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ অসম্ভব নয়। তবে এ প্রক্রিয়া শুরুর আগে দলটিকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বক্তব্যের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা করা কঠিন। আওয়ামী লীগকেই এ বিষয়ে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। দলের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে এর আগে রিকনসিলিয়েশনের মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে সরকারের প্রতি হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু করা কঠিন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলের প্রধান নেত্রী– তিনি এখনও দোষারোপ করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

এলপিজির নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে নজরদারি
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারাদেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। এ জন্য সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না– এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোলাবাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর ও তিস্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে
চট্টগ্রাম বন্দর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে। তিস্তা প্রকল্পে শুধু নদীশাসন নয়, বর্ষার পানি কীভাবে ধরে রাখা যায়– ওয়াটার রিটেনশনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করেই পদক্ষেপ নেবে।
বাজার তদারকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালালেই সব সমস্যার সমাধান হবে– সরকার এমনটি মনে করে না। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যাতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
ভিজিএফের চাল ২০ কেজি করার উদ্যোগ
নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালের বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আলম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চলতি মাসে ৬০,৩০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়াসহ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থ সংস্থানে অক্টোবরে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অবশ্য এই ঋণের বড় অংশই পুরোনো ঋণ সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব ঋণের বড় একটি অংশ আগের ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। এ ছাড়া দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে খরচ করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানির খরচও অনেক বেড়েছে। অবশ্য আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিতেও তেমন সাড়া মিলছে না। এসব কারণে অনেক ব্যাংকের হাতে এখন প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য পড়ে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতে অনেক উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় সুদহার বাড়বে না বলে তাঁর ধারণা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বন্ডের নিলামে সরকার পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ সুদে তিন বছর মেয়াদি ঋণ ছিল ৮০০ কোটি টাকা। আর দুই বছর মেয়াদে পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ সুদে। গত রোববার বিভিন্ন ধরনের বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ৯১ দিন মেয়াদি বিলে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ সুদে নিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে তিন হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ সুদে। এ ছাড়া ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে দুই হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ সুদে।

সাধারণভাবে প্রতি রোববার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম হয়ে থাকে। আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে আগের দিন সোমবার নিলাম করে চার হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে আরও ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে সরকার বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে নেবে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর আগে নিলামের বিপরীতে গত জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরের নিলামে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয় সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে তিন হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়। এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে হয়েছে ছয় লাখ আট হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

রামপালে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে নির্মাণ করা হবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতায় বড় সংযোজন হবে। ভূমিকা রাখবে জ্বালানি নিরাপত্তায়। এই প্রকল্পে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ১৮ টাকা। এই ব্যয় সম্প্রতি অনুমোদন হওয়া ফেনীর সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম। সোনাগাজীর প্রকল্পে বিদ্যুতে ইউনিটপ্রতি দর ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৮৭ টাকা। নতুন প্রকল্পটি সে তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

‘কনস্ট্রাকশন অব ৪৪২ মেগাওয়াট সোলার ফটোভোল্টাইক গ্রিড কানেক্টেড পাওয়ার প্লান্ট অ্যাট ব্লক-বি রামপাল’ নামে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আজ বুধবার অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম দামে বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে গড় উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপ কমবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহকের বিল সহনীয় রাখা সহজ হতে পারে। প্রকল্পটির নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে বাগেরহাট, খুলনা ও আশপাশের এলাকায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত এই কেন্দ্র সমপরিমাণ কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ কমাবে, ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুর মান ভালো থাকতে সহায়তা করবে। তবে সৌরবিদ্যুৎ কেবল দিনের বেলা পাওয়া যায়, আর রামপালের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর ১৭ শতাংশ। তাই সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে অন্যান্য উৎস বা ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবি)। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ১২৭ কোটি টাকা আসবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল (পিডিএফ) থেকে। বাকি ৩৭৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিউবো তার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।
জানা গেছে, শুরুতে আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগে (জেভি) প্রকল্পটি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিদ্যুতের বিশেষ বিধান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২১) বাতিল হওয়ার পর সরকার সেই পথ থেকে সরে আসে। এরপর গত বছরের মে মাসে সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ গ্রিড-সংযুক্ত হবে এবং বিউবো একাই উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করবে।

কয়লার জন্য নেওয়া জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ
২০১২ সালে রামপালে কয়লাভিত্তিক ও অন্যান্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর ‘ব্লক-বি’ অংশেই হবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই ব্লকের আয়তন ৯১৮ দশমিক ৫০ একর। গ্রিন বেল্ট, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, লেক ও নিচু জমি বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য ৬৮৫ একর চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ব্লকের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। জমি আগে থেকেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দখলে থাকায় নতুন অধিগ্রহণ বা বড় ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন হবে না।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এতে অবকাঠামো ব্যয় কমেছে এবং বিদ্যুতের দাম কম রাখা সম্ভব হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশাল জমি লাগে বলে এ সুবিধা ব্যয়ের হিসাবে বড় ভূমিকা রাখছে।
ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান (আইইপিএমপি) ২০২৩ অনুযায়ী, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২০৩০ সালে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট এবং ২০৫০ সালে প্রায় ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।
ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই ব্যবধান মেটানো জ্বালানি নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ। এ চাহিদা মেটাতে এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করেছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

ধর্ষণে তরুণীর মৃত্যু, তরুণ গ্রেপ্তার

ধর্ষণে তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগে শান্ত পাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর আহাম্মদনগর চৌরাস্তা এলাকায় রোববার ওই ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার কালিয়াকৈর থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

গত বোরবার সকালে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকায় প্রেমিক শান্ত পালের সঙ্গে দেখা করতে যান ওই তরুণী। শান্ত তাঁকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে সফিপুর বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান শান্ত। সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শান্ত মরদেহ নিয়ে ভালুকায় যান। সেখানে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় শান্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিরাজদীখানে নারীর মরদেহ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে নিখোঁজের এক দিন পর শামসুন্নাহার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। গতকাল সকালে স্থানীয়রা রাস্তার পাশের খাদে মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে কারও বিরোধ বা শত্রুতা নেই। মায়ের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ছিল বলে জানান তিনি। সিরাজদীখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনের কাছে দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জে নিহত ৩ জন
মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঘরের টিনের বেড়ায় হাত লাগার পর বিদ্যুৎস্পর্শে পূর্ণিমা নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে চর কোশুণ্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পূর্ণিমা ওই গ্রামের মৃত জামাল শেখের মেয়ে। ঘিওরের ফুলহারা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় রাসেল মিয়া নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাসেলের নেশার টাকা জোগাড় করা নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি হতো। গতকাল সকালে একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ ছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় সোনাই বেগম নামে এক পথচারী নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় এসিআই মোটরসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ট্রাম্প কোণঠাসা করলেও নতি স্বীকারের লক্ষণ নেই ইরানের

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। বিক্রির জন্য দেশটির অবশিষ্ট তেলের মজুত প্রায় শেষের পথে। অপরিশোধিত তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারের প্রধান রাজস্বের উৎস কমছে। মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবু ইরানের এখনও নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় দেশটির সরকার।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের বন্দরগুলো থেকে এক ফোঁটাও তেল রপ্তানি হয়নি। সামুদ্রিক বাণিজ্যের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ২০১৩ সাল থেকে ইরানের তেল রপ্তানি পর্যবেক্ষণ শুরু করার পর এটাই ছিল প্রথম মাস, যখন দেশটি কোনো অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে তুলতে পারেনি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এলাকার বাইরে থাকা ইরানের তেলের মজুত জুলাইয়ের ১০ কোটি ব্যারেল থেকে কমে মাত্র এক কোটি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকট বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই। তার পরও ইরান নতি স্বীকার করতে চাচ্ছে না। এর একটি কারণ, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং বিক্ষোভ দমনে সরকারের নির্মম পদক্ষেপ অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সরকারকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। মোহসেন রেজাই বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ সহ্য করার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের ধৈর্য ও সহনশীলতা অসাধারণ। আর নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

কেপলারের নীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্রুহার্ড বলেছেন, দেশটির অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কার্যক্রম এখনও চলছে।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী নতুন করে তৈরি করা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের বিপুল মজুত গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যে উচ্চমাত্রার উৎপাদন শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও দ্রুতগতিতে চলছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি অন পিসে হামলায় ১২ নাবিক আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাঙ্কারটিতে ১৯ নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। আহত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই ভারতের নাগরিক।

হুমকির কারণে যুদ্ধবিমান সরানো হয়েছে: ট্রাম্প

কিছু হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি হুমকি সম্পর্কে জানত, যা তাদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিতে তৎপর করেছে।’ এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম দুই শহর লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোতে ইরানকে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে অর্থহীন বললেন পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন প্রকৃতপক্ষে সংলাপ চায় না। গত সোমবার আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা যখনই আলোচনার টেবিলে বসি, তখনই আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে, তারা সংলাপ চায় না।’

পাকিস্তান সফরে জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর সিএনএন, বিবিসি, এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর ও ডনের।

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ, ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরল ক্রিস্টা পাইকের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞান ফিরেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। তিনি এখন সচেতন এবং কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

৫০ বছর বয়সী পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তার আইনজীবীরা জানান, তাকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় হাসপাতালে গুরুতর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আইনজীবীদের ধারণা, সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

গত বুধবার টেনেসিতে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার জন্য দুইবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুবারই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন তিনি অচেতন ছিলেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া রাসায়নিক বের করার চেষ্টা করেন।

পাইকের আইনজীবীরা তার বর্তমান অবস্থাকে ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর বেঁচে যাওয়ার ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

ফোর্ডহাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও অপরাধবিজ্ঞানী ডেবোরা ডেন্নো বিবিসিকে বলেন, পাইক এখন সচেতন হয়ে কথা বলতে পারছেন-এটি দেখে তিনি ‘চরমভাবে বিস্মিত’। তার মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত আরও সাতটি ঘটনায় বন্দীরা বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে বন্দীদের শিরায় প্রাণঘাতী ওষুধ প্রবেশ করানোই সম্ভব হয়নি।

ডেন্নো বলেন, পাইকই একমাত্র ব্যক্তি, যার শরীরে কোনো ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক প্রবেশ করানোর পরও তিনি বেঁচে আছেন। তার ভাষায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় যা যা করার কথা, তা করা হয়েছিল; কিন্তু সেটি কাজ করেনি। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।

তবে পাইকের সুস্থ হয়ে ওঠার পথ এখনো অনিশ্চিত। তার আইনজীবীদের পরামর্শক অ্যানেসথেসিওলজিস্ট জোয়েল জিভট বলেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে পেন্টোবারবিটালের যে পরিমাণ পাইককে দেওয়া হয়েছিল, তা রক্তপ্রবাহে স্বাভাবিকভাবে পৌঁছালে তার মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।

জিভটের ধারণা, ওষুধটি সম্ভবত পাইকের রক্তনালিতে প্রবেশ না করে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তার মস্তিষ্কে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেরি হওয়ায় মস্তিষ্কে ক্ষতির আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।

পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার দুই হাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা সতর্ক করেছিলেন, পাইকের শারীরিক অবস্থা-বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (থ্রম্বোসাইটোসিস) এবং ছোট শিরা-প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত ব্যথা ও কষ্টের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যা করার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সে সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন বলে মামলায় প্রমাণিত হয়।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর টেনেসি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জানায়নি, পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না। কী কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন কাজ করেনি, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি তারা।

টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। এদিকে অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বুধবার ন্যাশভিলের একটি আদালতে পাইকের আইনজীবীদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। পরে আদালতের বাইরে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন।

ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকার ফাতেমা তুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্বজনের সঙ্গে বেড়াতে এসেছিলেন।
সৈকতে জেলা প্রশাসন থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচকর্মী মাহবুব আলম জানান, সীমা আক্তারের ওড়না গাড়ির চাকায় পেঁচিয়ে যাওয়ায় তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সীমা আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুর গ্রামের মাহাবুব আলমের মেয়ে। মাহাবুব আলম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে আরবি শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত করব। কিন্তু বড় মেয়ের এমন মৃত্যু আশা করিনি, বুকটা ফেটে যাচ্ছে। মেয়ের মরদেহ নিয়ে তার মা, মামা কুমিল্লায় আসছেন।’ দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সীমা সবার বড়। গতকাল সন্ধ্যায় মাহাবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, সীমা তার ফুপাতো ভাইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মা, মামা, নতুন বউসহ ১৫ জনকে নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার রওনা হয়েছিল। সোমবার ভোর ৬টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছে। গতকাল সকালে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিল। সেই সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

এই মাঠ ছাড়তে চাই না, শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি: মেসি

০

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের শেষ মুহুর্তে নিজের আবেগ আর সামলাতে পারলেন না কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের লগ্নে মাইক্রোফোন হাতে লিওনেল মেসির বক্তব্য হৃদয় ছুয়েছে ভক্তদের। বিদায়ী ম‍্যাচে মেসি বলেন, আমি শপথ করে বলছি, সারাজীবন এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই।’

পরক্ষণেই বলেছেন, ‘কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছেও গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা শারীরিক ও মানসিক, দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম।’

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার ভেতর দিয়ে আবেগের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিতভাবেই এমন অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছি যা আমি বলতে চেয়েছিলাম, কারণ এটা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক মুহূর্ত। সবার আগে যার কথা আমার মনে আসছে, তিনি হলেন আমার বাবা। এখানে খেলতে না পারাটা আমি খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। আমি কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসা জাতিয়ে বলেন, ‘এই জার্সিকে ধন্যবাদ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে, এমনকি সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোতেও আমি কখনও লড়াই করা থামাইনি। সামনে এগিয়ে যাওয়া বন্ধ করিনি, আমার যা কিছু ছিল তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় এখানে থাকতে চেয়েছি। এখানে আর আসা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে না খেলতে পারাটা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দেবে। যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি আমার সারা জীবন এখানে খেলে যেতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব‍্যাপার।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ আমি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কথা বলছি, কারণ আমি স্রেফ চাই না যে এই মুহূর্তটি শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার আমার অবসর নেওয়ার সময় চলে এসেছে। গত বিশ্বকাপে আমরা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা আমাদের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলাম কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, ঠিক যেভাবে আমরা সবসময় করে এসেছি। আমরা আবারও জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম এবং আমাদের নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছিল, আসলে তেমন অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক শক্তি ক্ষয় করেছিল, কারণ আমরা সেখানে আমাদের একেবারে সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলাম।

মেসি বলেন, ‘২০২২ সালে, আমাদের কেবল আমার নিজের স্বপ্নই নয়, বরং পুরো একটি দেশের স্বপ্ন পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল- আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর আমরা তা করে দেখিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি, কোপা আমেরিকা জিতেছি, ফিনালিস্সিমা জিতেছি… এই জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এর সবকিছুর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। তবে এই যাত্রাটা কেবল ২০২২ বা এই শেষ বিশ্বকাপকে নিয়ে নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক আগে থেকে অসংখ্য সতীর্থ এই জার্সির জন্য আমার পাশাপাশি লড়াই করেছে। তাদের প্রত্যেকে আর্জেন্টিনার জন্য কতটা লড়াই করেছে এবং নিজেদের কতটা উজাড় করে দিয়েছে, তা নিয়ে কখনো কোনো সন্দেহ করিনি ‘

মহাতারকা এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার সব সতীর্থর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারা এবং ফুটবলের বাইরে আমাদের জীবনের এত বড় একটি অংশ এক সঙ্গে কাটাতে পারাটা ছিল একটি সৌভাগ‍্য ও সম্মানের। প্রতিবার যখন আমরা মাঠে পা রেখেছি, আমি জানতাম আমরা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। কারণ, আমার পাশে এমন সব যোদ্ধা ছিল যারা মাঠে তাদের সবটুকু দিতে প্রস্তুত ছিল। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো লুফে নিতে হলে আপনার একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। আর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতেই আপনি সত্যিই আবিষ্কার করতে পারবেন যে, আপনার দলটি কেমন। এটাই অন্যতম বড় কারণ, যার জন্য আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা করতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে এই দলকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তারা আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। আমি জনগণকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর্জেন্টিনার অনেক শহরে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং আমি যেখানেই গিয়েছি, অবিশ্বাস্য রকমের ভালোবাসা পেয়েছি ‘

লড়াকু এই ফুটবলার আরও বলেন, এই এত বছর ধরে, পৃথিবীর যেখানেই আমরা খেলি, স্টেডিয়ামগুলো সবসময় আর্জেন্টাইনদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। ম্যাচ যেমনই হোক কিংবা দূরত্ব যতই হোক না কেন, মানুষ সেখানে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা জানি সেটা কতটা কঠিন। পৃথিবীর যেখানেই আমরা গিয়েছি, মনে হয়েছে আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি, কারণ আমরা সবসময় আপনাদের সমর্থন অনুভব করতে পেরেছি। এই সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। কঠিন মুহূর্ত আসবে, আর সেই মুহূর্তগুলোতেই দলকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমর্থন করতে হবে। আপনাদের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দলের প্রয়োজন, কারণ সবসময় এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায় এবং আমরা তাদের সেই আত্মতৃপ্তির সুযোগ দিতে পারি না। এখানে, এই স্টেডিয়ামে, আমি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটি দিন পার করেছি–বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে খেলা আমাদের প্রথম ম্যাচটি। সেটি ছিল খুব সুন্দর। আর আজকের দিনটি হয়ত সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি, কারণ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমি আপনাদের সবাইকে খুব মিস করব, কিন্তু আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আমি এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন করে যাব।