Home Blog Page 149

হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ পরাজয় হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা, আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক’ হামলার কৌশল চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, কিছুদিন আগে ‘আরও আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী এবং বিজয় খুব সন্নিকটের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এসব নিয়ে অনেক লেখালেখিও করেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর সবই এখন ভয়াবহভাবে হেরে গেছে। একতরফা ও উসকানিমূলক হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই হামলা জোরদার করার ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতেন। সবশেষ মঙ্গলবার ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তিনি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ৩৯ দিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে: রিজভী

হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক সমাজ ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার ও স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিএনপি’র উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।

রিজভী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’। এই প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে টিকাবিরোধী প্রচার ও কুসংস্কার অন্যতম কারণ। উন্নত বিশ্বেও ‘অ্যান্টি-ভ্যাকসিন’ একটি গোষ্ঠী সক্রিয় এর ফলে সমাজে এখনো অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে।

রিজভী বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিজ্ঞানেরই ফল। মানুষ প্রত্যাশা করে, যেকোনো মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, করোনার সময় বরাদ্দ দেওয়া চাল ও গম তৎকালীন ক্ষমতাসীন চেয়ারম্যানদের বাড়ির নিচে পাওয়া গেছে। এর ফলে বহু মানুষের জীবন গেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার অত্যন্ত উদ্দীপ্ত ও সর্বতভাবে সক্রিয়। তবে জনস্বার্থকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাতে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ খাতে যথেষ্ট নজর দেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, গত ১২–১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৮ জনের জীবন গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যভিত্তিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সাতজন শিশু মারা গেছে। শিশুদের মৃত্যু মানুষের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ যেন স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, এটি একটি জনবান্ধব সরকার।

রিজভী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের চিকিৎসার পথ দেখায়। আজ মানুষ মহাকাশের বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারছে। অথচ হাম এমন একটি রোগ, যা বহু আগে থেকেই শিশুদের আক্রমণ করে আসছে। এত দিনেও কেন এই রোগ নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে একটি মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। দুই–তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জার্নাল রিভিউতে ২৩ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হলে গবেষণার ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানের জন্য, গবেষণার জন্য আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আজকের এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিক্যাল কর্মীরা সজাগ আছেন। বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে অনেক কর্মসূচি বাদ দেওয়া হলেও আয়োজকেরা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম,জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু , সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও অভিনেতা আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহকারী পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক সাগর খানসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা।

গরমে বেশ ক্লান্ত লাগছে? শক্তি পেতে ঘরেই বানান শাহী বাদামের শরবত

বেশ গরম পড়েছে। সামনের দিকে তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে। বেশি গরমে অল্পতে ক্লান্ত লাগে, হাঁসফাস লাগে। কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না। এমন অবস্থায় চুমুক দিতে পারেন শাহী বাদামের শরবতে। এতে দ্রুতই শক্তি ফিরবে। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী মোস্তারিনা পারভীন রুনি

উপকরণ: তরল দুধ এক লিটার, চিনি চার টেবিল চামচ, গুঁড়া দুধ চার টেবিল চামচ, কাঠবাদাম-কাজুবাদাম ১০০ গ্রাম, এলাচ গুঁড়া এক চিমটি, জাফরান এক চিমটি, বরফ কিউব চারটি।
প্রস্তুত প্রণালি : দুধ জ্বাল দিয়ে ৫০০ গ্রাম বানিয়ে নিন। চিনি, গুঁড়া দুধ, বাদাম, এলাচ গুঁড়া ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। সাথে জাফরানও দিন। ব্লেন্ড করা হলে ভালো করে ছেঁকে নিন। এক ঘন্টার মত নরমাল ফ্রিজে রাখুন। এক ঘন্টা পরে বের করে গ্লাসে কিছু বরফ কিউব দিয়ে আর কিছু বাদাম কুচি দিন। একটু জাফরান দিয়ে সাজিয়ে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল মজাদার শাহী বাদামের শরবত।

ফ্রান্সে এক ম্যাচেই ২৪ লাল কার্ড

ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে এক ম্যাচে ২৩ লাল কার্ডের ঘটনার এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এবার একই রকম ঘটনার সাক্ষী হলো ফ্রান্স। দেশটির একটি অপেশাদার লিগের ম্যাচে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে মারামারির পর রেফারি এক ম্যাচেই ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন! ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এমন গণ-লাল কার্ডের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়েস্ত ফ্রান্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সের অপেশাদার ফুটবলের আঞ্চলিক পর্যায়ের দ্বিতীয় বিভাগের লিগে। মোরবিয়ানের আঞ্চলিক এই ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আভেনির দে গিয়ি এবং ইন্দেপেন্দান্ত দে মোরোন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় আসল বিপত্তি।

সমর্থকদের মধ্যে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় গণমারামারিতে। এতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা, এমনকি বাদ যাননি এক খেলোয়াড়ের অভিভাবকও। মোরোনের এক খেলোয়াড়ের বাবা তার ছেলেকে বাঁচাতে দৌড়ে মাঠে ঢুকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারামারির সময় কেউ কেউ লাঠিসোঁটাও ব্যবহার করেন। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা একে অপরকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করলে স্টেডিয়ামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর মধ্যে আভেনিরের ১৩ জন এবং মোরোনের ১১ জন রয়েছেন।

এদিকে ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ডটি এখনও আর্জেন্টিনার দখলে। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশটির পঞ্চম বিভাগের লিগে আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের মধ্যকার ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি।

ফরাসি ফুটবলের এই কলঙ্কজনক ঘটনা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক শৃঙ্খলা কমিটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে জড়িত উভয় ক্লাবের বিরুদ্ধেই বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

গৌরী ছাড়া আরও পাঁচ নারীর সঙ্গে জড়িয়েছে আমিরের নাম

বলিউড অভিনেতা আমির খান বর্তমানে সম্পর্কে রয়েছেন গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে। গত বছর ৬০তম জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে প্রাক্তন দুই স্ত্রী রিনা দত্ত ও কিরণ রাওয়ের সঙ্গে এখনো সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন এই অভিনেতা।

তবে এই তিনজনের বাইরে বলিউডের বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে আমির খানের নাম জড়িয়ে আলোচনায় এসেছে।

২০০০ সালে ‘দিল চাহতা হ্যায়’ সিনেমা মুক্তির পর সহঅভিনেত্রী প্রীতি জিনতার সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়। এমনকি গোপনে বিয়ের খবরও রটেছিল। যদিও এ বিষয়ে কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

আমির খান ও প্রীতি জিনতা

আমির খান ও প্রীতি জিনতা

১৯৯৫ সালের ‘বাজি’ সিনেমার শুটিংয়ে মমতা কুলকার্ণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়।

ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। একসময় তাদের একসঙ্গে থাকার এবং সন্তান থাকার দাবিও শোনা যায়, যদিও এ বিষয়ে কখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি আমির।

এর আগে ‘দিল হ্যায় কে মানতা নেহি’ সিনেমাতে অভিনয়ের সময় পূজা ভাটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে পূজা ভাট এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

পূজা ভাট ও আমির খান। ছবি: সংগৃহীত

পূজা ভাট ও আমির খান। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে ‘দঙ্গল’ সিনেমা অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়, বিশেষ করে কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর। তবে এসব গুঞ্জনের অধিকাংশই কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত অবস্থানেই থেকেছেন আমির খান। তবে গত বছর ৬০তম জন্মদিনে প্রেমিকা গৌরী সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

গণ‌ভো‌টের ফল বাস্তবায়‌নে জামায়াত জো‌টের চার‌দি‌নের কর্মসূ‌চি

গণ‌ভো‌টে অনু‌মো‌দিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ক‌রে সনদ অনুযায়ী সংস্কা‌রের দা‌বি‌তে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের জামায়াত কার্যাল‌য়ে ১১ দ‌লের নেতা‌দের বৈঠকের পর আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূ‌চি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বৈঠকের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী কর্মসূচি এবং দাবিগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঘো‌ষিত কর্মসূ‌চি অনুযায়ী জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য লিফলেট বিতরণ কর‌বে। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া ৯ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে ১১ এপ্রিল দেশের সকল মহানগরে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

১২ এপ্রিল দেশের সকল জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ হলে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি জনাব রাশেদ প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট ২০২৬-২৭ ব্যয়সাশ্রয়ী বাজেটের চিন্তা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকিতেই খরচ হবে প্রায় লাখ কোটি টাকা। এর বাইরে কৃষি ও সারের ভর্তুকিও বাড়বে। নতুন সরকারের নির্বাচিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি না ফেরায় সরকারের আয় বাড়ানোর পথও সীমিত। এ কারণে জরুরি ব্যয়ের বাইরে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট সংকোচনমূলক রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় আগামীকাল বুধবার অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার পথ বের করা ও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কেমন হবে, তা পর্যালোচনা করতে সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল এবং বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি প্রথম বৈঠকে বসছে। আগামীকাল বুধবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি বাড়বে– এমন প্রত্যাশা নিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য আট লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় আয়ের পথ সংকুচিত হলেও ব্যয়ের চাপ পড়ছে। এ অবস্থায় সংকোচনমূলক বাজেট প্রণয়নের চিন্তা থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার আট লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা থেকে আট লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ব্যবস্থা থেকে পাঁচ লাখ ৩০ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হতে পারে।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজস্ব আয়ের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আয়-ব্যয় পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে। এর ফলে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় যদি বাজেটের আকার আরও বড় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরবর্তী বৈঠকের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর ইতোমধ্যে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মেটাতে সরকারের গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করাসহ বেশকিছু খাতে ব্যয় সংকোচন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর বাইরে রাজস্ব বাজেটে থাকা থোক বরাদ্দ এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ থাকা অর্থ কাটছাঁট করে মার্চ-এপ্রিলসহ কয়েক মাসের বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া গেলেও মাসের পর মাস সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থার মধ্যে আগামী অর্থবছরে বড় বাজেট প্রণয়ন করলেও রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে না। তাই সংকোচনমূলক বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছেন তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অন্যান্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ, বন্ড ইস্যু করে বেসরকারি খাত থেকে ঋণ নিয়ে এবং অর্থ বিভাগের আওতাধীন ‘অপ্রত্যাশিত খাত’-এ বরাদ্দের অর্থ ব্যবহার করে আপাতত ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আর সম্ভব হবে না। তাই জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে তেলের দাম বাড়ালে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকোচন অপরিহার্য। চলতি সংশোধিত বাজেটে ইতোমধ্যে গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরেও এ ধরনের সাশ্রয়ী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে ব্যয় আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। যদিও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলো থেকেও আগামী অর্থবছরের জন্য উল্লেখযোগ্য বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

দুই সার কারখানা বন্ধ, আরেকটি বন্ধের পথে

গ্যাস সংকটে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এখন অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। আগামী সপ্তাহ নাগাদ সিইউএফএল-কাফকো চালু হয়ে অ্যামোনিয়া সরবরাহ করতে না পারলে ডিএপিএফসিএল বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক।

জানা গেছে, দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ক্রমবর্ধমান যৌগিক সারের (নাইট্রোজেন ও ফসফরাস-সংবলিত) চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন ডিএপিএফসিএল প্রতিষ্ঠিত হয়। আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় দৈনিক ৮০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পৃথক ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে এ কারখানা ২০০৬ সাল থেকে সফলভাবে ডিএপি সারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে।

ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পার্শ্ববর্তী দুই বৃহৎ সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের মাধ্যমে ডিএপিএফসিএল ইউরিয়া উৎপাদন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমা থাকা অ্যামোনিয়া শেষ হলে আগামী সপ্তাহ নাগাদ ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, আমাদের কারখানায় অন্যান্য সার কারখানার মতো বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয় না। আবাসিক এলাকার গ্যাসের মতো স্বল্প গ্যাসের মাধ্যমে কারখানা চালু থাকে। তবে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য সিইউএফএল-কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া না পাওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, কারখানাটির প্রায় সব যন্ত্রপাতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জনবলেরও সংকট রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বর্তমান সময়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় উৎপাদন শুরু আজ
গ্যাস সংকটে নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার সার উৎপাদন ২৭ দিন বন্ধ ছিল। গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস পাওয়ার পর উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাঁচ দিন পর গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হয়েছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম জানান, গ্যাস পাওয়ার পর পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগে সার উৎপাদনে আসতে। কারখানাটি ২ হাজার ৮০০ টন দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ বিকেল থেকে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কারখানায় সংযোগ বন্ধ করা হয়।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণ ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা হলে কী ঘটতে পারে বিপর্যয় নামবে হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থায়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এই হামলা যদি কার্যকর করা হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে নামতে পারে ব্যাপক অস্থিরতা। একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসবে বিপর্যয়, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি ও জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা বেড়ে যাবে। গতকাল সোমবার ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়।

গত রোববার ট্রাম্প জোর সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তেহরান এই হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল লিখেছে, ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রধানত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যেগুলোর বেশির ভাগই প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে চলে।

তুলনামূলকভাবে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা অল্প এবং এগুলো কেবল তেহরান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসহ প্রধান শহুরে ও শিল্পকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হলো তেহরানের পূর্বে অবস্থিত দামাভান্দ কম্বাইন্ড-সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর মেট্রোপলিটন এলাকায় এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে কাস্পিয়ান উপকূলের নেকা ও ইস্পাহানের নিকটবর্তী

শহীদ মোন্তাজেরিসহ অন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্বাভাবিক হামলা হলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ের শঙ্কা
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে পর্যায়ক্রমে পুরোদেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে। হাসপাতালগুলো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। পানি উত্তোলন এবং পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সরবরাহ বজায় রাখার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, কারখানা এবং পরিবহন ব্যবস্থা সবই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎশক্তির ওপর নির্ভরশীল।

যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং খরার মতো পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে চাপের মধ্যে দেশটির সরকার। বড় আকারের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা কারখানা থেকে শুরু করে বাড়ির পানি সরবরাহ পর্যন্ত সবকিছুকে প্রভাবিত করবে।

যেহেতু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত অনেক যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়, তাই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামত করতেও সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধের অধীনে তা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা বিপর্যয় বাড়াবে
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তারা আনুপাতিকভাবে জবাব দেবে। প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানাবে তেহরান। পারস্য উপসাগরের তেল স্থাপনা, প্রধান শহরগুলোতে পানীয় জল সরবরাহকারী লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র এবং ইসরায়েলি অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

তেহরান তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমেও প্রতিশোধ নিতে পারে। এর আগে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি উভয়েই অবকাঠামো ও নৌপথকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইরানের প্রক্সি শক্তির হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের হামলা শুরু হলে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা করা বেআইনি এবং এই ধ্বংসযজ্ঞ নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করেছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর হামলার ফলে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

মানবাধিকার কমিশনের আগের আইন ফেরাতে বিল

অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহালে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় এমপিরা আপত্তি জানান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিলটি এখনই পাস হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে আলোচনা করা হবে।

গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলে গতকাল বিল উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী। এতে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় এমপিরা। তখন তিনি বলেন, এ বিলটিতে বিশেষ কমিটির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। পাসের আগে আলোচনা করা হবে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপনে আইনমন্ত্রীকে অনুমতি নিতে বলেন ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপন করেন। ভুল ধরা পড়লে স্পিকার তা অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী আবারও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপনে অনুমতি প্রার্থনা করেন।

যদিও সম্পূরক কার্যসূচিতে লেখা ছিল ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিতকরণে একটি বিল’; পরে একই ভুল করেন আইনমন্ত্রী। ফলে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়নি আইনমন্ত্রীর বক্তৃতায়। আসাদুজ্জামান ভুল পড়লেও স্পিকার বলেন, ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিতকরণে একটি বিল’ উত্থাপিত হলো।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে তৎকালীন মানবাধিকার কমিশন পদক্ষেপ না নিয়ে সমালোচিত হয়েছিল। অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী-সংস্থার বিরুদ্ধে থাকলেও ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে কমিশন শুধু সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। এর পর প্রয়োজন মনে করলে কমিশন শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু অতীতে দেখা যেত, সরকার কমিশনের চিঠি আমলে নিত না। প্রতিবেদন চাইলে দিত না। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করত না।

অন্তর্বর্তী সরকার এই আইনটি বাতিল করে। মানবাধিকার কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয় অধ্যাদেশে। অধ্যাদেশের ১৬ ধারায় বিধান করা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে কমিশন। যে কোনো সরকারি কর্মচারী, বাহিনী ও সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা বাহিনীর সদস্য হলে তাকে আদালতের অনুমতিতে গ্রেপ্তার করতে পারবে কমিশন। তবে সরকারের অনুমতি লাগবে না। কমিশনের আদেশ যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানতে বাধ্য থাকবে। না মানলে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অদক্ষতা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন। অধ্যাদেশে বিধান ছিল, আপিল বিভাগের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের জন্য নাম মনোনীত করবে।
পুরোনো আইনে স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একজন করে এমপির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের নাম প্রস্তাব করত। গতকাল উত্থাপিত বিলটি পাস হলে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

৭টি বিল পাস, একটি বাছাইয়ে 
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিলসহ ৭টি বিল গতকাল পাস করেছে সংসদ। জাতীয় সংসদ অধ্যাদেশ রহিত করার বিলও পাস হয়। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ করা যাবে না– এ বিধান বাদ দিয়ে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী। এটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার।
অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৯ জানুয়ারি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ করেছিল। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এ অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছিল।
অধ্যাদেশের এ ধারায় বলা হয়েছে, তিন বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমিতে তামাক চাষ করা যাবে না। এক ও দুই ফসলি কৃষিজমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

যে সাতটি বিল পাস হয়েছে, সেগুলোতে সংশোধনী না থাকায় সরাসরি ভোটে দেন স্পিকার। কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। সংসদে আালোচনাও হয়নি। ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল পাসের জন্য তোলার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান বলেন, তিন দিন আগে বিলের কপি সংসদ সদস্যদের দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। তারা একটু আগে ৪৯ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেয়েছেন। তাহলে তারা কীভাবে কথা বলবেন?

জবাবে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে দেওয়ার কথা ঠিক আছে। আবার স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতাও আছে।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করতে হবে। কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে সকাল-বিকেল দুবেলা অধিবেশন বসবে। প্রয়োজনে শুক্রবারও বৈঠক বসবে। সময়স্বল্পতার কারণে সব বিলের আগে কপি দেওয়া যায়নি।

দুঃখ প্রকাশ করে চিফ হুইপ বলেন, যেসব বিলে বিশেষ কমিটিতে সবাই একমত হয়েছিলেন, সেগুলো এখন পাস হয়ে যাক। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট আছে বা সংশোধনী আছে সেগুলো আলাদাভাবে আগামীকালের মধ্যে সব উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।