রীতিমতো ইতিহাস গড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল ভারত। একতরফা ফাইনালে ৯৬ রানের বিশাল জয়ের পথে নিউজিল্যান্ডকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুটিসহ সর্বাধিক তিনটি শিরোপা জিতল মোড়ল দেশটি। রবিবার আহমেদাবাদের নরেদ্র মোদি স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সাঞ্জু স্যামসন, অভিশেক শর্মা, ইশান কিষানদের ব্যাটিং তাণ্ডব গ্যালারিতে ঢেউ তোলেন। টানা তিন ম্যাচে অবিশ্বাস্য স্যামসন ৪৬ বলে করেছেন ৮৯ রান। ৫ চারের বিপরীতে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৮টি! ব্যাডপ্যাঁচ কাটিয়ে মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠেছেন অভিশেক। ২১ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৪৭.৬১ স্ট্রাইক রেটে খেলেছেন ৫২ রানের টর্নেডো ইনিংস! সঙ্গে ওয়ানডাউনে ইশান কিষানেরর ২৫ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৪। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে সূর্যদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫৫ রান। ফাইনালে যা সর্বোচ্চ দলীয় রানের নতুন রেকর্ড। জবাবে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট মিচেল স্যান্টনারের নিউজিল্যান্ড যেন হারার আগে হেরে গেল। অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় ন্যূনতম প্রতিরোধটুকু গড়তে পারেনি নিউজিল্যান্ড। টিম সেইফার্টের ফিফটি বাদ দিলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং। ২৬ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫২ রান করা ওপেনারকে ফিরিয়েছেন বরুন চক্রবর্তী। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অতিমানবীয় সেঞ্চরিতে দলকে ফাইনালে তোলা ফিন অ্যালেন আউট হন ৯ রান করে। রাঁচীন রবীন্দ্র ১, গ্লেন ফিলিপস ৫, মার্ক চাপম্যান ৩! অষ্টম ওভারে দলীয় ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে হারের প্রহর গুনতে থাকে কিউইরা! শেষদিকে অধিনায়ক স্যান্টনারের ৩৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটা কেবল হারের ব্যবধানই কিছুটা কমিয়েছে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। অক্ষর প্যাটেলের শিকার ৩টি। হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুন চক্রবর্তী ১টি করে। এর আগেসেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিল টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঠিক সেখান থেকেই এদিন শুরু করেন ভারতীয় ব্যাটাররা। রানের খাতা খেলে ছক্কা দিয়ে। ম্যাট হেনরির করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলটাকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন স্যামসন। তাঁর ছক্কাটাই পুরো ইনিংসে ভারতের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকল। সেই শুরুর পর ইনিংসজুড়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করেছে ভারতীয় ব্যাটাররা। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের লক্ষাধিক দর্শককে আনন্দে মাতিয়ে এদিন ইনিংসজুড়ে সমানতালে প্রতিপক্ষকের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে গেছে ভারতীয়রা। স্যামসন, অভিষেকের শুরুর ঝড়ের পর নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন ইশান কিষান; তিনজনই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ফিফটি না করলেও কম যাননি শিবম দুবে। সব মিলিয়ে ফাইনালে নিজেদের ইনিংসে স্বাগতিক দর্শকদের শতভাগ ক্রিকেটীয় বিনোদন দিয়েছে ভারতীয় ব্যাটাররা। ৭.১ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতকে ৯৮ রান এনে দেন দুই ওপেনার অভিষেক ও স্যামসন। ২১ বলে ৫২ রান করে অভিষেক টিম শেইফার্টের হাতে ধরা পড়লে এই জুটি ভাঙে। তাতে অবশ্য তাণ্ডব থামেনি ভারতের।
দ্বিতীয় উইকেটে কিষানকে নিয়ে ১০৫ রান যোগ করেন স্যামসন। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে এবং সেমিফাইনালেও সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে ফিরেছেন স্যামসন। এবারও সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া হলো না তার। তবে দলের স্কোর বোর্ডে বিশাল রান এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে পারায় সেঞ্চুরির না পাওয়ার হতাশা ভুলে যাওয়ার কথা স্যামসনের। মাত্র ৪৩ বলে ৯৮ রান করেন দুই ভারতীয় ওপেনার। যে পথে স্যামসন-অভিশেক ঝড়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই আসে ৯২ রান। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাওয়ার প্লেতে এটিই কোনো দলের সর্বোচ্চ রান। গত আসরে ব্রিজটাউনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক উইকেট হারিয়ে ঠিক ৯২ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে নকআউট ম্যাচে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়েছেন অভিষেক। মাত্র ১৯ বলেই তুলে নিয়েছেন অর্ধশতক, যা সেমিফাইনালে ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের করা ১৯ বলের ফিফটির রেকর্ডের সঙ্গে সমান। স্যামসনের পিছুপিছু প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন কিষান। পান্ডিয়া (১৩ বলে ১৮ রান) ক্রিজে টিকলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল সূর্যকুমার (১ বলে ০)। শেষ দিকে সে প্রভাব টের পেতে দেননি দুবে। ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন জেমস নিশাম। রান খরচে ঠিকই উদার ছিলেন; ৪ ওভারে ৪৬ রান দেন এই পেসার। রবীন্দ্র এবং হেনরির শিকার একটি করে উইকেট। এদিন বল হাতে সবচেয়ে বেশি রান বিলিয়েছেন হেনরি; ৪ ওভারে দেন ৪৯ রান। ৩ ওভার বল করা জ্যাকব ডাফির খরচ ৪২ রান।
২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করেছিল ভারত। জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ২০১৪ সালেও শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে উঠে শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হয়েছিল ৬ উইকেটে। এরপর টানা দশ বছর পর গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে। কিন্তু এবার আর ভুল করেননি রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির। ব্রিজটাউনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পায় ৭ রানের নাটকীয় জয়। দ্বিতীয় শিরোপায় স্পর্শ করে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড। তিন শিরোপায় এবার ইতিহাস গড়ল সূর্যকুমার যাদবের দল। শুধু টানা দ্বিতীয় নয়, এর আগে নিজেদের মাটিতেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন কোনো দেশ। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ২০২১ সালে একবারই ফাইনালে উঠে হারে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এবারও হতাশ করল কিউইরা। স্বপ্ন তো পূরণ হলোই না বরং দুঃস্বপ্নের এই ম্যাচটা তারা নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে!
ইতিহাস গড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত
কানে কম শুনছেন? এই ১০ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন
চারপাশে সবাই কথা বলছে, কিন্তু আপনি ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। ভিড়ের মধ্যে বন্ধুর কথা শুনতে কষ্ট হচ্ছে, ফোনের ওপাশে কারও কথা যেন পানির নিচ থেকে ভেসে আসছে; এমন অভিজ্ঞতা কি আপনারও হচ্ছে?
অনেকেই এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেন না। মনে করেন হয়তো সাময়িক সমস্যা, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কম শোনার সমস্যা কখনোই অবহেলা করার মতো বিষয় নয়।
প্রতি বছর ৩ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’। এই দিনটি আমাদের কানের যত্ন ও শ্রবণশক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দেয়। অনেকের ধারণা, কানে কম শোনা শুধু বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ নয়। আধুনিক জীবনযাত্রা, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত শব্দদূষণ এবং নানা শারীরিক সমস্যাও ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে।
সমস্যা হলো, কানে কম শোনার লক্ষণগুলো প্রথমদিকে খুব সূক্ষ্মভাবে ধরা দেয়। ফলে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না বা গুরুত্ব দেন না। অথচ কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
নিচে এমনই ১০টি লক্ষণের কথা তুলে ধরা হলো—
অস্পষ্ট শব্দ: চারপাশের কথাবার্তা যদি আপনার কাছে ঝাপসা বা ঘষা কাঁচের আড়াল থেকে শোনা যাচ্ছে বলে মনে হয়, তবে বুঝতে হবে কানের পর্দা ঠিকমতো মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠাতে পারছে না।
ভিড়ের মধ্যে অসুবিধা: রেস্তোরাঁ, অনুষ্ঠান বা উৎসবের ভিড়ে যখন অনেক মানুষ একসঙ্গে কথা বলেন, তখন যদি নির্দিষ্ট কারও কথা আলাদা করে বুঝতে সমস্যা হয়, তবে এটি কানে শোনার সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
বারবার প্রশ্ন করা: কথা বলার সময় যদি আপনাকে প্রায়ই ‘কী বললেন?’ বা ‘আরেকবার বলুন’ বলতে হয়, তাহলে আপনার শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করার সময় এসেছে।
টিভির ভলিউম বাড়ানো: বাড়ির অন্যরা যেখানে স্বাভাবিক শব্দে টিভি দেখছেন, সেখানে আপনার যদি আরও বেশি আওয়াজের প্রয়োজন হয়, তাহলে এটিও কানে সমস্যার একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
সামাজিক দূরত্ব তৈরি হওয়া: আপনি কি আড্ডা বা পারিবারিক জমায়েত এড়িয়ে চলতে শুরু করেছেন? অনেক সময় কানে কম শোনার সমস্যার কারণেই মানুষ এমনটা করতে শুরু করে।
কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস): নিস্তব্ধ পরিবেশেও যদি কানে একটানা বাঁশির মতো শব্দ, ভোঁ ভোঁ আওয়াজ বা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো শব্দ শোনা যায়, তবে তা স্নায়ুজনিত সমস্যার সংকেত হতে পারে।
ব্যঞ্জনবর্ণ শুনতে সমস্যা: ‘স’, ‘ফ’ বা ‘ট’ ধরনের ব্যঞ্জনবর্ণ শুনতে যদি বেশি কষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
মানসিক ক্লান্তি: সারাদিন অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতে গিয়ে কি দিন শেষে মাথা ধরে যায় বা অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগে? মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হলে এমনটা হতে পারে।
অন্যের ওপর বিরক্তি: আপনার কি মনে হয় আশপাশের সবাই ঠিকভাবে কথা বলছে না বা বিড়বিড় করছে? অনেক সময় কানে শোনার সমস্যার কারণে এমন ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, যা পারিবারিক অশান্তির কারণও হতে পারে।
প্রকৃতির শব্দ হারিয়ে যাওয়া: পাখির ডাক, ঘড়ির টিকটিক শব্দ বা হালকা পরিবেশের শব্দ যদি দীর্ঘদিন ধরে আপনার কানে না আসে, তাহলে বুঝতে হবে শ্রবণশক্তির পরিসর কমে যাচ্ছে।
এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ছোট সমস্যা বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
যে কারণে বিএনপিকে ধন্যবাদ দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
রবিবার (৯ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বিএনপিকে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেন।
পাটওয়ারী লেখেন, ধন্যবাদ বিএনপিকে অতি উৎসাহী মামলাবাজকে শোকজ করার জন্য। আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের অযথা অশান্তির সৃষ্টি আর করবেন না।
এর আগে রবিবার (৮ মার্চ) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রমনা থানা সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে শোকজ করেছে দলটি।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই শোকজ করা হয়েছে।
এদিন সকালে বিএনপির রমনা থানার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন।
দলীয় নেতাকে শোকজ করার পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান পাটওয়ারী।
আজ থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে আজ সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে।
রোববার (৮ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৯ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশনাও দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে—দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করা এবং জানালা-দরজা খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা। ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট ব্যবহার পরিহার করা।
এছাড়া অফিস চলাকালীন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে।
অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অফিস সময় শেষ হওয়ার পর লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে, গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ।
রোববার (৮ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা তাকে বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যরা রোববার তাদের গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
যুদ্ধের মধ্যেও কমে গেল স্বর্ণের দাম, আজকে ভরি কত?
ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধে মধ্যেও আবারও কমল দেশের বাজারের স্বর্ণের দাম। টানা দ্বিতীয়বার মূল্যবান ধাতুটির দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৭ টাকা। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে টানা ছয়বারের মতো বাড়ে স্বর্ণের দাম। এরপর দুবার কমল। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১৪ দফা।
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোজতবা খামেনি। তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। দেশের ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গঠিত এই অ্যাসেম্বলি সর্বশেষ ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে।
অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন নেতার প্রতি সবাইকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
মোজতবা খামেনি আগে কখনো সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকার সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল। তিনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বাবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মোজতবা পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা নিজে কখনো এ নিয়ে প্রকাশ্যভাবে আলোচনা করেননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুইদিন আগে জানিয়েছিলেন, মোজতবা যদি সুপ্রিম লিডার হন, তাদের জন্য তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, ইরানের নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে এই মন্তব্য উপেক্ষা করে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট মোজতবা খামেনিকেই নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নতুন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তাদের চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর অংশ হিসেবে ২৭তম দফা হামলা চালানো হয়েছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সমন্বিত এই হামলায় বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইসরায়েলের অধিকৃত উত্তরাঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, তাদের মহাকাশ বিভাগ নতুন ধরনের কঠিন জ্বালানিচালিত ‘খেইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রে উন্নত লক্ষ্যভেদী নির্দেশনা ব্যবস্থা রয়েছে এবং তা হাইফা শহরের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আইআরজিসি আরও জানায়, তাদের ড্রোন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অবস্থান করা একটি ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। ‘মেরিনা’ নামের একটি এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আইআরজিসি বলেছে, তাদের নৌবাহিনী বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে সালমান বন্দরে মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের এই হামলার পর ইসরায়েল অধিকৃত বিভিন্ন এলাকায় বারবার সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠছে এবং সেখানে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরই ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’ শুরু করে। এরপর থেকে ইরানি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরান আরো ৬ মাস ‘কঠিন যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে পারবে: আইআরজিসি
ইরান বর্তমান তীব্রতা বজায় রেখে অন্তত আরও ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম—এমন দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বাহিনীটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে একই মাত্রার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা রাখে।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি–এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে যে গতিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, সেই একই মাত্রার কঠিন যুদ্ধ অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব। তিনি দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই মূল্যায়ন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, তার সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তারা যুদ্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই অভিযানে ইরানের শক্ত ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। কেবল সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডেই নয়, দেশটির রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক, পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিতভাবেই তেল আমদানি চলছে। বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে বন্দরে তেল খালাস করা হচ্ছে এবং আগামী সোমবার আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বড় একটি অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে এ দুই ধরনের জ্বালানি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে তেলের দাম বাড়তে পারে বা সরবরাহ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে তেল কেনার চাপ বেড়ে যায়। অনেক জায়গায় যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে। শনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দেশের কিছু স্থানে দুপুরের পর সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়।
তবে কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে আতঙ্কের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে শুরু করেন, আবার কিছু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মোট ১৪টি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে সরবরাহকারীরা জানিয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিয়েও বড় ধরনের শঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চীনা জাহাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তেল পরিবহনে বড় বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্যও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বর্তমানে প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েল মজুদ আছে।
দেশে পেট্রল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড–এর এক কর্মকর্তা জানান, দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। মূলত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে এই পেট্রল তৈরি করা হয়। অনেক সময় এই উৎপাদন দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি হয়ে যায়।
এই পেট্রলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন প্রস্তুত করা হয়। ফলে দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় সবটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি মিলিয়ে কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন।
অন্যদিকে দেশে পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক আতঙ্কের কারণে কয়েকদিন ধরে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।


