Home Blog Page 153

শেরেবাংলার আজ ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার।

শেরেবাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা। তাঁর সংবেদনশীলতা, মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্ম ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র, আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।

১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন ফজলুল হক। প্রজাস্বত্ব কায়েম ও মহাজনিপ্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে বাঙালি সমাজে সামন্তযুগের পতনঘণ্টা বাজানোর ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদান ছিল। ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে ঋণে জর্জরিত কৃষকসমাজকে চরম ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরেবাংলার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা প্রভৃতি।

সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার সতর্কতার জারির ঘটনায় হজরত শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সোমবার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা মাঝে মাঝে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না— সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর যে চিঠি দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না। আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। এরই অংশ বলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিকিউরিটি পারসন ছাড়া বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিতে যেন কোনো ঘাটতি না হয় সেজন্যও আমরা বলেছি। শাহজালাল বিমানবন্দরের নানা স্থানে এন্ট্রি পয়েন্ট— সেগুলোতেও নিরাপত্তা ঘাটতি যেন না থাকে তার জন্য বলা হয়েছে।’ কোথাও কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত সেটি মোকাবিলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

এ  ব্যাপারে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ সমকালকে জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজ ছাড়াই পানি ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে

তীব্র গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি কিছুটা স্বস্তি দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় ভালো নয়। গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে কখনও কখনও আবার ফ্রিজ অচল হয়ে পড়ে। এই সময়ে পানি ঠান্ডা রাখতে প্রাচীন পদ্ধতি এবং কিছু ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগাতে পারেন। যেমন-

১. পানি ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে প্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো মাটির কলসি। কলসির গায়ে থাকা হাজার হাজার সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে এবং বাষ্পীভূত হয়। এর ফলে কলসির ভেতরের পানি প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা থাকে

৪. একটি বড় গামলায় মোটা স্তরে বালি বিছিয়ে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিন। এবার সেই ভেজা বালির ওপর মাটির কলসি বা পানির বোতল বসিয়ে রাখুন। বালি শুকোতে দেবেন না। এই পদ্ধতি ফ্রিজের মতো কাজ করবে।

৫. তামার পাত্রে পানি রাখা খুবই স্বাস্থ্যকরই। মাটির পাত্রের মতো এই পাত্রও পানি শীতল রাখতে সাহায্য করে। তামা তাপের সুপরিবাহী হওয়ায় এটি বাইরের তাপকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়।

 

হারলে জরিমানা, জিতলে বোনাস: লঙ্কান ক্রিকেটে নতুন নীতি

০

পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ফেরাতে পুরস্কার ও জরিমানা প্রথা চালু করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। এতদিন র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল পর্যন্ত কাউকে হারালেই বোনাস পেতেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এখন থেকে কেবল র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৪ দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেই মিলবে বোনাস। বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের মতো নিচের সারির দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে কোনো অতিরিক্ত অর্থ পাবেন না তারা।

নতুন নীতি অনুযায়ী, যেকোনো সংস্করণে সিরিজ হারলেই গুনতে হবে জরিমানা। সিরিজ হারলে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হবে। বিশেষ করে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের কাছে হারলে এই জরিমানা অবধারিত।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্রিকেটারদের হাতে এই নতুন চুক্তির কাগজ তুলে দেওয়া হবে।

বর্তমানে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা অবস্থান করছে ছয় নম্বরে। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে রয়েছে ৯, ১১ ও ১২ নম্বরে। আর টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে অবস্থান করছে আট থেকে ১১ নম্বরে। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ছয় নম্বরে। সাদা বলের এই সংস্করণে লঙ্কানদের পরই রয়েছে আফগানরা (সাত নম্বরে)। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের অবস্থান ৯ ও ১১ নম্বরে।

বিদেশে টেস্ট সিরিজে র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বর দলকে হারালে দেড় লাখ ডলার বোনাস পাবেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই, তিন ও চারে থাকা দলকে হারালে লঙ্কান ক্রিকেটাররা পাবেন ১ লাখ ডলার (১ কোটি ২২ লাখ টাকা), ৭৫ হাজার ডলার (৯২ লাখ টাকা) এবং ৬০ হাজার ডলার (৭৩ লাখ টাকা) বোনাস দেওয়া হবে। আর ঘরের মাঠে র‍্যাঙ্কিংয়ের এক থেকে চার নম্বর দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতলে ১ লাখ ডলার, ৭৫ হাজার ডলার, ৫০ হাজার ডলার এবং ২৫ হাজার ডলার করে বোনাস পাবেন ক্রিকেটাররা।

ওয়ানডেতে এক থেকে চার নম্বর দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ জিতলে দেড় লাখ, এক লাখ, ৮০ হাজার এবং ৭০ হাজার ডলার করে বোনাস দেওয়া হবে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের। হোম সিরিজ জিতলে সেই সংখ্যাগুলো হবে অর্ধেক। টি-টোয়েন্টিতে হোম ও অ্যাওয়ে দুই সিরিজেই জিতলে সমান সংখ্যক বোনাস দেওয়া হবে। যা ওয়ানডেতে অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের বোনাসের সমান।

লঙ্কান ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। টেস্ট জিতলে মিলবে ১৫০০০ ডলার, ড্র করলে ১,০০০ এবং হারলে বা ফল না হলে মাত্র ৭৫০০ ডলার। ওয়ানডে জয়ের জন্য ৭৫০০ ডলার, হারের জন্য ৩৫০০ এবং ফল না হলে ৩০০০ ডলার। টি-টোয়েন্টি জয়ের জন্য ৫০০০ ডলার ও হারের জন্য ২৫০০ ডলার।

এ ছাড়াও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি টেস্ট ও ওয়ানডেতে বাড়তি ১০০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ ডলার করে পাবেন অধিনায়ক। র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর স্থান অর্জন করতে পারলে ক্রিকেটারদের এককালীন ২৫,০০০ ডলার বোনাসও দেবে বোর্ড।

এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা বলেন, ‘নতুন এই আর্থিক নীতিমালা কেবল খেলোয়াড় নয়, কোচদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। আমরা এমন একটি সিস্টেম করেছি যেখানে জিতলে তারা যেমন লাভবান হবে, তেমনি হারলে যেন তারা আর্থিকভাবে খারাপ বোধ করে।’

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি গ্যারি কারস্টেনও এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে কারস্টেন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়েও অনেক এগিয়ে। আমার প্রথম কাজ হলো খেলোয়াড়দের সংস্কৃতি ও মোটিভেশন বোঝা। বিশ্বকাপের জন্য একটি দক্ষ দল গড়া এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করাই আমার অগ্রাধিকার।’

শিক্ষার্থী-নাট্যকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ঢাবির শিক্ষক আটক

০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টার দিকে বাড্ডার বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমীন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, মিমো সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দিও।’

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে।

কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানান, গতকাল শনিবার রাতে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিমো। আমরা সন্দেহ করছি, ঘটনার নেপথ্যে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়।

প্রসঙ্গত, নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত মিমোকে নির্দেশনা দিতেও দেখা গেছে।

‘কত স্বপ্ন ছিল, আজ বুকের ধনের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি’ বুলেট হত্যাকাণ্ড তদন্তে মাঠে পুলিশ, র‍্যাব, সিআইডি, পিবিআই

চট্টগ্রাম থেকে গভীর রাতে কুমিল্লা নগরীতে ফিরে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি। তবে পুলিশ বলেছে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য  সংস্থা। শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী। আজ রোববার দুপুরে সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআই কুমিল্লার এক পরিদর্শক সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির মোবাইল, ভিসা কার্ড ও মোবাইল বিকাশসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে।

এদিকে আজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ের পার্ক রোডের কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয়। এ সময় বুলেট বৈরাগীর বাবা-মা ও স্ত্রী উর্মী হিরার আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। অফিসের সহকর্মীরা তাদেরকে সান্ত্বনা দেন। পরে কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদারসহ অন্যরা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কাস্টমস কমিশনার বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা পুলিশের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছে। তিনি বলেন, আমাদের সহকর্মীর এ অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মামত। কাস্টমস বিভাগ সব সময় বুলেটের পরিবারের পাশে থাকবে।

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বুলেট বৈরাগীর বাবা সুশীল বৈরাগী। তিনি বলেন, ‘কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটাকে নিয়ে। তার জন্য কুমিল্লার ভাড়া বাসা নিয়ে থাকলাম। আর আজ বুকের ধনের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়ায় বুলেট বৈরাগীর শেষকৃত্য হবে বলেও জানান তিনি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল মোস্তফা রোববার সমকালকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  শনিবার রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট সম্মিলিতভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। আশা করি দ্রুত রহস্য বের করা সম্ভব হবে।

গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশের রাস্তা থেকে উদ্ধার হয় বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ। তিনি কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকার ভুইয়া হেরিটেজ নামে ভাড়া বাসায়। ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার মেয়ে উর্মির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ৯ মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল বিভাগীয় প্রশিক্ষণ নিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে উঠেন। তার কুমিল্লার বাসায় ফেরার কথা ছিল। যাত্রাপথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয়।

নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী সমকালকে জানান, বুলেট তার একমাত্র ছেলে। ওই রাতে সর্বশেষ ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছে। পরে রাত আড়াইটার পর তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তার মরদেহ পাওয়ার খবর আসে।

চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণকে বেঁধে নির্যাতন

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মোবাইল ফোনে ডেকে এনে হৃদয় হাওলাদার (২৩) নামের এক তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে রোববার সকালে উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাঁকে উদ্ধারে যাওয়া বাবাকেও এ সময় পেটানো হয়।

হৃদয় দক্ষিণ কৈখালীর মো. আবদুল বারেক হাওলাদারের ছেলে। তিনি এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এতে বলা হয়, একই গ্রামের পারভেজ ও সাব্বিরের সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয় ও টাকা লেনদেন নিয়ে হৃদয়ের দ্বন্দ্ব চলছিলো। দুইদিন আগে হৃদয় পাশের বীনাপানি এলাকার শ্বশুরবাড়িতে যান। রোববার সকালে পারভেজ তাঁকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে আনেন। হৃদয় নিজ বাড়িতে আসার পথে পারভেজ, সাব্বির, মিজান, প্রিন্স ও মেহেদী তাঁকে রশি দিয়ে গাছে বেঁধে ফেলে। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

খবর পেয়ে আবদুল বারেক হাওলাদার ছেলে হৃদয়কে উদ্ধার করতে যান। এ সময় তাঁকেও মারধর করা হয়। লিখিত অভিযোগে হৃদয় দাবি করেন, মারধরকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এমনকি দুই লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেন পারভেজ ও তাঁর লোকজন।

বারেক হাওলাদারের ভাষ্য, পারভেজের কাছে তাঁর ছেলে হৃদয় ২০ হাজার টাকা পাবে। এ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জের ধরে হৃদয়কে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন পারভেজ। তাঁর অভিযোগ, হৃদয় এলাকায় চোর হিসেবে পরিচিত। সুপারি ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, এ বিষয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘যুদ্ধ বন্ধের পরামর্শ’ শেষে পাকিস্তানে ফিরবেন ইরানের প্রতিনিধিরা

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের নৈশভোজের আয়োজন যে হোটেলে করা হয়েছিল সেটি ওয়াশিংটন ডিসিতে। হোটেলের ভেতরের একটি বলরুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও যোগ দিয়েছিলেন। এমন একটি অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোটেলে বন্দুক কীভাবে ঢুকল- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উপস্থিত থাকা অতিথিরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বলরুমের বাইরে একটি মেটাল ডিটেক্টর বসানো ছিল। কিন্তু হোটেলের প্রবেশ পথ বা এর আগে কোনো তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি বলরুমের একেবারে বাইরে ছিল। মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেন, ‘ওই চেকপয়েন্ট সক্রিয় থাকায় কেউ আহত হননি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরে তিনিই বলেন, ‘বন্দুকধারী বলরুমে প্রবেশ করতে পারেনি। সেটি অত্যন্ত নিরাপদ ছিল।’

টেলটিতে বন্দুকধারী বন্দুক নিয়ে কীভাবে ঢুকেছিলেন সেটির প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফ ক্যারল। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বন্দুকধারী কীভাবে হোটেলে ঢুকলেন এবং সেখানে (বলরুমের কাছে) পৌঁছালেন, তা বোঝার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল হিলটন হোটেলের অতিথি ছিলেন। তবে কখন চেক-ইন করেছিলেন বা তাঁর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে ক্যারল বিস্তারিত জানাননি। তিনি উল্লেখ করেন, নৈশভোজের জন্য নির্ধারিত বলরুমের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর কাছে থেকে একটি শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি পাওয়া গেছে।

বলরুমে কী হয়েছিল?
এএফপির সাংবাদিক ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের বার্ষিক এই নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যের পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র নিরাপত্তা টিম মঞ্চে অবস্থান নেয়। মঞ্চে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বসেছিলেন। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা তাদের দ্রুত সরিয়ে নেন।

আতঙ্কে বলরুম ছেড়ে যান অতিথিরা। ছবি: এএফপি

আতঙ্কে বলরুম ছেড়ে যান অতিথিরা। ছবি: এএফপি

বলরুমে উপস্থিত কয়েক’শ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। পরে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হলে তারা হোটেলের লবিতে এবং সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অনুষ্ঠানের অতিথি আহত হননি।

গুলির ঘটনা যেভাবে ঘটল
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে একজন বন্দুকধারী বলরুমের ঠিক বাইরে হোটেলের লবিতে থাকা নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে যান। তিনি জোর করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি চেকপয়েন্টে হামলা চালাচ্ছে এবং পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলির পর তাঁকে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার আদালতে তোলা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলে অতিথি হিসেবে থাকা এই ব্যক্তিই ঘটনার একমাত্র সন্দেহভাজন।

বন্দুকধারী গুলি করার পর সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। ছবি: এএফপি

বন্দুকধারী গুলি করার পর সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। ছবি: এএফপি

মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং দ্বিতীয়টি, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি কে?
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, হোটেলের লবির কার্পেটে খালি গায়ে উপুড় হয়ে আছেন এক ব্যক্তি। তাঁর হাত পেছনে বাঁধা। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরান্স শহরের বাসিন্দা।

সন্দেহভাজনের ছবি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সন্দেহভাজনের ছবি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাতেই এফবিআই এজেন্টদের টরান্সের একটি বাড়ির বাইরে দেখা গেছে। লিংকডইনে ‘কোল অ্যালেন’ নামে একটি প্রোফাইলে এমন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে, তাঁর চেহারা ট্রাম্পের পোস্ট করা ব্যক্তির মতোই।

লিংকডইনের অ্যাকাউন্টধারী কোল অ্যালেনের পরিচয় হিসেবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট, গেম ডেভেলপার ও শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, কোল অ্যালেন নামে একজন ২০১৭ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

এক্সপ্লেইনার ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে বন্দুকধারী কীভাবে ঢুকেছিলেন, বলরুমে কী ঘটেছিল

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের নৈশভোজের আয়োজন যে হোটেলে করা হয়েছিল সেটি ওয়াশিংটন ডিসিতে। হোটেলের ভেতরের একটি বলরুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও যোগ দিয়েছিলেন। এমন একটি অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোটেলে বন্দুক কীভাবে ঢুকল- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উপস্থিত থাকা অতিথিরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বলরুমের বাইরে একটি মেটাল ডিটেক্টর বসানো ছিল। কিন্তু হোটেলের প্রবেশ পথ বা এর আগে কোনো তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি বলরুমের একেবারে বাইরে ছিল। মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেন, ‘ওই চেকপয়েন্ট সক্রিয় থাকায় কেউ আহত হননি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরে তিনিই বলেন, ‘বন্দুকধারী বলরুমে প্রবেশ করতে পারেনি। সেটি অত্যন্ত নিরাপদ ছিল।’

হোটেলটিতে বন্দুকধারী বন্দুক নিয়ে কীভাবে ঢুকেছিলেন সেটির প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফ ক্যারল। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বন্দুকধারী কীভাবে হোটেলে ঢুকলেন এবং সেখানে (বলরুমের কাছে) পৌঁছালেন, তা বোঝার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল হিলটন হোটেলের অতিথি ছিলেন। তবে কখন চেক-ইন করেছিলেন বা তাঁর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে ক্যারল বিস্তারিত জানাননি। তিনি উল্লেখ করেন, নৈশভোজের জন্য নির্ধারিত বলরুমের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর কাছে থেকে একটি শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি পাওয়া গেছে।

বলরুমে কী হয়েছিল?
এএফপির সাংবাদিক ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের বার্ষিক এই নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যের পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র নিরাপত্তা টিম মঞ্চে অবস্থান নেয়। মঞ্চে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বসেছিলেন। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা তাদের দ্রুত সরিয়ে নেন।

বলরুমে উপস্থিত কয়েক’শ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। পরে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হলে তারা হোটেলের লবিতে এবং সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অনুষ্ঠানের অতিথি আহত হননি।

গুলির ঘটনা যেভাবে ঘটল
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে একজন বন্দুকধারী বলরুমের ঠিক বাইরে হোটেলের লবিতে থাকা নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে যান। তিনি জোর করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি চেকপয়েন্টে হামলা চালাচ্ছে এবং পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলির পর তাঁকে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার আদালতে তোলা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলে অতিথি হিসেবে থাকা এই ব্যক্তিই ঘটনার একমাত্র সন্দেহভাজন।

মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং দ্বিতীয়টি, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি কে?
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, হোটেলের লবির কার্পেটে খালি গায়ে উপুড় হয়ে আছেন এক ব্যক্তি। তাঁর হাত পেছনে বাঁধা। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরান্স শহরের বাসিন্দা।

এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাতেই এফবিআই এজেন্টদের টরান্সের একটি বাড়ির বাইরে দেখা গেছে। লিংকডইনে ‘কোল অ্যালেন’ নামে একটি প্রোফাইলে এমন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে, তাঁর চেহারা ট্রাম্পের পোস্ট করা ব্যক্তির মতোই।

লিংকডইনের অ্যাকাউন্টধারী কোল অ্যালেনের পরিচয় হিসেবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট, গেম ডেভেলপার ও শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, কোল অ্যালেন নামে একজন ২০১৭ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

মাত্র দুই মাসে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি সরকার মাত্র দুই মাসেই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিরোধীদলীয় চিফহুইপ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংস্কার কমিশনগুলো গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হয়েছে, নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাসে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকারের। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেছেন নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  সমাবেশেটির আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বীক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

অলি আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হোন।

মামুনুল হক বলেন, বিএনপি গণভোট তলে তলে ‘না’ এর পক্ষে প্রচার করেছিল। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের।