Home Blog Page 154

জ্বালানি সংকট পাম্পে দুর্ভোগ, ফুয়েল পাস অ্যাপেও বিড়ম্বনা

রাজধানীর আসাদগেট। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা। ওই এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প ঘিরে ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আর মোটরসাইকেলের জটলা। ট্রাকচালক রিয়াজুল ইসলাম স্টিয়ারিংয়ে মাথা রেখে ঝিমাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাত ২টা থেকে লাইনে তিনি।

রিয়াজুল বললেন, আগে রাতে ঢাকার বাইরে থেকে যাত্রা করে ভোরে কারওয়ান বাজারে কাঁচামাল নিয়ে পৌঁছাতাম। আর এখন ভোর হয় তেলের লাইনে। ট্রিপ মারব কখন, আর ঘুমাব কখন? শরীরের ওপর দিয়ে যে ধকল যাচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

একই এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যাংকার রবিউল হাসান ঘড়ি দেখছেন বারবার। সকাল ৯টায় অফিস, তাঁর সামনে এখনও অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এক মাস ধরে আমার রুটিন পাল্টে গেছে। যেদিন মোটরসাইকেলের তেল শেষের দিকে থাকে, তখন শুরু হয় দুশ্চিন্তা। কখন, কীভাবে তেল মিলবে।

তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ালে অফিসে পৌঁছাতে পারব কিনা? কয়েকবার অফিস ছুটি নিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এখন আর শুধু সংকটের গল্প নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক শৃঙ্খলাকে বদলে দিয়েছে। কর্মঘণ্টার সিংহভাগ এখন ব্যয় হচ্ছে রাস্তায় তপ্ত রোদে ফিলিং স্টেশনের লম্বা লাইনে। মানুষের যাতায়াত, বাজার করা, এমনকি পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগও এখন কেড়ে নিচ্ছে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

স্থবির কর্মজীবন
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইকবাল কবির জানান, শনিবার অফিসে সাপ্তাহিক বৈঠক দুপুর ১২টায়। বৈঠক ধরতে সাড়ে ১১টায় বছিলার বাসা থেকে বের হলেই হতো। আজ (শনিবার) মোটরসাইকেলের তেল নিতে সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়েছি, তার পরও সময়মতো বৈঠক উপস্থিত থাকতে পারিনি। ইকবাল বলেন, এই অনিশ্চয়তা মানসিক স্বাস্থ্য আর কাজের মনোযোগ– দুটোই শেষ করে দিচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা ও কল্যাণপুর এলাকার প্রতিটি পাম্পের চিত্র এখন একই। তেলের সংকটে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালকদের জীবন-জীবিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পল্টন এলাকায় উবার চালক লুৎফর রহমানরে কণ্ঠে ঝরল হতাশা। বললেন, ‘ভাই, অ্যাপ চালু করলে কাস্টমার ডাকে, কিন্তু গাড়িতে তেল নাই। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে যা পাই, তা দিয়ে তেলের দাম ওঠে না। পরিবারের বাজার করব, নাকি পাম্পে এসে লাইন দেব?’

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে দীর্ঘ লাইনের কারণে যানজট প্রকট হচ্ছে। মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা লতিফুর রহমান বলেন, বাইকের চাকা না ঘুরলে আমাদের চাকরি থাকে না। তেলের লাইনে দাঁড়ালে চার-পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে।

ই-কমার্স খাতের মেরুদণ্ড হলো মোটরসাইকেলে পণ্য সরবরাহ। ধানমন্ডির এক ক্ষুদ্র অনলাইন শপের উদ্যোক্তা শাহনাজ বেগম জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের ছয়জন ডেলিভারি ম্যানের তিনজনই এখন প্রতিদিন তেলের লাইনে ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকেন। আগে গ্রাহককে বলতাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছাবে, এখন তিন দিন সময় নিচ্ছি। তেলের অভাবে শুধু যাতায়াত না, পুরো ব্যবসার রুটিনটাই পাল্টে গেছে। গ্রাহকরা অর্ডার বাতিল করছেন।

সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার রুটিনও এখন তেলের লাইনের কাছে জিম্মি। অনেক বেসরকারি স্কুলবাসও তেলের সংকটে সময়মতো ট্রিপ দিতে পারছে না, ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে গরমে হেঁটে বা রিকশায় স্কুলে যেতে হচ্ছে। মিরপুরের বাসিন্দা তৌফিকুর রহমান প্রতিদিন তাঁর ছেলেকে মোটরসাইকেলে করে স্কুলে পৌঁছে দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ছেলেকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসের বদলে তেলের পাম্পে সিরিয়াল দিই।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায়। ঢাকার বাইরে অনেক এলাকায় ডিজেল সংকটে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না, ফলে অস্ত্রোপচারের মতো জরুরি কাজগুলোতেও বিঘ্ন ঘটছে। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স চালক কালাম বলেন, হুটহাট কোনো রোগীকে জরুরিভিত্তিতে অন্য হাসপাতালে নেওয়া মুশকিল হয়ে গেছে। পাম্পে তেল পেতে ৭-৮ ঘণ্টা লাগছে।

তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছেন। মতিঝিলে অফিস করা শরিফুল ইসলাম বলেন, নিজের মোটরসাইকেল তেলের অভাবে গ্যারেজে ফেলে রেখেছি। এখন অফিসে সময় খরচ দুটাই বেড়েছে। বাসে উঠতে পারি না অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য, আর সিএনজিওয়ালারা ৩০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ৬০০ টাকা। তেলের সংকটে মাসের বাজেটের চিত্রে চাপ বেড়েছে।

ঢাকার বাইরের সংকট আরও বেশি কষ্টকর। রংপুর বিভাগের পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, তেলের অভাবে বিভাগের অর্ধেকের বেশি পাম্প ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। রংপুর নগরীর শাপলা এলাকার স্কুলশিক্ষক ওবায়েদ ইসলাম বিরক্তির সুরে বলেন, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেল দেওয়ার সময়টা একেবারেই অবাস্তব। আমরা যারা চাকরি করি, তারা ওই সময়ে লাইনে দাঁড়াব কীভাবে?

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীর খেয়াঘাটে দেখা গেছে এক বিস্ময়কর চিত্র। তেলের অভাবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা এখন দড়ি টেনে চালানো হচ্ছে। মাঝিরা নদীর দুই পারে বাঁশের খুঁটি গেঁড়ে দড়ি বেঁধে টেনে নৌকা পার করছেন। ঘাট মাঝি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘প্রতিদিন তিন লিটার তেল দরকার, পাচ্ছি এক লিটার। বাধ্য হয়ে হাত দিয়ে দড়ি টেনে নৌকা বাইতেছি। ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত এই ঘাটে, সময় লাগছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ।’

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি
ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে শুক্রবার  মধ্যরাতে আট হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপক কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৭ এপ্রিল আরও পাঁচ হাজার টনের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। চলতি এপ্রিলে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ৪০ হাজার  টন জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

ফুয়েল পাস অ্যাপে বিড়ম্বনা
তেল বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করেছে। রাজধানীর আসাদগেট ও তেজগাঁওয়ের দুটি পাম্পে এই পদ্ধতি চালু হলেও নিবন্ধন জটিলতায় সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছে। চালকরা বলছেন, ফুয়েল পাসেও লাইন ধরতে হচ্ছে।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান শেষ হয়নি: নেতানিয়াহু

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘এখনও শেষ হয়নি’ বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ রোববার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখনও তাদের বিরুদ্ধে লড়ছি। এখন আরও অনেক কিছু করার আছে।

লেবাননের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ‘অনুমোদন’ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

ইসরায়েল এমন এক সময়ে এ বিবৃতি দিয়েছে; যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা পাকিস্তানে একটি শান্তি আলোচনার বৈঠকে ছিলেন।

নেতানিয়াহু এই বিবৃতিতে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের কিছু ‘সাফল্যের’ তালিকাও দেন। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান পাল্টাপাল্টি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার ফলে অস্থির হয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রাখে, যা পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্যকে অস্থির করে তোলে। তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে তেল ও জ্বালানির বাজারে।

অবশেষে, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্ততায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে কী হয় জেনে নিন

অনেকেই ঝাল খাবার খেতে খুব পছন্দ করেন। বিশেষ করে রান্নায় ঝাল না হলে মুখে রুচি আসে না। অনেকেরই হয়তো জানা নেই,দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে পেটের সমস্যা বিশেষ করে পেটে জ্বালা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও বদহজম দেখা দেয়। অনেক সময় বুকজ্বালা বা পেট ব্যথাও হতে পারে। যাদের আগে থেকে গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ঝাল খাবার আরও বেশি ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত ঝাল খেলে আরও যেসব সমস্যা দেখা দেয়–

খুব বেশি ঝাল খেলে জিভে জ্বালা করে, মুখে ঘা হতে পারে, এমনকি খাওয়ার সময় অস্বস্তি লাগে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে স্বাদ বোঝার ক্ষমতাও কিছুটা কমে যেতে পারে।

ঝাল খাবার খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেশি ঘাম হয় এবং অস্বস্তি লাগে। গরমের দিনে এটি আরও বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

ত্বকের ওপরও ঝাল খাবারের প্রভাব দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে বেশি ঝাল খেলে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা স্কিন র‍্যাশ বেড়ে যায়। কারণ ঝাল খাবার শরীরে অতিরিক্ত উত্তাপ তৈরি করে, যা ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ঘুমের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করে ঝাল খাবার । রাতে বেশি ঝাল খেলে বুকজ্বালা বা অস্বস্তির কারণে ঠিকমতো ঘুম আসে না। এর ফলে পরের দিন ক্লান্তি, বিরক্তি ও কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়।

তবে সব ঝালই যে খারাপ তা নয়। অল্প পরিমাণে ঝাল খেলে হজমে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে খাবারের স্বাদ বাড়ায়। কিন্তু অতিরিক্ত খেলেই সমস্যা তৈরি হয়।

বিতর্কের মধ্যে শুরু হচ্ছে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস

জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীরে– এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে ক্লাস চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের বড় অংশ এ উদ্যোগকে অবাস্তব, বৈষম্যমূলক এবং শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হবে। এর মধ্যে শনি, সোম ও বুধবার সশরীরে এবং রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে পাঠদান করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর কিছু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি চালু করা হবে।

তবে এই ঘোষণার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। অনেকেই বলছেন, সন্তানের জন্য আলাদা ডিভাইস ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেশি বিপাকে পড়েছে। অনেকে সকালে সন্তানকে স্কুলে দিয়ে কর্মস্থলে যান, আবার ক্লাস শেষে নিয়ে আসেন। কিন্তু অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিশুদের বাসায় রেখে মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে রেখে যেতে হবে। এটি নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশের বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে শিশুদের ডিভাইস আসক্তি বাড়বে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাবে।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই সন্তান রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে, অন্যজন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে, এমন খবর শোনার পর থেকেই উদ্বিগ্ন তিনি।

নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘আমার ও আমার স্ত্রীর দুটি মোবাইল ফোন আছে। আমারটা নিয়ে অফিসে যাই। বাসায় স্ত্রী যে ফোনসেট ব্যবহার করেন, তা দিয়ে ইন্টারনেট চালানো যায় না। আমার ফোন বাড়িতে রেখে গেলেও দুই সন্তান একসঙ্গে অনলাইনে ক্লাস করতে পারবে না। ওদের কি জনে জনে ফোনসেট কিনতে হবে? এটা কি হুট করে বললেই সম্ভব?’

আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার নামের এক অভিভাবক সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আর ক্ষতি করবেন না। করোনার মধ্যে অনলাইন ক্লাস, অটোপাস দিয়ে তিন-চারটা বছর পার হয়েছে। ওই সময় কিছুই শিখতে পারেনি। আমার ছেলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত করোনাকালে কিছু শেখেনি। আবার অনলাইনে ক্লাসের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পক্ষে নই আমরা।’

গত তিন সপ্তাহ ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু নিয়ে আলোচনা চললেও, এটা চালু হলে কতদিন চলবে, তা নিয়ে এখনও কিছুই স্পষ্ট করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস চালুর বিষয়ে ঘোষণা দিলেও কতদিনের জন্য এই সিদ্ধান্ত তা নিয়ে কিছু বলেননি। সবশেষ ৯ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধু ঢাকার নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালু করা হবে। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করেন তিনি, যেগুলোতে প্রাথমিকভাবে অনলাইনে ক্লাস চালু করা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। তার বাবা আফজাল হোসেন বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসটা আমরা চাই না বলার পরও সরকার চাপিয়ে দিচ্ছে। আমার তিন সন্তান। এক ছেলে ও দুই মেয়ে। সবাই স্কুলপর্যায়ে পড়ালেখা করে। তিনজনের জন্য তিনটি মোবাইল দরকার। কিন্তু বাসায় আছে একটা। আমারটা তো আমাকে ব্যবসায়িক কাজে সঙ্গে রাখতে হয়। আমি বাসায় থাকি না। ওদের আম্মুও বেসরকারি চাকরিজীবী। তাহলে বাসায় ওদের জন্য পৃথক তিনটি নতুন মোবাইল এখন কে কিনে দেবে?’

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজেও অনলাইন ক্লাস চালু করতে চায় সরকার। অথচ এ প্রতিষ্ঠানের তিনজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এটা চালুর পক্ষে নন। আফরিন নাহার নামে একজন বলেন, ‘বাসায় ওয়াইফাই নেই। মোবাইল ইন্টারনেট চালানো হয়। এখন দুই ছেলের জন্য দুটি ফোন এবং মাসে অন্তত ২০ জিবি নেট কিনতে হবে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের এ প্যাকেজ কেনার খরচ কে দেবে?’

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমেনা খাতুন। তিনি পেশায় চিকিৎসক। তাঁর স্বামী শুভ আহমেদও চিকিৎসক। তারা দুটি সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। হাসপাতালে কাজ শেষে প্রাইভেট ক্লিনিকে বসেন। তারা জানান, সন্তানদের মোবাইল ফোন দেওয়া হয় না। এখন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাব্বির আহমেদ সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের আর ক্ষতি করবেন না। করোনার মধ্যে অনলাইন ক্লাস, অটোপাস দিয়ে তিন-চারটা বছর পার হয়েছে। ওই সময় কিছুই শিখতে পারেনি। আমার ছেলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত করোনাকালে কিছু শেখেনি। আবার অনলাইনে ক্লাসের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পক্ষে নই আমি।

ডিভাইস আসক্তির আশঙ্কা
মনোবিদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সব দিক রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুরা এমনিতেই মোবাইল, কম্পিউটার ও টেলিভিশন দেখে বিনোদনের চাহিদা মেটাচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা এসব ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এভাবে ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠা অস্বাভাবিক। চোখে সমস্যা দেখা দেওয়া, স্থূল হয়ে যাওয়াসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে ক্লাস চালুতে তাদের এই আসক্তি আরও বাড়বে।

বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নেই, কোনো খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই। সব কিছুতেই শিশুদের ওপর একটা চাপ। লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা যে বিনোদন পাবে, সেটা পায় না। এমন শিক্ষাজীবন শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করে। শিশুরা এখন ট্যাব, মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে না। অনেকভাবে আমরা এর কুফল এখনই ভোগ করছি।’

টেলিফোনে পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যম সরকারের স্বাস্থ্য বাতায়নে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. নিশাত জাহান অরিন বলেন, ‘শিশুরা মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটারে আসক্ত হয়ে পড়লে তাদের মানসিক বিকাশে সমস্যা হতে পারে। শিশুর চোখ ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শীর্ষে অবস্থান করছি, এ জন্য এর প্রভাব আমাদের মধ্যে থাকবে। আমরা ডিভাইস নিয়ে এত ব্যস্ত যে, সময় বের করতে পারছি না। শিশুরাও এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে।’

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী অনলাইন ক্লাসের এ সিদ্ধান্তকে সরকারের ‘বাজে কাজ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সংকট আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু শিক্ষাকে কেন সংকুচিত করার পথে হাঁটতে হবে। সরকারের উচিত এ থেকে সরে আসা।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার উন্নয়নে সম্প্রতি গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করেন অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক দেশই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস চালু করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাস চালুর পর সেই অভিজ্ঞতা ভালো নয়। করণীয় সম্পর্কে অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময় কিছুটা পরিবর্তন করা যেতে পারে। সকালে ক্লাস হলে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকবে। এতে বৈদ্যুতিক পাখা, এসি কম চালানোর প্রয়োজন পড়বে। ছুটির দিন পরিবর্তন করেও ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।

সরকারের ভাষ্য
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক সমকালকে বলেন, কারও ওপর এটা চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তবে আমাদের আপৎকালীন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সেজন্য আমরা ঢাকা শহরের সবচেয়ে নামি কয়েকটি নির্বাচিত স্কুলে এটা চালুর চেষ্টা করছি। স্কুলগুলো তাদের সমস্যা ও সংকট জানিয়েছে। সেগুলো আমরা সমাধান করে তারপর অনলাইন ক্লাস চালু করব। কেউ এখানে বঞ্চিত বা চাপের মুখে পড়বে বলে আমরা মনে করি না।

আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি

০

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। শনিবার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাকে। ইমার্জেন্সি ইউনিটে চিকিৎসা চলছে তার।

ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় ৯২ বছরের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর। এরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আপাতত ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস ইউনিটে তার চিকিৎসা চলছে।

এদিকে আশা ভোঁসলের নাতনি জনাই ইন্সটাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমার দিদিমা আশা ভোঁসলে অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং বুকের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা আপনাদের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করছি। চিকিৎসা চলছে এবং আশা করি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আপনাদেরকে অবশ্যই ইতিবাচক খবর জানাবো।’

মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মামলা তুলে নিতে ভিকটিমের পরিবারকে অব্যাহত হুমকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে।

আসামিদের ভয়ে বর্তমানে ওই কিশোরীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্কুলছাত্রীর বড় বোন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পাগলা থানার ডুবাইল এলাকায় স্থানীয় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মানিক ও আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে ওই কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পরপরই ভিকটিমের পরিবার পাগলা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে নিরুপায় হয়ে পরিবারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হয়। আদালতের নির্দেশে গত ৭ মার্চ পাগলা থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ মামলার প্রধান আসামি আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলেও মানিকসহ অন্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানিক গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ ইসহাকের ভাতিজা এবং পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসমতের ছেলে। রাজনৈতিক এই প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণেই মানিকসহ অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভিকটিমের বড় বোন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তারা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি এই সংবাদ সম্মেলনে আসার জন্যও আমাদের রাতের আঁধারে গোপনে বাড়ি থেকে ময়মনসিংহ শহরে আসতে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা-মা জানান, আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে মেয়ের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে স্কুলেও যেতে পারছে না। চলতি বছর তার এসএসসি পরীক্ষায় বসার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ সময় তারা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানিকের বাবা শেখ মোহাম্মদ ইসমত বলেন, আমার ছেলে এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না। তাকে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমানে সে এলাকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সর্দার মোহাম্মদ খুররম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মানিক রাজনীতি করে কিনা, এটা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ভিকটিম পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ অবগত। আসামিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ব্যাংক রেজল্যুশন বিলে নতুন ধারা আগের মালিকের কাছে ফেরার সুযোগ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের

অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে পাস করায় একীভূত ব্যাংক আগের মালিকদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একীভূত ব্যাংক পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার এ পর্যন্ত যে অর্থ দিয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকরা এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এমন ধারা সংযোজনের বিপক্ষে মত দিয়েছিল। বিরোধী দলও সংসদে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে ১৮(ক) ধারা সংযুক্ত করেই গত শুক্রবার সংসদে বিলটি পাস হয়।

বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার ধারক অথবা শেয়ার ধারকরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবে। তবে শেয়ার পুনঃধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে একটি পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

অঙ্গীকারের মধ্যে থাকবে– ক. রেজল্যুশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনা করতে ইচ্ছুক। খ. বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন জোগান এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। গ. সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধাসরকারি উৎস থেকে দেওয়া ঋণ, ঋণের সুদ অথবা মুনাফা, ইকুইটি, গ্যারান্টি, সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া। ঘ. একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি ও দায়সমূহ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। ঙ. সরকারের সব কর এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ও অন্যান্য আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হবে।

আরও অঙ্গীকার করতে হবে– চ. রেজল্যুশন কার্যক্রম চলাকালীন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ছ. বাংলাদেশ ব্যাংক, আবেদনকারীর নিকট হস্তান্তরের তারিখ থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তর, বিক্রয় বা স্থানান্তর সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত আরোপ করলে তা পালন করতে বাধ্য থাকা। জ. ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করা। ঝ. বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক দেওয়া অন্য যে কোনো শর্ত প্রতিপালন করা।

এই ধারার উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুরের তিন মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণের বাস্তবিক দখল হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশের পে-অর্ডার দিতে হবে।

উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এর মাধ্যমে কেবল সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত ব্যাংককে যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তার সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থের পে অর্ডার দিয়ে ব্যাংকের মালিকানায় ফেরা যাবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এভাবে একবার কেউ মালিকানা পেলে তাঁকে বাদ দেওয়া সহজ হবে না।

অধ্যাদেশটি কোনো সংশোধনী ছাড়া পাস করতে বিরোধী দল অনাপত্তি দিয়েছিল। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের জন্য গত ১ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিম উদ্দিন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চারজন, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের দুজন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনজন ছিলেন। সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে।

জানা গেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে ৯৮টি ধারা ছিল। ধারার সংখ্যা কমিয়ে ৭৪টি করার সুপারিশ করে কমিটি। আইনের পরিধি কমানোর জন্য তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি ধারা প্রবিধানে যুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া অধ্যাদেশে সামান্য যেসব অসংগতি ছিল, তা সংশোধন করে গত মঙ্গলবার সরকারকে খসড়া কপি দেওয়া হয়। অধ্যাদেশ কিংবা গঠিত কমিটির সুপারিশে ১৮(ক) ধারাটি ছিল না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিলটি সংসদে যাওয়ার আগে এই ধারা যুক্ত করা হয়।

যেভাবে যুক্ত হলো নতুন ধারা
অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের জন্য খসড়া প্রণয়নে গঠিত কমিটির তিনজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক। তারা জানান, কমিটি গঠনের পর থেকে একটি পক্ষ এ রকম ধারা যুক্ত করার পরামর্শ দেয়। তবে অধিকাংশ সদস্যের আপত্তির কারণে চূড়ান্ত খসড়ায় তা যুক্ত হয়নি। বিল পাসের আগে গত ৯ এপ্রিল রাতে এ রকম ধারা যুক্ত করার বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তা না করার অনুরোধ জানানো হয়।

খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এরপরও যদি নতুন ধারা যুক্ত করতে হয়, তাহলে এমন কিছু উপধারা রাখার সুপারিশ করা হয়, যাতে কোনো ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য দায়ী কেউ আর মালিকানায় ফিরতে না পারে। একই সঙ্গে আমানতকারী, সরকারের দেওয়া অর্থ এবং অন্য পাওনাদারের সব দায় পরিশোধের পর মালিকানা নেওয়ার শর্ত যুক্ত করতে বলা হয়। তবে তা না করে পুরো দায় পরিশোধের অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে শেয়ার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আইনে যুক্ত করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কেন এটা করা হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। নিশ্চয় এর ফল ভালো হবে না।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের অবস্থা
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আলোকে গত বছর শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক ফার্ম দিয়ে অডিটসহ বিভিন্ন পর্যায় শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ধার হিসেবে দিয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকের চাঁদায় গড়ে ওঠা আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো অর্থ যেন তুলতে পারেন, সে জন্য আলাদা একটি স্কিম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঋণের ৮৪ শতাংশ খেলাপি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর দেশের পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ২২ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। মোট মূলধন ঘাটতির অর্ধেকের বেশি এই পাঁচ ব্যাংকে।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে এক্সিম ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির ৫৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪৫ শতাংশ খেলাপি। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে ২২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। বাকি চার ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।

চার ব্যাংকের মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৮ হাজার ১৭ কোটি টাকার ঋণের ৯৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ এখন খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ২৭ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৬২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ঋণের ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ৬৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণের ৯৬ দশমিক ২৭ শতাংশ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ১৩ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। আর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৭৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ২২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।

মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় শিক্ষক শিল্পী, আইনজীবী, ছাত্রদল নেত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ ঘিরে গত দুই দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সামনের সড়কজুড়ে নেতাকর্মীর জটলা। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির করছেন নারী নেত্রীরা। তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে দল সমর্থিত শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীসহ পরিচিত মুখ– সবাই এ প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে গত শুক্র ও শনিবার মিলে এক হাজার ২৫ জন নারী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আজ রোববার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর মধ্যে ফরম পূরণ করে শতাধিক নেত্রী তা জমা দিয়েছেন।

তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেত্রী শুধু মনোনয়ন সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত নেই। সবাই যার যার মতো নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বৃত্তান্ত তৈরি করে নীতিনির্ধারণী নেতাদের কাছে দিচ্ছেন। অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সচিবালয় এবং দলীয় কার্যালয়ে ছুটছেন।

তবে আশঙ্কাও ভর করছে তাদের মনে। যেভাবে নতুনরা সামনে আসছেন, বিভিন্ন কায়দায় তদবির করছেন, তাতে মূল্যায়ন নিয়ে সন্দিহান রাজপথের ত্যাগীরা। এর সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নয়াপল্টনে দলের প্রধান কার্যালয়ে। বিগত দিনে যারা দলের কোনো ভূমিকায় ছিলেন না; রাজপথে ছিলেন না তাদের অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা।
তারা বলছেন, বিগত দিনে জেল-জুলুম আর নির্যাতন সহ্য করে এখন মূল্যায়নের আশা করছি। কিন্তু অনেকে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও হঠাৎ মনোনয়নপ্রত্যাশী হচ্ছেন। এটা সুবিধাবাদিতার শামিল।
যদিও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে; যাদের সংসদে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে; সমাজে যাদের সুনাম আছে, তাদের নিশ্চয় দল বাছাই করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বিএনপির বেশ কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক যোগ্য নারী যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে দলের আলাদা সহানুভূতি থাকবে। এর বাইরে রাজপথের ত্যাগীদের বিষয়েও বিবেচনা থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় সংসদে যারা কথা বলতে পারবেন; দলকে উপস্থাপন করতে পারবেন, এমন নারীদের অগ্রাধিকার থাকবে এবারের মনোনয়নে।

জানা গেছে, বিএনপির প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্‌দীন মওদুদ, বিএনপি সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রোকসানা খানম মিতু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ ছাড়াও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই, মহিলা দলের নেত্রী আসমা আজিজ, প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, ঢাকার কোতোয়ালি থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর সুরাইয়া বেগম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক বেবি নাজনীন, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, সানজীদা ইসলাম তুলি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেত্রী ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম জোরেশোরে আলোচনায় আছে।

সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপিদের মধ্যে শিরিন সুলতানা, শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, ফরিদা ইয়াসমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শিরিন সুলতানা সমকালকে বলেন, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা থেকে নির্বাচন করেছি। ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। দল সবসময় যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছে। এবারও সেই প্রত্যাশা করছি।

দুইবারের সাবেক এমপি ও দলের সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আকতার রানু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নারীদের মূল্যায়নের সুযোগ এসেছে। সেখানে যাদের বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ছিল, তাদেরকেই মূল্যায়নের দাবি জানাই। কোনো হাইব্রিডকে যেন সামনে আনা না হয়, সে দাবিও আছে।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসে গতকাল শনিবার দলীয় নেত্রীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছেন? যারা আন্দোলনে ছিল; ১৭ বছর আমরা দলের জন্য খেটেছি, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?

সমঝোতার ব্যর্থতা ইরানের জন্যই ক্ষতিকর: জেডি ভ্যান্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওই উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, আমরা ইরানিদের সঙ্গে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, সেটা আশার কথা। কিন্তু খারাপ খবর হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।

আজ রোববার সকালে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ভ্যান্স। ‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত এ আলোচনা চলে।

ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় নমনীয় মনোভাব এবং ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে এসেছিল। ‘কিন্তু ইরান মার্কিন শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ‘শক্ত অঙ্গীকার’ রয়েছে, সেটি দেখতে পারতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।’

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল লক্ষ্য’ বলে জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ওই কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমরা ইরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা দিয়ে তারা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে’ বলে দাবি করেন মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন যে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে ‘দৃঢ় মানসিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই অঙ্গীকার দেখতে পাইনি। তবে ভবিষ্যতে তা দেখতে পাব বলে আমরা আশা করি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা ওই সব বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি। এর বাইরেও আরও অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি।

জেডি ভ্যান্স জানান, আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল।

এই আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের ছিল।’

দিয়াবাতের জাদুতে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী

০

দেশের ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান। প্রায় এক মাসের বিরতি শেষে আজ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা মাঠে গড়ায়। কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এই দুই দল।

খেলার তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় মোহামেডান। উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ অসাধারণ এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন। চোখধাঁধানো এই গোলে উল্লাসে ভাসে মোহামেডান শিবির। তবে তাদের এই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আবাহনীর হয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান মিরাজুল। ১-১ গোলের এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে দেখা মেলে দিয়াবাতে জাদুর। মোহামেডানের সাবেক এই তারকা এখন খেলছেন আবাহনীর হয়ে। আজ পুরোনো দলের বিপক্ষেই তিনি জ্বলে ওঠেন। দ্বিতীয়ার্ধে তার পা থেকেই আসে আবাহনীর জয়সূচক গোলটি। এই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।