Home Blog Page 155

হুট করে বাংলাদেশি এই সিরিজটি কেনো আলোচনায়?

০

প্রায় ঊনিশ বছর আগে ময়মনসিংহের কাশর এলাকায় একই পরিবারের ৯ জন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আত্মহত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। আদম পরিবারের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা শুনলে এখনো মানুষের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।

সেই ঘটনার ছায়া অবলম্বনে দুই বছর আগে ভিকি জাহেদ নির্মাণ করেছিলেন ওয়েব সিরিজ ‘চক্র’। সিরিজটি মুক্তির পর দর্শকরা বুঝেছিলেন এটি সাধারণ কোনো হরর বা থ্রিলার নয়। সেসময় সিরিজটি দারুণ সাড়া ফেলে। তারই ধারাবাহিতায় আসে এর দ্বিতীয় সিজন।

কিছুদিন আগে উন্মুক্ত হওয়া ‘চক্র ২’ সেই আলোচনার পারদকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। কেবল একটি ওয়েব সিরিজ নয়,  আধুনিক মনস্তত্ত্ব আর ডার্ক ফ্যান্টাসির মিশেলে এটি যেন এখন  সিরিজ দর্শকদদের কাছে তুমুল চর্চায়।

656323601 1505612057588387 1220301932748628837 n 1775825816

শুধু আলোচনা-ই নয়, মুক্তির মাত্র সাত দিনেই দ্বিতীয় সিজনটি দ্বিগুণ আয় করে ফেলেছে, সেইসঙ্গে রেকর্ড ব্রেকিং সাবস্ক্রিপশনের পাশাপাশি এবং এটি এখন আইস্ক্রিনের সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া সিরিজ।

‘চক্র ২’ যে কারণে এত আলোচনা

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, সিরিজটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর প্রেক্ষাপট। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার ফলে দর্শকদের মনে সবসময় একটি খটকা কাজ করে ‘কতটুকু সত্যি আর কতটুকু কল্পনা?’ চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক এই ধোঁয়াশাটিকে খুব নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বাস্তব জীবনের ট্র্যাজেডিকে যখন ফিকশনে রূপান্তর করা হয়, তখন তা দর্শকদের অবচেতন মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

কারও মতে, সিরিজটি কেবল অতিলৌকিক ভয় দেখায় না, বরং মানুষের মনের গহীন কোণে লুকিয়ে থাকা অপরাধবোধ এবং ট্রমাকে সামনে আনে। ‘চক্র ২’- বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ভৌতিকের চেয়েও মানুষের অতীত বা কর্মফল বেশি ভীতি জাগানিয়া। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারের চিত্র এখানে খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

গল্প, নির্মাণ সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘প্রফেসর ড. হুমায়ূন’ চরিত্রটি নিয়ে। এই চরিত্রে তৌসিফ মাহবুবের অভিনয় দর্শকদের চমকে দিয়েছে।

656466659 1505612044255055 5541282827788425166 n 1775825842

তার লুক, ট্রান্সফরমেশন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়া একটি চরিত্রকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। কেউ কেউ বলছেন, ‘এত ভয়ংকর অভিনয় কিভাবে করলেন তৌসিফ?’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ড. হুমায়ূন’ চরিত্রটি নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা রসিক ছবি, মিমস এবং কার্টুন—যা সিরিজটির আলোচনা আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তৌসিফ মাহবুবের মতে, আট থেকে আশি, প্রত্যেকটা দর্শকের সঙ্গে কানেক্ট করার চরিত্র এবং ঘটনা রয়েছে, যেগুলো সবাই নিজেদের সঙ্গে রিলেট করতে পারছে।

তিনি বললেন, অনেকেই এটাকে হরর, থ্রিলার ভেবে দেখা শুরু করেছেন। হরর, থ্রিলার উপাদানগুলো তো আছেই, পাশাপাশি নিজেদের সঙ্গে রিলেট করার মতো অনেকগুলো ঘটনা পাচ্ছেন। এখানে অনেকগুলো চরিত্র আছে তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত, সেই চরিত্র এবং ঘটনাগুলো যখন নিজেদের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে তখনই তারা সেটা নিয়ে কথা বলছেন। আমার কাছে এটা মনে হয়।

ভিকি জাহেদ পরিচালিত ৮ পর্বের ‘চক্র ২’-এ তৌসিফ মাহবুব ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, মৌসুমী মৌ, মেঘলা মুক্তা, শাহেদ আলী, নাদের খান, আরেফিন জিলানি, শাওন প্রমুখ।

সময়মতো যক্ষ্মার টিকাও মেলেনি, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই দেশে এবার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শনাক্তের হার কম হওয়ার অর্থ বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে এরই মধ্যে ওষুধ ও কিটের মজুত শেষ হয়েছে। নতুন কেনাকাটাতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত মাসে করা স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য বলছে, সরকারের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাতীয় কেস নোটিফিকেশন রেট (সিএনআর) নেমে এসেছে ১৬৯-এ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৪ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ১৯৬ এবং ২০২৩ সালে ২০১। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তকরণ কমে যাওয়া মানে রোগ কমে যাওয়া নয়; বরং এটি সেবা ও নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১২১ জনের যক্ষ্মা হয়।

অর্থায়ন ও জনবল সংকটের প্রভাব
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (সেক্টর কর্মসূচি নামে পরিচিত) অধীন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) আওতায় প্রায় তিন দশক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর নতুন করে ডিপিপি জমা দিলেও অনুমোদন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে ওষুধ ও টিকার কেনাকাটা। এতে মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। এককভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কোনো অর্থায়ন করবে না এই দুটি প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জুনে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) করা হয়, যা এখনও অনুমোদন হয়নি।

গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটিতে কিছু সংশোধনী দিয়ে ফের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত অর্থায়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদন না হলে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানান, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হতো রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ও বৈদেশিক ফান্ডে। ২০২৪ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে জটিলতা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনবল ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ফলে রোগী শনাক্তকরণেও ভাটা পড়েছে। এর ফলে উচ্চ হারে যক্ষ্মা ছড়াবে।

বিভাগভিত্তিক একই চিত্র
সব বিভাগেই রোগী শনাক্তের হার কমেছে। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে যেখানে প্রতি লাখে শনাক্ত ছিল ২০০ জন, চতুর্থ প্রান্তিকে তা নেমে এসেছে ১৪৯-এ। অন্যদিকে সিলেট বিভাগ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও সেখানেও হার কমেছে— তৃতীয় প্রান্তিকে ২১৫ থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে ২০১ জনে নেমে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশে প্রতি লাখে প্রায় ১২১ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় তিন লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত হয় এক হাজার ৩৪ জন রোগী এবং বছরে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অর্থাৎ প্রতিদিন মারা যায় প্রায় ১২১ জন।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত। ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষায় তা নিশ্চিত। এ ছাড়া ২৫ শতাংশ ফুসফুসের বাইরে এবং ১৫ শতাংশ রোগী ক্লিনিক্যালি নির্ণীত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র শিশুদের ক্ষেত্রে। সাধারণত দেশে মোট যক্ষ্মা রোগীর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু থাকে। কিন্তু এখন শনাক্ত হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে শিশু রোগী শনাক্ত সংখ্যা নেমে এসেছে দুই হাজার ৯৯৫-এ। অথচ ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল চার হাজার ৩৩১ এবং ২০২৩ সালে চার হাজার ৩২৮। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন প্রকৃতপক্ষে রোগ কমার ইঙ্গিত নয়; বরং শনাক্তকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর নভেম্বরে গ্লোবাল ফান্ডের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। তাদের পর্যবেক্ষণে সেবা প্রদানে ঘাটতি, তথ্যের মানোন্নয়নের প্রয়োজন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা উঠে আসে। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এখনও প্রায় ২১ শতাংশ রোগী শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে। বিশ্বের যে ৩০টি দেশে যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ দ্রুত শনাক্ত করা, পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শিশু রোগী শনাক্তে বিশেষ জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এখন নতুন করে চাপে পড়েছে। পরিকল্পনা ছাড়া কার্যক্রমে পরিবর্তন, অর্থায়ন সংকট এবং পরীক্ষাগার কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সংগঠন সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ ফোরামের সভাপতি কাজী সাইফউদ্দীন বেন্নূর বলেন, শনাক্ত কমে যাওয়া মানে রোগ কমে যাওয়া নয়, এটি সেবা ও নজরদারিতে ঘাটতি। গত ৫০ বছরে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে দেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল। তবে হঠাৎ করে পরিকল্পনা ছাড়াই ‘অপারেশন প্ল্যান’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রভাব সরাসরি যক্ষ্মা কর্মসূচিতে পড়েছে।

তাঁর ভাষ্য, অনেক জেলায় জিন এক্সপার্ট ল্যাব বন্ধ রয়েছে। কিছু ল্যাব সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে সেগুলোও চালু করা যাচ্ছে না। ফলে আবারও ভুল রোগী শনাক্তের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে কাজী সাইফউদ্দীন বলেন, সক্রিয়ভাবে রোগী খোঁজা বাড়াতে হবে এবং কমিউনিটি পর্যায়ে স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যক্ষ্মা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এমনকি হামের চেয়েও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে স্ক্রিনিং কার্যক্রম কমে যাওয়া, রিপোর্টিংয়ে ঘাটতি, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে জনসাধারণের নানা প্রতিবন্ধকতা— এসব কারণে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। সরকারি অর্থায়নের যে জটিলতা জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে চলছে, আশা করা যায় তা দ্রুতই সমাধান হবে। বর্তমান সরকার রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে এ জাতীয় বাজেটে অর্থায়ন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে অবদান রাখবে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপপরিচালক ডা. শাফিন জাব্বার বলেন, শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসে শনাক্তকরণ হার কমছে কেন– এ বিষয়ে জানতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে বড় গবেষণা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সমকালকে বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গতি ফেরাতে দ্রুত ডিপিপি অনুমোদন করার চেষ্টা করছি। ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

চট্টগ্রামের ফুটপাত সকালে উচ্ছেদ হলে বিকেলেই দখল

দুপুর ১২টা ২২ মিনিট। হঠাৎ ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি। চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেটের পরিত্যক্ত ফুট ওভারব্রিজের নিচে ফুটপাতে নতুন কাপড় বৃষ্টি থেকে রক্ষায় ব্যস্ত বৃদ্ধ হকার আবদুর রশিদ। আকস্মিক এই বৃষ্টির মতোই এক বছরে তাড়া করে তাঁর দোকান সিটি করপোরেশন চারবার উচ্ছেদ করেছে। আবারও বসেছেন। ২৪ মাসে সাতবার চলেছে উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা। কেমন চলছে ব্যবসা– এ প্রশ্ন করতেই বলেন, ‘এ ফুটপাতে ১৮ বছর ধরে ব্যবসা করছি। এর আগে এখানে ব্যবসা করতেন নাজমুল আলম নামে আরেকজন হকার। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় জায়গাটি (ফুটপাত) কিনে নিয়েছি।’

একটু সামনে যেতেই দেখা যায় কুমিল্লার মুরাদনগরের হকার আবু ছিদ্দিক প্লাস্টিকের পলি দিয়ে শার্টের দোকান (চৌকি) ঢাকছেন। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘ছয় বছর ধরে বিদেশি শার্টের ব্যবসা করছি। আগে আমার চাচা করতেন এ ব্যবসা। এখানে ব্যবসা করতে প্রতিদিন হকার্স সমিতিকে ২০ টাকা করে চাঁদা দিই। প্রায় চার হাজার হকার প্রতিদিন ২০ টাকা করে বছরে তিন কোটি টাকা চাঁদা দেন। অন্য কাউকে চাঁদা দিতে হয় না।’

কথা শেষ হলে মূল সড়ক পার হয়ে বিপরীতে তামাকমুণ্ডি লেইনের মুখের ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায় জিন্স প্যান্টের দোকান খুলে ব্যবসা করছেন নোয়াখালী থেকে আসা রজব আলী। তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় যত হকার আছে সবাই এক নিয়মে ব্যবসা করেন। সমিতি যেভাবে বলে আমরা সেইভাবে চলি। সমিতিতে প্রতিদিন ২০ টাকা চাঁদা দিই। তবে সন্ধ্যার পর প্রতিটি বাতি (লাইট) জ্বালানোর জন্য পাশের দোকানদারকে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। মার্কেটের যে দোকান থেকে বিদ্যুতের লাইন নিয়েছি, তারা টাকা নেন। চার হাজার হকার এভাবেই টাকা দিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন।’

গত মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, নিউমার্কেটের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে হকার। ফুটপাত ও সড়কের একাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। নিউমার্কেট থেকে আমতল, আমতল থেকে শহীদ মিনার হয়ে সিনেমা প্যালেস, আমতল থেকে জুবলী রোড, নিউমার্কেট থেকে পুরাতন রেলস্টেশন, নিউমার্কেট থেকে কোতোয়ালি মোড়, নিউমার্কেট থেকে সিটি কলেজ হয়ে সদরঘাট মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল পর্যন্ত ফুটপাতসহ সড়কের অংশ এখন হকারদের নিয়ন্ত্রণে। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারী।

চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব নিয়েই চারবার অভিযান চালিয়েছেন। এর আগে মেয়র রেজাউল করিমের আমলে হয়েছে তিনবার। এভাবে ২৪ মাসে সাতবার উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। তবু বাড়ছে দোকান। সকালে উচ্ছেদ করার পর বিকেলেই ফের দখল। যতবার উচ্ছেদ হয়েছে ততবার বেড়েছে চাঁদার হার।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর আমতল থেকে শহীদ মিনার হয়ে সিনেমা প্যালেস সড়কের থিয়েটার ইনস্টিটিউট লাগোয়া ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির কিছু দোকান। ডাবের দোকান,  চা-বিস্কুটের টং দোকান ফুটপাতের ওপর। আরেকটু এগোতেই শহীদ মিনার লাগোয়া গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে দেখা যায় বিশাল ফুটপাতে ২০ থেকে ২৫টি দোকানে দেশীয় চেয়ার, টেবিল ও  খাটের পসরা সাজানো। ফুটপাতে থাকা দোকানে মিস্ত্রিদের করাত নিয়ে কাজ করতেও দেখা যায়। পথচারীরা হাঁটছেন সড়কের ওপর দিয়ে।

একইভাবে নিউমার্কেট মোড় থেকে সিটি কলেজ হয়ে রেলওয়ের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে ফলের দোকান, সাইকেলের গ্যারেজ, ভাতের টং দোকান খুলে বসেছেন হকাররা। এ ছাড়া সিটি কলেজ মোড় থেকে সদরঘাট রোডের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের উভয় পাশে সবজি, মাছ, ফলের ভ্যানগুলো চলাচলের জায়গা দখল করে আছে। মাংসের দোকানও আছে ফুটপাতে।

নগরের কোতোয়ালি থানার ওসি আফতার উদ্দিন বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় হকার বসছে বহুদিন ধরে। সাধারণ মানুষ যাতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারে তা নিশ্চিত করেই দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছে। সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদের বিষয়টি দেখে।

নিউমার্কেট ঘিরে চার হাজারের বেশি তালিকাভুক্ত হকার আছে। হকাররা তিনটি বড় শ্রমিক সংগঠনের সদস্য। বিনা বাধায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করতে এ তিনটি সংগঠন সাধারণ হকারদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে কাজ করে। প্রতিদিন চার হাজার হকার থেকে সংগঠনগুলো ২০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তুলছে। বছরে হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে হকারদের ওপর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখন হকার সমিতির নিয়ন্ত্রণ শ্রমিক দল নেতাদের কবজায়। চট্টগ্রাম সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি মিরন হোসেন মিলন। সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিমসহ বিএনপিপন্থিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হকারদের ওপর।

মিরন হোসেন মিলন বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় পাকিস্তান আমল থেকে ফুটপাতে হকাররা ব্যবসা করে আসছেন। সদস্যদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয় তা দিয়ে অফিস, বিদ্যুৎ খরচ, কোনো হকার মারা গেলে তাঁর কফিন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, সন্তানদের বিয়েতে অনুদানসহ নানা কাজে ব্যয় করা হয়।

চট্টগ্রামে পরীক্ষার কেন্দ্রের প্রতি কক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

চট্টগ্রামের প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি স্থাপন এবং নকল ঠেকানোর জন্য কেন্দ্রের প্রবেশমুখে বুথ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চলতি সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।

চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষাকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইপিএস সংযোজনের জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন।
আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

তেল কীভাবে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করল

দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে একটি উপাদান। সেটি হলো- তেল। গাড়ির জ্বালানি, ঘর কিংবা বাজারে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য তৈরি, বিদ্যুৎ, এমনকি চাষাবাদে ব্যবহৃত সার উৎপাদনেও তেলের প্রয়োজন হয়।

এত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতই তেলের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। বিভিন্ন যুদ্ধের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে তরল পদার্থটি। এটি কোনো জাতিকে যেমন সম্পদশালী করে, তেমনি ঘাটতির কারণে কোনো দেশের অর্থনীতি ধসেও যেতে পারে। কিন্তু কালো, আঠালো এই পদার্থটি কীভাবে বিশ্ব পরিচালনার মূল শক্তিতে পরিণত হলো?

৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ: প্রথম ব্যবহার
বর্তমান বিশ্বই তেলকে প্রথম সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছে না। প্রাচীনতম কিছু সভ্যতাও তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারা মাটির নিচ থেকে বুদবুদ আকারে ওপরে উঠে আসা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করত। নথিভুক্ত ইতিহাস অনুযায়ী, ব্যবিলনীয়রা (আধুনিক ইরাকিদের পূর্বপুরুষ) তাদের নৌকাকে পানিরোধক করতে এবং ভবন নির্মাণে চুন-সুরকির বিকল্প হিসেবে তেল ব্যবহার করত। মিশরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মমি তৈরির প্রস্তুতিতেও তেলকে কাজে লাগাত। তবে, এই রহস্যময় কালো পদার্থের পূর্ণ সম্ভাবনা বুঝতে বা তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে মানবজাতির আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

১৮৫৯: আধুনিক তেল শিল্পের যাত্রা
বর্তমান তেল শিল্পের সূচনা হয়েছিল ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। বাণিজ্যিকভাবে সফল বিশ্বের প্রথম তেল কূপ আবিষ্কার হয় ‍যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর উদীয়মান প্রযুক্তি তেল থেকে নতুন নতুন পণ্য তৈরি শুরু করে। যেমন- বসতবাড়িতে আলো জ্বালাতে কেরোসিনের মতো সস্তা জ্বালানি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এর কয়েক বছর পর, পেনসিলভানিয়ার টাইটাসভিলে আমেরিকার প্রথম বাণিজ্যিক তেল কূপ তৈরি করা হয়। ওই কূপের সাফল্য এবং কেরোসিনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা তেলের মহোৎসব শুরু করে। যা নতুন নতুন শিল্পের জন্ম দেয়।

১৮৮৫: মোটরগাড়ির জ্বালানি
মোটরগাড়ি আবিষ্কৃত হওয়ার পর তেলের চাহিদা এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জার্মান প্রকৌশলী কার্ল বেঞ্জ ১৮৮৫ সালে প্রথম মোটরগাড়ি আবিষ্কার করেন। এই নতুন যানটি চলত গ্যাসোলিন নামক একটি জ্বালানির সাহায্যে। যা ছিল কেরোসিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন একটি সস্তা উপজাত। ১৯০৮ সালে হেনরি ফোর্ড যখন সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে গাড়ি তৈরি করেন, তখন থেকে গ্যাসোলিনের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বাড়তে শুরু করে।

১৯০৮: আরব রাষ্ট্রে তেল আবিষ্কার
গাড়ির মালিকানা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসোলিন তৈরির জন্য তেলের চাহিদাও বাড়তে থাকে। ঠিক এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের খনি আবিষ্কৃত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আরও তেলের মজুত পাওয়া যায়। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে তেল উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জ্ঞান ছিল না। এই সুযোগে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নামমাত্র মূল্যে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের অধিকার নিজেদের করে নেয়। পরে মধ্যপ্রাচ্যের এই উৎপাদন এতটাই বাড়ে যে, তা বিশ্বের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করতে শুরু করে।

১৯১৪-১৯১৮: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দেখিয়ে দেয়, একটি জাতির প্রতিরক্ষার জন্য তেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ওই যুদ্ধের ট্যাঙ্ক, ট্রাক এবং জাহাজ চালানোর জন্য তেলের প্রয়োজন ছিল অপরিহার্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে নৌবাহিনীকে আধুনিক ও সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তখন থেকে যুদ্ধজাহাজগুলোকে কয়লার বদলে তেলচালিত ইঞ্জিনে রূপান্তর করা হয়। নিজেদের ভূখণ্ডে না হলেও কেবল উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার করণে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তেলকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তাদের কাছে কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও একইভাবে তেলের নিজস্ব উৎস নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

১৯৪৪: যুদ্ধ শেষে ভাগবাটোয়ারা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন বিশ্বনেতারা তেলের আরও গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেন। তাই তেলের নিয়ন্ত্রণ ছিল যুদ্ধে জয়-পরাজয় নির্ধারণের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উনস্টন চার্চিল মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান তেলের মজুতের দিকে নজর রাখছিলেন। ১৯৪৪ সালের ৮ আগস্ট ‘অ্যাংলো-আমেরিকান পেট্রোলিয়াম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। রুজভেল্ট তখন বলেছিলেন, ‘পারস্যের (ইরান) তেল আপনাদের। ইরাক এবং কুয়েতের তেল আমরা ভাগ করে নেব। আর সৌদি আরবের তেলের কথা যদি বলেন, তবে সেটা আমাদের।’ তবে এই ভাগবাটোয়ারার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের কোনো মতামত বা অংশগ্রহণ ছিল না।

১৯৫৬: সুয়েজ খাল সংকট
১৯৫০-এর দশকে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্য তখন তাদের নিজস্ব শক্তির জায়গা বুঝতে পারে। সুয়েজ সংকটের সময় ব্রিটেনের কাছে এই পরিবর্তনটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটেন তখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল আমদানির জন্য রুট হিসেবে সুয়েজ খাল ব্যবহার করত। মিশর যখন খালের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে, তখন ব্রিটেনে তেলের দাম বেড়ে যায়। অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। মুনাফা বাড়াতে আগের চুক্তিগুলো সংশোধন করা হয়।

১৯৭৩: বিশ্বের প্রথম তেল সংকট
উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো এ সময় তেলকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালে মিসর ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল। যা ‘ইয়ম কিপুর’ যুদ্ধ নামে পরিচিত। ওই ‍যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়। এর প্রতিবাদে আরব পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওএপিইসি’ পশ্চিমাদের ওপর তেল অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম প্রায় চার গুণ বাড়ে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পশ্চিমা সরকারগুলো মধ্যপ্রাচ্যের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে তেলের বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করে।

১৯৯০: উপসাগরীয় যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর পশ্চিমাদের নির্ভরশীলতা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। ১৯৯০ সালে ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করে এবং দেশটির তেল ক্ষেত্রগুলো দখল করে নেয়, তখন এই নির্ভরশীলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। দখলদার ইরাকি বাহিনী কুয়েতের ৭০০-এরও বেশি তেলক্ষেত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক সংলাপও হয়েছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী কুয়েতকে উদ্ধারের অভিযানে নামে। তারা ইরাক দখল করে নেয়। তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা ছিল এই যুদ্ধের একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত উদ্দেশ্য।

১৯৯৮: আমেরিকার ফ্র্যাকিং বিপ্লব
পশ্চিমা দেশগুলো তখনো তেল উত্তোলনের নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ‘ফ্র্যাকিং’ পদ্ধতি উদ্ভাবনের পর তেল শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ফ্র্যাকিং হলো শিলাস্তর বা শেল রক থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল উত্তোলনের একটি প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে মাটির গভীরে উচ্চ চাপে তরল পদার্থ পাম্প করা হয়। যা তেলবাহী শিলাগুলোতে ফাটল ধরায় বা ‘ফ্র্যাক’ করে। ফলে সেখান থেকে তেল আহরণ করা সম্ভব হয়। সরকারি অনুদান এবং তেলের উচ্চমূল্যে উৎসাহিত হয়ে ফ্র্যাকিং একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে।

২০১৫: তেলের বাজারে ধস
এই বছর আগে তেলের দাম অনেকটা কমে গিয়েছিল। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তখন তেলকে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। বৈশ্বিক মন্দার কারণে তেলের চাহিদা তখন এমনিতেও কম ছিল। কিন্তু উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো সরবরাহ কমানোর পরিবর্তে উৎপাদনের মাত্রা আগের মতোই বজায় রাখে। ফলে দাম কমে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী তেল উৎপাদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা। বিশেষ করে আমেরিকার ফ্র্যাকিং শিল্প, রাশিয়া এবং উত্তর সাগরের তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। আয়কে লাভজনক পর্যায়ে রাখতে এসব কোম্পানির জন্য তেলের উচ্চমূল্য ধরে রাখা জরুরি। কিন্তু ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি কমে যায়। ফলাফল পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নতুন তেল প্রকল্পে বিনিয়োগের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

সংরক্ষিত নারী আসন সংগ্রামের মূল্যায়ন চান বিএনপি প্রার্থীরা

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরম সংগ্রহ করতে আসা নারী নেতাকর্মীরা এ সময়ে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা ত্যাগীরা দলের মূল্যায়নে এগিয়ে থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৭৮টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানান দলের সহদপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিং। ফরম কিনতে এসেছেন তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরা। তাদের মধ্যে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, বেবী নাজনীন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, সুরাইয়া বেগম, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজীদা ইসলাম তুলি, আরিফা সুলতানা রুমাসহ সাবেক সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।

বেলা ১১টায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দলীয় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম ফরমটি রিজভী তুলে দেন জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে। দ্বিতীয় ফরমটি নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদ।

মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম ওঠানো এবং জমা দেওয়া যাবে। জমা দেওয়ার সময়ে প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে।

সংরক্ষিত আসনে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আন্দোলনের ভূমিকা, দক্ষতা এবং সংসদে কথা বলার দক্ষতাসহ অন্যান্য যোগ্যতা থাকা দরকার সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা বলেন, আমি বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকে বিএনপি করি। আমরা মনেপ্রাণে এই দলটিকে ভালোবাসি, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসি এবং খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি। তারেক রহমান আমাদের পথ প্রদর্শক, তাঁর দর্শনেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করায় আমার পুরো পরিবারকে আওয়ামী আমলে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বড় ভাই নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে হত্যা করা হয়েছে।

মহানগর বিএনপি নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, আসলে আমি একজন নির্যাতিত নারী। কারণ এক-এগারো থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমি আন্দোলন-সংগ্রামে পুরো সময়টা মাঠে ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় তাহলে আমি তৃণমূলের জন্য কাজ করতে পারব।

কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভিন নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, প্রত্যাশার তো কোনো শেষ নেই, প্রত্যাশা করে আছি। দল যদি মনে করে তাহলে কাজ করে যাব। যদি নাও মনে করে তাও কাজ করব। আমি সারাটা জীবন এই দলের সঙ্গেই আছি, এই দলের সঙ্গে থেকেই মরে যেতে চাই।

গত বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি আসন পাবে। সাধারণত দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান হওয়ায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরাসরি ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।

গণভোট, গুম, দুদকসহ ১৩ অধ্যাদেশ অকার্যকর

সংসদে অনুমোদিত না হওয়ায় গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশনসহ ১৩টি অধ্যাদেশ শুক্রবার রাত ১২টার পর কার্যকারিতা হারিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে সংসদে অনুমোদিত চারটি বিলে। জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্তসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিলের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়া-সংক্রান্ত কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদ। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি গতকাল রাত থেকে আর কার্যকর নয়।
টানা ছয় দিনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়। জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিল পাসের নজির নেই। গতকাল শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়।

রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনসহ সাতটি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোটসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি। ফলে এসব অধ্যাদেশের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা কী হবে, তা অস্পষ্ট। গণভোট অধ্যাদেশের অধীনে ‘গণভোট ২০২৬’সহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হলো।
অধ্যাদেশ পাস না করায় দুদক আইনের সংশোধনী বাতিল হয়েছে। ফলে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না। মানবাধিকার কমিশন চলবে ২০০৯ সালের আইনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না।
অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ আবারও প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফিরবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ও বিলুপ্ত হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা, পদোন্নতি, বদলির ক্ষমতা ফিরেছে সরকারের কাছে।

সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন, তা সংসদের বৈঠকে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গতকালই ছিল সংসদে নিষ্পত্তির শেষ সময়। গত ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন।
অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। গত ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু ও ১৫টি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া চারটি বাতিল ও ১৬টি পরে যাচাই-বাছাইসহ অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। কমিটি সংশোধন করে পুলিশ কমিশন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তা শেষ দিনেও উত্থাপন না করায়, বিলুপ্ত হয়েছে জুলাই সনদে প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন।
বিশেষ কমিটির সুপারিশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ থাকলেও সুপারিশের বাইরে গিয়ে সংসদে বিল তুলে অধ্যাদেশটি রহিত করে আগের মানবাধিকার কমিশন আইনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপন হলেও আইনি সুরক্ষা না দেওয়ার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে কার্যকারিতা হারাচ্ছে, সেগুলো হলো– গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ।
রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশ উত্থাপন না হওয়ায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবারও একীভূত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরকে ভাগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন কর্মচারীরা।

শেষ দিনে ২৪ বিল পাস
গতকাল শেষ দিনে পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে আছে– সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উত্থাপিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত আমানত সুরক্ষা বিল; দ্য এক্সসাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) বিল; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল; গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; ব্যাংক রেজল্যুশন বিল এবং অর্থ (২০২৫-২৫) অর্থবছর বিল, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল এবং সাইবার সুরক্ষা বিল;  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উত্থাপিত মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের উত্থাপিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল।

পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানি প্রতিনিধিদল

যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেবেন।

আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, কঠোর নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা। বর্তমানে বিশ্ব গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে এই সংলাপ। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল না পৌঁছালেও ইরানের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে রয়েছে। গতকাল রাতে তারা পাকিস্তানে পৌঁছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

তবে প্রতিনিধিদলে কে বা কারা থাকবেন, কিংবা কীভাবে আলোচনা হবে—এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ইসলামাবাদে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দূতাবাস থাকা রাজধানীর ‘রেড জোন’ এলাকা সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন তা সব ধরনের মানুষ ও যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ।

রেড জোনের আশপাশের এলাকাগুলোতে ক্যামেরা হাতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।পাকিস্তান সরকার সাংবাদিকদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টার বরাদ্দ দিয়েছে।

এদিকে এরইমধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এয়ার ফোর্স টু-তে করে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির অভিযোগ তুলেছে ইরান।

অন্যদিকে যুদ্ধ বিরতির চুক্তিতে লেবানন না থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেনি ইসরায়েল।

এদিকে চুক্তিভঙ্গের বিষয়ে পরস্পরের দিকে আঙ্গুল তুললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে শর্ত পূরণ না হলে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারিও এসেছে উভয় পক্ষ থেকেই।

ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তা

বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায়ই এ ধরনের ছুটি বা বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়ে থাকে। জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য পাকিস্তান ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সামাজিক মাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) জানান, আলোচনায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। তবে পরে তিনি পোস্টটি ডিলিট করেছেন। এ নিয়ে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই পোস্টটি করা হয়েছিল।

পোস্টে রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম লিখেছিলেন, ‘ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে ইরানি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।’ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু সমস্যার কারণে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি দলটি বৃহস্পতিবারই পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের অকাল মৃত্য’র জন্যে দায়ী কে?

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক,
৭ই মার্চ ২০২৬

আলোচিত বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডল মারা গেছেন (শনিবার ৪ঠা মার্চ ২০২৬)। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। তিনি স্বাভাবিক মৃত্যু-বরন করেছেন, কেউ তাঁকে খুন করেনি। আসলে কি তাই? ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০২২ সালের ২২শে মার্চ হৃদয় মন্ডল গ্রেফতার হ’ন, ১৯দিন কারাগারে থেকে তিনি ১০ই এপ্রিল মুক্তি পান। ১৬ই আগষ্ট ২০২২ তাঁকে ধর্ম অবমাননা মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু ঘটে। ভাল শিক্ষক হিসাবে তাঁর সুনাম ছিলো। বিনোদপুর রাজকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি সিঁকি শতাব্দী বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫৮, তিনি স্ত্রী, পুত্র ১৪, কন্যা ১০ রেখে যান। এ মৃত্যুকে কি অকাল মৃত্যু বলা যায়?

হৃদয় মন্ডল ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেননি। বিনা অপরাধে তিনি জেল খেটেছেন। অপদস্থ হয়েছেন। লাঞ্ছিত হয়েছেন। তাঁর ছাত্ররা তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আসলে ছাত্ররা বয়স্কদের পরামর্শে শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এর পেছনে সেই পুরানো ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। হৃদয় মন্ডল স্কুলে পড়াচ্ছিলেন। গুটিকয় ছাত্র তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু প্রশ্ন করছিলো, যেমন ডারউইনের জন্ম-বিবর্তনবাদ। তিনি শংকিত ছিলেন, প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু শিক্ষক হিসাবে ছাত্রের প্রশ্নের উত্তর দেয়া তাঁর দায়িত্ব। তিনি জানতেন না তার বক্তব্য রেকর্ড হচ্ছে। ডারউইনের জন্মতত্ব যেকোন ধর্মীয়তত্বের বিরুদ্ধ মতবাদ। তিনি ধরা খেলেন। ছাত্র-জনতা তাকে মারধর করলো, পুলিশে দিলো। এ অপমান কি তিনি কখনো ভুলতে পেরেছিলেন? এ অপমানের জ্বালায় কি তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ?

এমন ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম নয়, শেষও নয়, ইসলাম ও নবীর অবমাননার ভুয়া অজুহাতে হিন্দুরা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছে। রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও নেতা, জনগণ প্রায় সবাই হিন্দুদের বিপক্ষে। হিন্দু নির্যাতনের এটি একটি নুতন কৌশল। ২০১২ সালে রামু’র ঘটনা দিয়ে এর শুরু, আজো চলছে। ঐসময় জনৈক উত্তম বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ইসলাম ও নবীর অবমাননার অভিযোগে ১০হাজার মুসলমান রামুর বৌদ্ধপল্লিতে ঝাঁপিয়ে পরে, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মুর্ক্তি ভাঙ্গচুর, মারধর, বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দেয়। গত ১৪ বছরে এর বিচার হয়নি। উত্তম বড়ুয়ার খোঁজ মেলেনি। মিলবে কি করে, উত্তম বড়ুয়া নামে ভুয়া ফেইসবুক একাউন্ট খুলে তৌহিদী জনতা এ অপকর্ম করে। এরপর ছোটবড় অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, বিচার হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল ভক্তের ঘটনা সবার মনে থাকা কথা? তাকেও ইসলাম ধর্ম অবমাননার ভুয়া অভিযোগে নাজেহাল করা হয়। এক্ষত্রে একজন এমপি সেলিম ওসমান জড়িত ছিলেন। তিনি শিক্ষক শ্যামল ভক্তকে প্রকাশ্য জনারণ্যে ‘কান ধরে ওঠ-বস’ করান। পরে অবশ্য তিনি সাফাই গেয়ে বলেন, শ্যামল ভক্তকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে তিনি ঐকাজ ক্যরেছেন? পরে প্রমান হলো শ্যামল ভক্ত ইসলাম অবমাননা করেননি। তার ছাত্ররা সাক্ষী দিলো। কিন্তু যা হবার তা তো হয়ে গেছে। আরো পরে এই শিক্ষক বাধ্য হয়েছেন ওই অত্যাচারী এমপি’র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। এমপি সেলিম ওসমানের কিছুই হয়নি। ওসমান পরিবার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ঘনিষ্ঠ ছিলো, কিছু হবার প্রশ্নই ওঠেনা। নাসিরনগর ঘটনায় এমপি হিন্দুদের ‘মালাউন’ বললেন, তারও কিচ্ছু হয়নি।

এরপর কত ঘটনা ঘটলো। রংপুর, কুমিল্লায় আগুন জ্বললো, হিন্দুর বাড়ীঘর পুড়লো, মন্দির ভাঙ্গলো, মানুষ মরলো, লুটপাট, নারী ধর্ষণ কিছুই বাকি থাকলো না? শুধু হিন্দু বিচার পেলোনা। প্রধানমন্ত্রী ‘কওমী মাতা’ হলেন, দেশ চালালেন ‘মদিনা সনদে’, জঙ্গী-মৌলবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলেন, একদিন এঁরা সবাই মিলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশত্যাগে বাধ্য করলেন। কুমিল্লায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারকারী বাহার এমপি বা এমপি সেলিম ওসমান এখন ভারতে। পাপ বাপকেও ছাড়েনা। ড. ইউনূসের আমলে হাজারো শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, এখন রাজনৈতিক সরকার আমলেও কেউ এদের কথা বলছে না? বলার কোন কারণ নেই, হিন্দু বলে শ্যামল ভক্ত বা হৃদয় মন্ডলের জন্যে কিন্তু শিক্ষক সমাজ তখন মাঠে নামেনি, তাই এখনও কেউ নামবে না। বিচারপতি সিন্হাকে বিদায় করার সময় অন্য বিচারপতিরা চুপ ছিলেন, মব ভায়োলেন্স একসাথে তাঁদের ১২জনকে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছে। এটাই প্রকৃতি’র নিয়ম।