Home Blog Page 155

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে নতুন সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জিইডির প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরের ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে আশার কথা হলো, চালের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। নভেম্বরে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ থাকলেও জানুয়ারিতে তা নেমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৬১ শতাংশে। এই হ্রাস মূলত মাঝারি, মোটা ও চিকন সব ধরনের চালের দাম কমার ফল। কিন্তু চালের দামের এই পতন সত্ত্বেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার মূল কারণ শাকসবজি, মাছ ও ফলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সবজির অবদান আগের মাসের নেতিবাচক অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ইতিবাচক অবদান রাখে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়া এবং ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ও শুঁটকি, ফল ও ভোজ্যতেলের দামও উচ্চ থাকায় খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী মজুরি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় চাপে পড়ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০১ থেকে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশের মধ্যে স্থির থাকলেও মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ থেকে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি যেখানে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। এই ব্যবধান নি¤œ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের চিত্রও সন্তোষজনক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারি মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা কম। আমদানি-রপ্তানি শুল্ক, স্থানীয় ভ্যাট ও আয়কর খাতে এই ঘাটতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এদিকে সরকারের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের গতিও মন্থর রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গত পাঁচ বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হার। সরকারি অর্থায়ন খাতে ব্যয়ের হার ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও প্রকল্প সাহায্য খাতে ব্যয়ের হার মাত্র ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা বহিঃসহায়তা নির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।
তবে বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। নভেম্বরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি শেষে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়ে হয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয়ের প্রবাহও শক্তিশালী রয়েছে। জানুয়ারি মাসে দেশে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছরের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স ছিল ২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। রমজান উপলক্ষে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রপ্তানি খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে। অ-পোশাক খাতের রপ্তানিও বেড়ে ৭৯৮ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অক্টোবরে যেখানে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ছিল ৪১২ মিলিয়ন ডলার, নভেম্বরে তা কমে ১৮৬ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়ে ২৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও আগের তুলনায় তা এখনো কম। বিশ্লেষকদের মতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিময় হারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার নভেম্বরের তুলনায় কমে জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে প্রতি ডলারে ১২৪ দশমিক ৬৪ টাকা। অন্যদিকে ডলার বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে ১২১ দশমিক ৭১ থেকে ১২২ দশমিক ৩২ টাকার মধ্যেই রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং সুশাসন নিশ্চিত করাও বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার

দ্বিগুণেরও বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে সরকার

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ অন্যান্য দেশগুলো থেকে সময়মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির সম্ভাব্য বড় সংকট কাটাতে প্রায় দ্বিগুণ দামে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনতে যাচ্ছে সরকার।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, স্পট মার্কেট থেকে কেনা দুই কার্গোতে সরকারের প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা গত মাসেই কেনা হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকায়। হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দ্রুত এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভোর গ্রুপ থেকে একটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে। এ এলএনজির প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) কিনতে খরচ হবে ২৮ দশমিক ২৮ ডলার। আর ভিটলের কাছ থেকে আরেকটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে। প্রতি ঘনফুট গ্যাসের জন্য ব্যয় হবে ২৩ দশমিক শূন্য আট ডলার। মন্ত্রিসভা থেকে এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন পাওয়া গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গানভোরের কার্গোর দাম প্রায় এক হাজার ২৭৯ কোটি টাকা হবে, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের চালানের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ছিল।”

গানভোর থেকে কেনা এলএনজি কার্গো আগামী ১৫ কিংবা ১৬ মার্চ বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ভিটলের চালান ১৮ কিংবা ১৯ মার্চ আসার কথা রয়েছে।

এর আগে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক জানিয়েছিলেন, মার্চে নির্ধারিত চারটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে, ১৫ ও ১৮ মার্চ আরও দুটি জাহাজ এখনও আটকে আছে। এজন্য স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়।

তবে, এতে কোনও দরদাতা অংশ নেয়নি। পরে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই জাহাজ এলএনজি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। এছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি আরও একদিন (১৮ মার্চ) বাড়িয়েছে সরকার।
আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎপ্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রায় নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পর তার দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার নির্দেশনায় সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সব সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও কর্পোরেশনসহ সব সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে, বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে। অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর/সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

যুদ্ধে ইরানের বন্ধু হিসেবে থাকছে যে যে দেশ!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় প্রাণহানি এক হাজার ছাড়িয়ে গেলেও তেহরানের দুই প্রধান কূটনৈতিক মিত্র রাশিয়া ও চীন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। দুই দেশই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকলেও যুদ্ধের ময়দানে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর কোনো আইনি বা সামরিক ইঙ্গিত এখনো দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ থাকলেও তাতে যুদ্ধের সময় একে অপরকে সামরিক সহায়তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিটি মূলত জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক। চীন বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে অস্ত্র পাঠানোর মতো ঝুঁকি নিতে নারাজ। তেহরানের তেলের প্রায় ৮৭ শতাংশ চীনে রপ্তানি হলেও বেইজিংয়ের কাছে ইরান একটি ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক অংশীদার মাত্র। ফলে কূটনৈতিক নিন্দা আর শোক বার্তার বাইরে মস্কো ও বেইজিংয়ের কাছ থেকে কার্যকর সামরিক সহায়তা না পেয়ে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং রণক্ষেত্রে কার্যত একাই লড়ছে ইরান।

রাশিয়ার সাথে ইরানের চুক্তিটি উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী নয়। এখানে কেবল এক পক্ষ যুদ্ধে জড়ালে অন্য পক্ষ শত্রুতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে, যুদ্ধের পক্ষ নেওয়ার নয়।

মস্কো এখন ইউক্রেন সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার সময়ও রাশিয়া কেবল নিন্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা ইরানের ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলছে চীন। তারা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বেশি আগ্রহী।

ইরান তেলের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল হলেও চীনের বিশাল বিশ্ববাণিজ্যে ইরানের গুরুত্ব সামান্য। ফলে বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তেহরানের হয়ে যুদ্ধে জড়াবে না।

রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ইরানের আঞ্চলিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল মাত্র।

ইরাকে একই কক্ষে বাবা–ছেলেসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশি প্রবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২) এবং ফেনী জেলার মেহেদী হাসান। অসুস্থদের মধ্যে সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তারা সবাই আরবিল শহরের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে একসঙ্গে বসবাস করতেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সেহরি খাওয়ার পর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী জানান, ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কক্ষের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে অক্সিজেনের স্বল্পতা তৈরি হওয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বখতিয়ার মোহাম্মদ জানান, ওই কক্ষে মোট পাঁচজন শ্রমিক ছিলেন। তারা রাতে ভাত ও মাছ খেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে মাঝপথ থেকে ফিরল ফরাসি বিমান!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে একটি ফরাসি বিমান। আরব আমিরাত থেকে ফরাসি নাগরিকদের উদ্ধারের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী বিমানটি আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আকাশপথের অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে দুবাইয়ের বাসিন্দাদের ফোনে সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়। যদিও পরবর্তীতে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় যুদ্ধংদেহী উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার তারা ইরানের ছোড়া ৬টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০০টিরও বেশি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও আকাশপথের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

উদ্ধারকারী ফরাসি বিমানটি আরব আমিরাতের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশন স্থগিত করে ফ্রান্সে ফিরে যায়।

পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জানিয়েছেন, নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এবং আকাশপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দুবাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পর্যটন ও স্বাভাবিক জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল ভূখণ্ডে কোনো নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসারসহ ৭ এডিসিকে বদলি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ সাতজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স ও স্টাফ অফিসারও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বদলি করা হয়।

কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের ফারজানা ইয়াছমিনকে মেট্রো ইন্টেলিজেন্স বিভাগে, ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের তানজিলা শারমিনকে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে, ডিএমপি কমিশনারের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স মহসীন আল মুরাদকে খিলগাঁও জোনে, ডিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার জুয়েল ইমরানকে বাড্ডা জোনে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া খিলগাঁও জোনের মো. ফয়েজ ইকবালকে ডিএমপি কমিশনারের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স, বাড্ডা জোনের মো. সারোয়ার হোসাইনকে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগে এবং ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগের মো. মাসুদ রানাকে ডিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি জরুরি পর্যালোচনা সভা আয়োজন করে। সভায় সাধারণ নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে পবিত্র রমজানে জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

সভায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের এবং সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও বাতি কম ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া এসি ব্যবহারে পরিমিতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জ্বালানি পাচার রোধ এবং কালোবাজারে ডিজেল-পেট্রল বিক্রি বন্ধ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, আমদানি অনিশ্চিত হওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি সরবরাহে সাময়িকভাবে সমন্বয় বা কাটছাঁট করা হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। অসাধু চক্র যাতে সুযোগ নিতে না পারে সে জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ দিনের ডিজেল, ২৮ দিনের অকটেন, ১৫ দিনের পেট্রোল, ৯৩ দিনের ফার্নেস এবং ৫৫ দিনের জেট তেলের মজুত রয়েছে। এছাড়া এক লাখ ছত্রিশ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। দেশের বর্তমান মজুত তেলের পরিমাণে কোনো দাম বাড়ার শঙ্কা নেই এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সোমবার পর্যন্ত সাতটি জাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

একজন ভাল মানুষ, পবিত্র চৌধুরী চলে গেলেন

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। নিউইয়র্কে পরিচিত মুখ পবিত্র নারায়ণ চৌধুরী মারা গেছেন। রোববার ২২ শে ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাগডোনাল্ডে নিজ বাড়ীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৬ (জন্ম ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০-মৃত্যু ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। তিনি স্ত্রী মনীষা চৌধুরী এবং একমাত্র কন্যা ঈশানীকে রেখে গেছেন। তাঁর ভিউ ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি ব্রুকলিনের জোসেফ এ ব্রিজি ফিউনারেল হোমে সকাল ১০টা থেকে-দুপুর ১২:৩০মিনিট পর্যন্ত। সেখান থেকে তাঁর মরদেহ শশ্মানে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর শ্রাদ্ধ্যাদি হবে শনিবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১০:৩০মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্রুকলিনের গৌরনিতাই মন্দিরে। পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, যাঁরা পবিত্র চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল নিয়ে যাবেন, তারা যেন ফুল না নিয়ে ঐ টাকাটা ‘একাল বিদ্যালয়’ অথবা ‘পারকিনসন্স ফাউন্ডেশনে’ দান করেন।

পবিত্র চৌধুরী বেশ ক’বছর যাবৎ পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। শেষদিকে তার হাত-পা কাঁপতো। গত গ্রীষ্মে পড়ে গিয়ে তাঁর দু’টো হাড় মচকে যায়, এবং শরীর কাঁপুনির কারণে সেটি আর জোড়া লাগেনি। পড়ে যাওয়ার ফলে তার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, বলতেন কি হবে? তিনি আরথ্রাটিসে ভুগছিলেন। মৃত্যু’র আগে ইউরিনারী ইনফেকশনে তিনি প্রায় ১০দিন হাসপাতালে ছিলেন, এবং ২০শে ফেব্রুয়ারি বাড়ী ফেরেন। পরদিন শনিবার তিনি বলেন, ‘আমাকে কলম দাও, আমি লিখবো। তাঁর শ্যালক দেবী রক্ষিত অতনু বলেন, আপনি তো লিখতে পারবেন না, আপনি বলুন আমি লিখি। পবিত্র চৌধুরী কথামত অতনু লিখেন, ‘আমি আদেশ পেয়েছি, আমাকে যেতে হবে’। বৌদি মনীষা চৌধুরী জানালেন, কাগজটা এমনিতেই পরে ছিলো, আপনার দাদার মৃত্য’র পর খুলে তাই দেখলাম। বৌদি ব্যাপারটা কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেন, আমি বললাম, শুনেছি কেউ কেউ আগেভাগে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে থাকেন।

আমার সাথে দেবী রক্ষিত অতনু’র রবিবার কথা হয়, তিনি জানিয়েছিলেন যে, এই পরিবারের একমাত্র মেয়ে ঈশানি বাবার মৃত্য সংবাদ পেয়ে ওয়াশিংটন থেকে বাড়ী আসে। পবিত্র চৌধুরী রিটায়ার করেছেন বেশ ক’বছর, ব্রুকলীনে থেকেছেন আগাগোড়া। আমেরিকায় এসে আমি ১৯৯০-এ ব্রুকলীনে উঠি, তখনো তিনি সেখানে ছিলেন। তিনি কলকাতা থেকে ইংরেজীতে এমএ, এবং আমেরিকায় এসে আরো একটি এমএস করেন, অর্থাৎ বাঙ্গালীর ভাষায় তিনি ‘ডবল এমএ’ ছিলেন, আমরা তা জানতামই না। সত্যি বলতে কি দাদার নামের মধ্যখানে যে একটি ‘নারায়ন’ আছে তা আমি অন্তত: জানতাম না। আসলে পবিত্রদা-কে আমরা কতটুকুই বা জানতাম? তিনি কলকাতার মানুষ হয়েও বাংলাদেশের মানুষের সাথে মিশে গিয়েছিলেন, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে সবাই তাঁকে চেনে, সবাই ভালবাসে। তিনি বাংলা ও ইংরেজী দু’টো ভাষায় লিখতেন। নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক জন্মভূমি ও অন্য কাগজে আমি তাঁর লেখা পড়েছি।

পবিত্র চৌধুরী বাংলাদেশের হিন্দুদের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন, এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই তার সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠতা। শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক সুমি খান তাঁকে যথেষ্ট সন্মান করতেন। আমার জানামতে দু’জনই আমেরিকা এলে তাঁর বাড়িতে যেতেন। জুলাই-৩৬ ভুয়া বিপ্লবের পর সুমি খান পালিয়ে আমেরিকা এসেছিলেন, পবিত্রদা-বৌদি তারপ্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সুমি আমায় এসব জানিয়েছিল। আর শাহরিয়ার কবির ও আমরা পবিত্রদা’র বাসায় একাধিক মিটিং করেছি। পবিত্রদাকে নিয়ে লিখবো ভাবিনি, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সম্ভবত: কৃতজ্ঞতা বোধ থেকে আমায় লিখতে অনুরোধ করে। আসলে আমরা সবাই পবিত্রদার কাছে কোন না কোনভাবে দায়বদ্ধ, কৃতজ্ঞ। তিনি সর্বদা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পবিত্র চৌধুরী ছিলেন একজন চমৎকার ভদ্রলোক, ভালোমানুষ।

একটি ছোট্ট ঘটনা বলি: ২০০১-২০০৬-এ আমরা তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন করছি। ঐক্য পরিষদের প্রেসিডেন্ট তখন রূপকুমার ভৌমিক। তিনি ম্যানহাটনে একটি হোটেলে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে চাকুরী করতেন। আমরা তাঁর হোটেলে একটি বড় আন্তর্জাতিক সেমিনার করি। সবকিছু নিয়ম মেনে হলেও বাঙ্গালী কেউ তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ করে, তার চাকুরিটি চলে যায়। পবিত্র চৌধুরী বেশ ক’মাস পরে এটি জানতে পারে এবং রূপকুমারকে তাঁর অফিসে নিয়ে যান, এবং বসকে বলেন যে, ‘প্রয়োজনে আমি চাকুরী ছেড়ে দিচ্ছি, আমার জায়গায় এঁকে নিন’। শেখ পর্যন্ত ঠিক কি হয়েছিলো জানিনা, তবে রূপকুমার চাকুরী পেয়েছিলো, এবং আজো তিনি সেই চাকুরিটি করছেন। এজন্যে পবিত্রদা’র প্রতি রূপকুমারের শ্রদ্ধার কোন কমতি ছিলোনা, এখনো নেই। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমরা অনেকেই পবিত্রদা’র বাড়ী যেতে পারিনি, কিন্তু বৌদি জানালো, রূপকুমার পরদিন সস্ত্রীক গিয়েছিলো, মৃত্যুকালে থাকতে পারেনি বলে দু:খ প্রকাশ করেছে, এবং পবিত্রদা’র আত্মার শান্তি কামনায় গীতা পাঠ করে গেছে।

পবিত্র চৌধুরী নেই, আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি, তিনি যেখানে থাকুন, ভাল থাকুন। আমি জানি পবিত্রদা আমায় বেশ স্নেহ করতেন। পবিত্রদা’র ভগ্ন স্বাস্থ্যের কথা আমরা মাঝেমধ্যে শুনতাম, যাব যাব ভাবতাম, হয়ে উঠতো না? মাস খানেক আগে আমার পত্নী তাগাদা দিচ্ছিলো যে, চলো পবিত্রদাকে দেখে আসি, সেটাও হয়নি। মৃত্যু সংবাদ শোনার পর আলপনা বললো, গেলে তো দেখা হতো। শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে দ্বিজেন ভট্টাচার্য্যের সাথে জ্যাকসন হাইটসে আমার দেখা হয়, তারসাথে পবিত্রদা’র কথা আলোচনায় আসে। আমাদের সুশীল সাহা, যিনি নিজেও ভীষণ অসুস্থ, তার সাথেও আমার পবিত্রদাকে নিয়ে কথা হয়েছে। পবিত্রদা’র মৃত্যু সংবাদ আমি সামাজিক মাধ্যমে দেই, ব্যাপক সাড়া দেখে বোঝা যায়, পবিত্রদাকে সবাই ভালবাসে। আসলেই তো পবিত্রদা’র বিরুদ্ধে কাউকে বলতে শুনিনি। পবিত্রদা’র মৃত্যুতে আমরা একজন পরম শুভানুধ্যায়ীকে হারালাম, এ ক্ষতি পূরণ হবার মত নয়। তার পরিবারের প্রতি রইলো আমাদের গভীর সমবেদনা। guhasb@gmail.com;

PABITRA NARAYAN

প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ল তিন মাস

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কুয়েতে অবস্থানরত এবং ছুটিতে থাকা প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

বুধবার কুয়েতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে থাকা ভিজিট ভিসাধারীদের মেয়াদ এক মাস এবং কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ অতিরিক্ত তিন মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব দর্শনার্থীর ভিজিট এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অবস্থানকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে এক মাস বাড়ানো হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। ফলে ভিসাধারীদের কোনো সরকারি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া এই বর্ধিত সময়ের জন্য কোনো ধরনের ফি কিংবা বিলম্বজনিত জরিমানাও দিতে হবে না।

অন্যদিকে, যারা ছুটিতে কুয়েতের বাইরে অবস্থান করছেন এবং যাদের ভিসার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বা শেষ হওয়ার পথে, তাদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাদের অনুপস্থিতির অনুমতি বা পারমিট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আরও তিন মাসের জন্য নবায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক জটিলতা ও আর্থিক জরিমানা ছাড়াই প্রবাসীদের বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।