বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক ও সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতির নির্দেশে পুরোপুরি পাল্টে যায় পুরো বাংলাদেশের চিত্র। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালনে উত্তাল বিক্ষুব্ধ বাংলায় বিদ্রোহ-সংগ্রামের তরঙ্গ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছড়িয়ে পড়ে। বাঙালির প্রচ- বিক্ষোভে একাত্তরের এই দিনে রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করতে বাধ্য হয় পাকি শাসকগোষ্ঠীরা।
চোখের সামনে সবাইকে বোকা বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর কৌশলে স্বাধীনতার আহ্বানে হতভম্ভ হয়ে যায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা। বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বানিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনকে ভ-ুলের শেষ পরিকল্পনাও ব্যর্থ হওয়ায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম দমনের নীলনকশা আঁটতে থাকে পাকি শাসক গোষ্ঠীরা।
আজ ৮ মার্চ। ১৯৭১ একাত্তরের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। আর ৭ মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ বাংলার জনগণ। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন তার পক্ষে দেশবাসী জেগে উঠতে শুরু করে। বাংলার দামাল ছেলেরা নিজেরা দলে দলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন চলতেই থাকে। এ সময় স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য স্বাধীনতা বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর বাণী রেডিওতে প্রচার না করায় বাঙালি ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বেতার কর্মীদের আন্দোলনের কারণে পাকিস্তানিরা বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বেতারে প্রচার করতে। ৮ মার্চ সকাল ৮টায় রেডিওতে ভেসে আসে বঙ্গবন্ধুর সেই অবিস্মরণীয় ভাষণÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
অন্যদিকে আগের মতোই উত্তাল জনতা মিটিং-মিছিলে প্রকম্পিত করে রাখে সারাদেশ। ক্ষুব্ধ বাঙালির মিছিলে মিছিলে ঝাঁজাল স্লোগানে উচ্চকিত ছিল সারাদেশ। প্রধান স্লোগান ছিলÑ ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্ম-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।
এক্ষেত্রে বসে নেই কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। তাদের এ দেশীয় দোসররাও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাতে তৎপর। কার্ফু দিয়েও সামরিক জান্তারা সাহসী বীর বাঙালিদের আটকে রাখতে না পেরে গোপনে আঁটতে থাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে বাঙালি নিধনের। একাত্তরের উত্তাল, ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ বাংলাদেশে এই দিনটিতে সারাদেশের সকল পাড়া, গ্রাম, মহল্লায় সংগ্রাম কমিটির পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
অগ্নিঝরা মার্চ
১৮ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ থেকে
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ রবিবার ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্রি হচ্ছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট।
সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৮ মার্চের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে পূর্বাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের অগ্রিম টিকিট।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৩ মার্চ, ১৪ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৪ মার্চ, ১৫ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৬ মার্চ ও ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৭ মার্চ। এ ছাড়া আগামী ১৯ মার্চের টিকিট ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে।
উল্লেখ্য, চাঁদ দেখার সাপেক্ষে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
মাহে রমজান
কুরআনুল কারীম নাযিলের মাস মাহে রমজান। এ মাসে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব কুরআন পড়া, কুরআন শরীফের মর্ম অনুধাবন করা। আজ আমরা পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা সুরাতুল আনআমের ফযিলত ও পটভূমি পর্যালোচনা করব। সুরাতুল আনআম পবিত্র কুরআনের ৬ষ্ঠ সুরা। এতে ২০টি রুকু, ১৬৫টি আয়াত, ১২,৯৩৫টি হরফ রয়েছে। বিখ্যাত কুরআন বিশারদ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদি.) বলেন : সুরা আনআমের একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, কয়েকটি আয়াত বাদে গোাটা সুরাটি একযোগে একই রজনীতে মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে। সত্তর হাজার ফেরেস্তা তাসবীহ পাঠ করতে করতে এ সুরার সঙ্গে অবতরণ করেছিলেন। আর আঁ-হজরত (স.) আল্লাহর প্রশংসা সূচক ‘সুবহানা রাব্বিায়াল আজীম’ পাঠ করছিলেন সেজদাবনত হয়ে। -(খাজাঈনুল ইরফান, অখ- ১৫২)।
অন্য এক বর্ণনায় হজরত মুয়াজ ইবনে জাবালের (রাদি.) চাচাত ভগ্নি আসমা বিনতে ইয়াজিদ বলেন : এ সূরা যখন হুজুর (স.) এর ওপর নাজিল হচ্ছিল তখন তিনি এক উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত ছিলেন। আর আমি ওটার লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন দুর্বহ চাপে উষ্ট্রীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল ওটার মেরুদ- এখনি বুঝি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।
হাদীসে এ কথাও স্পষ্টরূপে উল্লেখ হয়েছে যে, যে রাতে এ সূরা নাজিল হয়েছিল, সেই রাতেই হজরত নবী করীম (স.) এটি লিপিবদ্ধ করিয়ে ছিলেন। সূরাটির বিষয়ে উপরোক্ত ফজিলত ও গুরুত্ব সম্ভবত এ জন্যই প্রকাশ করা হয়েছে যে, মক্কার সর্বশেষ পর্যায়ে এ সূরার মাধ্যমে মহানবী (স.) কুফফারে মক্কার তাওহীদ বিরোধী ভ্রান্ত ধারণা ও বিশ্বাসগুলোর যুক্তিপূর্ণ প্রতি উত্তর দিতে সক্ষম হবেন।
ইসলামের দাওয়াত প্রচারের কাজ করতে করতে খোদার রসুলের (স.) বারোটি বছর অতিবাহিত হয়ে যায়। এ সময় কুরাইশদের শত্রুতা, বিরুদ্ধতা ও জুলুম নিষ্পেষণের মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোক তাদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে দেশ ছেড়ে হাবশায় হিজরত করে বসবাস করতে শুরু করল তখন জীবিত ছিলেন না হজরতের মুরুব্বি চাচা আবু তালিব, আর না অনুপ্রেরণা দানকারিণী বিবি খাদিজা (রাদি.)।
আবু ইসহাক ইসকেরায়য়িনী বলেন : এ সূরাটিতে তাওহীদের সমস্ত মূলনীতি ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এ সূরাটি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বাক্য দ্বারা আরম্ভ করা হয়েছে। এতে খবর দেওয়া হয়েছে যে, সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহর জন্য। প্রথম আয়াতের উদ্দেশ্য হলো একত্ববাদের স্বরূপ ও সুস্পষ্ট প্রমাণ বর্ণনা করে জগতের ঐসব জাতিকে হুঁশিয়ার করা, যারা মূলত একত্ববাদের বিশ্বাসী নয় কিংবা বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও একত্ববাদের তাৎপর্যকে পরিত্যাগ করে বসেছে।
এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সুরাতুল আনআম। ‘আনআম’ অর্থগৃহ পালিত জন্তু। সুরাটির ১৬, ১৭ রুকুতে ‘আনআম’ শব্দটি বেশ কয়েকবার উল্লেখিত হয়েছে। তা থেকেই উক্ত নামে সুরাটির নামকরণ। ইসলাম ধর্মে চতুষ্পদ গৃহপালিত জন্তু সম্পর্কীত সুস্পষ্ট হালাল-হারামের বিধান রয়েছে। কোনো কোনো জীব জন্তু হারাম, কখন এবং কেনই বা হারাম আর হালাল (বৈধ) হলো এর রহস্যই বা কি?
মানুষের বিপদ আপদ দূর হওয়ার জন্য বুজুর্গানে দ্বীন এ সূরা পাঠ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে থাকেন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে পবিত্র কুরআন ও রমজানের বরকতে আসমানী বালা ও জমিনী বালা মুসিবত থেকে পানাহ দান করুন- আমিন।
নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বলেছেন, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শহিদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর হবে, যা পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে গৃহস্থালির কাজ থেকে এবং নারীরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, কলকারখানা ও নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের বিষয়েও রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে অনলাইন মাধ্যমেও নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
খালেদা জিয়া ছিলেন সাহসের অনুপ্রেরণা: ডা. জোবায়দা রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুই একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ইতিহাসের অংশ, একজন জীবন্ত কিংবদন্তি।
তাঁর মতে, খালেদা জিয়া প্রতিটি বাঙালি নারীর জন্য প্রেরণা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক।
ডা. জোবাইদা রহমান রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাসের মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ভ
ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানহানির অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। রোববার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়। মির্জা আব্বাসের পক্ষে রমনা থানা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম মামলার আবেদনটি করেন।
এ বিষয়ে মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম জানান, মামলার আবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সকাল ১১টার দিকে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয় পান মির্জা আব্বাস। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পাটওয়ারী ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন।
হোয়াইট হাউজে মেসি-মায়ামিকে ট্রাম্পের সংবর্ধনা
গত মৌসুমে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইন্টার মায়ামিকে হোয়াইট হাউজে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যারিয়ারের প্রথমবার শুক্রবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা পেয়েছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। যেখানে ট্রাম্প মেসিকে পেলের চেয়ে ভালো ফুটবলার বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি নিজের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবং মেসির ভক্ত বলে জানিয়েছেন।
এ সময় ট্রাম্প ও মায়ামির যৌথ মালিক জর্জ মাসের সঙ্গে ইষ্ট রুমে প্রবেশ করেন মেসি। তারপর নিজের সই করা মায়ামির একটি গোলাপি বল প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন। এ ছাড়া মায়ামির মালিক ও কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর কাছ থেকে জার্সি ও ঘড়ি উপহার পান ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের প্রতিভাবান মানুষদের সম্মানিত করছি। আমার বলতে খুব গর্ববোধ হচ্ছে যে আগে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যেটা বলতে পারেনি, সেটাই বলতে পারছি আমি- লিওনেল মেসি, তোমাকে হোয়াইট হাউজে স্বাগতম।’ মজার ব্যাপার হলো মেসির হোয়াইট হাউজে আগমনের খবর নাকি ট্রাম্পও জানতেন না। ছেলের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি, ‘আমার ছেলে বলেছিল, বাবা, তুমি কি জানো এখানে কে আসতে যাচ্ছে? আমি বললাম, না, অনেক কিছুই তো হচ্ছে। সে বলল মেসি।’
ট্রাম্পের ছেলে মেসি এবং পর্তুজিগ সুপার স্টারের ভক্ত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে তোমার অনেক বড় একজন ভক্ত। তার মতে তুমি অসাধারণ একজন মানুষ। আমার ধারণা এর আগে তোমাদের দেখাও হয়েছে। সে ফুটবলের অনেক বড় ভক্ত, তবে তোমারও একনিষ্ঠ ভক্ত। আর রোনাল্ডো নামের একজন ভদ্রলোকেরও (ভক্ত)। ক্রিস্টিয়ানো দারুণ। তুমিও দারুণ।’
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ট্রাম্পের কাছে আমেরিকান ক্লাবের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান গ্রেট পেলের খেলার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তিনি মেসির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুমি হয়ত পেলের চেয়েও ভালো।’ তারপর দর্শকদের উদ্দেশে তার প্রশ্ন, কে বেশি ভালো? সেখানে উপস্থিত বেশিরভাগই রায় দেন মেসির পক্ষে। তাতে সুর মিলিয়ে ট্রাম্প বলে উঠেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। তবে সে অনেক ভালো, পেলে আসলেই ভালো।’
লেবু শসা বেগুন পেঁয়াজের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগি চিনির
নিত্যপণ্যের বাজারে লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগি, চিনি, সুগন্ধি চাল ও মসলাপাতির দাম। হঠাৎ করে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে গেছে। বেশিরভাগ মুদিপণ্যের দোকানে সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের ক্যান পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া চাল, ডাল, আটা ও অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, খাসির মাংস, মাছের দাম। ইফতারি পণ্য হিসেবে খ্যাত ছোলা ও খেজুরের দামও কিছুটা কমে এসেছে।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাজারে মুরগির দাম আবার বেড়েছে। ব্রয়লার ও সোনালি উভয় প্রজাতির মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। তাতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম আবার ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। পাশাপাশি বাজারে চিনি, পোলাওয়ের চাল ও বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। আর লেবু, শসা, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম কিছুটা কমেছে।
বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরুতে, অর্থাৎ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ২০০-২২০ টাকা হয়েছিল। কয়েক দিন পর দাম কমে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৬০-১৭০ টাকায়; কিন্তু রোজার মাসের মাঝামাঝি এসে দাম আবার বেড়েছে।
শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০-২০০ টাকায়। মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০-৩০০ টাকা। ডিমের দামে অবশ্য কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। কাপ্তান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল বলেন, শীতে অনেক খামারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুরগি মারা যাওয়ায় বাজারে কিছুটা সরবরাহ– সংকট রয়েছে। এর সঙ্গে রোজায় মুরগির চাহিদা বাড়াতেও দাম বেড়েছে। ঈদ আসতে আসতে মুরগির দাম আরও কিছুটা
বাড়তে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ টাকার আশপাশে, অর্থাৎ চিনির কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। আর মোড়কজাত চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকা হয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, পাইকারিতে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। তাতে পাইকারিতে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৬ টাকা। পোলাওর চাল হিসেবে পরিচিত চিনিগুঁড়ার দাম অনেকটা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এরফান ও মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের খোলা চিনিগুঁড়া চালের কেজি এখন ১৪০-১৫০ টাকা। আর মোড়কজাত চিনিগুঁড়া চালের দাম আরও বেশি, কেজি ১৭৫-১৮৫ টাকা। মাসখানেক আগেও ৫০-৬০ টাকা কমে এ চাল কেনা যেত।
বাজারে অন্যান্য চালের দাম দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে এ মাসের শুরু থেকেই বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বাড়ছে। যেমন আলুবোখারার কেজি ৭৫০ থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে ৪০, কাঠ ও কাজুবাদামের দাম কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে। এদিকে কয়েক দিন ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে। পণ্যটির দাম না বাড়লেও ক্রেতারা অনেক দোকানে গিয়ে এক পাঁচ লিটারের বোতল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করছেন। ফকিরাপুল বাজারের বিক্রেতা নাজমুল হাসান বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরে দাম বাড়ানো হতে পারে। না হলে যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোজার শুরুতেই বাজারে লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি হালি লেবু ৪০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ টাকার ওপরে।
এ ছাড়া শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। শুক্রবার প্রতি কেজি শসা ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোজার শুরুতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা হয়েছিল। গতকাল পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশ পরিচালনা করব
মাদারীপুর-৩ আসনের সদ্য বিজয়ী এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ইতিমধ্যেই দেশের উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুর-৩ আসনেও উন্নয়ন শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তাই আমি বলতে চাই প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশ পরিচালনা করব।
আজ শুক্রবার বিকেলে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ মাঠে কালকিনি উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত ইফতার মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দশ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক বেপারী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুন্সী প্রমুখ।
চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস: পরকীয়া করতেন ইকরা, বিয়ে করেছিলেন অন্য কোথাও
আত্মগোপনে থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী এবার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলো করেন। এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ উল্লেখ করে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
আলভী দাবি করেন তার বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে যার নিয়ন্ত্রণ কেবল ইকরার ফোনেই ছিল। তিনি জানান গত ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ইকরার বন্ধু ও বান্ধবীরা বাসায় এসেছিলেন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তারা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেন। মৃত্যুর আগের দিন ইকরা আলভীর সহকারীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধও আনিয়েছিলেন যা সিসিটিভির আওতাতেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই ফুটেজগুলো যেন কোনোভাবেই সরানো বা নষ্ট করা না হয় সে বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্ত্রীর মোবাইল ফোন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান ইকরার ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেই জানা যাবে কে ইকরার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে এবং কথোপকথন মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে কি না। এছাড়া আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগস সেবনের বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি দাবি করেন ময়নাতদন্ত করার আগে একটি মহল এতে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল।
সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে আলভী তার স্ত্রীর অতীত নিয়ে মুখ খুলেছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে জানতে চান ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামের এক সহপাঠীর কী সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই ইকরাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছিল। স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় ইকরা সেই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন আলভী। পরে ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এলে আলভী তাকে ক্ষমা করে মেনে নেন।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে চরম শঙ্কা প্রকাশ করে আলভী জানান ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সহকর্মীদের বেইমানি হয়তো তাকে বাঁচতে দেবে না। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কাছে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণগুলো মিলিয়ে দেখার আকুতি জানিয়েছেন। পরিশেষে তিনি সবার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।


