Home Blog

ঢাকা শহর বাসযোগ্য করতে ৭ সুপারিশ

রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে সাতটি সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এখনই এসব বিষয়ে সজাগ না হলে রাজধানী ঢাকার বাসযোগ্যতার আরও দ্রুত অবনতি হবে বলে বিআইপির অভিমত।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলামটরের প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

বিআইপির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে– রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন যাই হোক না কেন, চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদিত পরিকল্পনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না। মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনার অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করতে হবে। খণ্ডিত এলাকাভিত্তিক, একক খাতভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একীভূত করে সমন্বিত জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত না করে জলাভূমি, কৃষিজমি, জলাধার বা অন্যান্য পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্যতা যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত ‘পরিকল্পনা সামঞ্জস্যতা প্রতিবেদন’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী কয়েক দশকের নগর ও আঞ্চলিক চাহিদা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনাভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বিআইপির সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান, স্থানিক পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ এ. কে. এম. রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান, পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিম প্রমুখ।
সূচনা বক্তব্যে ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে নগরীর বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরীর বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয় উদ্বেগজনক।
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

চুন কারখানার বিষে ধুঁকছে ছাতক

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্প এখন স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই পৌর এলাকাসহ উপজেলার নদীতীরবর্তী এবং ছাতক-সিলেট ও ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের পাশে স্থানীয় প্রশাসনকে উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে দুশতাধিক অবৈধ চুনের কারখানা। স্থানীয় ভাষায় যা পাজু নামে পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় দিন দিন এসব অবৈধ পাজুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে জনবল সংকটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অপারগতার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ।

চুন উৎপাদনে যে অননুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, তাতে বাতাসে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হচ্ছে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় ক্ষারীয় উপাদান নিঃসৃত হচ্ছে কারখানার পানি ও অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে, যা ক্ষয় রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে। কার্বনের বিষে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একই সঙ্গে চুনের পাজুতে জ্বালানি হিসেবে নির্বিচারে কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এসব কারখানা কেবল মূল সড়কের পাশেই নয়, বরং গ্রামীণ বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

কাছাকাছি গড়ে তোলায় শিক্ষার্থীরাও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
জানা যায়, একেকটি চুল্লিতে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ৪০০ টন কাঠ পোড়ানো হয়। এতে একদিকে যেমন এলাকায় জ্বালানি কাঠের সংকট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে বিপন্ন হয়ে পড়ছে বনাঞ্চল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব কাঠভিত্তিক চুন কারখানা অঘোষিত ‘দূষণ হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির এসব চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই পরিবেশে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
চারপাশে যত্রতত্র ‘পাজু’
অটোরিকশাচালক কামাল উদ্দিন বলেন, ছাতক থেকে গোবিন্দগঞ্জ যাওয়ার পথে আগে কোনো চুন কারখানা ছিল না। কিন্তু গত এক বছরের মধ্যে হাসনাবাদ থেকে ছাতক শহরের নতুন সেতুর আগে অন্তত এক ডজন পাজু গড়ে তোলা হয়েছে। চুন পোড়ানো শুরু হলে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই ব্যবসায় প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের আকুপুর গ্রামের কবির মিয়া জানান, গ্রামে নতুন করে অনেক পাজু তৈরি হচ্ছে। যারা চুনাপাথর আমদানি করেন, তারাই মূলত এসব পাজু বানিয়ে চুন বিক্রি করছেন।

এক পাজুতেই শত মণ কাঠ
সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, শ্রমিকরা মাটি কেটে চুল্লি তৈরিতে ব্যস্ত। চুল্লির দক্ষিণ পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন গাছের কাঠ ও ডালপালা। আর পশ্চিম পাশে রাখা চুনাপাথর।
কারখানার কারিগর মো. কালাম জানান, একটি পাজু তৈরিতে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিকের ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। এরপর ভেতরে ৭৫ টন চুনাপাথর সাজিয়ে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। এই পাথর পোড়াতে প্রয়োজন হয় প্রায় এক হাজার ৫০০ মণ (প্রায় ৬০ টন) কাঠ। এভাবে প্রতি মাসে একেকটি পা জুতে দুইবার চুন পোড়ানো হয়।
উপজেলার প্রায় ২০০টি পাজুতে মাসে প্রায় এক হাজার ৪০০ টন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এতে আগে যে কাঠের দাম ছিল ১২০ টাকা মণ, তা এখন বেড়ে ৩০০ টাকায় ঠেকেছে। চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২০ থেকে ৩০টি ট্রাক ও পিকআপে কাঁচা কাঠ ছাতকে আনা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. জসিম উদ্দিন বলেন, লোকালয়ে গড়ে ওঠা এসব কারখানা থেকে নির্গত গ্যাস ও ছাই মানবদেহে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা ও ত্বকের জটিল ব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে।
ছাতক বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস জানান, তাদের জনবল সংকট চরমে। মাত্র দুজন লোক নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

চুন কারখানা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সালেক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম বলেন, পরিবেশের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে ঠিকই, তবে এটি ছাতকের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা। বহু মানুষের রুটি-রুজি এর ওপর নির্ভরশীল। কারখানাগুলোকে পরিবেশের ছাড়পত্র দিয়ে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হলে সরকার ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পাজুর মালিকদের নিয়ে শিগগিরই বৈঠকে বসবেন তারা। অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এগুলো চলছে, তা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ছাড়পত্র নেই। এদের জ্বালানি কাঠ সরবরাহ বন্ধে বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কচু খেলেই গলায় চুলকানি? অস্বস্তি কমাতে কী করবেন

কচু শাক, ওল কচু অনেকেরই পছন্দের। এ খাবারগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হলেও অনেকেরই কচু খেলে গলায় অস্বস্তিকর চুলকানি হয় বা গলা ধরে। কেন এ ধরনের সমস্যা হয় তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে।

টিভিনাইনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী,বিজ্ঞানীদের মতে,কচু জাতীয় শাক-সবজিতে প্রাকৃতিকভাবেই ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’নামক অণুবীক্ষণিক সুঁচের মতো সূক্ষ্ম স্ফটিক থাকে। এটি মুখে বা গলায় প্রবেশ করলে নরম কলায় বিঁধে যায়, যা থেকে তীব্র অস্বস্তি ও খসখসে ভাব তৈরি হয়। অ্যাসিড বা অম্লজাতীয় উপাদান এই স্ফটিকগুলোকে ভেঙে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

যাদের কচু শাক বা কচু জাতীয় খাবার খেলে গলায় অস্বস্তি হয় তারা ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

ভিনেগার বা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ ভিনেগার মিশিয়ে কুলকুচি বা সামান্য পান করুন। এতেও দ্রুত স্বস্তি পাবেন।

মধু ও ঘিয়ের মিশ্রণ: গলার আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ১ চামচ খাঁটি মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ঘি বা সামান্য গরম পানি মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। মধু গলার ভেতরের সূক্ষ্ম ক্ষত ও খসখসে ভাব কমাতে সাহায্য করে।

এক টুকরো গুড় বা মিছরি: কচুর পদ খাওয়ার পর এক টুকরো গুড় বা মিছরি খান। গুড় গলার ভেতরে একটি পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি করে এবং লালা নিঃসরন বাড়িয়ে অস্বস্তি দূর করে।

গলার অস্বস্তি কমাতে কচু কাটার পর ভালো করে লবণ-হলুদ দিয়ে পানিতে ভাপিয়ে সেই পানি ফেলে দিন। এছাড়া কচুর যেকোনও পদ রান্নার সময় কিছুটা লেবুর রস, আমচুর পাউডার বা টকদই ব্যবহার করলে রান্নার সময়েই ক্ষতিকর অক্সালেট নষ্ট হয়ে যায়।

আফজাল হোসেন পেলেন ‘সৃজনকলা গুণীজন সম্মাননা ২০২৬’

সৃজনকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বরেণ্য অভিনেতা, পরিচালক, লেখক, চিত্রশিল্পী ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা আফজাল হোসেনকে ‘সৃজনকলা গুণীজন সম্মাননা ২০২৬’ দিয়েছে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আফজাল হোসেনের হাতে সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রবিন খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (বীর বিক্রম), স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফারজানা রশীদ ব্রাউনিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরা পারভীন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক একাডেমিক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রাফিউল ইসলাম।

সম্মাননা পর্বে আফজাল হোসেনের সংক্ষিপ্ত জীবনপরিচিতি পাঠ করেন নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক। পরে মানপত্র পাঠ করেন সংগীত বিভাগের প্রভাষক নিশাত তাবাসসুম।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা, সংগীত, নৃত্যকলা ও ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। এতে নাটিকা, দলীয় সংগীত, নৃত্য ও ফ্যাশন শো পরিবেশিত হয়। সংগীত বিভাগের প্রভাষক কানিজ খন্দকার মিতু লালনগীতি পরিবেশন করেন।

সম্মাননা গ্রহণের পর আফজাল হোসেন তাঁর অনুভূতি ও দীর্ঘ সৃজনযাত্রার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে রবিন খান বলেন, ‘আফজাল হোসেন আমাদের কাছে শুধু একজন অভিনেতা, নির্মাতা বা চিত্রশিল্পী নন, তিনি আমাদের সময়ের এক বহুমাত্রিক সৃজনশীল প্রতিভা। তাঁর কাজ আমাদের আনন্দ দিয়েছে, ভাবিয়েছে, কখনো নীরবে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে, আবার কখনো সৌন্দর্যকে নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ তাঁকে সম্মাননা প্রদান করতে পেরে আমরা সত্যিই আবেগাপ্লুত ও গর্বিত।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক ও সমন্বয়কারী নিগার সুলতানা।

ভালোবাসার নতুন গল্পে নিহা, সঙ্গে ইয়াশ রোহান

অভিনয় ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভালোবাসার গল্পকে প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে তারকা অভিনেত্রী নাজনীন নিহাকে; যার বেশির ভাগ নাটক দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলেছে। সেই কারণে অভিনয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন আরেকটি ভালোবাসার গল্প। নাম ‘মনের মতো মন’।

নাটকটির কাহিনি লেখার পাশাপাশি চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইমরাউল রাফাত। এতে নিহার বিপরীতে দেখা যাবে ইয়াশ রোহানকে। এর আগে ‘নিয়তি’, ‘উইশ কার্ড’, ‘জনম জনম’, ‘অবুঝ পাখি’ নাটকে ইয়াশ-নিহা জুটি বেঁধে দর্শক মনোযোগ কেড়েছিলেন।

সেই সুবাদে নির্মাতা ইমরাউল রাফাত আরও একবার এ জুটিকে নিয়ে পর্দায় তুলে ধরছেন ভালোবাসার নতুন গল্প ‘মনের মতো মন’।

অভিনেত্রী নাজনীন নিহার কথায়, কিছু গল্প দারুণভাবে মনে আঁচড় কাটে; যার শুরু থেকে দর্শক অপেক্ষা করে শেষ পরিণতি দেখার। ‘মনের মতো মন’ তেমনই এক ভালোবাসার গল্পের নাটক, যা দর্শক প্রত্যাশা পূরণ করবে।

এতে ইয়াশ-নিহা জুটির পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা হিমু, আজিজুল হাকিম, চিত্রলেখা গুহ, সাবেরী আলম, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, কচি খন্দকার, নওশীন দিশা, গোলাম দস্তগীর সান, জয় শাহরিয়ার বাপ্পি প্রমুখ।

শিগগিরই নাটকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে দর্শকের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকট রপ্তানি খাতের বড় সমস্যা এইচএসবিসির আলোচনায় রপ্তানিকারক

জ্বালানি সংকট, অবকাঠামোর সমস্যা ও কাঁচামালের অভাবই এখন রপ্তানি খাতের বড় সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে দেশের রপ্তানি আয় অনেক বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া রপ্তানি খাতে একক পণ্যে অতিনির্ভরতা একটি বড় ধরনের ঝুঁকি। রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রপ্তানিকারকরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের রপ্তানি খাতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬ প্রদানের ঘোষণা দেয় এইচএসবিসি বাংলাদেশ।

ইতোপূর্বে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। তারা হলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান এবং উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান।

আলোচনায় আহসান খান চৌধুরী বলেন, রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অবকাঠামো, মূল্য সংযোজন ও ব্র্যান্ডিং। এগুলো একই সঙ্গে সুযোগও। এসব বিষয়ে মনোযোগ দিলে রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্যপণ্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে সহজলভ্য করার দিকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের আরও বেশি পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তাদের।
আসিফ আশরাফ বলেন, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। রপ্তানি বাড়ানো, উদ্ভাবনী পণ্য যেমন পোশাকের নকশা ও অন্যান্য সেবায় এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

এনায়েতুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্ট পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তাদের আস্থা বাড়ছে। রপ্তানিতে খাতটি বড় সম্ভাবনাময়। তবে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্বল অবকাঠামো, জ্বালানি সংকট, মানসম্পন্ন ইন্টারনেটের অভাব। তবে বড় শক্তি হচ্ছে জনবল। তাঁর প্রতিষ্ঠানের ৪০ প্রকৌশলী অ্যাপলের ফোনের চিপের কাজ করেন। জনমিতির সুবিধা নিতে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, যে কোনো দেশের মতো বাংলাদেশেও অর্থনীতির অন্যতম শক্তি হচ্ছে রপ্তানি খাত। তবে একক পণ্যে অতিনির্ভরতা রপ্তানি খাতের জন্য বড় ঝুঁকি। এক বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি হয় এমন অন্য খাত বলতে গেলে নেই। পশ্চাৎসংযোগ শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের অগ্রগতি অন্য খাতও অনুসরণ করতে পারে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড অব কমিউনিকেশন্স তালুকদার নোমান আনোয়ার এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে অংশগ্রহণের নিয়মগুলোর বিস্তারিত জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসের এবারের আয়োজনে নমিনেশন ফর্ম পূরণের মাধ্যমে ‘বছরের সেরা রপ্তানিকারক’ হিসেবে চারটি ক্যাটেগরিতে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর একটি হচ্ছে রপ্তানিতে এক্সিলেন্স তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি)। পোশাক খাতে যেসব প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় বছরে ১০ কোটি ডলার ও তার বেশি তারা এ ক্যাটেগরিতে অংশ নিতে পারবে।
আরেকটি ক্যাটেগরি হচ্ছে রপ্তানিতে এক্সিলেন্স তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ। পশ্চাৎসংযোগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় পাঁচ কোটি ডলার ও তার বেশি তারা এতে অংশ নিতে পারবে। আরেকটি হচ্ছে রপ্তানিতে এক্সিলেন্স– অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র (ম্যানুফ্যাকচারিং) ক্যাটেগরি। যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় এক কোটি ডলার ও তার বেশি তারা এতে অংশ নিতে পারবে। ইলেক্ট্রনিক্স, হাল্কা প্রকৌশল, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, এগ্রো প্রসেসিং, অটোমোটিভ কম্পোনেন্টস ইত্যাদি এ ক্যাটেগরির অন্তুর্ভুক্ত।
এ ছাড়া রপ্তানিতে এক্সিলেন্স-অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র (সার্ভিস) ক্যাটেগরিতে আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ক্যাটেগরিতে প্রফেশনাল, ডিজিটাল, জ্ঞানভিত্তিক সেবা ইত্যাদি খাতে যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ৫০ লাখ ডলার ও তার বেশি যেসব প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে।

এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এর পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। টেকনিক্যাল পার্টনার আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং। বিচারকমণ্ডলী বা জুরি প্যানেলে থাকবেন এইচএসবিসি সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা।
বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়িত্ববোধ, টেকসই পরিচালন প্রক্রিয়া, বৈচিত্র্য, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ইত্যাদিও বিচার করা হবে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো এন্ট্রি ফি নেই। অংশগ্রহণকারীকে এইচএসবিসির গ্রাহক হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের সব কার্যক্রমের সাফল্যের ওপরই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সফলতা বহুলাংশে নির্ভরশীল।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন সম্ভব জানিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি আপনাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে। করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি-নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব ও রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা করে এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্টের অন্যতম কারণ ছিল এই বিষয়গুলো। কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্যবসায় নতুন নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। নানা রকম চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসেছে পরিবর্তন। পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্ভাবনা, সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন, ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এসব বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশে ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত এখনও সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম মন্তব্য করে তিনি বলেন, অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও আনুষ্ঠানিক। নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সারাবিশ্বে একটি প্রযোজ্য বিষয় হলো, আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়। বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। একজন করদাতা যিনি নিম্ন কর আদায় করছেন রাষ্ট্র যেমন তাকে সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন তাকেও কর প্রদানের জন্য যথাযথভাবে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।

কর ব্যবস্থাপনা কিংবা কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে মানুষ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে কর দেয়, কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি খুব টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা বা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ জন্য ডিজিটালি আধুনিক ডেটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি, দেশের স্বার্থে আপনারা এনবিআরকে জনগণের কাছে আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হবেন। ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান তথা সবার আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। সরকার চায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। প্রত্যেক মানুষের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখতে চায় সরকার। সমস্যা আছে, থাকবে। আমরা আলোচনা করে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করব।

‘সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যারা জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে চায়, সরকার সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা বাগান শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার

রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের 
আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দিয়ে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আওতায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ পাঁচ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ পাঁচ হাজার রেইনকোট
সরবরাহ করছে।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সম্পৃক্ত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
রেইনকোট গ্রহণকালে শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা হিসেবে চা পাতা উপহার দেন। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, বাপির উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য সিমিন রহমান, নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম; শেভরন বাংলাদেশের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, আশিক শেহজাদ রহমান ও হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট একেএম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব।

বিএনপি সরকার ভূতের মতো পেছনে হাঁটছে

গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ সংস্কার প্রশ্নে বিএনপি ভূতের মতো পেছনে হাঁটছে। গণভোটে অনুমোদন জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করছে। বিএনপি নিজের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এনসিপি সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।

গুমের তদন্ত পুলিশকে দিয়ে করানো, মানবাধিকার কমিশন গঠনের বাছাই কমিটিতে সরকারের একচ্ছত্র প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনে তদন্ত কমিশনের না করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হুসাইনের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, সাবেক বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।

আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিএনপি পাস না করে সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আরও ভালো আইন হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বরং আগের চেয়ে খারাপ আইন করা হচ্ছে, যা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।

আখতার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আমলা ও বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে নয়, সাধারণ নাগরিকদের মতামতকে ধারণ করে নতুন করে আইনগুলো প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমান খসড়া আইন সংসদে পাস হলে মানবাধিকার সুরক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যাবে। অতীতে তো বাহিনীগুলো গুম করত, মানবাধিকার লঙ্ঘন করত, তারা দায়মুক্তি পেত। তো সামনেও কি আমরা এ রকম দেখতে চাই?

শহিদুল আলম বলেন, আমরা আজকে মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি– এটা একটা বিশাল ব্যাপার, যা ভুলে গেলে চলবে না। এই পরিবেশকে ধরে রাখতে বাহিনী ও সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করে এমন আইন করার দাবি জানান তিনি। শহিদুল আলম বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্থিতিশীলতা না থাকলে কেউ আসবে না। নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে যদি দেশ চলে, তাহলে তো ওই কুকুর ওভাবেই নড়ছে এবং লেজ তার মতো করে ঠিকই নাড়াচ্ছে।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকর না করলে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা সম্ভব নয়। গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল বা দলীয়করণ করা হলে এগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ভূতের মতো পেছনের দিকে হাঁটছে। তারা কি ভূত হয়েছে না ভূতে ধরেছে? বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত নয়। আশা করি, বিএনপি এই ভুল পথ থেকে সরে এসে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক কিছু ওয়াদা করে, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করে না। এই খাসলত বদলাতে হবে।
সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য শরীফ ভূঁইয়া বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্য সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা না থাকলে কী ফল হয়, কীভাবে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়, তা ১৫ থেকে ১৬ বছর দেখা গেছে। পুরোনো মানবাধিকার ও গুম আইন বাতিলের সময় আরও ভালো আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমান খসড়া দেখে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, আইনের খসড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই পাঠানোর ব্যবস্থা এর উদাহরণ। কর্মকর্তাদের সুরক্ষার যুক্তিতে স্বাধীন তদন্ত বন্ধ করা ঠিক নয়। কর্মকর্তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু তা স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বাতিল না করে আলাদা আইনি কাঠামো করা উচিত।

ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে আবুধাবি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও দেশটির সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট।

আল জাজিরাকে কিমিট বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, ইরানে আমদানি করা পণ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী বর্তমানে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও তাদের পেছনে রয়েছে।

কিমিটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকার কারণে ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালানোর সুযোগ পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্য বন্ধের পর অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোও একই পথে হাঁটবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিমিট বলেন, আপাতত এসব দেশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে ও অপেক্ষা করবে।’

কিমিটের মতে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ইরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানেন তিনি।

আমিরাতের এ পদক্ষেপের ফলে ইরানের আমদানি, আর্থিক লেনদেন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, সকলেই বাংলাদেশি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে এই আগুন লাগে।

মৃতররা সকলে বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। অন্যদিকে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা।

ভোর তিনটার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল কর্মী। আগুনের ঘটনাস্থলের একেবারে কাছেই দমকল অফিস। দমকলের ৪টি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।

আগুনের ধোঁয়ায় হোটেলের ভেতরে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েন। পরে সেখানে থেকে তাদের উদ্ধার করে দমকম বাহিনী। এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।

অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের ঢোকা-বেরোনোর পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। হোটেলটি থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন একটি হোটেলে সোমবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই দিন রাতেই হোটেলের মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবার আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটলো।