রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে সাতটি সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এখনই এসব বিষয়ে সজাগ না হলে রাজধানী ঢাকার বাসযোগ্যতার আরও দ্রুত অবনতি হবে বলে বিআইপির অভিমত।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলামটরের প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বিআইপির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে– রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন যাই হোক না কেন, চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদিত পরিকল্পনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না। মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনার অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করতে হবে। খণ্ডিত এলাকাভিত্তিক, একক খাতভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একীভূত করে সমন্বিত জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত না করে জলাভূমি, কৃষিজমি, জলাধার বা অন্যান্য পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্যতা যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত ‘পরিকল্পনা সামঞ্জস্যতা প্রতিবেদন’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী কয়েক দশকের নগর ও আঞ্চলিক চাহিদা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনাভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বিআইপির সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান, স্থানিক পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ এ. কে. এম. রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান, পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিম প্রমুখ।
সূচনা বক্তব্যে ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে নগরীর বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরীর বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয় উদ্বেগজনক।
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।


