Home Blog Page 156

২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের রেকর্ড ১,৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা

২০২৫ সালে সিটি ব্যাংক তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের ১ হাজার ১৪ কোটি টাকার তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। শুক্রবার সিটি ব্যাংক এক সংবাদ বিজপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২৫ সালে এককভাবে সিটি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এবং এর চার সহযোগী প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে আরও ১৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা যোগ করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য এই প্রবৃদ্ধি এসেছে শক্তিশালী আয় বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত ফল হিসেবে।

গত বছর ঋণ থেকে সুদ আয় ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বেড়েছে ২৪ শতাংশ। পাশাপাশি ব্যাংকটি তাদের সম্পদের গুণগত মানও উন্নত করেছে। শ্রেণিকৃত ঋণের (এনপিএল) অনুপাত ২০২৫ সালের শেষে ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৩.৭ শতাংশ। গত বছর গ্রাহক আমানত ও তহবিল ব্যয় খরচ বেড়েছে, ব্যাংক সেই ব্যয় বৃদ্ধি সামলেছে সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে। ফলে ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের মধ্যে এই বিনিয়োগের অবদান ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তহবিল ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট বিনিয়োগ আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।

বিজপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকটি দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা করেছিল। ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় হয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা। আর রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে এসেছে ৪৭১ কোটি টাকা। ফলে মোট ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট পরিচালন আয়ের ২১ শতাংশ।

ব্যয় দক্ষতা এ ব্যাংকের অন্যতম শক্তি। মুদ্রাস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব সত্ত্বেও ব্যাংকটি তাদের আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৪ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট আয়ের বিপরীতে গত বছর মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।

গত বছর ব্যাংকটি তাদের লোনের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় বাড়িয়ে ৮১৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে, যা আগের বছর ছিল ৬২৮ কোটি টাকা। এই পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সাল শেষে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত ১২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ বছরের চাইতে বেশি প্রভিশন ব্যয় করার কারণে নিট মুনাফা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘ভালো ব্যাপার হচ্ছে, সিটি ব্যাংকে সব কোর ব্যাংকিং সেগমেন্ট থেকেই শক্তিশালী আয় আসছে। রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা ইতোমধ্যেই কর্পোরেট ব্যাংকিং আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের আয় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। ঋণের গুণগত মানের দিক থেকে আমাদের স্মল বিজনেস লোন, ন্যানো লোন, রিটেইল লোন এবং ক্রেডিট কার্ড পোর্টফোলিওর পারফরম্যান্স অত্যন্ত চমৎকার। এলসি ব্যবসায় আমাদের নেতৃত্ব এবং আমানতের খরচ ৫.৫ শতাংশ পর্যায়ে ধরে রাখার সক্ষমতা- আমাদের বড় দুই শক্তি। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে কর্পোরেট ও মাঝারি ব্যবসার ঋণ পোর্টফোলিও নিয়ে আমাদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ৮ হাজার কর্মীর একটি বড় ব্যাংকের ক্ষেত্রে কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৫ শতাংশের নিচে ধরে রাখতে পারাটা আমার দৃষ্টিতে আমাদের অন্যতম বড় সাফল্য।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরে তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সফরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধানকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন প্রদান করা হয়।

এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিয়ে করতে বর গেল হাতির পিঠে চড়ে, কনেকে নিয়ে এলো ঘোড়ার গাড়িতে

এক সময় বিয়ে বাড়িতে যাতায়াতের প্রধান যানবাহন ছিল হাতি-ঘোড়ার বহরের সঙ্গে পালকি। বর্তমান সময়ে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক যানবাহনের কাছে হারিয়ে গেছে সেই সময়ের যানবাহন। তবে প্রথা হিসেবে গ্রাম-বাংলার কিছু এলাকায় আজও চোখে পড়ে কিছু দৃশ্য। এক যুবককে হাতির পিঠে ওঠে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। যথারীতি যুবক বিয়ের উদ্যোগে হাতির পিঠে ওঠে এসেছেন কনের বাড়িতে। এ এক চমৎকার দৃশ্য।

তবে মজার বিষয় হলো, বিয়ের কার্যক্রম শেষে ঘোড়ার গাড়িতে কনে এলেন শ্বশুর বাড়িতে। এমনই সব ঘটনা গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ঘটেছে। আলোচিত এই বিয়ের ঘটনা পুরো জেলায় সাড়া ফেলেছে। বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা বিরল বলে জানান স্থানীয়রা।

আলোচিত এই বিয়ের বর মো. ফারহান ফয়সাল (২৮)। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলা চকমোহন গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। ফারহান ফয়সাল বিমান বাহিনীতে কর্মরত। আর কনের মোসা. ফারহানা আক্তার (২৬)। সে সদর উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল সোনার পাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।

Joypurhat Hati Pic 4 (1) 1775817183

বর-কনের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফারহান ফয়সালের শ্বশুর দুলাল হোসেনের শখ ছিল তার ছোট মেয়ে ফারহানা আক্তারের বিয়ের দিন জামাই যেন হাতির পিঠে ওঠে তার বাড়িতে আসেন। শুধু তাই নয়, মেয়ে যেন ঘোড়ার গাড়িতে ওঠে শ্বশুর বাড়িতে যান। সে মোতাবেক শ্বশুরের শখ পূরুন করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুবক ফারহান নিজ বাড়ি চকমোহন গ্রাম থেকে হাতির পিঠে ওঠে পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাঝে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরত্ব। এসময় রাস্তার দুই পাশে হাতির পিঠে মাথায় মুকুট পরা বরকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুরাতন দিনের রেওয়াজ অনুসারে হাতি নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে হাতির পিঠে ওঠে বর আসায় কনের এলাকাতেও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাতির পিঠে ওঠে বর আর অন্যান্য যানবাহন নিয়ে বরযাত্রীদের গাড়িবহর পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছায় সন্ধ্যার কিছু আগে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে করে কনেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে রওনা হন বর। এ এক ব্যতিক্রম আয়োজন। এসময় কনের নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে উৎসুক নারী-পুরুষ ও লোকজন ভিড় জমান।

উৎসুক জনতারা জানান, বর্তমান সময়ে এ অঞ্চলে হাতিই দেখা যায় না। আশপাশে বড় ধরনের মেলা হলে দুই/একটা চোখে পরে। তাও কঠিন। কিন্তু হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার ঘটনা বিরল। আবার ঘোড়ার গাড়িতে করে কনে যায় শ্বশুর বাড়িতে। এমন ঘটনায় এলাকার লোকজন বেশ আনন্দ উপভোগ করেছে।

Joypurhat Hati Pic 3 1775817219

কনে ফারহানা আক্তার বলেন, ‘আমার বিয়েতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সবকিছুতেই ছিল বাবার শখ। আমার জামাই হাতির পিঠে ওঠে এসে বিয়ের কার্যক্রম শেষে আবার আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমার জীবনের অন্যরকম এক অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

বর ফারহান ফয়সাল বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই আমার বাবা হাতির হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার গল্প শোনাতেন। আমিও স্বপ্ন দেখতাম হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার। সেই ইচ্ছে পূরণের জন্য আজ হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাই। ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি।’

বরের বাবা ফজলুর রহমানের বলেন, ‘ফারহান তার শ্বশুরের শখ পুরুন করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যান। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে আজ এই আয়োজন। এমন আয়োজনে হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি বাবদ প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে অনেক আনন্দ উপভোগ করা হয়েছে।’

কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, আমার ইচ্ছে ছিলো ছোট মেয়ের বিয়েতে ব্যতিক্রম আয়োজন করবো, সেই ইচ্ছে থেকেই আজকের এই আয়োজন। সংস্কৃতির সেই ঐতিহ্য আজ ধরে রাখতে পেরেছি। বিয়েতে দুই পরিবারে আত্মীয়-স্বজন সবাই অনেক মজা ও আনন্দ উপভোগ করেছেন। সবাই নব দম্পতিকে আশীর্বাদ করবেন, ওরা যেন সুখে-শান্তিতে থাকে।’

দিয়াবাতের জাদুতে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী

০

দেশের ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান। প্রায় এক মাসের বিরতি শেষে আজ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা মাঠে গড়ায়। কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এই দুই দল।

খেলার তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় মোহামেডান। উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ অসাধারণ এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন। চোখধাঁধানো এই গোলে উল্লাসে ভাসে মোহামেডান শিবির। তবে তাদের এই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আবাহনীর হয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান মিরাজুল। ১-১ গোলের এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে দেখা মেলে দিয়াবাতে জাদুর। মোহামেডানের সাবেক এই তারকা এখন খেলছেন আবাহনীর হয়ে। আজ পুরোনো দলের বিপক্ষেই তিনি জ্বলে ওঠেন। দ্বিতীয়ার্ধে তার পা থেকেই আসে আবাহনীর জয়সূচক গোলটি। এই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।

আরও ছড়িয়ে পড়ল ‘রাক্ষস’, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে ৫৫ প্রেক্ষাগৃহে

০

মাল্টিপ্লেক্সে সফলতার পরে ‘রাক্ষস’ মুক্তি পেয়েছে সিঙ্গেল স্ক্রিনে। মুক্তির দুই সপ্তাহ পর সেখানেও দারুণ সূচনা করেছে রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার ছবিটি।  গেল ৩ এপ্রিল একদিনেই ছবিটি আয় করেছে ৪১ লাখ টাকার অধিক। ছবিটির এ আয়ে দারুণ খুশির কথা জানিয়েছিলেন সিঙ্গেল স্ক্রিনের হল মালিকরা।

সিঙ্গেল স্ক্রিনে দর্শক ধরের রাখার বিষয়টি এখনও ধরে রেখেছে সিনেমাটি। ফলে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে সিনেমাটির হল সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুন। প্রযোজনা সংস্থা রিয়েল অ্যানার্জি প্রডাকশনের তথ্যমতে এই আজ থেকে সারা দেশের ৫৫টি হলে চলছে রাক্ষস। একই সঙ্গে ইতালিও চলছে,  আগামী ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও  মুক্তি পাবে রাক্ষস।

চতুর্থ সপ্তাহে যেসব হলে চলছে রাক্ষস

স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটি-পান্থপথ, ঢাকা, স্টার সিনেপ্লেক্স সনি স্কয়ার-মিরপুর, ঢাকা, স্টার সিনেপ্লেক্স বালি আর্কেড-চট্টগ্রাম, স্টার সিনেপ্লেক্স সেন্টার পয়েন্ট-উত্তরা, স্টার সিনেপ্লেক্স সীমান্ত টাওয়ার-নারায়ণগঞ্জ, ব্লকবাস্টার সিনেমাস-যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকা, লায়ন সিনেমাস-কেরানীগঞ্জ, ঢাকা, কে. স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স-কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, সেনা অডিটোরিয়াম-সাভার, চন্দ্রিমা সিনেমা-শ্রীপুর, ছায়াবাণী সিনেমা-ময়মনসিংহ, শাপলা সিনেমা-রংপুর, নন্দিতা সিনেমা-সিলেট, পৃথিবী সিনেমা-জয়পুরহাট, ময়ূরী সিনেমা-বাগআঁচড়া, চলন্তিকা সিনেমা-গোপালদী, রাজমহল সিনেমা-নারায়ণগঞ্জ, রূপকথা সিনেমা-পাবনা, বিজিবি অডিটোরিয়াম-ঢাকা।

পূর্বাশা সিনেমা-সান্তাহার, নিউ মেট্রো সিনেমা-নারায়ণগঞ্জ, রাজিয়া সিনেমা-নাগরপুর, নবীন সিনেমা-মানিকগঞ্জ, প্রিয়া সিনেমা-মাগুরা, আজাদ সিনেমা-ঢাকা, চাঁদমহল সিনেমা-কাঁচপুর, গীত সিনেমা-ঢাকা, মধুছন্দা সিনেমা-মধুখালী, বনলতা সিনেমা-ফরিদপুর, বিজিবি অডিটোরিয়াম-সিলেট, অভিরুচি সিনেমা-বরিশাল, সৈনিক ক্লাব-ঢাকা, মডার্ন সিনেমা-দিনাজপুর, তামান্না সিনেমা-সৈয়দপুর, রূপান্তর সিনেমা-গফরগাঁও, বর্ষা সিনেমা-গাজীপুর, নিউ গুলশান-জিঞ্জিরা, কুইন সিনেমা-জামালপুর, বনরূপা সিনেমা-মাওনা, সোহাগ সিনেমা-ঘোড়াশাল, শাপলা সিনেমা-শ্রীপুর, মাধবী সিনেমা-মধুপুর, আনন্দ সিনেমা-ঢাকা, আনন্দ সিনেপ্লেক্স-কুলিয়ারচর, ম্যাজিক মুভি থিয়েটার-দিয়াবাড়ি, মধুবন সিনেপ্লেক্স-বগুড়া, মম ইন-বগুড়া, মনিহার সিনেমা-যশোর, মনিহার সিনেপ্লেক্স-যশোর, রাজতিলক সিনেমা-রাজশাহী, রূপকথা সিনেমা-শেরপুর, স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স-কুষ্টিয়া, সিনেস্কোপ-নারায়ণগঞ্জ, সুগন্ধা সিনেমা-চট্টগ্রাম, আশা সিনেমা-মেলান্দহ।

‘রাক্ষস’ মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর অংশ হিসেবে নির্মিত। সিনেমাটিতে  মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার নায়িকা হিসেবে আছেন কলকাতার সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। এটি প্রযোজনা করেছে রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন।

চতুর্থ সপ্তাহেও সিনেমাটির দর্শক রেসপন্স নিয়ে পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, ‘ভালো সিনেমা দর্শকদের কাছে ধীরে ধীরে হরেও স্থান পাবে। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে আমাদের শো কম হওয়ায় দর্শকরা সিনেমাটি দেখতে এসেও দেখার সুযোগ পাননি অনেকেই। ফলে এখনও দর্শকদের চাপ রয়েছে। চতু্র্থ সপ্তাহে এসে সিনেমাটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আরও বেশি দর্শক রাক্ষস দেখার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইতে হয়েছে সিনেমাটির শুটিং। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি।

বিএনপি ফ্যাসিজমের পথে: বিরোধীদলীয় নেতা

অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী লীগের আমলের মানবাধিকার কমিশন আইন ফিরিয়ে আনা, বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা আবারও প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলোপে বিল পাস করায় সরকারি দল বিএনপির কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘বিএনপির সমস্ত বুলি মানুষক ধোঁকা দিতে, প্রতারণা করতে, তারা একই ফ্যাসিজমের পথে আসছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘কিছু বিলে জনস্বার্থে বিরোধীদল সমর্থন দিয়েছে। জনগণের অধিকার হরণ, সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার খর্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা ছিল। এসব বিলে আপত্তি জানাতে গিয়ে বিরোধীদল সময়সীমার বাধার মুখে পড়ে, যেখানে মন্ত্রীরা অসীম সময় পেয়েছেন- এটা সুবিচার হয়নি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ তৈরি করছে, যা সংবিধান ও সাম্প্রতিক রায়ের পরিপন্থী। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা আরেকটি ফ্যাসিজমে রূপ নিতে পারে।’

স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত আইন নিয়েও আপত্তি তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতি ছাড়া প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা অতীতে ঘোষিত নীতির বিরোধী।’

শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও বিচারক নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। যা উদ্বেগজনক।’

গণতন্ত্রবিরোধী ও গণবিরোধী আইন পাসের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছে- এ কারণেই বিরোধীদল ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে।

শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ খাতিবজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলো ‘যতক্ষণ শত্রুতামূলক আচরণ না করবে’ ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে খাতিবজাদেহ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা আছে, তবে কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে জাহাজগুলোকে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।’ ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রণালিতে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করবো আমরা।’

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যের বিপরীতে, হরমুজ প্রণালি থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে খুব অল্প সংখ্যক জাহাজই এই পথ দিয়ে চলাচল করেছে।

পাকিস্তানে ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রহর গণনা যখন চলছে। এর মধ্যেই গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান খুবই বাজে কাজ করছে। কেউ কেউ তো এটিকে লজ্জাজনকও বলছে। আমাদের মধ্যে যা সমঝোতা হয়েছিল, এটা তা নয়।’

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি  হবে বলে অনুমান করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে।

শুক্রবার প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এমন প্রাক্কলন রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.০ শতাংশ এবং আাগামী  অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এই পূর্বাভাসে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের পুনরুদ্ধার প্রতিফলিত হয়েছে, যা সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অস্থায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন গত ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করলেও, এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহির্বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের চাপ দ্বারা প্রভাবিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য একটি সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করেছে। যথাযথ নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও স্থিতিস্থাপক হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যেতে পারবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯.০ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে উচ্চ বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য এবং চলমান সরবরাহ বিঘ্ন। আগামী অর্থবছরে এটি কিছুটা কমে ৮.৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ বাহ্যিক চাপ কমবে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এডিবির মনে করছে, চলতি হিসাবের ঘাটতি অর্থবছরে জিডিপির ০.৫ শতাংশ হবে, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ০.৬ শতাংশ হতে পারে। এর প্রধান কারণ হবে আমদানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতির প্রসার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিও অনুযায়ী ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সমর্থিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগও এতে সহায়ক হবে।

সরবরাহ দিক থেকে সেবা খাত পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ বাধা কমে আসা এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সরকারের জোর দেওয়ার ফলে শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

তবে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে, বিশেষ করে যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলবে।

এডিবি মনে করে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য বাজেট ঘাটতিও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি জ্বালানি ভর্তুকি বাড়ানো হয় বা মূল্য সমন্বয় সঠিকভাবে না করা হয়।

জয়ী বিএনপির প্রার্থীরা বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের বর্জন

দুই মাস আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় সাদামাটাভাবেই শেষ হলো বগুড়ার উপনির্বাচন ও শেরপুরের একটি আসনের নির্বাচন। কিছু বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ হয়েছে শান্তিপূর্ণ। ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। এর মধ্যেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে শেরপুর-৩ আসনে ভোট বর্জন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে শহর ছিল নীরব, শহরতলিতে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম কোনো নির্বাচন। রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। জেলা নিবার্চন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ফজলুল হক এ ফল ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়া-৬-এ জয়ী হন বিএনপি চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ রেখে জন্মস্থানের আসনটি তিনি ছেড়ে দিলে গতকাল সেখানে উপনির্বাচন হয়। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল।

শেরপুরে ভোট বর্জন জামায়াতের
বিকেল ৩টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান। ১০-১৫টি ভোটকেন্দ্রে জালভোটের চেষ্টা, এজেন্ট বের করে দেওয়া, হুমকি এবং সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কর্তৃক ভোটের আগেই ব্যালটের পেছনে সিল ও স্বাক্ষর দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘোষণা দেন তিনি।

শ্রীবরদী উত্তর বাজার জামায়াত কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুর রহমান বলেন, জালভোটের সঙ্গে জড়িতদের আটক করে প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের একটিতেও সিলমারা, কেন্দ্র দখল, ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ হয়েছে– এমন ফুটেজ কিংবা ছবি দেখাতে পারবে না জামায়াত।

বগুড়ায় শহরতলি ছিল সরগরম
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে শহরের কেন্দ্রগুলোতে তেমন ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি। কেন্দ্রের আশপাশে ছিল না জটলা, দোকানপাট কিংবা নির্বাচনী দিনের স্বাভাবিক আমেজ। তবে শহরতলির কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি।

সকাল ৮টার পর শহরের করনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুই থেকে তিনজন ভোটার। বিকেল ৩টায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, ওই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২৬ শতাংশ। শহরের মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ২২ শতাংশ।
অন্যদিকে সদরের ঘুনিয়াতলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়ে প্রায় ২৯ শতাংশ। রাজাপুর ইউনিয়নের কুটুরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৩৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে রেজাল্ট শিটে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হকের উপস্থিতিতে ওই শিট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নতুন শিট প্রস্তুত করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী অভিযোগ করেন, শুধু মালতীনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও একইভাবে আগেভাগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

সিইসির হস্তক্ষেপ চায় জামায়াত
শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আস‌নের উপ‌নির্বাচ‌নে ভোট গ্রহ‌ণে অনিয়ম ও জা‌লিয়া‌তির অভিযোগ তুলে গতকাল দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াত। এতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নি‌তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যা‌চ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই প্রিসাইডিং অফিসাররা এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর ভোট গ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি)।

সীমাহীন দুর্নীতি অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে: সংসদে অর্থমন্ত্রী

বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে হুন্ডি প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিন শুক্রবার সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। ১৩তম দিনে সংসদের সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদে আমরা এ দায়িত্ব পালন করেছি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করে। এ দায়বদ্ধতা থেকে আমি আজ এই মহান সংসদের মাধ্যমে আমাদের সর্বশেষ অর্থবছর ২০০৫-০৬, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক, সামাজিক খাতের সূচক এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার একটা চিত্র দেশবাসীকে অবহিত করতে পারি। পাশাপাশি, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে একটি উন্নত, মর্যাদাশীল ও বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আমাদের প্রতিশ্রুত দর্শন ও নীতি কৌশলের বিষয়েও দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই।

তিনি বলেন, প্রথমেই আমি বিগত সরকারের আমলে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসমূহের বাস্তব চিত্র আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই। উক্ত সময়কালে অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এর ভেতরে বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে ওঠে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে অর্থাৎ ৭.১৭ শতাংশে।পরবর্তীতে অর্থনীতির আকার বাড়লেও দুর্বৃত্তায়ন ও ভ্রান্ত নীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪.২২ এবং মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯.৭৩ তে পৌছায়।২০০৫-০৬ সালে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালে সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৩.৫১ শতাংশে। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৭ শতাংশ, তা ২০২৩-২৪ সালে কমে হয়েছে ৩.৩০ শতাংশ।

দেশের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি অর্থনীতি যখন শিল্পের চালিকাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তখন কর্মসংস্থান সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। বিগত সময়ে এটি চরমভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। বিগত এক দশকে দেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে কৃষিখাতে মূল্য সংযোজনের অংশ কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ, অন্যদিকে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে। কিন্তু এই সময়ে কৃষিখাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৪.৮ শতাংশ, আর শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতেই বেশি করে নিয়োজিত হয়েছে। এতে করে ছদ্ম-বেকারত্ব তীব্রতর হয়েছে এবং তরুণদের শ্রমশক্তি অপচয় হয়ে তাদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সীমিত করছে। বর্তমানে কৃষিখাত মোট জাতীয় মূল্য সংযোজনের মাত্র ১১.৬ শতাংশ যোগ করলেও মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত। এই বৈপরীত্য কৃষিখাতে শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতাকে ইঙ্গিত করে ও শ্রমবাজারের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে, এবং এটা কর্মসৃজনবিহীন প্রবৃদ্ধি এর ঝুঁকিরই পরিচায়ক।
দেশের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০০১-২০০৬ সময়ে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখতে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, যেখানে জাতীয় সঞ্চয় জিডিপির ২৯.৯৪ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগ ছিল ২৮.৭৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এই চিত্র উল্টে গেছে, বিনিয়োগ জিডিপির ৩০.৭০ শতাংশ হলেও সঞ্চয় নেমে এসেছে ২৮.৪২ শতাংশে। বিনিয়োগ সঞ্চয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাহিদা বৈদেশিক উৎস হতে সংস্থান করা হয়েছে। ফলে বহিঃখাতের উপর চাপ বেড়েছে।

টাকার বিনিময়ের হারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে সেটা হয়েছে ১১১ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকায়। ক্রমাগত অবচিতির কারণে ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ (M2) প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯.৩ শতাংশ এবং রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩.৯ শতাংশ, যা অর্থনীতিতে প্রাণশক্তির ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। M2 প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭.৭ শতাংশ এবং রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৯ শতাংশ।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ প্রবাহের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জুন ২০০৬-এ অভ্যন্তরীণ সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯.৫ শতাংশ, যা ২০২৫-এ নেমে এসেছে ৬.৭ শতাংশে। অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধিও ২১.১ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ মন্থরতা ও ব্যাংকিং খাতে তারল্য চাপের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৩ শতাংশ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সময়ে মুদ্রানীতির অব্যবস্থাপনাসহ কাঠামোগত দুর্বলতার কারনে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৯.৮ শতাংশে নেমে আসে, যা ২০২৪-২৫ সালে আরও কমে ৬.৫ শতাংশে এসে পৌঁছেছে।

সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা

সংসদে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায়ও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক মাত্রায় উন্নীত করা সম্ভব হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয়ের কারণে সরকারের সম্পদ আহরণ সক্ষমতা সীমাবদ্ধ থেকেছে।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে মোট রাজস্ব ছিল ৪৩৯ বিলিয়ন টাকা, যা জিডিপির ৮.২ শতাংশ। অন্যদিকে, ব্যয় ছিল ১১.১ শতাংশ- ফলে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২.৯ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে রাজস্ব বেড়ে ৪,০৯০ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়ালেও জিডিপির অনুপাতে তা ৮.২ শতাংশেই স্থির থাকে। অন্যদিকে, ব্যয়ের পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় ১২.২ শতাংশে, ফলে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৪.০৫ শতাংশে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির চেয়ে ব্যয়ের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু বাজেট ঘাটতি যে বেড়েছে তাই নয়, এ বৃদ্ধির মানও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্প ছিল অতিমূল্যায়িত এবং এগুলির সম্ভাব্যতা যাচাইও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করা হয়নি। বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। ফলশ্রুতিতে জনগণ সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল ভোগ করতে পারেননি। লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত ‘শ্বেতপত্র প্রণযন কমিটি’র প্রতিবেদনে বিষদভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি ঋণের ক্ষেত্রে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং তুলনামূলক উচ্চ সুদের ব্যয় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের দায়ও বৃদ্ধি পায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে মোট সরকারি ঋণ ছিল জিডিপির ৩৭.৮ শতাংশ- যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমান ছিল যথাক্রমে ১৪.৫ শতাংশ ও ২৩.৩ শতাংশ। এছাড়া, সুদ পরিশোধ ছিল মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ সালে মোট ঋণ জিডিপির অনুপাত প্রায় একই থাকলেও অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমান দাঁড়ায় যথাক্রমে, ২১.৫ ও ১৭.১ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণের পরিমান জিডিপি’র শতাংশে কমলেও এই ঋণের একটা অংশ non-concessional বা অনেক ক্ষেত্রে Market Rate/Blended হওয়ায় দেশের Debt Sustainability এর উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, সরকারের সুদ ব্যয়ের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধ ছিল মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা। ২০২৩-২৪ সালে সেটা বেড়ে হয়েছে ১,১৪৭ বিলিয়ন টাকা অর্থাৎ ১৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ঋণের উপর অধিক নির্ভরতার কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তি কঠিন হয়েছে যাকে অর্থনীতির ভাষায় crowding out বলা হয়ে থাকে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি, প্রবাস আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে রপ্তানি ও আমদানির পরিমান ছিল যথাক্রমে ১০.৫ বিলিয়ন ও ১৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২১.৬ ও ১২.২ শতাংশ। এছাড়া, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের পরিমান ছিল যথাক্রমে ৪.৮ বিলিয়ন ও ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ সালে রপ্তানি ও আমদানি বেড়ে যথাক্রমে, ৪০.৮ ও ৬৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও এই দু’টি সূচকের প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। এছাড়া, আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধানের কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় রেমিট্যান্স বেড়ে ২৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ালেও হুন্ডি প্রবাহ বা অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভের পরিমান কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় (৩০.৩ বিলিয়ন ডলার), যা রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৩৩.২ বিলিয়ন ডলার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বোপরি, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে পরিমাণগত অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও গুণগত দিক থেকে ভারসাম্যহীনতা, নীতি সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উপনীত হয়েছিল, যা থেকে উত্তরণ আজকের সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সামাজিক সূচকসমূহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

অর্থমন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু জাতীয় আয়ের দিকে তাকালে সংখ্যাটা প্রথমে চমকপ্রদ মনে হতে পারে। মাথাপিছু আয়ের সংখ্যা নিয়েও বড় বিতর্ক আছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু সেই আয়ের সিংহভাগ ছিল মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগীর হাতে।

তিনি বলেন, সম্পদের অসম বণ্টন ব্যবস্থা, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে বৈষম্য বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয় ও ব্যয় জরীপ (হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে- এইচআইইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, আয়-ভিত্তিক জিনি কোফিশিয়েন্ট ২০০৫ সালে ছিল ০.৪৬৭। ২০০৫ এর পর থেকে এই সূচকের ধারাবাহিক অবনতি হয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালে এসে পৌঁছায় ০.৪৯৯ পয়েন্টে। ২০০৫ সালে সবচেয়ে ধনী পাঁচ শতাংশ খানার আয় ছিল সবচেয়ে কম আয়ের পাঁচ শতাংশ খানার ৩৫ গুণ; ২০২২ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১ গুণ। ফলশ্রুতিতে একটি বৈষম্যমূলক অলিগার্কিক সমাজের উত্থান হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভাতা প্রদান করা হলেও এর কাভারেজ ও ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকীকরণ করা হয়নি। এতে উপকারভোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছে, যা ক্রমান্বয়ে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনেও দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ধ্বংস করা যা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সুনিপুণভাবে করে গেছে। এর মধ্যে আমি কয়েকটির কথা উল্লেখ করতে চাই।

প্রশাসনিক কাঠামো

প্রশিক্ষিত ও পেশাদার ব্যুরোক্রেসি একটি রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি রাজনৈতিক সরকারের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। বিগত ১৬ বছরে এটিকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বিগত সময়ে বিভিন্ন আর্থিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি, ঋণখেলাপি বৃদ্ধি এবং তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অর্থনীতির ব্যাকবোন হিসেবে খ্যাত আর্থিক খাত ধ্বংসের কিনারে এসে দাড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য দুটি সূচক সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ- শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এবং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা ক্যাপিটাল অ্যাডেকুয়েসি রেশিও (সিএআর)। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩.৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসে সেই চিত্র আমূল পাল্টে গেছে- সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.২০ শতাংশে। এখানে উল্লেখ্য, খেলাপি ঋণের আন্তর্জাতিক ভাবে অনুসৃত সংজ্ঞাকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে ভুলভাবে প্রদর্শন করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত চিত্র গোপন করা হয়েছে।

মূলধন পর্যাপ্ততার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। ২০০৫ সালে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে সিএআর ছিল ৭.৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে যা ৩.০৮ শতাংশে নেমে আসে। মূলধন পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো এই ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছিল। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়- এটি দীর্ঘ দেড় দশকের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ প্রদান, সুশাসন এবং জবাবদিহিতার অনুপস্থিতির অনিবার্য পরিণতি।

রাজস্ব প্রশাসন

সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম স্তম্ভ হলো রাজস্ব আহরণ। অথচ দীর্ঘদিন রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে কর আহরণের সক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত হয়নি।

তথ্য ব্যবস্থাপনা

একইভাবে, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণে নীতিনির্ধারণে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ বিলিয়ন ডলার অতিরঞ্জনের একটি তথ্য বিভ্রাট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল, যা সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে।

সরবরাহ চেইন

বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য হিসেবে এ পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করেছে।

সর্বোপরি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি এমন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণ করে, যেখানে বহিঃখাতের চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা একযোগে বিদ্যমান ছিল। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ছিল একটি বড় ও তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ। উল্লিখিত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেই তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে দেশ পরিচালনা এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের।

বর্তমান সরকারের নিরঙ্কুশ বিজয় ও জনপ্রত্যাশা পূরণে গৃহিত/গৃহিতব্য কার্যক্রমের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট, লক্ষ্যভিত্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচী ঘোষণা করে। যার পরিপ্রক্ষিতে জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনায় নিরংকুশভাবে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত হয়েই কালবিলম্ব না করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের সরকারের এক্ষেত্রে একটি অনুসৃত সামাজিক চুক্তির (social contract) প্রতিপাদ্য হলো- রাজস্ব আদায়ে আনতে হবে স্বচ্ছতা, সরকারি ব্যয়ের সুবিধাসমূহ (benefits) হবে দৃশ্যমান এবং নীতি হবে সামনে এগিয়ে চলার। এর মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে উন্নয়ন অর্থায়ন করে ঋণ নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা এবং জনগণকে তার প্রদেয় করের বিনিময়ে সুশাসন, নিরাপদ ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা বিধান করা। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জনবান্ধব করার মাধ্যমে জনগণকে কর প্রদানে উৎসাহিত করে ক্রমান্বয়ে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ২০৩৪ সালে ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া এ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব প্রদান করছে, ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প ও সহজ শর্তের বৈদেশিক উৎস ও অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজার উন্নয়ন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে, ঘাটতি অর্থায়ন ও এর উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের দিকে নজর দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্ব খাত হতে অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণ নির্ভরতা হ্রাস করা এবং জিডিপি’র উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমিয়ে আনা এবং ফিসক্যাল স্পেস তৈরির মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা হবে। মধ্যমেয়াদি বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক (এমটিবিএফ) এবং মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনীতি ফ্রেমওয়ার্ক (এমটিএমএফ) প্রণয়নে একটি ডায়নামিক Macro-Fiscal Model উন্নয়ন করে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবায়ন উপযোগী প্রক্ষেপন করে সে অনুযায়ী সেক্টরাল বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। বানিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই লক্ষ্য করেছি যে, ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতি পূরণে শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিদ্যমান ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান লক্ষ্য হলো- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সংস্কার, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, বিনিযোগবান্ধব পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলধন গঠনে ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে যা বাস্তবায়নে উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে প্রকৃত স্বাধীনতা দেওয়া হবে, বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি কর্পোরেট বন্ড, সুকুক ও গ্রীণ বন্ড চালু করে পুঁজিবাজারকে বহুমাত্রিক করা হবে। বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ভোগ ও রাজস্বের স্বাভাবিক চক্রকে সচল করার মাধ্যমে আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করবে।