Home Blog Page 157

এক মিনিটে প্যানিক অ্যাটাক থেকে মুক্তির উপায়

প্যানিক অ্যাটাক অসহনীয় মনে হতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং গ্রাউন্ডিং কৌশল এটি দ্রুত এবং নিরাপদে কমাতে সাহায্য করে। প্যানিক অ্যাটাক বলতে বোঝায় তীব্র ভয় বা অস্বস্তির দ্রুত মুহূর্ত যা কয়েক মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং অপ্রত্যাশিতও হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, বুক শক্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি।

যদিও প্যানিক অ্যাটাক জীবনের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না, তবুও সে সময় এটি অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া শান্ত করা। শরীরের ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রক্রিয়া প্যানিক অ্যাটাককে ট্রিগার করে। প্যানিক অ্যাটাক হলো শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়ার একটি সক্রিয়করণ। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর করে এবং মনকে গ্রাউন্ডিং করে, আমরা মস্তিষ্কে নিরাপত্তার সংকেত দিতে এবং এর তীব্রতা কমাতে পারি।

প্যানিক অ্যাটাকের সময় কী ঘটে

যখন মস্তিষ্ক কোনো হুমকি অনুভব করে, এমনকি যদি কোনো প্রকৃত বিপদ না-ও থাকে, তখন এটি অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যার ফলে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে:

  •  হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি
  •  দ্রুত, অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস
  •  পেশীতে টান
  •  মাথা ঘোর
  •  ঝুঁকিপূর্ণ সংবেদন

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হাইপারভেন্টিলেশন রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমাতে পারে, যা বুকে অস্বস্তি বা অসাড়তার মতো সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই শারীরবৃত্তীয় চক্রকে নিষ্ক্রিয় করা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এখানে কিছু বিশেষজ্ঞ-অনুমোদিত পদক্ষেপ দেওয়া হল যা অল্প সময়ের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাকের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

১. নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস (প্রায় ২০ সেকেন্ড): এই প্রক্রিয়াটি তিন থেকে চার বার পুনরাবৃত্তি করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাড়ানো প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে যা শিথিলতা বৃদ্ধি করে

২. গ্রাউন্ডিং টেকনিক (প্রায় ২০ সেকেন্ড)

আপনার চারপাশে মনোযোগ পরিবর্তন করুন এবং চিহ্নিত করুন:

  • পাঁচটি জিনিস যা আপনি দেখতে পারেন।
  • চারটি জিনিস যা আপনি স্পর্শ করতে পারেন।

৩. আস্থা রাখা (প্রায় ২০ সেকেন্ড)

মনে মনে নিজেকে বোঝান যে এই অনুভূতি অস্থায়ী। আমি নিরাপদ। এটি কেটে যাবে। এমনটা করলে তা মস্তিষ্ককে ভাবতে বাধ্য করবে যে কোনো হুমকি নেই এবং এটি বৃদ্ধি পেতে দেবে না।

ফেব্রুয়ারিতে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে যেসব দেশ থেকে

ফেব্রুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে।

বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি প্রবাসীরা দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার, ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার, ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার, ১৭ কোটি ৮০ লাখ, ১৬ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার, ১৪ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার, ১৪ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ও ১২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

এদিকে, ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ কোটি ৬০ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২১৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে জানুয়ারি এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

স্বর্ণের দামে বিশাল পতন! প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। ভরিতে ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে। আজ বৃহস্পতিবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের নতুন দাম—

২২ ক্যারেট : প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা

২১ ক্যারেট : প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা

১৮ ক্যারেট : প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা

সনাতন পদ্ধতি : প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে।

স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে এবার কমানো রয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ৬৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা  নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাকিব ইস্যুতে যা বললেন বিসিবি পরিচালক আসিফ

ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আর বিসিবি’র যৌথ উদ্যোগে চলছে সাকিবের নামে থাকা মামলা নিষ্পত্তির কাজ। বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। এ সময় কক্সবাজার স্টেডিয়াম নিয়েও নানা পরিকল্পনার কথা জানান বিসিবি কর্তা।

সরকার পরিবর্তনের পর সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। সাবেক টাইগার অধিনায়কের নামে থাকা মামলাগুলো নিয়েও কথা চলছে নীতিনির্ধারণী মহলে। সাকিবের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। খুব দ্রুতই এই অলরাউন্ডার ফিরছেন বলে প্রত্যাশা তার।

‘সাকিব আল হাসানকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, তা নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আছে এবং তারা এ নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিসিবির লিগ্যাল টিমও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যাতে সাকিবের আইনগত জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়।’

আসিফ আকবর বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও বিসিবি সমন্বিতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। আমরা খুবই আশাবাদী, অল্প সময়ের মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখতে পাবো। দেশের কোটি ভক্তের মতো আমরাও তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি।’

কক্সবাজারে ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে এসে এসব কথা জানান আসিফ। যে ফাইনালে ঢাকা মেট্রোকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী। উঠতি তারকাদের খেলা দেখে মুগ্ধতা ঝরে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশারের কণ্ঠে।

তিনি বলেন, ‘বয়সভিত্তিক কার্যক্রমের আওতায় অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ এই তিনটি পর্যায়ে সারা দেশের জেলা ও বিভাগ মিলিয়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। এবারের অনূর্ধ্ব-১৮ প্রতিযোগিতাটি ছিল জাতীয় রাউন্ড। এর আগে সব বিভাগ একে অপরের সঙ্গে খেলেছে, সেখান থেকে সেরা আটটি দল জাতীয় রাউন্ডে অংশ নেয় এবং চূড়ান্ত পর্ব শেষে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়েছে।’

আমেরিকায় বাড়ির গুজব নিয়ে মুখ খুললেন আসিফ নজরুল

দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন।

‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ শিরোনামে লেখা এই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছে। বউ-বাচ্চা সব আমেরিকায় চলে গেছে। সে-ও শিগগিরই আমেরিকায় পালিয়ে যাবে—এমন একটা গাঁজাখুরি খবর বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং ভয়াবহ বিষয় হলো, তাঁদের কেউ কেউ তা বিশ্বাস করা শুরু করেন!’

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, ‘এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দীন-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব, বুঝতে পারি না। শুধু বলি, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সব ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি—আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যাবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাঁদের কোনো কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে।’

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে—এমন কোনো ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়। কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘নানা ধরনের গুজব কিছুটা হ্রাস পায় এরপর। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়, আমার (এবং আমার কিছু সহকর্মীর) তথাকথিত দুর্নীতির নতুন নতুন খবর ডালপালা মেলতে শুরু করে। প্রথমে ফালতু অনলাইনে, তারপর কপি-পেস্ট করে প্রায়-ফালতু অনলাইনে, তারপর এমন সব কুখ্যাত অপরাধীদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমে, যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় খুব একটা আনন্দে থাকতে পারেনি।’

এসব খবর তিনি ও তাঁর সহকর্মীদের অনেকে পাত্তা দিতে চান না জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমিও চাই না। কিন্তু আমি জানি আমাকে বহু মানুষ ভালোবাসেন, আমার জন্য দোয়া করেন। তাঁদের একজনও যদি এসব মিথ্যাচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাঁর জন্য আমার কিছু কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। আমার বক্তব্য এখানে অন-রেকর্ড বলে রাখলাম তাঁর মতো মানুষদের এবং অন্য যে কারও জন্য।’

নিজের বক্তব্য তুলে ধরে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আমার বক্তব্য-১: আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আমি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিনি, আমার কোনো নতুন সম্পদ হয়নি, আয়কর দেওয়ার সময় আমি কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, করার প্রশ্নই আসে না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বক্তব্য-২: আমি কোনো স্বজনপ্রীতিও করিনি। সরকারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুবিধা দিইনি বা তাঁদের কোনো অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিইনি। আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দিইনি। আমার আত্মীয়রা কখনো কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি।’

কখনো এলাকাপ্রীতি করেননি দাবি করে তিনি আরও লেখেন, ‘উপদেষ্টা থাকাকালে আমার গ্রামের বাড়ি বা ঢাকা শহরে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে একবারও যাইনি। তবে আমি লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়মানুগভাবে পেতে সহযোগিতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনক্রমে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে ঢাবির খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান এনে দিয়েছি। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের অনুরোধও আমি কখনো করিনি।’

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আমি বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। আমাদের মহানবী (সা.) থেকে শুরু করে বহু উলামায়ে কেরাম এর চেয়েও বহুগুণ বেশি মিথ্যাচার ও অপবাদের শিকার হয়েছেন। আমি তাঁদের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য মানুষ। কিন্তু চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি।’

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, ‘যাঁরা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, আপনাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে গত ২০ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যারা

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে তার বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’, দর্শনে নীতিমালাটি খুব শিগগির প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। নিম্ন-মধ্যম ও উচ্চ আয়ের মধ্যে ছয় শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রেখে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করেছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, যারা এ কার্ড পাবেন না তারা হলেন পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে; বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক; পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক বা বড় ব্যবসা থাকারা।

সূত্র মতে, নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার এ কার্ড পাবে।

এছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং শূন্য দশমিক পাঁচ একর বা এর কম জমির মালিক এ কার্ড পাবে। কার্ডের সুবিধাভোগী নারী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের প্রক্রিয়া হিসাবে সরকারের খানা জরিপ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডেটাবেইস ব্যবহার করা হবে। সেখান থেকে প্রকৃত এবং উপযুক্ত সুবিধাভোগীকে শনাক্ত এবং এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা হবে।

জানা গেছে, সরকারি কোষাগার থেকে এ অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসাবে স্থানান্তরিত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলোও পাওয়া যাবে।

২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এ গাইডলাইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি (শহরে বস্তি), চট্টগ্রামের পটিয়া (শিল্প এলাকা), বান্দরবানের লামা (পার্বত্য এলাকা), সুনামগঞ্জের দিরাই (হাওর এলাকা) এবং ঠাকুরগাঁও সদর (সীমান্তবর্তী এলাকা)। এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের ঘনত্ব ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ এবং অনগ্রসরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ পাইলটিং প্রকল্পের জন্য মোট দুই কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলছে। কিন্তু এর মধ্যে সমন্বয়হীনতার, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রায় ২২-২৫ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্ররা বাদ পড়ছেন।

এসব সমস্যা দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এ কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা।

সূত্র মতে, নীতিমালায় কার্ডের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা এ কার্ড পাবেন।

এ কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের সাড়ে ছয় হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে দুই কোটি দরিদ্র পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া এ কর্মসূচি চালু হলে সব নগদ ভাতা ও টিসিবির সহায়তা এক কার্ডের অধীনে চলে আসবে।

নিজের ও পরিবারের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরুর পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে সচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিজের এবং পরিবারের সব সদস্যের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় আমি আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু কিছু মহলে জল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে, তাই আমি নৈতিক অবস্থান থেকে নিজের ও পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে এনসিপির এই মুখপাত্র জানান, তাঁর বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা জমা থাকলেও শিক্ষক হিসেবে তিনি ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যার এখনো ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা পরিশোধ বাকি। অর্থাৎ তাঁর বাবা এখনো প্রায় ৮২ হাজার টাকার দেনায় আছেন।

এছাড়া তাঁর মায়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে মাত্র ৬১৩ টাকা রয়েছে বলে তিনি জানান।

আসিফ মাহমুদ নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিয়ে বলেন, সোনালী ব্যাংকের ব্যক্তিগত সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা রয়েছে। অন্যটি হলো তাঁর স্যালারি অ্যাকাউন্ট, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীন ১৬ মাসের বেতন ও ভাতাসহ যাবতীয় লেনদেন হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে ১৬ মাসে মোট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা ক্রেডিট (জমা) হয়েছে এবং ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা ডেবিট (খরচ) হয়েছে। বর্তমানে এই স্যালারি অ্যাকাউন্টে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা জমা আছে। সব মিলিয়ে আসিফ মাহমুদের দুটি অ্যাকাউন্টে বর্তমান স্থিতি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

তিনি বলেন, “জনগণ যেন কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেয়, সেজন্যই এই ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা। জনসেবার জন্য রাজনীতি করি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

যুক্তরাষ্ট্রে দিনমজুরির কাজ করছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান

গণঅভ্যুত্থানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। দেশ থেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে এখন চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই নায়ক।

সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে নিউইয়র্কে কষ্টের জীবন পার করছেন জায়েদ খান। চাকরি করে জীবিকা নির্ভর করতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশে বিলাসী জীবন পার করা এ নায়ক। এরই মধ্যে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের রাস্তায় দিনমজুরের কাজ করছেন জায়েদ খান।

এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে জায়েদ খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ নিয়ে আপাতত কথা বলতে চাই না। সবসময় মানুষের একরকম সময় যায় না। শুধু এটুকু বলব, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

চলচ্চিত্রের আলোচিত মুখ জায়েদ খান দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার উপস্থাপনায় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সেলিব্রিটি টকশো-ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’ বেশ কয়েকটি পর্ব প্রচার হতে বেশ আলোচিত হয়।

বিদেশের মাটিতে বেশ সুসময় পার করছিলেন জায়েদ খান। আর এমন সময়ই এলো এই নায়কের জন্য দুঃসংবাদ। তবে কী সেই দুঃসংবাদ, এ নিয়ে আপাতত কথা বলতে নারাজ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির তিনবারের নির্বাচিত এই সাধারণ সম্পাদক।

সীতাকুণ্ডের সেই শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল? ঘাতকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

দুই দিন ধরে জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষণে থাকা সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা অবশেষে হার মানল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন পাহাড়ে ঘটে যাওয়া সেই রোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রতিবেশী ‘বাবু শেখ’-এর নৃশংস পরিকল্পনার ছক।

ঘটনার পর থেকেই অভিযানে নামে জেলা পুলিশ। সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে পাহাড় পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতককে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও সে শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাত বছর বয়সী জান্নাতুল নাইমা ইরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার আসামি বাবু শেখ (৪৫)। মঙ্গলবার এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন।

পুলিশ বলছে, রোববার সকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে এবং মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশুটি নির্মাণাধীন সড়কের দিকে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জান্নাতুল নাইমা ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ ভোরে তার মৃত্যু হয়।

মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাড়ি কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শিশুটির মা রোববার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা করেছিলেন সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।

অবশেষে আলভীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন তিথি

স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনায় মুখে পড়েছেন ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভী। অভিযোগ ওঠে জাহের আলভীর পরকীয়ার জেরেই আত্মহত্যা করেছেন ইকরা।

গুঞ্জন রয়েছে আলভীর সঙ্গে ছোটপর্দার অভিনেত্রী ইফফাত আর তিথির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।

নানা আলোচনা-সমালোচনা ও গুঞ্জনের পর এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী তিথি।

প্রেমের গুঞ্জন বিষয়ে তিনি বলেন, তার (আলভী) সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। কোনো অফিসে যখন আপনার কলিগ থাকে, আপনি যখন তার সঙ্গে চার-পাঁচ বছর অফিস করবেন, তখন আপনার সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্ব হতেই পারে। আমি আগেও বলছি যে, ইন্ডাস্ট্রিতে আলভী আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আগেও অনেক সাক্ষাৎকারে এই কথাটা বলছি।

দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিথি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করছেন ‘আলভী তার স্ত্রীকে শেষ দেখা দেখতে আসেননি, তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে নেপালে ঘুমিয়ে আছে’—এটা ভুল কথা। আমি পুরো টিমের সঙ্গে গতকাল (২ মার্চ) দেশে এসেছি। যেদিন ইকরা আত্মহত্যা করে ওইদিন একটা টিকিটের জন্য অনেক জায়গায় ফোন দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন কোথাও টিকিট পাওয়া যায়নি। পরের দিন টিকিট ব্যবস্থা করে টিমের সবাই দেশে ফিরেছি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরার মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। প্রায় ১৪ বছর পর, ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দম্পতির রিজিক নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।