Home Blog Page 159

খেলার সময় শিশুর মাথায় আঘাত প্রতিরোধে ৫ জরুরি টিপস

স্কুল ছুটি, বিকেলে মাঠে দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকে একটি ঝুঁকি – মাথায় আঘাত। হালকা পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে গুরুতর কনকাশন পর্যন্ত – মাথার চোট কখনোই অবহেলার বিষয় নয়।

গবেষণা বলছে, খেলাধুলা ও সাইকেল চালানোর সময়ই শিশুদের মাথায় আঘাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ভয় দেখানো নয়, সচেতনতা গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

কেন মাথার আঘাত নিয়ে এত গুরুত্ব?
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির বড় একটি অংশ ঘটে খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে।

মাথায় আঘাত লাগার পর মাথাব্যথা, বমি, ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ঘুম বা আচরণগত পরিবর্তন – এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা মূলত ব্রেইন ইনজুরির লক্ষণ। তাই প্রতিরোধই সেরা কৌশল। যেভাবে প্রতিরোধ করবেন –

১. সঠিক সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার
সাইকেল, স্কেটিং বা ক্রিকেট খেললে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করুন। হেলমেট যেন মাথায় ঠিকভাবে ফিট করে – না খুব ঢিলা, না খুব টাইট।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস বলছে, সঠিকভাবে ব্যবহৃত হেলমেট মাথার গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

২. খেলার মাঠের পরিবেশ দেখুন
মাঠের মাটি খুব শক্ত কি না, ভাঙা যন্ত্রপাতি আছে কি না – এসব খেয়াল করুন। স্লাইড বা দোলনার নিচে নরম মাটি বা রাবারাইজড সারফেস থাকলে আঘাতের ঝুঁকি কমে।

বশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের আঘাত প্রতিরোধে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

৩. বয়স উপযোগী খেলা বেছে নিন
ছোট শিশুদের বড়দের সঙ্গে উচ্চগতির বা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা খেলতে দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী খেলা নির্বাচন করুন।

৪. ‘হেড-ফার্স্ট’ অভ্যাস নিরুৎসাহিত করুন
ফুটবল বা অন্য খেলায় ইচ্ছে করে মাথা ব্যবহার করা, বা উঁচু জায়গা থেকে মাথা নিচে দিয়ে লাফ দেওয়া – এসব অভ্যাস বিপজ্জনক। কোচ ও অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত নিরাপদ কৌশল শেখানো।

৫. আঘাতের লক্ষণ জানুন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিন
পড়ে যাওয়ার পর শিশু যদি বিভ্রান্ত হয়, বারবার একই প্রশ্ন করে, বা আচরণ বদলে যায় – তাহলে সেটি কনকাশনের লক্ষণ হতে পারে।

মাথায় আঘাতের পর সন্দেহ হলে বিশ্রাম ও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। “খেলা চালিয়ে যাও” ধরণের মানসিকতা বিপজ্জনক হতে পারে।

খেলাধুলা থামিয়ে দেওয়া সমাধান নয়। বরং নিরাপদ খেলার পরবেশ গড়ে তোলা জরুরি। সচেতনতা, সঠিক সরঞ্জাম ও দ্রুত ব্যবস্থা – এই তিনেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

৫ ব্যাংক একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে : গভর্নর

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের তহবিল তছরুপের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার।
পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন বার্তা দিয়েছেন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে গভর্নর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে গভর্নর আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আওতায় যেসব কারখানার অস্তিত্ব রয়েছে, তা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এসব কারখানা যেন উৎপাদনে আসতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গভর্নরের এই বার্তার মাধ্যমে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে যারা ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা করছেন, তা পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করেন উপস্থিত কর্মকর্তারা। এর আগে গত রবিবার ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে একই রকম বার্তা দেন গভর্নর।

সেখানে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে চলমান সব সংস্কার অব্যাহত থাকবে। নতুন গভর্নর কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের জন্য নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। আর এ জন্য রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বন্ধ হওয়া কারখানা সচলে নীতি সহায়তার কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারা- এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে।
নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঈদের ছুটি নিয়ে নতুন দাবি যাত্রীকল্যাণ সমিতির

পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ঈদের ছুটি এক দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বুধবার (০৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতরে গণপরিবহন সংকটসহ নানা কারণে বাড়তি ভোগান্তি এড়িয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সুবিধার্থে ১৮ মার্চ একদিনের ঈদের ছুটি বাড়ানো অথবা বিন্যাসের দাবি করছি।

তিনি বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বে, আমাদের গণপরিবহন সংকট, স্টেশন ও পথের অবকাঠামোসহ নানা কারণে স্বল্প সময়ে এত বেশি মানুষের যাতায়াতের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এই কারণে এসব ঘরমুখো মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হয়। শুধুমাত্র সরকার ১৮ মার্চ একদিনের ছুটি নির্বাহী আদেশে বাড়ানো গেলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ধাপে ধাপে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবে। মানুষের ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে। স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি। ঈতোমধ্যে ঈদের ছুটি দুই দিন (২৪ ও ২৫ মার্চ) বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ঈদে দুই দিন ছুটি বাড়ানো হলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক মিলে মোট ১০ দিন ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

দেশজুড়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি!

সরকারি সেবাকে আরও গতিশীল এবং দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক যুগান্তকারী নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঠিক সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিসকক্ষে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তিগত কাজ বা অননুমোদিত সেমিনারের অজুহাতে এই সময়ে ডেস্কে অনুপস্থিত থাকা চলবে না।

জনসেবা নিশ্চিত করতে এবং অফিসের কাজে গতি ফেরাতে সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অফিসের শুরুতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোই এই পরিপত্রের মূল লক্ষ্য। দাপ্তরিক অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকুতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

জরুরি সেবা এবং মাঠপর্যায়ের কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রের জন্য এই নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। জনস্বার্থে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত তাদের কাজের সুবিধার্থেই এই নমনীয়তা। শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য যারা কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই। হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদমাধ্যম বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রোস্টার ডিউটি পালনকারী কর্মী। জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি নিয়োজিত এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। ভিভিআইপি প্রটোকল প্রদান, আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা বা অনুমোদিত সরকারি সফরের বিশেষ ক্ষেত্র।

কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া এখন থেকে অফিস চলাকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি গেলেন জামায়াত আমির

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যেই ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন।

জানা গেছে, পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। আগামী ৬ মার্চ সকালে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার জেরে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। উৎপাদন ও রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই ডলারের বেশি বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেনদেনে Brent Crude–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১১ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে। চলতি বছরের জানুয়ারির পর এটি সর্বোচ্চ অবস্থান। একই সময়ে West Texas Intermediate (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ৭৯ সেন্ট বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে একাধিক স্থাপনায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে ঘাটতির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় দামে।

এদিকে ইরাকেও উৎপাদন কমার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুত ও রপ্তানি রুটে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটি দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে, যা তাদের মোট উৎপাদনের বড় অংশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে Strait of Hormuz। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে চলাচল বিঘ্নিত থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (০৪ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তাঁরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বে তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।

এ সাক্ষাৎ এ আনসার ও ভিডিপি’র বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবহিত হন এবং এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ইকরার মৃত্যু: এবার আলভীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন তিথি

ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খানের মৃত্যুর পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকায়। ইকরার মরদেহ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় আলভী ও তার মা, সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার মধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন আলভীর সহকর্মী ও অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিও।

তিথি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, ইকরার মৃত্যুর সময়ে তিনি ও আলভী নেপালে নাটকের শুটিংয়ে ছিলেন। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই ভুলভাবে অভিযোগ করেছেন যে আলভী ইকরাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেননি বা তিনি নেপালে তার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ছিলেন। তবে বাস্তবে সোমবার টিমের সবাই দেশে ফেরেন। প্রথমদিন টিকিট সমস্যা থাকায় ফিরতে পারেননি।

ইন্ডাস্ট্রিতে আলভীর সঙ্গে তিথির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন রয়েছে। ইকরার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন, এই গুঞ্জনের কারণে ইকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তিথি স্পষ্ট করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুই বন্ধুত্বমূলক। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজের কারণে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যক্তিগত বা প্রেমের সম্পর্কের বিষয় নেই।

ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন?

সারাদিন রোজা পালনের পর আমাদের শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে পরিশ্রম করার ফলে যে পরিমাণ শক্তির ক্ষয় হয়- তা ফিরে পেতে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব অনেক বেশি।

তাই প্রতিদিনের ইফতারি তালিকায় ভাজা-পোড়া খাবারের চেয়ে বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত। তেমনই একটি খাবার দই চিড়া। একইসঙ্গে এটি অনেক সুস্বাধু এবং পুষ্টিকরও বটে।

দই-চিড়া তৈরির উপকরণ (৪ জনের পরিমাণ) :  ১৫০ গ্রাম চিড়া, মিষ্টি দই ২ কাপ, সাগর কলা ৫টি, লবণ পরিমাণমতো, ১/২ কাপ পানি।
প্রস্তুতপ্রণালী : ভালো করে চিড়া ধুয়ে একটি পাত্রে রাখুন। কলা খোসা ছাড়িয়ে পাতলা করে কেটে নিন। একে একে দই, লবণ, কলা ও পানি দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। ইফতারির আগে তৈরি করে কমপক্ষে ২০ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন দই চিড়ার মিশ্রণ। ইফতারেরে সময় পরিবেশন করুন স্বাস্থ্যকর দই চিড়া।

দই পাওয়া না গেলে দইয়ের পরিবর্তে দুধ দিয়েও এই মিশ্রণ তৈরি করা যেতে পারে।ডায়াবেটিকের রোগীর ক্ষেত্রে মিষ্টি দইয়ের পরিবর্তে টক দই দিয়ে একইভাবে এই মিশ্রণ তৈরি করা যেতে পারে।

নতুন গভর্নর সফল হবেন তো!

ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে সরকার একজন ব্যবসায়ীকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি কাজে যোগদানও করেছেন। বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছাও পাচ্ছেন ভূরিভূরি। এ সিদ্ধান্তে দেশের ব্যবসায়ী মহল বেজায় খুশি। প্রথা ভেঙ্গে নিজেদের লোককে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক নিয়ন্ত্রকের চেয়ারে। অপক্ষোকৃত কম পরিচিত হওয়ার সুবিধাটাও পাচ্ছেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। মাঠে তার তেমন কোনো বদনাম নেই।
ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটিও ধোপে টিকছে না। কারণ, ব্যবসায়ীরা তো ঋণ নেবেনই। আর পুনঃতফসিল তো ঋণেরই একটি চিরাচরিত প্রক্রিয়া। কিন্তু এত কিছুর পরও দেশের ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং নাগরিক মহলে তাকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। সর্বত্রই একই প্রশ্ন নতুন গভর্নর শেষ পর্যন্ত সফল হবেন তো? তিনি কি পারবেন ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে?
জনমনে এমন কৌতূহলের প্রধান কারণ নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার কিংবা সরকারি আমলা নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী, যাদের অতীতে কখনোই গভর্নর করা হয়নি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হলেন। ১৯৭২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে সব সময় অর্থনীতিবিদ, আমলা অথবা পেশাদার ব্যাংকাররাই আসীন ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ফখরুদ্দীন আহমদ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছিলেন। আরেক সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ সদ্য বিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারই ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাংক খাত সংস্কারের কঠিন দায়িত্ব দিয়ে আইএমএফের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
নবনিযুক্ত গভর্নরকে নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি বিবৃতি। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহ হবেন? বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা একজন ব্যবসায়ী কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহভাবে দায়িত্বপালন করতে পারবেন এই প্রশ্নও উত্থাপন করছে সংস্থাটি। টিআইবির আশঙ্কা, দেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে অভূতপূর্ব এ নিয়োগের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাস্তবে আবারও কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলের মতো জাতীয় স্বার্থের তুলনায় খেলাপিঋণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্ভর ব্যবসায়ী লবির করায়ত্ত ও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হলো।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি ও পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত। এছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন, অ্যাটাব, ঢাকা চেম্বার্সের মতো প্রভাবশালী ব্যবসা লবির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন গভর্নরের। কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলে খাদে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীনভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? বিশেষ করে, যেখানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা।

সংসদ সদস্যদের প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণগ্রস্ত উল্লেখ করে টিআইবি নির্বাহী বলেন, যাদের মোট আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, সেখানে একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যার বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি তৈরি পোশাক শিল্প ও রিহ্যাবের মতো খাতে নীতি দখলের সুবিধাভোগী, এমন একজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের প্রভাব ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সার্বিকভাবে এ নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে? তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি,’ বলা হয় বিবৃতিতে।
মোস্তাকুর রহমানের এই নিয়োগ প্রসঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মতে, এ নিয়োগ কেবল একটি চমকপ্রদ উত্থান নয়, বরং এটি এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন নাগরিকদের সমানভাবে বিস্মিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের আর্থিক খাত নিয়ে কাজ করা একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশে অনাগ্রহ জানিয়ে বলেন, বুধবার দুপুরে খবর আসে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নতুন গভর্নর হচ্ছেন মো. মোস্তাকুর রহমান নামের একজন। এ তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকার বিভিন্ন সংবাদকক্ষে তৈরি হয় এক ধরনের বিভ্রান্তি।

তথ্যপ্রবাহের এই ব্যস্ত জগতে যেন আচমকাই ঘনিয়ে আসে অনিশ্চয়তার মেঘ। সাংবাদিকদের মনে তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল একটিই প্রশ্ন কে এই মোস্তাকুর রহমান? শুরুতে গুঞ্জন ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক বাংলাদেশি অর্থনীতি অধ্যাপকই নাকি আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে নিউজরুমের সহকর্মীরা গুগলে নামটি লিখে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করেন। কিন্তু কথিত সেই অর্থনীতি অধ্যাপকের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে, নতুন গভর্নরকে ঘিরে তৈরি হয় আরও বেশি রহস্য ও অনিশ্চয়তা। অনেক সাংবাদিক ভেবেছিলেন, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক মোস্তাকুর রহমানকে পরবর্তী গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনেকে তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।

এমনকি বেশ কিছু গণমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিএফআইইউ কর্মকর্তার ছবিসহ পোস্ট দিয়ে তাকে নতুন গভর্নর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। বিকেলের দিকে ধোঁয়াশা কেটে যায়। তখন জানা গেল, কোনো অর্থনীতিবিদ বা আমলা নন, বরং পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটার্সের সিইও মো. মোস্তাকুর রহমানই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাল ধরছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গতানুগতিক ধারা ভেঙে একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ করায় ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিতে ইতোমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমগুলো কতটা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ, ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিস্বার্থ সংরক্ষণকারী দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি আদৌ কি স্বাধীন ও নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন?

তাদের মতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে জনআকাক্সক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা অন্যতম। এক্ষেত্রে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকার দলীয় ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বার্থের বাইরে গিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে সার্বিক ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারবে সে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।